ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে।  বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী—এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সকালে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়তে থাকে। সাধারণ ভোটাররা নির্বিঘ্নে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চলতি বছরেই দুবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে খুশি স্থানীয় ভোটাররা।


সকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে ভোট দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেক উৎসাহও দেখা যাচ্ছে।


অন্যদিকে, ঠাকুরগাঁও আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। তিনি নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। একাধিক অভিযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রশাসন নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন।


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। পাঁচটি দলের পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই। অন্যদিকে, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন। এ ছাড়া অন্যান্য দলের আরও তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।


উপনির্বাচন ঘিরে ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিস সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৩ জন আনসার সদস্য ও সাতজন পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া আনসার ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এসআরবি সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।


দেশের একমাত্র ঠাকুরগাঁও-১ আসনে এ উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় সারা দেশের মানুষের নজর রয়েছে এ নির্বাচনের দিকে। এ কারণে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবারই প্রথম ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দুটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।


শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর ছিল শহর ও গ্রামাঞ্চল। ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ভোটের হিসাব কোন দিকে যায়, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।


স্থানীয় ভোটাররা জানান, নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠু রয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হবে। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে পেরে ভালো লাগছে ।


ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে বডি ক্যামেরার মাধ্যমে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। ভোটারদের উপস্থিতি ও উৎসাহও বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে।





  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৪ পিএম

ঐতিহাসিক বড় মাঠ দ্রুত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিনাজপুর। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অজুহাতে দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকা ঐতিহ্যবাহী এই মাঠ ফিরে পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। 


আন্দোলনকারীদের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাঠটি খুলে দেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি হিসেবে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।


গতকাল বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে ‘বড় মাঠ রক্ষা কমিটি’। এতে বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন, খেলোয়াড়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন, রাজনৈতিক দল, আইনজীবী, ছাত্র-ছাত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিক্ষুব্ধ জনতা পরে শহরের পৌরসভা-সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।


বড় মাঠ রক্ষা কমিটির কার্যকরী আহ্বায়ক গোলাম নবী দুলালের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি খালেকুজ্জামান বাবু, সহসভাপতি আখতারুজ্জামান জুয়েল, অধ্যাপক আব্দুল জলিল, রেজাউর রহমান রিজু, অ্যাডভোকেট মেহেরুল ইসলাম, পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন লাবু, মেহেরুল্লাহ বাদল, ডাক্তার শহীদুল্লাহ প্রমুখ।


বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলের অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী এই মাঠে বিভিন্ন জাতীয় টুর্নামেন্ট, খেলাধুলা, এশিয়ার বৃহত্তম ঈদের জামাত (গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন), বাণিজ্য মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ ও ধর্মীয় ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রতিদিন সকাল-বিকাল সাধারণ মানুষ ও ডায়াবেটিস রোগীরা এখানে হাঁটাচলা ও নির্মল বিনোদনের সুযোগ পান। কিন্তু দীর্ঘ এক বছর ধরে এ মাঠে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় যুবসমাজ খেলাধুলা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবিতে বিভিন্ন সময়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়াসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত মাঠটি উন্মুক্ত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।


কমিটির সদস্য সচিব রেহাতুল ইসলাম খোকা বলেন, ‘এই মাঠ দিনাজপুরের প্রাণ এবং অসংখ্য খেলোয়াড় তৈরির আঁতুড়ঘর। এখন লেখাধুলা বন্ধ। মাঠটি উন্মুক্ত করার দাবিতে আমরা দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দাবি না মানলে কঠোর কর্মসূচি নেওয়া হবে।’ 


আহ্বায়ক গোলাম নবী দুলাল হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘খেলার জন্য উপযুক্ত বিকল্প কোনো মাঠ না থাকায় আমাদের তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের মুখে পড়ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মাঠ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত না করলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’


সার্বিক বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ মাঠে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প করেছিল। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে মাঠ ব্যবহারের দাবিতে স্থানীয়রা এর আগেও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন, আজও করেছেন। আন্দোলনকারীদের এই যৌক্তিক দাবি ও স্মারকলিপি আমরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। 



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৩৮ পিএম

মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই নদী ও সাগরে ইলিশ শিকারে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন জেলেরা। এ কারণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর তীর এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে পল্লিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। জাল ও ট্রলার মেরামতসহ নদী-সাগরে নামতে জ্বালানি ও খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। 


প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশের বংশবিস্তার নির্বিঘ্ন রাখতে ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে দেশের নদী ও সাগরে ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চর খোন্দকার ও পূর্ব চর চান্দিয়া এলাকার জেলেপাড়াগুলোতে গতকাল বুধবার সকালে ঘুরে দেখা গেছে, জেলেরা বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার পাশের খোলা জায়গায় বসে জাল মেরামত করছেন। কেউ জাল গুছিয়ে রাখছেন, আবার কেউ নৌকা মেরামত শেষে নদীতে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


স্থানীয় জেলে হারাধন জল দাস বলেন, ‘২২ দিন খুব কষ্টে কেটেছে। আমরা তো মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ পারি না। নদীতে মাছ ধরে আমাদের সংসার চলে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে যেন নদীতে নামতে পারি, সে জন্য সবকিছু প্রস্তুত করে রাখছি।’


চর খোন্দকার এলাকার ট্রলারমালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘অন্য সময়ের তুলনায় এবার সাগর ও নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ কম ধরা পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাগরে ট্রলার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলেরাও ইতোমধ্যে ঘাটে এসে ট্রলারে অপেক্ষা করছেন।’


দীর্ঘদিন মাছ ধরতে না পারায় ঋণের কিস্তি, সংসারের খরচ ও নৌকা-জালের দেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক জেলে। নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি খাদ্য সহায়তার বরাদ্দ থাকলেও অনেকে চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় তাদের পরিবারগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে।


