সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্রদের আবাসিক হল ‘শাহপরাণ হল’-এর প্রভোস্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টি টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ। তাঁর পদত্যাগের পর নতুন প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে নতুন প্রভোস্ট নিয়োগের বিষয়টি জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, শাবিপ্রবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত শাহপরাণ হলের প্রভোস্ট হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। এ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। আদেশে নবনিযুক্ত প্রভোস্টকে বিদায়ী প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদের নিকট থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার জন্য এবং বিদায়ী প্রভোস্টকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে, ড. ইফতেখার আহমদ পদত্যাগ করলেও তাঁর দায়িত্বকালে বেশ কিছু সমালোচিত ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে, শাহপরাণ হলে আবাসিক শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকারের ওপর হামলার ঘটনাটি সে সময় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোড়ন তুলে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, সে সময় হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার পরিবেশনের অভিযোগ তুলেছিলেন ওই শিক্ষার্থী। খাবারের মানোন্নয়নের দাবিতে হল প্রভোস্টকে মেনশন দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটি মেসজ পাঠিয়েছিলেন। এর জেরেই তাঁর ওপর হামলা হয়। সেই হামলার ঘটনায় প্রভোস্টকেও দোষী সাব্যস্ত করে তখন তাঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছিলেন শিক্ষার্থীরা।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) আবাসিক হলগুলোতে পরিবেশিত 'উন্নতমানের' খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনার জেরে কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা (AGEC) বিভাগের লেভেল-৩, সেমিস্টার-১ এর AGEC 333 কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়। তবে হল প্রশাসন খাবারের সঙ্গে অসুস্থতার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে ৫ আগস্ট রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সব আবাসিক হলে 'উন্নতমানের' খাবার পরিবেশন করা হয়। এর আগে এই খাবারের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০ টাকা নেওয়া এবং নির্ধারিত মেনু নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। অভিযোগ ওঠে, নির্ধারিত অর্থের তুলনায় খাবারের মান ও মেনু সন্তোষজনক নয়। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রতিবাদস্বরূপ ফিস্ট বয়কটও করেন।
ফিস্টের পর রাত থেকেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বমি, পাতলা পায়খানা ও পেটের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, বিশেষ করে পরিবেশিত ডাল খাওয়ার পর একই ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য তারা হল প্রশাসনের অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন।
পরদিন সকাল ১০টায় AGEC 333 কোর্সের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে অসুস্থ কয়েকজন শিক্ষার্থী মৌখিকভাবে বিষয়টি কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনকে জানান।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন বলেন, "পরীক্ষা শুরু হওয়ার দেড় ঘণ্টা আগে কয়েকজন মেয়ে ফোন দিয়ে এই বিষয়টি জানান। আমি তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা পেছানোর সিদ্ধান্ত নিইনি। প্রথমে সংশ্লিষ্ট লেভেলের ক্লাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলি। তিনি বিষয়টির সিদ্ধান্ত আমার ওপর ছেড়ে দেন। সময়ের স্বল্পতা এবং নারী শিক্ষার্থীদের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মানবিক কারণে পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিই।"
তবে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে একমত নন অনেক শিক্ষার্থী। তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে উপস্থিত হন। এমনকি উত্তরপত্র বিতরণের পর হঠাৎ পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "সব প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছি। খাতা পর্যন্ত হাতে পেয়েছি। এরপর পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলো। পান থেকে চুন খসলেই পরীক্ষা পিছিয়ে যায়। একাডেমিক রুটিনের কোনো মূল্য নেই, একাডেমিক শৃঙ্খলাও নেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের।"
অন্যদিকে অপরাজিতা-২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার খাবারের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তিনি বলেন, "সবগুলো হলের মধ্যে সবচেয়ে ভালো বাজার করা হয়েছে আমাদের হলে। রান্না থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত আমি ও হল প্রশাসন পুরো বিষয়টি মনিটরিং করেছি। প্রায় সাড়ে বারোশ মানুষের জন্য আয়োজন ছিল। একজন শিক্ষার্থীও আমাকে কোনো অভিযোগ করেনি। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে সবার আগে আমার জানার কথা। আমি এবং হল প্রশাসনের সবাই এই খাবার খেয়েছি। আমাদের কারো কোনো সমস্যা হয়নি। যদি কেউ এমন দাবি করে থাকে, তাহলে পরীক্ষা পেছানোর অজুহাত হিসেবেও দিতে পারে।"
