ছবি : সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো সব বাবা-মার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সবজি, যা অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। তবে সঠিক পদ্ধতি এবং কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে শিশুরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে সবজি খেতে


চলুন জেনে নিই কয়েকটি কার্যকর উপায়, যা ছোটদের সবজি খাওয়াকে সহজ ও মজাদার করে তোলে।


সবজি রোস্ট করুন


রোস্ট করলে সবজি আরও সুস্বাদু হয়। বড় সবজি ১ ইঞ্চি করে কেটে নিন, ছোটগুলো পুরো রাখুন। অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে ৪০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেনে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে নিন। সবজি সুন্দরভাবে ভাজা ও কোমল হলে পরিবেশন করুন। ব্রকোলি, গাজর, আলু, ফুলকপি... সব রোস্ট করা যায়। হালকা ক্রাঞ্চি সল্ট দিলে ছোটদের আরও ভালো লাগে।


শিশুদের রান্নার কাজের অংশ নিতে দিন


ছোটদের জন্য সবজি খোসা ছাড়ানো বা ধোয়া মজার কাজ হতে পারে। গাজর, শসা, আলুর খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য মজার ও সহজ কাজ। তাদেরকে ছোট ছোট কাজগুলো করতে দিন।


সবজি নুডলস বানান


স্পাইরালাইজার দিয়ে জুকিনি, স্কোয়াশ, বিট, গাজর, শশা বা আলু নুডল আকারে কেটে দিন। নুডল দেখে শিশুরা আগ্রহী হয়। বড়রা ব্লেড ধরে রাখুন, যেন আপনার সন্তান সবজি নুডল তৈরি করতে পারে।


সুপ তৈরি করুন


ছোটরা অনেক সময় সুপ পছন্দ করে। গাজর, ব্রকোলি, ফুলকপি বা আলু দিয়ে ক্রিমি সুপ বানান। আপনার শিশুকে হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে মেশাতে দিন। চাইলে টক দই, ক্রাউটন বা কিছু হার্ব দিয়ে সুপ সাজাতে পারেন, শিশুরা আরও খেতে উৎসাহিত হবে।


সবজি মাশ (Mash) করুন


শিশুরা সাধারণত মাশ করা (ভর্তা করা) খাবার পছন্দ করে। আলুর সঙ্গে গাজর, ফুলকপি, ব্রকলি মাশ করে দিতে পারেন।


সবজি দিয়ে ফ্রাইড রাইস


বাসায় রান্না করা ভাত, খিচুরিতে আগ্রহ না থাকলেও রেস্তোরাঁর মতো করে ফ্রাইড রাইস পেলে শিশুদের খুশির সীমা থাকে না। সঙ্গে মুরগি ভাজা পেলে তো কথাই নেই। একটু বুদ্ধি খাটালে ওই অস্বাস্থ্যকর ‘ফ্রাইড রাইস’কেই স্বাস্থ্যকর বানানো সম্ভব। বুদ্ধিটা খুবই সহজ। ‘ফ্রাইড রাইস’ তৈরির সময় সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, পেঁপে ইত্যাদি কেটে মিশিয়ে দিন। 


সবজি হোক নাস্তা 


যেকোনো ফল বা সবজি ঘটা করে খেতে হবে এমন তো কথা নেই। শসা, গাজর, শাকপাতা, মটরশুটি ইত্যাদি স্ন্যাকস বা নাস্তাও হতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে আপেল, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি ফলও। এগুলো কেটে বিকালের নাস্তা হিসেবে খাওয়ানো যেতেই পারে।


স্মুদির সঙ্গে সবজি


ফল কিংবা ফলের শরবত খেতে শিশুরা আগ্রহী না হলেও ‘স্মুদি’ আবার তাদের কাছে মুখরোচক ব্যাপার। বিভিন্ন ফল একসঙ্গে মিশিয়ে ঘরে বসেই ব্লেন্ডারে সহজেই স্মুদি বানিয়ে ফেলতে পারেন। এরসঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন পালংশাক, বাঁধাকপি, পেঁপে, শসা, গাজর ইত্যাদি কাঁচা খাওয়া যায় এমন যেকোনো সবজি। ফলের স্বাদের মাঝে শিশুরা সবজির স্বাদ আলাদা করতে পারবেনা, সবজি খাওয়াও হয়ে যাবে।


সালাদ


খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো সালাদ। শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, গাজর, বাঁধাকপির মতো সবজি এবং অঙ্কুরিত ফল দিয়ে লবণ ও চাট মশলা দিয়ে সালাদ তৈরি করে খাওয়ান। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু, বাচ্চারাও মজা করে খাবে।