এদিকে প্রজনন মৌসুম শেষে ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশের নদনদীতে জাটকা আহরণে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ২৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের ইলিশকে জাটকা বলা হয়। এ সময় জাটকা ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে বড় আকারের ইলিশ ও অন্যান্য মাছ ধরার ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও জেলেরা আশা করছেন, গতবারের তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।


সোনাগাজী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তাছলিমা আকতার বলেন, ‘এবার নিষেধাজ্ঞা আগের তুলনায় অনেক বেশি সফল হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সাধারণ মানুষ ও জেলেদের সহযোগিতায় এটি সম্ভব হয়েছে। সাধারণ জেলেরা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ব্যাপারে আন্তরিক ছিলেন। আশা করি, ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে।’


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও জেলেদের সচেতন করা হয়েছে।


‘চা খাওয়ার টাকা দিলেও তো খুশি হতাম’

যুবদল নেতা-মৎস্য কর্মকর্তার কথোপকথন


উপজেলা যুবদল সচিব সচিব হাফেজ আবদুর রহিম ও সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৬ এএম

ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে টাকা লেনদেনের বিনিময়ে মেঘনায় মাছ শিকারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার বিরুদ্ধে।


এ ঘটনায় মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আবদুর রহিমের সঙ্গে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখার কথোপকথনের একটি কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপি নেতারা।


বুধবার সকাল থেকে মেঘনায় মাছ শিকারে টাকা লেনদেনের অডিও রেকর্ডটি ভাইরাল হয়।


উপজেলা বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছালাউদ্দিন প্রিন্স লেনদেনের অডিও রেকর্ডটি পোস্ট করে লেখেন- ‘এই হলো গরিবের পেটে লাথি মারার অবরোধ, সবকিছু ভাগবাটোয়ারার খেলা।’


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খোদ উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা সাগরে মাছ ধরার দুই শতাধিক ট্রলারের প্রত্যেকটি থেকে ২৫-৩০ হাজার টাকা নিয়ে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ ধরার অঘোষিত অনুমোদন দেন। পরে এই টাকা তিন ভাগ করে সবার কাছে পৌঁছে দেন অডিও ভাইরাল হওয়া মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল নেতা।



এ বিষয়ে অভিযুক্ত মৎস্য ব্যবসায়ী ও যুবদল সচিব সচিব হাফেজ আবদুর রহিমের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মোল্লা জানান, বিষয়টি শুনেছি। সত্যতা নিশ্চিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা জানান, এটি অনেক আগের রেকর্ড। এরপর তিনি অফিসে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।


নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, বিষয়টি নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, বিষয়টি শুনেছি, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



ভারতীয় নাগরিক অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় নাগরিক অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগরতলা থেকে উড়োজাহাজে কলকাতায় যাচ্ছিলেন অঞ্জনা ভৌমিক। যাত্রাপথে বিমানের দরজায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।


এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে দুই ক্রু সদস্য, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন ছিলেন। অবতরণের পর রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে মৃত ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা নিকটাত্মীয়ের পাসপোর্ট না থাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার দুপুরে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


নিহত অঞ্জনা ভৌমিক ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ জেলার আজেরা এলাকার বাসিন্দা। মরদেহের সঙ্গে তার বোন শান্তা ভৌমিকও ছিলেন। 


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা। নামজারি থেকে শুরু করে শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধাপে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।


আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এ-সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম।


অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা হলেন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। আবু সোয়েব বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।


হয়রানির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়।


এ ছাড়া নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


সেবাপ্রার্থীদের দাবি, ভূমিসেবা পেতে অনেকে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “আমি ওইখানে যাই সপ্তাহে দুই-এক দিন। এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করে দেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো দেখে কাগজপত্র যাচাই করে আমি রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।”


অন্যদিকে, অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো ঘুষ গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে, কোনো ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নাই।”


তবে ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুকে তাঁর কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর। এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, “বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় নলকূপ বসাতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলার ঘটনায় নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি-বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা।


আজ বুধবার বিকালে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেছেন, গ্যাসের প্রবাহ শুধু নলকূপের গর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।


এদিকে আগুনের সংস্পর্শে আসায় বিদ্যুতের একটি ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই লাইনের মাধ্যমে কক্সবাজারের উখিয়ার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিকল্প হিসেবে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।


গতকাল মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আগুন নেভানো যায়নি।


বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের প্রবাহ নলকূপের গর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে।


তিনি বলেন, “আমরা শিলার নমুনা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই।”


আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বের হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছেন তারা।


এর আগে বাপেক্সের এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ভূগর্ভে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি বুঝতে নমুনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস এবং মজুদের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।


গ্যাসের প্রবাহ একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত


গ্যাসের আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগুনের সংস্পর্শে এসে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাইজার নূর।


তিনি বলেন, ওই লাইন দিয়ে পাটোয়ার টেক উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ যায়। সেখান থেকে পাটোয়ার টেক, ছোট ইনানী, শফির বিল, বালিয়াডাঙ্গী, মনখালী ও শ্যামলাপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।


কাইজার নূর বলেন, আগুনের কারণে সঞ্চালন লাইনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিপরীত দিক থেকে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “আমরা সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করেছি। আজকের মধ্যে নতুন লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”


তবে আগুনের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের যন্ত্রপাতির সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগুনের সংস্পর্শে থাকায় বিদ্যুতের লাইনটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।


১৫ দিন আগে বসানো হয়েছিল নলকূপ


জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে তার বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল। তবে নলকূপ বসানোর পরও পানি পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পরে সেখান থেকে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সকালে ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং আগুন জ্বলে ওঠে।


আব্দুল্লাহ বলেন, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।