প্রিয়জনের স্বজন হারানোর বেদনা কেবল গভীর এক মানসিক শোকই বয়ে আনে না, সেইসঙ্গে রেখে যায় প্রশাসনিক কাজের বড় চাপ– ঘরবাড়ি বিক্রি, মোবাইল বিল বাতিল বা রেখে যাওয়া আসবাবপত্র ও জিনিসপত্রের সুরাহা করা। প্রযুক্তির এই যুগে মানুষ যেভাবে অনলাইনকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে, তার মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া স্মৃতি ও তথ্যগুলোও এখন বেশি ডিজিটাল হয়ে পড়ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
এমন পরিস্থিতিতে জীবনের এ অনিবার্য সত্যের মুখে পড়ার আগে গুগল ও অ্যাপল অ্যাকাউন্টের বিষয়ে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত? আর প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাদের অ্যাকাউন্টের তথ্যগুলো কীভাবে সামলানো সম্ভব?
মৃত্যুর পর কারো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টগুলোর পরিণতি কী হবে তা নির্ভর করে জীবিত অবস্থায় সেই ব্যক্তি কোনো আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন কি না তার ওপর।
প্রযুক্তি খাতের অধিকাংশ মূল প্ল্যাটফর্মেই এখন মানুষের ‘ডিজিটাল উত্তরাধিকার’ বা ডিজিটাল লিগ্যাসি ব্যবস্থাপনার সুযোগ রয়েছে। তবে এসব সুবিধা পেতে হলে মৃত্যুর আগেই সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বস্ত কোনো প্রতিনিধিকে তথ্যে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যেতে হয়।
জীবিত অবস্থায় আগাম সিদ্ধান্ত নেওয়া না থাকলে সেই অ্যাকাউন্টের ভাগ্য পুরোপুরি নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের নিজস্ব নীতিমালার ওপর, যা গুগল ও অ্যাপলের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ আলাদা।
নিজের ডিজিটাল অ্যাকাউন্টের আগাম সুরাহা করতে বা সম্প্রতি প্রিয়জন হারিয়ে তাদের অ্যাকাউন্ট নিয়ে করণীয় ঠিক করতে এসব নিয়মগুলো জেনে রাখা জরুরি।
মৃত্যুর পর গুগল অ্যাকাউন্টের কী হয়?
এককথায় বললে, জীবিত অবস্থায় কোনো আগাম পরিকল্পনা বা সেটিং পরিবর্তন করে না গেলে মৃত্যুর পরও গুগল অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিছুই হবে না। তবে গুগল এখন ব্যবহারকারীদের ডিজিটাল উত্তরাধিকার সামলানোর কাজটি সহজ করে দিয়েছে।
মৃত্যুর পর বা দীর্ঘমেয়াদে অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে তা কীভাবে সামলানো হবে এটা নির্দিষ্ট করে দিতে ২০১৩ সালেই ‘ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ নামে একটি বিশেষ ফিচার চালু করেছে গুগল।
এই সেবার মাধ্যমে একজন ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট করে দিতে পারেন, টানা তিন, ছয় বা ১২ মাস অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকলে তা থেকে সব তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে ফেলা হবে কি না। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যেমন ইমেইল বার্তা, কন্টাক্ট লিস্ট, ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্যান্য তথ্য সর্বোচ্চ ১০ জন বিশ্বস্ত ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধও আগে থেকেই নিশ্চিত করে যেতে পারেন।
গুগলের নতুন ফিচারটি চালুর সময় কোম্পানিটির তৎকালীন প্রোডাক্ট ম্যানেজার আন্দ্রেয়াস টুয়ার্ক বলেছিলেন, “আমরা আশা করছি, নতুন সুবিধাটি ব্যবহারকারীদের নিজস্ব প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা ধরে রেখেই মৃত্যুর পরবর্তী তথ্য ব্যবস্থাপনার আগাম পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে।”
ব্যবহারকারী যদি আগে থেকে ‘ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ সেটিং চালু করে না রাখেন তবে দীর্ঘ দিন ব্যবহারহীন থাকার কারণে গুগল তার অ্যাকাউন্টটি পুরোপুরি মুছে দিতে পারে।
নীতিগতভাবে, টানা ন্যূনতম দুই বছর কোনো সক্রিয়তা না থাকলে গুগলের সিস্টেম অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে।
অ্যাকাউন্টে সাইন-ইন করা, জিমেইল অ্যাপ ব্যবহার বা গুগলের যে কোনো সেবা ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় আছে কি না তা নির্ধারণ করে গুগল। কোনো ব্যক্তি যদি জীবিত অবস্থায় ‘ইনঅ্যাক্টিভ অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার’ প্রস্তুত করে না যান সে ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা সরাসরি গুগলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
এর মাধ্যমে দুই বছরের স্ট্যান্ডার্ড নিষ্ক্রিয়তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়ার অনুরোধ জানানো সম্ভব। এ প্রক্রিয়ায় অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করা গেলেও পরিবারের সদস্যরা সেই অ্যাকাউন্টের ভেতরের কোনো ডেটা বা তথ্যের নাগাল পাবেন না।
মৃত্যুর পর অ্যাপল অ্যাকাউন্টের কী হয়?
