ছবি : সংগৃহীত।

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ পিএম

শিশুদের স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ানো সব বাবা-মার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে সবজি, যা অনেক সময় শিশুরা খেতে চায় না। তবে সঠিক পদ্ধতি এবং কিছু সহজ কৌশল ব্যবহার করলে শিশুরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হয় এবং স্বাভাবিকভাবে সবজি খেতে


চলুন জেনে নিই কয়েকটি কার্যকর উপায়, যা ছোটদের সবজি খাওয়াকে সহজ ও মজাদার করে তোলে।


সবজি রোস্ট করুন


রোস্ট করলে সবজি আরও সুস্বাদু হয়। বড় সবজি ১ ইঞ্চি করে কেটে নিন, ছোটগুলো পুরো রাখুন। অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে ৪০০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ওভেনে দিন। মাঝে মাঝে নেড়ে নিন। সবজি সুন্দরভাবে ভাজা ও কোমল হলে পরিবেশন করুন। ব্রকোলি, গাজর, আলু, ফুলকপি... সব রোস্ট করা যায়। হালকা ক্রাঞ্চি সল্ট দিলে ছোটদের আরও ভালো লাগে।


শিশুদের রান্নার কাজের অংশ নিতে দিন


ছোটদের জন্য সবজি খোসা ছাড়ানো বা ধোয়া মজার কাজ হতে পারে। গাজর, শসা, আলুর খোসা ছাড়ানো তাদের জন্য মজার ও সহজ কাজ। তাদেরকে ছোট ছোট কাজগুলো করতে দিন।


সবজি নুডলস বানান


স্পাইরালাইজার দিয়ে জুকিনি, স্কোয়াশ, বিট, গাজর, শশা বা আলু নুডল আকারে কেটে দিন। নুডল দেখে শিশুরা আগ্রহী হয়। বড়রা ব্লেড ধরে রাখুন, যেন আপনার সন্তান সবজি নুডল তৈরি করতে পারে।


সুপ তৈরি করুন


ছোটরা অনেক সময় সুপ পছন্দ করে। গাজর, ব্রকোলি, ফুলকপি বা আলু দিয়ে ক্রিমি সুপ বানান। আপনার শিশুকে হ্যান্ড ব্লেন্ডার দিয়ে মেশাতে দিন। চাইলে টক দই, ক্রাউটন বা কিছু হার্ব দিয়ে সুপ সাজাতে পারেন, শিশুরা আরও খেতে উৎসাহিত হবে।


সবজি মাশ (Mash) করুন


শিশুরা সাধারণত মাশ করা (ভর্তা করা) খাবার পছন্দ করে। আলুর সঙ্গে গাজর, ফুলকপি, ব্রকলি মাশ করে দিতে পারেন।


সবজি দিয়ে ফ্রাইড রাইস


বাসায় রান্না করা ভাত, খিচুরিতে আগ্রহ না থাকলেও রেস্তোরাঁর মতো করে ফ্রাইড রাইস পেলে শিশুদের খুশির সীমা থাকে না। সঙ্গে মুরগি ভাজা পেলে তো কথাই নেই। একটু বুদ্ধি খাটালে ওই অস্বাস্থ্যকর ‘ফ্রাইড রাইস’কেই স্বাস্থ্যকর বানানো সম্ভব। বুদ্ধিটা খুবই সহজ। ‘ফ্রাইড রাইস’ তৈরির সময় সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, ফুলকপি, পেঁপে ইত্যাদি কেটে মিশিয়ে দিন। 


সবজি হোক নাস্তা 


যেকোনো ফল বা সবজি ঘটা করে খেতে হবে এমন তো কথা নেই। শসা, গাজর, শাকপাতা, মটরশুটি ইত্যাদি স্ন্যাকস বা নাস্তাও হতে পারে। সঙ্গে থাকতে পারে আপেল, পেয়ারা, কমলা, মাল্টা ইত্যাদি ফলও। এগুলো কেটে বিকালের নাস্তা হিসেবে খাওয়ানো যেতেই পারে।


