সচিবালয়ে কথা বলছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।


একইসঙ্গে সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় ও অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


রবিবার (২৩ আগস্ট) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে আয়োজিত এক পরিচিতি সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।


তথ্যমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান বলেন, “সংবাদমাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের অন্যতম স্তম্ভ। বিগত ১৭ বছর আমাদের মূল লড়াই ছিল দেশে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ওপর যে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছিল, সেই কালচার থেকে বেরিয়ে স্বাধীন ও উন্মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”


জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “আন্দোলনে সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে এবং আমরা কী কাজ করছি তা সঠিকভাবে তাদের সামনে তুলে ধরা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব “


কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার ওপর আস্থা ব্যক্ত করে মন্ত্রী আরও বলেন, “আপনারা প্রশাসনিক কাজে আমার চেয়ে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করব, যেন আমাদের কোনো সিদ্ধান্তের কারণে কারো প্রতি অন্যায় ও অবিচার না হয়।”


তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানার সভাপতিত্বে সভায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বক্তব্য রাখেন।


পরিচিতিমূলক সভায় অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ ও অধীনস্থ অন্যান্য দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।


পরিচিত সভা শুরু হওয়ার আগে সকাল সাড়ে ৯টায় মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় নবনিযুক্ত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ ফুল দিয়ে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।



সর্বশেষ সব খবর

নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১৬ এএম

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে একটি 'গোপনীয়' চিঠি দিয়েছে জেদ্দার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের কার্যালয়। রোববার দেওয়া ওই চিঠির একটি কপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ২ বাংলাদেশি পৃথক অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে আটক ছিলেন।


জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইংয়ের পাঠানো ওই চিঠিতে মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুজনকে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কনস্যুলেটের পাওয়া বন্দিদের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১ আগস্ট সৌদি আরবের সাইবার অপরাধ আইনে নজরুলকে আটক করা হয়। পরদিন ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় সুইটিকে।


চিঠি অনুযায়ী, নজরুল জেদ্দা সংশোধনাগারে এবং সুইটি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তারা দুজনই ‘আল মাজাল কোম্পানিতে’ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তবে ওই বন্দি তালিকায় তাদের কারও মৃত্যুদণ্ডের সাজার কথা উল্লেখ ছিল না।


এতে বলা হয়, বন্দি তালিকায় ৭ নম্বর কলামে রায় ঘোষিত কয়েদিদের সাজার সংক্ষিপ্ত বিবরণ উল্লেখ থাকলেও ওই ২ জনের সাজার তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। সৌদি আরবে সাইবার আইন এবং ব্যভিচারের অপরাধে আগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজির নেই বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


জেদ্দা কনস্যুলেটের আওতাধীন সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের কারাগারে বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক মামলায় ৩০৬ বাংলাদেশি আটক আছেন বলে তালিকায় জানানো হয়। এর মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। তাদের সর্বনিম্ন ১ মাস এবং সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, সাইবার বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের অপরাধে মক্কায় অপর ৩টি পৃথক মামলায় সর্বনিম্ন ৬ মাস এবং সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবের ক্রিমিনাল কোর্টসহ অন্যান্য কোর্টে বর্তমানে অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে 'মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ' প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুনানি চলাকালে অনুবাদের সহায়তা নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে এসব কোর্টে মিশনের পক্ষ থেকে বিচারিক কর্মকাণ্ডে আসামির পক্ষে অনুবাদক হিসেবে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে না।


তবে, বিচার চলাকালে এই ২ বাংলাদেশির পক্ষে দোভাষী বা আইনি প্রতিনিধিত্ব ছিল কি না, তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়নি। চিঠি অনুযায়ী, দুই বন্দির পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি সহায়তা চেয়ে কনস্যুলেটে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ করা হয়নি।


এতে আরও বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড বা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট জেনারেলকে কিছুই জানায়নি।


কনস্যুলেট ইতোমধ্যে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি ‘নোট ভার্বাল’ পাঠিয়ে রায়ের কপি এবং মামলার বিস্তারিত জানতে চেয়েছে। রায়ের কপি হাতে পেলে পরবর্তী প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে তারা জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৭ পিএম

পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহীতে পদ্মা নদী আছে। আমরা দেখেছি কীভাবে পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে। নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্যই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের দুটি বড় নদীর একটি হচ্ছে তিস্তা, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারাজ তৈরি করব। যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যতদূর আমাদের যেতে হয় আমরা চেষ্টা করব। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব। আমরা এই পদ্মা ব্যারাজ এবং তিস্তা ব্যারাজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব ইনশাআল্লাহ।’


তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪ হাজারের কাছাকাছি আখচাষি ভাইদের সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আগামী সিজনে আখ চাষিদের কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়। বিএনপি বিশ্বাস করে এই দেশের কৃষক বাঁচলে এই দেশের কৃষি বাঁচবে।’


তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়েছে। বিএনপির অনেকগুলোর পরিকল্পনা বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানো।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ আছে সেই কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করবে বলেছিল। সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লাখ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আমরা মওকুফ করে দিয়েছিলাম সুদসহ।’


তারেক রহমান বলেন, ‘সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব। আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও শুরু করেছি। আগামী ৫ বছর আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি।’

