• প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ পিএম

বহু বছরের পুরনো রাজধানীর শান্তিনগরের কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সটি ব্যবসায়িক মন্দায় বন্ধ হয়ে গেছে। শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত এই মার্কেটটি এক সময়ে রাজধানীর অভিজাত শপিং মলগুলোর একটি ছিল। কিন্তু নানা কারণে ক্রমেই মার্কেটটি ব্যবসায়ীকভাবে পিছিয়ে পড়ে। যার ফলশ্রুতিতে লোকসান দিতে দিতে গত অক্টোবর মাসে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে মার্কেটটি।


মার্কেটটির ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক দশকের ধাপে ধাপে পতন হয়েছে এই শপিং মলের। মোটা দাগে এর জন্য ৪টি কারণ দায়ি বলে মনে করছেন তারা। এক শান্তিনগর ফ্লাইওভার নির্মানকালীন সময়ে ক্রেতা কমে আসা। দুই কোভিডকালীন ব্যবসায়ীক মন্দা। তিন ভালো ব্যবসায়ীরা চলে যাওয়া ও চতুর্থ কিছু অসৎ ব্যবসায়ীর প্রতারণা। যে ভবনে কর্ণফুলী গার্ডেন শপিং কমপ্লেক্স অবস্থিত সেটি ২০ তলা। এর নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত ছিল শপিং মল এবং উপরের তলাগুলো আবাসিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।


১৯৯৮ সালে চালু হওয়া এই শপিং মলে পোশাক, জুতো, প্রসাধনী, গিফট আইটেম এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ছিল। চতুর্থ তলায় ছিল ফুড কোর্ট ও বাগান। চালুর সময় মার্কেটিতে ১৯৮টি দোকান ছিল। কিন্তু গত অক্টোবরে যখন মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন মাত্র ২০ থেকে ২৫টি দোকান চালু ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।


ফলে ক্রেতা কমে যাওয়া, সার্ভিস চার্জ না পাওয়া এবং বিদ্যুৎ বিল ৫০ লাখ টাকার বেশি বকেয়া পড়ার পর টানা লোকসানের মুখে পড়ে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে দোকান মালিক সমিতি সম্মিলিতভাবে পুরো মার্কেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটে প্রবেশের প্রধান ফটকের সাটার নামানো। উপরে ঝুলছে বন্ধের ব্যানার; তাতে লেখা, ‘১/১০/২০২৬ ইং তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে।” তবে মুল গেটের বামপাশে কাচ্ছি ডাইন, হটকেক, ডানপাশে পোষাকের ব্রান্ড রেমন্ড, মেজবান ডাইনসহ কিছু খাবারের দোকান খোলা রয়েছে।


এই মার্কেটে ২০১৭ সাল থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল ঘড়ি বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এক্কোচি’। মার্কেটের নিচ তলায় ছিল তাদের দোকান। দীর্ঘদিন সরাসরি ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় তারা মূলত অনলাইন গ্রাহকদের ওপর ভিত্তি করেই ব্যবসা পরিচালনা করত। মার্কেটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারে দোকান স্থানান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি। এক্কোচি এর দায়িত্বে থাকা মো. শফিউল বলেন, “মার্কেট বিক্রি হয়ে গেছে। এটা একটা পার্টি কিনে নিচ্ছে। হয়ত হাসপাতাল বা অন্য কিছু করবে। মার্কেট তো আর করবে না।”


কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি দোকান মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম ইকবাল বলেন, “এটা আমরা বিক্রি করে দিচ্ছি। সব মালিকরা মিলে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এটা হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে পারে। হতে পারে টিভি সেন্টার বা অন্য যে কোনো অফিস।”