স্মুদির সঙ্গে সবজি


ফল কিংবা ফলের শরবত খেতে শিশুরা আগ্রহী না হলেও ‘স্মুদি’ আবার তাদের কাছে মুখরোচক ব্যাপার। বিভিন্ন ফল একসঙ্গে মিশিয়ে ঘরে বসেই ব্লেন্ডারে সহজেই স্মুদি বানিয়ে ফেলতে পারেন। এরসঙ্গে মিশিয়ে দিতে পারেন পালংশাক, বাঁধাকপি, পেঁপে, শসা, গাজর ইত্যাদি কাঁচা খাওয়া যায় এমন যেকোনো সবজি। ফলের স্বাদের মাঝে শিশুরা সবজির স্বাদ আলাদা করতে পারবেনা, সবজি খাওয়াও হয়ে যাবে।


সালাদ


খাদ্যতালিকায় শাক-সবজি অন্তর্ভুক্ত করার সবচেয়ে সহজ ও স্বাস্থ্যকর উপায় হলো সালাদ। শসা, টমেটো, পেঁয়াজ, গাজর, বাঁধাকপির মতো সবজি এবং অঙ্কুরিত ফল দিয়ে লবণ ও চাট মশলা দিয়ে সালাদ তৈরি করে খাওয়ান। এটি খেতে খুবই সুস্বাদু, বাচ্চারাও মজা করে খাবে।


ছোট পরামর্শ  


যেসব বাচ্চারা একটু বেছে খায়, তাদের নিয়ে বেশি চিন্তা করবেন না। সময়ের সঙ্গে তারা নতুন খাবারে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।


সবজি খাওয়ানোকে চাপ মনে করবেন না। মজাদার পদ্ধতি ও ছোট কাজ দিয়ে শিশুদের আগ্রহ তৈরি করুন। রোস্ট করা, সুপ, নুডল বা মাশ করা; সবই কাজ করে। ধীরে ধীরে বাচ্চআরা নতুন স্বাদে অভ্যস্ত হবে এবং স্বাস্থ্যকর সবজি খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে।




মশা তাড়ানোর স্প্রে

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ এএম

মশার যন্ত্রণায় প্রায় মানুষই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহী রোগের শঙ্কায় অধিকাংশ মানুষই সতর্ক থাকেন। এ কারণে বাসা-বাড়ি থেকে মশা দূর করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রচলিত উপায়গুলোয় ভরসা রাখতে দেখা যায় মানুষজনকে। এর কিছু ওষুধ অবশ্য সত্যিই মশার কামড়ের ঝুঁকি কমায়।


মশার কামড়ের ঝুঁকি কমলেও সেসবের ব্যবহার এবং মানুষের ওপর প্রভাব কিন্তু এক হয় না। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, মশা তাড়ানোর যে কয়েল, ভেপোরাইজার ও স্প্রে, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা মশা তাড়ায় বা মেরে ফেলে। তবে তা উপযুক্ত পরিস্থিতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হলে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয় না।


মশার কয়েল


মশা দূর করার জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে ধোঁয়া ছড়ায়, যা চোখ, নাক ও গলার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ বাসা-বাড়ি বা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এমন অস্বস্তিকর অনুভব হতে পারে। 


তবে তা হাঁপানি রোগী, অ্যালার্জি বা ফুসফুস সম্পর্কিত অন্যান্য রোগীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা নিরাপদে ব্যবহারের জন্য ঘরে কিছুটা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। আর কয়েলটি যেন সরাসরি মাথার পাশে বা কোনো ছোট শিশুর কাছে রাখা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ চিকিৎসকের।


ভেপোরাইজার


ভেপোরাইজার থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর রাসায়নিক ধীরে ধীরে বের হতে থাকে। ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, এসব বাসা-বাড়ির ভেতরে ব্যবহার করা যায়। তবে পণ্যের সঙ্গে থাকা নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে হবে এবং কক্ষটি যেন ভালোভাবে বায়ু চলাচলযুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডাক্তার সতর্ক করে বলেন, ছোট শিশু ও পোষা প্রাণীদের ভেপোরাইজারের কাছে রাখা উচিত নয়।


