নাজমি জান্নাত। ছবি : ফেসবুক।
শোবিজ দুনিয়ার চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার দিক নিয়ে মাঝেমধ্যেই সরব হন তারকারা। এবার সেই অন্ধকারের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন মডেল নাজমি জান্নাত। তবে এবার ভুক্তভোগী তিনি নন, বরং তার ছোট ভাই ও মডেল মাহমুদুল হাসান। দেশের এক নামকরা কোরিওগ্রাফারের বিরুদ্ধে ছোট ভাইকে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন নাজমি। ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জানান, একটি ফটোশুটের সময় চেঞ্জিং রুমে তার ভাইয়ের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনায় নাজমি জানান, তার ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান সম্প্রতি ওই নামী কোরিওগ্রাফারের সঙ্গে কাজ করতে গিয়েছিলেন। শুরুতে ভালো ব্যবহার করলেও দুটি শুটের পর তাকে আলাদা করে চেঞ্জিং রুমে ডাকা হয়। সেখানে কাজের অজুহাতে সীমা ছাড়িয়ে ওই কোরিওগ্রাফার বলেন, ‘একটু ধরতে পারি? মাপ নিতে দিবা?’ নাজমি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই যখন এই অশালীন প্রস্তাবে ‘না’ করে দেন, তখন তাকে বলা হয়— ‘তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না’ এবং শুট থেকে বের করে দেওয়া হয়। অভিযুক্তের নাম প্রকাশ না করলেও নাজমি ইঙ্গিত দিয়েছেন, নাম বললে সবাই তাকে চিনবে; কারণ ওই ব্যক্তির নাম, পরিচিতি ও ক্ষমতা সবই আছে।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাজমি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘আমি বহু বছর ধরে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। আজও মানুষ বলে, তোমার তো এতদিনে অনেক দূরে থাকার কথা ছিল। কিন্তু আমি পৌঁছাইনি—কারণ আমি নিজের সম্মানকে শর্টকাট বানাইনি। আমি কম্প্রোমাইজ করিনি।’ তিনি জানান, একজন মেয়ে হিসেবে অনেক কিছু তিনি মুখ বুজে সহ্য করেছেন, কিন্তু যখন দেখলেন তার ভাইয়ের ক্ষেত্রেও একই নোংরামি ঘটছে, তখন আর চুপ থাকতে পারেননি।
শোবিজের এই ‘অসুস্থ অভ্যাস’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাজমি বলেন, ‘আজ প্রশ্ন একটাই—এটা কবে থামবে? কবে ট্যালেন্ট যথেষ্ট হবে? কবে ‘না’ বলাটা চরিত্রের শক্তি হিসেবে দেখা হবে, শাস্তি হিসেবে না? আর যদি এই ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে হলে সম্মান ছাড়তে হয়—তাহলে এই ইন্ডাস্ট্রিরই লজ্জা পাওয়া উচিত।’ তবে সব শেষে তিনি এও মনে করিয়ে দেন, কিছু ভালো মানুষের জন্য তারা আজ এতটুকু আসতে পেরেছেন, কিন্তু গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
তানিশা মুখোপাধ্যায়
বলিউড তারকা কাজলের বোন অভিনেত্রী তানিশা মুখোপাধ্যায় মাঝেমধ্যে সমাজ ও নানা বিষয় নিয়ে নিজের মতামত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন। এবার বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তানিশার দাবি, এমন নারীরা নারীবাদী হতে পারেন না। বরং তারা অন্য নারীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। এমনকি জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো নারীদের ‘অশুভ’ ও ‘ক্ষতিকর’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানিশা লেখেন, ‘বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে যে নারীরা সম্পর্কে জড়ান, তারা নারীবাদী নন। বরং তারা নারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। কারণ, অন্য এক নারীর স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানো মানে একজন মহিলাকেই অসম্মান করা।’
তবে এমন সম্পর্কে বিবাহিত পুরুষটির দায় কতটা—সেটিও নিজের বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন তানিশা। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই সেই পুরুষও সমানভাবে দায়ী। তার চরিত্রও ভালো নয়। আর যে নারীরা জেনেশুনে বিবাহিত পুরুষের পেছনে ছুটে বেড়ান, তাঁরা অশুভ ও ক্ষতিকর। আমাদের সন্তানদের কাছে তাঁদের আদর্শ হিসেবে তুলে ধরা উচিত নয়।’
তানিশার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন। একজন লিখেছেন, এ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষ—দুজনেই সমানভাবে দায়ী। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘ইচ্ছাকৃতভাবে কারও সংসার ভাঙেন যাঁরা, তাঁরা লিঙ্গনির্বিশেষে দায়ী হয়ে থাকেন।’
