ছবি : সংগৃহীত
ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে সরকার আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হওয়ায় টানা চার দিনের ছুটি মিলছে।
তবে এই সময়ে রাজধানীর যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো বিঘ্ন হবে না বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ছুটির দিনগুলোতেও মেট্রো ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভোটের দিন যাত্রী চাপ বিবেচনায় অতিরিক্ত ট্রেন চালানো হবে বলেও জানান তিনি।
ডিএমটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত ছুটির দিনগুলোতে মেট্রো ট্রেন স্বাভাবিক কর্মদিবসের সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। তবে নিরাপত্তার কারণে যেসব স্টেশনের গেট ভোটকেন্দ্রের একেবারে সন্নিকটে, সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। অন্যান্য গেট চালু থাকবে।
এদিকে নির্বাচনকালীন সময়ে মেট্রো ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল ও সংশ্লিষ্ট সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ কে এম খায়রুল আলমের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ট্রেন অপারেশন, লাইন অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, জরুরি নিরাপত্তা কার্যক্রমসহ সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি (বিশেষ বা জরুরি ক্ষেত্র ব্যতীত) বাতিল থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিট প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে গত ২ ফেব্রুয়ারি একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমিন মো. নূরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত।
এ ছাড়া মোটরসাইকেল চলাচলের ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি প্রয়োজন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কাজে কিছু ক্ষেত্রে শিথিলতা থাকবে।
উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা শেষ হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
সংগৃহীত ছবি
কোনো শিশু নিখোঁজ হলে প্রথম কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ‘মুন’ নামে একটি সেবা চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে নিখোঁজ শিশুর তথ্য দ্রুত অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। বাংলাদেশ পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে। এখানে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানাতে টোল-ফ্রি হটলাইন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়।
নিখোঁজ শিশুর তথ্য যেভাবে জানাবেন
১৩২১৯ নম্বরে কল করুন:মুন অ্যালার্টের টোল-ফ্রি হটলাইন নম্বর এটি। এই নম্বরে কল করে নিখোঁজ শিশুর তথ্য জানানো যায়।
অনলাইনে জানান: munalert.org ওয়েবসাইটে গিয়ে নিখোঁজ শিশুর জন্য অ্যালার্ট বা সতর্কবার্তা দেওয়ার আবেদন করা যায়।
দ্রুত ব্যবস্থা নিন
কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথম তিন ঘণ্টাকে ‘গোল্ডেন টাইম’ বা গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে ধরা হয়। তাই দেরি না করে দ্রুত খবর জানানো জরুরি। কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের উচিত পুলিশকে বিষয়টি জানানো।
পুলিশের পাশাপাশি ‘মুন অ্যালার্ট’ ব্যবহার করুন। এটি পুলিশের কাজের কোনো বিকল্প নয়। বরং এটি পুলিশের অনুসন্ধান কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করে।
অ্যালার্ট দেওয়ার পর কী হয়
‘মুন অ্যালার্টে’র মাধ্যমে কোনো শিশুর নিখোঁজ হওয়ার খবর ছড়িয়ে দেওয়া হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে ফেসবুক, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামও আছে।
নিখোঁজ শিশুর ছবি ও প্রয়োজনীয় তথ্য মেট্রোরেল স্টেশন, এটিএম বুথ ও ব্যাংকের ডিজিটাল স্ক্রিনেও দেখানো হতে পারে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজন হলে মসজিদের মাইকেও শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার ঘোষণা দেওয়া যেতে পারে।
মুন অ্যালার্টের সঙ্গে মেটারও অংশীদারত্ব রয়েছে। এর ফলে ফেসবুক, মেসেঞ্জার ও ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে নিখোঁজ শিশুর বিষয়ে নোটিফিকেশন পাঠানো সম্ভব হয়।
মুন অ্যালার্টের নোটিফিকেশন পেলে করণীয়
আপনার কাছে মুন অ্যালার্টের কোনো নোটিফিকেশন এলে শিশুটির ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে দেখুন। যদি মনে করেন, শিশুটিকে কোথাও দেখেছেন, তাহলে নিজে গিয়ে বিষয়টি সামলানোর চেষ্টা না করে পুলিশ বা মুন অ্যালার্টে উল্লেখ করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
মুন অ্যালার্টের মূল লক্ষ্য হলো, নিখোঁজ শিশুর খবর দ্রুত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যাতে সাধারণ মানুষও শিশুটিকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে সাহায্য করতে পারেন। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে কত দ্রুত নিখোঁজ শিশুর খবর জানানো হচ্ছে, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা কতটা কার্যকরভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে, অ্যালার্টটি কত বেশি মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ কোনো শিশুর খোঁজ পেলে তা রিপোর্ট করছে কি না, তার ওপর।
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত H.E. Brent T. Christensen-এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ সেনাসদরে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি তাঁরা বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের বিষয়ে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ইউনাইটেড স্টেটস আর্মি প্যাসিফিক (ইউএসএআরপিএসি)-এর সঙ্গে ‘এক্সারসাইজ টাইগার লাইটনিং’-এ বাংলাদেশ স্পেশাল ফোর্সের সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও কর্মদক্ষতার প্রশংসা করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ফটো
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন আজ সোমবার। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন তিনি।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নবযাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, যুব ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এ সফরে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কের কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাঁর দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি দিক থেকে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, বর্তমান সরকারের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। আবার, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একই অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। তাই, এটি আমাদের জন্য একদিকে যেমন বিরল ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে তেমনি বিশেষ মর্যাদা ও গৌরবের বিষয়।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব বৈঠক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিউইয়র্কে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু করবেন। সকালে তিনি রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের আয়োজনে স্বাগত প্রাতরাশে যোগ দেবেন। এর পর তিনি এবারের অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশ্বনেতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করবেন। সন্ধ্যায় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আয়োজিত রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের সহধর্মিণীদের সম্মানে অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠকে মতবিনিময় করবেন। এর পর তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলাবিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য রাখবেন। বিকেলে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের সভায় যোগ দেবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বর এবারের অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এ সভায় তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, লস অ্যান্ড ড্যামেজ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন।
