অভিযুক্ত মোঃ আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ ও দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ সুমন।
মুন্সীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আদালতে একটি সি.আর মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন সিভিল সার্জন অফিসের সাট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মোঃ মিজানুর রহমান (৫৮)।
মামলার সূত্রে জানা যায়, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালত, মুন্সীগঞ্জে দায়ের করা সি.আর মামলা নং-৩২৩/২০২৬-এ দণ্ডবিধির ৫০০/৫০১ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে জেলা প্রতিনিধি মোঃ আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভ ও দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময় পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক মোঃ মঈন উদ্দিন আহম্মেদ সুমনকে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২ আগস্ট ২০২৫ বিকেলে মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে একটি আর্থিক লেনদেনের সময় গোপনে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে প্রায় তিন মাস পর অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত নম্বর দিয়ে ফোন করে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। দাবি পূরণ না করলে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয়।
বাদীর দাবি, তিনি অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাদের নিজস্ব পত্রিকা “দৈনিক মুন্সীগঞ্জের সময়”-এ ১১ মার্চ একটি সংবাদ প্রকাশ করে তাকে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। এতে তার দীর্ঘ ৩৮ বছরের চাকরি জীবনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হন। তিনি এতে ১০ লাখ টাকার মানহানির শিকার হয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করেন।
মামলায় বাদী নিজে ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসকসহ আরও সাক্ষীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সাক্ষী দাখিল করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী আদালতের কাছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
মুম্বাইয়ের জুহুতে রোববার রাতে বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বলিপাড়ায়। একর পর এক তারকাদের ওপর হুমকি-হামলায় ছড়িয়ে পড়েছে উদ্বেগ। খুব কাছে থাকলেও হামলাকারীর বন্দুক জ্যাম হয়ে যাওয়ায় স্রেফ ভাগ্যগুণেই বেঁচে যান বলিউড তারকা। হামলার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং ঘটনার দায় স্বীকার করেছে।
সামাজিকমাধ্যমে এরই মধ্যে এই হামলার ঘটনার বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, জুহুর একটি পার্ক থেকে ফুটবল খেলে নিজের বিএমডব্লিউ গাড়িতে উঠছিলেন টাইগার। সে মুহূর্তেই তিন আততায়ী অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় আততায়ীদের ছোড়া ১০ রাউন্ড গুলিতে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হামলাকারী টাইগারের গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন ও জানালার কাচ ভেদ করে সরাসরি তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার চেষ্টা করছেন। সেই মুহূর্তে ঠিক ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’-এ ছিলেন অভিনেতা। এ সময় আততায়ীর বন্দুকটি জ্যাম হয়ে যায়। যার কারণে মৃত্যুর এত কাছে থেকেও বেঁচে যান ‘বাগি’ তারকা। ফলে বড় বিপদের হাত থেকে অলৌকিকভাবে রক্ষা পান টাইগার।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বন্দুক জ্যাম হয়ে যাওয়ার পরই টাইগারের গাড়ির চালক ফিরদৌস সাহসিকতার সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে পড়েন। পাশেই একটি বাইকে অন্য এক সঙ্গী অপেক্ষা করছিল। ফিরদৌসকে নামতে দেখেই ওই বাইকে চড়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা।
ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে টাইগারের গাড়ি এবং রাস্তায় রক্তের ছাপ স্পষ্ট দেখা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই হামলায় টাইগারের গাড়ির চালক ফিরদৌস গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি, এ ঘটনায় স্থানীয় এক অটোরিকশাচালকও সামান্য আহত হয়েছেন।
