নোবিপ্রবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
‘তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ, দেশব্যাপী ইনসাফের পদযাত্রা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ইনকিলাব মঞ্চের কেন্দ্রীয় ও নোয়াখালী জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছান। পরে তাঁরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে একাডেমিক ভবন-১, ভাষাশহীদ আবদুস সালাম হল, আবদুল মালেক উকিল হল, হযরত বিবি খাদিজা হল, শান্তিনিকেতন, কেন্দ্রীয় গ্যারেজ, জুলাই শহীদ স্মৃতি হল ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’, ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবু সাঈদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আবরার ফাহাদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘ওয়ান, টু, থ্রি, ফোর—গুম-খুন নো মোর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও ক্যাম্পাসে দলীয়করণের বিরুদ্ধেও স্লোগান দেন তাঁরা।
মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি বলেন, ‘আমরা তিন দফা দাবি নিয়ে আমাদের পদযাত্রা শুরু করেছি।’
মার্চ ফর ইনসাফের তিন দফা দাবি হলো—
১. শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
২. গণভোটের গণরায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা।
৩. জুলাই, পিলখানা ও শাপলা গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
বক্তব্যে ফাতিমা তাসনিম জুমা আরও বলেন, ‘আমরা জানি, হাদি হত্যার সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। বিএনপির এতে কোনো হাত নেই। কিন্তু বিএনপি কেন এই হত্যার বিচার করছে না, তা আমরা জানি না।’
তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন আমাদের কাছে এসে হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন, তখন এই দাবির ভার কতটা, তা এখানে দাঁড়িয়ে আমরা বুঝতে পারি।’
দেশের বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন। কিন্তু আমরাও জানি, এখানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কোনো বিচার হয় না।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদির প্রতি ভালোবাসা এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে যারা আজকের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতি বন্ধসহ সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার এখনো বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারেনি। প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিয়ে বদলি করা হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা এবং গণভোটের রায় উপেক্ষার অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের তিন দফা দাবি কোনো রাজনৈতিক দলের নয়, বরং বাংলাদেশের মানুষের দাবি। সরকারকে ভালো লাগুক বা না লাগুক, এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে একজন নাগরিক হত্যার বিচারের দাবিতে মানুষকে রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৩০অক্টোবর) বুটেক্স ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাব। দিনব্যাপী আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব।
প্রতিযোগিতায় বুটেক্স শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি, দেশের ২৫টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং টেক্সটাইল কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা, বিশ্লেষণী দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিকাশের লক্ষ্যে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় আটটি ভিন্ন বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব এবং অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. কানিজ ফারহানা, বুটেক্সের ভারপ্রাপ্ত ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ও টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম নয়ন, বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের মডারেটর অধ্যাপক ইঞ্জিনিয়ার এস কে মোহাম্মদ রাফি।
প্রতিযোগিতার বিভাগগুলো ছিল গণিত অলিম্পিয়াড, ট্রেজার হান্ট, কুইজার্ড, পোস্টার উপস্থাপনা, কেস প্রতিযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ, প্রবন্ধ রচনা এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনী।
কলেজ বিভাগের প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণিত অলিম্পিয়াডে প্রথম হন সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের রাকিন শাহরিয়ার বিন কবির, দ্বিতীয় নটর ডেম কলেজের জুনায়েদ লাবীব আল ওয়াসি এবং তৃতীয় হলি ক্রস কলেজের শাকিবা আক্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের প্রতিযোগিতা গুলোর মধ্যে ট্রেজার হান্টে প্রথম স্থান অধিকার করে বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ইনকগনিটা', দ্বিতীয় বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম টুইলাইটস' এবং তৃতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম হ্যালোজেন'।
কুইজার্ডে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্সের এ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম অ্যাটাক অন কুইজার্ড', দ্বিতীয় বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম ডাবল ট্রাবল' এবং তৃতীয় হয় বুটেক্সের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে 'টিম দ্য রেড আর্মি'।
পোস্টার উপস্থাপনায় প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম থ্রাইভ', দ্বিতীয় সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম গ্যাস্ট্রিক' এবং তৃতীয় উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম নেক্সাস ইনভেন্টরস'। কেস প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজ থেকে 'টিম ক্যাটালিস্ট', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম দ্য অরফিয়াস এবং তৃতীয় আর্মি ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে 'টিম আন-থ্রেড-ইশনাল'।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভিডিও নির্মাণ বিভাগে প্রথম স্থান গ্রহন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে 'টিম দ্য ব্রেইনসেল', দ্বিতীয় বুটেক্স থেকে 'টিম জোনেক্স' এবং তৃতীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'টিম সোডা-পপ দল'। প্রবন্ধ রচনায় প্রথম হন বুটেক্সের আনজুম আবদুল্লাহ তাহহা, দ্বিতীয় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট)রোয়াইদা বিনতে আলী এবং তৃতীয় হন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড রিসার্চের (নিটার) মো. আরিফুল হক নাঈম।
অন্যদিকে, প্রজেক্ট প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে বুটেক্স থেকে 'টিম হ্যাব', দ্বিতীয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে 'টিম ইকো পাল্প বিডি' এবং যৌথভাবে তৃতীয় হয় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে থেকে 'টিম গ্রিন জেনেসিস' ও বুটেক্স থেকে 'টিম কোয়ান্টুম্যানিয়া'।
অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ২য় বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘কিংকল ২.০’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি বুটেক্স উপাচার্য ম্যাগাজিনটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আইইবির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের ভাইস চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সাঈদুর রহমান সাঈদ বলেন,"টেক্সটাইল শিল্পে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি শিল্পের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকল্প নেই। বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের ধারাবাহিক কার্যক্রম টেক্সটাইল খাতে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা করি বুটেক্স সাইন্স ক্লাবের কাছে।"
বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের সভাপতি রুবায়েত রশীদ রনি বলেন,"টেক্সভার্স ২.০ এটি একটি জাতীয় পর্যায়ের আয়োজন হওয়ায় এবং আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় আমাদের অতিথি ও ক্লাব মডারেটর স্যারের দিকনির্দেশনা আমাদের অনেক সহায়তা করেছে। পাশাপাশি বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের পুরো আয়োজক দলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই আয়োজনটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। "
ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কে এম শফিক রাইয়্যান বলেন,"টেক্সভার্স ২.০-এর মতো আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন নিজেদের মেধা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তা প্রকাশের সুযোগ পায়, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের নিজস্ব প্রকাশনা ‘কিংকল ২.০’ ম্যাগাজিনও আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই এই ম্যাগাজিন শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা, গবেষণাধর্মী লেখালেখি, নতুন ধারণা ও সৃজনশীল কাজ তুলে ধরার একটি কার্যকর মাধ্যম হয়ে উঠুক।"
বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মৌলিক গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বুটেক্স উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন,"টেক্সটাইল সায়েন্সের পাশাপাশি ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, ম্যাথমেটিকস, পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সাসটেইনেবিলিটিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। "
তিনি আরও বলেন,"গবেষণার লক্ষ্য হওয়া উচিত মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টি ও নতুন কিছু উদ্ভাবন করা, একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি নয়। প্রচলিত সুতা ও কাপড়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ফাইবার এবং নতুন পণ্য উদ্ভাবনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে।"
উল্লেখ্য,অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রতিটি বিভাগের বিজয়ী ও রানারআপদের হাতে পুরস্কার হিসেবে প্রাইজমানি, ক্রেসট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে উত্থাপিত ৩৭ দফার অধিকাংশই দুই বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি। প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ রাখা এবং পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালুর মতো কয়েকটি দাবি পূরণ হলেও আবাসন, জমি অধিগ্রহণ, লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবা, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের মতো শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত দাবিগুলো এখনো অপূর্ণ।
২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘দাবি উত্থাপন মঞ্চ’ আয়োজন করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ৩৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল শহিদ মীর মুগ্ধের নামে প্রধান ফটকের নামকরণ, সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, ক্যাম্পাস সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণ, শতভাগ আবাসন, ২৪ ঘণ্টা লাইব্রেরি, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থানে সহায়তা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
দাবি উত্থাপনের দুই বছর পর দেখা যায়, প্রধান ফটকের নাম ‘শহিদ মীর মুগ্ধ তোরণ’ করা হলেও সব শহিদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া জমি পুনরায় অধিগ্রহণের দাবিও এখনো বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ ও আশ্বাসের কথা বলা হলেও কার্যকর অধিগ্রহণ হয়নি।
শিক্ষার্থীদের জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করার দাবিরও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও আবাসিক সুবিধা সেই অনুপাতে বাড়েনি। একইভাবে চারুকলা স্কুলের জন্য স্বতন্ত্র ভবন নির্মাণ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংস্কারের দাবিও পূরণ হয়নি।
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার দাবিরও বাস্তবায়ন হয়নি; বর্তমানে এটি নির্ধারিত সময় পর্যন্ত খোলা থাকে। আবাসিক হলগুলোর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে ‘সংগঠন ফোরাম’ গঠনের দাবিও বাস্তবায়িত হয়নি।
রেজিস্ট্রেশন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিও পূরণ হয়নি। এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামতে হয়েছে। অন্যদিকে পরীক্ষার খাতায় কোডিং পদ্ধতি চালু হয়েছে। তবে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাদের দাবি ছিল অ্যাটেনডেন্সে ৫ এবং কন্টিনিউয়াস অ্যাসেসমেন্টে ৩৫ নম্বর নির্ধারণের। বর্তমানে এ দুই ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১০ ও ৩০ নম্বর রয়েছে।
মেডিকেল সেন্টারের সেবার মানোন্নয়নেও শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন দেখছেন না। পৃথক অভিযোগ সেল, কেন্দ্রীয় ক্যারিয়ার প্লেসমেন্ট সেন্টার, শিক্ষার্থীদের অর্জন তুলে ধরতে ‘অ্যাচিভমেন্ট কর্নার’ এবং বিনাসুদে শিক্ষাঋণের উদ্যোগও বাস্তবায়িত হয়নি।
সব মিলিয়ে দুই বছর পর ৩৭ দফা দাবির বাস্তবায়ন পরিস্থিতিতে কিছু অগ্রগতি দেখা গেলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন, অবকাঠামো, চিকিৎসা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত অধিকাংশ দাবি এখনো অপেক্ষমাণ। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোন দাবি বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনটি প্রক্রিয়াধীন এবং কোনটির ক্ষেত্রে কী বাধা রয়েছে তা স্পষ্ট করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি সময়সীমাভিত্তিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। ইতোমধ্যে যেসব দাবি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আর যেসব দাবি অবকাঠামো, অর্থায়ন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশাসন কাজ করছে।”
গ্লোবাল মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি (এমআইএল) উইক ২০২৬-এর সোশ্যাল অ্যাকশন প্রজেক্ট (এসএপি) ক্যাটাগরিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের একটি দল। একই আয়োজনে ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসেডর ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছেন ডিসিপ্লিনের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির মঞ্জুর এলাহী অডিটোরিয়ামে বিশ্ব গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁদের এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪টি দল অংশ নেয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পটির শিরোনাম ছিল ‘Enhancing Media Literacy Among Homemakers in Khulna: Addressing Misinformation and Promoting Responsible Digital Media Use’। খুলনার গৃহিণীদের মধ্যে গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা বাড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা এবং অনলাইনে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রকল্প দলের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মাজিদুল ইসলাম। তিনি অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন। দলের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন দলনেতা এস এম মিফতাহুল ইসলাম মাহিন।
মাজিদুল ইসলাম বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সবার জন্য গণমাধ্যম ও তথ্য সাক্ষরতা জরুরি। ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ভিড়ে সঠিক তথ্য খুঁজে বের করার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এ ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া এবং তা প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে শেখার সুযোগ পায়।
মিফতাহুল ইসলাম মাহিন বলেন, “এই অর্জন আমাদের পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পরিশ্রমের ফল। প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহিণীদের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের সচেতনতা তৈরি এবং দায়িত্বশীলভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।”
প্রকল্প দলের অন্য সদস্যরা হলেন সানজিদা আক্তার, মো. নাঈম শেখ, তানিয়া তাবাসসুম, জাহিদা সুলতানা রিমা, আশরাফুল আলম, রুকাইয়া আফিয়া নেহা, আহমেদ মোস্তফা, সাবিনা ইয়াসমিন তিথি ও শেখ এশানুল হক।
‘Media and Information Literacy Skills for 21st-Century Youth’ শীর্ষক সেমিনার ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির তথ্য অধ্যয়ন বিভাগ। এতে সহযোগিতা করে ইউনেস্কো ঢাকা কার্যালয় ও মিডিয়া অ্যান্ড ইনফরমেশন লিটারেসি নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (MILNetBD)। সহায়তা দেয় জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা (পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি) এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. জাহেদ উর রহমান। সভাপতিত্ব করেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন ও প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে ইউনেস্কোর প্রতিনিধি ও ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান ড. সুসান ভাইজ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশিক মোসাদ্দিক এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের জাতিসংঘের নির্বাচনী সহায়তা প্রকল্প ‘ব্যালট’-এর প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা আন্দ্রেস দেল কাস্তিয়ো সানচেস।
কনসার্টে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করল জবি প্রশাসন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দিবসটির র্যালি, কনসার্টসহ সব আয়োজন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. নাছির আহ্মাদসহ সহকারী প্রক্টররা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস ও রেঞ্জার ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও আহ্বায়ক এবং সাধারণ সম্পাদক ও সদস্যসচিবরা অংশ নেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং পার্শ্ববর্তী কোতোয়ালি, বংশাল ও সূত্রাপুর থানার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের র্যালি, কনসার্ট ও অন্যান্য অনুষ্ঠান সর্বোচ্চ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রেখে সফলভাবে সম্পন্ন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশীজনদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এ সময় জকসু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানগুলো শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজন সুশৃঙ্খল রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি, বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা, বিএনসিসি, রোভার স্কাউটস এবং ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করবেন। বিশেষ করে কনসার্টে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের সার্বিক আয়োজন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
আগামী ২ নভেম্বর (সোমবার) বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদ্যাপন করা হবে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’।
টেক্সভার্স ২.০ আগামীকাল অনুষ্ঠিত হচ্ছে বুটেক্সে
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় প্রতিযোগিতা ‘টেক্সভার্স ২.০’। আগামীকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বুটেক্স সায়েন্স ক্লাবের আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম, সেমিনার কক্ষ, একাডেমিক ভবন ও কেন্দ্রীয় মাঠে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বুটেক্সের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আইটিইটি'র সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেন, মহাসচিব প্রকৌশলী এ. এস. এম. হাফিজুর রহমান নিক্সন এবং বুটেক্সের শিক্ষার্থী কল্যাণ পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. মাহবুবুর রহমান।
এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ফিয়াট ফ্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বাদশা, এমএমটেক্স সলিউশন বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ময়দুল ইসলাম, হিউ টেক বিডির পরিচালক প্রকৌশলী এ. এস. এম. আশিক ইশতিয়াক লিখন ও প্রকৌশলী মো. রফিকুজ্জামান রনি। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত থাকবেন রেডক্স কেমিক্যালস লিমিটেডের পরিচালক চন্ডিমা পুন্যাওয়ার্দানা এবং সুইসক্রোমা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজহার হোসেন।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে এ আয়োজন করা হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং টেক্সটাইল খাতের বাস্তব সমস্যার টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে উৎসাহিত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে প্রজেক্ট প্রদর্শনী, গবেষণাভিত্তিক পোস্টার উপস্থাপনা, কুইজ, টেক্সটাইল কেস প্রতিযোগিতা ও ট্রেজার হান্ট। পাশাপাশি উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন করা হবে গণিত অলিম্পিয়াড। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব বুটেক্স ক্যাম্পাসের নির্ধারিত ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টায় কলেজ সেগমেন্ট ও কুইজার্ডের প্রাথমিক পর্বের মধ্য দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে কুইজার্ডের চূড়ান্ত পর্ব। এরপর সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় মাঠে ট্রেজার হান্ট এবং বেলা সাড়ে ১১টায় শ্রেণিকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে গণিত অলিম্পিয়াড। বিকেল ৩টায় কেস কম্পিটিশন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং বিকেল সাড়ে ৪টায় প্রজেক্ট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার পর সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সমাপনী অনুষ্ঠান।
এবারের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও টেক্সটাইল কলেজের ২৫টিরও বেশি ক্লাব ও সংগঠন। এসব সংগঠনের মধ্যে রয়েছে কুয়েট টেক্সটাইল ক্লাব, বিইউপি ক্যারিয়ার ক্লাব, ডুয়েট টেক্সটাইল ক্যারিয়ার অ্যান্ড রিসার্চ ক্লাব, ডিআইইউ গ্রিন আর্থ ক্লাব, নিটার সায়েন্স সোসাইটি, বিইউএফটি ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট ক্লাব, ড্যাফোডিল এআই ক্লাব ও সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয় টেক্সটাইল ক্লাব।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে টেক্সভার্স ২.০-এর কেস কম্পিটিশনের চূড়ান্ত পর্বের জন্য সাতটি দল, পোস্টার প্রেজেন্টেশনের জন্য আটটি দল এবং প্রজেক্ট প্রদর্শনীর জন্য আটটি দল নির্বাচিত হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পূর্ণ হয়েছে। তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় তার আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন জোবায়েদের সহপাঠী ও ছাত্রদল নেতারা।
গত বুধবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে আছরের নামাজ এর পর দোয়া মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয়।
মো. জোবায়েদ হোসেন ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেনের একটি ভবনে ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়।
জোবায়েদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রুমি।
জাফর আহমেদ বলেন, “জোবায়েদকে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, তাদের অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে হত্যা করা অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা চাই না বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকুক। জোবায়েদের পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, সেই লক্ষ্যে দ্রুত বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই, মামলাটির বিচার দ্রুত এগিয়ে নিয়ে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। জোবায়েদ আমাদের সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কখনো পূরণ হওয়ার নয়। আমরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাই এবং তার হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে যাব।”
ন্যায়বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে রুমি বলেন, “আমরা জোবায়েদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”
রুমি বলেন, “জোবায়েদ হত্যাকাণ্ডের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা তার হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার দাবি করছি। যারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই যেন বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় আটকে না থাকে। আমরা চাই, জোবায়েদের পরিবার ন্যায়বিচার পাক এবং অপরাধীরা যথাযথ শাস্তির মুখোমুখি হোক। জোবায়েদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দাবি অব্যাহত থাকবে।”
জোবায়েদ হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ২০২৬ সালের ৩০ জুন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি একাধিকবার পিছিয়েছে।
সর্বশেষ ২৮ অক্টোবর ঢাকার ২০তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত শুনানির পরবর্তী তারিখ ৮ নভেম্বর নির্ধারণ করেন। মামলার তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
জোবায়েদের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বিচার ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির প্রত্যাশা করছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের দাবি, বিচারিক কার্যক্রমে আর দীর্ঘসূত্রতা না করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় মামলাটির নিষ্পত্তি করতে হবে।
জোবায়েদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন উপস্থিত শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তারা হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।