সালমান শাহ
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৩০ অগাস্টের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল মঙ্গলবার। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম।
এ মামলায় গত ৯ অগাস্ট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে খল চরিত্রের অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পেয়েছিল সিআইডি পুলিশ। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
গেল বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। সেই সময় চলচ্চিত্র জগতে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে। ছেলের মৃত্যুর পর অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছিলেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগটি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি বলেছিল, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।
সিআইডির সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ মামলাটি র্যাবকে আর তদন্ত না করার আদেশ দেন। তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের তরফে কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে; তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে রমনা মডেল থানাকে হত্যা মামলার নির্দেশ দেয়।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
তারাসহ অচেনা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করে বলে এজাহারে বলা হয়েছে। মামলার তদন্তভার শুরুতে রমনা থানা পুলিশের থাকলেও পরে সেই দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়।
শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় অভিনেত্রী তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়িয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন বর্ধিত করার আবেদন করেন তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আদেশ দেন। পরে আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ গঠনের শুনানিও পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে নতুন তারিখ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সকাল পৌনে ১২টার দিকে আদালতে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছুক্ষণ পর মামলাটির শুনানি শুরু হলে তিনি প্রথমে বেঞ্চের সামনে বসেছিলেন। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী তাকে কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর কথা বলেন। এরপর কাঠগড়ায় গিয়ে দাঁড়ান অভিনেত্রী।
তিশার পক্ষে আইনজীবী খোরশেদ আলম জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করে বলেন, তার মক্কেল আগেও আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
এ সময় আসামিপক্ষ থেকে তিশাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। আইনজীবী বলেন, তাকে অপমান করার উদ্দেশেই এভাবে দাঁড় করানো হয়েছে। জবাবে বিচারক বলেন, তিনি যেহেতু আসামি, তাই এ বিষয়ে কথা না বলাই ভালো।
শুনানির একপর্যায়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী জহিরুল হাসান মুকুল তানজিন তিশার বিরুদ্ধে জামিনের শর্তের অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, জামিনে থাকার সময় তিশা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ভেরিফায়েড পেজ থেকে আইনজীবী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
তখন বিচারক অভিযোগটি লিখিত পিটিশন আকারে দাখিল করতে বলেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মামলার অভিযোগ গঠনের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেওয়ার কথা জানান।
অন্যদিকে তিশার আইনজীবী খোরশেদ আলম বলেন, মামলাটি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার মতো যথেষ্ট ভিত্তি রয়েছে। এ বিষয়ে শুনানির জন্য সময় দেওয়ার আবেদন করেন তিনি।
পরে আদালত তানজিন তিশার জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার আসামিপক্ষের আবেদনও গ্রহণ করেন।
এদিকে আদালতে শুনানি শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের মামলাটিকে ‘মিথ্যা’ দাবি করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। তানজিন তিশা বলেন, ভক্ত ও বিভিন্ন অনলাইন পেজ থেকে তিনি প্রায়ই উপহার পান। উপহার পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্টোরিও দেন। এই শাড়িটির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, তিনি শাড়িটি কিনতে চেয়েছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী তাকে ফোন করে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়ার অনুরোধ করেন। পরিচিত এক বড় বোনের মাধ্যমে তাদের মধ্যে প্রায় ২০ মিনিট কথা হয়। পরে সুসম্পর্কের জায়গা থেকেই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার কথা জানান তিনি। তিশা বলেন, ‘সোলজার’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকায় শাড়িটি পরে ছবি দিতে কিছুটা সময় লেগেছে। তবে এর জন্য ব্লাউজ বানিয়ে রেখেছিলেন এবং এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাড়িটি নিয়ে স্টোরিও দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা না বলে হঠাৎ সংবাদমাধ্যমে তাকে ২৮ হাজার টাকার শাড়ি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এতে তার সম্মানহানি ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন এই অভিনেত্রী।