গুগলের মতোই অ্যাপলেরও ব্যবহারকারীদের মৃত্যু পরবর্তী অ্যাকাউন্ট ও ডিজিটাল জীবন সামলানোর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ সুবিধা পেতে হলেও জীবিত অবস্থায় কিছুটা দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে আগাম প্রস্তুতি নিতে হয়।
অ্যাপলের নিয়মে একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তিকে ‘লিগ্যাসি কন্টাক্ট’ হিসেবে মনোনীত করে যেতে পারেন। ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর মনোনীত ব্যক্তিরা তার আইক্লাউড ডেটা ও যোগ থাকা ডিভাইসগুলোতে প্রবেশাধিকারের আইনি অধিকার পান।
অ্যাপল অ্যাকাউন্ট সেটিংসের মাধ্যমে ‘লিগ্যাসি কন্টাক্ট’ নির্বাচন করা যায়। নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ ‘অ্যাক্সেস কি’ তৈরি হয়, যা ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর সেই প্রতিনিধির কাজে লাগে।
ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর মনোনীত প্রতিনিধি সেই ‘অ্যাক্সেস কি’ জমা দিয়ে ছবি, বার্তা বা মেসেজ, নোটস, ফাইল ও ডিভাইসের ব্যাকআপের মতো ব্যক্তিগত ডেটা ব্যবহারের সুযোগ পান।
এসব তথ্যাবলি পাওয়ার জন্য আইনি প্রমাণ হিসেবে অ্যাপল কর্তৃপক্ষের কাছে মৃত ব্যক্তির মৃত্যুসনদ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
প্রতিনিধি ব্যক্তি মৃত্যুসনদ ও ‘অ্যাক্সেস কি’ জমা দিলে অ্যাপল তাকে আইক্লাউড থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা ডাউনলোডের জন্য তিন বছর সময় দেয়। এ সময়সীমা পার হওয়ার পর অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়।
মনে রাখা জরুরি, লিগ্যাসি কন্টাক্ট হিসেবে মনোনীত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টে কেনা বিভিন্ন ডিজিটাল, যেমন গান, সিনেমা বা বই ব্যবহারের অধিকার পাবেন না।
কারণ, ডিভিডি বা ছাপানো বইয়ের সংগ্রহের মতো ডিজিটাল মিডিয়া কোনো উত্তরাধিকারীর কাছে হস্তান্তর করার সুযোগ অ্যাপলের নীতিমালায় নেই।
এদিকে, ব্যবহারকারী যদি আগে থেকে ‘লিগ্যাসি কন্টাক্ট’ সেট করে না যান তবে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার ক্ষেত্রে অ্যাপলের সময়সীমা গুগলের চেয়েও বেশ কম।
আইক্লাউডে টানা এক বছর কোনো সক্রিয়তা না থাকলে অ্যাপল থেকে একটি সতর্কতামূলক ইমেইল পাঠানো হয় ও তার ঠিক ৩০ দিন পর পুরো অ্যাকাউন্টটি চিরতরে মুছে ফেলা হয়।
ফোনে ছবি উদ্ধার, ফাইল গোছানো কিংবা আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখতে অ্যাপ ব্যবহার করেন? তাহলে একতি বাড়তি সাবধান হতে হবে। কারণ, আপনার ফোনে থাকা কোনো অ্যাপই হয়ে উঠতে পারে ব্যাংকিং তথ্য চুরির ফাঁদ। একবার লগইন তথ্য বা ব্যাংক হিসাবের গোপন তথ্য প্রতারকদের হাতে পৌঁছালে ঝুঁকিতে পড়তে পারে আপনার কষ্টার্জিত অর্থ।
স্মার্টফোনে এখন নানা কাজের জন্য বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করেন মানুষ। কিন্তু সব অ্যাপ যে নিরাপদ, তা নয়। পরিচিত কোনো সেবার আদলে তৈরি ক্ষতিকর অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে সাইবার অপরাধীরা।
