অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জন টার্নাস
সিনিয়র থাকাকালীন আমি পেনের প্রথম ও সে সময়ের একমাত্র সিএনসি মিলিং মেশিনটা প্রায় ধ্বংস করে ফেলেছিলাম।
তারপরও যে আমাকে আবার আপনারা ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, সে জন্য আমি কৃতজ্ঞ। পুরো গল্পটা আজ আর বলছি না। শুধু এটুকু বলি, সেই বছরের বাকিটা সময় সবাই আমাকে ‘ক্র্যাশ’ বলে ডাকত।
স্নাতকেরা, অভিনন্দন। আজ একটা অসাধারণ দিন। এই দিনটি আরও বিশেষ, কারণ একটা অভাবনীয় পথ পাড়ি দিয়ে তোমরা এখানে পৌঁছেছ। কয়েক বছর আগের কথা ভাবো, মহামারির কারণে সারা বিশ্ব ওলটপালট হয়ে গিয়েছিল। একজন হাইস্কুল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে তোমরা জানতে না, তোমাদের কলেজজীবন কেমন হবে। আর এখন ভাবো, সেই সময়ের পর থেকে তোমরা কী কী অর্জন করেছ। আজ তোমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের গ্র্যাজুয়েট। তোমরা পেরেছ বলেই তোমরা আজ এখানে! সামনের পথটা আরও রোমাঞ্চকর, কারণ এবার তোমরা বাইরে বেরোবে, নিজের পরিচয় গড়বে। ভবিষ্যৎকে নিজের মতো করে সাজাবে। এই যাত্রায় তোমাদের সাহায্য করার জন্য আমার কিছু পরামর্শ আছে।
প্রথম পরামর্শ
প্রথমত, নিজের কাজের পেছনে তুমি কতখানি যত্নবান, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপলে আমার প্রথম প্রজেক্ট ছিল ‘সিনেমা ডিসপ্লে’। সহজ করে বললে—একটা বড় ডেস্কটপ মনিটর। এর ওপরে স্ক্রু দিয়ে একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের আবরণ লাগানো ছিল। স্টেইনলেস স্টিলের স্ক্রুগুলোর মাথায় এমনভাবে খাঁজ কাটা যে আলো পড়লে সেগুলো সিডির মতো ঝলমল করত (যদি কেউ সিডি না চিনে থাকো, পরে মা-বাবাকে জিজ্ঞেস করে নিয়ো)।
চাকরির প্রথম বছরে একবার এক সরবরাহকারীর কারখানায় গিয়েছিলাম। জায়গাটা আমার বাড়ি থেকে অনেক দূর। তখন প্রায় মধ্যরাত। আতশকাচ দিয়ে স্ক্রুর মাথার খাঁজগুলো গুনছিলাম। মনে করিয়ে দিই, স্ক্রুগুলো মনিটরের পেছনে থাকে। আমি সরবরাহকারীর সঙ্গে তর্ক করছিলাম, কারণ তারা ৩৫টি খাঁজ দিয়েছিল, যেখানে থাকার কথা ২৫টি। সেই মাঝরাতে মুহূর্তের জন্য আমার মাথায় এল, আমি আসলে করছি কী! এটা কি স্বাভাবিক? একসময় বুঝলাম এটা হয়তো স্বাভাবিক নয়, কিন্তু এটাই সঠিক। কারণ, আমি এই পণ্যটির পেছনে কয়েক মাস সময় ব্যয় করেছি। আর যদি কোনো কিছুর পেছনে এত সময় আপনি দেন, তবে সেখানে আপনার সেরাটাই দেওয়া উচিত।
হয়তো কোনো গ্রাহক এটা খেয়াল করবেন, হয়তো করবেন না। কিন্তু যখনই আমি কারও ডেস্কে ওই মনিটরগুলো দেখতাম, আমার মনে হতো যে আমি ও আমার দল এর প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ে ভেবেছি। আমাদের সেরাটা দিয়েছি। কাজের পেছনে নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দেওয়া কঠিন। মনের ওপর চাপ পড়ে, অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এটা সার্থক। কারণ, আমাদের সময় সীমিত। তোমরা হয়তো জীবনে শত শত প্রজেক্ট করবে। কেউ হয়তো মাত্র একটি বা দুটি বড় প্রজেক্ট করবে। কিন্তু যখন পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার সময় আসবে, তখন ফেলে আসা এই দিনগুলোর দিকে তাকিয়েই তোমার সবচেয়ে বেশি গর্ব হবে।
দ্বিতীয় পরামর্শ
সব সময় মনে করবে তুমি ঘরের বাকি সবার মতোই বুদ্ধিমান। কিন্তু কখনো এটা মনে আনবে না যে তুমি তাঁদের চেয়ে বেশি জানো। এই মানসিকতা তোমাকে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস দেবে, আবার প্রশ্ন করার ও শেখার নম্রতাও দেবে।
অ্যাপল ছিল আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম যখন সেখানে পা রাখি, বেশ ভয় পাচ্ছিলাম। নিশ্চিত ছিলাম না যে আমি ঠিক যোগ্য কি না। কারণ, ওখানকার সবাইকে ভীষণ বুদ্ধিমান, আত্মবিশ্বাসী বলে মনে হতো। ভাগ্যিস, আর যা-ই হোক, সাহায্য চাইতে কখনো ভয় পাইনি। তাঁরাও গভীর মমতার সঙ্গে শুধু যে আমার সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে যেতে সাহায্য করেছেন তা নয়, লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথও দেখিয়েছেন।