ছোট পরামর্শ  


যেসব বাচ্চারা একটু বেছে খায়, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। সময়ের সঙ্গে তারা নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।


সবজি খাওয়ানোকে চাপ মনে করবেন না। মজাদার পদ্ধতি ও ছোট কাজ দিয়ে শিশুদের আগ্রহ তৈরি করুন। রোস্ট করা, সুপ, নুডল বা মাশ করা; সবই কাজ করে। ধীরে ধীরে বাচ্চআরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।




  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, অথচ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সুখবর আসছে না? এর পেছনে নারীর পাশাপাশি পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের প্রজননগত কোনো না কোনো কারণ জড়িত থাকে। কিন্তু পুরুষের বন্ধ্যত্বের সমস্যা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।


সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তবেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।




আসুন লক্ষণগুলো জেনে নিন-


যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া

যৌন ইচ্ছা বা আগ্রহ হঠাৎ কমে গেলে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে। তবে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।


এছাড়া যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গ উত্থিত হতে অসুবিধা হওয়া বা উত্থান ধরে রাখতে না পারা আরেকটি সতর্কসংকেত। এটি সরাসরি বন্ধ্যত্বের প্রমাণ নয়। তবে হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।


বীর্যপাতের সমস্যা

বীর্যপাত হতে দেরি হওয়া, একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া কিংবা বীর্য মূত্রথলির দিকে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বীর্যপাতের সময় বীর্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।


অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব

অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব, ভারী লাগা কিংবা আকারে পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভেরিকোসিল বা অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।


শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন

টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন-পেশির শক্তি কমে যাওয়া, ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস এবং স্তনের টিস্যু বেড়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।


মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া

মুখে দাড়ি-গোঁফ বা শরীরের লোমের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে কখনো কখনো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক থাকে। তবে বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু লোম কমে যাওয়াকে বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।



পুরুষের বন্ধ্যত্বের সম্ভাব্য কারণগুলো-


১. হরমোনজনিত ব্যাধি


বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের একটি বড় কারণ হলো হরমোনজনিত সমস্যা। হাইপোগোনাডিজম, অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন এবং টেস্টিস দ্বারা প্রজনন সম্পর্কিত অন্যান্য হরমোনের অপর্যাপ্ত উৎপাদন বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থির ব্যাধিও হরমোন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে, শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।


২. শারীরিক এবং কাঠামোগত ব্যাধি


ভ্যারিকোসেল এমন একটি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষের মধ্যে শিরার বৃদ্ধি এবং বেলুনিং অণ্ডকোষের তাপমাত্রাকে পরিবর্তন করতে পারে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনকে ব্যাহত করে। যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনে বীর্য লিঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার পরিবর্তে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে, যা পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়াও যথাক্রমে এপিডিডাইমাইটিস, অরকাইটিস এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো সংক্রমণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। শুক্রাণু পরিবহন ব্যবস্থায় ত্রুটি যেমন শুক্রাণু পরিবহনের বিভিন্ন অংশে বাধাও বন্ধ্যত্বের আরেকটি কারণ হতে পারে।


৩. লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর


অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে পুরুষের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান বা তামাক সেবন শুক্রাণুর গতিশীলতা, গুণমান এবং পরিমাণকে কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। স্থূল বা অতিরিক্ত ওজন সরাসরি শুক্রাণুর পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হরমোনের মাত্রাও পরিবর্তন করতে পারে যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিত খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা স্থূলতা এবং বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।


৪. পরিবেশগত কারণ


কীটনাশক, ভেষজনাশক, ভারী ধাতু, জৈব দ্রাবক, রঙ এবং দূষণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে বেশি থাকলে তাও সাময়িকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস করতে পারে।


৫. জেনেটিক ফ্যাক্টর


জেনেটিক্স বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে একটি পুরুষ শিশু অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, এটি পুরুষের প্রজনন অঙ্গে ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে টেস্টিকুলার ফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হয়। অন্যান্য জেনেটিক ব্যাধি যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, কলম্যান সিন্ড্রোম শুক্রাণু নালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।



যেভাবে নির্ণয় করা হয় পুরুষের বন্ধ্যত্ব


সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে কয়েকটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।


বীর্য পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, আকৃতি এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। এটি পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।


রক্ত পরীক্ষা


টেস্টোস্টেরনসহ প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়।


আলট্রাসনোগ্রাফি


অণ্ডকোষের গঠন, ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।


জিনগত পরীক্ষা


শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম বা একেবারেই না থাকলে কিংবা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।


কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?


নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও এক বছর সন্তান না এলে দম্পতির দুজনেরই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পরই মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।


এছাড়া অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, যৌনক্ষমতায় সমস্যা কিংবা আগে অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলেও প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।


এসব লক্ষণ থাকলেই যে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হয়েছে, তা নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও প্রজননগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া


শিশুদের কি বড়দের মতো চা-কফি পান করা উচিত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৪ পিএম

সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চা বা কফি-অনেক পরিবারের কাছে এটাই দিনের শুরু। বড়রা যখন চায়ের কাপে চুমুক দেন, তখন শিশুদেরও কৌতূহল জাগে। কেউ স্বাদ নিতে চায়, কেউ আবার বড়দের মতো কাপ হাতে নিয়ে বসতে পছন্দ করে। কিন্তু এই পরিচিত অভ্যাস শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে ভাবেন কি?


চা-কফি বড়দের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা। এসব পানীয়তে থাকা ক্যাফেইন ঘুম, মনোযোগ ও আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ছোটদের হাতে চায়ের কাপ তুলে দেওয়ার আগে বয়স, পরিমাণ এবং পান করার সময়-সবকিছু বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।


চা-কফিতে থাকা ক্যাফেইন কী করে?

ক্যাফেইন একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক উপাদান, যা চা ও কফির পাশাপাশি কোলা, চকলেট এবং কিছু এনার্জি ড্রিংকেও পাওয়া যায়। এটি সাময়িকভাবে ঘুমভাব কমিয়ে সতর্ক থাকতে সাহায্য করতে পারে। তবে শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ক্যাফেইন অপরিহার্য কোনো পুষ্টি উপাদান নয়।


কিন্তু এটা কোনো খাবারের উপাদান নয়। ক্যালসিয়াম বা আয়রনের মতো শরীররে প্রয়োজন নেই। শিশুদের শরীরের ওজন কম হওয়ায় একই পরিমাণ ক্যাফেইন তাদের ওপর তুলনামূলক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণে অস্থিরতা, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, পেটের অস্বস্তি এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।


বয়স অনুযায়ী কতটা ক্যাফেইন?

শিশু-কিশোরদের জন্য ক্যাফেইন গ্রহণের বিষয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চার থেকে ছয় বছর বয়সীদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ৪৫ মিলিগ্রাম, সাত থেকে নয় বছর বয়সীদের জন্য ৬২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম এবং ১০ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ৮৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইনের সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এই সংখ্যাগুলোকে শিশুদের জন্য নিরাপদে পান করার লক্ষ্য হিসেবে দেখা ঠিক নয়। আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস শিশুদের ক্যাফেইন গ্রহণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়। তাই বিশেষ করে ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি দেওয়ার অভ্যাস না করাই ভালো।


এক কাপেই কতটা ক্যাফেইন থাকে?

চা বা কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ নির্ভর করে পানীয়ের ধরন, পরিমাণ এবং তৈরির পদ্ধতির ওপর। এক কাপ চায়ে কয়েক দশ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। অন্যদিকে এক কাপ কফিতে এর পরিমাণ অনেক বেশি হতে পারে। বড় মগের কফি বা ঘন করে তৈরি পানীয়তে ক্যাফেইনের মাত্রা আরও বাড়তে পারে।


এনার্জি ড্রিংকের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। কোনো কোনো ক্যানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্যাফেইন থাকে। কোলা, চকলেট এবং ক্যাফেইনযুক্ত কিছু ওষুধ থেকেও শরীরে এই উপাদান প্রবেশ করতে পারে। ফলে শুধু চা বা কফির হিসাব রাখলেই সব সময় চলে না।


ঘুমের ওপর পড়ে বড় প্রভাব

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাফেইন শরীরে কয়েক ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে, এর প্রভাব অনেকের ক্ষেত্রে আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। বিকেল বা সন্ধ্যায় চা-কফি পান করলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হতে পারে কিংবা ঘুমের মান খারাপ হতে পারে।


ঘুম কম হলে পরদিন পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, খেলাধুলা করা এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পরীক্ষার আগে জেগে থাকার জন্য কফি পান করাও ভালো কৌশল নয়। কারণ পর্যাপ্ত ঘুম স্মৃতি ও শেখার প্রক্রিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।


চা-কফি সরাসরি উচ্চতা কমিয়ে দেয়-এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই। তবে ক্যাফেইনের কারণে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত হলে তা শিশুর সামগ্রিক সুস্থতায় প্রভাব ফেলতে পারে।


বিকল্প হিসেবে কী দেওয়া যায়?