২০২২ সালের ৩ নভেম্বর প্রকাশিত গ্যাজেটস নাউয়ের এক প্রতিবেদনে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান থ্রেটফ্যাব্রিকের গবেষণার বরাত দিয়ে পাঁচটি অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপের নাম উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব অ্যাপ ব্যবহারকারীর লগইন তথ্য, ব্যাংক হিসাবের নম্বর এবং অন্যান্য আর্থিক গোপন তথ্য চুরির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যে পাঁচটি অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা
১. রিকভার অডিও, ইমেজেস অ্যান্ড ভিডিওস
নাম শুনেই মনে হতে পারে, ফোন থেকে হারিয়ে যাওয়া অডিও, ছবি ও ভিডিও উদ্ধার করার কাজে লাগে অ্যাপটি। কিন্তু কোনো অ্যাপের নাম বা কাজের ধরন দেখেই সেটিকে নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়।
২. জেটার অথেনটিকেশন
অ্যাপটির নাম পরিচয় যাচাইয়ের সেবার কথা মনে করিয়ে দেয়। এমন নাম ব্যবহারকারীর মনে আস্থা তৈরি করতে পারে। কিন্তু অ্যাপটি ব্যবহারের আগে এর বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
৩. ফাইল ম্যানেজার স্মল, লাইট
ফোনের ফাইল ব্যবস্থাপনার জন্য ফাইল ম্যানেজার অ্যাপের প্রয়োজন হয় অনেকেরই। তবে ফাইল ব্যবস্থাপনার মতো সাধারণ কাজের আড়ালেও ক্ষতিকর অ্যাপ ব্যবহারকারীর তথ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
৪. কোডিসে ফিসকালে ২০২২
নামটি করসংক্রান্ত পরিচয় নম্বর বা তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত সেবার ইঙ্গিত দেয়। তবে কোনো অ্যাপের নাম দেখে সেটির নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না। অজানা অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
৫. মাই ফিন্যান্সেস ট্র্যাকার
আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার জন্য এ ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করেন অনেকে। কিন্তু আর্থিক তথ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত অ্যাপ ব্যবহারের সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে ব্যাংকের লগইন তথ্য বা গোপন নম্বরের মতো সংবেদনশীল তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনলাইন ব্যাংকিং কি হ্যাক হতে পারে?
প্রতারণার একটি কৌশল হলো পরিচিত কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাপের অনুকরণে নকল অ্যাপ তৈরি করা। এরপর সেটি অননুমোদিত ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ব্যবহারকারী সেই অ্যাপ ডাউনলোড করে নিজের লগইন নাম ও পাসওয়ার্ড লিখলে তথ্যগুলো প্রতারকের হাতে চলে যেতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীর আর্থিক তথ্য চুরি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই কোনো অ্যাপ ইনস্টল করার আগে সেটির উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পিন ছাড়াই কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নেয়া সম্ভব?
