গ্র্যান্ড ফাইনালে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘ক্রাউন অব আর্গুমেন্ট: ফ্রেশার্স ডিবেট চ্যাম্পিয়নশিপ’ এর গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গণিত বিভাগ।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শহিদুল ইসলাম সৌরিভ ও পূর্ণী আক্তারের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসাইন সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোঃ জুলহাস উদ্দীন এবং কুমিল্লা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহবুব।
টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের দল অংশ নেয়। তিনটি রাউন্ড শেষে গণিত বিভাগ ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। উত্তেজনাপূর্ণ বিতর্ক শেষে গণিত বিভাগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আব্দুর রহমান আস সাদী বলেন, “১৯টি বিভাগীয় দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য ছিল নবীন শিক্ষার্থীদের যুক্তিচর্চায় সম্পৃক্ত করা। আমি চাই, অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক নবীন বিতার্কিক বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে একজন চিন্তাশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুক।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কণ্ঠগুলো নিজেদের প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। আশা করি, আজকের এই নবীন বিতার্কিকরাই ভবিষ্যতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কাঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে গর্বের সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করবে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবেশবান্ধব দুটি ইলেকট্রনিক কার (ই-কার) উদ্বোধন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ই-কার দুটি উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, “নোবিপ্রবিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ যাতায়াতের সুবিধার্থে ই-কার চালু করা একটি সময়োপযোগী ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ বলে আমি মনে করি। ক্যাম্পাসের গোলচত্বর থেকে শুরু করে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ই-কার চক্রাকারে পরিচালিত হবে। এটি সবার যাতায়াতকে যেমন সহজ ও নিরাপদ করবে, তেমনি ক্যাম্পাসে কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।"
এ সময় উপাচার্য নোবিপ্রবিকে পরিবেশ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান থাকবে বলে উল্লেখ করেন।
উদ্বোধনকালে অন্যদের মধ্যে নোবিপ্রবি পরিবহন পুলের প্রশাসক ড. মো. মফিজুর রহমানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, পরিবেশবান্ধব ই-কার থেকে সম্পূর্ণ জিরো কার্বন নিঃসরণ হয় এবং এটি বৈদ্যুতিক চার্জের মাধ্যমে চললেও পরবর্তীতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে পরিচালনা করা যাবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে ই-কারগুলো সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে চলাচল করবে।
ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম
গত ২২ আগস্ট (শনিবার) ২০২৬ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণের আয়োজন করেন নোবিপ্রবি ছাত্রশিবির শাখা। উক্ত অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সাবেক উপাচার্য, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রাবিপ্রবি)। এছাড়া, একই অধিবেশনে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের পর শুধুমাত্র কিছু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, কিছু নাম পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু পুরোনো বন্দোবস্ত একই রকম রয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে। এখন ক্ষমতায় আসার পর বলছে, তারা ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে কাউন্সেলিং করেছে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যে তেল-গ্যাসের সংকট ছিল না, বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা দেখা দিয়েছে। এসব সমস্যা আগামী পাঁচ বছরেও ঠিক হওয়ার নয়।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিগুলো পরিবর্তন করে ফেলছে। ১৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে সরাসরি তাদের পোস্টেড নেতাদের বসিয়েছে, যাদের কোয়ালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেস কোয়ালিটি সম্পন্ন। যাদের একটি বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়ার যোগ্যতা নেই, তারা ভিসি পদে আসীন হয়েছে।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ভাষা শহীদ আবদুস সালাম হল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এখনও প্রতিবেদন জমা হয়নি। তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ করতে পারেনি কমিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জারি করা অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানকে সদস্য এবং প্রক্টর অধ্যাপক এএফএম আরিফুর রহমানকে সদস্য-সচিব করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক ধীরগতির অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, “আমরা নিরপেক্ষ ও নির্ভুল একটি প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। অনলাইন মিডিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের হাতে এসেছে। এগুলোর ফাইলের আকার অনেক বড় হওয়ায় তা বিশ্লেষণ করতে বাড়তি সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। বিশেষ করে সংঘর্ষের সময় বহিরাগত কারা উপস্থিত ছিল, তাদের সঠিকভাবে শনাক্ত করার জন্য এসব ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি বলেন, “তদন্তের অংশ হিসেবে আমরা ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব, আহত শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছি। কমিটির সদস্যদের দাপ্তরিক ব্যস্ততার পাশাপাশি অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় সবার সঙ্গে কথা বলতেও কিছুটা সময় লাগছে।”