খাবারের মান নিয়ে আগেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ, ফিস্ট বয়কটের ঘোষণা, খাবার খাওয়ার পর একাধিক শিক্ষার্থীর একই ধরনের অসুস্থতার অভিযোগ এবং শেষ পর্যন্ত একটি সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজনের ক্ষেত্রে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, “ডিন পরীক্ষা বাতিল করার পর বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ১২০০ বা ৭০০ শিক্ষার্থীর হলে দু-একজনের ফুড পয়েজনিং হতেই পারে, এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। তবে সাধারণত বড় কোনো অনুষ্ঠানের পরদিন পরীক্ষা রাখা হয় না, হয়তো ভুলবশত তাঁরা পরীক্ষাটি রেখেছিলেন।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর উপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে শিক্ষার্থীরা। সংবাদ সম্মেলনে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে তাঁরা। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হামলার শিকার ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া উক্ত ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য শিক্ষার্থীরাও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।
গতকাল বৃস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট সংলগ্ন রাস্তায় চারজন শিক্ষার্থীকে বুটেক্স ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মারধরের অভিযোগ উঠে। ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক, ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত, একই ব্যাচের ও বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন সরকার এবং ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্রসহ অন্যান্যরা মারধরে সম্পৃক্ত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এবং ঘটনার সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সহপাঠী তাসনিম আনোয়ার ও এস এম সাদিকুজ্জামান বক্তব্য দেন। সংবাদ সম্মেলনে ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিম আনোয়ার বলেন, “বুটেক্সে আনুষ্ঠানিকভাবে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।গত ৫ আগস্ট হলে মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করায় পরদিন ক্লাস ও ল্যাব শেষে ফেরার সময় পকেট গেটের সামনে মিরাজুলের ওপর হামলা করা হয়।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলের পরিচয়ধারী কয়েকজন মিরাজুলকে এলোপাতাড়ি ঘুষি ও লাথি মারেন। এসময় ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের সহপাঠী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্বের ওপরও হামলা করা হয় এবং তাঁর চশমা ভেঙে দেওয়া হয়। এতে তাঁর চোখ ও মুখে আঘাত লাগে।”
ঘটনার পর উপাচার্য, প্রক্টর ও হল প্রভোস্টের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানিয়ে তাসনিম বলেন, “তাঁরা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ চাইলেও প্রশাসন তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। একদিকে রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাসের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপাচার্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন, হলে সিট দখল করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি চালাচ্ছেন।”
সংবাদ সম্মেলনে হামলার মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে সম্প্রতি গণস্বাক্ষর কর্মসূচি আয়োজন করেছি। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখনো ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের রাজনীতি চায় না। আমরা এই গণস্বাক্ষর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেব।”
এসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সাত দফা দাবি তুলে ধরেন ৪৯তম ব্যাচের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম সাদিকুজ্জামান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে হামলার মূল অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব দ্রুত বাতিল, হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের অন্তত দুই বছরের জন্য বহিষ্কার এবং ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে ঘটনাস্থলের সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করা ইত্যাদি।
এছাড়া নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদত্যাগ, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা এবং রাজনৈতিক কমিটিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, উপাচার্যের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবির বাস্তবায়ন ও হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বুটেক্সের সব ব্যাচের ক্লাস, ল্যাব ও পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের ঘোষণাও দেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অফিস আদেশ অনুযায়ী, উক্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রক্টর বরাবর জমা দিতে বলা হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ঘোষিত কর্মসূচিকে ঘিরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ক্যাম্পাসের ভেতরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। প্রবেশের সময় শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র যাচাই করা হচ্ছে।
অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা জবি ছাত্রদলের
এদিকে কর্মসূচিকে ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে দেখা গেছে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার, ভাষাশহীদ রফিক ভবন, অবকাশ ভবন ও ভাস্কর্য চত্বরে অবস্থান নিয়েছেন। ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা অবকাশ ভবনের জকসু কক্ষে অবস্থান করছেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধিরা উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইস উদদীনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য প্রশাসনিক ভবনে অপেক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) চার শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন বুটেক্সের ওয়েট প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মো. এহসানুল হক রাফি, রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব ও মাহিন জামান।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ল্যাব শেষে বের হওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী মিরাজকে অনুসরণ করে পকেট গেটের সামনে তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য, এ সময় ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সুমন সরকার ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার দপ্তর সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত এবং ৪৮তম ব্যাচের ফ্যাব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ও ছাত্রদল বুটেক্স শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক বর্ষণ বণিক মিরাজকে মারধর করেন। তাঁদের সঙ্গে থাকা ৪৯তম ব্যাচের ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দেবনাথ সৌমিক চন্দ্র, টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের সুজিত রায় ও ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. আবিদ হাসান শিশিরসহ কয়েকজন এতে সহযোগিতা করেন বলেও জানান তাঁরা। একপর্যায়ে মিরাজের পরনের জামা ছিঁড়ে যায়। পরে পর্ব মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে বর্ষণ বণিক তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন পর্ব।
ঘটনার বিষয়ে মিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “গতকাল জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বুটেক্সের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের নামে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। এর প্রতিবাদে আমি ফেসবুকে একটি পোস্টে মন্তব্য করি। সেখানে আগে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের মিষ্টি বিতরণ নিয়ে মন্তব্য করেছিলাম। আমার ধারণা, ওই মন্তব্যের জেরেই আজ আমার ওপর হামলা করা হয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এফএসডি ল্যাব থেকে বের হলে পকেট গেটের সামনে কয়েকজন আমাকে ঘিরে ধরেন। প্রান্ত আমাকে জোর করে ভেতরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় আমার কলার ধরে টান দিলে টি-শার্ট ছিঁড়ে যায়। পরে আমাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।”
আহত শিক্ষার্থী রাইয়ান সিদ্দিকী পর্ব বলেন, “মিরাজকে মারধরের সময় তাঁকে রক্ষা করতে আমরা এগিয়ে যাই। এ সময় প্রান্ত একটি বাঁশ নিয়ে মিরাজকে মারতে এগিয়ে আসেন। তখন আমি মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করি। ভিডিও করার সময় বর্ষণ বণিক আমার কলার ধরে মুখে ঘুষি মারেন।”
অভিযোগের বিষয়ে মাজেদুল ইসলাম প্রান্ত বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমাদের উসকানিমূলক কথা বলা ও ‘লীগ’ ট্যাগ দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই মিরাজের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি উসকানিমূলক আচরণ করায় পরিস্থিতি ধাক্কাধাক্কির পর্যায়ে যায়। আমরা মারামারি এড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমাদের ফাঁসাতে ও নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করতেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।”
এ ছাড়া অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী বর্ষণ বণিকের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে বুটেক্স ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ রুবেল বলেন, “আজকের এই অপ্রীতিকর ঘটনা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত এবং অত্যন্ত দুঃখজনক। যেই ট্যাগিংয়ের রাজনীতি বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট ছাত্রসংগঠন কর্তৃক হতো, এখন সেই ট্যাগিংয়ের অপরাজনীতি গুপ্ত সংগঠনের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমরা এই ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করছি।”