বকেয়া বিদ্যুৎ বিল ও অনিয়মিত সার্ভিস চার্জ প্রসঙ্গে মার্কেট দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী (আনন্দ শাহ) বলেন, “সার্ভিস চার্জ আসতেছিল না, কারেন্ট বিল ডিউ হয়ে গেছে প্রায় ৫০ লাখ। যার কারণে সব মালিকরা সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মার্কেট বন্ধ রেখেছে।” তবে মার্কেটের নিরাপত্তারক্ষী ও কর্মচারীদের বেতন এবং দৈনন্দিন সামান্য খরচ তোলার জন্য গেইটের মুখে কিছু দোকান খোলা রাখা হয়েছে বলে তথ্য দেন বাকীবিল্লাহ। তিনি বলেন, “এই কয়েকটা দোকানের ভাড়া উঠায় সিকিউরিটি, একজন ম্যানেজার এদের বেতনটা যাতে দেওয়া। কিছুটা ঋণ করে হলেও এটার জন্য শুধু এই কয়েকটা দোকান খোলা রাখা হয়েছে।”


এদিকে মার্কেট বন্ধ ঘোষণা করা হলেও ভবনের ওপরের অংশের আবাসিক অ্যাপার্টমেন্টগুলো পুরোপুরি আলাদা। এগুলো বন্ধের সিদ্বান্তের আওতামুক্ত বলে জানিয়েছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ। কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে তৈরি হওয়া এই মার্কেটটির অধিকাংশ দোকান অনেক আগেই ব্যক্তিগত মালিকানায় রেজিস্ট্রি করে বিক্রি করে দেয় ওই কোম্পানি। বর্তমানে বন্ধ হওয়া মার্কেট ভবনে হাসপাতাল, করপোরেট অফিস বা ব্যাংক করার উদ্দেশ্যে একাধিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চলছে বলে জানিয়েছেন বাকীবিল্লাহ।


তিনি বলেন, “কয়েকটা পার্টির সাথে আমাদের কথা হচ্ছে। কারো সাথে ফাইনাল কিছু হয় নাই। কোন চুক্তিও হয় নাই। অনেকগুলা কোম্পানি; হসপিটাল আছে, করপোরেট কোম্পানি আছে, ব্যাংক আছে।”


চার কারণে মার্কেটে ‘ধস’


বিগত এক দশক ধরে ধাপে ধাপে মার্কেটটির পতন ঘটেছে বলে দাবি করেছেন কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ব্যবসায়ীরা। বন্ধ ঘোষণার আগের ব্যবসায়িক অবস্থা তুলে ধরে একোচ্চির মো. শফিউল বলেন, “মার্কেটে কাস্টমার ছিল না, একদম ডাউন ছিল। অনলাইন গ্রাহকদের ওপর ভিত্তি করেই ব্যবসা পরিচালনা করতাম। ধারাবাহিকভাবে মার্কেটটা বন্ধ হইছে। বিগত প্রায় ১০ বছর মিলায়ে আস্তে আস্তে এই মার্কেটটা ফল করেছে।”


মার্কেটটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কিছু ব্যবসায়ী বলেন, ফ্লাইওভার নির্মাণের দীর্ঘ সময় রাস্তাঘাট বন্ধ ও সংস্কার কাজের কারণে ক্রেতারা মার্কেটে আসা বন্ধ করে দেন। এতে ভালো ব্যবসায়ীরা অন্য মার্কেটে চলে যান এবং আর ফিরে আসেননি। এরপর কোভিডের সময় দীর্ঘ লকডাউনে ব্যবসায় ধস নামলে অবশিষ্ট ভালো ব্যবসায়ীরাও চলে যান। সে সময় কিছু অসাধু ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী জিনজিরা ও চকবাজারের তৈরি নিম্নমানের পণ্য এনে বিদেশি বলে বিক্রি করায় অভিজাত ও বিশ্বস্ত ক্রেতারা মার্কেটের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেন। এর মধ্যই ই-কমার্স ও ফেইসবুক কেন্দ্রিক কেনাকাটা বাড়ার পাশাপাশি বসুন্ধরা সিটি বা যমুনা ফিউচার পার্কের মত বিশাল শপিং মলের সঙ্গে ছোট এই মার্কেটটি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারেনি।


দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী বলেন, “ফ্লাইওভারটা তৈরির সময় থেকে সংস্কারের কাজের জন্য লোকজন এই মার্কেটে ঢুকত না। তখন ভালো কিছু ব্যবসায়ী এই মার্কেট থেকে চলে যায়। অন্যান্য মার্কেটে গিয়ে তারা টেম্পোরারি চিন্তা করছিল আবার রাস্তাঘাট ঠিক হলে … কিন্তু সেই ব্যবসায়ীরা তারা আর ফেরত আসে নাই। কোভিডের সময় যে মার্কেটটা বন্ধ হল, কিছু দোকানদার ভালো ভালো ব্যবসায়ী চলে গেল, তারাও আর রিটার্ন করে নাই।


তিনি বলেন “এটা ইন্টারনেটের যুগ। আমরা ঘরে বসেই সবকিছু অর্ডার করি। জুতা হতে শুরু করে বাচ্চার টুপিটা পর্যন্ত সেখানে পাওয়া যায়। বড় সুপার মার্কেটগুলোর চেয়ে যেমন বসুন্ধরা, যমুনা আমার এখানে দোকান কম। একটা কাস্টমার আসলে শার্ট পেলে প্যান্ট খুঁজে পায় না। যার কারণে আমার এইখানে আর ঢোকে না।”


অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে ক্রেতা কমে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেন বাকীবিল্লাহ। তিনি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তারা পণ্য আনত জিঞ্জিরা, চকবাজার থেকে। কিন্তু বলত দুবাই থেকে আনছে। ফলে প্রিমিয়াম ও বিশ্বস্ত কাস্টমারগুলা এখান থেকে ছুটে গেছে।”



  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ এএম
  • আপডেট : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


বক্তব্য রাখছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৭ এএম

আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি মোকাবিলা, অগ্নিনিরাপত্তা জোরদার এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর চকবাজার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়।

​সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম পুরান ঢাকার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো, সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।​ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘পুরান ঢাকা একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অঞ্চল। অতীতে কেমিক্যালের কারণে এখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তাই প্রতিটি মার্কেট ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্ঘটনার সময় ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রবেশের পথ উন্মুক্ত রাখা জরুরি।’

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুরান ঢাকার অনেক সড়ক দোকানপাট ও অবৈধ দখলের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার সময় উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রশাসন, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। ​পুরান ঢাকার অবকাঠামোগত ও নাগরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে প্রশাসক বলেন, "ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন এবং সড়কের সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সড়কবাতি সচল রাখা ও পরিচ্ছন্নতা জোরদার করে পুরান ঢাকার পরিবেশ উন্নত করতে সিটি করপোরেশন বদ্ধপরিকর।’

তিনি জানান, এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথেও আলোচনা হয়েছে।

মৌলভীবাজার, চকবাজার, সোয়ারীঘাট ও সদরঘাটের ব্যবসায়িক ঐতিহ্য পুনর্বহালের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সমস্যার কথা না বলে সমাধানের পরামর্শও দিন। আপনাদের সুচিন্তিত মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করব।’ এছাড়া নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় নগরের সামাজিক ও নাগরিক সমস্যা সমাধানে পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ‘পঞ্চায়েত ব্যবস্থা’ ফিরিয়ে আনার ওপর তিনি জোর দেন।

​সভায় ব্যবসায়ীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা মেনে চলা, সরঞ্জাম সচল রাখা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসলাইন নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার অনুরোধ জানানো হয়।

​অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

গত শুক্রবার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লায়ন জেলা ৩১৫ এ২ আয়োজিত পক্ষকালব্যাপি ‘অক্টোবর সেবাপক্ষ ২০২৬ ‘কার্যক্রম । লায়ন জেলা ৩১৫ এ২  এর গভর্নর লায়ন মহসিন ইমাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমীন, এমপি। 


ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক পরিচালক লায়ন নাজমুল হক, গ্যাট এরিয়া লিডার  লায়ন কাজী সাইফুল, এলসিআই এফ এরিয়া লিডার একে এম রেজাউল  হক, কাউন্সিল চেয়ারপার্সন লায়ন মোসলেহউদ্দিন আহমেদ অপু, পিডিজি ফোরাম চেয়ারপার্সন লায়ন শফিকুল আজম ভূইয়া, আই পিডিজি লায়ন শংকর কুমার রায়, ১ম ভাইস জেলা গভর্নর  লায়ন এমরান ফারুক মইন, ২য় ভাইস জেলা গভর্নর  লায়ন কিশোয়ার খান, পিডিজি লায়ন শেখ আনিসুর রহমান, কেবিনেট সেক্রেটারি লায়ন অ্যাডভোকেট এনায়েতউল্লাহ শফিক, ক্যাবিনেট ট্রেজারার খাদিজা বিনতে মনির তিয়াশা, লিও জেলা ৩১৫এ২ এর সভাপতি লিও শুভ্র দে সরকারসহ বিশিষ্ট লায়ন নেতৃবৃন্দ ।


লায়ন জেলা ৩১৫ এ২ এই কার্যক্রমের  আওতায় ১৩০০ এর বেশি সেবা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায়  দুই লক্ষাধিক মানুষকে সেবা প্রদান করেছে । 


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ফারহানা শারমীন বলেন, লায়ন জেলা ৩১৫ এ২ মানব সেবায় যে অবদান রেখে চলেছে তা প্রশংসার এবং একই সাথে আরো প্রচারের দাবি রাখে । প্রধান অতিথি লায়ন সেবায় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সব ধরণের সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অনুষ্ঠান শেষে অধিক সংখ্যক সেবা প্রদানকারী ক্লাবগুলোকে পুরস্কার প্রদান করা হয় ।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

রাজধানীর হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাটের ঘটনায় করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। বাদীকে বলা হয়েছে, আজ শনিবারের মধ্যে সমঝোতা না করলে তাঁর ‘লাশ পড়ে থাকবে’।


গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দিনকে ফোন করে এ হুমকি দেওয়া হয়।


হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, তিনি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছেন। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিও তাঁকে (ওসি) পাঠানো হয়েছে। অডিওটি যাচাই করা হচ্ছে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে।


হুমকির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী আফসারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মূল আসামি সাইফুল ও জুয়েল এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমনের নাম নিয়ে তাঁদের নেতৃত্বেই কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়-গুদামে হামলা চালানো হয়েছিল। এখন তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় আছেন।


বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, হুমকিদাতা সালাম দিয়ে আফসারকে বলছেন, ‘ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’


এ সময় বাদী বলেন, ‘কোনটা ভাই?’ জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘কোনটা আপনি বোঝেন না?’


এরপর ওই ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি বাদীকে বলেন, ‘কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।’


পরে বাদী এই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘তোর বাপ বলছি।’ এ কথা বলে তিনি আবার গালাগাল করেন। 


তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সাথে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’


ব্যবস্থাপক আফসার আবার পরিচয় জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নাম-পরিচয় জানোস না, কেডা ফোন দিতে পারে?’


এ সময় বাদী নিজে এই প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানান। তখন মুঠোফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’ এরপর হুমকি দেওয়া ব্যক্তি ফোন কেটে দেন।


গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে ‘এখন থেকে জমির ভাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনকে দিতে হবে’-এই কথা বলে হাজারীবাগে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম ও কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট চালানো হয়। ভাঙচুর শেষে কয়েক লাখ টাকার পণ্য ও সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।


প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলাকারীরা নিজেদের শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের লোক পরিচয় দিয়ে হামলা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তির মাধ্যমে জমিটি ভাড়া নেয়। তবে এখন থেকে জমির ভাড়া ইমনকে দেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে।


হামলার ঘটনায় করা মামলায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।


দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পট থেকে গ্রেপ্তার কয়েকজন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

রাজধানীর দয়াগঞ্জ রেলক্রসিং সংলগ্ন ঘুন্টিঘর এলাকার মাদক স্পটে এবার পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। সন্ধ্যায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।  


ডিএমপি জানায়, দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো– শামসুল হক, মো. ইকবাল হোসেন জিহাদ, আরাফাত হোসেন শামীম, মো. আব্দুল্লাহ রাহুল, মোহাম্মদ হোসেন, সাইমুর, ইমন, অভি, মো. রাফিন, জুনায়েদ হোসেন, মো. সাইদ হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মো. ইমরান আরাফাত, মো. মারুফ হোসেন, সাহিদুর, মো. উজ্জল, মো. রবিন, মো. মাসুদ, মো. দুলু, ফরিদ বেপারী, মো. জনি, কবির, ইউসুফ, মো. আল রাব্বি, মো. শুভ, মো. শাওন, মো. সেন্টু মিয়া ও একজন শিশু। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে একাধিক অভিযানের পরও স্পটটিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও সেবন চলছিল। পরে শুক্রবার বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে সেখান থেকে ২৮ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


এর আগে এই স্পটেই গত শনিবার অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার ইশরাক হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেন পদত্যাগের ঘোষণা দেন। 


এরপর স্পটটিতে দুই দফায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আরও ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।


‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদার

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৫ পিএম

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কুখ্যাত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য মো. দিদারকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন বোটঘাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


পুলিশ জানায়, জাওরা রাব্বি ও ভান্ডারি ইমনের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য দিদার। তার বাবার নাম ইউসুফ আলী এবং মায়ের নাম কুলসুম বেগম। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুরের কাটাশুরের নামার বাজার এলাকায় থাকতেন।


গ্রেপ্তার দিদারের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও মারামারিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. জুয়েল রানা।


তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর রায়েরবাজার বোটঘাট এলাকায় রায়েরবাজার ফাড়ির আক্কেল আলী নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় একাধিক ডাকাতি প্রস্তুতি মারামারি সহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। তিনি মোহাম্মদপুরের আলোচিত কিশোর গ‍্যাং ‘মুখে ল’ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৫ পিএম

 রাতের বেলা খানিকটা শীতের আবহ তৈরি হলেও ঢাকার চিত্র ভিন্ন। তাপমাত্রা খানিকটা কমার মধ্য দিয়ে ঋতু পরিবর্তনের প্রভাব টের পাওয়া গেলেও গরমের রেশ এখনো বিদ্যমান। তবে এই পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে নিত্যপণ্যের বাজারেও। শীত না এলেও এই মৌসুমের কিছু সবজি বাজারে এসেছে। বরাবরের মতোই এসব সবজি বেশ চড়া দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পুরনো সবজিগুলোর দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার বাড্ডা, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, মগবাজার ও কারওয়ানবাজারসহ কয়েকটি কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতোই এবারও আগাম বাজারে এসেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম। যে সবজিগুলোর শীতের মধ্যে ব্যাপক সরবরাহ যেমন থাকে তেমনি ভোক্তার চাহিদাও থাকে ব্যাপক। তবে আগাম সবজির উৎপাদন কম থাকায় পণ্যগুলোর দাম থাকে খানিকটা চড়া। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।


বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাজারে এখন ছোট ও মাঝারি আকারের ফুলকপি পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি ফুলকপি বাজারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত দামে। একইভাবে বাজারে আসা প্রতিটি বাঁধাকপি আকারভেদে ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামে নতুন আসা শিমের। নতুন শিমের স্বাদ নিতে ভোক্তাকে গুণতে হচ্ছে অন্তত ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। যদিও এই দাম গত সপ্তাহের তুলনায়  কেজিতে ২০ টাকা বা তারও বেশি কম। এ ছাড়া কোথাও কোথাও অবশ্য অল্প পরিমাণে মুলাও বিক্রি করতে দেখা গেছে।  


মেরুল বাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্টের সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম কে বলেন, সপ্তাহ দুয়েক ধরেই ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম বাজারে এসেছে। তবে ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দামও কমছে।


বিক্রেতারা জানান, শীতের সবজির সরবরাহ পুরোপুরি না আসা পর্যন্ত গ্রীষ্মকালীন সবজিগুলো এখনো বাজারে ভোক্তার চাহিদা পূরণ করছে। এর মধ্যে পটোল, বেগুন, ঝিঙা, বরবটি, লাউ, ঢ্যাঁড়স-সহ নানান সবজি রয়েছে। পূজার ছুটির কারণে একদিকে ক্রেতা কম অন্যদিকে নতুন সবজির আগমন, দুই চাপে দাম খানিকটা কমতে শুরু করেছে।