জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা আত্মহত্যা করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
ছোটপর্দার দর্শকপ্রিয় অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত ইকরা আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এই তথ্য অভিনেতার শ্বশুরবাড়ি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এবার স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করলেন জাহের আলভী নিজেই। বর্তমানে শুটিংয়ের কাজে নেপালে অবস্থান করছেন এই অভিনেতা। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তিনি।
পোস্টে অভিনেতা লেখেন, ‘আজ দুপুরে মিরপুর ডিওএইচএস-এর বাসায় আমার স্ত্রী ইকরা আত্মহত্যা করেছে। আমি নেপালে শুটিংরত ছিলাম । খবরটা শোনার পর থেকে কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। আমি বুঝতে পারছি না আমাদের সন্তান আর আমার কথা না ভেবে সে কেন এভাবে চলে গেল।’
শিগগিরই ঢাকায় ফিরে এ নিয়ে কথা বলবেন জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘শুভাকাঙ্ক্ষী ও সাংবাদিক ভাইদের অনুরোধ করছি, আমাকে একটু সময় দিন। আমি দ্রুত ঢাকা ফেরার চেষ্টা করছি, ফিরে সবার সঙ্গে কথা বলব। ততক্ষণ পর্যন্ত এই শোকের মুহূর্তে আমাকে এবং আমার পরিবারকে একটু মানসিক স্বস্তি দিন।’
পোস্টের শেষাংশে তাদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর তথ্য না ছড়ানোর অনুরোধ জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন জাহের আলভী ও আফরা ইবনাত ইকরা।
মিমি চক্রবর্তী
ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর বিয়ের গুঞ্জনে উত্তাল পুরো টলিপাড়া। ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা থেকে শুরু করে শাকিব খানের ‘তুফান’, দুই বাংলার দর্শকের মন জয় করা এই অভিনেত্রী এবার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছেন।
ভারতীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শেষেই জীবনের নতুন এই ইনিংস শুরু করতে পারেন অভিনেত্রী।
টলিপাড়ার এক সূত্র বলছে, আগামী ডিসেম্বর মাসেই নাকি বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছেন মিমি চক্রবর্তী। চোখজুড়ানো পাহাড়ের কোলে কালিম্পংয়েই বসতে পারে তার বিয়ের জমকালো আসর।
কাকে বিয়ে করছেন নায়িকা? শোনা যাচ্ছে, তিনি ইন্ডাস্ট্রির কেউ নন; ভারতের নৌবাহিনীতে কর্মরত। নাম সিদ্ধার্থ। এটাই আপাতত গুঞ্জন।
২০১২ সালে ‘বাপি বাড়ি যা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেছিলেন মিমি চক্রবর্তী। গতানুগতিক ছকের বাইরে গিয়ে নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকের নজর কাড়েন। এরপর ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিনেমা তাকে এনে দেয় তুমুল জনপ্রিয়তা। অভিনয়ে সফলতার পর ২০১৯ সালে রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন এবং যাদবপুর কেন্দ্র থেকে লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সাংসদ হন।
বর্তমানে সৃজিত মুখার্জির ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমা এবং নতুন একাধিক কাজের শুটিং নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিমি। আগামী দুর্গাপূজাতেই প্রেক্ষাগৃহে আসবে তার নতুন এই ছবি। পেশাগত এত সব ব্যস্ততার আড়ালেই নিঃশব্দে বিয়ের প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি বিনোদন জগতের বড় একটি অংশের। ভক্তদের ধারণা, খুব শিগগিরই নিজ মুখে এই সুখবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন মিমি।
রিভেঞ্জ ড্রেসে প্রিন্সেস ডায়ানা
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে অন্যতম জনপ্রিয়, প্রভাবশালী এবং মানবতাবাদী সদস্য প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানার বহুল আলোচিত কালো গাউনটি (রিভেঞ্জ ড্রেস) প্রায় ৩০ বছর পর আবারও নিলামে উঠতে যাচ্ছে। বিখ্যাত এ পোশাকটির মূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ মার্কিন ডলার। পোশাকটিকে ডায়ানার আত্মবিশ্বাস ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ভাবা হয়।