ডেবিট কার্ডের পিন না জানলেও কিছু পরিস্থিতিতে প্রতারকেরা কার্ডের তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। মূল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্ডের প্রকৃত নম্বর প্রতারকের হাতে চলে গেলে কিছু ধরনের লেনদেনে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এমনকি পিন ছাড়াই করা কোনো সরাসরি লেনদেনের রসিদেও কার্ডের সম্পূর্ণ নম্বর দেখা যেতে পারে যদি রসিদে নম্বরটি সম্পূর্ণভাবে মুদ্রিত হয়। তাই কার্ডের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
সতর্ক থাকবেন যেভাবে
> কিছু বিষয়ে সাবধান থাকলেও অনলাইন হ্যাকিং হতে সাবধান থাকা যায়।
> অপরিচিত বা অননুমোদিত ওয়েবসাইট থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করবেন না।
> কোনো অ্যাপে ব্যাংকের লগইন তথ্য দেয়ার আগে সেটির সত্যতা যাচাই করুন।
> ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য অপ্রয়োজনে কোনো অ্যাপে দেবেন না।
মনে রাখবেন, স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ শুধু সুবিধাই নয়, অসতর্কতার কারণে আর্থিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। তাই অ্যাপ ব্যবহারের আগে সচেতন থাকতে হবে।
মোবাইল ফোনের টাওয়ারের কাভারেজ শেষ হলেও এখন থেকে ফোনে যোগাযোগ করা যাবে। সম্প্রতি সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের মোবাইল অপারেটর বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালু করেছে। এতে দুর্গম পাহাড়, উপকূল, সমুদ্র কিংবা নেটওয়ার্কবিহীন এলাকায়ও মোবাইল ফোনে সীমিত যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগের পথ উন্মোচন হলো।
এ সেবা ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে পৃথক কোনো স্যাটেলাইট ফোন, ডিশ, অ্যান্টেনা বা বিশেষ কোনো যন্ত্র কেনার প্রয়োজন হবে না। শুধু ৪জি ফোন ও বাংলালিংক সিম থাকলেই সেবাটি উপভোগ করা যাবে। তবে ফোনের সামঞ্জস্য এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরে কাঙ্ক্ষিত সেবাটি সক্রিয় কি-না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আলাদা কোনো অ্যাপস লাগবে:
না। এ জন্য আলাদা কোনো অ্যাপস লাগবে না। স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার জন্য আলাদা কোনো ধরনের অ্যাপস ইনস্টল করার জটিলতা নেই। বাংলালিংকের মাইবিএল অ্যাপে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সেবা বা নির্দেশনা পাওয়া যায় কি-না, সেটি দেখে নিতে পারেন। ফোনের সফটওয়ার ও নেটওয়ার্ক সেটিংসও আপডেট রাখতে হবে। পাশাপাশি ফোনে ৪জি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধাসমূহ আছে কি-না, তা দেখে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে।
ফোন কখন স্যাটেলাইটে যাবে:
ব্যবহারকারী যখন প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের কাভারেজ আওতার বাইরে চলে যাবে, তখন উপযুক্ত ফোন স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের সঙ্গে কানেক্ট হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তবে এই সময় খোলা আকাশের নিচে থাকা বাড়তি সুবিধা হিসেবে কাজ করে। কারণ, ভবন, পাহাড় বা কোনো বড় বাধা স্যাটেলাইটের সঙ্গে কানেক্ট হতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মনে রাখতে হবে, নেটওয়ার্কের বাইরে চলে গেলেই অটোমেটিক্যালি প্রতিবার সেবা মিলবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের মডেল, স্যাটেলাইট কাভারেজ, অবস্থান এবং অপারেটরের শর্তের ওপর নির্ভর করবে বিষয়টি।
খরচ:
ব্যবহারকারী সেবাটি চালু করার পর প্রথম মাসে যেকোনো ইন্টারনেট বা ব্যান্ডেল প্যাকের সঙ্গে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে পাবে বলে জানিয়েছে বাংলালিংক। তবে পরবর্তী থেকে বা দ্বিতীয় মাস থেকে নির্দিষ্ট মাসিক ইন্টারনেট ও ব্যান্ডেল প্যাকের সঙ্গে বাড়তি খরচ ছাড়াই স্যাটেলাইট সুবিধা পাওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য ব্যবহারকারীকে প্রতি মাসে ফ্রিতে পাঁচটি করে এসএমএস দেয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
