বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর গণসংবর্ধনার পর মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে দেখতে যান তিনি।
তারেক রহমান আজ শুক্রবার বাদ জুমা বেলা দুইটার দিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। পরে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছে, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য এবং তারেক রহমানের সপরিবার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে ঢাকাসহ দেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে আজ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।
ঢাকাসহ সারা দেশে বিএনপি, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সাধারণ জনগণকে এই দোয়ায় অংশ নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।
তারেক রহমান বাংলাদেশ বিমানের বিজি-২০২ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন। তিনি লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও একমাত্র মেয়ে জাইমা রহমান।
ঢাকা বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিটে যেতে যানজট না থাকলে আধা ঘণ্টার বেশি সময় লাগে না। গতকাল তারেক রহমানের সেই পথে যেতে সময় লেগেছে তিন ঘণ্টা। কারণ, রাস্তার দুই ধারে নেতা-কর্মী-সমর্থকদের সারি, মানুষের ঢল। কেবল নেতা-কর্মী নন, অনেকেই এসেছেন ১৭ বছর পর দেশে ফেরা তারেক রহমানকে একপলক দেখার কৌতূহল নিয়ে, কেউবা প্রত্যাবর্তনের একটি স্মরণীয় দিনের সাক্ষী হতে। বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলের সংবর্ধনা মঞ্চ পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার পথ যেন লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটসহ আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল বেশ চোখে পড়ার মতো। বিমানবন্দর থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এবং তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের সামনে, পেছনে ও দুই পাশে ছিল সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী।
জাহাঙ্গীর আলম, এস এম মান্নান কচি এবং রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
মিয়া গোলাম পরওয়ার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে বিবৃতি দেওয়ায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সমালোচনা করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
টিআইবির বিবৃতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও অনভিপ্রেত’ মন্তব্য করে তিনি এর নিন্দা জানিয়েছেন বলে সোমবার রাতে জামায়াতের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে স্পষ্ট। তারপরও দায়িত্বশীল সংস্থা হিসেবে টিআইবির মিথ্যা বর্ণনামূলক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়ানো অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুরভিসন্ধিমূলক।
‘ঘটনার সঙ্গে ন্যূনতম সম্পৃক্ততা না থাকলেও জামায়াতকে জড়িয়ে এই ধরনের বিবৃতি বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। আমি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে গত রোববার রাতে ছাত্রদলের হামলায় ৪ সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টিআইবি বিকালে বিবৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘কর্তৃত্বের সহিংস লড়াই বন্ধ এবং নিজ নিজ দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মূল রাজনৈতিক দায় কি ক্ষমতাসীন বিএনপি ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এড়িয়ে যেতে পারে? তদন্ত কমিটি গঠন বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ না করে সহিংসতার প্রশ্রয় ও পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করতে হবে। অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং দলীয় সিদ্ধান্ত ও আচরণে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’
টিআইবির বিবৃতি সম্পর্কে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং সাংবাদিকদের পেশাদার যে কোনো কাজকে নির্বিঘ্নে সম্পাদনের পরিবেশ প্রত্যাশা করে। একইসঙ্গে কোনো গোষ্ঠী বা সন্ত্রাসী কর্তৃক তা বাধাগ্রস্ত হোক, কিংবা সত্য প্রকাশে বাধা অথবা হুমকির সম্মুখীন হবে- তা সমর্থন করে না, বরং প্রতিবাদে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে।’
‘সুতরাং জামায়াতকে নিয়ে টিআইবির মনগড়া তথ্যনির্ভর বিবৃতি দেওয়া থেকে ভবিষ্যতে বিরত থাকা এবং সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছি।’
শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামিয়ে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কাজে পরাজিত শক্তির ইন্ধন রয়েছে, যার দৃষ্টান্তও পাওয়া গেছে। তিনি সোমবার (২ নভেম্বর) সিলেট নগরের দরগাহ গেট এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের সিলেট সফর উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘তারা এখানে হস্তক্ষেপ করছে, উসকানি দিচ্ছে। শ্রমিকদের নানাভাবে উসকানি দিয়ে নামানোর চেষ্টা করছে। তার উদাহরণ আছে, দৃষ্টান্ত আছে। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ১১ জন ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাদের একজন নেতা ওই উসকানির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ভেতর থেকে তারা যে কাজ করছেন, নিজেরাই আবার সেটি ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তাদের কর্মকাণ্ড স্বীকার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, পরাজিত শক্তি দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শ্রমিকদের মিথ্যা কথা বলে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করছে। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের এই চেষ্টা এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।
জামায়াতের আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘কোন বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে? মাত্র ৮ মাস হলো একটি সরকারের বয়স। এই সরকার দেশের উন্নতি, আর্থিক উন্নতি, ব্যবসা সম্প্রসারণসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করছেন। সেখান থেকে বিনিয়োগ নিয়ে এসে দেশে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করছেন।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্রের জন্য ১৭ বছর লড়াই করেছে। অনেক রক্ত ঝরিয়ে, অনেক জীবন উৎসর্গ করে সেই লড়াই চালিয়েছে। অন্যদিকে, গুপ্ত রাজনীতির মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জনগণ বুঝতে পারছে।