তিশা আরও বলেন, তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটায় বিষয়টি নিয়ে তার সন্দেহ তৈরি হয়েছে। এর পেছনে চলচ্চিত্র অঙ্গনের কোনো বিরোধ বা কারও প্ররোচনা রয়েছে কি না, সেটিও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
এ সময় সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিশা। একই শাড়ি নিয়ে অন্য একজনকে দিয়ে আরেকটি মামলা করানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিষয়টি একটি ‘সিন্ডিকেটের’ মতো মনে হচ্ছে। তিশা বলেন, কেউ নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করুক এটি তিনি সমর্থন করেন না। সাধারণ নাগরিক হিসেবেও ক্ষমতার অপব্যবহার দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের পরিস্থিতি তিনি আইনিভাবেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান।
নিজের অবস্থান তুলে ধরে তানজিন তিশা বলেন, তার কাছে প্রকৃত ক্ষমতা হলো দর্শক ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা। মামলাটির বিষয়ে আদালতের কাছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করেন বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করেন অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’র প্রশাসক আমিনুল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়, পেজটি থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নেওয়ার পর সেটির প্রচারণা ও মূল্য পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করে।
মামলার পর বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ১২ জুলাই তা আমলে নিয়ে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
এরপর গত ১৩ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিশা। পরে মামলাটি পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে পাঠানো হয়।
তবে মামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি প্রতারণা করেননি।
মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’
আসন্ন ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের (অস্কার) ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম’ বিভাগে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। আজ রোববার সকাল ১০টায় ঢাকার একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেমাটির নাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) উদ্যোগে গঠিত অস্কার বাংলাদেশ কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত সিনেমার নাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের সভাপতি ও অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশের সিনেমা পাঠানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬। এর মধ্যে মোট পাঁচটি সিনেমা জমা পড়ে।
সিনেমাগুলো হলো রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।
পরবর্তীতে ‘মানুষের বাগান’ সিনেমাটি স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। বাকি চারটি সিনেমার মধ্য থেকে সিলেকশন কমিটির সদস্যদের দীর্ঘ বিশ্লেষণ ও সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ‘রইদ’কে অস্কারে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
ছয় সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন ড. জহিরুল ইসলাম। কমিটির সদস্যরা হলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।
‘রইদ’ মূলত সাধু ও তাঁর স্ত্রী পাগলির সম্পর্কের সরল অথচ গভীর আখ্যান। প্রেম ও নীরবতার মধ্য দিয়ে মানবজীবনের চিরন্তন এক আদিম প্রেমের গল্প তুলে ধরা হয়েছে সিনেমাটিতে। সিদ্দিক আহমেদ, মেজবাউর রহমান সুমন, জাহিদ ফারুক ও শুকর্ণ শাহেদ ধীমানের চিত্রনাট্যে নির্মিত ছবিটির গুরুত্বপূর্ণ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি।
নির্বাচিত সিনেমার নির্মাতা, প্রযোজক, শিল্পী ও কলাকুশলীদের অভিনন্দন জানিয়েছে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেছে, ‘রইদ’ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হবে।
অভিনেত্রী ইধিকা পাল
কলকাতার অভিনেতা দীপক অধিকারী দেবের সঙ্গে একের পর এক সিনেমায় জুটি বেঁধে ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী ইধিকা পাল। এবার ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির আরেক নায়কের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন তিনি।
কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার জানিয়েছে, পরিচালক পথিকৃৎ বসুর আগামী সিনেমায় জিতের বিপরীতে ইধিকাকে দেখা যেতে পারে। সিনেমাটি এসকে মুভিজের প্রযোজনায় তৈরি হওয়ার কথা রয়েছে।
