৩ সাংবাদিকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারে প্রেসক্লাবকে মির্জা ফখরুলের চিঠি

আসাদ, দুররানী ও জাহাঙ্গীর জাতীয়তাবাদী ওদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করুন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৪, সময় : ১:০০ পিএম

জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের তিনজন সিনিয়র সদস্যের সদস্যপদ পুনর্বহালের দাবী জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর দেয়া একপত্রে তিনি বলেন, “পতিত ফ্যাসিবাদী সরকার কর্তৃৃক জাতীয় প্রেসক্লাবে আমাকে গ্রেফতার ও অপদস্থকারী ব্যক্তিগণ আসাদুজ্জামান আসাদ, শামসুল হক দুররানী ও জাহাঙ্গীর আলম প্রধান নয়।


উল্লেখিত, তিনজন ঐ ঘটনার দিন আমার সহযোগী হিসেবে সারারাত ও গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত সাথে ছিল। এর মধ্যে আসাদুজ্জামান আসাদ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন। তারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার ধারণা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।


আমি বিশ্বাস করি, তাদের বিরুদ্ধে আনীত ২৪শে নভেম্বর ২০২৪ নির্বাহী সভার অভিযোগ প্রত্যাহার করে তাদের তিন যুগের অধিক সদস্যপদ পুনর্বহাল করবেন।”


আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, মহাসচিবের এই চিঠিটি জমা দিতে গেলে প্রেসক্লাব অফিস গ্রহণ করেনি। পরে জিপিও থেকে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এটি প্রেরণ করা হয়।


 বিএনপি মহাসচিবকেও তোয়াক্কা করে না জাতীয় প্রেসক্লাব কমিটি


 জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকদের মধ্যে সু-কৌশলে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে





সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ৩০ জুন, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ এএম

বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক একজন সম্পাদক দেখেছেন পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা।


গত ১৫ জুন সকাল পর্যন্ত সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। ওইদিন সকালেই পত্রিকাটির ম্যানেজিং এডিটর ফারুক মেহেদীকে জানানো হয় তাকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে হাসান হাফিজের অনুপস্থিতিতে বিকাল ৪টার দিকে তিনি সম্পাদকের চেয়ারে বসেন। তবে এরপর হাসান হাফিজ অফিসে এসে রাত ৮টা পর্যন্ত ছিলেন বলে কালের কণ্ঠের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।


তবে সেদিন রাতেই আবার ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে নতুন আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করা হয়। তিনি হলেন ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান তালুকদার।


একটি জাতীয় দৈনিকে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে সর্বোচ্চ পদে একাধিক পরিবর্তনের ঘটনা ঢাকার গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। এই রদবদলের কারণ সম্পর্কে কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে পত্রিকাটির ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, সম্পাদক পদে এই পরিবর্তনের পেছনে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রভাব ফেলতে পারে।


সকালে সম্পাদক হয়ে রাতে বাতিল লীগের মনোনয়ন কেনা ফারুক মেহেদী


আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপিপন্থী বলয়ের সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হাসান হাফিজকে সম্পাদক নিয়োগ দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ। গতকাল সোমবার (১৫ জুন) সকালে হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করা হয় পত্রিকাটির হেড অব নিউজ দায়িত্ব পালন করা ফারুক মেহেদীকে।

এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দেন সহকর্মী শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ফারুক মেহেদীর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।

তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ওইদিন রাতেই ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে চীফ রিপোর্টার মেহেদী হাসান তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার তালুনকাদের শুভাকাঙ্খীরা সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাতে থাকেন।

 এই আকস্মিক এরকম একাধিক পরিবর্তনের বিষয়ে 'দ্য ডিসেন্ট'-এর পক্ষ থেকে কালের কণ্ঠের যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "নামের বিভ্রাট হয়ে গেছে। ভুল করে ফারুক মেহেদী লেখা হয়। দুইজন মেহেদী থাকায় এমন হয়েছে। ওইটা ঠিক করা হয়েছে। রাতে কারেকশন করে দিছে।"

তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসান হাফিজ পুরোপুরি দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন এবং মেহেদী হাসান তালুকদার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

হাসান হাফিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননা।


অন্যদিকে, মাত্র এক বেলার জন্য ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা ফারুক মেহেদী বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষেরসাধারণ সিদ্ধান্তহিসেবেই অভিহিত করে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

'দ্য ডিসেন্ট'-এর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এগুলা নিয়ে কিছু বলার নাই আসলে। এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ যে ডিসিশন নিবে, সেটাই হবে। আমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব এবং যাকে নিছে, তাকে নিয়ে তার সাথে আমরা কাজ করব।"

পদ পরিবর্তনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় হয়েছে বলেও তিনি জানান।

নতুন দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ফারুক মেহেদীর নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে তার সাথে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।


এত রদবদলের নেপথ্যে কী?


কালের কণ্ঠের এই অস্থিরতার পেছনের কারণ কী তা বুঝার জন্য পত্রিকাটির একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট (যাদের কেউই নাম প্রকাশে রাজি হননি) তাদের কেউই নির্দিষ্ট করে কোন কারণ বলতে পারেননি। তবে তাদের অন্তত দুইজনের ধারণা, আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদেরকে পত্রিকাটিতে ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা এবং অফিসের সিনিয়র একাধিক ব্যক্তির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।


হাসান হাফিজকে সরিয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজনকেই তাদের কালের কণ্ঠের একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এদের মধ্যে প্রথমে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া ফারুক মেহেদী সাংবাদিকতা অঙ্গনে পরিচিত মুখ এবং অর্থনীতি বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার খ্যাতি রয়েছে। তিনি এনবিআর এবং ডিআরইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠান থেকে সেরা সাংবাদিকের পুরস্কারও পেয়েছেন।

তবে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সংশ্লিষ্ট। শাহজালাল বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) পড়ার সময় থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তীতে তিনি সরাসরি জাতীয় রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান এবং ২০২১ সালে কুমিল্লা- (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।


এছাড়াও তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে পলতাক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ২০১৯ সালেগ্লোবাল লিডার শেখ হাসিনা দ্য প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশশীর্ষক একটি সংকলিত বই সম্পাদনা করেছিলেন। তিনি শেখ হাসিনাকেবিশ্বের মুকুটহীন রানীহিসেবে উল্লেখ করেন।


তাকে সরিয়ে দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারকেও একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী বলে জানলেও, দ্য ডিসেন্ট অনলাইনে তার আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোন তথ্য পায়নি। যদিও তালুকদারের ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে ডিএক্টিভ রয়েছে।


কালের কণ্ঠের একাধিক কর্মী বলেছেন, বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর সাথে অন্য নিউজরুম ম্যানেজারদের কারো কারো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বও অস্থিরতার পেছনে কিছু ভূমিকা রাখতে পারে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নির্বাহী সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়ার বদলে তার অধীনে থাকা দুইজনকে পরপর এই দায়িত্বে নিয়ে আসা থেকে এই দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মেলে বলে তাদের ধারণা।

পত্রিকাটির নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীকে ফোন করা হলে তিনিআমি মিটিংয়ে আছি। পরে কথা বলববলে কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার একই নম্বর থেকে ফোন করা হলে তার ফোনে আর কল যায়নি। 

তবে অন্য নম্বর থেকে তাকে কল করা হলে কল ঢুকলেও তিনি রিসিভ করেননি।


সংশোধনী


ভুলবশত হাসান হাফিজ কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন লেখা হয়। তিনি মূলত পত্রিকাটির সম্পাদক পদে ছিলেন।


ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান তালুকদারের পদবীও সংশোধন করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য তালুকদার হারুন আর নেই

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১১ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:২৬ পিএম

জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার তালুকদার হারুন আর নেই।


গত ৬ মে বুধবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)| তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।


তিনি এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নিজ গ্রাম গালার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।


জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া তালুকদার হারুনের মৃত্যুতে গভীর  শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের বি,কে বাড়ি এলাকায় ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ গনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়।


শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসার পাশে নির্মাণাধীন স্থানে চাঁদা দাবি করার প্রতিবাদ করলে তার উপরে এই হামলা চালায়।


এই বিষয়ে আহত মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গনি মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন ও মাসুদসহ কয়েকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।



ঘটনার দিন সকালে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের গালিগালাজ করে।


প্রতিবাদ করলে তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।


একপর্যায়ে একটি হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তার ডান চোখের নিচে লাগে, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও হুমকি দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও র‍্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।


গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা করা হয়েছে যাহার নম্বর-১৮, তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৬, বাৎসরিক নম্বর ১১০ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৫০৬ ধারায় চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।


এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ জানায়, মামলা দায়ের হয়েছে আমি চেষ্টা করেছি অতিদ্রুত আসামি কে গ্রেফতার করা হবে।

সর্বশেষ সব খবর

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ। ফাইল ফটো।

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:২০ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ কারাগারে অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তার মুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে মেহেত মামুন। 


সম্প্রতি তিনি বাবার মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে আবেদন দাখিল করেছেন। একই সাথে পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে বিএনপি’র সাবেক এই নেতার মুক্তির জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।



প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবরে দাখিলকৃত আবেদনপত্রে মেহেত মামুন বলেন, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের পুরো সময়জুড়ে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশ্বস্ত সহচর হিসেবে কাটিয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রধান নেতা আপনার শ্রদ্ধেয় পিতা রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ লালন করেছেন। সেভাবেই দলের অনুগত হিসেবে সাংবাদিক পেশার মানুষদের সুসংগঠিত করেছেন। এরজন্য তাকে কম নিগৃহের শিকার হতে হয়নি! আওয়ামী লীগ আমলে তিনি ৭০টি মামলায় দীর্ঘ দেড়বছর কারাবসা করেন। তবে আপনার ও আপনার মার থেকে পাওয়া দীক্ষাপ্রাপ্ত হয়ে কখনো আপস করেননি।



তিনি বলেন, আমার পিতা গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এ একটি মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন। তাকে এক কাপড়ে গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা তুলে নিয়ে একটি মামলায় যুক্ত করেন, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই বলে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বারবার বলে আসছেন। তার চলমান কারাবাস সময়ে যতবার দূর থেকে কথা বলার সুযোগ হয়েছে তাতে তিনি তার কষ্টের জীবনের বাইরেও আপনার খোঁজ নিয়েছেন। আপনি যখন গত ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দেশের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে গণতন্ত্র ফেরানোর পথে হাল ধরেন, তিনি তখন খুব আপ্লুত হয়ে আপনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। খুশি হয়ে তার অভিবাদন জানাতে আপনার দ্বারস্থ হওয়ার কথা বললেও সে সুযোগ মেলেনি। আমার পিতার একমাত্র অভিবাবক দেশনেত্রী বেগম জিয়ার প্রয়াণেও তিনি বিমর্ষ, ব্যথিত। এতে মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত। তিনি তার রাজনৈতিক সর্বোচ্চ নেতার আওয়ামী দুঃশাসনে মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ায় শোকবিহ্বল। আব্বা (শওকত মাহমুদ) তখনই শোকসন্তপ্ত পরিবার হিসেবে আপনাকে তার বার্তা পৌঁছাতে বললেও সে সুযোগও হয়নি।



