• প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ পিএম

‎বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 

জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ। 

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ক,খ,গ,ঘ মোট চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি বিভাগ থেকে তিনজন করে মোট ১২ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়।

"ক" দলে নার্সারী থেকে ২য় শ্রেণী পর্যন্ত শিশুরা অংশ নেয় এবং এতে ১ম স্থান অধিকার করে শিশু নিকেতনের রাইয়ান আদিয়ান, ২য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের ওয়াসিফা রহমান ইনারা এবং ৩য় স্থান অধিকার করে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের খাদিজা তুজ তাহিরা। 

"খ" দলে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং এতে ১ম স্থান অধিকার করে কে বি হাই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ শায়ান হোসেন, ২য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র জারিফ আরিয়ান এবং ৩য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের নেহরিন ইঞ্জিলা সাত্তার। 

"গ" দলে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ১ম স্থান অধিকার করে ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তানিশা তাবাসসুম ইথা, ২য় স্থান অধিকার করে ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া মন্ডল অন্বেষা এবং ৩য় স্থান অধিকার করে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিম হোসেন রাইসা।

"ঘ" দলে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।১ম স্থান অধিকার করে ভবেখালি দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণীর ফাতিমাতুজ জাহরা, ২য় স্থান অধিকার করে কে বি হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সামিন নিহাল এবং বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয় কে বি হাই স্কুলের জাইমা ইসলামকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তোমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। এ গণঅভ্যুত্থান থেকে অর্জিত চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা সচেতন থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে।



সর্বশেষ সব খবর

জাককানইবি উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

“জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস এক অর্থে গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে।” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, জুলাই একদিকে আনন্দঘন, অন্যদিকে বেদনাবিধুর। এই মাস দেশের জন্য আত্মত্যাগের স্মারক। “জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না, ভাইহারা বোন ও বোনহারা ভাইয়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস মানুষের জীবন। অথচ দেশের প্রয়োজনে এ দেশের মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাইয়ের শহিদরা জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন।”





উপাচার্য আরও বলেন, ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। সেই চেতনাকে ধারণ করে সব ধরনের বিভেদ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের জন্য আত্মাহুতি দেওয়া ব্যক্তিদের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।



জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।


আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকে তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।


এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বিজয় র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে নির্মিতব্য প্রস্তাবিত জুলাই সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৫১ পিএম

জুলাই’২৪ গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( বাকৃবি) বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার(৫ আগষ্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ থেকে শুরু করে কৃষি অনুষদের করিডোর হয়ে কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ বিশ্ববিদ্যলয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র প্রতিনিধিরা।

শোভাযাত্রা শেষে সকলের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, "ছাত্রজনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনর সূত্র ধরেই এদেশের সাধারন জনগন রাজপথে নেমেছিল ফ্যাসিবাদী সরকারকে প্রতিহত করার জন্য। এদেশের মানুষের উপরে নির্যাতন, নিপীড়ন, হেলিকপ্টার থেকে গরম পানি নিক্ষেপ থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যেটা সেই ফ্যাসিবাদী সরকার করেনি।"

তিনি আরও বলেন, "তারা এখনো নানা বিধি চেষ্টা করছে এই অর্জনকে ধূলিসাৎ করার। কিন্তু এদেশের নিপীড়িত মানুষ আর কখনোই তাদেরকে বাংলার মাটিতে মেনে নিবে না।"

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৫ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ এএম

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বায়োইনফরমেটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রথম ইন্টার্নশিপ থেকে অর্জিত জ্ঞান তুলে ধরতে পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অফিসের সামনে এ প্রেজেন্টেশনের আয়োজন করা হয়। 

এতে কম্পিউটার সায়েন্স এ্যান্ড ম্যাথমেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রাকিব হাসান, সহযোগী অধ্যাপক ড. মেছবাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য অনুষদের শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থীরা দেড় মাসে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করা ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করেন। প্রতিটি শিক্ষার্থী পোস্টারের মাধ্যমে ইন্টার্নশিপ চলাকালে ব্যবহৃত প্রযুক্তি, গবেষণার ফলাফল এবং অর্জিত দক্ষতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