গত বছরও নারীবাদ নিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল তানিশাকে। তখন দেশের সংস্কৃতিতে নারীদের সম্মানের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ভারতীয় সংস্কৃতিতে নারীদের প্রতি শ্রদ্ধার মূল্যবোধ বরাবরই ছিল। তবে নানা কারণে সমাজে সেই মূল্যবোধের অবক্ষয় হয়েছে।
তানিশা মুখোপাধ্যায়ের অভিনয়জীবনের শুরু ২০০৩ সালে ‘শশশ…’ সিনেমার মাধ্যমে। ভৌতিক ঘরানার ওই ছবিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন কর্ণ নাথ ও ডিনো মোরিয়া। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায়নি। পরে ‘সরকার’, ‘নীল অ্যান্ড নিকি’সহ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস্’-এ অংশ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় আসেন তানিশা। ২০১৩ সালে ‘বিগ বস্’-এর সপ্তম মৌসুমে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি। ওই মৌসুমের বিজয়ী হন গওহর খান। সূত্র: আনন্দবাজার অনলাইন
অভিনেতা রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফ
বলিউড অভিনেতা রণবীর কাপুর ও অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সম্পর্কের শুরু ‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’ সিনেমার সেট থেকে। দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের সম্পর্কের পর ২০১৬ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। তাদের প্রেমের সেই গোপন দিনগুলোর নানা ঘটনা এখনো বলিউডপ্রেমীদের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবারও পুরোনো সেই স্মৃতি আলোচনায় এসেছে। গোপনে চলা সেই সম্পর্কের এক নাটকীয় ঘটনা সম্প্রতি স্মৃতিচারণ করেছেন এক সাংবাদিক।
কোনো একদিন ক্যাটরিনার বাড়ি থেকে গভীর রাতে বের হওয়ার সময় রণবীর সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছিলেন এবং পরে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সাংবাদিকদের ধাওয়া করে ক্যামেরা, ব্যাগ ও সরঞ্জাম কেড়ে নিয়েছিলেন।
ওই সাংবাদিক বলেন, অভিনেতা রণবীর কাপুর ও ক্যাটরিনার সম্পর্কের বিষয়টি যখন গোপন রাখার চেষ্টা চলছিল, ঠিক তখনই এক রাতে খবর আসে ক্যাটরিনার বাড়িতে যাচ্ছেন রণবীর কাপুর। খবর পেয়ে গভীর রাতে সেখানে ওঁৎ পেতে বসেন সাংবাদিকরা। রাত দেড়টার দিকে ক্যাটরিনার বাড়ি থেকে বের হন অভিনেতা।
সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে ক্যাপ দিয়ে মুখ ঢেকে দ্রুত সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা। হুট করেই আবার ফিরে আসেন রণবীর কাপুর।
এরপর সাংবাদিকদের গাড়ির দরজা খুলে ক্যামেরা, ব্যাগ ও সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের সরঞ্জাম নিয়ে নেন রণবীর কাপুর। তবে সাংবাদিকদের দৃঢ় অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত সেই সরঞ্জামগুলো ফেরত দিতে বাধ্য হন অভিনেতা।
ওই সাংবাদিক আরও বলেন, আরেকবার একটি শেষকৃত্য থেকে ফেরার সময়ও ক্যাটরিনার বাসায় রণবীরের গোপনে প্রবেশের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার চেষ্টা করেছিলেন তারা। সেবারও বেশ কৌশলে পরিস্থিতি সামলে নিয়েছিলেন অভিনেতা।
২০১৬ সালে এ তারকা জুটির সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়। এরপর দুজনেই নিজেদের জীবনে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। রণবীর কাপুর বিয়ে করেছেন অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে। অন্যদিকে ক্যাটরিনা কাইফ জীবনসঙ্গী করেছেন অভিনেতা ভিকি কৌশলকে।
সিডনি সুইনি