মশা তাড়ানোর স্প্রে


ডা. চিরাগ ট্যান্ডন উল্লেখ করেছেন, ঘরে মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করা হলে তা স্বল্প সময়ের জন্য সহায়ক। তবে এর বাইরে থাকলে ব্যক্তিগত স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। তার মতে-স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা মানা না হলে বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত স্প্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। 


তবে কোনো ক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে এমন পণ্য প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।


যা মনে রাখা উচিত


ডা. চিরাগ ট্যান্ডনের মতে, মশা তাড়ানোর পণ্যগুলোর মূল সমস্যা হচ্ছে এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। নির্দেশিত পরিমাণ প্রয়োগ করার পর, অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে কোনো বাড়তি উপকার পাওয়া যায় না। বরং রাসায়নিক সংস্পর্শ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।


তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো বিকল্প উপায় না থাকলে বা নির্দেশাবলীতে বিকল্প উল্লেখ না থাকলে, অতিরিক্ত বা অন্যসব পণ্য মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কোনো পণ্যের কারণে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বায়ু চলাচলযুক্ত পরিবেশে থাকতে হবে। এরপরও সমস্যার প্রতিকার না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।


গাউনটির নাম রাখা হয়েছে ‘লেয়ার্স অব লাইফ’

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৮ পিএম

সুন্দরী প্রতিযোগিতার গাউন সাধারণত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এবার ১১১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন। 


সম্প্রতি একটি পর্বে মিস ওয়ার্ল্ড উগান্ডা ত্রিভিয়া এল মুহোজা যে পোশাক পরেছেন, তা নজর কেড়েছে দর্শকমহলে। ‘ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ পর্বের জন্য তৈরি এ পোশাকের নকশার অনুপ্রেরণা মূলত সি সেকশন বা সিজারিয়ান সেকশন। এ গাউনে তুলে ধরা হয়েছে নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক জটিল প্রক্রিয়াটি।


‘লেয়ার্স অব লাইফ’ গাউনটি ডিজাইন করেছেন উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদুল্লাহ। সি সেকশন–প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের বিভিন্ন স্তর ও জটিল দিকগুলো তুলে ধরতেই এ ভাবনা। নতুন মা হিসেবে কিশা বিষয়টিকে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিলেন। গাউনের ডিজাইন নিয়ে ভাবতে গিয়ে তাই নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন।


ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কিশা আবদুল্লাহ জানান, এ আইডিয়ার সূচনা হয়েছিল একটি সাধারণ কিন্তু ভিন্নধর্মী চিন্তা থেকে। সন্তান জন্মদানের প্রতিটি স্তরকে হাইফ্যাশনে রূপ দেওয়ার ভাবনা কাজ করছিল।


কিশা বলেন, ‘সন্তানের জন্মের সময় মায়ের সি সেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হলে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, সেটি খুবই কঠিন। একটি একটি করে এত স্তর কেটে একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার ভাবনাটি কত্যুর গাউনে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। আর তাই গাউনটির নাম রাখা হয় “লেয়ার্স অব লাইফ”।’


মিস উগান্ডার জন্য যখন কিশা ও তাঁর দলকে গাউন ডিজাইনের সুযোগ দেওয়া হয়, কিশা তখন একদম আনকোরা, মৌলিক ও গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী কিছু একটা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটিকে সরাসরি না দেখিয়ে, তিনি বিষয়টিকে ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।


সে ভাবনা থেকেই একাধিক স্তর ও রঙে এই ওমব্রে গাউন (একেক স্তরে একেক রঙের কাপড় দিয়ে বানানো গাউন) বানানো হয়। পোশাকের প্রতিটি উপাদানই দারুণ ভূমিকা রেখেছে পৃথিবীতে একটি নতুন প্রাণ আনার গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে।


ডিজাইনার জানিয়েছেন, সি সেকশনের যে সাতটি স্তর ছবির মাধ্যমে আমরা দেখে থাকি, সেটাকেই গাউনের ওপর দেখাতে চেয়েছি। এমন করে অস্ত্রোপচারের জটিলতাকে ফ্যাশনের মাধ্যমে শিল্পরূপ দেওয়া নিয়ে ফ্যাশনবোদ্ধাদের তুমুল করতালি পাচ্ছেন কিশা।


