বিশ্বের শীর্ষ ধনী ১০ তরুণ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৮ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উদ্যোক্তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ব্যক্তিদের কাতারে উঠে আসছেন। বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লব এই তালিকার চিত্র বদলে দিচ্ছে। এআইয়ের জোয়ারে ভর করে এই তরুণ ধনীরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অভিজাত ধনীদের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন। গত বছর ৪০ বছরের কম বয়সী মাত্র ৪ জন বিলিয়নিয়ার ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এই তালিকায় স্থান পেতে যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হয়, সেই পরিমাণ সম্পদ ছিল মাত্র চারজনের। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেতে এবার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার। এ বছর সাতজন নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন সাতজনই এআই খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে উঠে এসেছেন।



ফোর্বস এ বছর সমীক্ষায় ৪০০-এর সবচেয়ে কম বয়সী ১০ সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে যা ছিল ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। এই পতনের প্রধান কারণ, কয়েকজন অতিধনী ব্যক্তি বয়সের কারণে এ বছর সবচেয়ে কম বয়সীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মেটার ৪২ বছর বয়সী সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ২১ হাজার ২০০ কোটি ডলার; ৪১ বছর বয়সী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী জশ কুশনার, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ৬৭ কোটি ডলার এবং ৪৩ বছর বয়সী এয়ারবিএনবির সহপ্রতিষ্ঠাতা নাথান ব্লেচারজিক, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ১৯ কোটি ডলার।


দেখে নেওয়া যাক, শীর্ষ ১০ তরুণ ধনীর তালিকায় কারা আছেন—


১. গ্রেগ ব্রকম্যান (৩৭)

স্নাতক শেষ না করেই হার্ভার্ড ও এমআইটি ছেড়েছিলেন গ্রেগ ব্রকম্যান। ২৫ বছর বয়সে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২৮ বছর বয়সে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন ব্রকম্যান। ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এআই মডেলগুলোর পশ্চাৎ অবকাঠামো দেখভাল করেন তিনি। জুলাই থেকে পণ্য ব্যবসার দায়িত্বও তাঁর হাতে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা।



২. এডউইন চেন (৩৮)

ফ্লোরিডার ৩ হাজার ৪০০ মানুষের ছোট এক শহরে বেড়ে ওঠেন এডউইন চেন। তাঁর তাইওয়ানিজ অভিবাসী মা–বাবা সেখানে এক চীনা-থাই রেস্তোরাঁ চালাতেন। পরবর্তী সময় এমআইটিতে গণিত, ভাষাবিজ্ঞান ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন চেন। গুগল, ফেসবুক ও টুইটারে কাজ করেছেন তিনি। ২০২০ সালে সার্জ এআই প্রতিষ্ঠা করেন চেন। প্রতিষ্ঠানটি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যের লেবেল তৈরি করে। পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি উত্তর মূল্যায়ন ও সংশোধন করে তারা। চেনের হাতে কোম্পানিটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মালিকানা আছে বলে ধারণা করা হয়।



৩. টম ব্রাউন (৩৯)

কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কগনিটিভ সায়েন্স নিয়ে এমআইটিতে পড়াশোনা করেন টম ব্রাউন। ওপেনএআইয়ের প্রথম ২০ কর্মীর একজন ছিলেন তিনি। ২০২০ সালে প্রকাশিত জিপিটি-৩ নিয়ে গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ছিলেন টম ব্রাউন। ওই ভাষা মডেল থেকেই প্রথম বোঝা যায়, এ ধরনের এআই কতটা সাবলীলভাবে লিখতে পারে। এরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জোয়ার শুরু হয়, যে জোয়ার এখনো চলছে। অ্যানথ্রোপিক থেকেই তাঁরা আরেক এআই মডেল ক্লড তৈরি করেন।



৪. ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই (৩৯)

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপে কাজ শুরু করেন ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই। পরে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন; দায়িত্বে ছিলেন নিরাপত্তা ও নীতি বিভাগের। ২০২১ সালে ভাই দারিও অ্যামোডেই ও পাঁচ সহকর্মীর সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়েন তিনি। তাঁরা অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যানিয়েলা অ্যানথ্রোপিকের প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন। গবেষণা, প্রকৌশল, পণ্য উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব তিনি দেখভাল করেন।




৫. জ্যাক ক্লার্ক (৩৭)

ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ব্লুমবার্গের সাংবাদিক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছেন জ্যাক ক্লার্ক। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ের নীতিবিষয়ক পরিচালক হন তিনি। ২০২১ সালে অ্যানথ্রোপিকের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়ার পর থেকে এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রবক্তা হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে অ্যানথ্রোপিকের গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন তিনি। এই গবেষণাকেন্দ্র এআই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করে।



৬. স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ (৩৬)