কাজের ধরন:
এ সেবার প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প হিসেবে সীমিত আকারে যোগাযোগ সুবিধা। বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চল, সমুদ্র, উপকূল এবং দুর্যোগের সময় সেবাটি গ্রাহকদের প্রয়োজনে আসতে পারে। আর স্যাটেলাইট সংযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় অ্যাপ, মেসেজিং ও লোকেশনভিত্তিক কিছু সেবাও ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। তবে প্রচলিত ৪জি বা ৫জি মোবাইল ইন্টারনেটের মতো উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা উপভোগের আশা করা উচিত হবে না।
স্যাটেলাইট ডিশের প্রয়োজন হবে:
সেবাটি প্রচলিত স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মতো কোনো সেবা নয়। সাধারণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেটে নির্দিষ্ট জায়গায় ডিশ বা অ্যান্টেনা স্থাপন করে তারপর ইন্টারনেট সংযোগ নিতে হয়। কিন্তু ডাইরেক্ট-টু-সেল প্রযুক্তিতে উপযুক্ত মোবাইল ফোনই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি করে। এ কারণে বাসা-বাড়ি বা অফিসে আলাদা করে কোনো ডিশ বসানোর দরকার হয় না।
অন্যসব অপারেটরের গ্রাহকরা কি সেই সেবা পাবেন:
বর্তমানে বাংলাদেশে সেবাটি শুধু বাংলালিংক গ্রাহকদের জন্য চালু হয়েছে। অন্যসব অপারেটরের ব্যবহারকারীরা সেবাটি পাবেন কি-না, তা নিশ্চিত নয়। এ কারণে হাতে ৪জি ফোন থাকলেই স্টারলিংকভিত্তিক উল্লেখিত সেবাটি পাওয়া যাবে, তা নয়।
সংযোগ না এলে করণীয়:
ফোনে ৪জি থাকার পরও স্যাটেলাইট সংযোগ না এলে শুরুতে ফোনের সফটওয়ার ও নেটওয়ার্ক সেটিংস ভালো করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখতে পারেন। তারপর মাইবিএল অ্যাপে সেবাটি নিজ নম্বরে সক্রিয় কি-না, সেটি দেখে নিতে পারেন। যদি এসব ঠিক থাকার পরও সংযোগ পাওয়া না যায়, তাহলে অপারেটরের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করে ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জেনে নেয়া উচিত।
ইতালির ছোট্ট গ্রাম বোলতানা
ইতালির সার্ডিনিয়া দ্বীপের পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট গ্রাম বোলতানায় নারীদের দীর্ঘায়ু নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গবেষকদের মতে, গ্রামটির যেসব নারী ৭০ বছর বয়সে পৌঁছান, তাদের ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটাচলা, পারিবারিক বন্ধন এবং শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক; এই দীর্ঘায়ুর পেছনে সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। খবর এনডিটিভির।
বোলতানাকে সম্ভাব্য নতুন ‘ব্লু জোন’ হিসেবে বিবেচনা করছেন গবেষকেরা। সাধারণত বিশ্বের যেসব অঞ্চলে মানুষ অস্বাভাবিকভাবে দীর্ঘজীবী হন, সেসব এলাকাকে ব্লু জোন বলা হয়। তবে বোলতানার দীর্ঘায়ুর পেছনের কারণ নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বোলতানার যেসব নারী ৭০ বছর বয়সে পৌঁছান, তাদের প্রায় ১৩.৮ শতাংশের ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তুলনায় ইতালির নারীদের ক্ষেত্রে এই হার প্রায় ৩.৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের নারীদের ক্ষেত্রে ৩.৬ শতাংশ।
অর্থাৎ, ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর বোলতানার নারীদের শতায়ু হওয়ার সম্ভাবনা দেশ দুটির নারীদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, বোলতানার নারীরা ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর গড়ে প্রায় ২১ বছর অতিরিক্ত বেঁচে থাকতে পারেন। ৭০ বছর বয়সের পর প্রত্যাশিত আয়ু এবং ১০০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকার সম্ভাবনার বিচারে বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে বোলতানার নারীরা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আগে রয়েছে হংকংয়ের নারীরা।
কীভাবে পরিচালিত হলো গবেষণা?