প্রথমে একটি সাধারণ স্কেচের মাধ্যমে মিস উগান্ডার সঙ্গে ভাবনাটি শেয়ার করেন ডিজাইনার। তাঁর প্রাথমিক অনুমতির পরই কাগজ-কলমের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনাকে পরিধানযোগ্য পোশাকে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়। 


পোশাকে রঙের বিন্যাস ঠিক করাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রতিটি রঙের অনেক শেড কাপড়ে সহজলভ্য, ফলে পুরো দলকে একদম জুতসই রং বেছে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।


যে ভাবনা থেকে গাউনটি বানিয়েছেন, সেটি যে এত মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, এতেই কিশার ভালো লাগছে। সৃজনশীল ভাবনা যখন মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, সেখানেই শিল্পীর সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি। কিশা এ-ও মনে করেন, সি সেকশনের মতো একটি জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলে মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও অনুভব করার সুযোগ তৈরি হবে।


সূত্র: পিপলস, হিন্দুস্তান টাইমস ও খালিজ টাইমস


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৯ পিএম

ভাত সবসময় ঝরঝরে হয় না। বেশি পানি দেওয়ার কারণে কিংবা বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করার কারণে ভাত গলে যায়। রান্না করা ভাত গলে কাদা কাদা হয়ে গেলে তা খাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে চারটি ছোট কৌশল কাজে আসতে পারে। 


পাউরুটির ব্যবহার

প্রথমে ভাতের মাড় গেলে নিন। এক ফোঁটাও যেন পানি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার ভাত সমেত হাঁড়ি গ্যাসের উপর চাপান। তার উপর এক টুকরো পাউরুটি রেখে দিন। ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ২ থেকে ৪ মিনিট রাখুন। এরপরে গ্যাস বন্ধ করে আরো ৫ মিনিট রেখে দিন। পাউরুটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পানি শুষে নেবে।


পাত্রে ছড়িয়ে দিন

ভাত বেশি সেদ্ধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বন্ধ করে দিন। একটি বড় পাত্রে সব ভাত ছড়িয়ে দিন। এ পর্যায়ে ঘরের ফ্যান চালু করুন।  এতে ভাতের মধ্যে জমে থাকা বাষ্প দ্রুত বেরিয়ে যাবে। দেখবেন ভাত আর বেশি নরম নেই।  


ওভেনে গরম করে নিন

খোলা হাওয়ায় শুকনো করার পরেও যদি ভাত খুব নরম থাকে, তাহলে মাইক্রোওভেনে গরম করে নিন। প্রথমে ওভেনটা ৩০০° ফারেনহাইটে প্রি-হিট করে নিন। ট্রে-তে ভাত ছড়িয়ে তা ৫-১০ মিনিটের জন্য বেক হতে দিন। তবে প্রতি ২ মিনিট অন্তর চেক করবেন, যেন ভাত একদম শুকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়। 


ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন 

নরম ভাত ঝরঝরে করতে ফ্রিজও ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত সিদ্ধ ভাত পাত্রে ছড়িয়ে ফ্রিজে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে মাঝারি আঁচে গরম করে নিলেই ভাত আবার ঝরঝরে হয়ে যাবে।

বিষয় : ভাত টিপস


  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৪৯ এএম

পুরুষদের কিছু শখ ও অভ্যাস নারীদের চোখে তাদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ‘ডেট সাইকোলজি’র একটি সমীক্ষায়। ৭৪ ধরনের শখ ও অভ্যাস নিয়ে করা এই জরিপে নারীদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বই পড়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।


সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, কোনো পুরুষকে বই পড়তে দেখলে সেটি তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিদেশি ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, রান্না এবং কাঠের কাজ।


নারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় আরও কিছু শখের মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, ব্ল্যাকস্মিথিং ও তিরন্দাজি। এসব শখের বেশির ভাগই সৃজনশীলতা, নতুন দক্ষতা অর্জন, আত্মোন্নয়ন বা শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।