গাড়িচালক আহত হওয়ার পর নিজেই স্টিয়ারিং হাতে নেন টাইগার। ভাইরাল ভিডিওতে তাকে নিজেই চালকের আসনে বসে দ্রুত গতিতে ঘটনাস্থল থেকে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এরই মধ্যে এক হামলাকারীকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। চাঞ্চল্যকরভাবে, এই হামলার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। এক বিবৃতিতে অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রত্যেককেই কড়া পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির আবাসনে ৬০ কাঠা জমির চুক্তি সই
সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির সদস্যদের মধ্যে ৬০ কাঠা জমি সংক্রান্ত চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়েছে। নর্থ সাউথ গ্রিন সিটির উদ্যোগে এ চুক্তিপত্র হস্তান্তর করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির কো-অর্ডিনেটর মো. সালাহ উদ্দিন বাবুর হাতে চুক্তিপত্র তুলে দেন নর্থ সাউথ গ্রুপের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নর্থ সাউথ গ্রুপের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. মাহবুবুল হোসাইন খান, চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান, ডিরেক্টর অ্যাডমিন কর্নেল (অব.) মো. শফিউল আলম খান এবং সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির কো-অর্ডিনেটর মো. সালাহ উদ্দিন বাবু।
এ সময় সাংবাদিক সম্প্রীতি সমিতির পরিচালনা কমিটির সদস্য কাওছার আহমেদ, তৌফিক মাহমুদ ও রিয়াদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের আবাসন সুবিধা ও পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
সৈয়দ আমান উল্লাহ।
সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ও মাদ্রাসায় ঘটে যাওয়া বলাৎকারের ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ‘অর্থনীতি ডট কম’-এর সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আমান উল্লাহকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে উগ্রপন্থী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। সামাজিক ব্যাধি ও অপরাধের সত্যচিত্র তুলে ধরার পর থেকেই অপরাধী চক্রটি তাঁকে হুমকি দিয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক আমান উল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদ্রাসায় বলাৎকার ও ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি সংঘবদ্ধ উগ্রপন্থী ও কিশোর গ্যাং গ্রুপ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা সংবাদ পরিবেশন বন্ধ করার জন্য আমাকে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে আমি মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, এর আগেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাভিশন টেলিভিশনে কর্মরত অবস্থায় মাঠে দায়িত্ব পালনকালে সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছি। বাম পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আগের সেই আঘাতের ক্ষত ও ট্রমা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবারও নতুন করে উগ্রপন্থী ও অপরাধী চক্রের এই প্রাণনাশের হুমকিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি ও তাঁর পরিবার। তিনি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে এবং তাঁর সার্বিক নিরাপত্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুইজন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও একজন সম্পাদক দেখেছেন পত্রিকাটির সংবাদকর্মীরা।
গত ১৫ জুন সকাল পর্যন্ত
সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ। ওইদিন সকালেই পত্রিকাটির ম্যানেজিং এডিটর ফারুক মেহেদীকে জানানো হয় তাকে ভারপ্রাপ্ত
সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর
প্রেক্ষিতে হাসান হাফিজের অনুপস্থিতিতে বিকাল ৪টার দিকে তিনি
সম্পাদকের চেয়ারে বসেন। তবে এরপর হাসান
হাফিজ অফিসে এসে রাত ৮টা
পর্যন্ত ছিলেন বলে কালের কণ্ঠের
একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তবে
সেদিন রাতেই আবার ফারুক মেহেদীকে
সরিয়ে নতুন আরেকজনকে ভারপ্রাপ্ত
সম্পাদক করা হয়। তিনি
হলেন ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান
তালুকদার।
একটি
জাতীয় দৈনিকে এত অল্প সময়ের
ব্যবধানে সর্বোচ্চ পদে একাধিক পরিবর্তনের
ঘটনা ঢাকার গণমাধ্যম অঙ্গনে আলোচনা তৈরি করেছে। এই
রদবদলের কারণ সম্পর্কে কালের
কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
তবে পত্রিকাটির ভেতরের একাধিক সূত্র বলছে, সম্পাদক পদে এই পরিবর্তনের
