প্রতীকী ছবি
কর্মক্ষেত্র, বাসা কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নানান কারণেই অন্যের সঙ্গে রাগারাগি হতে পারে। বন্ধু ও সহকর্মীদের কোনো অন্যায় আচরণ ও আবদার আপনার খারাপ লাগতে পারে। হুট করে প্রচণ্ড রেগে যেতে পারেন। রাগ মানুষের সহজাত আবেগ, কিন্তু হুট করে মাত্রাতিরিক্ত রেগে যাওয়া ভালো নয়। বিশেষ করে রেগে যাওয়ার পর নিজেকে কোনোভাবেই শান্ত না করতে পারলে শারিরীক ও মানসিক ক্ষতি হয়।
হঠাৎ অতিরিক্ত রেগে গেলে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিনের মতো স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ হয়। এগুলো দ্রুত রক্তনালিকে সংকুচিত করে। এতে রক্তপ্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো মারাত্মক মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই রেগে গেলেও নিজেকে কীভাবে দ্রুত শান্ত করা যায় সেদিকে মনোযোগ দিতে হবে।
প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে ভাবুন
রেগে গেলে মানুষ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান। এটা ঠিক নয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া থেকে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে। মানুষ ভুল করার পর অপরাধবোধে ভোগেন। তাই প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগে ভাবুন। কয়েক সেকেন্ড সময় নিন।
অনুভূতি প্রকাশ করুন
আপনি কেন রাগ করেছেন, সঙ্গী-সহকর্মী-বন্ধুর কোন আচরণে কষ্ট পেয়েছেন, তা প্রকাশ করুন। তবে চিৎকার করে নয়। শান্তভাবে গুছিয়ে বলুন।
নড়াচড়া ও ব্যায়াম করুন
প্রচণ্ড রেগে গেলে আপনি খানিকটা নড়াচড়া করুন। প্রয়োজনে কিছুক্ষণ হাঁটুন বা দৌঁড়ান। এতে রাগ অনেকটা কমবে। কমবে মনের ওপর চাপও।
স্থান পরিবর্তন করুন
যে পরিবেশে বা যে পরিস্থিতিতে আপনার রাগ হয়েছে, সেখান থেকে চলে যেতে পারেন। অর্থাৎ এই পরিবেশ থেকে নিজেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নিলে অনুভূতি হালকা হয়। এতে নিজেকে সামলানো সহজ হয়। সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে না।
অন্যদিকে মনোযোগ দিন
রাগ নিয়ন্ত্রণে অন্যদিকে মনোযোগ দিন। নিজেকে শান্ত করতে কিছুক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন। পছন্দের গান শুনতে পারেন। আবার নিজের মনের কথা ডায়েরিতে লিখে ফেলতে পারেন। এতে রাগের অনুভূতি কমে।
এক ভিসায় সৌদি-দুবাইসহ ৬ দেশ ভ্রমণের সুযোগ
ইউরোপের শেনজেন ভিসার আদলে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) অঞ্চলে চালু হতে যাচ্ছে সমন্বিত পর্যটন ভিসা। ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ চালু হলে একটি ভিসা নিয়েই ছয়টি উপসাগরীয় দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন বিদেশি পর্যটকরা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে খালিজ টাইমস।
জিসিসির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, বহুল প্রতীক্ষিত এ ভিসা চালুর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
শিগগিরই এটি চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
নতুন এ ভিসার আওতায় পর্যটকরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—জিসিসিভুক্ত ছয় দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
ফলে প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা করে ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