পোস্টারগুলোতে জিনোম ও ট্রান্সক্রিপ্টোম বিশ্লেষণ, নেক্সট জেনারেশন সিকোয়েন্সিং (NGS), ভ্যারিয়েন্ট কলিং, মেশিন লার্নিংভিত্তিক জিন শনাক্তকরণ, কৃষিতে জিওস্পেশিয়াল এআই, ইউএভি (ড্রোন) নির্ভর প্রিসিশন এগ্রিকালচার, ডেঙ্গু পূর্বাভাস মডেল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বায়োমেট্রিক ও ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন, মাছের জিনোম বিশ্লেষণসহ নানা আধুনিক গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর কাজের স্থান পায়। 

প্রেজেন্টেশনে অংশ নেওয়া বায়োইনফরমেটিক্সের শিক্ষার্থী এম রাফিউল বাহার রাফি বলেন,

"প্রথম ব্যাচ হিসেবে আমরা দেড় মাস দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ করেছি, যেখানে ডিএনএ, আরএনএ ও জিনোমিক ডেটা বিশ্লেষণসহ বায়োইনফরমেটিক্সভিত্তিক কাজ পরিচালিত হচ্ছে। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাংলাদেশের এ খাতের বর্তমান সক্ষমতা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ভবিষ্যতে কৃষি, জনস্বাস্থ্য, জীবনিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির বিস্তৃত প্রয়োগ এবং দেশীয় স্টার্টআপ ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ রয়েছে। আজকের পোস্টার প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আমরা ইন্টার্নশিপে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও দেশের বায়োইনফরমেটিক্স শিল্পের বর্তমান চিত্র সবার সামনে তুলে ধরেছি।"

উল্লেখ্য, ইন্টার্নশিপের জন্য শিক্ষার্থীরা ইনভেন্ট টেকনোলজিস লিমিটেড, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচার (বিনা), বাংলাদেশ ফিশারিজ রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), মাইক্রোম্যাক টেকনো ভ্যালি লিমিটেডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ পিএম


যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান ও সহিংসতার প্রতিবাদে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে পতাকা উত্তোলন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরা।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১টা ১০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলরব প্রাঙ্গণে এ আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এ সময় ফিলিস্তিনের পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি গাজায় চলমান মানবিক সংকট ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।


শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ‘ফ্রম দ্য রিভার টু দ্য সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি’, ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’, ‘আমেরিকার দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ইসরায়েলের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’—এ ধরনের স্লোগান শোনা যায়। এ সময় কিছুক্ষণ ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে ক্যাম্পাসে অবস্থান করেন শিক্ষার্থীরা।


অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি, বাস্তুচ্যুতি ও চলমান মানবিক সংকটের প্রতিবাদ জানাতেই এ আয়োজন। এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চান তাঁরা।


এ বিষয়ে ৪৯তম ব্যাচের অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল হক দিপু বলেন, “আজকের কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা। আমরা পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকলেও ফিলিস্তিনের মানুষের পাশে আছি—পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সেই বার্তাই দিতে চাই। তাদের ওপর চলমান নির্যাতন, ক্ষুধা, বাস্তুচ্যুতি ও মানবিক সংকট যেন আমাদের চিন্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে হারিয়ে না যায়।”



ফিলিস্তিনের মানুষের নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকারের কথা তুলে ধরে ৫২তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, “গত কয়েক দিনে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। আমরা বুটেক্সের শিক্ষার্থীরা আজকের এই পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানাতে চাই, ফিলিস্তিনের মানুষেরও নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতিটি শিশুর স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে। আমরা চাই, বিশ্বের মানুষ এই সহিংসতার বিরুদ্ধে দাঁড়াক।”



অন্যদিকে, ৫১তম ব্যাচের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মো. রিয়াদ হাসান বলেন, “ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয় আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে। আমরা জানি, তাদের সামরিক সক্ষমতা অনেক বেশি। তারপরও নিজেদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব প্রতিবাদ জানাতেই এই আয়োজন। এর মাধ্যমে সমাজের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে উদ্বুদ্ধ করাই আমাদের উদ্দেশ্য।”