ছোট শিশুদের নিয়মিত চা-কফি না দিয়ে পানি ও বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত দুধ দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো। কিশোরদের ক্ষেত্রেও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়কে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত না করাই শ্রেয়। বিশেষ করে এনার্জি ড্রিংক শিশু-কিশোরদের দেওয়া উচিত নয়।


ভেষজ চায়ে সাধারণত ক্যাফেইন থাকে না, তবে সব পণ্যের উপাদান এক নয়। তাই লেবেল দেখে নেওয়া জরুরি। শিশুদের ক্ষেত্রে কোনো ভেষজ পানীয় নিয়মিত দেওয়ার আগে বয়স ও উপযোগিতা বিবেচনা করা উচিত।


শিশুদের সামনে বড়দের চা-কফি খাওয়ার অভ্যাস দেখে তারা যেন সেটিকে বড় হওয়ার অপরিহার্য অংশ মনে না করে। পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার, নিয়মিত খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত পানি-সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য এগুলোর গুরুত্ব অনেক বেশি। সকালের চায়ের সুবাস থাকুক ঘরে, তবে ছোটদের কাপে তা তুলে দেওয়ার আগে ভাবুন তাদের বয়স ও স্বাস্থ্যের কথা।


সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, টাইম ম্যাগাজিন


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ এএম

দই খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। এটি স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। দইয়ে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটি হজমশক্তি বাড়াতেও সহায়তা করে। তবে দই সবার জন্য উপকারী নয়। কারও কারও দই খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। যেমন-


অ্যালার্জির সমস্যা


কারও যদি অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাহলে তার দই খাওয়া এড়িয়ে চলতে হবে। 


সাইনাসের সমস্যা 


যাদের সাইনাসের সমস্যা আছে তাদের দই খাওয়া একদমই ঠিক নয়। এটি শরীরের কফ বাড়িয়ে কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। 


ল্যাকটোজের প্রভাব 


দইয়ে থাকা ল্যাকটোজ উপাদানটি অ্যালার্জি এবং হাঁপানির মতো সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। 


হাঁপানি বা অ্যাজমা 


যাদের শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তাদের দই এড়িয়ে চলাই ভালো। এটি হাঁপানির সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সূত্র: এশিয়াননেট



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৯ এএম

সুন্দর, ঝলমলে চুল কার না পছন্দ? কিন্তু প্রতিদিনের দূষণ, পুষ্টির অভাবে চুল পড়াসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। চুল দ্রুত বড় করতে এবং গোড়া থেকে মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। এমন কিছু খাবার আছে যা চুলের পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে। যেমন-


মটরশুঁটি, বিনস ও ডাল 


মটরশুঁটি, বিনস এবং ডালে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার ও বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলের বৃদ্ধি দ্রুত করতে সাহায্য করে। 


মাশরুম


মাশরুমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পাশাপাশি সেলেনিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো খনিজ উপাদান থাকে। এক কাপ তাজা মাশরুম থেকে ৫.৬ মাইক্রোগ্রাম বায়োটিন পাওয়া যায়। 


মিষ্টি আলু


মিষ্টি আলুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়। এসব উপাদান চুলকে ভেতরে থেকে স্বাস্থ্যকর করে তোলে।


ডিম


ডিমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিামিন বি, প্রোটিন, আয়রন এবং ফসফরাস থাকে। ডিমের কুসুমে থাকা বায়োটিন চুলের জন্য খুবই উপকারী। 


স্যামন মাছ


স্যামনের মতো চর্বিযুক্ত মাছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা  থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এই উপাদান ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে। 


ফ্ল্যাক্স সিড 


ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, খনিজ এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ভরপুর মাত্রায় থাকে। নিয়মিত এটি খেলে চুল মজবুত এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। 


কাঠবাদাম 


কাঠবাদামে বায়োটিন পাওয়া যায় । চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত এটি খেতে পারেন। 


বিষয় :


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ এএম

সকালের নাশতায় অনেকেই কলা খেতে পছন্দ করেন। কেউ বা দিনের অন্য সময় কলা খান। এটির এমন একটি ফল, যা সহজেই পাওয়া যায় এবং পুষ্টিগুণেও ভরপুর। পুষ্টিবিদদের মতে, পরিমিত পরিমাণে কলা খাওয়া সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। এতে থাকা পটাশিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন বি৬ এবং ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। নিয়মিত কলা খেলে শরীরে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায়-


হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে


কলায় থাকা ফাইবার, হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। একটি মাঝারি আকারের কলায় প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কলা রাখলে প্রয়োজনীয় ফাইবারের জোগান কিছুটা বাড়তে পারে। তবে হজমশক্তি ঠিক রাখতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়াও জরুরি।