প্রধানমন্ত্রী একই দিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের আয়োজনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন। তিনি ২৩ সেপ্টেম্বরে রোহিঙ্গা সংকটবিষয়ক সাইড ইভেন্টে রোহিঙ্গাদের দ্রুততম সময়ে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাইবেন।
তিনি ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারিবিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন। এ সময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করবেন।
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স, ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে তিনি ওয়াল স্ট্রিট, মেটাসহ আরও কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের অনুকূল বিনিয়োগ পরিবেশ, উৎপাদন, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা, দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।
তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আটক করা হয়েছে।’
পুলিশের একটি সূত্রে জানা যায়, আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত মরিয়ম খাতুনের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করছেন। এরই মধ্যে পুলিশ হেফাজতে থাকা গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদের একজন সদস্য হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারের কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
এদিকে, পল্লবী থানায় দ্বিতীয় স্ত্রীর মামার করা হত্যাচেষ্টা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর নজরুল ইসলাম গতকাল ঢাকার আদালতে জামিননামা দাখিল করেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এমপি নজরুল আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন।
পুলিশ জানায়, ৫ নম্বর ভবনের দোতলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে এমপি নজরুল ইসলাম সস্ত্রীক বসবাস করেন। গতকাল সন্ধ্যায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের জানালা দিয়ে মরিয়ামের লাশ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত দেখা যায়। ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিষয়টি শেরেবাংলা নগর থানার ওসিকে জানান। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। আলামত সংগ্রহের জন্য পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিটকে ডাকা হয়। তারা আসার আগ পর্যন্ত ওই কক্ষে প্রবেশ করেনি থানা পুলিশ। রাত ১০টার দিকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ন্যাম ভবনের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ সেখানে যায়। এরপর ঝুলন্ত অবস্থায় এমপির দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ পাওয়া গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে মগবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে ধারণ করা তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ১৯ বছরের তরুণী মরিয়ামকে তাঁর সঙ্গে দেখা যায়। পরে নজরুল ইসলাম জানান, মরিয়াম তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এরপর ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী মাসের মধ্যে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। আজ বুধবার গুলশান কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এ কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্দার খোজিন।
এফবিসিসিআই জানিয়েছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। প্রকল্পের কারিগরি ইস্যুগুলো দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার রাশিয়ান বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলী নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে জানান আলেক্সান্দার খোজিন।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও নিবিড় ও প্রসারিত করতে যৌথ ‘রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’ গঠনে আগ্রহ জানিয়েছে মস্কো চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। মস্কোতে রাশিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁদের।
আলেক্সান্দার খোজিন বলেন, নভেম্বর মাসের শুরুতে ঢাকায় অনুষ্ঠেয় আন্তসরকার কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। বৈঠকে রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, দুই দেশের উদ্যোক্তাদের সরাসরি যোগাযোগের জন্য মস্কোতে এই ফোরাম আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই ফোরামে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের প্রোফাইলের ওপর ভিত্তি করে সরাসরি বিটুবি বৈঠকসহ বিভিন্ন সেশন আয়োজন করা হবে।
বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে তৈরি পোশাক খাতের পাশাপাশি নতুন ও সম্ভাবনাময় খাতে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক। এ সময় তিনি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, সিরামিকসহ রাশিয়ায় মানবসম্পদ রপ্তানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন।
রুশ রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ থেকে জেনেরিক ওষুধ আমদানির বিষয়ে রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে প্রক্রিয়াগত ও আইনি বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে। এ ছাড়া রাশিয়ার তীব্র শীতের উপযোগী ভারী জুতা ও চামড়াজাত পণ্যেরও ভালো চাহিদা রয়েছে।
এছাড়া কৃষি, মৎস্য ও জাহাজনির্মাণ শিল্প এবং সেবা খাতে কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া প্রায় তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে ভিসা প্রদান করেছে বলেও জানান তিনি।
ফাইল ফটো
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর নির্বাচন শুরু করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদ ৪ হাজার ৫৮০টি। সাত ধাপে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর এবং তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপ ২৭ মে করার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, প্রথম ধাপে ৮০ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা হতে পারে। এসব সিদ্ধান্ত প্রাথমিকভাবে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এ সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংক্রান্ত আইন পরিবর্তন না হলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই নির্বাচন আয়োজন করবে কমিশন। অর্থাৎ আইন সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত না হলেও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন থেকে সরে আসবে না নির্বাচন কমিশন। বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।