আল-বুদাইউই জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবরে জিসিসির পর্যটনমন্ত্রীদের অনুমোদনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মতিও পাওয়া যায়।
এরপর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে প্রকল্পটি এখন বাস্তবায়নের শেষ ধাপে রয়েছে।
তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, আবেদন প্রক্রিয়া কী হবে, কত ফি লাগবে এবং এর মেয়াদ কতদিন হবে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে যাতায়াত আরও সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর বিশেষ অধিবেশনে ইউএই ও বাহরাইনের মধ্যে চালু হওয়া ‘ওয়ান-পয়েন্ট এয়ার ট্র্যাভেলার্স’ ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন জিসিসি মহাসচিব।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হয়। এর আওতায় ই-গেট ও বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করার পর যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে আবার ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয় না।
জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হলে একাধিক উপসাগরীয় দেশ ভ্রমণে পর্যটকদের ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা ও খরচ কমবে। একই সঙ্গে ছয় দেশকে একটি অভিন্ন পর্যটন গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
কোমরের নিচের অংশের ব্যথা বা লোয়ার ব্যাক পেইন এখন বেশ সাধারণ সমস্যা। দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ভুল ভঙ্গিতে বসা বা দাঁড়ানো, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, পেশির দুর্বলতা, হঠাৎ কোনো নড়াচড়া কিংবা ভারী জিনিস তোলার কারণে এ ধরনের ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় সামান্য ব্যথা বিশ্রাম ও সাধারণ কিছু যত্নে কমে যায়।
নিয়মিত হালকা ব্যায়াম কোমরের নিচের অংশের কিছু ধরনের ব্যথা কমাতে এবং পেশির শক্তি ও নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। পিলাটিস এমন একটি ব্যায়ামপদ্ধতি, যেখানে শরীরের মাঝের অংশের পেশি শক্তিশালী করা, সঠিক ভঙ্গি এবং নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পেট, কোমর ও পিঠের পেশি শক্তিশালী হলে মেরুদণ্ড ভালোভাবে সহায়তা পায়। তবে ব্যথা থাকলে ব্যায়াম করার সময় শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়।
পেলভিক টিল্ট
চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মেঝেতে রাখুন। হাত দুটি শরীরের পাশে রাখুন। এবার পেটের পেশি হালকা শক্ত করে কোমরের নিচের অংশ মেঝের দিকে চাপ দিন। কয়েক সেকেন্ড ধরে রেখে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। এটি পেটের পেশি সক্রিয় করতে এবং কোমরের নিচের অংশের আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ব্রিজ
চিত হয়ে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করুন এবং পায়ের পাতা কোমরের সমান দূরত্বে রাখুন। পেটের পেশি শক্ত করে ধীরে ধীরে কোমর ও নিতম্ব ওপরের দিকে তুলুন। কাঁধ, কোমর ও হাঁটু প্রায় সরলরেখায় এলে কিছুক্ষণ ধরে রেখে ধীরে ধীরে নিচে নামুন। এতে নিতম্ব, উরু ও পেটের পেশি শক্তিশালী হয়, যা কোমরের জন্য ভালো সহায়তা তৈরি করে।
ক্যাট-কাউ