অন্যদিকে, সমীক্ষায় কিছু অভ্যাসকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীবিদ্বেষী ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, কসপ্লে, কমিক বই ও ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নিয়মিত নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাপনও তালিকার নিচের দিকে ছিল।


ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, মদ্যপান বা নাইটক্লাবিংকে জীবনের প্রধান বিনোদন হিসেবে দেখা অনেক নারীর কাছে অপরিণত আচরণ বলে মনে হতে পারে।


তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্যকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে কোনো শখ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ ও আগ্রহের প্রতি সত্যিকারের মনোযোগই ব্যক্তিত্বকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আর কোনো একটি সমীক্ষার ফলাফলকে সার্বজনীন সত্য হিসেবে দেখার আগে এর নমুনা, পদ্ধতি ও গবেষণার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করা জরুরি।


বিষয় : সম্পর্ক


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ এএম

সর্দি-কাশি, জ্বর বা গলা ব্যথা হলে অনেকেই দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন। অনেকের ধারণা, কয়েক দিন ধরে উপসর্গ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেই দ্রুত সুস্থ হওয়া যাবে। কিন্তু সব ধরনের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। অপ্রয়োজনে এই ওষুধ খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হতে পারে।


ভাইরাল সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না


অ্যান্টিবায়োটিক মূলত ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। সাধারণ সর্দি-কাশি, ফ্লু ও তীব্র ব্রঙ্কাইটিসের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কারণ থাকে ভাইরাস। তাই এসব অসুখে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে সুস্থ হওয়ার সময় কমে না। নাক দিয়ে হলুদ বা সবুজ সর্দি বের হলেও সেটি যে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, এমনটা ধরে নেওয়ার কারণ নেই। একইভাবে সর্দি-কাশি সেরে যাওয়ার পর কয়েক দিন কাশি থাকলেও সবসময় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না।


অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষতি


প্রয়োজন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, ত্বকে র‍্যাশ ও অ্যালার্জির মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য ওষুধের সঙ্গেও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে। এতে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সমস্যা হওয়ার পাশাপাশি কিছু ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


বাড়ছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ


অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হলো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। বারবার অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে কিছু ব্যাকটেরিয়া ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে সত্যিই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিক আর আগের মতো কাজ নাও করতে পারে। এতে সাধারণ সংক্রমণের চিকিৎসাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।


কখন অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন


সব অ্যান্টিবায়োটিকই ক্ষতিকর, এমন নয়। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ নিশ্চিত হলে বা চিকিৎসকের কাছে এর যথেষ্ট প্রমাণ থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। যেমন কিছু ধরনের নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ, স্ট্রেপ গলা ব্যথা ও জটিল ত্বকের সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। কোন অ্যান্টিবায়োটিক, কত মাত্রায় এবং কত দিন খেতে হবে, সেটি চিকিৎসক রোগীর অবস্থা অনুযায়ী ঠিক করেন।


নিজের ইচ্ছায় অ্যান্টিবায়োটিক নয়


আগের কোনো অসুস্থতার জন্য দেওয়া অ্যান্টিবায়োটিক পরে নিজে থেকে খাওয়া উচিত নয়। অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করাও নিরাপদ নয়। সর্দি-কাশি বা সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পানি পান এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উপসর্গের চিকিৎসাই সাধারণত বেশি গুরুত্বপূর্ণ।


অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার আগে তাই প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত, এই ওষুধটি আদৌ প্রয়োজন কি না। প্রয়োজন অনুযায়ী ও সঠিক নিয়মে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলেই এর কার্যকারিতা ধরে রাখা সম্ভব হবে।

 


সূত্র: এনডিটিভি


শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

শ্রাবন্তী চ্যাটার্জির ফ্যাশন মানেই কখনো মায়াবী, কখনো গ্ল্যামারাস, আবার কখনো একেবারে সাহসী স্টাইল স্টেটমেন্ট। বয়স, সময় কিংবা জীবনের নানা বাঁকও তার ফ্যাশন সেন্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং প্রতিটি নতুন লুকেই নিজের আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলছেন এই টালিউড অভিনেত্রী। সম্প্রতি জন্মদিনেও ইভিন্টের কয়েকটি ছবিতে তার সাজ-পোশাকও ভক্তদের নজর কেড়েছে।