মেহেত মামুন আরো বলেন, এর মধ্যে আপনি দলের সঙ্গে দেশেরও হাল ধরেছেন। একের পর এক চমক দিয়ে আপনি শুধু দল নয় বরং দেশের সর্বোচ্চ অভিবাবকের ভূমিকায় আবির্ভূত হয়েছেন। আপনি আপনার সবচেয়ে বিরোধী ভূমিকায় থাকা লোককেও আপনার মানবিকতা, দুরদর্শী কার্যালাপ দিয়ে বিমোহিত করেছেন। এতে আব্বা (শওকত মাহমুদ) বরাবরের ন্যয় আপনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বে মন্ত্রমুগ্ধ। আপনি সরকারে দেড় মাসের মতো সময়ে ঘুনেধরা সমাজ, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রের আচারে ও কর্মকাণ্ডে যে আস্থা ফিরিয়ে এনেছেন তাতে শওকত মাহমুদ ও তার পরিবার হিসেবে আমরাও আপনার নেতৃত্বের প্রতি আরো অনুগত, আরো আদর্শিক জায়গা থেকে বাধ্যগত হয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। আমার আব্বাসহ (শওকত মাহমুদ) দেশের আপামর জনতার একমাত্র অভিবাবক হিসেবে আপনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।


তিনি বলেন, একটি মহল মিথ্যা তথ্য ও ধারণাপ্রসূত হয়ে আমার পিতা শওকত মাহমুদকে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার রেখে হয়রানি করছে। সবশেষ যে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে সে মামলায় জামিনের পর তাকে ফের এমন একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, যার সঙ্গে তার দূরতম সম্পর্ক নেই। ওই মামলাটি ছিল আমার পিতাকে গ্রেপ্তারের আরো আগের। আওয়ামী পন্থী একদল লোকের করা আয়োজনের সঙ্গে আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) জড়িয়ে জঘন্যতম মিথ্যাচার করা হয়েছে। স্পষ্টত তা হয়রানির উদ্দেশেই করা হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়।


প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে মেহেন মামুন আরো বলেন, আপনি দেশের অভিবাবক হিসেবে এখন সবকিছু আপনার নখদর্পনে। আপনি নিজ থেকে তদন্তের দায়িত্ব কোনো দায়িত্বশীল সংস্থাকে দিলেই এটি প্রকাশ পাবে, আমার পিতা শওকত মাহমুদ তার জীবনের কোনো মুহূর্তে আপনার ও আপনার মা’র আদর্শ ও দেখানো পথ থেকে বিচ্যুত হননি। আমাদের পরিবারের সদস্যকে সেভাবেই তৈরি করেছেন। তবে একটি মহল তাকে বরাবরই দলের বিরুদ্ধাচাণ করার দায়ে সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছে এবং যার ফলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ থেকেও তাকে আব্বার (শওকত মাহমুদ) বরখাস্ত হতে হয়। এর পেছরে আব্বার (শওকত মাহমুদ) দায় বা দোষ যে নেই তা বলছি না। আব্বাও নিজেকে এর জন্য দোষী ভাবেন নিজেকে। একবার আপনার সদয় অনুমতি মিললে তিনি ক্ষমা চাইতে চান অবলীলায়। তিনি চান, অভিবাবক হিসেবে আপনি যে পরিস্থিতির মুখোমুখি করবেন তা তিনি বিনাদ্বিধায় মেনেও নেবেন। তবে তিনি এতটুকু বারবার বলতে চান, তিনি আপনি, আপনার মা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের তৈরি বিএনপির প্রশ্নে আপসহীন।


প্রধানমন্ত্রীকে কিছু তথ্য দিয়ে শওকত মাহমুদের জেষ্ঠ্য কন্যা আরো বলেন, আমার আব্বা (শওকত মাহমুদ) তার এবারের কারাবাসের ঠিক চারদিন আগে ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখেও আপনার মা’র প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কালবেলা পত্রিকায় কলাম লিখেছেন ‘বেগম জিয়া এখন কী ভাবছেন’। যে নির্বাচনের মাধ্যমে অবশ্যম্ভাবী বিএনপি ক্ষমতায় আসীন হবে এবং আপনি দেশের হাল ধরবেন সে নির্বাচনের সময় ঘোষণার পরপরই তাকে স্বাগত জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সংবাদ করিয়েছেন। সেটিও ৬ অগাস্ট ২০২৫ তারিখে। আব্বা ২৯ মে ২০২৫ তারিখেও তার ফেইসবুকে লিখেছেন ‘স্বাধীনতার প্রধান ব্যক্তিত্ব জিয়া’। এসবই তার কারাবাসের পূর্বের কয়েক মাসের কার্য তালিকায় রয়েছে। তার ব্যক্তিগত ফেইসবুকে এখনও নিজের বায়োতে লেখা রয়েছে ‘বেগম জিয়াকে মুক্তি ছাড়া অন্য কোনো স্থিতি নয়, নয় আর কোনো নির্ণয়া’, তার কভার ফটোতে ঝুলছে রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমানের ছবি সম্বলিত ‘বাংলাদেশ তুমি ধানের শীষে মিশে থাকা শহীদ জিয়ার স্বপন’ গানের লাইন। এতে স্পষ্ট হয় তার আবেগ ও আদর্শের জায়গায় কিঞ্চিৎ কষ্মিণকালেও পড়েনি।


তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা এতটুকু বলতে পারছি কারণ আমরা পরিবার চার দেয়ালের মধ্য থেকে তার মানবেতর জীবন দেখেছি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনামলে। তিনি একের পর এক মামলায় যখন জর্জরিত তখনও তাকে তৎকালীন হাসিনা সরকার নানাভাবে চাপে রেখেও বিএনপি থেকে সড়াতে পারেনি। এর জন্য দীর্ঘ দেড়বছরের কারাবাস করতে হয়ে আব্বাকে। আর আমরা দিনকে দিন দেখেছি কীভাবে ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে সব। ৫ অগাস্ট আসার আগের এবং পরের সময়েও আমাদের পরিবারকে বারবার বাসা ভাড়ার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। একের পর এক ছোটো বাসা ভাড়া করে দিনানিপাত করে জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হয়েছে। এ সময় সাধারণ ইউটিলিটি বিল ঠিকঠাক দিতে না পারায় তা বিচ্ছিন্নের ঘটনাও ঘটেছে। পরিবারের একমাত্র সম্বল ব্যক্তিগত মায়ের গাড়িও বিক্রি করে সংসারের সাধারণ খাওয়া-দাওয়ার খরচা সামাল দিতে হয়েছে। এগুলো আমাদেরই অভিজ্ঞতা! এর বাইরে রাষ্ট্রীয় জায়গা থেকে আপনি বা আপনার দল কিছু জানলে তা আমরা সে বিষয়ে অজ্ঞ। তবে পরিবারের ভেতর থেকে তাকে বরাররই পেয়েছি স্বচ্ছ ও নির্মোহ। তার প্রায় চারদশকের রাজনীতিতেও এমন দিনানিপাতের দিন আমাদের কাছে তার আওয়ামী দুঃশাসনের সামনে নত না হওয়া প্রমাণ করে। তবুও তিনি কোনো দোষ, ত্রুটি করলে আপনার কাছে আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমার আব্বাও (শওকত মাহমুদ) অত্যন্ত লজ্জিত হয়ে তার জানা-অজানা ভুল ও দোষের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আপনার সাক্ষাৎ কামনা করে তিনি দল বা আদর্শের জায়গা থেকে যেকোনে ভুলের জন্য তার বার্তাও নতমস্তিষ্কে তুলে ধরতে চান।