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়ে এআইয়ের ‘স্কেলিং ল’ নিয়ে কাজ করেন। এই গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবস্থার কম্পিউটিং শক্তি বৃদ্ধি এবং বেশি তথ্য দেওয়া হলে তার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত অক্টোবর থেকে তিনি প্রধান পরিকল্পনাকারী। কোম্পানির এআই মডেল কীভাবে তৈরি ও প্রশিক্ষিত হবে, সেটা দেখভাল করেন তিনি।



৭. ভ্লাদ টেনেভ (৩৯)

বুলগেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভ্লাদ টেনেভের মা–বাবা দুজনই বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফোর্বস ৪০০-এর আরেক সদস্য বাইজু ভাটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ভাটের বয়স ৪১ বছর। ২০১৩ সালে তাঁরা রবিনহুড চালু করেন। অ্যাপটি শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিশন তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিশন কমাতে বা তুলে দিতে বাধ্য হয়। ২০২১ সালে রবিনহুড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ার টেনেভের মালিকানায় রয়েছে। টেনেভ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ হারমোনিকেরও চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি গাণিতিক যুক্তি প্রয়োগে সক্ষম এআই নিয়ে কাজ করছে।



৮. পামার লাকি (৩৩)

কিশোর বয়সেই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট তৈরি করেন পামার লাকি। তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান ছিল অকুলাস। ২১ বছর বয়সে ২০০ কোটি ডলারের নগদ ও শেয়ারের বিনিময়ে ফেসবুকের কাছে অকুলাস বিক্রি করেন তিনি। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে সমালোচিত হন। এরপর তিনি মেটা ছেড়ে চলে যান। সেবারই অ্যান্ডুরিল প্রতিষ্ঠা করেন লাকি। প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, সেন্সর ও তা পরিচালনার জন্য এআইভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি করে। মার্চে মার্কিন সেনাবাহিনী সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করে।




৯. স্টিভেন হাও (৩০)

কগনিশনের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে স্টিভেন হাও আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। এরপর তিনি তথ্য লেবেলিং–বিষয়ক স্টার্টআপ স্কেল এআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ২৯ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার অ্যালেক্স ওয়াং। ২০২৫ সাল থেকে স্কেল এআইয়ের ৪৯ শতাংশ মালিকানা মেটার হাতে। ২০২৩ সালে স্কেল এআই ছেড়ে কগনিশন প্রতিষ্ঠা করেন হাও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য ডেভিন একধরনের এআই এজেন্ট, যার কাজ হলো কোড লেখা ও সংস্কার করা। সেপ্টেম্বরে কগনিশন ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের তিন সহপ্রতিষ্ঠাতাই বিলিয়নিয়ার হন।



১০. লুকাস ওয়ালটন (৩৯)

ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের (মৃত্যু ১৯৯২) নাতি লুকাস ওয়ালটন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। এর বড় অংশই ওয়ালমার্টের শেয়ার। শিকাগোভিত্তিক বিনিয়োগ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান বিল্ডার্স ভিশন পরিচালনা করেন ওয়ালটন। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, টেকসই খাদ্য ও সমুদ্র সংরক্ষণ খাতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। জুনে এনবিএর শিকাগো বুলসের কিছু শেয়ার কিনেছেন তিনি।




লাইব্রেরিতে সিঙ্গাপুরের এক শিক্ষার্থী

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:০৪ পিএম

মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শুধু উৎসাহই নয়, নিয়মিত পড়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল পুরস্কারও। এর লক্ষ্য মানুষের পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ‘ব্রেন রট’ বা অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ডিজিটাল কনটেন্টে মনোযোগ ক্ষয়ের প্রবণতা মোকাবিলা করা। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (এনএলবি) চলতি মাসের শুরুতে ‘ReadSG’ নামের ওই কর্মসূচি চালু করেছে। 



এতে অংশ নিতে আগ্রহীরা ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়ার সময় নথিভুক্ত করতে পারবেন। অন্তত ১৫ মিনিট পড়লে পাওয়া যাবে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন। এক হাজার ভার্চুয়াল কয়েনের মূল্য এক সিঙ্গাপুরি ডলার।



কর্মসূচির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট পড়াই একটি অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। সিঙ্গাপুরের ব্যস্ত নগরজীবনের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলে তিনটি স্টেশনের মধ্যবর্তী যাত্রা, বাসের জন্য অপেক্ষা কিংবা সকালের কফি খাওয়ার সময়টুকুই হতে পারে পড়ার জন্য যথেষ্ট।



ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার অভ্যাস মানুষের মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাঁর ভাষায়, স্বল্পদৈর্ঘ্যের কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য জানতে সাহায্য করলেও বইয়ের দীর্ঘ পাঠ মনোযোগ ধরে রাখা ও গভীরভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায়। তাঁরা এমন একটি পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে চান, যারা কৌতূহলী, চিন্তাশীল, বিচক্ষণ এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বকে বুঝতে সক্ষম।