জন্মদিনের পালনের ছবিতে নৌকার ওপর বসে শ্রাবন্তীকে দেখা গেছে হালকা পুদিনা সবুজ বা সি-গ্রিন রঙের শর্ট গাউনে। ওয়ান-শোল্ডার নেকলাইন পোশাকটিকে দিয়েছে আধুনিক ও গ্ল্যামারাস আবেদন।


এক পাশে ফুল-স্লিভ, অন্য পাশে উন্মুক্ত কাঁধের ডিজাইনের এই অসমতা লুকটিকে করেছে আরও আকর্ষণীয়। কোমরের কাছ থেকে নিচের অংশে থাকা স্লিট এবং সূক্ষ্ম স্বচ্ছ জালের ডিটেইলিং পোশাকটিকে দিয়েছে আরও গ্ল্যামারাস মাত্রা।


এই লুকে মেকআপও ছিল পোশাকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চোখে হালকা কাজল ও আইলাইনার, গালে মৃদু ব্লাশ এবং মুখে সফট হাইলাইটারের ছোঁয়া তাঁর স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। ঠোঁটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক রেখে মেকআপে রাখা হয়েছে ন্যাচারাল ফিনিশ। অর্থাৎ গ্ল্যামার থাকলেও কোথাও বাড়াবাড়ি নেই।


চুলে ছিল হালকা ঢেউ। পেছনে বাঁধা চুলের কিছু অংশ ইচ্ছেমতো মুখের পাশে নেমে এসেছে, যা পুরো লুকে দিয়েছে এর ছোঁয়া। গয়নার ক্ষেত্রেও মিনিমালিজম বজায় রেখেছেন তিনি। ছোট ঝোলানো দুল, হাতে ব্রেসলেট ও আংটি- অল্প গয়নাতেই সাজটি সম্পূর্ণ করেছেন অভিনেত্রী।


অন্য এক ছবিতে একেবারেই ভিন্ন মুডে ধরা দিয়েছেন শ্রাবন্তী। পিংক রঙের ছিমছাম অথচ গ্ল্যামারাস টু-পিস কো-অর্ড সেটে। নরম গোলাপি রঙের পোশাকটি তার লুকে এনেছে এক ধরনের কোমল ও নারীত্বপূর্ণ আবহ।


কো-অর্ড সেটের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল এর সাদামাটা সিলুয়েটের মধ্যেও থাকা আধুনিকতার ছোঁয়া। শরীরের গড়নকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা এই পোশাকের সঙ্গে খুব বেশি বাড়তি আয়োজনের প্রয়োজনও হয়নি।


লুকে শ্রাবন্তীর স্টাইল হয়ে উঠেছে আরও পরিশীলিত ও বোল্ড। অফ-শোল্ডার ড্র্যাপড র‍্যাপ টপের সঙ্গে জুড়েছেন হাই-ওয়েস্টেড পেন্সিল মিডি স্কার্ট। শরীরের গড়নকে অনুসরণ করা এই সিলুয়েট তার লুকে এনেছে আধুনিক ফ্যাশনের স্পষ্ট ছাপ।


পায়ে ন্যুড রঙের ওপেন-টো প্ল্যাটফর্ম হিল বেছে নিয়ে লুকটিকে আরও লম্বা ও এলিগ্যান্ট দেখিয়েছেন তিনি। গলায় লেয়ার্ড ডায়মন্ড নেকলেসের সঙ্গে পান্নার পেনডেন্ট ছিল সাজের অন্যতম আকর্ষণ। সঙ্গে মানানসই দুল ও ব্রেসলেট যোগ করেছে সূক্ষ্ম রাজকীয়তা।


শ্রাবন্তীর এই লুকগুলো যেন প্রমাণ করে, ফ্যাশনের আসল সৌন্দর্য বয়সে নয়, বরং নিজের স্টাইলকে কতটা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বহন করা যায় সেখানেই।