তিনি বলেন, ‘এ দেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় বসাতে চায়। ১২ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে আসার চেষ্টা করলে তা জনগণ মেনে নেবে না।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় কঠিন সংকটের মুখে ছিল। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এতে দেশের কলকারখানা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিকল্প দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে সরকার কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এলাকার মধ্যে কে উপযুক্ত প্রার্থী, কার জনপ্রিয়তা ও জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, তা স্থানীয় নেতারা ঠিক করবেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই করবেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ কার্যক্রম আরও জোরদার হবে।
মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ স্থানীয় বিএনপি নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, ‘দলটির সেক্রেটারি জেনারেল এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে যে বিবৃতি দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিমূলক ও সত্যের অপলাপ। একইসঙ্গে, আরপিও ১৯৭২ এর নামমাত্র প্রতিপালনের মাধ্যমে নারীদের স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করে দলের সর্বস্তরে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করাও শুভঙ্করের ফাঁকি।’ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে টিআইবি। এতে বলা হয়, বাস্তবতা অস্বীকার করে দলটির পক্ষ থেকে এভাবে গবেষণা তথ্যকে ‘অসত্য’ আখ্যায়িত করে বিবৃতি প্রদানের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে টিআইবি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, টিআইবির গবেষণায় বলা হয়েছে, আরপিও, ১৯৭২ এর ধারা ৯০খ(১)(খ)(আ) অনুযায়ী প্রতিটি রাজনৈতিক দলের গঠনতন্ত্রে সকল পর্যায়ের কমিটিতে ন্যূনতম ৩৩ শতাংশ সদস্যপদ নারীদের জন্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বিশ্লেষণ করলে আইনের এই ধারা পরিপালনে ব্যাপক ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় কমিটি বলতে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী কমিটি বা কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ বা কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদকে বোঝানো হয়েছে। সকল দলের ক্ষেত্রে একই ধরনের কমিটির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ২০২৩-২৫ সময়কালে ১৯ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী সদস্য নেই। যা আরপিওর সংশ্লিষ্ট বিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে দলের প্রতিটি কমিটিতে নারী সদস্য থাকতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তাদের দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী সদস্য এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরায় ১২২ জন নারী সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া, দলটির রুকনদের (সদস্য) মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ নারী। এই গবেষণায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটি অর্থাৎ কেন্দ্রীয় বা জাতীয় নির্বাহী পরিষদ বা কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তির কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দলের জাতীয় বা কেন্দ্রীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন বা মজলিশে শুরায় কতজন নারী আছে, সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি। আরপিও, ১৯৭২Ñএ একটি দলে কতজন নারী সদস্য থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। বরং নারী কর্মীদের মধ্যে থেকে কমিটিগুলোতে কতজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত হবে, সে বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ফলে সেক্রেটারি জেনারেলের এ ধরনের অপ্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তের উল্লেখ, সত্যের অপলাপ ছাড়া আর কিছু নয়।
দেশের অন্য সকল রাজনৈতিক দলের সকল স্তরে একটি করে কমিটি থাকে, সেখানে বিভিন্ন হারে নারীদের অন্তর্ভুক্তি লক্ষ করা যায়। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রে শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্তরে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি স্তরে পুরুষদের জন্য একটি কমিটি এবং নারী কর্মীদের জন্য স্বতন্ত্র একটি কমিটি রয়েছে। একইভাবে নারী কর্মীদের স্বতন্ত্র মজলিসে শুরা বা কর্মপরিষদ রাখা হয়েছে। যদিও নারীদের জন্য পৃথক কোনো কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ রাখা হয়নি এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে কোনো নারী কর্মী রাখা হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বস্থানীয় কোনো পদে তথা আমীরে জামায়াত, নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ইত্যাদি পদে নারীকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত না করার চর্চা লক্ষ করা যায়। শুধুমাত্র নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার করতে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি করার মাধ্যমে দলীয় কার্যক্রমে নারীদের প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি বোঝায় না। বরং এক্ষেত্রে নারীদের একটি নির্দিষ্ট গÐীর মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নারীদের এই স্বতন্ত্র কমিটিগুলোকে দলে নারীর অন্তর্ভুক্তি হিসেবে দাবি করা এক ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি। অন্যদিকে এই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো আসনে জামায়াতে ইসলামী থেকে কোনো নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জামায়াতে ইসলামীর দাবি অনুযায়ী তাদের দলের ৪৩ শতাংশ নারী সদস্য থাকলে তাদের মধ্যে থেকে একজন নারী সদস্যকেও নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যদিও এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের বিবৃতিতে কোনো মন্তব্য করেনি।
বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি বলছে, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন ধারা- ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও চেতনার ভিত্তিতে সমাজ গঠন এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মেনে না নেওয়া, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য সকল নিয়মনীতি ও পন্থাকে প্রত্যাখ্যান করা, ইসলামী আকিদা পরিপন্থী প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পর্ক না রাখা, দলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাথে একমত পোষণ সাপেক্ষে অমুসলিম নাগরিকদের জন্য সহযোগী সদস্য বা সদস্যপদ দেওয়া, গঠনতন্ত্রে মুসলিম ও অমুসলিম নাগরিকদের জন্য ‘সদস্য বা সহযোগী সদস্য’ পদ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে পৃথক শর্ত আরোপ, নারীকর্মীদের জন্য পৃথক বিভাগ বা কমিটি ও পৃথক কার্যক্রম পরিচালনা করা ইত্যাদি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের (সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ; রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি- ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্ম, লিঙ্গ প্রভৃতি কারণে বৈষম্য) সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
টিআইবি জানিয়েছে, তাই জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারীদের অন্তর্ভুক্তি-বিষয়ক টিআইবির গবেষণালব্ধ তথ্যকে ‘অসত্য’ বা ‘বিভ্রান্তিমূলক’ বলে দাবি করার কোনো সুযোগ নেই। বরং টিআইবি মনে করে এই বিবৃতির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী গবেষণা তথ্যকে অস্বীকার এবং অপ্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে দলের মধ্যকার প্রকৃত রাজনৈতিক চর্চাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে। জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক
দলগুলোকে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফলকে গুরত্বসহকারে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপিত সুপারিশ অনুযায়ী নিজ নিজ দলের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের আহ্বানও জানিয়েছে টিআইবি ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টিআইবির প্রতিটি গবেষণায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সমাজবিজ্ঞানে অনুসৃত গবেষণাপদ্ধতি ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করা হয় এবং গবেষণায় তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও যথার্থতা নিশ্চিত করতে প্রাথমিকভাবে সংগৃহীত তথ্য বিভিন্ন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উৎস হতে প্রাপ্ত তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্যতা বিধান, বিভিন্ন স্তর ও পর্যায়ে ক্রস চেকিংসহ সম্ভাব্য সকল সূত্র থেকে যাচাই-বাছাই করে গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। একইভাবে, আলোচ্য গবেষণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা মনোনীত প্রতিনিধি ও দলের নেতা-কর্মী, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক ও গবেষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ও দলীয় দপ্তর থেকে সংগৃহীত তথ্য, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, গবেষণা প্রবন্ধ ও পুস্তক থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।
সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ততার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে দলটির নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির একজন সমর্থক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসিফ আকবর বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির একজন সাবেক সদস্য ছিলাম। পদত্যাগ করেছি ২০১১ সালে। আমি বর্তমানে বিএনপির একজন সমর্থক। আমার নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন- ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-যেটাতে বর্তমান বিএনপি নাই।’
এনসিপির প্রোগ্রামে গিয়ে তার এমন বক্তব্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি আসিফ আকবর দল পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ বলেন, ‘সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া। দেশের খেলাধুলায় নানা অসংগতি রয়েছে।’
আসিফ জানান, তিনি অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট কোচিং থেকে উঠে এসেছেন। ১৪ বছর বয়স থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে বিসিবির সাবেক পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও তিনি বলেন, ‘আমি আসলে বিসিবির সাবেক ডিরেক্টর না।’
বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক ও বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন আসিফ আকবর। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটির নির্বাচন সঠিকভাবে হলেও বিসিবির ক্ষেত্রে তা হয়নি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিসিবির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেননি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সবগুলো কমিটির নির্বাচন সঠিক ছিল। একমাত্র বিসিবিতে তারা সঠিক কিছু পায়নি। সঠিক কিছু না পাওয়ার কারণে অটোপাশ এমপি হতে পারে নাই, মন্ত্রী হয়েছেন। তার ঢাকা মহানগর উত্তরের দলীয় সদস্য পদ চলে গেছে। এখন উনি শুধু মন্ত্রী পদ নিয়ে আছেন, সেটাও যে কবে যায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় মিডিয়াতে আমার বক্তব্যে প্রচারের পর তার সেই পদও টলমলে হয়ে যাবে। কারণ, একজন গোলরক্ষকের হাতে ক্রিকেট থাকতে পারে না। ফুটবলে তার কোনো ভূমিকা নেই, তাকে কেউ পাত্তা দেয় না।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। পুরোনো ছবি
রাজধানীর মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে মধ্যরাতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া পোস্টে তিনি একথা লেখেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, মধ্যরাতে মাতুয়াইল মেডিকেল কলেজের সামনে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে আওয়ামী দুর্বৃত্তরা। দেশকে অস্থিতিশীল করতে শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে একেরপর এক অগ্নিসন্ত্রাস, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পরেও যদি বিরোধীদল মনে করে তারা চুপচাপ সব দেখে যাবে। তাহলে বলতেই হবে, নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিরোধীদলেরও মৌন সমর্থন আছে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার লিপ্সায় তারা যদি আওয়ামী দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দেয়, এর খেসারত তাদেরও চরমভাবে দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীদল দেশের মঙ্গল চাইলে রাজপথে নেমে এদের প্রতিহত করুক। তাহলেই বুঝব আসলেই বিরোধীদল প্রকৃতপক্ষে গণহত্যার বিচার ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার চায়। অন্যথায় পতিত স্বৈরাচার গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াত-এনসিপির আপস মীমাংসার বিষয়ে সন্দেহ সংসয় তো থেকেই যায়।