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে থাকুন। হাত থাকবে কাঁধের নিচে এবং হাঁটু থাকবে কোমরের নিচে। প্রথমে পিঠ ধীরে ধীরে ওপরের দিকে বাঁকান। এরপর বুক সামনের দিকে বাড়িয়ে পিঠ আলতোভাবে নিচের দিকে বাঁকান। ধীর গতিতে এই নড়াচড়া করুন। এতে মেরুদণ্ডের নড়াচড়া বাড়াতে এবং পিঠের আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
নি ফোল্ডস
চিত হয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মেঝেতে রাখুন। পেটের পেশি হালকা শক্ত করে একটি পা ধীরে ধীরে মেঝে থেকে তুলুন। হাঁটু বুকের দিকে না নিয়ে পা সামান্য ওপরে তুলে আবার আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনুন। এরপর অন্য পা দিয়ে একইভাবে করুন। এতে পা নড়াচড়ার সময় কোমর ও পেটের পেশি স্থির রাখার অভ্যাস তৈরি হয়।
বার্ড ডগ
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শুরু করুন। পিঠ স্বাভাবিক ও সোজা রেখে একটি হাত এবং তার বিপরীত পা ধীরে ধীরে সামনে ও পেছনের দিকে প্রসারিত করুন। কিছুক্ষণ ধরে রেখে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন। এরপর অন্য পাশ দিয়ে একইভাবে করুন। এটি শরীরের ভারসাম্য এবং পেট, পিঠ ও কোমরের পেশির শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।
সুইমিং
উপুড় হয়ে শুয়ে হাত সামনে এবং পা পেছনে সোজা রাখুন। ধীরে ধীরে একটি হাত ও তার বিপরীত পা সামান্য ওপরে তুলুন। এরপর অন্য হাত ও পা তুলুন। নড়াচড়া ছোট ও নিয়ন্ত্রিত রাখুন। হাত-পা খুব বেশি ওপরে তুললে কোমরের নিচের অংশে চাপ পড়তে পারে।
স্পাইন স্ট্রেচ ফরোয়ার্ড
সোজা হয়ে বসে পা দুটি সামনে ছড়িয়ে দিন। পিঠ সোজা রেখে ধীরে ধীরে সামনের দিকে ঝুঁকুন। যতটুকু আরামদায়ক, ততটুকুই ঝুঁকবেন। জোর করে শরীর নিচের দিকে নামানোর চেষ্টা করবেন না। এতে পিঠ ও উরুর পেছনের পেশির নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
চাইল্ডস পোজ
হাত ও হাঁটুর ওপর ভর দিয়ে শুরু করুন। এরপর ধীরে ধীরে নিতম্ব পেছনের দিকে নিয়ে গোড়ালির ওপর বসুন। হাত সামনে ছড়িয়ে শরীরের ওপরের অংশ নিচের দিকে নামিয়ে আরাম করুন। এতে পিঠ, কোমর ও উরুর পেশিতে হালকা টান পড়ে এবং ব্যায়ামের পর শরীরের আড়ষ্টতা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
পিঠের নিচের অংশের ব্যথা থাকলে সব ধরনের ব্যায়াম সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। ব্যায়াম করার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে বা নতুন কোনো ব্যথা অনুভূত হলে তা বন্ধ করা উচিত। দীর্ঘদিনের বা তীব্র ব্যথা থাকলে নিজে থেকে ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
মশা তাড়ানোর স্প্রে
মশার যন্ত্রণায় প্রায় মানুষই অতিষ্ঠ। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো মশাবাহী রোগের শঙ্কায় অধিকাংশ মানুষই সতর্ক থাকেন। এ কারণে বাসা-বাড়ি থেকে মশা দূর করার জন্য নানা উপায় অবলম্বন করা হয়। এ ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই প্রচলিত উপায়গুলোয় ভরসা রাখতে দেখা যায় মানুষজনকে। এর কিছু ওষুধ অবশ্য সত্যিই মশার কামড়ের ঝুঁকি কমায়।
মশার কামড়ের ঝুঁকি কমলেও সেসবের ব্যবহার এবং মানুষের ওপর প্রভাব কিন্তু এক হয় না। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের ইন্টারনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, মশা তাড়ানোর যে কয়েল, ভেপোরাইজার ও স্প্রে, তাতে রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যা মশা তাড়ায় বা মেরে ফেলে। তবে তা উপযুক্ত পরিস্থিতি ও নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হলে সুস্থ মানুষদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয় না।
