• প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

চীনের শিক্ষা ব্যবস্থা, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার প্রসার এবং বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক সেল (আইএসএসি)-এর উদ্যোগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


সেমিনারে চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব এবং দুই দেশের মধ্যে একাডেমিক, কারিগরি, প্রযুক্তিগত ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমজাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান।


সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের চীনা পরিচালক ড. ইয়াং হুই। আলোচক হিসেবে অংশ নেন কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের প্রভাষক আকিব ইরফান। অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন আইএসএসি’র আহ্বায়ক ও পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।


এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা পুনরায় চালুর সম্ভাবনার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। করোনা মহামারির সময় স্থগিত হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ভাষা কার্যক্রম কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সঙ্গে নতুন করে সহযোগিতার মাধ্যমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়।


মূল প্রবন্ধে ড. ইয়াং হুই চীনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, চীনের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাক-প্রাথমিক, বাধ্যতামূলক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিশেষ ও অব্যাহত শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। বিশেষভাবে তিনি দেশটির নয় বছর মেয়াদি অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।


ড. ইয়াং হুই বলেন, বাংলাদেশে চীনা ভাষা শিক্ষার পরিধি সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যায়ে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সহযোগিতার পাশাপাশি নির্বাচিত স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ে চীনা ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এ শিক্ষা কার্যক্রম টেকসই করতে স্থানীয় পর্যায়ে দক্ষ চীনা ভাষার শিক্ষক তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।


তিনি বলেন, বাংলাদেশ-চীন শিক্ষা সহযোগিতা শুধু ভাষা শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কারিগরি শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা, ডিজিটাল শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রেও সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ‘চাইনিজ প্লাস’ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দেন তিনি। এর মাধ্যমে চীনা ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী ব্যবসায়িক ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।


এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন ড. ইয়াং। তিনি জানান, চীনেও দিন দিন বাংলাদেশি ভাষা বাংলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং দেশটির অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ভাষা শিখছেন।


সেমিনারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, এ সেমিনার এবং চীনা ভাষা চালুর উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক অগ্রযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে পারে। ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি সংস্কৃতির উত্তরাধিকারও বহন করে। বৈশ্বিক যোগাযোগের যুগে বিদেশি ভাষা শেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যবসা, শিক্ষা, প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কারণে চীনা ভাষার গুরুত্বও দিন দিন বাড়ছে।


উপাচার্য জানান, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য তিন মাস মেয়াদি একটি বেসিক চীনা ভাষা কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজন ও কার্যক্রমের পরিধি বিবেচনায় এ কোর্স ১০ মাস বা এক বছর মেয়াদি করার পরিকল্পনাও রয়েছে।


তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদে প্রস্তাবিত আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের অধীনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাইনিজ স্টাডিজ বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য রয়েছে। প্রস্তাবিত সহযোগিতার আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শ্রেণিকক্ষ, অফিস কক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও লজিস্টিক সুবিধা দেবে। অন্যদিকে, কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউট শিক্ষাদান উপকরণ ও শিক্ষকসহ প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহযোগিতা প্রদান করবে।



সর্বশেষ সব খবর

নিলয় বড়ুয়া, নাজিফা নাফিল ও আরিফুল ইসলাম রনি

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) প্রথমবারের মতো জাতীয় ছাত্রশক্তির ১০ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নিলয় বড়ুয়া এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দা নাজিফা নাফিলকে। এছাড়া মূখ্য সংগঠক হিসেবে আছেন আরিফুল ইসলাম রনি। 


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আহসান লাবিব ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।


কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আলামিন মজুমদার। সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন ওমর ফারুক। এছাড়া যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) হিসেবে মোহাম্মদ ওসমান এবং যুগ্ম সদস্য সচিব (মিডিয়া) হিসেবে জুবায়ের আজম খান ।


এছাড়াও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন নাঈমুর রহমান, বিল্লাল হোসেন ও জি. এম. তৈয়ুবুর ইসলাম।


নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সৈয়দা নাজিফা নাফিল বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করায় আমি কৃতজ্ঞ। আমার কাছে এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষার্থীবান্ধব কার্যক্রম পরিচালনাই হবে আমার মূল লক্ষ্য। এ দায়িত্ব পালনে আমি সকলের সহযোগিতা ও পাশে থাকার প্রত্যাশা করি।”


আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। যারা আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। শিক্ষার্থীদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করা, বৈষম্যহীন ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো নিয়ে সোচ্চার থাকাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তিকে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”


বিজ্ঞপ্তিতে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঘোষিত এ আহ্বায়ক কমিটি আগামী এক বছর দায়িত্ব পালন করবে।

সর্বশেষ সব খবর

নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১০ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত চাঁদপুর জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন চাঁদপুর স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর উদ্যোগে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মান জানিয়ে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। 


অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান, আইসিটি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মেহেদি হাসান এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান রাহাত। এছাড়াও সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলী, বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংগঠন ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি নেতৃত্ব ও দক্ষতা বিকাশের আহ্বান জানান।


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান রাহাত বলেন, শিক্ষার্থীদের স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও নেটওয়ার্কিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই দক্ষতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের পরিধি সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন।


সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মিথিলা রহমান সুখী বলেন, “এই অ্যাসোসিয়েশন আমার কাছে দ্বিতীয় পরিবারের মতো। চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে।”


সংগঠনের সভাপতি ফেরদাউস হাসান জাফরি বলেন, “আমরা ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার সেশন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করতে চাই। একই সঙ্গে অ্যালামনাই ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি শক্তিশালী যোগাযোগের সেতুবন্ধ গড়ে তোলার চেষ্টা থাকবে।”


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:০৩ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ফি পরিশোধে এখনো চালু হয়নি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ফলে নির্ধারিত ফি জমা দিতে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। এতে সময় অপচয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছেন তারা।


শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়। একই সঙ্গে হল, বিভাগ ও ব্যাংকের মধ্যে একাধিকবার যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।


শিক্ষার্থীরা জানান, অনেক সময় আর্থিক ব্যবস্থাপনার কারণে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে ফি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেন তারা। কিন্তু ব্যাংকে দীর্ঘ লাইন ও নির্দিষ্ট ব্যাংকিং সময়ের কারণে সময়মতো টাকা জমা দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত জরিমানা দিয়ে ফি পরিশোধ করতে হয়।


ফলিত গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মঞ্জিল ভূঁইয়া বলেন, “আমাদের একাডেমিক কার্যক্রমকে পাশ কাটিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয়। ফলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। ২০২৬ সালে এসেও আমরা ১৯০০ সালের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিচ্ছি, যা আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়। দ্রুত এ সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”


সমুদ্র বিজ্ঞান বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম বলেন, “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও নোবিপ্রবিতে এখনো ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়নি, যা শিক্ষার্থীদের জন্য হতাশাজনক ও সময়সাপেক্ষ। ফি জমা দিতে হল ও বিভাগে যাতায়াতের পাশাপাশি ব্যাংকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি জমা দিতে না পারায় জরিমানাও দিতে হয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই যেকোনো সময় ফি জমা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও ভোগান্তি কমার পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় জরিমানাও এড়ানো যাবে।”


শিক্ষার্থীদের মতে, বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালু হলেও অর্থ পরিশোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রমে এখনো সরাসরি ব্যাংকনির্ভরতা সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীরা ঘরে বা হল থেকেই নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজনীয়তা কমার পাশাপাশি অর্থ পরিশোধ প্রক্রিয়ায় সময় ও শ্রমও সাশ্রয় হবে।


এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “আমি যোগদানের পর শিক্ষার্থীদের পেমেন্টগুলো ক্যাশলেস করার কমিটমেন্ট করেছিলাম। এখনো তা বাস্তবায়ন করতে না পারলেও ইউসিবি ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের একটি সফটওয়্যার প্রস্তুত আছে। পাশাপাশি আমাদের আইসিটি সেলেরও একটি সফটওয়্যার রয়েছে। দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য যেটি বেশি উপযোগী, সেটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করব। আমার প্রথম লক্ষ্য হলো, শিক্ষার্থীদের পেমেন্ট ব্যবস্থা দ্রুত ক্যাশলেস করা।”


বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে আপাতত প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।


শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অনলাইন পেমেন্ট বা ক্যাশলেস ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমার পাশাপাশি একাডেমিক সময়ের অপচয়ও রোধ করা সম্ভব হবে।


এখন দেখার বিষয়, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের ঘোষিত উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৩ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের নেতাকে থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 


অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের আলীনুর রহমান। তিনি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। ভুক্তভোগী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের কাজী জুহায়ের। তিনি জিয়াউর রহমান হল ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি।


জানা যায়, দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড়থাপ্পড় মারেন। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও অভিযুক্ত আলীনুর তাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর লোকজন জড়ো হলে পরে সে (অভিযুক্ত) হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ সংক্রান্ত একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। এরপর প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় অভিযুক্তকে হল থেকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে এ ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল।




ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমি আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এসময় আলীনুর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিলো না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানি না। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে- ‘তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস কর। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।’


অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, আমি পরীক্ষা দিয়ে হলে গেছি। চার্জার নিয়ে আমি আসতেছিলাম, টিউবওয়েলে পানি খেয়ে বের হওয়ার সময় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা, তখন আমি বলি যে ‘ভাই আপনি বেয়াদব’। সেই সময় ভাই আমারে গালি দিলে আমি একটা থাপ্পড় দিই। এর পর থেকে যা হয়েছে আপনারা দেখেছেন।