শিক্ষাজীবন শেষেই শেখা থেমে যায় না। আগে যেমনটা বলেছিলাম, শুরুতে আমি প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছিলাম। কিন্তু কয়েক বছর পর আমাদের ডিজাইন টিম অ্যালুমিনিয়াম পছন্দ করতে শুরু করল। এরপর আর কখনো প্লাস্টিক নিয়ে কাজ করিনি। আমি কি সেই দক্ষতা অর্জনের জন্য আফসোস করি? একদম না। কারণ, প্রতিটি অভিজ্ঞতা সমস্যাকে ভিন্ন কোণ থেকে দেখতে শেখায়, জীবনে নতুন কিছু করার আত্মবিশ্বাস দেয়।
তৃতীয় পরামর্শ
এমন কিছু তৈরি করো, যা তোমাকে আগ্রহী করে, যা তোমাকে আনন্দ দেয়। তবে সবচেয়ে বড় কথা, সেটি যেন তোমার মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। অ্যাপলে আমরা আমাদের মূল্যবোধ বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করি। আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পরিবেশ রক্ষা। ২০৩০ সালের মধ্যে আমরা আমাদের পুরো সাপ্লাই চেইনকে ‘কার্বন নিউট্রাল’ করার লক্ষ্য নিয়েছি। এটা হতে যাচ্ছে আমাদের ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ।
ক্যারিয়ারে যা-ই করো না কেন, এমন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করো, যা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। এমন প্রকৌশলী হও যেন দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসার পথ খুলে যায়। এমন প্রযুক্তি তৈরি করো, যা বিশ্বের প্রতিটি কোনায় বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে যায়। এমন এআই মডেল বানাও, যা আমাদের সবাইকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে।
প্রকৌশলী হওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তোমরা তোমাদের চারপাশের পৃথিবীকে বদলে দিতে পারো। মানুষের হাতে এমন সব সমাধান পৌঁছে দিতে পারো, যা আগে কখনো ছিল না। তোমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ গড়বে। এটি যেমন একটা বড় সুযোগ, তেমনি বিশাল দায়িত্বও। স্টিভ জবস যেমনটা বলেছিলেন, ‘মহাবিশ্বে তোমার একটা দাগ রেখে যেয়ো।’
১৪ বছর বয়সে কিশোর-কিশোরীরা যখন স্কুল শেষে কী করবে তা নিয়ে দ্বিধায় থাকে, তখন জয়নাম জৈন করে দেখিয়েছেন এমন এক কীর্তি—যা অর্জন করতে অনেক উদ্যোক্তার বছরের পর বছর কেটে যায়। দুবাইয়ের বিখ্যাত বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায় অফিস নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছেন একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ।
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তিনিই দুবাইয়ের সবচেয়ে কম বয়সি এআই প্রতিষ্ঠাতা।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই কিশোর ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’ নামক একটি এআই প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা। এটি এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিপণন, গ্রাহক সংযোগ, বিক্রি এবং কনটেন্ট তৈরির কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে সাহায্য করে।
তার এই সাফল্যের গল্প সম্প্রতি ইন্টারনেটে দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে জয়নামের মতে, এআই নিয়ে মানুষের উন্মাদনা শুরু হওয়ার অনেক আগেই তার এই যাত্রার সূচনা হয়েছিল।
১৪ বছর বয়সি এই কিশোরকে ইতোমধ্যে তার অসাধারণ ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত প্রতিভার কারণে জনপরিসরে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্মেলনে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। মাস্কের মতোই জয়নাম প্রচলিত পড়াশোনার গণ্ডির বাইরে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও নিজের দক্ষতা বাড়াতে বেশি মনোযোগী হয়েছেন।
‘কার্লি টেলস মিডল ইস্ট’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়নাম জানান, মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি তার জীবনের প্রথম ব্যবসায়িক পাঠ পান।
তিনি স্মরণ করে বলেন, ‘আমার বয়স যখন মাত্র ছয় বছর, তখন বাবা আমাকে তার প্রথম ব্যবসায়িক মিটিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন।’ শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তার মধ্যে এক প্রবল কৌতূহল তৈরি করে, যা সময়ের সঙ্গে আরও পোক্ত হয়। কেবল শ্রেণিকক্ষের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি মানুষের সঙ্গে মিশে, বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিয়ে এবং নিজের ওপর নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে ব্যবসা কীভাবে কাজ করে তা শিখতে শুরু করেন।
মাত্র ১৩ বছর বয়সেই তিনি মাত্র ১০৫ দিনের মধ্যে আইজিসিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। পড়াশোনার এই ব্যতিক্রমী পথটি তাকে তার ব্যবসায়িক স্বপ্ন পূরণের জন্য আরও বেশি সময় বের করে দিতে সাহায্য করেছে। শুধু একটি স্টার্টআপ নয়, আরও অনেক অর্জন
মেঙ্গো ইঞ্জিনকে জয়নাম এমনভাবে গড়ে তুলতে চান, যা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ‘এআই কো-ফাউন্ডার’ বা সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কাজ করবে। এটি বিপণন থেকে শুরু করে লিড ম্যানেজমেন্ট, নিউজলেটার এবং গ্রাহক যোগাযোগের মতো কাজগুলোকে সহজ করে দেয়। প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে বেটা সংস্করণে রয়েছে এবং বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এটি ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তবে তার অর্জন এখানেই থেমে নেই। জয়নাম একটি টেডএক্স মঞ্চে বক্তব্য দিয়েছেন, দুটি পেটেন্টের অধিকারী হয়েছেন এবং আরও কিছু পেটেন্ট পাইপলাইনে রয়েছে। এ ছাড়া তিনি একটি বই লিখেছেন এবং ইউটিউবে ১ লাখ ৪৫ হাজারেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার নিয়ে একটি কমিউনিটি গড়ে তুলেছেন। তার এই সাফল্যের পেছনের মূল চাবিকাঠি হলো ধারাবাহিকতা।
দশ বছর বয়স থেকেই তিনি নিয়ম করে ‘৫০ দিনের চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে আসছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি ৫০টি বই পড়েছেন, ৫০টি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টে যোগ দিয়েছেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে দেখা করতে ও তাদের কাছ থেকে শিখতে ভারতের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে প্রায় ৬,০০০ কিলোমিটার ভ্রমণ করেছেন।
তবে জয়নামের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি কেবল বুর্জ খলিফার অফিস নয়,= বরং পড়াশোনা ও জীবনকে দেখার তার দৃষ্টিভঙ্গি।
তার এই জীবনযাত্রা প্রমাণ করে যে আজকের দিনে শিক্ষা কেবল চার দেওয়ালের শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ নয়। কৌতূহল, মানুষের সঙ্গে আলোচনা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তার এই পথচলায় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এত কম বয়সে তার অর্জনগুলো এত আলোচনা তৈরি করা সত্ত্বেও জয়নামের লক্ষ্য স্থির রয়েছে ভবিষ্যতের পানে।
কার্লি টেলস মিডল ইস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, তিনি এমন একটি ইউনিকর্ন কোম্পানি গড়ে তুলতে চান যা বিশ্বে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। আর এর মাধ্যমেই তিনি প্রমাণ করতে চান যে বয়সের সংখ্যা কখনো মানুষের বড় স্বপ্নের আকৃতি নির্ধারণ করে না।
সাধারণ কিশোরদের কাছে ১৪ বছর বয়স মানে নতুন শখ বা আগ্রহ খুঁজে পাওয়ার সময়। কিন্তু জয়নাম জৈনের কাছে এটি হলো নিজের জানালার বাইরে পৃথিবীর অন্যতম বিখ্যাত স্কাইলাইন বা শহর দেখতে দেখতে আস্ত এক ব্যবসা দাঁড় করানোর বয়স।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
প্রতীকী ছবি
অনেকেই পেশি শক্তিশালী করতে নিয়মিত শরীরচর্চা করেন। কেউ কেই নিয়ম করে জিমেও যান। তবে পেশি মজবুত করতে শুধু শরীরচর্চা বা জিমে যাওয়ই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কিছু খাবার যোগ করাও জরুরি। পটাশিয়াম কোষের ভেতরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ করতে সাহায্য করে। শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ কমে গেলে পেশির দুর্বলতা, ক্র্যাম্প বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ কারণে পেশি মজবুত করতে খাদ্যতালিকায় পটাশিয়ামযুক্ত খাবার করা প্রয়োজন। যেমন-
কলা
কলা পটাশিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেটের দারুণ একটি উৎস। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। অন্যদিকে পটাশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ বজায় রাখে। এ কারণে ওয়ার্কআউট শুরু করার আগে একটা কলা খেলে শরীরে ভরপুর শক্তি পাবে।
আলু
আলুতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। বিশেষ করে খোসাসহ আলু খেলে এর গুণাগুণ আরও বেড়ে যায়। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট ওয়ার্কআউটের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায় এবং ব্যায়ামের পর পেশির গ্লাইকোজেন স্টোর রিকভার করতে সাহায্য করে। ডিম, মাছ, মুরগির মাংস বা ডালের মতো প্রোটিন যুক্ত খাবারের সঙ্গে সেদ্ধ বা বেক করা আলু খেতে পারেন।
পালং শাক
পালং শাকে পটাশিয়ামের পাশাপাশি ফোলেট, ভিটামিন কে এবং অন্যান্য মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট থাকে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টির পরিমাণ বাড়াতে ডাল, সবজির তরকারি, স্যুপ বা অমলেটে পালং শাক মিশিয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত ডায়েটে এই ধরনের শাকপাতা রাখলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি মেটে।
ডাবের পানি
ডাবের পানিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং তরল থাকে। ব্যায়ামের পর শরীরে পানির ঘাটতি মেটাতে এবং ক্লান্ত পেশিকে আরাম দিতে ডাবের পানি খুব ভাল কাজ করে।
ডাল
ডাল, রাজমা, ছোলা এবং অন্যান্য শস্যদানায় পটাশিয়াম,উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। যারা নিরামিষ খান, তাদের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পেশি ঠিক রাখতে এই খাবারগুলো ভালো কাজ করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল, রাজমা বা ছোলার মতো খাবার রাখলে শরীর পর্যাপ্ত পটাশিয়াম ও প্রোটিন পায়।
অ্যাভোকাডো
অ্যাভোকাডোতে পটাশিয়াম, ফাইবার এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। সালাদ, স্যান্ডউইচ বা অন্য যেকোনো সুষম খাবোরের সঙ্গে অ্যাভোকাডো খেতে পারেন।
টকদই
টক দইয়ে প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি পটাশিয়ামও থাকে। ব্যায়ামের পর ভারী খাবার বা স্ন্যাকস হিসেবে এটি খেতে পারেন। চিনি ছাড়া টক দইয়ের সঙ্গে ফল, ওটস বা বাদাম মিশিয়ে খেলে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির দারুন ভারসাম্য তৈরি হয়।
ছবি : সংগৃহীত
বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের পর্যাপ্ত প্রোটিন জরুরি। কারণ এটি শিশুর শারীরিক-মানসিক বিকাশ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু খাবার থেকে শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত প্রোটিন পৌঁছোচ্ছে কি না তা অনেক সময় বোঝা যায় না। দৈনন্দিন খাবার থেকে শরীরের চাহিদামতো প্রোটিন না মিললে, শিশু অল্পেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, শরীরের বৃদ্ধিও ব্যাহত হয়।
আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বয়স অনুযায়ী শিশুদের প্রোটিনের গড় চাহিদা বদলায়। প্রতি কেজি ওজনের জন্য ১ থেকে ৩ বছরের শিশুর দৈনিক প্রোটিনের চাহিদা ১.০৫ গ্রাম, ৪ থেকে ১৩ বছরের ক্ষেত্রে ০.৯৫ গ্রাম, ১৪ থেকে ১৮ বছরেরর জন্য ০.৮৫ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
আইসিএমআর-এনআইএন-এর (ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউট্রিশন) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যদি ৫ বছর বয়সী শিশুর ওজন ২০ কেজি হয়, তবে তার প্রতিদিন প্রায় ১৯ গ্রাম প্রোটিন প্রয়োজন।
যেসব লক্ষণে বুঝবেন শিশুর শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি হচ্ছে
ঘন ঘন ক্ষুধা: শিশু যদি বারবার বিস্কুট, চিপস বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের বায়না করে, তবে বুঝতে হবে মূল খাবার খেয়ে তার পেট ভরছে না। মূল খাবারে পুষ্টির ঘাটতি হলেও বার বার ক্ষুধা পেতে পারে। খাদ্যতালিকায় ডাল, দই, পনির, ডিম, মাছ, মাংস, ছোলা থাকলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে।
দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া: শিশুরা প্রাণচঞ্চল ও চনমনে হবে সেটাই স্বাভাবিক। খেলার সময় শিশু যদি দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তার খাদ্যতালিকায় নজর দেওয়া প্রয়োজন। দুধ, ছোলা ভাজা, ডিম বা পনিরের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার তালিকায় রাখা দরকার। এগুলি শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
ওজন বৃদ্ধি না হওয়া: পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ক্যালোরির অভাবে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই শিশুর বয়স অনুযায়ী উচ্চতা ও ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বৃদ্ধি সন্তোষজনক না হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া বা সেরে উঠতে দেরি হওয়া: প্রোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে এবং কোষের পুনর্গঠনে সাহায্য করে। শিশু যদি বারবার অসুস্থ হয় বা অসুখ থেকে সেরে উঠতে বেশি সময় নেয়, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
পেশির দুর্বলতা: ছোটখাটো ক্ষত সহজে না শুকোনো, পেশি দুর্বল হওয়া পুষ্টির ঘাটতির সঙ্কেত। ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসক কিংবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাবার খাওয়াতে হবে।
নভেম্বরের শুরুতেই দেশে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। তেঁতুলিয়া, রাজারহাট ও দিনাজপুরে দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় শীতের আগমনী অনুভূতি পাওয়া যাচ্ছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, দেশের উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। রংপুর বিভাগের তেঁতুলিয়ায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রয়েছে। রাজারহাট ও দিনাজপুরে তাপমাত্রা ২০ থেকে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। রাজশাহী ও ঈশ্বরদীতেও তাপমাত্রা কমেছে।
তিনি জানান, বর্তমান আবহাওয়াগত পরিস্থিতি কেটে গেলে আগামী সপ্তাহে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।
এদিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবিরের তথ্য অনুযায়ী, লঘুচাপটি শনিবারের মধ্যে নিম্নচাপে এবং পরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
তবে আপাতত লঘুচাপটির বাংলাদেশের আবহাওয়ার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব নেই। ২৫ অক্টোবরের পর দেশের উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা বৃষ্টিপাত হতে পারে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনাও পরিবর্তিত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরের শেষ ভাগে উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা কমতে শুরু করলেও নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় শীতের অনুভূতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতীকী ছবি
চারপাশে কত মানুষ, তারপরও অনেক সময় নিজেকে ভীষণ একা মনে হয়। কারও সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না। আবার মনের কথা বলার মতো কাউকে খুঁজেও পাওয়া যায় না। ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপড়েন কিংবা জীবনের নানা পরিবর্তনের কারণেই আজকাল অনেকেরই এমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। আবার সবসময় যে আপনার পাশে কেউ থাকবেই এমনটাও আশা করা ঠিক নয়। এর চেয়ে ভালো নিজের একাকীত্বকেই নিজের প্লাস পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলা। ছোট ছোট কিছু অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের একাকীত্বকে ‘মি টাইম’-এ পরিণত করুন। এজন্য যা করতে পারেন-
নিয়মিত নিজের সঙ্গে কথা বলুন
নিজের সঙ্গে প্রতিদিন কিছুটা সময় কথা বলার চেষ্টা করুন। সব সময় গভীর আলোচনা করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সাধারণ কথাবার্তা বলুন। নিজেই নিজের বন্ধু হন।
পছন্দের কাজকে সিরিয়াসলি নিন
বই পড়া, গান শোনা, ছবি আঁকা, বাগান করা, এক্সারসাইজ, যে কাজেই আনন্দ পান, তা বেশি বেশি করার চেষ্টা করুন। কাজের সময়টুকু বাদ দিয়ে এটাকে গুরুত্ব দিন। যেমন- কেউ যদি ছবি আঁকেন, চেষ্টা করুন নতুন ধরনের, আরও নতুন ধরনের ছবি আঁকার। এরকম যেই কাজ করতে ভালো লাগে সেদিকে মনোযোগ দিন।
শরীরচর্চা করুন
নিয়ম করে হাঁটতে বেরোন বা হালকা ব্যায়াম করুন। নিয়মিত শরীরচর্চা মন ভাল রাখতে এবং দৈনন্দিন কাজে উৎসাহ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
নতুন কিছু শিখুন
রান্না করতে ভালো লাগলে নতুন কিছু করার চেষ্টা করুন। নতুন কোনও ভাষা বা কোনও বাদ্যযন্ত্র শেখার চেষ্টা করতে পারেন।
ঘরের বাইরে বের হন
সুযোগ পেলেই ঘর থেকে বেরিয়ে কাছাকাছি কোথাও হেঁটে আসুন। বাইক বা গাড়ি থাকলে কিছু সময়ে জন্য একটু রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার কমান
অন্যের সাজানো জীবনের ছবি দেখে নিজের জীবনকে ছোট ভাববেন না। সবার জীবনেই ভালো-মন্দ আছে। অনলাইনে মানুষ শুধু নিজের সেরাটাই দেখায়। ছবি-ভিডিওতে কারও জীবন সুন্দর লাগলেও বাস্তবে তা সবসময় হয় না।
ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখুন
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন। ঘুমের অনিয়ম হলে মনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়ম করে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমান। ঘুমকে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে নিন।
ছোট ছোট লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন
নিজের পেশা হোক বা শখ, সেখানে নিজের জন্য লক্ষ্যমাত্রা সেট করুন। নিজের দক্ষতা বাড়ান। সবসময় তার থেকে যে টাকা আয় করতে হবে, বিষয়টা তা নয়। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক চ্যালেঞ্জ পছন্দ করে। সেই চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে লড়াই করলে মস্তিষ্ক ঠিক থাকে।
অন্যের পাশে দাঁড়ান
কাউকে সাহায্য করলে বা স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যোগ দিলে দেখবেন মন ভালো লাগবে। অসহায়, দুর্বল প্রাণীদের সাহায্য করুন।
প্রয়োজন হলে সাহায্য চান
দীর্ঘদিন ধরে একাকীত্ব বোধ হলে বা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, অথচ দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সুখবর আসছে না? এর পেছনে নারীর পাশাপাশি পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যাও দায়ী হতে পারে। বিশ্বজুড়ে সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে পুরুষের প্রজননগত কোনো না কোনো কারণ জড়িত থাকে। কিন্তু পুরুষের বন্ধ্যত্বের সমস্যা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। কারণ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না।
সন্তান ধারণে ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করালে তবেই বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে কিছু শারীরিক পরিবর্তন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আসুন লক্ষণগুলো জেনে নিন-
যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া
যৌন ইচ্ছা বা আগ্রহ হঠাৎ কমে গেলে তা হরমোনের ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে যৌন আকাঙ্ক্ষা হ্রাস পেতে পারে। তবে মানসিক চাপ, ঘুমের অভাব ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও এর কারণ হতে পারে।
এছাড়া যৌন উত্তেজনার সময় লিঙ্গ উত্থিত হতে অসুবিধা হওয়া বা উত্থান ধরে রাখতে না পারা আরেকটি সতর্কসংকেত। এটি সরাসরি বন্ধ্যত্বের প্রমাণ নয়। তবে হরমোনজনিত সমস্যা, ডায়াবেটিস কিংবা রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে।
বীর্যপাতের সমস্যা
বীর্যপাত হতে দেরি হওয়া, একেবারেই বীর্যপাত না হওয়া কিংবা বীর্য মূত্রথলির দিকে চলে যাওয়ার মতো সমস্যা সন্তান ধারণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। বীর্যপাতের সময় বীর্যের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে কম মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা ভাব
অণ্ডকোষে ব্যথা, ফোলাভাব, ভারী লাগা কিংবা আকারে পরিবর্তন দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভেরিকোসিল বা অণ্ডকোষের শিরা ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা কিছু ক্ষেত্রে শুক্রাণুর উৎপাদন ও গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা হলে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তন
টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে গেলে শরীরে বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। যেমন-পেশির শক্তি কমে যাওয়া, ক্লান্তি, যৌন ইচ্ছা হ্রাস এবং স্তনের টিস্যু বেড়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ দেখা দিলে হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
মুখ বা শরীরের লোম কমে যাওয়া
মুখে দাড়ি-গোঁফ বা শরীরের লোমের ঘনত্ব কমে যাওয়ার সঙ্গে কখনো কখনো হরমোনের ভারসাম্যহীনতার সম্পর্ক থাকে। তবে বংশগত বৈশিষ্ট্যসহ অন্যান্য কারণেও এমন হতে পারে। তাই শুধু লোম কমে যাওয়াকে বন্ধ্যাত্বের লক্ষণ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
পুরুষের বন্ধ্যত্বের সম্ভাব্য কারণগুলো-
১. হরমোনজনিত ব্যাধি
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের বন্ধ্যত্বের একটি বড় কারণ হলো হরমোনজনিত সমস্যা। হাইপোগোনাডিজম, অর্থাৎ টেস্টোস্টেরন এবং টেস্টিস দ্বারা প্রজনন সম্পর্কিত অন্যান্য হরমোনের অপর্যাপ্ত উৎপাদন বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। সেইসঙ্গে মস্তিষ্কের গোড়ায় অবস্থিত পিটুইটারি গ্রন্থির ব্যাধিও হরমোন উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে, শুক্রাণু উৎপাদনকে প্রভাবিত করতে পারে।
২. শারীরিক এবং কাঠামোগত ব্যাধি
ভ্যারিকোসেল এমন একটি অবস্থা যেখানে অণ্ডকোষের মধ্যে শিরার বৃদ্ধি এবং বেলুনিং অণ্ডকোষের তাপমাত্রাকে পরিবর্তন করতে পারে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনকে ব্যাহত করে। যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। রেট্রোগ্রেড ইজাকুলেশনে বীর্য লিঙ্গ দিয়ে বের হওয়ার পরিবর্তে মূত্রথলিতে প্রবেশ করে, যা পুরুষদের বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে। এছাড়াও যথাক্রমে এপিডিডাইমাইটিস, অরকাইটিস এবং যৌনবাহিত সংক্রমণের মতো সংক্রমণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। শুক্রাণু পরিবহন ব্যবস্থায় ত্রুটি যেমন শুক্রাণু পরিবহনের বিভিন্ন অংশে বাধাও বন্ধ্যত্বের আরেকটি কারণ হতে পারে।
৩. লাইফস্টাইল ফ্যাক্টর
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাসের কারণে পুরুষের বন্ধ্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। দীর্ঘস্থায়ী ধূমপান বা তামাক সেবন শুক্রাণুর গতিশীলতা, গুণমান এবং পরিমাণকে কমিয়ে দিতে পারে। অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এবং ইরেক্টাইল ডিসফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন হ্রাস করতে পারে। স্থূল বা অতিরিক্ত ওজন সরাসরি শুক্রাণুর পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে এবং হরমোনের মাত্রাও পরিবর্তন করতে পারে যা বন্ধ্যত্বের দিকে নিয়ে যায়। এছাড়াও অস্বাস্থ্যকর ও অনিয়মিত খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কার্যকলাপের অভাব সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, যা স্থূলতা এবং বন্ধ্যত্বের কারণ হতে পারে।
৪. পরিবেশগত কারণ
কীটনাশক, ভেষজনাশক, ভারী ধাতু, জৈব দ্রাবক, রঙ এবং দূষণ শুক্রাণুর স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রার পরিবেশে বেশি থাকলে তাও সাময়িকভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস করতে পারে।
৫. জেনেটিক ফ্যাক্টর
জেনেটিক্স বন্ধ্যত্বের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করতে পারে। ক্লাইনফেল্টার সিনড্রোম একটি জেনেটিক অবস্থা যেখানে একটি পুরুষ শিশু অতিরিক্ত এক্স ক্রোমোজোম নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, এটি পুরুষের প্রজনন অঙ্গে ত্রুটি সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে টেস্টিকুলার ফাংশন এবং শুক্রাণু উৎপাদন প্রভাবিত হয়। অন্যান্য জেনেটিক ব্যাধি যেমন সিস্টিক ফাইব্রোসিস, কলম্যান সিন্ড্রোম শুক্রাণু নালীতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
যেভাবে নির্ণয় করা হয় পুরুষের বন্ধ্যত্ব
সঠিক চিকিৎসার জন্য প্রথমে সমস্যার কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। চিকিৎসকেরা রোগীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার ইতিহাস বিবেচনা করে কয়েকটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন।
বীর্য পরীক্ষা
শুক্রাণুর সংখ্যা, গতিশীলতা, আকৃতি এবং বীর্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। এটি পুরুষের প্রজননক্ষমতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
রক্ত পরীক্ষা
টেস্টোস্টেরনসহ প্রয়োজনীয় হরমোনের মাত্রা পরীক্ষা করে হরমোনজনিত সমস্যা শনাক্ত করা হয়।
আলট্রাসনোগ্রাফি
অণ্ডকোষের গঠন, ভেরিকোসিল বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা সন্দেহ হলে এই পরীক্ষা করা হতে পারে।
জিনগত পরীক্ষা
শুক্রাণুর সংখ্যা অত্যন্ত কম বা একেবারেই না থাকলে কিংবা নির্দিষ্ট জিনগত সমস্যা সন্দেহ হলে চিকিৎসক এই পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
নিয়মিত অসুরক্ষিত যৌন সম্পর্কের পরও এক বছর সন্তান না এলে দম্পতির দুজনেরই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত। নারীর বয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি হলে সাধারণত ছয় মাস চেষ্টা করার পরই মূল্যায়ন শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এছাড়া অণ্ডকোষে ব্যথা বা ফোলা, যৌনক্ষমতায় সমস্যা কিংবা আগে অণ্ডকোষে আঘাত বা অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়ে থাকলেও প্রজননক্ষমতা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।
এসব লক্ষণ থাকলেই যে পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হয়েছে, তা নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও প্রজননগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, টাইমস অব ইন্ডিয়া