মশার কয়েল
মশা দূর করার জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে ধোঁয়া ছড়ায়, যা চোখ, নাক ও গলার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ বাসা-বাড়ি বা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে এমন অস্বস্তিকর অনুভব হতে পারে।
তবে তা হাঁপানি রোগী, অ্যালার্জি বা ফুসফুস সম্পর্কিত অন্যান্য রোগীদের জন্য গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছুটা নিরাপদে ব্যবহারের জন্য ঘরে কিছুটা বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখা উচিত। আর কয়েলটি যেন সরাসরি মাথার পাশে বা কোনো ছোট শিশুর কাছে রাখা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ চিকিৎসকের।
ভেপোরাইজার
ভেপোরাইজার থেকে পোকামাকড় তাড়ানোর রাসায়নিক ধীরে ধীরে বের হতে থাকে। ডা. চিরাগ ট্যান্ডন জানিয়েছেন, এসব বাসা-বাড়ির ভেতরে ব্যবহার করা যায়। তবে পণ্যের সঙ্গে থাকা নির্দেশনাবলী অনুসরণ করতে হবে এবং কক্ষটি যেন ভালোভাবে বায়ু চলাচলযুক্ত থাকে, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে ডাক্তার সতর্ক করে বলেন, ছোট শিশু ও পোষা প্রাণীদের ভেপোরাইজারের কাছে রাখা উচিত নয়।
মশা তাড়ানোর স্প্রে
ডা. চিরাগ ট্যান্ডন উল্লেখ করেছেন, ঘরে মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহার করা হলে তা স্বল্প সময়ের জন্য সহায়ক। তবে এর বাইরে থাকলে ব্যক্তিগত স্প্রে ব্যবহার করা উচিত। তার মতে-স্প্রে ব্যবহারের নির্দেশনা মানা না হলে বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসার জন্য ব্যবহৃত স্প্রে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হতে পারে।
তবে কোনো ক্ষত বা ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে এমন পণ্য প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
যা মনে রাখা উচিত
ডা. চিরাগ ট্যান্ডনের মতে, মশা তাড়ানোর পণ্যগুলোর মূল সমস্যা হচ্ছে এর প্রয়োগ প্রক্রিয়া বা পদ্ধতি। নির্দেশিত পরিমাণ প্রয়োগ করার পর, অতিরিক্ত ব্যবহার করা হলে কোনো বাড়তি উপকার পাওয়া যায় না। বরং রাসায়নিক সংস্পর্শ বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
তিনি আরও বলেন, অন্য কোনো বিকল্প উপায় না থাকলে বা নির্দেশাবলীতে বিকল্প উল্লেখ না থাকলে, অতিরিক্ত বা অন্যসব পণ্য মেশানো থেকে বিরত থাকুন। কোনো পণ্যের কারণে দীর্ঘ সময় শ্বাস নিতে সমস্যা হলে বায়ু চলাচলযুক্ত পরিবেশে থাকতে হবে। এরপরও সমস্যার প্রতিকার না হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
গাউনটির নাম রাখা হয়েছে ‘লেয়ার্স অব লাইফ’
সুন্দরী প্রতিযোগিতার গাউন সাধারণত সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়। ভিয়েতনামে অনুষ্ঠিত মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় এবার ১১১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি পর্বে মিস ওয়ার্ল্ড উগান্ডা ত্রিভিয়া এল মুহোজা যে পোশাক পরেছেন, তা নজর কেড়েছে দর্শকমহলে। ‘ওয়ার্ল্ড ডিজাইনার অ্যাওয়ার্ড’ পর্বের জন্য তৈরি এ পোশাকের নকশার অনুপ্রেরণা মূলত সি সেকশন বা সিজারিয়ান সেকশন। এ গাউনে তুলে ধরা হয়েছে নারীর সন্তান জন্ম দেওয়ার শারীরিক জটিল প্রক্রিয়াটি।
‘লেয়ার্স অব লাইফ’ গাউনটি ডিজাইন করেছেন উগান্ডার ডিজাইনার কিশা আবদুল্লাহ। সি সেকশন–প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত শরীরের বিভিন্ন স্তর ও জটিল দিকগুলো তুলে ধরতেই এ ভাবনা। নতুন মা হিসেবে কিশা বিষয়টিকে অন্তর দিয়ে অনুভব করেছিলেন। গাউনের ডিজাইন নিয়ে ভাবতে গিয়ে তাই নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে কিশা আবদুল্লাহ জানান, এ আইডিয়ার সূচনা হয়েছিল একটি সাধারণ কিন্তু ভিন্নধর্মী চিন্তা থেকে। সন্তান জন্মদানের প্রতিটি স্তরকে হাইফ্যাশনে রূপ দেওয়ার ভাবনা কাজ করছিল।
কিশা বলেন, ‘সন্তানের জন্মের সময় মায়ের সি সেকশনের মধ্য দিয়ে যেতে হলে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়, সেটি খুবই কঠিন। একটি একটি করে এত স্তর কেটে একটি শিশুর জন্ম দেওয়ার ভাবনাটি কত্যুর গাউনে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলাম। আর তাই গাউনটির নাম রাখা হয় “লেয়ার্স অব লাইফ”।’
মিস উগান্ডার জন্য যখন কিশা ও তাঁর দলকে গাউন ডিজাইনের সুযোগ দেওয়া হয়, কিশা তখন একদম আনকোরা, মৌলিক ও গভীর অনুপ্রেরণাদায়ী কিছু একটা তৈরি করতে চেয়েছিলেন। আর সেখান থেকেই সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটিকে সরাসরি না দেখিয়ে, তিনি বিষয়টিকে ফ্যাশনের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন।
সে ভাবনা থেকেই একাধিক স্তর ও রঙে এই ওমব্রে গাউন (একেক স্তরে একেক রঙের কাপড় দিয়ে বানানো গাউন) বানানো হয়। পোশাকের প্রতিটি উপাদানই দারুণ ভূমিকা রেখেছে পৃথিবীতে একটি নতুন প্রাণ আনার গল্পটি ফুটিয়ে তুলতে।
ডিজাইনার জানিয়েছেন, সি সেকশনের যে সাতটি স্তর ছবির মাধ্যমে আমরা দেখে থাকি, সেটাকেই গাউনের ওপর দেখাতে চেয়েছি। এমন করে অস্ত্রোপচারের জটিলতাকে ফ্যাশনের মাধ্যমে শিল্পরূপ দেওয়া নিয়ে ফ্যাশনবোদ্ধাদের তুমুল করতালি পাচ্ছেন কিশা।
প্রথমে একটি সাধারণ স্কেচের মাধ্যমে মিস উগান্ডার সঙ্গে ভাবনাটি শেয়ার করেন ডিজাইনার। তাঁর প্রাথমিক অনুমতির পরই কাগজ-কলমের এ উচ্চাকাঙ্ক্ষী ভাবনাকে পরিধানযোগ্য পোশাকে রূপ দেওয়ার কাজ শুরু হয়।
পোশাকে রঙের বিন্যাস ঠিক করাটা ছিল সবচেয়ে কঠিন ধাপ। প্রতিটি রঙের অনেক শেড কাপড়ে সহজলভ্য, ফলে পুরো দলকে একদম জুতসই রং বেছে নিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে।
যে ভাবনা থেকে গাউনটি বানিয়েছেন, সেটি যে এত মানুষকে ছুঁয়ে গেছে, এতেই কিশার ভালো লাগছে। সৃজনশীল ভাবনা যখন মানুষের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে, সেখানেই শিল্পীর সার্থকতা বলে মনে করেন তিনি। কিশা এ-ও মনে করেন, সি সেকশনের মতো একটি জটিল প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হলে মায়েদের কষ্ট কিছুটা হলেও অনুভব করার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র: পিপলস, হিন্দুস্তান টাইমস ও খালিজ টাইমস
ছবি : সংগৃহীত
ভাত সবসময় ঝরঝরে হয় না। বেশি পানি দেওয়ার কারণে কিংবা বেশি সময় ধরে সেদ্ধ করার কারণে ভাত গলে যায়। রান্না করা ভাত গলে কাদা কাদা হয়ে গেলে তা খাওয়া যায় না। এমন পরিস্থিতিতে চারটি ছোট কৌশল কাজে আসতে পারে।
পাউরুটির ব্যবহার
প্রথমে ভাতের মাড় গেলে নিন। এক ফোঁটাও যেন পানি না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। এবার ভাত সমেত হাঁড়ি গ্যাসের উপর চাপান। তার উপর এক টুকরো পাউরুটি রেখে দিন। ঢাকনা দিয়ে কম আঁচে ২ থেকে ৪ মিনিট রাখুন। এরপরে গ্যাস বন্ধ করে আরো ৫ মিনিট রেখে দিন। পাউরুটি অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও পানি শুষে নেবে।
পাত্রে ছড়িয়ে দিন
ভাত বেশি সেদ্ধ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্যাস বন্ধ করে দিন। একটি বড় পাত্রে সব ভাত ছড়িয়ে দিন। এ পর্যায়ে ঘরের ফ্যান চালু করুন। এতে ভাতের মধ্যে জমে থাকা বাষ্প দ্রুত বেরিয়ে যাবে। দেখবেন ভাত আর বেশি নরম নেই।
ওভেনে গরম করে নিন
খোলা হাওয়ায় শুকনো করার পরেও যদি ভাত খুব নরম থাকে, তাহলে মাইক্রোওভেনে গরম করে নিন। প্রথমে ওভেনটা ৩০০° ফারেনহাইটে প্রি-হিট করে নিন। ট্রে-তে ভাত ছড়িয়ে তা ৫-১০ মিনিটের জন্য বেক হতে দিন। তবে প্রতি ২ মিনিট অন্তর চেক করবেন, যেন ভাত একদম শুকিয়ে শক্ত না হয়ে যায়।
ফ্রিজে রেখে ঠান্ডা করুন
নরম ভাত ঝরঝরে করতে ফ্রিজও ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত সিদ্ধ ভাত পাত্রে ছড়িয়ে ফ্রিজে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন। ফ্রিজ থেকে বের করে মাঝারি আঁচে গরম করে নিলেই ভাত আবার ঝরঝরে হয়ে যাবে।
পুরুষদের কিছু শখ ও অভ্যাস নারীদের চোখে তাদের আকর্ষণ বাড়াতে পারে—এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে ‘ডেট সাইকোলজি’র একটি সমীক্ষায়। ৭৪ ধরনের শখ ও অভ্যাস নিয়ে করা এই জরিপে নারীদের মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বই পড়ার অভ্যাস সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় ৯৮ দশমিক ২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, কোনো পুরুষকে বই পড়তে দেখলে সেটি তাদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়। এরপর পছন্দের তালিকায় রয়েছে বিদেশি ভাষা শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, রান্না এবং কাঠের কাজ।
নারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় আরও কিছু শখের মধ্যে রয়েছে চিত্রাঙ্কন, লেখালেখি, ফটোগ্রাফি, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হাইকিং, ব্ল্যাকস্মিথিং ও তিরন্দাজি। এসব শখের বেশির ভাগই সৃজনশীলতা, নতুন দক্ষতা অর্জন, আত্মোন্নয়ন বা শারীরিক সক্রিয়তার সঙ্গে যুক্ত।
অন্যদিকে, সমীক্ষায় কিছু অভ্যাসকে তুলনামূলকভাবে কম আকর্ষণীয় হিসেবে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নারীবিদ্বেষী ‘ম্যানোস্ফিয়ার’ সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকা, পর্নোগ্রাফি দেখা, জুয়া খেলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অহেতুক বিতর্কে জড়িয়ে পড়া। ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন, কসপ্লে, কমিক বই ও ফাঙ্কো পপ ফিগার সংগ্রহ, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং নিয়মিত নাইটক্লাবকেন্দ্রিক জীবনযাপনও তালিকার নিচের দিকে ছিল।
ডেটিং কোচ কোর্টনি রায়ানের মতে, মদ্যপান বা নাইটক্লাবিংকে জীবনের প্রধান বিনোদন হিসেবে দেখা অনেক নারীর কাছে অপরিণত আচরণ বলে মনে হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অন্যকে আকৃষ্ট করার জন্য কৃত্রিমভাবে কোনো শখ গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। নিজের পছন্দ ও আগ্রহের প্রতি সত্যিকারের মনোযোগই ব্যক্তিত্বকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আর কোনো একটি সমীক্ষার ফলাফলকে সার্বজনীন সত্য হিসেবে দেখার আগে এর নমুনা, পদ্ধতি ও গবেষণার সীমাবদ্ধতাও বিবেচনা করা জরুরি।