গ্রিক ডিজাইনার ক্রিস্টিনা স্টাম্বোলিয়ানের নকশা করা কালো রঙের অফ-দ্য-শোল্ডার সিল্কের এ বিশেষ গাউনটি ১৯৯৪ সালে ভ্যানিটি ফেয়ার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পরেছিলেন লেডি ডায়ানা স্পেন্সার (প্রিন্সেস ডায়না)। ওই রাতেই ডায়ানার সাবেক স্বামী এবং তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লস প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, তিনি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এর পর থেকেই ডায়ানার ওই পোশাকটি পরিচিতি পায় ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বা ‘প্রতিশোধের পোশাক’ নামে।
এ বছর ৯ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে সোথবির আয়োজনে বিশেষ ফ্যাশন নিলামে পোশাকটি তোলা হবে। এটি হবে প্রিন্সেস ডায়ানাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি স্বতন্ত্র ফ্যাশন নিলামের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
নিলামকারী সংস্থা সোথবির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘রিভেঞ্জ ড্রেস’ বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে স্মরণীয় ও পরিচিত ফ্যাশন মুহূর্তগুলোর একটি। পোশাকটি পরা ডায়ানার ছবি বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমে অসংখ্যবার প্রকাশিত হয়েছে।
সোথবির জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগ শুরু হওয়ারও আগে এবং তারকাদের ছবি মুহূর্তের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ তৈরি হওয়ার আগে ডায়ানা একটি গাড়ি থেকে নেমেই যেন একটি ‘ভাইরাল ফ্যাশন মুহূর্ত’ তৈরি করেছিলেন।
নিউইয়র্কে নিলামে ওঠার আগে প্রিন্সেস ডায়ানার ঐতিহাসিক পোশাকটি লন্ডন, হংকং ও জেনেভায় প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগ।
সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন
ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার পর নিজের কঠিন সময়ের অভিজ্ঞতা ও পাশে থাকা মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাঁধন তার ফেসবুকে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জীবন যখন কঠিন সময়ের মুখোমুখি করে, তখন সবসময় মনে রাখবেন অন্য প্রান্তে হয়তো আপনার জন্য সুন্দর কিছু অপেক্ষা করছে।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ চলচ্চিত্রের এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কী দীর্ঘ এক যাত্রা ছিল এটি! এমন এক যাত্রা, যেখানে ছিল কঠিন সব মুহূর্ত; ছিল অপমান, হয়রানি, শারীরিকভাবে আক্রান্ত হওয়া, এমনকি নিজের মানুষদের কাছ থেকেই পরিত্যক্ত হওয়ার অনুভূতি। কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমি একটি গভীর সত্য উপলব্ধি করেছি কখনো কখনো সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেই আসে সবচেয়ে বড় সমর্থন।’
কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ও ইতালি সরকার, ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালিয়ান পুলিশ এবং উৎসব কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন।
তিনি বলেন, ‘যখন আমার সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রয়োজন ছিল, তখন আপনারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।’
নিজের কিছু মানুষ যখন দূরে সরে গিয়েছিল, তখন এসব প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিই তার শক্তি ও সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছিল বলেও জানান এই অভিনেত্রী। পাশাপাশি যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, খোঁজ নিয়েছেন, দোয়া করেছেন কিংবা একটি ভালো কথা বলেছেন, তাদের প্রত্যেকের প্রতিও হৃদয়ের গভীর থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বাঁধন।
সবশেষে আজমেরী হক বাঁধন লেখেন, ‘আমি আপনাদের সবাইকে ভালোবাসি।’
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতেই ইতালিতে গেছেন বাঁধন।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে ভাই ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় একটি পার্কে গেলে সেখানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী-সমর্থক তার ওপর হামলা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন বাঁধন।