যদিও এই সিনেমার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রযোজনা সংস্থার তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। জিৎ বা ইধিকাও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
কিছুদিন হল পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘কুইন ভিক্টোরিয়া এবং গোয়েন্দা কাণাইচরণ’ সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন ইধিকা। এর মধ্যে ‘কুইন ভিক্টোরিয়া এবং গোয়েন্দা কাণাইচরণ’ সিনেমায় যিশু সেনগুপ্ত অভিনয় করেছেন।
ইধিকা পাল বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও বেশ পরিচিত। কয়েকবছর আগে মুক্তি পাওয়া ‘প্রিয়তমা’ ও ‘বরবাদ’ সিনেমায় ঢাকাই চলচ্চিত্রের সুপারস্টার শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন ইধিকা।
দুইটি সিনেমাই বেশ 'জনপ্রিয়' হয়।
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী
ফেসবুকে প্রায়ই ট্রলের শিকার হন নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ওমর সানী। তাঁকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও ট্রল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়। তবে এসব নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন এই অভিনেতা।
তিনি জানালেন, জীবনে এমন কোনো কাজ তিনি করেননি, যা নিয়ে তাঁকে ট্রল করা যায়। বরং তাঁর সরাসরি ও প্রতিবাদী স্বভাবকেই অনেকে নিজেদের মতো করে ট্রলের বিষয় বানিয়ে ফেলেন।
সম্প্রতি দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওমর সানী বলেন, ‘আসলে আমাকে নিয়ে ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমি আমার জীবনেও করিনি। হয়তোবা আমার কর্মকাণ্ডকে ট্রলের মতো করে ওরা নিজেরাই তৈরি করে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কতগুলো ফালতু লোক আছে, যাদের অনেকে বট বাহিনীও বলে- যারা ট্রলের মতো করে। কিন্তু ট্রল হওয়ার মতো কোনো কাজ আমার নেই।’
কথা প্রসঙ্গে নিজের স্বভাবের কথা উল্লেখ ওমর সানী বলেন, ‘আমার একটাই জিনিস হচ্ছে, আমি একটু প্রতিবাদী। আমি সরাসরি কথা বলতে পছন্দ করি। এই সরাসরি কথা বলাটা অনেকের ভালো লাগে না। যাদের আঁতে ঘা লাগে, তারা এসব ছড়ায়। এসবে তাই পাত্তা দিই না। যারা এসব করে, তারা ফালতু লোক।’
এ সময় নিজের ব্যবহৃত একটি ঘড়ির প্রসঙ্গও টানেন ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘অনেকেই বাংলাদেশে বলছে, “ভাই, আমার ঘড়িটা দেখছেন? এই ঘড়িটা কিন্তু প্রায় ২৯ লাখ টাকার।” আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনটা দেখেছি। আমার হাতেও একটা ঘড়ি আছে। হয়তো আমি ওমর সানীকে এই ঘড়ি পরতে দেখে অনেকের কাছে খুব দামি মনে হচ্ছে। আসলে এটার দাম অত না, এটা মাত্র ১১০০ টাকা।’
ওমর সানীর মতে, নিজের সামর্থ্য বা সম্পদ নিয়ে তিনি কখনো ফুটানি করেন না। তিনি বললেন, ‘আমি এটা প্রাউডলি বলতে পারি, কোনো দিন কোনো কিছুতে আলগা বাহাদুরি করিনি। আমার মার্সিডিজ থাকার পরও আমি ফুটানি করি না। এটা নিয়ে বড় করে কথা বলার কিছু নেই।’
কোনো পোস্ট বা মন্তব্যের জেরে কখনো নিজের পোস্ট মুছে ফেলেছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ‘না, এ রকম কখনো মনে হয়নি। কারণ, আমি পোস্ট কখনো ডিলিট করার মতো করিনি। একবার হয়তোবা করেছিলাম কিংবা দুবার করেছিলাম। কিন্তু আমি কাউকে ছোট করে কখনো পোস্ট করিনি। কেউ এমনটা দেখাতেও পারবে না।’
শিল্পীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলা প্রসঙ্গে ওমর সানীকে প্রশ্ন করা হয়। তিনি বলেন, ‘যারা যারা শিল্পী, তারা তো কমই কথা বলে। আর যারা কোনো শিল্পীই নয়, ওরাই বেশি কথা বলে।’
রেখার সঙ্গে চুম্বনে বিতর্ক
১৯৭৯ সালের হিট সিনেমা ‘দো শিকারি’-তে অভিনেত্রী রেখার সঙ্গে প্রবীণ অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের চুম্বন দৃশ্য একসময় ভারতীয় বিনোদন অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল।
সেই সময় মূলধারার সিনেমায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যকে বেশ সংবেদনশীল ও দুঃসাহসী বিষয় হিসেবে দেখা হতো। দৃশ্যটি নিয়ে তৈরি হয়েছিল তুমুল বিতর্ক। কয়েক দশক পর সেই ঘটনা নিয়ে সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের কাছে স্মৃতিচারণ করেছেন বিশ্বজিৎ।
বর্তমান সময়ের সিনেমার সঙ্গে তুলনা করে বিশ্বজিৎ বলেন, এখনকার প্রেক্ষাপটে ওই দৃশ্যকে আর তেমন বড় বিষয় মনে হয় না। তাঁর কথায়, ‘আজকের যুগে দাঁড়িয়ে ওই ঘটনার আর কোনো বিশেষ অর্থই নেই। এখন পর্দায় চুমু খাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আজকাল সিনেমায় বেডরুমের যে ধরনের দৃশ্য দেখানো হয়, সেগুলো দেখলে আমি নিজেই অবাক হয়ে যাই।’
তবে তার মতে, সিনেমার ইতিহাস ও দীর্ঘ যাত্রায় বিতর্ক একটি স্বাভাবিক বিষয়। সময়ের সঙ্গে এসব বিতর্কও একসময় থিতিয়ে যায়।
ওই চুম্বন দৃশ্য নিয়ে এত আলোচনা হলেও রেখার সঙ্গে তার পেশাগত সম্পর্কে কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানান বিশ্বজিৎ। পরবর্তীতে তাদের দেখা হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের দেখা হয়েছে এবং সম্পর্কও স্বাভাবিক ছিল।