অধ্যাপক হাছান উদ্দীন আরও বলেন, “সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব বিবেচনা না করে প্রকৃত দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা উপাচার্য মহোদয়ের কাছে আরও তিন কার্যদিবস সময় বৃদ্ধির আবেদন করেছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যেই সত্য ঘটনা উদ্ঘাটন করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারব।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ ও ১৮ আগস্ট নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ময়মনসিংহে ভেটেরিনারি চিকিৎসক ডা. মো. আশিকুর রহমান ও ডা. মো. আব্দুল হান্নানের ওপর হামলা, মারধর এবং তাঁদের চেম্বারে ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন গ্রন্থাগারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা ও অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীমসহ ভেটেরিনারি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর জিলা স্কুলের পাশে অবস্থিত ‘ডক্টরস পেট কেয়ার’ নামের ভেটেরিনারি চেম্বারে ডা. মো. আশিকুর রহমানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধরের পাশাপাশি চেম্বারে ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ২০ আগস্ট কেওয়াটখালি বাজারে অবস্থিত ডা. মো. আব্দুল হান্নানের ‘ভেট এন্ড পেট কেয়ার ময়মনসিংহ’ এ একই ব্যক্তিরা হামলা করেন। ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. মো আব্দুল হান্নান উভয়েই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অনুষদের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন ভেটেরিনারি চিকিৎসকের কর্মস্থলে প্রবেশ করে তার ওপর হামলা ও মারধর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও পেশাগত পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো চিকিৎসক যেন কর্মস্থলে এ ধরনের হামলার শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় অধ্যাপক ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন ভূঞা বলেন, ডা. আশিকুর রহমানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী, একজন শিক্ষক এবং ভেটেরিনারি পেশার একজন কর্মী হিসেবে আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে।
অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম বলেন, ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. আব্দুল হান্নানের ওপর এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের অতিসত্বর গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম বলেন, একজন ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে এ ঘটনায় আমি ব্যথিত। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বাহানুর রহমান বলেন, ডা. আশিকুর রহমান ও ডা. আব্দুল হান্নানের ওপর যে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা আশা করি, সরকার এ ঘটনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ক দিনব্যাপী হ্যাকাথন ‘বিল্ড উইথ এআই’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ হ্যাকাথনের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগ আয়োজিত এ হ্যাকাথনের আনুষ্ঠানিক সমাপনী ঘোষণা করা হয় সন্ধ্যা ৭টায়।
দিনব্যাপী আয়োজনে সকালে প্রতিযোগীদের জন্য বিশেষ প্রোগ্রামিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুপুর ২টা থেকে প্রতিযোগীরা জেমিনাই ও ইলেভেনল্যাবসের অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) ব্যবহার করে তিনটি ক্যাটাগরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-চালিত বিভিন্ন অ্যাপ তৈরি করেন। প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য ছিল জেমিনাই ও ইলেভেনল্যাবস এপিআইয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং কৃষি খাতে টেকসই ও প্রভাবশালী প্রযুক্তিগত সমাধান তৈরি করা।
প্রতিযোগিতা শেষে পাঁচটি দলকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাকিব হাসান এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিন।
‘বেস্ট ইউজ অব জেমিনাই এপিআই’ ক্যাটাগরিতে বিজয়ী হয়েছে মেহনাজ বেগম হেনার ‘স্মার্ট এক্সাম প্রিপারেশন অ্যান্ড প্রিভিয়াস কোয়েশ্চেন রিপোজিটরি’ প্রকল্প। ‘প্রশ্ন ব্যাংক থেকে জ্ঞান ব্যাংক’ প্রতিপাদ্য নিয়ে তৈরি প্রকল্পটি এ সাফল্য অর্জন করে।
‘বেস্ট প্রজেক্ট বিল্ট উইথ ইলেভেনল্যাবস’ ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছে ইশতিয়াক আদিক, ইকবাল হোসেন ও আবদুল্লাহ আল সায়েদের ‘নিউট্রিলেন্স’। এআই-চালিত স্মার্ট ক্যাম-ভিশন প্রকল্পটি খাবারের প্লেট বিশ্লেষণ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগের মতো জটিল পরিস্থিতিতে রিয়েল-টাইমে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দেয়।
কৃষি খাতে সবচেয়ে প্রভাবশালী সমাধানের ক্যাটাগরিতে প্রথম হয়েছে হোরাইরা রেজোন, ইহফাজ হাকিম আদনান ও মাশরাফুল হুদার তৈরি ‘এগ্রিব্রিজ’। ভয়েস ও ছবির মাধ্যমে কৃষকের ফসলের রোগ শনাক্ত করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও আবহাওয়ার তথ্যের সঙ্গে যুক্ত করে সমাধান প্রদান করে অ্যাপটি।
একই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় হয়েছে প্রীতম চৌধুরী সাহিত্য, ফারিহা রথি, মিনহাজ আবেদীন ও সুমাইয়া সাবরিন স্বর্ণার ‘বিডি ট্রাভেল’। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে লাবিব ইবনে সিরাজের ‘এআই এগ্রি অ্যাসিস্ট্যান্ট’। প্রকল্পটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কৃষকদের সমস্যা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সমাধান তৈরিতে সক্ষম।
সভাপতি মেহেদী - সাধারণ সম্পাদক শফিউল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আইসিটি বিভাগের সহযোগী সংগঠন আইসিটি এসোসিয়েশন-এর ২০২৬ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম চৌধুরী।
রোববার (২৩ আগস্ট) এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা আলিমুল রাজি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
নবগঠিত কমিটির সহ-সভাপতি হয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মো. আসিফ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন একই শিক্ষাবর্ষের ইকবাল হায়দার ইমন কোষাধ্যক্ষ মো. রায়হান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রমিত মজুমদার, সমাজকল্যাণ ও খাদ্য সম্পাদক নাবিদুল হাসান নাবিল, ওয়েব ও প্রকাশনা সম্পাদক সুলতানা আক্তার, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল্লাহ, মহিলা শিক্ষার্থী সম্পাদক সাওদা হক শৈলী এবং বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের একাধিক কার্যনির্বাহী সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী বলেন, "সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে সম্মানিত শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমার ওপর আস্থা রেখে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন। সভাপতি ও পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব। একাডেমিক উৎকর্ষ, সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম, টেকনিক্যাল দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।"
নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মেহেদী হাসান বলেন, "সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ায় সম্মানিত শিক্ষক ও সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। এই দায়িত্ব শুধু একটি পদ নয়, বরং বিভাগের জন্য ইতিবাচক কাজ করার সুযোগ। একাডেমিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও সহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা কাজ করব। সবার মতামত ও অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে অর্পিত দায়িত্বের মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার।"