পরে শিক্ষার্থীরা ফিলিস্তিনের জনগণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গাজার মানবিক সংকট সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার কথাও বলেন তাঁরা।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।


আহতদের মধ্যে রয়েছেন—জবি কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাসু) সহসভাপতি (ভিপি) রিয়াজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফসহ কয়েকজন সাংবাদিক।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলছিল।


সেসময় জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, মেডিকেল সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা ও চিকিৎসাসেবার উন্নয়নসহ সমসাময়িক বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।


এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে শিবিরকে অপসারণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।


জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয়।


তিনি আরও বলেন, হামলার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকেরও মদদ ছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।


নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন জকসুর জিএস।


অভিযোগ অস্বীকার করে জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারা দেশে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। আমরা দেখেছি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) তারা মব করার চেষ্টা করেছে। একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও তারা মব করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে তারা মব কালচার করে যাচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, তাদের প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত সাধারণ শিক্ষার্থীদের। তারা যখন শিক্ষার্থীদের আবাসনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।


ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।


তিনি বলেন, আমার মুখে, নাকে, পায়ে ও হাতে লাথি মারা হয়েছে। তারা নির্বিচারে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের কয়েকজন সদস্যকে আহত করেছে। ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক  ফেরদৌস শেখও আহত হয়েছেন।


সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া অগণতান্ত্রিক। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।


এ ধরনের ‘দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধে’ প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে জুলাইয়ের একটি প্রোগ্রাম চলছিল। এমন সময় বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি, জুলাইবিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।


ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মকবুল হোসেন, সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।


তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য আরও আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসছেন।


সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে বলেন, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।


এর আগে গতকাল রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানবিষয়ক একটি প্রদর্শনীতে টানানো ব্যানারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হন।

সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষার্থীদের স্পোর্টস স্কলারশিপ প্রদান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের ১৪ জন শিক্ষার্থীকে ‘স্পোর্টস স্কলারশিপ’ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩ টায় শারীরিক শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এ স্কলারশিপ প্রদান করা হয়। 


‘স্পোর্টস স্কলারশিপ ২০২৫-২৬’ বর্ষে ৬ টি ইভেন্টে (ছেলে-মেয়ে) ১৪ জনকে মনোনীত করা হয়। প্রতি ইভেন্ট থেকে দুই জন করে স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হলেও ফুটবল ও ভলিবল (ছেলে) ইভেন্ট থেকে ৩ জন করে মনোনীত করা হয়েছে। 


শারীরিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মবিরুল আলমের সঞ্চালনায় এবং ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, বিশেষ অতিথি হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।


বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, “আজ যে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; তা নিষ্ঠা, পরিশ্রম, দায়িত্ববোধ এবং কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি। কাজের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে যখন মূল্যায়ন করা হয়, তখন সেই স্বীকৃতি আরও বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে। এই পুরস্কার প্রমাণ করে যে আপনারা ধারাবাহিক প্রচেষ্টা করেছেন।”


প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, “খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়। এটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের অপরিহার্য অংশ। নিয়মিত খেলাধুলা মানুষের মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়, কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক শক্তি যোগায়। খেলাধুলা আমাদের আনন্দময় রাখে, মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এটি পড়াশোনায় মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খেলাধুলায় পারদর্শী হলে জব সেক্টরে এগিয়ে থাকা সম্ভব।” 


সভাপতির বক্তব্যে ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন বলেন, “খেলাধুলা শুধু নেতৃত্বই তৈরী করে না। তরুণ সমাজকে মাদকাসক্তির মতো ভয়াবহ অভিশাপ থেকে দূরে রাখে। যারা নিয়মিত খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত থাকে, তারা অবসর সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যয় করে। এতে খারাপ সঙ্গ, অপরাধ ও মাদকের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।”

সর্বশেষ সব খবর