শুধু তা-ই নয়, বিশ্বজিৎ যখন প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে সিনেমা নির্মাণ করেছেন, তখন তার ছবিতেও অভিনয় করেছেন রেখা।
এ প্রসঙ্গে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘সেই ঘটনার পর রেখা আমার চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন। আমি নিজে প্রযোজক ও পরিচালক হিসেবে তাঁর সঙ্গে কথা বলি এবং তিনি আমার সিনেমায় অভিনয় করেন।’
কয়েক দশক ধরে বিনোদন অঙ্গনে কাজ করলেও সিনেমার প্রতি তার আগ্রহ এখনো অটুট। নিয়মিত প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে নতুন সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন এই অভিনেতা। ‘অ্যানিম্যাল’, ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’, ‘আরআরআর’ ও ‘বাহুবলী’র মতো বড় বাজেটের সিনেমাও সম্প্রতি বড় পর্দায় দেখেছেন তিনি।
নিজের সিনেমাপ্রেমের কথা জানিয়ে বিশ্বজিৎ বলেন, ‘আমার একটাই নেশা- সিনেমা দেখা, আর সেটা সিনেমা হলে গিয়েই দেখা। সিনেমা থেকে এখনও শেখার ইচ্ছে আমার রয়েছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দো শিকারি’ সিনেমায় রেখা ও বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিনোদ খান্না ও আমজাদ খান।
সূত্র: দ্য ওয়াল
‘দার–ই–নাজাত’–এর দৃশ্য
পাকিস্তানের আলোচিত নাটক ‘দার–ই–নাজাত’ নিয়ে দর্শকদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। বিশেষ করে জারিয়াব ও আবু বকরের একটি দৃশ্য নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। নাটকে জারিয়াব চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুরেফিশান সেলিম।
যে দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক
নাটকের ১৪ ও ১৫তম পর্বে জারিয়াবকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে দেখা যায়। দীর্ঘদিনের প্রেমিক ও শৈশবের বন্ধু জামিলের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর উদ্বেগ ও বিষণ্নতায় ভুগছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে জারিয়াবের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন আবু বকর। দৃশ্যটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করেন দর্শকেরা।
তাঁদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, জারিয়াবের একজন পুরুষের সাহায্যের চেয়ে মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। আবার কেউ মনে করেন, নারীর কষ্ট থেকে মুক্তির সঙ্গে নাটকটিতে একজন পুরুষের উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুরেফিশানের জবাব
গত রোববার ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে এ সমালোচনার জবাব দেন দুরেফিশান। তাঁর মতে, ‘দার–ই–নাজাত’ নারীদের এমন কোনো বার্তা দিচ্ছে না যে কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসতে তাঁদের একজন পুরুষের প্রয়োজন; বরং নারী ও পুরুষের জন্য সমাজের আলাদা নিয়মকেই প্রশ্ন করছে নাটকটি।
দুরেফিশান বলেন, একজন পুরুষ ভুল করার পর অনুতপ্ত হয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করার সুযোগ পান। কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে তাঁদের পুরোনো সিদ্ধান্তের দায় অনেক বেশি দিন বহন করতে হয়।
দুরেফিশানের আরও বক্তব্য, কোনো চরিত্রের সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে দর্শকের একমত হওয়া জরুরি নয়। চরিত্রটির অনুভূতি বোঝার চেষ্টাও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, মানুষ জটিল; সবকিছুকে শুধু ঠিক–ভুলের হিসাবেও দেখা যায় না।
জামিল ও জারিয়াবের গল্প
দুরেফিশানের বক্তব্যে উঠে এসেছে জারিয়াব ও জামিলের জীবনের পার্থক্যও। ধর্মের পথে ফেরার পর জামিল জারিয়াবের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। পরে তিনি বিয়ে করেন এবং নতুন জীবন শুরু করার পথে এগিয়ে যান।
অন্যদিকে জারিয়াব নিজের অতীত নিয়ে অপরাধবোধে ভুগতে থাকেন। বিয়ের আগে জামিলের সঙ্গে সম্পর্কে থাকার বিষয়টি তাঁকে কষ্ট দেয়। ফলে নতুনভাবে জীবন শুরু করার কথাও সহজে ভাবতে পারেন না তিনি।
দুরেফিশানের মতে, এখানেই নাটকের মূল প্রশ্ন—ভুল করার পর একজন পুরুষ যে সহজে নতুন জীবন শুরু করার সুযোগ পান, একজন নারীও কি একই সুযোগ পান?
‘নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প’
ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে দুরেফিশান এমন একটি পোস্টও শেয়ার করেছেন, যেখানে ‘দার–ই–নাজাত’কে একজন নারীর নিজেকে খুঁজে পাওয়ার গল্প হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পোস্টটি শেয়ার করে তিনি লেখেন, ‘কখনো কখনো নিজেকে খুঁজে পাওয়াটাই হতে পারে সেই ভালোবাসার গল্প, যেটি আপনার সব সময় প্রয়োজন ছিল।’
দুরেফিশানের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘দার–ই–নাজাত’কে শুধু হৃদয়ভাঙার পর একজন নারীর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প হিসেবে দেখলে নাটকটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বাদ পড়ে যায়।