প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের বসবাস বোলতানা গ্রামে। গবেষকেরা ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বয়স্ক বাসিন্দাদের বেঁচে থাকার হার বিশ্লেষণ করেন। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় ৭০ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর মানুষের আয়ুষ্কালের ওপর।
গবেষণাটির অন্যতম সহলেখক এস জে ওলশানস্কি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় শিকাগোর স্কুল অব পাবলিক হেলথের এপিডেমিওলজির ইমেরিটাস অধ্যাপক। গবেষণায় ১৯০০ থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে বোলতানায় জন্ম নেয়া ৩ হাজার ৬০ জন মানুষের মধ্যে ৩৮ জন শতায়ু ব্যক্তির তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘায়ুর পেছনে যেসব কারণ
বোলতানার বাসিন্দারা কেন দীর্ঘজীবী হন, তা গবেষণায় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে তাদের জীবনযাপনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
১. নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম
বোলতানা পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় গ্রামটির রাস্তাঘাট বেশ খাড়া। ফলে দৈনন্দিন চলাফেরার সময় বাসিন্দাদের নিয়মিত হাঁটতে হয়। গাড়ির ওপর নির্ভরশীলতা তুলনামূলক কম হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সক্রিয়তা বজায় থাকে।
২. স্থানীয় ও স্বাস্থ্যকর খাবার
গ্রামটিতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন খাবার খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জলপাই এবং জলপাই থেকে তৈরি তেল, যাতে হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী অসম্পৃক্ত চর্বি থাকে। খাদ্যাভ্যাসের এই বৈশিষ্ট্য দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
৩. ঘনিষ্ঠ পারিবারিক বন্ধন
বোলতানার অনেক বাসিন্দা পরিবারের সদস্যদের কাছাকাছি বসবাস করেন। ফলে বয়স্ক ব্যক্তিরা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে নিয়মিত সহযোগিতা ও যত্ন পাওয়ার সুযোগ পান।
৪. শক্তিশালী সামাজিক সম্পর্ক
গ্রামটির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক যোগাযোগের সম্পর্ক বেশ দৃঢ় বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা কম থাকা এবং প্রয়োজনের সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি মানসিক সুস্থতা ও বার্ধক্যে ভালো থাকার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।
ওলশানস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, বোলতানায় মানুষ একে অপরের যত্ন নেন এবং দৈনন্দিন চলাচলের বড় অংশই হাঁটার মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। এছাড়া বংশগত বৈশিষ্ট্য বা জিনগত কারণও দীর্ঘায়ুর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা।
সার্ডিনিয়ার আগের ব্লু জোন থেকে কেন আলাদা বোলতানা?
সার্ডিনিয়ার একটি অঞ্চল দুই দশকেরও বেশি সময় আগে থেকেই দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত। সেই অঞ্চলে বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে অস্বাভাবিক দীর্ঘায়ুর প্রবণতা গবেষকদের নজর কেড়েছিল। কিন্তু বোলতানায় দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। এখানে নারীদের দীর্ঘায়ু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গবেষকদের মতে, এই পার্থক্যই গ্রামটিকে আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
তবে গবেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন সময়ে দীর্ঘায়ুর এই প্রবণতার মাত্রায় পার্থক্য দেখা গেছে। তাই বোলতানাকে প্রতিষ্ঠিত ব্লু জোন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আগে আরও দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।
সময় পরিমাপের ধারণায় বড় পরির্বতন এনে ভিয়েনা ও বেইজিংয়ে আলাদাভাবে কাজ করা দুটি বিজ্ঞানী দল বিশ্বের প্রথম দুটি কার্যকর ‘নিউক্লিয়ার ক্লক’ বা পারমাণবিক নিউক্লিয়াসভিত্তিক ঘড়ি তৈরি করেছেন।
গবেষকরা বলছেন, সময় গণনার এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ব্যবহারিক প্রয়োগের পাশাপাশি মৌলিক পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার নতুন দুয়ার উন্মোচন করবে।
১৯৪৯ সালে প্রথম উদ্ভাবিত নির্ভুল ‘অ্যাটমিক ক্লক’ বা পারমাণবিক ঘড়ির পরবর্তী প্রজন্ম হচ্ছে এই দুটি নতুন ডিভাইস।
বুধবার বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশ পাওয়া আলাদা দুটি গবেষণাপত্রে এ অর্জনের বিবরণ দিয়ে গবেষক দলগুলো বলেছে, প্রচলিত সেরা পারমাণবিক ঘড়িগুলোকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে নতুন দুই নিউক্লিয়ার ঘড়ির। তবে বর্তমানে এগুলো সেই পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অনেকের মনে হতে পারে, পরমাণু সংযোজন বা বিভাজন শক্তির ওপর ভিত্তি করে এগুলো তৈরি। ফলে এগুলোর নাম নিউক্লিয়ার ক্লক। তবে একটি পরমাণুর নিউক্লিয়াসের সঙ্গে আলোর (উচ্চ সক্ষমতার লেজার রশ্মি) মিথস্ক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে সময় গণনা করা হয় বলেই এদের এমন নামকরণ হয়েছে।
এ দুটি নিউক্লিয়ার ঘড়িই ‘থোরিয়াম-২২৯’ নামের বিশেষ এক আইসোটোপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কঠিন অবস্থার ক্যালসিয়াম ফ্লোরাইড স্ফটিকের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।
বেইজিং ঘড়ি তৈরির পেছনের গবেষক দলের নেতৃত্ব দেওয়া ‘সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি’র পদার্থবিদ শিকিয়ান ডিং বলেছেন, “দুটি দল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করেছে ও ভিন্ন পরীক্ষামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে প্রায় একই সময়ে কার্যকর থোরিয়াম-২২৯ নিউক্লিয়ার ক্লক তৈরি করতে পেরেছে।”
ভিয়েনা ঘড়ির পেছনের গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা অস্ট্রিয়ার ‘ইউনিভার্সিটি অফ ভিয়েনা’র পদার্থবিদ থরস্টেন শুম বলেছেন, “নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করাটা গত প্রায় ৫০ বছর ধরে পদার্থবিদদের একটা বড় স্বপ্ন ছিল। আমার দল ২০০৮ সাল থেকেই এই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”
শুম বলেছেন, স্যাটেলাইটভিত্তিক ন্যাভিগেশন, ডেটা ট্রান্সফার সিংক্রোনাইজেশন, সার্ভেয়িং ও মেট্রোলজি বা পরিমাপবিদ্যার মতো ক্ষেত্রগুলোতে নিউক্লিয়ার ঘড়ির ব্যাপক ব্যবহার তিনি দেখতে পাচ্ছেন।
প্রচলিত পারমাণবিক ঘড়িগুলো সিজিয়াম বা স্ট্রনশিয়ামের মতো উপাদান ব্যবহার করে লেজার বা মাইক্রোওয়েভের সাহায্যে পরমাণুর খোলসে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনকে এক শক্তিস্তর থেকে অন্য শক্তিস্তরে লাফাতে বাধ্য করে সময় পরিমাপ করে।
অন্যদিকে, নতুন নিউক্লিয়ার ঘড়িগুলো লেজার ব্যবহার করে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকা প্রোটন ও নিউট্রনকে (এই ক্ষেত্রে থোরিয়াম-২২৯) শক্তিস্তরের মধ্যে চলাচল করানোর মাধ্যমে সময় মাপে।
ইলেকট্রন যেখানে থাকে পরমাণুর সেই বাইরের খোলসের চেয়ে এর নিউক্লিয়াস অনেক ছোট হওয়ায়, পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরের এসব পরিবর্তন ট্র্যাক করা গেলে আরও বেশি নিখুঁত সময় মাপা সম্ভব হবে।
প্রযুক্তির ‘পূর্ণতা’ আনার চেষ্টা
গবেষক শুম বলেছেন, নিউক্লিয়ার ক্লক এখনও এর কাঙ্ক্ষিত কার্যসক্ষমতা থেকে ‘অনেক দূরে’ রয়েছে এবং গবেষকরা এই প্রযুক্তির পূর্ণতা দেওয়ার জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
“এখানে দারুণ বিষয় হচ্ছে, ভিয়েনা ঘড়ির থোরিয়াম স্ফটিকগুলো কিছুটা ভালো মানের, যাতে উচ্চ ঘনত্ব ও উন্নত অপটিক্যাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অন্যদিকে, বেইজিং দলের কাছে রয়েছে শক্তিশালী লেজার। এসব উপাদান একত্র করলেই আমরা আরও উন্নত একটি ঘড়ি তৈরি করতে পারব।”
বর্তমানে সেরা প্রচলিত পারমাণবিক ঘড়িগুলো বিলিয়ন বছরে কেবল এক সেকেন্ড ভুল করতে পারে। বৈশ্বিক ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম এবং ইন্টারনেট, সেলুলার ও ফাইবার-অপটিক যোগাযোগের মতো প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এই অতি-নির্ভুলতা গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষকরা বলছেন, নিউক্লিয়ার ঘড়িগুলো এক পর্যায়ে আরও নিখুঁতভাবে কাজ করতে পারবে এবং এগুলো কম ওজনের ও কম ভঙ্গুর করে তৈরি করা সম্ভব হবে।
নিউক্লিয়ার ঘড়িগুলো মৌলিক পদার্থবিদ্যা নিয়ে গবেষণার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।
ভিয়েনা দল তাদের ঘড়ি দিয়ে একটি নিখুঁত পদার্থবিদ্যা পরীক্ষা চালিয়ে দেখতে চেয়েছিল যে, ডার্ক ম্যাটারের উপস্থিতি ধরা যায় কি না, যা এখন পর্যন্ত মানুষের চোখের আড়ালে রয়েছে।
তবে সেই পরীক্ষায় ডার্ক ম্যাটারের সন্ধান না মিললেও নিউক্লিয়ার ঘড়িটি সেরা পারমাণবিক ঘড়িগুলোর সমান সক্ষমতা দেখিয়েছে বলে দাবি গবেষক দলটির।