কর্মসূচিতে পাঠাভ্যাসের ধরন বোঝাতে খাবারের নাম ব্যবহার করে কয়েকটি ‘ফ্লেভার’ও রাখা হয়েছে। যেমন ‘কুয়ে লাপিস’—স্তরযুক্ত ও গভীর মনোযোগী পাঠক; ‘কুলফি’—উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কিছুটা বিশৃঙ্খল; আর ‘আং কু কুয়ে’—কল্পনাপ্রবণ ও স্মৃতিকাতর পাঠক।



ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই বলেন, পড়ার বিষয়টিকে গেমের মতো করে তোলা ও ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, পর্দায় লেখা পড়ার প্রবণতা থাকলেও গভীরভাবে পড়া ও দীর্ঘ সময় ধরে পাঠে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই কমে যাচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ইরান যুদ্ধে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে (ছবি-বিবিসি)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শক বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে গোলাবারুদের ‘ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে এবং পুনরায় সরবরাহে একটি অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।


এ বক্তব্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, কারণ তিনি বারবার অস্বীকার করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ঘাটতির মুখে রয়েছে। খবর-বিবিসি



ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদ সরবরাহ ‘প্রায় সীমাহীন’ এবং এ-সংক্রান্ত ভিন্ন ধরনের প্রতিবেদনকে তিনি ‘ভুয়া খবর’ বলেও উল্লেখ করেছেন। 



তবে স্বাধীন এই তদারকি সংস্থা জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র গোলাবারুদ খাতে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয় করেছে, যার ফলে ‘কৌশলগত মজুদের ঘাটতি’ তৈরি হয়েছে।



এই প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে “প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট বেশি” গোলাবারুদ রয়েছে।



প্রতিবেদনটি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে পাওয়া প্রথম ধরনের একটি ধারণা তুলে ধরেছে। সাধারণত এ ধরনের তথ্য গোপনীয় হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ থাকে।



এর আগে বিভিন্ন মূল্যায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতির একটি উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দীর্ঘপাল্লার স্থল হামলা ব্যবস্থার পাশাপাশি ইরানের হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে।


জুলাইয়ের শেষ দিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)-এর এক মূল্যায়নে দেখা যায়, কিছু প্রতিরোধমূলক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ, যেমন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং টার্মিনাল হাই অলটিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড), উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে এ ঘাটতি অর্ধেকেরও বেশি ছিল।






একটি পাকিস্তানি নৌবাহিনীর জাহাজ ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।(ছবি-সংগৃহীত)

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৩১ এএম

উত্তর আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতের একটি প্রথম সারির যুদ্ধজাহাজ ও পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাকিস্তানের ‘অপেশাদার ও অনিরাপদ’ নৌচালনার অভিযোগ তুলে ইসলামাবাদের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওমান উপসাগর থেকে প্রায় ১২০ নটিক্যাল মাইল দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই সংঘর্ষ ঘটে। 



ঘটনার পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে ইসলামাবাদে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকেও পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একই ধরনের লিখিত প্রতিবাদ জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্রের দাবি, সংঘর্ষে জড়িত পাকিস্তানের জাহাজটি ছিল পিএনএস হুনাইন। এটি ইয়ারমুক শ্রেণির একটি অফশোর টহল জাহাজ বা কর্ভেট। 



ভারতীয় কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি উচ্চ গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের দিকে এগিয়ে এসে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় এবং শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। ভারতের দাবি, সংঘর্ষে পাকিস্তানি জাহাজটির কিছু ক্ষতি হয়েছে। পরে সেটি নিজ বন্দরে ফিরে যায়। তবে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নির্ধারিত নজরদারি অভিযান অব্যাহত রাখে।



ভারতের কড়া বিবৃতি 

ঘটনার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এমন আচরণ ১৯৯১ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামরিক মহড়া, কৌশলগত চলাচল ও সেনা মোতায়েন সম্পর্কে আগাম অবহিতকরণ চুক্তির ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন। চুক্তির ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুর্ঘটনা এড়াতে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনকে পরস্পরের থেকে অন্তত তিন নটিক্যাল মাইল দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।



বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভারতের উদ্বেগ পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সব সামরিক ইউনিটকে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।’