শওকত মাহমুদের মুক্তি চেয়ে তার কন্যা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বাকে (শওকত মাহমুদ) কারামুক্ত হতে আপনার একান্ত সহযোগিতা এবং সুদৃষ্টি কামনা করছি। কারণ তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে এখন এসব হয়রানিতে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। শেষ যেদিন কথা হল, অপর একটি মামলায় ফের গ্রেপ্তার দেখানোর পর তিনি ব্যথিত ও মর্মাহত বললেন, আমি বুঝে গেছি। এই আমার শেষ। মৃত্যু ছাড়া আমার বের হওয়ার সুযোগ নেই। তোমরাও প্রস্তুত থাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, এ কথা আমাকে, আমার ভাইবোন ও আমার আম্মাকেও একদম ভেঙে দিয়েছে। আমরা আইনি লড়াইয়ে বিপর্যস্ত হয়ে তার আপনার দ্বারস্থ হওয়ার সব চেষ্টাই করে গেছি। আমি ও আমার পরিবারের বিশ্বাস, আমার আব্বার (শওকত মাহমুদ) ২০০৪ সালের ৬টি বাইপাস সার্জারি, ২০১৩ সালের দুটি স্টেন্ট এবং ২০২২ সালের আরো দুটি স্টেন্ট বসানোর তথ্য ও বর্তমানে থাকা হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, সিও ইপিডি, শ্বাসকষ্ট, চলনশক্তির দুর্বলতা ও এবং বিভিন্ন রোগে ভোগার তথ্য জেনে আপনি অবশ্যই আপনার দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধার প্রতি সদয় হবেন। তিনি এতটাই বর্তমানে অসুস্থ যে তাকে মিথ্যা মামলায় তাও আবার অজ্ঞাত হিসেবে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়ায় ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্রুত ভর্তি হতে হয়। সেখানে রিউমাটোলজি বিভাগের অধীনে কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকতে হয়।


মেহেত মামুন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার আব্বা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আইনি লড়াই করতে গিয়ে পরিবারের অর্থাভাবও চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে আইনি খরচ মেটাতে গিয়ে তার চিকিৎসা খরচা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি এখন মৃত্যুর দিন গুনছে। পরিবারের সদস্য হিসেবে তা আমাদের চোখের সামনে হওয়ায় আমারও বিমর্ষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আপনি সদয় হয়ে আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে কারামুক্তি দিন। তার যেকোনো অপরাধের জন্য ক্ষমা করুন। আমি পরিবারের তরফে আমার আব্বার আশুমুক্তির জন্য আপনার দ্বারস্থ হয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বিনীত প্রার্থনা আপনার নিকট আমার আব্বা শওকত মাহমুদকে মুক্তির বিষয়ে সুদৃষ্টি দিন, নয়তো আপনার সহযোদ্ধা কারাগারেই হয়তো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বেন!


বার্তাপ্রেরক — মেহেত মামুন (সাংবাদিক শওকত মাহমুদের বড় মেয়ে)


(সংবাদ বিজ্ঞপ্তি)

সর্বশেষ সব খবর

অভিযুক্ত মোঃ আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ ও দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ সুমন।

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

মুন্সীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন সিভিল সার্জন অফিসের সাট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মিজানুর রহমান (৫৮)।


মামলার সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, মুন্সীগঞ্জে দায়ের করা সি.আর মামলা নং-৩২৩/২০২৬-এ দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ ও দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ সুমনকে।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ আগস্ট ২০২৫ বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে একটি আর্থিক লেনদেনের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে প্রায় তিন মাস পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত নম্বর দিয়ে ফোন করে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।


বাদীর দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাদের নিজস্ব পত্রিকা “দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময়”-এ ১১ মার্চ একটি সংবাদ প্রকাশ করে তাকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এতে তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের চাকরি জীবনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। তিনি এতে ১০ লাখ টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।


মামলায় বাদী নিজে ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকসহ আরও সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষী দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।


এ ঘটনায় বাদী আদালতের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।


এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ অক্টোবর, ২০২৪, সময় : ২:০০ পিএম

জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) দেশের শীর্ষ স্থানীয় সাংবাদিক নেতাদের সমন্বয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম এর আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আবু সালেহ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নন্দিত সাংবাদিক নেতা জাতীয় প্রেসক্লাব ও বিএফইউজে’র বার বার নির্বাচিত সভাপতি ও মহাসচিব শওকত মাহমুদ।