সিডনি সুইনি মানেই যেন আলোচনা। কখনও তাঁর পর্দায় নগ্ন দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক হয়, কখনও আবার বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সমালোচনার মুখে পড়েন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তার কথাও অস্বীকার করার উপায় নেই। ‘দ্য হাউসমেইড’ থেকে ‘ইউফোরিয়া’। গত এক বছরে দুটি আলোচিত প্রকল্পে অভিনয় করে নিজের জনপ্রিয়তা যেন আরও বাড়িয়েছেন এই তরুণ অভিনেত্রী। সম্প্রতি নতুন স্পোর্টস ট্রেডিং ও প্রেডিকশন অ্যাপ ‘নোভিগ’-এর বিজ্ঞাপনে প্রায় পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হন তিনি। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। বিজ্ঞাপনটির ধরন এবং সুইনিকে উপস্থাপনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে দেখা যায় বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জামের সঙ্গে। কোথাও বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকেছেন, কোথাও আবার হকি গোলপোস্ট, ফুটবল প্যাড, বেসবল ক্যাচারের হেলমেট কিংবা হকি গোলকিপারের মাস্ক ব্যবহার করেছেন।
বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকে সামাজিক মাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এখানে আসলে কী বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে?’ আবার কেউ বিজ্ঞাপনটিকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত আবেদনময় বলেও মন্তব্য করেছেন।
চলমান সমালোচনার মধ্যে ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে নতুন এ বিজ্ঞাপনটির কিছু ছবি শেয়ার করেন সুইনি। পরে সেরেনা উইলিয়ামস, রোন্ডা রাউসি, সু বার্ড, মেগান র্যাপিনো, রব গ্রঙ্কোস্কি ও জেসন কেলসির মতো তারকা খেলোয়াড়দের বিভিন্ন ফটোশুটের ছবিও প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর এসব পোস্টকে অনেকে বিজ্ঞাপন নিয়ে চলা সমালোচনার পরোক্ষ জবাব হিসেবে দেখছেন।
যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটি নিয়ে নিজের অবস্থান অবশ্য আগেই জানিয়েছেন সুইনি।
‘নোভিগ’-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এই প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল একটি মজার ধারণাকে সামনে আনা। ধারণাটি খুব সহজ। সব ধরনের কোলাহল সরিয়ে পুরো মনোযোগ ক্রীড়ার দিকে দেওয়া।’
সুইনি আরও জানান, বিজ্ঞাপনটির সৃজনশীল পরিকল্পনার সঙ্গে শুরু থেকে তিনি যুক্ত ছিলেন। ‘নোভিগ’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জ্যাকব ফোর্টিনস্কিও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা অনুমান ও ভবিষ্যদ্বাণী করা হলে সুইনি অস্বস্তি বোধ করতেন।
অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করতে খুব একটা সময় লাগেনি দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর। তারপরও অন্যান্য তারকাদের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে ট্রলের শিকার হতে হয়েছে।
কিছুদিন আগে একটি জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছিলেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। কিন্তু স্বপ্নেও ভাবেননি সেই জুয়েলারি প্রদর্শনীতে পরিহিত তাঁর পোশাক নিয়ে নেটিজেনরা ট্রলে মেতে উঠবে। নেট দুনিয়ার বাসিন্দাদের এমন অচরণ সহজভাবে নিতে পারেননি অভিনেত্রী। তাই প্রশ্ন তুলেছেন ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে।
আজকাল, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসসহ ভারতের একাধিক সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে, তারকারা কোথায় কী করবেন, কী পোশাক পরবেন, কী খাবেন, কার সঙ্গে মিশবেন– এসব বিষয় সাধারণ দর্শক নির্ধারণ করে দেবেন বলে মনে করেন না ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী।
তাঁর কথায়, অভিনীত কাজের বাইরে অন্য কোনো বিষয় নিয়ে অহেতুক ট্রল করা হীন মানসিকতার পরিচয় তুলে ধরে। যারা এ কাজটি করেন, তারা বোঝার চেষ্টা করেন না, পর্দার বাইরেও শিল্পীদের আলাদা একটা জীবন আছে। তাই সাধারণ বিষয় নিয়ে ট্রল বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ঐশ্বরিয়া জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অস্বস্তির পোশাকটি নয়; বরং সেখানে উপস্থিত কিছু ফটোগ্রাফারদের আচরণ তাঁকে বিব্রত করেছিল। তাঁর কথায়, ক্যামেরার ফোকাস তাঁর মুখের পরিবর্তে তাঁর শরীরের দিকে ছিল, যা তাঁর ব্যক্তিগত সীমানার লঙ্ঘন ঘটিয়েছিল। নেটিজেনরা তাঁর অস্বস্তি লক্ষ্য করলেও আসল কারণ বুঝতে পারেননি বলে আক্ষেপ করেন তিনি।
ট্রলিংয়ের জবাব দিয়ে অভিনেত্রী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘সংস্কৃতি কি কেবল কোনো নারীর শরীর বা পোশাকের দৈর্ঘ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?’
তাঁর মতে, শালীনতা কেবল পোশাকে থাকে না, মানুষের আচরণেও তার প্রকাশ ঘটে। তিনি আরও যোগ করেন, দেশের জিডিপি কিংবা বয়স্ক বাবা-মাকে ফেলে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে কেন নারীর পোশাক নিয়ে এত দীর্ঘ আলোচনা হবে– তা সত্যিই ভাবনার বিষয়।
ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মীর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর বিনোদন জগতে মহিলাদের পোশাক ও নৈতিকতা নিয়ে সমাজের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বহু মানুষ অভিনেত্রীর এই সাহসী মনোভাবকে সমর্থনও জানিয়েছেন।
জুয়েলারি প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার ঘটনা ছাড়াও অভিনয়ে ক্যারিয়ার ট্রলে প্রভাব নিয়ে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী। তাঁর কথায়, ‘কুরুপ’-এর সাফল্যের পর দুই বছর বিরতি দিয়ে মুক্তি পেয়েছিল তাঁর ‘কিং অব কোঠা’ সিনেমাটি। সমালোচক ও ব্যবসায়িক উভয় দিক থেকেই এটি ব্যর্থ হয়। কেবল সিনেমা ফ্লপই হয়নি, এর কলাকুশলী বিশেষ করে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান ও তিনি ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। এই ট্রলিং একটাই প্রভাব ফেলেছিল যে, মালয়ালম সিনেমায় তাঁর কাজের সুযোগ কমে গিয়েছিল।
তিনি জানান, ওই ঘটনার পর নির্মাতারা তাঁকে অভিনয়ে নেওয়ার বিষয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন এবং ট্রলিংয়ের মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, দুলকারের সঙ্গে পুনরায় কাজ করার বিষয়েও তাঁর আত্মবিশ্বাস কমে গিয়েছিল। যে কারণে পরবর্তী সময়ে দুলকার সালমানের সঙ্গে একটি বিজ্ঞাপনে কাজ করার প্রস্তাব পেয়েও তা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
আশঙ্কা ছিল, তাদের জুটিকে নিয়ে মানুষ যদি আবারও ট্রল বা উপহাস শুরু করে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডটির ক্ষতি হতে পারে। তাই ঐশ্বরিয়া লক্ষ্মী মনে করেন, যে কোনো বিষয়ে সমালোচনা করতে হলে, তার পেছনে সঠিক যুক্তি থাকা উচিত।
ছবি : সংগৃহীত
নতুন ওয়েব ফিল্মে যুক্ত হয়েছেন ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমণি। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় নির্মিতব্য এই ওয়েব ফিল্মের নাম ‘সেপারেশন’। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এর শুটিং। এতে পরীমণির বিপরীতে অভিনয় করছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ।
বিশেষ একটি চরিত্রে দেখা যাবে চিত্রনায়ক নিরবকে। রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বর্তমানে ওয়েব ফিল্মটির শুটিং চলছে।
গতকাল রোববার নিজের ফেসবুক পেজে শুটিংয়ের একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন কাজটির খবর জানান পরীমণি। ছবিতে ‘বিসমিল্লাহ’ লেখার পাশাপাশি ‘সেপারেশন’ ও পরিচালক গিয়াস উদ্দিন সেলিমের নাম উল্লেখ করেছেন অভিনেত্রী।
গিয়াস উদ্দিন সেলিমের পরিচালনায় এর আগে ‘স্বপ্নজাল’ ও ‘গুণিন’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন পরীমণি। এবার এই নির্মাতার সঙ্গে ওয়েব ফিল্মে কাজ করছেন তিনি। তবে ‘সেপারেশন’-এ পরীমণির চরিত্র কিংবা গল্পের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ইমতিয়াজ বর্ষণের চরিত্র নিয়েও মুখ খোলেননি নির্মাতা বা সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, রাজধানীর ৩০০ ফিটসহ বিভিন্ন লোকেশনে পর্যায়ক্রমে ‘সেপারেশন’-এর শুটিং হবে।