পেছনে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক
বাস্তবতা প্রভাব ফেলতে পারে।
সকালে
সম্পাদক হয়ে রাতে বাতিল লীগের মনোনয়ন কেনা ফারুক মেহেদী
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপিপন্থী বলয়ের
সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত হাসান হাফিজকে সম্পাদক নিয়োগ দেয় বসুন্ধরা গ্রুপের
মালিকানাধীন দৈনিক কালের কণ্ঠ কর্তৃপক্ষ। গতকাল
সোমবার (১৫ জুন) সকালে
হঠাৎ করে তাকে সরিয়ে
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক করা হয় পত্রিকাটির
হেড অব নিউজ দায়িত্ব
পালন করা ফারুক মেহেদীকে।
এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে
পোস্ট দেন সহকর্মী ও
শুভাকাঙ্ক্ষীরা। ফারুক মেহেদীর নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও খবর প্রকাশিত হয়।
তবে
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ওইদিন
রাতেই ফারুক মেহেদীকে সরিয়ে চীফ রিপোর্টার মেহেদী
হাসান তালুকদারকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার তালুনকাদের
শুভাকাঙ্খীরা সামাজিক মাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানাতে
থাকেন।
এই
আকস্মিক এরকম একাধিক পরিবর্তনের
বিষয়ে 'দ্য ডিসেন্ট'-এর
পক্ষ থেকে কালের কণ্ঠের
যুগ্ম সম্পাদক সাঈদ খানের সাথে
যোগাযোগ করা হলে তিনি
বলেন, "নামের বিভ্রাট হয়ে গেছে। ভুল
করে ফারুক মেহেদী লেখা হয়। দুইজন
মেহেদী থাকায় এমন হয়েছে। ওইটা
ঠিক করা হয়েছে। রাতে
কারেকশন করে দিছে।"
তিনি
আরও নিশ্চিত করেন যে, হাসান
হাফিজ পুরোপুরি দায়িত্ব থেকে সরে গেছেন
এবং মেহেদী হাসান তালুকদার নতুন দায়িত্ব গ্রহণ
করেছেন।
হাসান হাফিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননা।
অন্যদিকে,
মাত্র এক বেলার জন্য
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা ফারুক
মেহেদী বিষয়টিকে কর্তৃপক্ষের ‘সাধারণ সিদ্ধান্ত’ হিসেবেই অভিহিত করে এড়িয়ে যাওয়ার
চেষ্টা করেছেন।
'দ্য
ডিসেন্ট'-এর প্রশ্নের জবাবে
তিনি বলেন, "এগুলা নিয়ে কিছু বলার
নাই আসলে। এটা নিয়ে কর্তৃপক্ষ
যে ডিসিশন নিবে, সেটাই হবে। আমি কর্তৃপক্ষের
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ করব এবং
যাকে নিছে, তাকে নিয়ে তার
সাথে আমরা কাজ করব।"
পদ পরিবর্তনের বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্দেশনায় হয়েছে বলেও তিনি জানান।
নতুন দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ফারুক মেহেদীর নিয়োগ ও বাতিলের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান। নেটওয়ার্ক জটিলতার কারণে তার সাথে বিস্তারিত কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এত রদবদলের নেপথ্যে কী?
কালের কণ্ঠের এই অস্থিরতার পেছনের কারণ কী তা বুঝার জন্য পত্রিকাটির একাধিক কর্মীর সাথে কথা বলেছে দ্য ডিসেন্ট (যাদের কেউই নাম প্রকাশে রাজি হননি)। তাদের কেউই নির্দিষ্ট করে কোন কারণ বলতে পারেননি। তবে তাদের অন্তত দুইজনের ধারণা, আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদেরকে পত্রিকাটিতে ক্ষমতায়িত করার চেষ্টা এবং অফিসের সিনিয়র একাধিক ব্যক্তির মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব থেকে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।
হাসান
হাফিজকে সরিয়ে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজনকেই
তাদের কালের কণ্ঠের একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এদের মধ্যে প্রথমে
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়া ফারুক মেহেদী সাংবাদিকতা অঙ্গনে পরিচিত মুখ এবং অর্থনীতি
ও বাণিজ্য বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে তার দীর্ঘ ক্যারিয়ার
ও খ্যাতি রয়েছে। তিনি এনবিআর এবং
ডিআরইউ-এর মতো প্রতিষ্ঠান
থেকে সেরা সাংবাদিকের পুরস্কারও
পেয়েছেন।
তবে
তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সংশ্লিষ্ট। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে
(শাবিপ্রবি) পড়ার সময় থেকেই
তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত
ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তীতে তিনি সরাসরি জাতীয়
রাজনীতিতে যুক্ত হতে চান এবং
২০২১ সালে কুমিল্লা-৫
(বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের উপনির্বাচনে অংশ নিতে তিনি
আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। সে সময় প্রকাশিত
একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও
তিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ভারতে পলতাক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে
২০১৯ সালে ‘গ্লোবাল লিডার শেখ হাসিনা দ্য
প্রাইম মিনিস্টার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক
একটি সংকলিত বই সম্পাদনা করেছিলেন। তিনি শেখ
হাসিনাকে ‘বিশ্বের মুকুটহীন রানী’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাকে
সরিয়ে দায়িত্ব পাওয়া মেহেদী হাসান তালুকদারকেও একাধিক সহকর্মী আওয়ামীপন্থী বলে জানলেও, দ্য
ডিসেন্ট অনলাইনে তার আওয়ামী সংশ্লিষ্টতার
বিষয়ে কোন তথ্য পায়নি।
যদিও তালুকদারের ফেসবুক আইডিটি বর্তমানে ডিএক্টিভ রয়েছে।
কালের
কণ্ঠের একাধিক কর্মী বলেছেন, বর্তমান নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীর সাথে অন্য
নিউজরুম ম্যানেজারদের কারো কারো ব্যক্তিগত
দ্বন্দ্বও অস্থিরতার পেছনে কিছু ভূমিকা রাখতে
পারে। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নির্বাহী সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়ার বদলে তার অধীনে
থাকা দুইজনকে পরপর এই দায়িত্বে
নিয়ে আসা থেকে এই
দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত মেলে বলে তাদের
ধারণা।
পত্রিকাটির
নির্বাহী সম্পাদক হায়দার আলীকে ফোন করা হলে
তিনি ‘আমি মিটিংয়ে আছি।
পরে কথা বলব’ বলে
কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার
একই নম্বর থেকে ফোন করা
হলে তার ফোনে আর
কল যায়নি।
তবে
অন্য নম্বর থেকে তাকে কল
করা হলে কল ঢুকলেও
তিনি রিসিভ করেননি।
সংশোধনী
ভুলবশত
হাসান হাফিজ কালের কণ্ঠের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন লেখা হয়। তিনি
মূলত পত্রিকাটির সম্পাদক পদে ছিলেন।
ডেপুটি এডিটরের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান তালুকদারের পদবীও সংশোধন করা হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য তালুকদার হারুন আর নেই
জাতীয় প্রেস ক্লাব সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং দৈনিক ইনকিলাবের সাবেক সিনিয়র রিপোর্টার তালুকদার হারুন আর নেই।
গত ৬ মে বুধবার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)| তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন।
তিনি এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার নিজ গ্রাম গালার পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।
জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া তালুকদার হারুনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
গাজীপুর সদর উপজেলার জয়দেবপুর থানাধীন মির্জাপুর ইউনিয়নের বি,কে বাড়ি এলাকায় ঢাকা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চুর ওপর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কুখ্যাত সন্ত্রাসী মোঃ গনি ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নৃশংস ও পূর্বপরিকল্পিত হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা চালায়।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাসার পাশে নির্মাণাধীন স্থানে চাঁদা দাবি করার প্রতিবাদ করলে তার উপরে এই হামলা চালায়।
এই বিষয়ে আহত মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গনি মিয়া, মোফাজ্জল হোসেন ও মাসুদসহ কয়েকজন তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন সকালে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা তার বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং শ্রমিকদের গালিগালাজ করে।
প্রতিবাদ করলে তারা হাতুড়ি, রড ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
একপর্যায়ে একটি হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তার ডান চোখের নিচে লাগে, এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও হুমকি দেয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ও র্যাব-১ পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় মামলা করা হয়েছে যাহার নম্বর-১৮, তারিখ ১৭ এপ্রিল ২০২৬, বাৎসরিক নম্বর ১১০ হিসেবে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৮৫/৫০৬ ধারায় চাঁদা দাবিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে অফিসার ইনচার্জ জানায়, মামলা দায়ের হয়েছে আমি চেষ্টা করেছি অতিদ্রুত আসামি কে গ্রেফতার করা হবে।