শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৩ পিএম

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ, পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা জানতে গিয়ে ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য দেওয়ার জন্য এক সাংবাদিককে চাপ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রজব আলীর বিরুদ্ধে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দেওয়া পর্যন্ত সাংবাদিককে নিজের কক্ষ থেকে বের হতে দেবেন না বলেও জানান তিনি। একপর্যায়ে সাংবাদিকের পরিচয় যাচাই করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন করেন ওই অধ্যাপক।


সম্প্রতি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা জানতে কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রজব আলীর কার্যালয়ে যান রূপালী বাংলাদেশের সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম ফয়সাল। কমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য নেওয়ার পর তিনি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ফের ডাকেন অধ্যাপক রজব আলী।


এ সময় সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চাওয়ার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কোন বিভাগে এমএস করছেন এবং ওই বিভাগের সুপারভাইজারের নাম জানতে চান তিনি। সাংবাদিক তার কর্মরত গণমাধ্যমের দেওয়া পরিচয়পত্র দেখিয়ে রূপালী বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার বিষয়টি জানান। তবে পরিচয়পত্র দেখানোর পরও অধ্যাপক রজব আলী তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে বলেন।


সাংবাদিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে অধ্যাপক রজব আলী বলেন, “রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না।” 


এ সময় সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, “তুমি কি আমাকে চেনো? আমি এখানে ৩২ বছর শিক্ষকতা করছি। তুমি হয়তো আমার সম্পর্কে জানতে পেরেছ।”


রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার বিষয়ে চাপ অব্যাহত রেখে তিনি বলেন, “যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে না চাও, তাহলে সাংবাদিকতা করতে কেন এসেছ? যদি ডিগ্রির ভয় পাও, তাহলে কেন সাংবাদিকতা করতে এসেছ?”


একপর্যায়ে অধ্যাপক রজব আলী সাংবাদিককে প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন করে ওই সাংবাদিকের পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান।


ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির বিষয়ে ভবিষ্যতে তথ্য জানতে যোগাযোগের প্রসঙ্গেও সাংবাদিককে সতর্ক করেন অধ্যাপক রজব আলী। তিনি বলেন, “এই কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে আমাকে আর পাবে না। অতীতেও এমন হয়েছে। যারা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়নি, তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করিনি। তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে রেখেছি। তোমাদের উদ্দেশ্য কী, সেটা আমরা জানি।”


যে কমিটির তথ্য জানতে গিয়ে এই পরিস্থিতি


শেকৃবিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীকে।


কমিটির কার্যক্রম, তদন্তের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে সাংবাদিক হিসেবে অধ্যাপক রজব আলীর কাছে তথ্য চাওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের পর কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য, বিশেষ করে রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাওয়া এবং তা না দেওয়া পর্যন্ত সাংবাদিককে কক্ষ থেকে বের হতে না দেওয়ার বক্তব্যকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. রজব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “প্রথমেই তাকে জিজ্ঞেস করলে সে নিজেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। আলোচনা চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সে আমাকে খোঁচা দিচ্ছিল। পরে তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইলে সে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে যদি সত্যিই ছাত্র হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে সমস্যা কোথায়?”


সংবাদ সংগ্রহের সময় কোনো সাংবাদিকের কর্মরত প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেন প্রয়োজন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেওয়ায় আমি তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং তাকে অনেক কাগজপত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা উচিত ছিল, সে তা বজায় রাখেনি।”




ছবি: বিশ্ব নদী দিবসে নোবিপ্রবিতে CoEN-এর উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫২ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। নদী, পানি ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে নদীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের নিজস্ব সংগঠন Coastal Environment Network (CoEN)-এর উদ্যোগে এ র‍্যালির আয়োজন করা হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়। পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও CoEN-এর সদস্যদের অংশগ্রহণে র‍্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে এটি প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।


র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ, বন ও জলাভূমি সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানানো হয়।

এবারের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘বন নেই তো নদী নেই, নদী নেই তো পানি নেই, পানি নেই তো জীবন নেই।’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত র‍্যালিতে নদী, বন, জলাভূমি ও পানিসম্পদের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা, নদী দখল ও দূষণ বন্ধ, প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।


র‍্যালিতে অংশ নেওয়া পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদুর রহমান সৈকত বলেন, “নদী আমাদের পরিবেশ, অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু দখল, দূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের অনেক নদী আজ সংকটের মুখে পড়েছে। শুধু নদী দিবসে সচেতন হলেই হবে না, সারা বছর নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় আমাদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। আজকের এই র‍্যালির মাধ্যমে আমরা শুধু একটি দিবস পালন করছি না, বরং নদী রক্ষায় নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছি।”

পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শিবলুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলো বর্ষায় বন্যা ও তীরভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা মিঠাপানির জন্য হুমকি তৈরি করছে। এ অবস্থায় CoEN-এর মতো শিক্ষার্থীভিত্তিক সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী শুধু পানির উৎস নয়, আমাদের কৃষি, অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য ও সংস্কৃতির অংশ। তাই নদী দখল, দূষণ ও প্লাস্টিক বর্জ্য রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, নদীকে শুধু একটি জলপ্রবাহ হিসেবে দেখলে হবে না; এর সঙ্গে বন, জলাভূমি, জীববৈচিত্র্য, কৃষি ও মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তাই নদী সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।


Coastal Environment Network (CoEN)-এর সদস্যরা জানান, নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজন করা হয়েছে। নদী দিবসের মতো বিশেষ দিনগুলোতে কর্মসূচি আয়োজনের পাশাপাশি নিয়মিত পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে সংগঠনটি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পরিবেশবান্ধব নাগরিক ও নেতৃত্ব তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে পরিবেশ সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রেও CoEN-এর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নোবিপ্রবিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩০ পিএম

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উদ্যোগে র‌্যালি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে এদিন বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। এ সময় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ। এ প্রসঙ্গে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ব পর্যটন দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানসমূহের একটি মেলবন্ধন গড়ে তোলা। আমাদের দায়িত্ব হলো ঐতিহ্য রক্ষা করে পরিবেশ বান্ধব পর্যটনকে উৎসাহিত করা। এ সময় বৈদেশিক মুদ্রা আয়সহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে পর্যটন শিল্পের প্রসারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


র‌্যালিতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ ও ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান মো. নাজমুল হুদাসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। র‌্যালি শেষে দিবসটি উপলক্ষে শহিদ ক্যাডেট সার্জেন্ট রুমি ভবনের সম্মুখে বৃক্ষরোপণ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।

প্রসঙ্গত, দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটার রূপান্তর ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তায় আগামীর পর্যটন’। ১৯৮০ সাল থেকে জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বিষয় :


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২২ পিএম

শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ও যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের (OCE) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে।


আাজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের উপস্থিতিতে তার কনফারেন্স রুমে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।


সমঝোতা স্মারকের আওতায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানযোগ্যতা (employability) বাড়ানোর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জন ও অনলাইন শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে দুই প্রতিষ্ঠান।


অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. গিয়াস উদ্দিন এবং অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও সিইও জসিম উদ্দিন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।


চুক্তির আওতায় বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক অনলাইন কোর্স, ইংরেজি ভাষা শিক্ষা ও IELTS প্রস্তুতিমূলক অনলাইন কর্মসূচি এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে অন্যান্য একাডেমিক ও পেশাগত উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি জবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাগত ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবে OCE।


সমঝোতার মাধ্যমে যোগ্য জবি শিক্ষার্থীরা OCE-এর বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কর্মসূচির ধরন অনুযায়ী ইন্টারঅ্যাক্টিভ ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষার উপকরণ, মূল্যায়ন ব্যবস্থা, অনুশীলনমূলক প্রশ্নপত্র, মক টেস্ট, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ থাকবে।


এ ছাড়া OCE-এর কোনো কোর্সের নির্ধারিত শর্ত সফলভাবে পূরণকারী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট কোর্স সমাপ্তির সনদ বা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়ার সুযোগ থাকবে। যোগ্যতার মানদণ্ড ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জবির যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্সে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। তবে এসব কোর্সের নির্ধারিত ফি অংশগ্রহণকারীকে পরিশোধ করতে হবে।


সমঝোতা অনুযায়ী, এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত, যোগ্যতার মানদণ্ড, ফি এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করেই অংশগ্রহণ করতে হবে।


চুক্তিটি প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য সম্পাদিত হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দুই প্রতিষ্ঠান পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে কাজ করবে।


সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (বহিরাঙ্গণ কার্যক্রম) অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ, ছাত্র হল-১-এর প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ওমর ফারুক, অক্সফোর্ড কলেজ অব এডুকেশন লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ড. আশরাফ আবেদিল এবং উপদেষ্টা ও বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. আবদুল্লাহ আল ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।


কুবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১০ শিক্ষার্থী

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান।


রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে উচ্চস্বরে কথা বলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে আইসিটি, প্রত্নতত্ত্ব ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রক্টর কার্যালয়ে ডাকা হলে সেখানে সমাধান করা হয়।


তবে প্রক্টর কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে প্রকৌশল অনুষদে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাল্টা ধাওয়া দিয়ে দত্ত হলে গেলে সেখানে হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মারামারি বাধে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।


ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন।


কুবি মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান খান বলেন, “মারামারিতে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।”


প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “সকালে বিষয়টি সমাধান করে দিয়েছিলাম। এরপরও ক্যাম্পাস গেট ও দত্ত হলে আবার মারামারি হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও পর্যালোচনা করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




  

বিষয় :


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাসের দুর্ঘটনায় আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা নিহত হওয়ায় ক্ষতিপূরণ-সহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ পরবর্তী উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বিভাগের শিক্ষার্থীরা।


আজ রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানারে মিছিল পরবর্তী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। এসময় মীর মোশাররফ হোসেন ভবন থেকে স্লোগান ধরে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিলে প্রক্টরিয়াল বডি তাৎক্ষণিক প্রশাসনের কাছে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়।


এসময় শিক্ষার্থীদের হাতে ‘নিরাপদ সড়ক চাই, ভাড়ায় চালিত গাড়ি বন্ধ চাই, সেফ রোড সেফ জার্নি, ফিটনেস বিহীন গাড়ি বন্ধ করতে হবে, উপযুক্ত শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা সম্বলিত প্লেকার্ড দেখা যায়। 


শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৬ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অভিযুক্ত চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা, নিহতের পরিবারকে কমপক্ষে ৬০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর যাবতীয় দায়িত্ব প্রশাসনের গ্রহণ করা। এছাড়া নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিতে ক্যাম্পাস সংলগ্ন মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার ও স্পিড ব্রেকার স্থাপন, বাসের ফিটনেস ও চালকদের লাইসেন্স যাচাইয়ে স্থায়ী কমিটি গঠন, নিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি, চালকদের ডোপ টেস্ট করানো এবং ভাড়ায় চালিত বাসের গতিসীমা লঙ্ঘন বা উল্টোপথে গাড়ি চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে চুক্তি বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।




স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান সার্বিক বিষয় খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।


উল্লেখ্য, গতকাল আনুমানিক দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের ভাড়াকৃত বাসের মাধ্যমে ১১ মাইল এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আইন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বাবা নিহত হন।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।


রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।


স্মারকলিপিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকা, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ঝোপঝাড় ও ময়লা-আবর্জনার কারণে ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার প্রজননের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।


স্মারকলিপিতে ক্যাম্পাসের সব আবাসিক হল, একাডেমিক ভবন ও আশপাশের এলাকায় জরুরি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জমে থাকা পানি অপসারণ ও নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার, এডিস মশা নিধনে নিয়মিত ফগিং ও লার্ভিসাইড স্প্রে কার্যক্রম চালু, ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের দাবি জানানো হয়।


এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণের দাবিও জানানো হয়।