ঘটনার পর তার পাশে দাঁড়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থানীয় প্রশাসন। একই সঙ্গে দেশে-বিদেশে অসংখ্য মানুষ ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং অভিনেত্রীর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
জেনিফার উইনগেট।
বিয়ে মানেই কি অভিনয় থেকে দূরে সরে যাওয়া? অনেক অভিনেত্রীকেই এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এবার একই প্রশ্নের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী জেনিফার উইনগেট।
সম্প্রতি বিয়ের পর কাজের অগ্রাধিকার ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি।
আসন্ন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে গিয়ে জেনিফার জানান, বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে ঠিকই, তবে অভিনয় কিংবা কাজের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
গত ১৬ জুলাই প্রবাসী ব্যবসায়ী উইলিয়াম ইসমাইলের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন জেনিফার। বিয়ের পর কাজের ক্ষেত্রে তার অগ্রাধিকার বা দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন এসেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে অভিনেত্রী বলেন,‘কিছুই বদলায়নি। আমি শুধু বিয়ে করেছি। বাকি সব একই আছে।’
জীবনে ভারসাম্য বজায় রাখতেই বিশ্বাসী জেনিফার। কাজের পরিবেশ এবং সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কও তার কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অভিনেত্রীর ভাষায়, কিছু মানুষ জীবনে ভারসাম্য পছন্দ করেন, তিনিও তাদেরই একজন।
টেলিভিশন কিংবা ডিজিটাল- যে মাধ্যমেই কাজ করুন না কেন, সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও স্বচ্ছন্দ পরিবেশকে গুরুত্ব দেন জেনিফার। একই মানুষদের সঙ্গে বারবার কাজ করার কারণও জানিয়েছেন তিনি।
তার মতে, পরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করলে একটি স্বচ্ছন্দ পরিবেশ তৈরি হয়। একে অপরকে বুঝতে সুবিধা হয়। কে কী করবেন কিংবা কী করবেন না, সেটিও অনেকটা আগে থেকেই জানা থাকে। ফলে কাজের জায়গায় বোঝাপড়া আরও সহজ হয়।
তবে বিয়ের পর জীবনের অগ্রাধিকার কিছুটা বদলেছে বলে স্বীকার করেছেন জেনিফার। কাজের প্রয়োজনে তাকে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কখন কোথায় থাকতে হবে, কাজের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন কীভাবে সামলাবেন- এসব বিষয় এখন আগের চেয়ে কিছুটা বেশি ভাবতে হচ্ছে তাকে।
তবুও নতুন জীবন নিয়ে এখন পর্যন্ত তার অভিজ্ঞতা বেশ ভালো বলেই জানিয়েছেন অভিনেত্রী। পাশাপাশি ভক্তদের ভালোবাসা ও শুভেচ্ছার জন্যও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে জেনিফার বর্তমানে ব্যস্ত তার নতুন ওয়েব সিরিজ ‘শক: ট্রাস্ট নো ওয়ান’-এর প্রচারে। রহস্য-রোমাঞ্চ ঘরানার এ সিরিজে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন পরিণীতি চোপড়াসহ আরও অনেকে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে সিরিজটির।
সিডনি সুইনি
হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনি এবার সিনেমা বা সিরিজে নয়, আলোচনায় এসেছেন একটি বিজ্ঞাপনকে ঘিরে। নতুন স্পোর্টস ট্রেডিং ও প্রেডিকশন অ্যাপ নোভিগের বিজ্ঞাপনে প্রায় পুরোপুরি নগ্ন হয়ে ক্যামেরার সামনে হাজির হয়েছেন ‘ইউফোরিয়া’ অভিনেত্রী। বিজ্ঞাপনটিতে সুইনিকে দেখা যায় বিভিন্ন খেলাধুলার সরঞ্জামের সঙ্গে। কোথাও বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঢেকেছেন, কোথাও আবার হকি গোলপোস্ট, ফুটবল প্যাড, বেসবল ক্যাচারের হেলমেট কিংবা হকি গোলকিপারের মাস্ক ব্যবহার করেছেন। সুইনি শুধু এই বিজ্ঞাপনের মুখ নন, নোভিগের কৌশলগত অংশীদার ও শেয়ারহোল্ডারও হয়েছেন।
বিজ্ঞাপনটি নিয়ে এক বিবৃতিতে সুইনি বলেন, ‘মজার একটি ধারণাকে সামনে আনাই ছিল এই প্রচারের উদ্দেশ্য। ভাবনাটি খুব সহজ—সব ধরনের বাড়তি শব্দ সরিয়ে মনোযোগটা পুরোপুরি খেলাধুলার দিকে নেওয়া।’
বিজ্ঞাপনের শুরুতেই সুইনিকে বলতে শোনা যায়, ‘ভাবছেন খেলাধুলা সম্পর্কে আপনি সব জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন।’ এরপর ক্যামেরার সামনে নগ্ন অবস্থায় একটি বাস্কেটবল হুপের ওপর বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। শরীর ঢেকে রেখেছেন কয়েকটি বাস্কেটবল ও ফুটবল দিয়ে।