প্রথমে বেয়াদব কেন বলছেন বলে জিজ্ঞেস করলে তিনি ‘জানি না’ বলে এড়িয়ে গেলেন।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, আমরা এই ঘটনা শুনতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করি। পরে পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে নিরাপদে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। উভয় পক্ষকে নিয়ে ঘটনা সমাধান করার চেষ্টা করছি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৮ এএম

ভগবান  শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) সনাতনী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে।


শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় উপাসনালয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সনাতনী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ভক্তরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


সন্ধ্যা আরতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টায় শ্রীরূপ অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সাত্ত্বিক প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়।


অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বুটেক্সের ৫০তম ব্যাচের পক্ষ থেকে ৫১তম ব্যাচকে আগমনী শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুব্রত কুমার পাল শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি কেন্দ্রীয় উপাসনালয়ে নিত্যপূজা ও ধর্মীয় বিধি পালনের বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সিনিয়র-জুনিয়র নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, “প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বুটেক্সের কেন্দ্রীয় উপাসনালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমী উদযাপিত হয়েছে। জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সত্য ও ন্যায়ের বিজয়ের বার্তাও বহন করে।


তিনি আরো বলেন, “ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও দর্শন মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে এবং মানবকল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। বুটেক্সের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আয়োজন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতিকে আরও সুদৃঢ় করে।”


টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লিমা দাস বলেন, “ক্যাম্পাসে আসার পর এটিই আমাদের ব্যাচের প্রথম ধর্মীয় অনুষ্ঠান। শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সকল সিনিয়র ভাই-বোনের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।”


ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে বুটেক্সের সনাতনী শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫০ পিএম

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএডিসি) ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে পদায়নের প্রতিবাদ এবং বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ নিশ্চিতের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মানববন্ধন করেছেন কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।


শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষদের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।


মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রকৌশল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদে বিএসসি ডিগ্রিধারী কৃষি প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ফোরম্যান ও ডিপ্লোমাধারীদের পদোন্নতির মাধ্যমে প্রকৌশলী পদে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের নিয়োগের সুযোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।


শিক্ষার্থী শাকিল বলেন, কৃষি খাতে যত ক্ষেত্রে প্রকৌশল প্রয়োজন রয়েছে, কৃষি প্রকৌশলীরা সকল ক্ষেত্রে উপযুক্ত। এইখানে অন্য কোনো প্রকৌশল আসার সুযোগ নেই। বাঁধ নির্মাণ থেকে শুরু করে বড় বড় প্রজেক্টে নেতৃত্ব দিচ্ছে আমাদের প্রকৌশলীরা। কিন্তু আমাদের সাথে যে প্রহসন করে আমাদের নিয়োগ আটকে রাখা হচ্ছে, এগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা সবাই সমবেত হয়েছি। 


শিক্ষার্থী আশিক বলেন, ‎আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফা, ২৭ দফায় কৃষি ক্ষেত্রের উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং স্মার্ট প্রযুক্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। কৃষি ক্ষেত্রে এআই, ড্রোন, রিমোট সেন্সিং, স্মার্ট সেচ পদ্ধতি এগুলো ব্যবহারের জন্য তিনি বিশেষভাবে তাগিদ দিয়েছেন। আগামী ১৫ বছর পরে এসব ক্ষেত্রে লাগবে রিমোট সেন্সিং, অটোমেশন, স্মার্ট সিস্টেম। এগুলো শুধুমাত্র করতে পারে কৃষি প্রকৌশলীরা। আমাদের কৃষি প্রকৌশলে মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল এবং সিভিল সবগুলোই আমরা পড়াশোনা করে থাকি। আমরা এই সেক্টরগুলোতেও কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল করতে পারবো।


আরেক শিক্ষার্থী জসিম বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সপ্তম থেকে নবম গ্রেডে নিয়োগে কৃষি প্রকৌশলীদের যথাযথ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে ফোরম্যানকে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা দেশের জন্য লজ্জাজনক। তাই নবম গ্রেডের কৃষি পদে শতভাগ প্রকৌশলী নিয়োগের দাবি জানাচ্ছি। কৃষি প্রকৌশলীরা পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করলেও কর্মক্ষেত্রে তাঁদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান করছি।


মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানান। দাবিগুলো হলো—


১. ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদে প্রবেশের জন্য সবাইকে পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বি.এসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি নয়, এমনকি অন্য নামে সমমান পদ তৈরি করেও পদোন্নতি দেওয়া যাবে না। বিএডিসি, বিনা, বিএমডিএ-তে একক ভাবে কৃষি প্রকৌশলী দের নিয়োগ দিতে হবে। 


২. টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমান পদ পূরণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ ডিপ্লোমা ও বি.এসসি উভয় ডিগ্রিধারীদেরকে পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হবে।


৩.বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ব্যতীত প্রকৌশলী পদবি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।


মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কৃষি খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে দক্ষ প্রকৌশলী প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে যোগ্যতা ও শিক্ষাগত মানদণ্ড অনুসরণ করে নিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সর্বশেষ সব খবর