সংঘর্ষের ঘটনা বিরল

তবে ভারতীয় কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে সরাসরি সামরিক আগ্রাসন হিসেবে না দেখে প্রতিষ্ঠিত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় দুই দেশের নৌবাহিনীর নিয়মিত টহলের সময় নির্ধারিত দূরত্ব ও নৌচালনার পেশাদার মান বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে উত্তর আরব সাগরে ভারতীয় নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও ফ্রিগেটগুলো নজরদারি মিশনে মোতায়েন রয়েছে। একই অঞ্চলে পাকিস্তান নৌবাহিনীর টহল কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ফলে দুই দেশের যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি অবস্থান নতুন নয়, তবে সংঘর্ষের ঘটনা বিরল।



এডেন উপসাগরে আরেক ঘটনার স্মৃতি 

এই সংঘর্ষ ২০১১ সালের জুন মাসে এডেন উপসাগরে ঘটে যাওয়া আরেকটি ঘটনার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সে সময় পাকিস্তানের যুদ্ধজাহাজ পিএনএস বাবরের সঙ্গে ভারতীয় ফ্রিগেট আইএনএস গোদাবরীর সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনার পরও ভারত পাকিস্তানের নৌ উপদেষ্টাকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি সংসদে এ বিষয়ে বিবৃতি দেন।


পাকিস্তান সরকার বা দেশটির নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে সংঘর্ষের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। ইসলামাবাদও ভারতের অভিযোগের জবাব দেয়নি।




ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলোচনায় বলেছেন, তার দেশ ইরানের অধিকার ‘রক্ষায়’ প্রস্তুত।


বিবিসি নিউজ ফার্সির এক খবরে বলা হয়েছে, বেইজিং সফররত আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, চীন ইরানের সঙ্গে সংলাপ ও সহযোগিতা জোরদার করতে এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে প্রস্তুত।


তিনি বলেন, আমরা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তিবোধ ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটন সফর করার কথা রয়েছে।


এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদারদের অন্যতম চীন দীর্ঘদিন ধরে কয়েক মাসব্যাপী মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করে আসছে। এই সংঘাত ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে।


ওয়াং ই বলেন, আমরা ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে দেখতে চাই না।


এ সপ্তাহে চীন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে, যেখানে বলা হয়েছিল যে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর একটি সামরিক ঘাঁটির উপগ্রহচিত্র “ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে সরবরাহ করেছে”। ওই হামলায় তিনজন মার্কিন সেনা নিহত হন।

বিষয় : ইরান চীন


ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৭ পিএম

কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ইউরোপীয় পার্লামেন্টে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির উপস্থিতিতে লিয়েন নজিরবিহীন এই প্রস্তাব দেন।


ফন ডার লিয়েন মত দেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), জলবায়ু সংকট, ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভূরাজনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডার দৃষ্টিভঙ্গিতে মিল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে যথা সম্ভব সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিতে চাই। আমাদের অংশীদারত্বকে জরুরিভিত্তিতে নতুনভাবে ভাবতে হবে।’


এর আগে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাঁর দেশের অতিরিক্ত বাণিজ্যনির্ভরতা কমাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি ‘অনন্য জোট’ গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কানাডা ও ইউরোপীয় পণ্যে শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১ তম অঙ্গরাজ্য করার কথা বলায় অটোয়া ও ব্রাসেলসের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।


ফন ডার লিয়েন জানান, বিদ্যমান ইইউ-কানাডা বাণিজ্য চুক্তিকে ‘ভবিষ্যতের জোটে’ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ব্যাটারি, এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানো হবে। আর্কটিক অঞ্চলকেও দুই পক্ষের যৌথ প্রকল্পের অন্যতম কেন্দ্র করা হবে।


তবে ‘সহযোগী সদস্য’ বলতে ঠিক কী বোঝাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ২৭ সদস্যের ইইউতে এ ধরনের সদস্যপদের কোনো বিদ্যমান কাঠামো নেই। নরওয়ে, আইসল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ইইউর ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্ক থাকলেও তারা ইউনিয়নের সদস্য নয়।


আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনে প্রস্তাবটি নিয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা। এরই মধ্যে কানাডার সঙ্গে ইইউর বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—২০১৬ সালে চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও এখনো ১০টি ইইউ সদস্যদেশ তা অনুমোদন করেনি।


বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তিত বাস্তবতা ইইউকে তৃতীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও নমনীয় কাঠামো তৈরির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ পিএম

সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য আরোপ করা সতর্কতা হালনাগাদ করেছে ওয়াশিংটন। এখন ‘সতর্কতা লেভেল ৩’ জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। হালনাগাদ সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ এবং আঞ্চলিত অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন প্রশাসন।


আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ ভ্রমণ সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।


সেই সঙ্গে সৌদি আরবের কিছু এলাকায় হামলার ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার কথাও সতর্কতায় উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘সতর্কতা লেভেল ৪’ জারি রয়েছে। এতে ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার কথা বলা হয়েছে।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবও।


চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ কারণে শহরটিতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব সরকার।


সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র এ নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।