এরপর বিজ্ঞাপনটি আরও চমকপ্রদ হয়ে ওঠে। কখনো হকি গোলকিপারের পোশাকের অংশ, কখনো ফুটবল প্যাড, আবার কখনো বেসবল ক্যাচারের হেলমেট পরে দেখা যায় সুইনিকে। একপর্যায়ে তিনি নোভিগের জার্সিও পরেন।
নোভিগ গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। ফেডারেল নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের জন্য বয়স হতে হবে অন্তত ২১ বছর। আধুনিক আর্থিক বাজারের ট্রেডিং পদ্ধতির সঙ্গে খেলাধুলাকেন্দ্রিক প্রেডিকশন মার্কেটের ধারণা মিলিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে খোলামেলা বিজ্ঞাপনে সুইনির উপস্থিতি এবারই প্রথম নয়। চলতি বছর নিজের অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড সির্ন চালু করার পর সেখানকার প্রচারণাতেও একাধিক ভিডিওতে দেখা গেছে তাঁকে। গত বছর আমেরিকান ইগলের একটি জিনসের বিজ্ঞাপনেও অভিনয় করেছিলেন সুইনি। বিজ্ঞাপনে ‘গুড জিনস’ শব্দ নিয়ে করা শব্দখেলা নিয়ে অনলাইনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
অভিনয়ের দিক থেকেও এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন সুইনি। ‘দ্য হাউসমেইড’-এর সাফল্যের পর এর সিকুয়েল ‘দ্য হাউসমেইডস সিক্রেট’-এ দেখা যাবে তাঁকে। ‘এনিবডি বাট ইউ’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। তুলনামূলক ছোট বাজেটের সেই রোমান্টিক কমেডি শেষ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি ডলার আয় করে বড় বক্স অফিস সাফল্য পায়।
সুইনির সামনে আরও আছে নেটফ্লিক্সের ‘গান্ডাম’ সিনেমা এবং স্টুডিওক্যানালের ‘দ্য কাস্টম অব দ্য কান্ট্রি’।
মেঘনা আলম
ব্যক্তিগত জীবন, পোশাক ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে নানা সময় আলোচনায় থাকেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত পছন্দ, পর্দা করা এবং গণমাধ্যমে তার পুরোনো ছবি প্রকাশ নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মেঘনা আলম লেখেন, ‘আমি মাথায় কাপড় দিয়ে থাকি প্রায় ২ বছর। এদিকে মিডিয়া সব নিউজ করে আমার আগের ক্লিভেজ শো করা। একজন নারীর চয়েস, কমফোর্ট, মডেস্টি সব কিছুর চেয়ে ভিউ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ইচ্ছা থাকলেও পর্দা করা সম্ভব না।’
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন মেঘনা। সেখানে তিনি দাবি করেন, এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক সম্পর্কে জড়াননি তিনি।
মেঘনা আলম লেখেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত শারীরিক সম্পর্কে জড়াইনি। তবুও আমাকে কত অপবাদ দেওয়া হয়, শুধু ধর্মীয় লেবাসে না থাকার কারণে।’
তার দাবি, শুধু পোশাক বা ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণ না করার কারণে একজন নারীকে নিয়ে নানা ধরনের অপবাদ ছড়ানো হয়। একই সঙ্গে একজন নারীর ব্যক্তিগত পছন্দ ও জীবনযাপনের সিদ্ধান্তকে সম্মান করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে সমাজের দ্বিমুখী মানসিকতার সমালোচনাও করেন মেঘনা। তার অভিযোগ, নৈতিকতা ও ধর্মের মুখোশ পরে থাকা কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ কিংবা ভাইরাল অডিও ছড়িয়ে পড়লেও তাদের নির্দোষ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
এমন সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মেঘনা আলম লেখেন, ‘এ কেমন দুনিয়া?’
তার সাম্প্রতিক পোস্টে মূলত একজন নারীর পোশাক, ব্যক্তিগত পছন্দ ও সামাজিক মূল্যায়নের বিষয়টি সামনে এসেছে। একই সঙ্গে পুরোনো ছবি ও বর্তমান জীবনযাপনের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে গণমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনের ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মেঘনা আলমের এসব বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-প্রতিক্রিয়া। কেউ তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন, আবার কেউ ভিন্নমতও জানাচ্ছেন। তবে নিজের অবস্থান ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে নিজের বক্তব্য স্পষ্ট করেছেন এই মডেল ও রাজনীতিবিদ।