বুটেক্সের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “যারা হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দাও তোমরা। অভিযুক্তদের নামের তালিকাসহ আবেদন করো। আমরা সব অভিযোগ গ্রহণ করব এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করব। সব ধরনের তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর দোষীদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচি থাকলেও বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) আয়োজন সীমাবদ্ধ রয়েছে আবাসিক হলের বিশেষ খাবারে। ক্যাম্পাসে দিবসটিকে কেন্দ্র করে কোন আয়োজন না থাকায় এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজন না রেখে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে আয়োজন থাকায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও শহীদদের স্মরণ ও স্মৃতিচারণ আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী কিংবা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে বুটেক্সে ৫ আগস্ট উপলক্ষে ক্যাম্পাসে কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় নি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছুটির দিন হওয়ায় উপস্থিতি কম থাকার কারণ দেখিয়ে ৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠান করার কথা থাকলেও পরবর্তী অজ্ঞাত কারণে তা বাতিল করা হয়। কেবল আবাসিক হলগুলোতে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাশাপাশি আবাসিক ও অনাবাসিক সকল শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেন এমন কোনো কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক, স্মরণমূলক বা বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মসূচিও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাখা হয়নি।
দিনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে পালনের সুযোগ ছিল বলে মনে করেন ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. এমদাদ সরকার। তিনি বলেন,"আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য হলে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে, যা জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আজকের দিবসটিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা, আলোকচিত্র বা ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে জুলাইয়ের ইতিহাস ও আত্মত্যাগ শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরার সুযোগ ছিল।"
জুলাইয়ের চেতনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সুলতান মাহমুদ বলেন,"জুলাই মানে সাম্যতা ও ন্যায্যতা। মুখে আমরা জুলাইয়ের সাম্যতার কথা বলছি, অথচ আজকের দিনে বুটেক্সে কোনো কেন্দ্রীয় আয়োজন নেই। যারা জুলাইয়ের সুবিধা নেবে, তাদের জুলাইয়ের দায়টাও নিতে হবে। আমরা যারা ৩৬ জুলাই রাস্তায় ছিলাম, আজ তারা কেউ কোনো কিছুতেই নেই। বর্তমান প্রশাসনেরও এই দিনটি নিয়ে কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ক্যাম্পাসের দিকে তাকালেই সেটা বোঝা যায়।"
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ধ্রুব সাহা রুদ্র বলেন,
"৫ আগস্টে বুটেক্সের হলগুলোতে ফিস্ট ছাড়া ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আয়োজন নেই। জুলাই আন্দোলনে সামনে থেকে অংশ নেওয়া বুটেক্সের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
পাশাপাশি আন্দোলনের পর এসব শিক্ষার্থীর ‘পোস্ট-জুলাই ট্রমা’ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো কাউন্সেলিং হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসেন সামি বলেন,"৫ আগস্টের মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। অথচ সেই দিনটিকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই আন্দোলনের ত্যাগ ও নতুন বাংলাদেশের স্মৃতি রোমন্থন করা যেত। আন্দোলনে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন, তাদের সম্মাননাও দেওয়া যেত।"
টেক্সটাইল ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. শাহ নাফি উদ্দিন তুর বলেন,"সীমিত পরিসরে কেবল আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু আয়োজন করা হলেও অধিকাংশ অনাবাসিক শিক্ষার্থী এর বাইরে থেকে গেছে। বুটেক্সের অধিকাংশ শিক্ষার্থী অনাবাসিক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিগুলো এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে সবাই সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।"
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্যের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কয়েকজন শিক্ষকের সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. তামজীদ হোসাইন চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত 'শেখ হাসিনাকে ফেরাতে গোপন তৎপরতা' শীর্ষক সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কার্যক্রম এবং সম্ভাব্য নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক সম্পৃক্ত আছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধানের লক্ষ্যেই ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে।
হাসিনাকে ফেরানোর অভিযোগে কুবির ১১ শিক্ষকের সম্পৃক্ততা, তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন এবং সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ এফ এম আরিফুর রহমান।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, কমিটিকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে অনুসন্ধান করে যথাযথ সুপারিশসহ প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাখিল করতে হবে।
এদিকে, কমিটির প্রথম সভা বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেল ৩টায় আহ্বায়কের দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে অফিস আদেশে জানানো হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুসন্ধান কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের ভিত্তিতেই পরবর্তী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।