ওয়েব ফিল্মটি মুক্তি পাবে আইস্ক্রিনে। তবে কবে নাগাদ ‘সেপারেশন’ দর্শকের সামনে আসবে, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
মারিয়া শান্ত, সারিকা সাবাহ ও সাদনিমা বিনতে নোমান
একই নাটকে এবার দেখা মিলতে যাচ্ছে এ সময়ের আলোচিত তিন তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্তর। যেখানে তুলে ধরা হচ্ছে এ তিন তারকার ভিন্ন রকম ভালোবাসার গল্প। নাটকের নাম ‘লাভ স্টোরিস’। ‘নীল সুখ’-এর পর আরও একবার ভালোবাসার গল্প পর্দায় তুলে ধরতে নাটকটি নির্মাণ করেছেন নন্দিত পরিচালক ভিকি জাহেদ।
এতে মারিয়া শান্তকে তিনি উপস্থাপন করেছেন তানিয়া নামের এক তরুণীর চরিত্রে। যে দমবন্ধকর জীবনে প্রতিনিয়ত কী যেন একটি সুর খুঁজে বেড়াচ্ছে। সাদনিমা বিনতে নোমানের অভিনীত রূপা চরিত্রটিতে দেখা যাবে জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে এ উপলদ্ধি করতে যে, সব আগন্তুক ভালোবাসা বয়ে আনে না, কারও আগমনে থাকে ভয়, কৌতূহল আর অজানা দুশ্চিন্তা।
অন্যদিকে সারিকা সাবাহর পর্দায় তুলে ধরা নাযাহ চরিত্রটির হাসিখুশি চেহারার পেছনে লুকিয়ে রাখা হয়েছে মন ভাঙার এক গল্প। এ তিনটি অভিনয়চরিত্র একেবারে নতুন বলে স্বীকার করেছেন মারিয়া, সাদনিমা ও সারিকা। তাদের কথায়, ভিকি জাহেদের কাজ অন্য সবার চেয়ে একেবারে আলাদা। ভালোবাসার গল্প নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁর বাছবিচারও চমকে দেওয়ার মতো। যে কারণে এ কাজটি নিয়ে তারা প্রচণ্ড আশাবাদী।
এ সময়ের আলোচিত তিনি তারকা সাদনিমা বিনতে নোমান, সারিকা সাবাহ ও মারিয়া শান্ত ছাড়াও ‘লাভ স্টোরিস’-এর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রান্তর দস্তিদার, সাদ নাওভী, ইয়ামিন প্রমুখ।
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের কথায়, যেকোনো কাহিনি ও চরিত্র উপস্থাপনে ভিকি জাহেদ বারবার নতুনত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। যদিও ডার্ক থ্রিলার, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আর রহস্যময় গল্প এই নির্মাতার নাটক, টেলিছবিতে প্রাধান্য পেয়ে আসছে। ‘চিহ্ন’, ‘শব্দপ্রেম’, ‘তিথিডোর’, ‘কুয়াশা’, ‘ইরিনা’, ‘বাঁচিবার হলো তার সাধ’, ‘কাজলের দিনরাত্রি’, ‘দ্বিতীয় সূচনা’, ‘সেদিন ছিল শুক্রবার’, ‘খোয়াবনামা’, ‘অন্ধ বালক’, ‘প্রাকৃতজন’, ‘কালো বরফ’, ‘চোখ’, ‘মাজনু’, ‘ছন্দপতন’, ‘লাভারস ফুডভ্যান’, ‘কায়কোবাদ’, ‘চরের মাস্টার’, ‘ভুলজন্ম’, ‘পুনর্জন্ম’, ‘জন্মদাগ’, ‘চিরকাল আজ’ থেকে শুরু করে এ নির্মাতার অন্য কাজগুলোর দিকে নজর দিলে তার প্রমাণ মেলে।
এবার সেই জায়গা থেকে একটু সরে এসে নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন ভিকি জাহেদ।
‘লাভ স্টোরিস’ নিয়ে নির্মাতাদের ভাষ্য, মহাকালের কাছে মানুষের সবচেয়ে বড় অহংকার তার প্রেম, আবার সবচেয়ে বড় পরাজয়ও তার প্রেম! নিয়তি আর অনুভূতির এক জটিল গোলকধাঁধায় পথ হারানোর এক গল্প নিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ভিন্নধাঁচের এ নাটকটি; যা দর্শকমনে দারুণভাবে ছাপ ফেলবে বলে আশা করছেন তারা। নাটকটি দর্শকের জন্য কে এস এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রযোজক মুহামাদ কামরুজ্জামান।