হৃৎপিণ্ড ও রক্তচাপের জন্য উপকারী


কলায় থাকা পটাশিয়াম শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে, পেশির সংকোচন এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজকর্ম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এর পাশাপাশি, পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে হৃৎপিণ্ডও সুস্থ থাকে।


শরীরে শক্তি জোগায় 


কলায় থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট, শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। এ কারণে কাজের ফাঁকে বা শরীরচর্চার আগে-পরে কলা খাওয়া অনেকের জন্য ভালো বিকল্প হতে পারে। কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ শরীরের বিপাকক্রিয়া এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।


ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে


কলা খেলে কিছুটা সময় পেট ভরা থাকে। এর ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমে। তবে কলা খেলেই ওজন কমবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। ওজন ণিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। 


প্রতিদিন কলা খেলে কি কোনও ক্ষতি হয়


সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া সাধারণত নিরাপদ। তবে কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। যেমন-


ডায়াবেটিস থাকলে: কলায় প্রাকৃতিক শর্করা ও কার্বোহাইড্রেট থাকায় রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদের কলা খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে হবে।


কিডনির সমস্যা থাকলে: কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে কতটা কলা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা জরুরি।


কলায় বেশ কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টি থাকলেও শরীরের সব চাহিদা পূরণ করার মতো সব ভিটামিন ও খনিজ নেই। তাই ষুস্থ থাকতে অন্যান্য ফল, শাকসবজি, ডাল, শস্য এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও খেতে হবে।

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৯ এএম

কাঁটাচামচের সাহায্যে নুডলস কিংবা চাউমিন খাওয়ার সময় কি কখনো ভেবেছেন, এতে কেন চারটি কাঁটা থাকে? তিনটি কিংবা পাঁচটি নয় কেন? এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। 


প্রাচীন মিশর, গ্রিস ও রোমে কাঁটাচামচের মতো দেখতে বিভিন্ন সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল। তবে সেগুলি মূলত রান্নার কাজে ব্যবহার করা হতো, খাবার খাওয়ার জন্য নয়। মধ্যযুগের ইউরোপে আবার অধিকাংশ মানুষ হাত অথবা ছুরি দিয়েই খাবার খেতেন। সেই সময় খাবার খাওয়ার জন্য কাঁটাচামচের ব্যবহার অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক কিংবা অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হতো।


প্রথমে ছিল দুইটি কাঁটা


প্রথম দিকের কাঁটাচামচে চারটির বদলে মাত্র দুইটি কাঁটা থাকত। মাংসের টুকরো গেঁথে খাওয়ার ক্ষেত্রে এই নকশা কার্যকর হলেও নুডলস, পাস্তা বা ভাতের মতো খাবার খেতে সমস্যা হতো। দুই কাঁটার মাঝখান দিয়ে খাবার পড়ে যেত। পরবর্তীতে ইটালিতে পাস্তার জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও তিন কাঁটার চামচের ব্যবহার শুরু হয়। তবে, তাও সব ধরনের খাবারের জন্য যথেষ্ট সুবিধাজনক ছিল না।


কীভাবে এল চার কাঁটার নকশা?


অষ্টাদশ শতকে কাঁটাচামচের নকশায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে। জানা গেছে, নেপলসের জেনারো স্পাডাসিনি চারটি কাঁটার নকশা চালু করেন। চারটি কাঁটা থাকায় খাবার খাওয়া আরও সহজ হয়। ধীরে ধীরে এই নকশাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


কেন চারটি কাঁটাই সুবিধাজনক?


চার কাঁটার চামচ সাধারণত খাবারকে তুলনামূলক বেশি সাপোর্ট ও গ্রিপ দেয়। ফলে পাস্তা বা নুডলসের মতো খাবার সহজে আটকে রাখা যায়। আবার মাংসের টুকরো গেঁথে নেওয়া থেকে নরম বা ছোট খাবার তুলে নেওয়া, সব ক্ষেত্রেই চার কাঁটার চামচের নকশা কার্যকর। চারটির বেশি কাঁটা দেওয়া সম্ভব হলেও তাতে কাঁটাচামচ চওড়া ও ভারী হয়ে যেতে পারে। ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারে সেটি তুলনামূলক কম সুবিধাজনক। পাশাপাশি কাঁটাচামচের সামান্য বাঁকানো গঠনও খাবার ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন ব্যবহৃত সাধারণ কাঁটাচামচের চারটি ভাগ নিছক নকশা নয়। দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে বদলাতে চার কাঁটার নকশাই সবচেয়ে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।



বিষয় :