জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সংলগ্ন এলাকায় মুঠোফোনে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক মো. সুমন খান মিরাজকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কোতোয়ালি থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
জানা যায়, আটককৃত যুবকের নাম মো. সুমন খান মিরাজ। তিনি কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-সম্পাদক এবং তার স্থায়ী ঠিকানা পটুয়াখালী জেলার বদরপুর এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও জবি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা জানান, শনিবার রাতে জবির ২ নম্বর গেটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের কয়েকজন অবস্থান করছিলেন। ওই সময় মিরাজ মোবাইলে অন্য কারোর সঙ্গে সন্দেহজনক কথোপকথন করছিলেন। মোবাইল ফোনে তিনি দ্রুত ককটেল, ব্যানার ও পোস্টার নিয়ে আসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে তা টাঙানো ও ককটেল ফাটানোর নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। তার এই চক্রান্ত টের পেয়ে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক তাকে ঘিরে ফেলে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মিরাজ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে ফেলা হয়।
পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত স্মার্টফোন তল্লাশি করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশের ছবি পাওয়া যায়। আটকের পর তাকে সাময়িকভাবে জবির নিরাপত্তা কক্ষে রাখা হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত জবি ছাত্রদল নেতা সোলায়মান খান সাগর বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে আড্ডা দিচ্ছিলাম। তখন দেখলাম, একজন ছেলে ফোনে কাউকে বলছে। আশপাশে কেউ নেই, ককটেল ও পোস্টার নিয়ে আসতে। এটা শুনে আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে সে পালানোর চেষ্টা করে। পরে তাকে আটক করে তার ফোনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায়। আমরা তারপর কোতোয়ালি থানা পুলিশকে ফোন দিয়ে তাদের কাছে হস্তান্তর করি।”
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, “রাতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। পরে ফোন পেয়ে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের একজন কর্মী ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণ ও ব্যানার-সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হয়েছেন। এরপর আমি পুলিশকে ফোন দিই। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। আগামীকাল বিস্তারিতভাবে বলতে পারব।”
ঘটনার বিষয়ে জানতে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম রবিউল ইসলামের মুঠোফো
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভেটেরিনারি, অ্যানিমেল অ্যান্ড বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদে র্যাগিংয়ের নামে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের হামলা ও মারধরের করেন উক্ত বিভাগেরই ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।
উক্ত ঘটনায় অন্তত ছয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর একজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায় ভেটেনারি অনুষদের ডিভিএম ৩১ ব্যাচের (২০২৪-২৫) কয়েকজন শিক্ষার্থী ৩২ ব্যাচের(২০২৫-২৬) জুনিয়রদের ওপর র্যাগিংয়ের নামে নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার সময় ৩১ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী জুনিয়রদের বাবা-মাকে নিয়ে অশালীন ভাষায় কথা বলছিলেন। এ সময় ৩২ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিনহা এর প্রতিবাদ করে বলেন, ‘ভাই, বাবা-মাকে নিয়ে গালি দিচ্ছেন কেন?’ এরপরই কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী ক্ষিপ্ত হয়ে জুনিয়রদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
এ ঘটনায় ৩১ ব্যাচের হুমায়ুন, পার্থ, সিফাত, গালিব, শান্ত, আশিকুর, নাইম, অমি, মাহিন ও মিনহাজসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
হামলায় গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী জুনিয়র শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর থেকেই তাদের বিভিন্নভাবে র্যাগিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে। র্যাগিংয়ের নামে মানসিক চাপ, অপমান ও শারীরিক হয়রানির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলেও তারা জানান।
এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন শিক্ষার্থীরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ভিসিকে 'লাল কার্ড' দেখালেন শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সদ্য বিদায়ী উপাচার্য (ভিসি) আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
আজ শনিবার সকাল থেকেও দাবি আদায়ে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে।
সকালে বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের উদ্দেশে ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমে তাঁর দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে গ্রাফিতি অঙ্কন কর্মসূচিও চলছে।
গতকাল শুক্রবার সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিক্ষোভে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। বেশির ভাগ শিক্ষার্থী ইতিমধ্যে ক্যাম্পাসের তালা খুলে দিয়েছেন এবং তাঁকে সাদরে ক্যাম্পাসে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন।
নতুন উপাচার্যের এ বক্তব্য প্রকাশের পর আজ সকালে এর প্রতিবাদে ‘প্রতীকী লাল কার্ড প্রদর্শন’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিলটি ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে করে একই জায়গায় শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদে ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’, ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি, মানব না, মানব না’ স্লোগান দেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসে চলমান আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে নতুন উপাচার্যের দেওয়া বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাঁরা। অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁদের আন্দোলন চলবে।
মিছিলে অংশ নেওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, ‘নতুন উপাচার্য নজিরবিহীনভাবে অনলাইনে যোগদান করেছেন। এ ছাড়া উনি গণমাধ্যমে যে কথা বলেছেন, তা একদম অসামঞ্জস্য। তাই আমরা রেড কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস, কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর প্রতিবাদে ওই দিন রাত থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরদিন থেকে তাঁরা শাটডাউন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছেন। পরে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক সমিতি ও কর্মকর্তা সমিতিও কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীদের একমাত্র দাবি হিসেবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের কথা জানানো হয়েছে।
ক্যাশলেস লেনদেনের বিস্তার ও ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আয়োজন করা হয়েছে ‘মিট দ্য গভর্নর’ অনুষ্ঠান। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংক পিএলসির সহযোগিতায় এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা ব্যাংকিং ব্যবস্থা, ডিজিটাল লেনদেন ও ‘বাংলা কিউআর’ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। গভর্নর এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো বাংলাদেশও দ্রুত ক্যাশলেস ও ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন ব্যাপকভাবে চালু হয়েছে। বাংলাদেশও গভর্নরের রূপরেখা অনুযায়ী দ্রুত ক্যাশলেস সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে। বাকৃবি দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে গবেষণায় অনেক দূর এগিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার গতি বজায় রাখতে এবং নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকসহ ব্যাংকিং খাতকে সিএসআর ফান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে।
ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে দেশে ক্যাশলেস লেনদেন আগের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে রিকশা ও ছোট দোকানেও যেন সহজে ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে লেনদেন করা যায়, সে সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি বাকৃবির শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণা এবং সিএসআর ফান্ডের আওতায় বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলা কিউআর’-এর বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরে গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো এবং নগদ অর্থের ব্যবহার কমাতে কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের লেনদেন করা সম্ভব হওয়ায় খুচরা টাকার সমস্যাও থাকবে না। একই সঙ্গে লেনদেনের খরচ কমবে। বর্তমানে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের কম, যা একসময় ১০ শতাংশ ছিল। কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন বাড়লে বছরে প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত কর আদায় সম্ভব হতে পারে। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কিউআর লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) শূন্য করা হবে। ফলে কোনো গ্রাহক ১০০ টাকা দিলে মার্চেন্টও ১০০ টাকা পাবেন। এ ছাড়া বর্তমানে নোট ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কিউআর কোড সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এ ব্যয় অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা কমানো সম্ভব হতে পারে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল শুক্রবারও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের চতুর্থ দিনে গতকাল শুক্রবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে আগামীকাল রোববার থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পাশাপাশি চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানিয়ে তারাও কর্মবিরতি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
এদিকে, গতকাল উপাচার্য পদে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান প্রত্যাখ্যান করে গতকাল দুপুরে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ছাত্র-শিক্ষক মিলনায়তন থেকে তাদের পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থান ঘুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে মিছিল শেষ হয়।
বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে গ্রাফিতির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছেন শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের ভাষা। বিভিন্ন রং ও প্রতীকী চিত্রের মাধ্যমে এসব গ্রাফিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্ষোভ ও চলমান আন্দোলনের নানা বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালগুলোও পরিণত হচ্ছে আন্দোলনের দৃশ্যমান ক্যানভাসে। এই কার্যক্রম আজও চলবে।
এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন রাত থেকেই ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ শুরু হয়। পরদিন থেকে টানা পূর্ণাঙ্গ শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কর্মবিরতির ঘোষণা শিক্ষক সমিতির
সদ্য সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে নবনিযুক্ত উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান না বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।
গত বৃহস্পতিবার রাতে শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ওই রাত থেকে পূর্ণ কর্মবিরতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম কর্মবিরতির আওতামুক্ত থাকবে।
এর আগে একই দিন অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানববন্ধন করেন। পরে বিকেল ৩টায় শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয়, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর অধ্যাপক সায়েম তাঁর গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এ সময় নবনিযুক্ত উপাচার্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ বলেন, আমরা নতুন ভিসিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।
রাতে শিক্ষক সমিতির সভা শেষে তিনি আরও জানান, অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবিতে আমরা সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যাচ্ছি। তবে হল ও জরুরি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমগুলো চালু থাকবে।
কর্মকর্তাদেরও কর্মবিরতি
উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে গতকাল সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে চুয়েট কর্মকর্তা সমিতি। তবে জরুরি সেবা ও সরকারি সেবা কার্যক্রমের আওতাভুক্ত কার্যক্রম কর্মবিরতির বাইরে থাকবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল অনুষ্ঠিত কর্মকর্তা সমিতির জরুরি সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সমিতির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চুয়েট শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক অবস্থান ও দাবির প্রতি এবং শিক্ষক সমিতির গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রতি তারা একাত্মতা প্রকাশ করেছে।
উপাচার্য পদে নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যে অনিশ্চয়তা ও অস্থিতিশীলতার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মর্যাদা এবং শিক্ষার পরিবেশ সমুন্নত রাখার দায়িত্ব সবার। একই সঙ্গে চুয়েটের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ বিষয়ে কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মো. ইকরাম বলেন, আমাদের চুয়েট একটা পরিবার। ছাত্ররা শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে। শিক্ষকরাও কর্মবিরতি দিয়েছেন। আমরাও তাই তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছি।
ভালো CGPA আর সুন্দর ক্যারিয়ারের আশায় প্রতিটা স্টুডেন্টকেই পরীক্ষায় বসতে হয়। সবাই চায় ক্যারিয়ারে সফল হতে। শেষ পর্যন্ত একটা ভালো চাকরি, সমাজে ভালো একটা স্ট্যাটাস, এসবই তো কমবেশি সবার স্বপ্ন। আর ভালো চাকরির জন্য ভালো একটা CGPA-ও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই CGPA খারাপ হোক, এটা কেউই চায় না। যে ছাত্রটা গত সেমিস্টারেও ভালো রেজাল্ট করতে পারেনি, সেও চায় এই সেমিস্টারে তার রেজাল্টটা ভালো হোক। ভালো রেজাল্টের আশাতেই সবাই পরবর্তী পরীক্ষার জন্য নিজেদেরকে মোটিভেট করে।
পরীক্ষার রুটিন হাতে পাওয়া মাত্রই শুরু হয় প্রস্তুতি। কেউ PDF সংগ্রহ করে, কেউ স্লাইড, কেউ আবার বড় ভাই, আপু কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে নোট এবং আগের বছরের প্রশ্ন সংগ্রহ করে। এসব ম্যাটেরিয়াল বেশিরভাগ সময় পড়ে থাকে টেবিলের কোনো এক কোণে কিংবা মোবাইলের কোনো এক ফোল্ডারে। এগুলোর গুরুত্ব আসলে বোঝা যায় পরীক্ষার আগের রাতে।
যারা এসব ম্যাটেরিয়ালস সংগ্রহ করে রাখে তাদের কেউ পরীক্ষার দুই-তিন দিন আগে থেকে পড়া শুরু করে, কেউ বা পরীক্ষার আগের রাতে পড়া শুরু করে। তবে সারা সেমিস্টার নিয়মিত পড়ে এমন স্টুডেন্টদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
প্রস্তুতির রাতের রাতজাগা পাখি
পরীক্ষার আগের রাত মানেই অন্যরকম একটা পরিবেশ। কোথাও একদম নীরবতা, আবার কোথাও রাতভর চায়ের কাপের টুংটাং শব্দ। কেউ সারারাত জেগে পড়াশোনা করে, কেউ আবার খুব ভোরে উঠে পড়বে বলে ঘুমিয়ে যায়। রাত যত বাড়তে থাকে, মোবাইল আর ল্যাপটপের নীল আলোতে পড়তে থাকা মুখগুলোও বাড়তে থাকে। এর মধ্যেই কেউ কেউ হিসাব করতে থাকে আর কত ঘণ্টা আছে, কতগুলো টপিক বাকি, কোনটা বাদ দেওয়া যায়।
আবার কারও কারও অবস্থা এমন হয় যে পড়ার পরিমাণ দেখে মাথাই কাজ করে না। কম সময় অথচ পড়ার পরিমাণ বেশি, এটা ভাবতেই কেউ কেউ হতাশ হয়ে যায়। কেউ কেউ আবার সেই হতাশায় পড়াশোনাই বন্ধ করে দেয়। তারপরও অনেক পরীক্ষার্থী একটা আশা নিয়ে পড়ে যায়, হয়তো যেটুকু পড়ছি, সেখান থেকেই প্রশ্ন আসবে।
পরীক্ষার সকালের তীব্র উদ্বেগ
সকালে পরীক্ষার আগে কারও নাশতায় থাকে বিস্কুটের প্যাকেট, সিঙ্গারা অথবা ছোলা, কেউ আবার পাউরুটি খায়। কিন্তু খাওয়ার সময় মনোযোগ খাবারের দিকে থাকে না। এক হাতে পাউরুটি, অন্য হাতে মোবাইলে PDF। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খুব পরিচিত একটা দৃশ্য। পরীক্ষার হলে ঢোকার ১০ মিনিট আগেও পড়াশোনা থামে না। বরং তখন মনে হয়, এই ১০ মিনিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু স্টুডেন্ট যেন তখন ছোটখাটো গবেষক হয়ে ওঠে। তারা গবেষণা করে যে কোন টপিকটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কোনটা পড়লে কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি, স্যার এই জিনিসটা ক্লাসে কয়বার বলছেন, কোনটা কম গুরুত্বপূর্ণ, এসব নিয়ে চলে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
আবার কোথাও দেখা যায় একজন আরেকজনকে থিওরি বুঝিয়ে দিচ্ছে। কেউ নিজে নিজে পড়ছে, আবার পাশের বন্ধুকে বলছে, দাঁড়া, এটা এভাবে বুঝে নে। হলের গার্ডরা পরীক্ষার হলে ঢুকে গেলেও অনেকেই পড়তে থাকে। যেন পরীক্ষার শুরু হওয়ার আগের শেষ কয়েক সেকেন্ডও নষ্ট করা যাবে না। কারণ তখন মনে হয়, আর একটা টপিক পড়লেই হয়তো পরীক্ষার একটা প্রশ্ন কমন পড়ে যাবে।
পরীক্ষার চার ঘণ্টা যেন অন্য এক জগৎ
প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পর প্রথম কয়েক মিনিট পুরো হল নীরব থাকে। সবাই প্রশ্ন পড়ে। পরিচিত টপিকের প্রশ্ন খুঁজে। কোনটা আগে লিখবে, সেটা ঠিক করে। তারপর শুরু হয় খাতার ওপর কলমের খসখস শব্দ।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় একটা জিনিস বেশ কমন, সেটা হলো এক্সট্রা প্যাপার নেওয়ার একটা অদৃশ্য প্রতিযোগিতা। কে বেশি এক্সট্রা পেপার নিয়েছে, সেটা পরীক্ষা শেষে একটা আলোচনার বিষয় হয়ে যায়। কেউ কেউ তো মজা করে বলে, খাতার ওজন বেশি হয়েছে মানে পরীক্ষা ভালো হয়েছে!
এই চার ঘণ্টার মধ্যে কত কিছুই না ঘটে। কখনো খাতায় লেখার সময় পুরো মনোযোগ, কখনো একটা উত্তর মনে করার জন্য চিন্তিত মুখ, আবার আনকমন কোনো প্রশ্ন দেখলে মাথায় হাত পড়ে। এর মাঝেই আবার মূল পেপারের সঙ্গে এক্সট্রা পেপার বাইন্ড করা, এক্সট্রা পেপারের ক্রমিক নম্বর লেখা, সময়ের হিসাব করা, সবই চলতে থাকে। একসময় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনে হয়, সময় এত দ্রুত চলে গেল কীভাবে!
আবার কোনো কোনো কোর্স ৩ ক্রেডিটের হওয়াতে পরীক্ষা থাকে ৩ ঘন্টা । সেদিনটা আবার বেশিরভাগ ছাত্র পরীক্ষায় সময় ঠিকমতো মিলাতে পারে না। আবার অনেকে কম সময় লিখে আত্মতৃপ্তি কম পায়। ফলস্বরূপ পরীক্ষা খারাপ হলে হতাশা কাজ করে।
পরীক্ষা শেষের স্বস্তি
শেষে সেই মুহূর্তটা আসে। শিক্ষক ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলেন, Pen Down। সঙ্গে সঙ্গে সবাই লেখা বন্ধ করে। কেউ শেষ উত্তরটা কোনোমতে শেষ করেছে, কেউ আবার একটা প্রশ্নের উত্তর অসম্পূর্ণ রেখেই কলম নামিয়ে ফেলেছে।
পরীক্ষা শেষ। একদিকে কয়েক ঘণ্টার লেখার পরিশ্রম শেষ হয়েছে, অন্যদিকে সবার মধ্যে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস। তবে সবার মুখে স্বস্তি থাকে না। কেউ পরীক্ষা ভালো হওয়ায় খুশি, কেউ আবার হল থেকে বের হয়েই হিসাব শুরু করে, কোথায় ভুল হয়েছে, কোন প্রশ্নটা ভুল লিখেছে, কত নম্বরের উত্তর লেখা বাদ রয়ে গিয়েছিলো।
হলের বাইরে বের হওয়ার পর শুরু হয় আরেক পর্ব। আলোচনার মূল জায়গায় থাকে যে এই প্রশ্নের উত্তর কী দিয়েছিস? কয়টা এক্সট্রা পৃষ্ঠা নিয়েছিলি? কেউ উত্তর মেলায়, কেউ নিজের ভুল খুঁজে পায়, আবার কেউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও পরীক্ষা নিয়ে ভাবতে চায় না। এত কিছু পর কারও পরিকল্পনা থাকে বাড়ি যাওয়ার, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটায়, আবার কেউ হয়তো সেদিনের পরীক্ষা শেষ করেই পরের পরীক্ষার পড়া নিয়ে বসে যায়।
একটা পরীক্ষা শেষ হয়, কিন্তু সেমিস্টার ফাইনালের গল্প শেষ হয় না। সেমিস্টারের পরের পরীক্ষার জন্য আবার PDF খুলবে, আবার নোট খোঁজা হবে, আবার রাত জাগা হবে। আবার কোনো এক সকালে পাউরুটি হাতে মোবাইলের pdf পড়তে পড়তে হলে ঢুকবে শিক্ষার্থীরা। আবার প্রশ্নপত্র হাতে নেবে। আবার কলম চলবে। আর শেষ পর্যন্ত আবার সেই পরিচিত শব্দ, "Pen Down.”
মোটিভেশন ও অভ্যাস
যাদের একটা সেমিস্টার খারাপ যায়, তারা হতাশ না হয়ে বরং মনে মনে পণ করে যে পরের সেমিস্টারে কামব্যাক করবে। রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর নিজের কাছেই প্রতিজ্ঞা করে, পরের সেমিস্টারে আর এমন হবে না। নতুন সেমিস্টার শুরু হয় নতুন উদ্যমে। প্রথম কয়েকদিন বই-খাতা গুছিয়ে রাখা হয়, মনে হয় এবার নিয়মিত পড়বে। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেই নিয়মে একটু একটু করে ফাটল ধরে। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, আড্ডা, ব্যস্ততা, সবকিছুর মাঝে পড়াটা আবার পিছিয়ে যায়।
তারপর হঠাৎ একদিন পরীক্ষার রুটিন হাতে আসে। মনে পড়ে, আচ্ছা, পরীক্ষা তো সামনে! আবার PDF খোঁজা শুরু হয়, স্লাইড জমা হয়, নোট ডাউনলোড হয়। তারপরও পড়া শুরু হয় না। দিন গড়িয়ে রাত আসে, রাত গড়িয়ে পরীক্ষার আগের রাত। আর তখন আবার সেই পরিচিত জায়গায়, চোখের সামনে মোবাইলের নীল আলো, পাশে এক কাপ চা, সামনে বিশাল সিলেবাস। তখন ছাত্রদের মনে হয়, ইশ! যদি আরেকটু আগে শুরু করতাম তাহলে ভালো হতো। কিন্তু পরীক্ষাটা তো আর পিছিয়ে যাবে না। তাই রাত জেগেই শুরু হয় পড়াশোনা। পরীক্ষা শেষ হয়, ফলাফল আসে, যদি খারাপ হয় আবার সেই একই প্রতিজ্ঞা, "পরের সেমিস্টারে এবার সত্যিই নিয়মিত পড়তে হবে।”
এভাবেই মোটিভেশন আসে, অভ্যাস বদলানোর চেষ্টা হয়, আর শেষ পর্যন্ত আমরা অনেকেই আবার ফিরে আসে সেই একই চক্রে, প্রতিজ্ঞা, নতুন শুরু, পুরোনো অভ্যাস, ব্যাস্ততা, আড্ডা ও সময় নষ্ট, পরীক্ষার আগের রাত।
অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) এক অধ্যাপকের কাছে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির’ নেতা পরিচয়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। টাকা না দিলে তাঁর স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে হত্যা, গুম এবং বাড়ীঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষক।
এ ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে হাবিপ্রবির কৃষি অনুষদের জৈব রসায়ন ও আণবিক জীববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু সাঈদ দিনাজপুর কোতয়ালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। জিডি নম্বর ২২৫১। জিডিতে অধ্যাপক আবু সাঈদ উল্লেখ করেন, বুধবার দুপুরে ০১৩৫৩৮৫৩১৯৩ নম্বর থেকে তাঁর মুঠোফোনে একটি কল আসে। কলদাতা নিজেকে ‘পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির প্রধান শিকদার মহিউদ্দিন’ পরিচয় দিয়ে তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।একই সঙ্গে ০১৮১৪৫৬১৬৭৩ নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়।
জিডির তথ্যমতে, ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁর কয়েকজন সহযোগী ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন এবং অস্ত্রোপচারের জন্য অর্থের প্রয়োজন। তবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অধ্যাপক আবু সাঈদকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে ২০ থেকে ২৫ জন লোক পাঠিয়ে তাঁর বাড়ী থেকে স্ত্রী-সন্তানকে তুলে নেওয়া এবং তাঁদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
অধ্যাপক আবু সাঈদের ভাষ্য, অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে প্রথমে তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়। পরে একটি সংগঠনের সদস্য পরিচয়ে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানান।
পরে পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে থানায় জিডি করেন। এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, জিডিটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, কলদাতার পরিচয় এবং হুমকির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। এদিকে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছে এ ধরনের চাঁদা দাবি ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকির অভিযোগের ঘটনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবী উঠেছে।