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৩৫৭ জন ছাড়ালো। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৩৬৬ জন। 


আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরের প্রথম ১৯ দিনে মারা গেছে ১১২ জন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।


বিজ্ঞপ্তিতে হয়, সোমবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৩৬৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ৬৩৮ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১০৫ জন, খুলনায় ১৪১ জন, বরিশালে ১৯১ জন, রাজশাহীতে ১২৮ জন, ময়মনসিংহে ৮০ জন এবং রংপুরে ৭২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৮ পিএম

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে ৪২ জনের হাম শনাক্ত এবং এক হাজার ২১৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এতে বলা হয়, হামের উপসর্গে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে একজন করে মারা গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে আছে ঢাকায় ৩৪ জন এবং চট্টগ্রামে আটজন। উপসর্গ পাওয়া গেছে- ঢাকায় ৪৯৯, সিলেটে ১২৩, চট্টগ্রামে ২৫১, রাজশাহীতে ৩৩, ময়মনসিংহে ৬৩, বরিশালে ১২৬, খুলনায় ৯৭ এবং রংপুরে ২৫ জনের। 


গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ১০৪ জন মারা গেছে। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো এক হাজার ১০০ জনের। এসময়ের মধ্যে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজার ১৯৯ জনের আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮ জনের।


বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৭ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।


সেই সঙ্গে সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এছাড়া সিলেটে ১৯৩, রাজশাহীতে ৯৩, চট্টগ্রামে ১০২, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুরে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৫ পিএম


জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কাজ ভালো হলেও তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। একজন মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তির হাতে অস্ত্র থাকা শোভন নয়।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে লালমোহন উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী, তারা নিজেদের সংশোধন করেন। ইতোমধ্যে দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে হাসপাতাল দখলের, তাকে প্রধানমন্ত্রী তার পদ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তিনিও পদত্যাগ করেছেন।


স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছে, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তিনি তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি, এটা মানায় না। সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তার সাথে দেহরক্ষী আছে, পুলিশ বাহিনী যদি দুর্বল হয়- দলীয় কর্মীবাহিনী যেতে পারে। কিন্তু একজন নেতা মন্ত্রী পর্যায়ের তার হাতে অস্ত্র আইনি হোক বা বেআইনি হোক- এটা শোভা পায় না। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার কাজটা ভালো, তিনি দুর্বৃত্ত দমন করতে গিয়েছিলেন। সেজন্য সাধারণ মানুষ পরে কোনো এক সময় নিশ্চয়ই তাকে মূল্যায়ন করবে।বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এইযে দুই দুইটি উদাহরণ আপনাদের সামনে দেওয়া হলো, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজের দলের নেতাকর্মীদের ওপর এমন কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্ষেত্রে আপসহীন রয়েছেন। যে কারণে অন্যায় অবিচারের প্রতি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা আশা করবো দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর জনগণ একটা ভালো এবং তাদের নির্বাচিত সরকার পেয়েছে যাতে করে জনগণের কল্যাণ করা যায়। আপনারা এ ধরনের সরকার বা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।


সংসদে নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা দেখেছেন আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদে কাজ করতে চেষ্টা করি। বিরোধীদলে যারা আছেন তারাও আজ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেনি। আমি সবাইকে কথা বলার সমান সুযোগ দিয়েছি, সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা যখন সরকারের সমালোচনা করে কারও কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা কখনোই আমি করিনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারি দল থাকবে, বিরোধীদল থাকবে, সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আমি চেষ্টা করেছি।


গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


 

সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ পিএম

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে দ্বিপক্ষীয় সফরে ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন প্রধানন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন এ সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সহযোগিতা গুরুত্ব পাবে। সফরে প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে অন্তত চারটি সই হওয়ার প্রত্যাশা করছে ঢাকা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


তিনি জানান, এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর ও সময়োপযোগী করার সুযোগ তৈরি হবে। সফরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।


জানা যায়, আগামী ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি জাইকার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক এবং জাপান-বাংলাদেশ ইকোনমিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার।


ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সরকারপ্রধানের সফরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলায় জাপানের কাছে ২০০ কোটি ডলারের সহায়তা চাইতে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বাংলাদেশে জাপানি অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়নের খরচ কমানোর বিষয়টি গুরত্ব দিবে ঢাকা। এছাড়া বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পর্যটন, মানবসম্পদের মতো বিষয়ে গুরুত্ব দিতে পারে ঢাকা।


অপরদিকে, টোকিও ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর আওতায় এ সরকারের সঙ্গেও সব ধরনের সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দিতে পারে। পাশাপাপশি জাপান হালনাগাদ অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে তাদের পাশে চাইবে।


চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার গঠনের পর জুনে মালয়েশিয়া হয়ে ও চীন সফর করেছেন তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের বেইজিং সফরের পর টোকিও সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


এর আগে, গত এপ্রিলের শেষ দিকে জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্যমন্ত্রী নরিকাজু সুজুকি ঢাকা সফর করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির লেখা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপর আগস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনা প্ল্যাটফর্ম ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) তারেক রহমানের জাপান সফর নিয়ে আলোচনা হয়। পরবর্তীতে উভয় পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে তারেক রহমানের টোকিও সফরের তারিখ চূড়ান্ত করেছে।

সর্বশেষ সব খবর