শওকত মাহমুদ বলেন, বিগত ১৭টি বছর ফ্যাসিবাদী নির্যাতনে চলেছে, দলের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী হামলা, মামলার শিকার ও শত শত নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে ৭৬টি মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা আমাকে বাসায় এসে সিদ্ধান্ত নিতে বলে ‘আমি জেলখানায় যাব না নির্বাচনে যাবো’। আওয়ামী দুঃশাসনে সাংবাদিক সমাজকে স্তব্ধ করতে আমাকে মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দী রাখা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে আইয়ুব খানের ওয়েজ বোর্ড ভালো ছিল। কিন্তু সাংবাদিকরা তার এই সুযোগ-সুবিধাকে প্রত্যাখ্যান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সংবিধানও সাংবাদিকদের অধিকারে কোন বিষয়ে আমরা আপোষ করব না। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্রে এসব বিষয় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনও দেশে হাজার হাজার সাংবাদিক তাদের কথা বলার অধিকার থেকে বঞ্চিত। জাতীয়তাবাদী চেতনার সাংবাদিকরা এখনও বেকার, তাদের চাকুরী এখনও ফেরত দেওয়া হয় নাই।


আমাদের ৬টি দাবি- ১. জাতীয় প্রেসক্লাবে যোগ্য লোককে সদস্য নিতে হবে।


২. ডিইউজে’র সদস্য তালিকা থেকে সাংবাদিক পরিচয়ধারী অসাংবাদিকদের সদস্যপদ বাতিল করতে হবে।


৩. জাতীয় প্রেসক্লাবকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক চলতে হবে।


৪. জাতীয় প্রেসক্লাব নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত করতে হবে।


৫. বিএফইউজের গঠতন্ত্র মোতাবেক সংগঠনটি পরিচালিত করতে হবে।


৬. সাগর-রুনিসহ সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে করতে হবে।


তিনি আরো বলেন, চাকুরীচ্যুত সাংবাদিকদের নিয়োগ অতি দ্রুত কার্যকর না করলে আমরা ওই প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করতে বাধ্য হবো। সাংবাদিকদের আর বেকার দেখতে চাই না, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সকল কালা কানুন বাতিল করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তে সাংবাদিকদের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।


সাংবাদিক কবি মাহমুদ শফি বলেন, স্বৈরাচার আমলে শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে ৭৬টি মামলা দিয়ে জেলখানায় বন্দী করা হয়েছিল। আমরা জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম বিগত ১৭ বছরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানাচ্ছি।


শামসুল হক দুররানী বলেন, আমরা যারা জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সদস্য, আমরা প্রত্যেকেই এক একটি শক্তি। পতিত বসুন্ধরা গ্রুপের দালাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে। যেহেতু জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি বসুন্ধরা গ্রুপের অন্যায় অত্যাচারের বিচার দাবি করেছে এবং আদালত তাদের সকলের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করেছে, তাই এদের সহযোগীদের চিহ্নিত করতে হবে।


আবদুল গাফফার মাহমুদ বলেন, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত জাতীয়তাবাদের অনুসারী হতে হবে। ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠিকে রুখে দাঁড়াতে হবে।


জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য নির্মল চক্রবর্তী বলেন, ১৯৭৩ সাল থেকে সাংবাদিক সমাজ নির্যাতিত-নিপীড়িত। গত ১৫ বছর সাংবাদিকরা আদর্শচ্যুত হয়েছে। জাতীয় প্রেসক্লাব দখল করতে গিয়ে শওকত মাহমুদের গলা চেপে ধরা হয়েছিল, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে আদর্শচ্যুত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমাদের বিজয় নিশ্চিত।


বিএফইউজে’র সাবেক সহকারী মহাসচিব কাজিম রেজা বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। কিন্তু এই শক্তি এখনও মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে, তাদেরকে রুখে দিতে হবে।


বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদ বলেন, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম অনেক পুরাতন ফোরাম। আমাদের বিশ্বাস এবং ঐক্য আগামীতে আমাদেরকে আরে শক্তিশালী করবে। কিন্তু আমাদের চেতনা দিয়ে আগাছাগুলো যাতে আমাদেরকে গ্রাস করতে না পারে সে জন্য সচেতন থাকতে হবে।


সিনিয়র সাংবাদিক আজহার আলী সরকার বলেন, গত ১৪ বছরে ৯ বার আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ৩ বার আত্মহত্যা করতে চেয়েছি। ছেলে সন্তানের মায়ায় আত্মহত্যা করিনি। আমরা শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ আছি।


ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জাওহার ইকবাল বলেন, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম ঐক্যবদ্ধ থাকলে আমরা আরো শক্তিশালী হবো।


জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য নাজমুল হাসান বলেন, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের দুর্দিনে আমরা সংগঠনের সাথে ছিলাম, আমরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী এবং সংগঠনের সাথে থাকবো।


বিএফইউজের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা শওকত মাহমুদের লোক নই, শওকত মাহমুদ জাতীয়তাবাদী আদর্শের নেতা, আমাদের লোক। আমাদের নেতৃত্বকে দুর্বল করার জন্য কিছু সংখ্যক নেতা শওকত মাহমুদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে।


এ জেড এম খায়রুজ্জামান বলেন, সাংবাদিকতা গভীর অন্ধকারাচ্ছন্য, অভিভাবকহীন। আমরা শওকত মাহমুদকে কাছে পেয়ে আলোর ছোঁয়া পেয়েছি। সাংবাদিকতা এখন তোষামোদের বাহন হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিদেশ সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনগুলো ছিল চাটুকার সাংবাদিকতা।


সাংবাদিক জহিরুল হক রানা বলেন, ২০১৪ সালে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে। আমি চেয়েছিলাম আওয়ামী জামাত মুক্ত ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকাকালীন আমাকে বহিস্কার করা হয়।


মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, আওয়ামী স্বৈরাচারীদের পতনের পর আমাদের আজকে প্রয়োজন, শওকত মাহমুদের নেতৃত্বে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া। জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাংবাদিকরা কখনও চাটুকারি করে না। বিগত সময়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি চার বার ক্ষমতায় ছিল, সাংবাদিকরা আদর্শচ্যুত হয় নাই। বর্তমানে এস আলমের চাটুকার কিছু সাংবাদিকের কারণে সাংবাদিক সমাজ প্রশ্নবিদ্ধ।


আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সাংবাদিক গোলাম মহিউদ্দিন খান, কবি মাহমুদ শফিক, দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানী, সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল গাফ্ফার মাহমুদ, বিএফইউজের সাবেক কোষাধ্যক্ষ আসাদুজ্জামান আসাদ, বিএফইউজের সাবেক সহ-সভাপতি শামসুদ্দিন হারুন, সিনিয়র সাংবাদিক নির্মল চন্দ্র চক্রবর্তী বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদ, আজাহার আলী সরকার, ঢাকা সাব এডিটরস কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জাওহার ইকবাল, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য নাজমুল হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক এ জেড এম খায়রুজ্জামান, জহিরুল হক রানা, মোঃ মিজানুর রহমান চৌধুরী, মুক্তাদির অনিক, কামরুল হাসান দর্পন, গোলাম কিবরিয়া, জেসমিন আক্তার জুই, আব্দুল হালিম, শেখ আনোয়ার, মীর হোসেন মিরু, আমিরুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন সিদ্দিকী, মাহমুদুল হাসান বিপ্লব সিকদার, এ এইচ এম জামাল উদ্দিন, জাকির হোসেন মাঝি, শেখ মোঃ তাজুল ইসলাম, মর্তুজা টিস্যু প্রমুখ। জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের কমিটি ঘোষণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শওকত মাহমুদ বলেন, জাতীয়তাবাদী ফোরাম শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। এই ফোরামের নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক নেতা গিয়াস কামাল চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, আমানুল্লাহ কবির, জহিরুল হক, মোজাম্মেল হক ও রুহুল আমিন গাজী প্রমুখ।


আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, জাতীয় প্রেসক্লাব, বিএফইউজে, ডিইউজের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে ২৩১ সদস্য বিশিষ্ট জাতীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। আলোচনা সভার শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য মুজিবুর রহমান সরকার। জাতীয় প্রেসক্লাব বিএফইউজে ও ডিইউজের নিহত সাংবাদিক ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শহীদ ছাত্র-জনতার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। তিন শতাধিক জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর