ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ এএম

ভোটের মাঠে নাম ছিল, প্রভাব ছিল, ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভার তবু শেষ হাসি হাসতে পারলেন না অনেকে। এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই; একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বদলে দিয়েছেন সমীকরণ। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব আর পরিচিত মুখ সবকিছু ছাপিয়ে ফলাফলে উঠে এসেছে নতুন বার্তা।


খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন। এছাড়া এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু হেরে গেছেন। এই তালিকায় আরও আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হার মেনেছেন ফুটবলার আমিনুল হকও।


লড়াই শেষে মামুনুল হকের পরাজয়


ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৩২০।


ওই আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা গেছে, একে অন্যের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এই দুই প্রার্থীর। ভোটের আগে এক জরিপেও ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হকের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এই আসন থেকে ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হক ছাড়াও আরো সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এই সাত প্রার্থী সব মিলিয়ে ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ৮১৩টি।


দুই আসনেই হেরে গেছেন ফয়জুল করীম


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনের মোট ১৭৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।


বরিশাল-৬ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। এ আসনের মোট ১১৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।


জামায়াত নেতা আযাদ হেরে গেছেন


কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরে গেছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত  হয়েছেন। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।


ফুটবলার আমিনুলের পরাজয়


ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩টি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।


সারজিস আলমও হেরে গেছেন


পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।


কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে


হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করে। তিনি সারা দেশে আলোচনা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন কৃষ্ণ নন্দী।


খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। এই আসনে পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র ছিল ১২০টি। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু সাঈদ। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট।


হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু


খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ৫৯২। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।


২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।


মিয়া গোলাম পরওয়ার জিততে পারেননি


খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।


অবশেষে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী


ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়। 


এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬। অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।


হেরে গেলেন তাসনিম জারা


তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন।


ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। জাবেদ মিয়ার তুলনায় ৫৭ হাজার ৭৫২ ভোট এবং তাসনিম জারার তুলনায় ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন হাবিবুর রশিদ।


এ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮১ জন। বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৩টি ভোট। 


ফলে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট। জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২ ভোট।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৯ এএম

প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এ ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে সরকার বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড চালু করে। প্রাইজবন্ডের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি যেকোনো সময় কেনা ও ভাঙানো যায়। পাশাপাশি নির্ধারিত ড্রয়ে বিজয়ী হলে বন্ডের বিপরীতে পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


প্রাইজবন্ডের ড্রয়ে ঘোষিত প্রতিটি বিজয়ী নম্বরের বিপরীতে সব সিরিজের একই নম্বরের বন্ড পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ড্রয়ের তারিখের আগের ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ড এ ড্রয়ের আওতায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড বিক্রির দিন গণনায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ড্রয়ের তারিখ গণনা করা হবে না।


আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। ফলে বিজয়ীকে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ড্রয়ের তারিখের আগের ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ড এ ড্রয়ের আওতায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড বিক্রির দিন গণনায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ড্রয়ের তারিখ গণনা করা হবে না।


আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। ফলে বিজয়ীকে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

মোটরসাইকেলের বিনামূল্যে সার্ভিসিং দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।


ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘এ যাবৎ ২৮০০+ মোবাইল এবং ৫০০+ মোটরসাইকেল ফ্রি সার্ভিসিং করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। আপনিও নিতে পারেন আমাদের সেবা।’


তবে কীভাবে এ সেবা গ্রহণ করা যাবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি শায়খ আহমাদুল্লাহ। এদিকে, মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।


বিআরটিএ চেয়ারম্যানের পাঠানো বিবেচ্যপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিবেচ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখই মোটরসাইকেল। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের সামনে স্বল্প সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন করা প্রায় অসম্ভব।


এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেল চালক ও মালিকদের নানা মতামত ও আলোচনা সামনে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নম্বরপ্লেট লাগানোর সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এর আগে বিআরটিএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগিয়ে প্রদর্শন করতে হবে।


সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে আগে থেকেই আরএফআইডি সংবলিত উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেকটিভ ধাতব প্লেটে নম্বর প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন মোটরসাইকেলের সামনের দিকেও নম্বরপ্লেট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বরপ্লেটেই অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা অন্তত ২০ মিলিমিটার হতে হবে। নম্বরপ্লেট তৈরিতে ব্যবহার করতে হবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম।


এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের সাদা পটভূমিতে কালো রঙে বাংলা হরফ ও সংখ্যা লিখতে হবে। এতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত নকশা বা শোভাবর্ধক উপাদান ব্যবহার করা যাবে না।


স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরটি সোজাসুজি এক লাইনে বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ পিএম

বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ইতোমধ্যে যারা বাসা বা ফ্ল্যাট সাবলেট দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া সরিয়ে নিজ নিজ বরাদ্দ বাসায় বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো বাসা বা ফ্ল্যাট সাবলেট পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপক তাদের নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক বা দুই কক্ষ কিংবা পুরো বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থি। এ অবস্থায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক তার নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ বা আংশিক, এমনকি এক বা একাধিক কক্ষও অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিতে পারবেন না।


যারা ইতোমধ্যে সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের আবশ্যিকভাবে সরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপকদের নিয়ম অনুযায়ী নিজ নিজ বরাদ্দ বাসায় বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপককে আর কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সরাসরি বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী তার বাসার বরাদ্দ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পাশাপাশি একই বিধিমালার ১৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।


সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন সব বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। তারা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ কোনোদিন রাজনৈতিক দল ছিল না। কারণ তাদের ডিএনএর মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের বীজ ছিল না। তারা একটা স্বৈরতান্ত্রিক একটি মাফিয়া শক্তি ছিল। অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা নিজেদেরকে প্রমাণিত করেছে। তারা গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশে ১৪০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, জাতিসংঘের হিসাব মতে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। যারা গণহত্যা চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, এদেশের নিরীহ জনগণকে তারা হত্যা করেছে। তারা এখনো পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তারা দুঃখ প্রকাশ করেনি।তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছিল। এ পরিস্থিতিতে দলটি আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে তিনি মনে করেন।আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে কখন দেশে আসতে চায়, তা নিয়ে আমরা বিচলিত নন। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। কেউ দেশে এলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা অঙ্গীকার আবদ্ধ যার সন্তানই হোক সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০ টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা তিনি। এদিনই রাত আনুমানিক ২ টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণের কথা রয়েছে।


এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সফরকালে কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন। তার এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং কৌশলগত অংশীদারি নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ‌‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৮ পিএম

ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি আদালতে হাজির করা গেলে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।’বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‎সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।’


এটি করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মামলার জট নিষ্পত্তিতে সরকার বাছাই করে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে জনগণের আস্থায় নিতে চায় সরকার। সারা দেশে চলমান ৪৬ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করা ২৩০০ জজের জন্য খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে অনেক জুডিশিয়াল কর্মকর্তা ঠিকমতো কাজ না করে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করেছি যে, উনারা হাজিরা দেবেন ধার্য তারিখে, কারাগারে থাকবেন, আদালত দেখছেন, ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে হাজির করে কনফার্ম করছেন। আদালত তার ডিজিটাল হাজিরা কনফার্ম করে নিচ্ছেন।


মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনে জুলাই যোদ্ধা, শহীদদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর