আধুনিক শহুরে জীবনে ক্যারিয়ারের ব্যস্ততা, পরিবর্তিত জীবনধারা এবং নানা পারিপার্শ্বিক চাপের কারণে জন্মহার ও সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের ধরণে এক গভীর পরিবর্তন এসেছে। দেরিতে সন্তান নেওয়ার প্রবণতা দিন দিন বাড়লেও এর পেছনের জৈবিক বাস্তবতা ও ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নন। ফলস্বরূপ, শহুরে দম্পতিদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এই সংকট অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব।
বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ: জীবনযাপন ও পরিবেশগত চাপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩০ বছর বা তার পরে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করা বন্ধ্যাত্ব বৃদ্ধির অন্যতম একটি বড় কারণ। কারণ এই বয়সে নারীদের ডিম্বাশয়ের ক্ষমতা (ওভারিয়ান রিজার্ভ) প্রাকৃতিকভাবেই কমতে শুরু করে।
অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন: অপর্যাপ্ত ঘুম, ফাস্টফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসে থাকার অভ্যাস হরমোনে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করছে।
শারীরিক সমস্যা: নারীদের ক্ষেত্রে পিসিওএস এবং অনিয়মিত পিরিয়ডের মতো সমস্যা এখন ঘরে ঘরে দেখা দিচ্ছে।
পুরুষদের উর্বরতা হ্রাস: বন্ধ্যাত্বের ক্ষেত্রে কেবল নারীরা নন, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে পুরুষদের বিভিন্ন সমস্যাও দায়ী। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণগত মান এবং সক্রিয়তা দিন দিন কমছে।
পরিবেশগত প্রভাব: অতিরিক্ত গরম, দূষণ এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রভাব প্রজনন স্বাস্থ্যকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
শহুরে দম্পতিদের দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রবণতা
বন্ধ্যাত্ব নিয়ে সমাজে এখনো এক ধরনের ট্যাবু বা সংকোচ কাজ করে। বেশিরভাগ দম্পতি বছরের পর বছর ধরে চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পরই কেবল চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ততক্ষণে জৈবিক সময় পেরিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকদের জন্যও সফলতার হার নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকের মাঝেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বা আইভিএফ-এর সহায়তায় যেকোনো বয়সেই সন্তান ধারণ সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসাবিজ্ঞান যতই উন্নত হোক না কেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণু বা শুক্রাণুর স্বাভাবিক গুণগত মানের যে পতন ঘটে, তা পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
লক্ষণহীন উর্বরতা হ্রাস ও প্রাথমিক স্ক্রিনিং
নিয়মিত পিরিয়ড হওয়া মানেই যে উর্বরতা ঠিক আছে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। অনেক সময় কোনো বড় লক্ষণ ছাড়াই নীরবে ডিম্বাশয়ের ক্ষমতা কমতে থাকে।
প্রাথমিক পরীক্ষা: এএমএইচ টেস্ট এবং সাধারণ আল্ট্রাসাউন্ডের মতো সহজ পরীক্ষার মাধ্যমেই প্রজনন স্বাস্থ্যের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব।
লুকানো রোগ: এন্ডোমেট্রিওসিস বা হরমোনজনিত জটিলতাগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে বোঝা যায় না। তাই দেরিতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে নারীদের শেষ ২০ কিংবা ত্রিশের কোঠার শুরুতেই প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা প্রি-কনসেপশন কেয়ার নেওয়া উচিত।
প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ: যাদের সন্তান নিতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তারা চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডিম্বাণু বা ভ্রূণ হিমায়িত করার মতো আধুনিক পদ্ধতির কথা ভাবতে পারেন।
বন্ধ্যাত্ব কেবল নারীর সমস্যা নয়
আমাদের সমাজে বন্ধ্যাত্বের সম্পূর্ণ দায় সাধারণত নারীদের ওপর চাপানো হয়, যা একটি মারাত্মক ভুল ধারণা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষদের শুক্রাণুর গুণগত মান এবং ডিএনএ অখণ্ডতাও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে হ্রাস পায়। তাই বন্ধ্যাত্বকে একক কোনো নারীর সমস্যা না ভেবে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের যৌথ সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত। দম্পতিদের উচিত একসঙ্গে প্রজনন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং জীবনধারায় পরিবর্তন আনা।
গর্ভধারনে জটিলতা ও শারীরিক ঝুঁকি
বেশি বয়সে মা হওয়ার সিদ্ধান্ত শহুরে নারীদের মধ্যে গর্ভাবস্থার বিভিন্ন ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
> গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তপাত
> জন্মগত ত্রুটি ও প্রিটার্ম বা সময়ের আগে জন্ম
> সিজারিয়ান ডেলিভারির উচ্চ হার
প্রতিক্রিয়াশীল চিকিৎসা থেকে দূরদর্শী পরিকল্পনা
সামাজিক ভীতি বা খরচের চিন্তায় অনেকে সময়মতো চিকিৎসা নিতে চান না। ফলে যখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া হয়, তখন পরিস্থিতি অনেকখানি জটিল হয়ে যায়। তাই প্রজনন স্বাস্থ্যকে শেষ মুহূর্তের চিকিৎসা না ভেবে বরং নিয়মিত স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক যত্নের একটি অংশ হিসেবে দেখা উচিত।
কর্মক্ষেত্র ও পরিবারে এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই পারে শহুরে দম্পতিদের জন্য সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।
বন্ধ্যাত্বকে কেবল শেষ মুহূর্তের কোনো জটিল সমস্যা হিসেবে না দেখে, একে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও প্রতিরোধমূলক যত্নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। সঠিক সময়ে সচেতন পদক্ষেপই পারে একটি সুস্থ ও সুখী পরিবার গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে।
চ্যাটজিপিটি দিয়ে বানানো
অফিসে বস মানে শুধু কাজের নির্দেশ দেওয়া কোনো ব্যক্তি নন। তার হাত ধরেই শেখা হয় নতুন কিছু, তৈরি হয় কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, গড়ে ওঠে পেশাগত জীবনের ভিত। তাই বস দিবসে তাকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলা যেতে পারে কিছু আন্তরিক কথা। প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বস দিবস’ বা ‘বসেস ডে’—যদিও আন্তর্জাতিকভাবে বহুল পরিচিত ন্যাশনাল বসেস ডে পালিত হয় ১৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে।
কর্মক্ষেত্রে একজন ভালো বস শুধু কাজ বুঝিয়ে দেন না, বরং সহকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করেন, ভুল থেকে শেখার সুযোগ দেন এবং কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ান। তার নেতৃত্বে একটি দল যেমন লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে, তেমনি কর্মীদের মধ্যেও তৈরি হতে পারে আত্মবিশ্বাস।
বস দিবসে তাই আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছার বাইরে গিয়ে বলা যায়, ‘আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। আপনার পরামর্শ ও সহযোগিতা আমার পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কাজের চাপের মধ্যেও আমাদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।’
তবে সব কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। কারও বস হতে পারেন পথপ্রদর্শক, আবার কারও কাছে কর্মক্ষেত্রের সম্পর্ক হতে পারে বেশ আনুষ্ঠানিক। তাই শুভেচ্ছা জানানোর সময় নিজের অভিজ্ঞতা ও সম্পর্কের সঙ্গে মানানসই কথাই বেছে নেওয়া ভালো।
বস দিবস আসলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি উপলক্ষ। একজন ভালো নেতার প্রতি সম্মান জানানো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কর্মীদের পরিশ্রম, মতামত ও অবদানকে মূল্যায়ন করাও জরুরি। কারণ একটি ভালো কর্মপরিবেশ গড়ে ওঠে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তিতে।
আজ বস দিবসে আপনার বসকে একটি ছোট্ট বার্তা পাঠাতে পারেন, জানাতে পারেন তার কাছ থেকে শেখা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিংবা সরাসরি বলতে পারেন—‘আপনার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। ভবিষ্যতেও আপনার কাছ থেকে শিখতে চাই।’
কথাগুলো ছোট হলেও আন্তরিক হলে সেটিই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে সুন্দর উপহার। মোদ্দাকথা, পেশাগত জীবনে একে অপরের অবদানকে সম্মান জানানোর উপলক্ষ হিসাবেই দিনটিকে উদযাপন করা যায়।
নানা আঞ্চলিক পদে অতিথিরা খুঁজে পাবেন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় স্বাদের পরিচয়
একেকটি খাবার যেন একেকটি গল্প। একেকটি স্বাদে মিশে আছে শৈশবের স্মৃতি, আর প্রতিটি ঐতিহ্যবাহী পদে লুকিয়ে আছে বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মপরিচয়। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্যসংস্কৃতি, আঞ্চলিক বৈচিত্র্য এবং হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খাবারকে নতুন করে তুলে ধরতে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট আয়োজন করেছে বিশেষ আয়োজন ‘দ্য লোকাল কালিনারি হেরিটেজ অব বাংলাদেশ- ২০২৬। বুধবার সন্ধ্যা ৭টায়, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের গ্র্যান্ডি সামিট – ২, লেভেল ৬-এ অনুষ্ঠানটির উদ্বোধনী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মনিটর-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিদ্দিকী, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের পরিচালক মাহমুদ হাসান, জনসংযোগ ও যোগাযোগ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক দেওয়ান ফারহানা মাসুক ইরা, বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার, প্রাচীন রান্নার পদ্ধতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে চলা স্বাদের ঐতিহ্যকে অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করা। গ্রামবাংলার চিরচেনা ঘ্রাণ, দাদী-নানীর হাতের রান্নার স্মৃতি আর মাটির কাছাকাছি থাকা বাঙালির চিরন্তন খাদ্যসংস্কৃতি সবকিছু মিলিয়ে এই উৎসব হয়ে উঠবে শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক অনন্য রসনাযাত্রা।
উৎসবে থাকছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমাহার। পুরান ঢাকার বাখরখানি, চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস ও কালাভুনা, সিলেটের সাতকড়া মাংস, খুলনার চুইঝাল, কক্সবাজারের লইট্টা ভাজি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালাইয়ের রুটিসহ নানা আঞ্চলিক পদে অতিথিরা খুঁজে পাবেন বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় স্বাদের পরিচয়। পাশাপাশি থাকছে হরেক রকমের ভর্তা, ঐতিহ্যবাহী সবজি ও মুখরোচক দেশীয় খাবার।
মিষ্টিমুখের আয়োজনেও থাকছে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যের ছোঁয়া! নাটোরের কাঁচাগোল্লা, নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম, কুমিল্লার রসমালাই, মেহেরপুরের রসকদম্বসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও পিঠা। প্রতিটি পদ যেন অতিথিদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে বাংলার চিরচেনা উৎসব, পারিবারিক মিলনমেলা আর শৈশবের মধুর স্মৃতিতে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল কর্তৃপক্ষ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি খাবার উৎসব আয়োজন করা নয়; বরং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ খাদ্য ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করে তোলা। আমরা চাই, দেশি-বিদেশি অতিথিরা বাংলাদেশের আঞ্চলিক খাবারের বৈচিত্র্য, স্বাদ ও ঐতিহ্যকে নতুনভাবে আবিষ্কার করুন।”
গ্র্যান্ডিওস রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই বিশেষ বুফে ডিনারের মূল্য জনপ্রতি ৫,৯৯৯ টাকা নেট। নির্বাচিত ব্যাংক কার্ডধারীদের জন্য থাকছে স্পেশাল বাই ওয়ান গেট ফোর পর্যন্ত অফার। এ ছাড়া ঢাকা রিজেন্সি প্রিমিয়ার ক্লাবের সদস্যদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা এবং দলবদ্ধ অতিথিদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড়।
এই বিশেষ আয়োজন চলবে ১৪ থেকে ২৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনদের সঙ্গে দেশীয় খাবারের স্বাদে সময় কাটাতে অতিথিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছে ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট।
এই জমকালো আয়োজন উপভোগ করার জন্য এবং বাংলাদেশী খাবার ও ঐতিহ্যকে স্মরণ করার জন্য আপনাদের সাদরে আমন্ত্রণ! পরিবার এবং বন্ধুদের নিয়ে চলে আসতে পারেন এই আয়োজনে। এই আয়োজন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করুন 01713332661 নম্বরে অথবা ভিজিট করুন: https://www.facebook.com/share/17zsUTTDPX/
ছবি : সংগৃহীত
শরীরের বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল ছেঁকে বের করতে কিডনি প্রতিনিয়ত কাজ করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা কমতে শুরু করলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় তা বোঝা যায় না। ফলে বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও কিডনির ভেতরে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে কিডনি বিশেষজ্ঞ ডা. চৈত্রালি গাওড়ে জানিয়েছেন, কিডনির রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা কঠিন। কারণ, অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই তখন স্পষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে সাধারণ কিছু রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।
কিডনির সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ কী
কিডনির সমস্যা হলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তবে এসব লক্ষণ সব সময় সরাসরি কিডনির রোগের ইঙ্গিত দেয় না। তাই লক্ষণগুলোর দিকে খেয়াল রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। কিডনির সমস্যার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
> চোখের চারপাশে বা গোড়ালিতে ফোলাভাব।
> প্রস্রাবের পরিমাণ বা প্রস্রাব করার ঘনত্বে পরিবর্তন।
> প্রস্রাবে ফেনা দেখা যাওয়া।
> প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া।
> দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।
> বমি বমি ভাব কিংবা ক্ষুধা কমে যাওয়া।
> কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই শরীরে চুলকানি।
> রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ, ধরন বা বৈশিষ্ট্যে কোনো পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে কিডনির সমস্যার সম্পর্ক রয়েছে। উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষতি করতে পারে। আবার কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, এই দুই সমস্যার সম্পর্ক পরস্পরনির্ভর।
কিডনি ভালো আছে কি না বুঝতে ৩টি পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে সাধারণত রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা এবং রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষাই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে আলাদা ধরনের তথ্য দেয়।
১. রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা
কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি উপায় হলো রক্তে সিরাম ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা পরীক্ষা করা। ক্রিয়েটিনিন শরীরের একটি বর্জ্য পদার্থ, যা সাধারণত কিডনি রক্ত থেকে ছেঁকে বের করে দেয়। রক্তে এই পদার্থের মাত্রা পরিমাপ করে ইজিএফআর বা এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে কিডনি কতটা কার্যকরভাবে রক্ত থেকে বর্জ্য পদার্থ ছেঁকে বের করছে, তার একটি আনুমানিক ধারণা পাওয়া যায়।
চিকিৎসক চৈত্রালি গাওড়ে জানান, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর কিডনির কার্যক্ষমতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে শুধু একটি পরীক্ষার ফল দেখেই কিডনির অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। কারণ, বয়স, পেশির পরিমাণ এবং শরীরে পানির ভারসাম্যের মতো বিষয় পরীক্ষার ফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই ফল অস্বাভাবিক হলে চিকিৎসক প্রয়োজনে আবার পরীক্ষা করতে দিতে পারেন অথবা অন্যান্য শারীরিক তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে তা মূল্যায়ন করতে পারেন।
২. প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও
কিডনির সমস্যা শনাক্ত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হলো প্রস্রাবে অ্যালবুমিন-টু-ক্রিয়েটিনিন রেশিও বা ইউএসিআর।
অ্যালবুমিন এক ধরনের প্রোটিন। সাধারণত কিডনি রক্ত ছেঁকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দেয়ার সময় প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে ধরে রাখে। কিন্তু কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে অ্যালবুমিন প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে পারে। ইউএসিআর পরীক্ষার মাধ্যমে প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি যাচাই করা হয়। কিডনির ছাঁকনক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার আগেও এই পরীক্ষায় কিডনির ক্ষতির প্রাথমিক সংকেত পাওয়া যেতে পারে।
চিকিৎসক গাওড়ের মতে, প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষা সাধারণত ব্যবহার করা হয়। কিডনির কার্যক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দৃশ্যমান হওয়ার আগেই এটি কিছু অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে।
৩. রক্তচাপ পরীক্ষা
কিডনির স্বাস্থ্য মূল্যায়নে রক্তচাপ মাপাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উচ্চ রক্তচাপ যেমন কিডনির রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তেমনি কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই কিডনির অবস্থা মূল্যায়নের সময় রক্তচাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শুধু রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেই কিডনি সম্পূর্ণ সুস্থ, এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায় না। আবার রক্তচাপ বেশি হলেই যে কিডনির রোগ হয়েছে, তাও নয়। অন্যান্য পরীক্ষার ফল ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হয়।
কত দিন পরপর কিডনি পরীক্ষা করাবেন
যাদের কিডনির রোগের পরিচিত কোনো ঝুঁকি নেই, তারা নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে কিডনির কার্যক্ষমতা যাচাই করতে পারেন। তবে কত ঘন ঘন পরীক্ষা করাতে হবে, তা বয়স ও ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অন্যদিকে, কিছু মানুষের নিয়মিত বিরতিতে কিডনি পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে। যেমন—
> ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি।
> পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তি।
> হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি।
> নিয়মিত নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ব্যবহার করেন এমন ব্যক্তি।
> এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা উচিত।
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলেও প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তাই নিজেকে সুস্থ মনে হওয়া মানেই কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে, এমন নয়। ডা. চৈত্রালি গাওড়ের মতে, রক্ত ও প্রস্রাবের সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে কখনো কখনো উপসর্গ দেখা দেয়ার আগেই কিডনির কার্যক্ষমতার পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে বিবাহবিচ্ছেদের আইনি ব্যবস্থা থাকলেও ব্যতিক্রমও আছে। ফিলিপাইন ও ভ্যাটিকান সিটি এমন দুটি দেশ, যেখানে সাধারণ বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ নেই। তবে দাম্পত্যে সংকট তৈরি হলে দেশ দুটিতে স্বামী-স্ত্রীর সামনে কিছু আইনি ও ধর্মীয় বিকল্প আছে।
ফিলিপাইন
ফিলিপাইনে অধিকাংশ বিবাহিত দম্পতির জন্য প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের সাধারণ আইন নেই। তবে আইনি বিচ্ছেদ (আইনগতভাবে আলাদা থাকা), বিয়ে বাতিল এবং বিয়েকে শুরু থেকেই অবৈধ ঘোষণার ব্যবস্থা আছে।
আইনি বিচ্ছেদ মানেই বিবাহবিচ্ছেদ নয়। আদালত স্বামী-স্ত্রীকে আলাদা থাকার অনুমতি দিলেও তাঁদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকে। ফলে তাঁরা সাধারণত নতুন করে বিয়ে করতে পারেন না।
শারীরিক নির্যাতন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক কিংবা সঙ্গীকে পরিত্যাগ করার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনি বিচ্ছেদের আবেদন করা যায়। অন্যদিকে বিয়ে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণার ক্ষেত্রে বিয়েটি আইনগতভাবে বৈধ ছিল কি না, তা বিবেচনা করা হয়।
তবে ফিলিপাইনে মুসলিমদের জন্য পৃথক পারিবারিক আইন আছে। নির্দিষ্ট শর্তে এই আইনের আওতাভুক্ত দম্পতিরা তালাক, খুলা কিংবা আদালতের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের সুযোগ পান।
এ ছাড়া বিদেশে হওয়া কিছু বিবাহবিচ্ছেদ নির্দিষ্ট শর্তে ওই দেশটিতে স্বীকৃতি পেতে পারে। তবে এককথায় একবার বিয়ের পর বিচ্ছেদের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রথম সম্পর্ক থেকে আইনগতভাবে বের হয়ে নতুন করে বিয়ে করে সম্পর্কে থিতু হওয়া প্রায় অসম্ভব।
অনেকেই তাই দেশ পরিবর্তন করে নতুন দেশে থিতু হয়ে সেখানকার আইনে পছন্দের মানুষকে বিয়ে করে আবার সংসার শুরু করেন। তবে সেই সুযোগ খুব কম মানুষই পায়।
ভ্যাটিকান সিটি
এখানে বিয়ে এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। ভ্যাটিকান সিটিতে ক্যাথলিক চার্চের ধর্মীয় আইন অনুযায়ী, বৈধ ও পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন বিয়েকে সাধারণভাবে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতে সেখানে প্রচলিত বিবাহবিচ্ছেদের ব্যবস্থা নেই।
তবে নির্দিষ্ট শর্তে কোনো বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করার সুযোগ আছে। এর মানে, বিয়েটি শুরু থেকেই ধর্মীয় আইনের শর্ত পূরণ করেছিল কি না, তা যাচাই করা। সম্পর্ক ভেঙে গেছে বলেই বিয়ে অবৈধ হয়ে যায় না।
এ ছাড়া নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রী আলাদা থাকতে পারেন। কিন্তু আলাদা থাকা মানেই বৈবাহিক বন্ধনের অবসান নয়। ফলে দ্বিতীয় বিয়ে করার সুযোগ নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে সেই দেশের আইনে প্রথম বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করে তারপর আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ের দিকে আগানো যেতে পারে। যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও জটিল।
ছবি : সংগৃহীত
মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা বা যেকোনো সাময়িক অস্বস্তিতে দ্রুত উপশমের জন্য অনেকে নিজেই ফার্মেসি থেকে পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক কিনে সেবন করেন। প্রাথমিক অবস্থায় এতে কষ্ট কমলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন এসব ওষুধ সেবনের ফলে অলক্ষ্যে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে—বিশেষ করে তা কিডনির কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।
চলুন, জেনে নিই আরো যেসব ক্ষতি হতে পারে শরীরের।
পেটের সমস্যা ও হজমে গোলযোগ
ঘন ঘন পেইনকিলার খেলে পেটের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়। এর ফলে খাবার হজম হতে চায় না এবং বদহজম, গ্যাস ও পেটে অস্বস্তির মতো সমস্যা দেখা দেয়।
স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই কিডনির ক্ষতি
পেইনকিলারের অন্যতম বিপজ্জনক দিক হলো—এটি কোনো আগাম স্পষ্ট সতর্কবার্তা ছাড়াই কিডনির ক্ষতি করতে পারে। কিডনির একটা বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো শারীরিক লক্ষণ স্পষ্ট হয় না। ফলে অনেকে পুরোপুরি সুস্থ বোধ করলেও সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারেন। ততক্ষণে অনেক সময় কিডনির ক্ষতি আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না।
কী পরিমাণ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ
এক বা দুই দিন সাময়িক পেইনকিলার খেলে সাধারণ সুস্থ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঝুঁকি কম। তবে কয়েক সপ্তাহ ধরে সপ্তাহে একাধিকবার এটি খেলে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। পানিশূন্যতা, অতিরিক্ত বয়সে, ডায়াবেটিস বা আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে অল্প পেইনকিলারেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব
অনেকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা বা ভাইরাসজনিত শ্বাসকষ্টেও অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে থাকেন। অথচ অ্যান্টিবায়োটিক ভাইরাসের ওপর কোনো কাজ করে না।
বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া : অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সরাসরি কিডনির কোষের ক্ষতি করতে পারে কিংবা কিডনিতে প্রদাহ তৈরি করতে পারে।
নিয়ম না মানা : চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায় ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত না খেলে অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্সের পাশাপাশি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
কিছু নির্দিষ্ট মানুষের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক বেশি থাকে:
> আগে থেকেই কিডনি রোগ বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি,
> বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও গর্ভবতী নারী,
> দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতায় ভোগা মানুষ,
> হার্ট ফেলিউর বা লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগী।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
যেকোনো ব্যথায় ওষুধ খেয়ে তাৎক্ষণিক কষ্ট চেপে না রেখে ব্যথার মূল কারণ নির্ণয় করা জরুরি। নিয়মিত পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন মনে হলে নিজ থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ছবি : সংগৃহীত
সকালের সূর্য যেমন দিনের ছন্দ নির্ধারণ করে, তেমনি দিনের শুরুতে সঠিক খাবার ও পানীয় গ্রহণ সুস্থ থাকতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। কিছু পানীয় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সামান্য সহায়ক হতে পারে। তবে কোনো পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের বিকল্প নয়।
এমনই পাঁচটি পানীয়ের সম্ভাব্য উপকারিতা নিয়ে আজকের এ স্বাস্থ্যকথা।
লেবু মিশ্রিত পানি
সকালে এক গ্লাস লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা পাওয়া যায়। লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ রক্তচাপ সামান্য কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে শুধু লেবু মিশ্রিত পানি পান করলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যায়, এমন শক্ত প্রমাণ নেই। বাড়তি চিনি বা লবণ না মিশিয়ে এ পানীয় পান করাই ভালো।
বিটরুটের রস
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সম্ভাবনাময় পানীয়গুলোর মধ্যে বিটরুটের রস অন্যতম। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, যা শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরিতে সহায়তা করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালিকে শিথিল করতে এবং রক্তপ্রবাহ উন্নত করতে ভূমিকা রাখে।
কিছু গবেষণায় বিটরুটের রস পান করার পর রক্তচাপ কমার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। সকালে পরিমিত পরিমাণে তাজা বিটরুটের রস পান করা যেতে পারে। এতে অতিরিক্ত লবণ বা চিনি মেশানো উচিত নয়।
নারকেল পানি
নারকেল পানিতে পটাশিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে। পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের প্রভাবের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাভাবিক রক্তচাপ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি নারকেল পানি শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে।
তবে নারকেল পানি খেলেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্যাকেটজাত নারকেল পানি কেনার আগে উপাদান তালিকায় বাড়তি চিনি ও সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়া উচিত। যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে কিংবা রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বেশি পরিমাণে নারকেল পানি পান করা উচিত নয়।
গ্রিন টি
গ্রিন টিতে পলিফেনলসহ বিভিন্ন উপকারী উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। এসব উপাদান রক্তনালির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে গ্রিন টি পান করার সঙ্গে রক্তচাপ সামান্য কমার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তবে গ্রিন টিতে ক্যাফেইনও থাকে। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই গ্রিন টি পান করার পর অস্বস্তি বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হলে পরিমাণ কমানো উচিত। বাড়তি চিনি ছাড়া গ্রিন টি পান করাই ভালো।
আমলকি মিশ্রিত পানি
আমলকিতে রয়েছে ভিটামিন সি, পলিফেনল ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এসব উপাদান শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আমলকি মিশ্রিত পানি পান করলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় কিংবা সরাসরি উচ্চ রক্তচাপ কমে-এমন দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
সকালে এক গ্লাস পানিতে পরিমিত পরিমাণে আমলকির রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ যোগ করা এড়িয়ে চলা উচিত। আমলকি খাওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলমূল ও শাকসবজি রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
পানীয়ের পাশাপাশি যা জরুরি
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু সকালে একটি নির্দিষ্ট পানীয় পান করার ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ মাপা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, কোনো ঘরোয়া পানীয়ই উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প নয়। রক্তচাপ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে এসব পানীয় বেছে নেওয়া যেতে পারে, তবে সবার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব এক রকম নাও হতে পারে।