গবেষক শুম বলেছেন, “এটা পদার্থবিদ্যার সম্পূর্ণ নতুন এক জগতের দুয়ার খুলে দিয়েছে।”
টিকটক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখার পাশাপাশি পণ্য কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও বদলে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। ব্যবহারকারীদের জন্য এআই-চালিত শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এক ক্লিকেই পণ্য কেনার সুবিধা চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি। এর ফলে পণ্য খোঁজা থেকে শুরু করে কেনাকাটা পুরো প্রক্রিয়াটিই টিকটকের ভেতরে সম্পন্ন করা যাবে।
টেক ক্রাঞ্চ থেকে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) নতুন ফিচারগুলোর ঘোষণা দেয় টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টটি একটি কথোপকথনভিত্তিক এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ বুঝে পণ্য খুঁজে দিতে পারবে। একই কথোপকথনের ধারাবাহিকতায় ব্যবহারকারীর চাহিদা মনে রেখে সে অনুযায়ী পরামর্শও দেবে।
কোনো পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এআই সহকারী পণ্যের বৈশিষ্ট্য, আকার, মজুত, শিপিং বা সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবে। এমনকি পণ্য কেনার প্রক্রিয়াতেও ব্যবহারকারীকে সহায়তা করবে। শুধু পরামর্শ নয়, এবার কেনাকাটার শেষ ধাপটিও সহজ করছে টিকটক।
নতুন ইন-অ্যাপ চেকআউট সুবিধায় ‘ফর ইউ’ ফিডে কোনো ব্র্যান্ডের পণ্য দেখে ব্যবহারকারী এক ক্লিকেই সেটি কিনতে পারবেন। অর্থাৎ পণ্য কেনার জন্য আলাদা ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে টিকটক ব্যবহারকারীর পুরো শপিং-যাত্রার আরও বড় অংশ নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে কোনো পণ্য দেখে তাৎক্ষণিক কেনার প্রবণতাকে কাজে লাগাতে এআই সহকারী ও সরাসরি পেমেন্ট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন ফিচারগুলো তৈরিতে সেলসফোর্স, শপিফাই, শপলাজা ও স্ট্রাইপসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে টিকটক। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক শপ চালুর পর থেকেই প্ল্যাটফর্মটির ই-কমার্স কার্যক্রম দ্রুত বাড়ছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই-মার্কেটারের হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক শপের বিক্রি প্রায় ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট সামাজিক বাণিজ্যের প্রায় ১৮ শতাংশ।
সারাদেশে টেলিকম খাতের মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারিকে আইপিএস (ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই) সিস্টেমে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করবে ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা ইডটকো বাংলাদেশ ও টাইগার লিথিয়াম এনার্জি।
অংশীজন বলছেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সার্কুলার অর্থনীতির চর্চা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যেই এমন উদ্যোগের অংশ হওয়া।
ইডটকোর ফ্ল্যাগশিপ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি টাওয়ার টু পাওয়ার প্রকল্পের অধীনে টেলিকম খাতে ব্যবহৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারি থেকে কারিগরি কার্যক্ষম সেল পুনরুদ্ধার করে সেসবকে নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সমাধানে রূপান্তর করা করা হবে। এসব ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেম দেশের নির্বাচিত গ্রামীণ স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত স্থানে স্থাপন করা হবে।
এতে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে এমন উদ্যোগ সহায়ক হবে। ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন মানে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়; বরং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। টাওয়ার টু পাওয়ার এই অংশীজন উদ্যোগে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবহৃত টেলিকম ব্যাটারিকে পুনরায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করবে।
এর ফলে একদিকে যেমন ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমবে, অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ বিদ্যুতের পরিষেবা পাবে। দায়িত্বশীল উদ্ভাবন কীভাবে সমাজের বাস্তব চাহিদা পূরণ করে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারে, এই উদ্যোগ হবে তারই প্রতিফলন।