শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে রাজকীয় বিদায়

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২১ পিএম

যশোরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুসলিম একাডেমীর ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মোল্যাকে এক ব্যতিক্রমী ও রাজকীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়েছে। দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর সম্মানে এক বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অবসর গ্রহণকালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং পরিচালনা পর্ষদের সংশ্লিষ্টরা প্রিয় শিক্ষককে সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে বসিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় বিদ্যালয়ে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁকে বিদায় জানান।


অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম মোল্যা ২০০০ সালের ১১ মে মুসলিম একাডেমীতে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নেন। তাঁর আদর্শ, জ্ঞান ও নিবেদন শিক্ষার্থীদের মাঝে দীর্ঘদিন অনুপ্রেরণা জোগাবে।


মুসলিম একাডেমীর প্রধান শিক্ষক পল্লব কান্তি ঘোষের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বিদায়ী শিক্ষকের দীর্ঘ কর্মজীবনের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সভাপতির বক্তব্যে পল্লব কান্তি ঘোষ তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী অবসর জীবন কামনা করেন।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪৮ এএম

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় কথিত ভুয়া কাবিননামা তৈরি, জালিয়াতি ও তা ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পায়নি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটি তদন্ত শেষে সংস্থাটির প্রতিবেদনে এমন মতামত দেওয়া হয়েছে। তবে তদন্তে কাবিননামার সত্যতা, এক নারী ও তাঁর কন্যাসন্তানের সঙ্গে বাদীর সম্পর্ক, হাসপাতালের নথিপত্র এবং শিশুটির জন্মের পর তোলা একটি ছবিসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।


পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৯৩৭/২০২৫-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদী মো. মুসলিমের অভিযোগ ছিল, শেলীনা বেগম ওরফে শেলী আক্তারের সঙ্গে তাঁর কোনো পরিচয় বা বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। তাঁর নাম ব্যবহার করে এবং সংশ্লিষ্ট কাজির সিল ও স্বাক্ষর নকল করে একটি ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তবে তদন্ত শেষে শেলীনা বেগম, নিপু মনি ও মো. নাঈম উদ্দিনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৫, ৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭১, ৩৮৫, ৫০৬(২), ১০৯ ও ৩৪ ধারায় আনা অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে মতামত দেয় পিবিআই।


কাবিননামার সত্যতা যাচাইয়ে যা উঠে এসেছে


তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিতর্কিত কাবিননামায় বিয়ের তারিখ ১ সেপ্টেম্বর ২০২১, বালাম নম্বর ০৫ এবং পৃষ্ঠা নম্বর ৫৭ উল্লেখ রয়েছে। এতে বরের নাম মো. মুসলিম এবং কনের নাম শেলীনা বেগম লেখা ছিল। নথিটিতে কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়।


কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট কাজি মাওলানা জামাল উদ্দিনের কাছে লিখিতভাবে তথ্য চান। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাজির কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর বালাম নম্বর ০৫-এর ৫৭ নম্বর পৃষ্ঠায় মো. মুসলিম ও শেলীনা আক্তারের নামে কোনো নিকাহনামা লিপিবদ্ধ ছিল না।


তদন্তে আরও উঠে আসে, শেলীনা বেগম কাবিননামাটির সত্যতা যাচাই না করেই বাদী মো. মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া নকল হিসেবে সেটি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তবে তিনি নিজে কাবিননামাটি তৈরি বা জাল করেছেন—এমন কোনো তথ্য-প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মতামত, শেলীনা বেগম সরল বিশ্বাসে নিকাহনামাটির অনুলিপি আদালতে দাখিল করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে জাল নথি তৈরির অভিযোগ প্রমাণের মতো প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের তথ্য তদন্তে


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে মো. মুসলিম ও শেলীনা বেগমের পূর্বপরিচয় এবং তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালের দিকে মুসলিম শেলীনাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরবর্তী সময়ে মুঠোফোনে তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর শেলীনা বেগম একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


শিশুটির জন্মসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পিপলস হসপিটাল লিমিটেডের আইপিডি অ্যাডমিশন রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নথিতে শেলীনার স্বামীর নামের ঘরে ‘লিটন’ লেখা ছিল। হাসপাতালের জন্মসনদেও ‘Selina Akter wife of Mr. Liton’ উল্লেখ থাকার তথ্য পাওয়া যায়।


অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে বাদী মো. মুসলিমের নাম ‘মো. মুসলিম ওরফে লিটন’ হিসেবে ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


হাসপাতালের কেবিনে শিশুকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবি


তদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটির জন্মের পর হাসপাতালের কেবিনে তোলা একটি ছবির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে সংগৃহীত রঙিন ছবি পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখতে পান, শিশুটির জন্মের পর পিপলস হসপিটালের একটি কেবিনে মো. মুসলিম শিশুটিকে কোলে নিয়ে ছিলেন। ওই সময় শেলীনার বোন নিপু মনিও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছবিতে তাঁদের হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


ছবিটি এবং হাসপাতালের নথিপত্র তদন্তে উঠে আসা অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির জৈবিক পিতৃত্ব সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।


ভরণপোষণ নিয়ে বিরোধের পর পৃথক মামলা

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে শেলীনা বেগম ও তাঁর কন্যাসন্তানের ভরণপোষণ দেওয়া বন্ধ করে দেন মো. মুসলিম বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেলীনা পাঁচলাইশ থানার সিআর মামলা নম্বর ৮৬০/২০২৪ দায়ের করেন।


ওই মামলায় শেলীনা নিজেকে মুসলিমের স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন এবং মুসলিমের কাছ থেকে পাওয়া কাবিননামার অনুলিপি আদালতে দাখিল করেন বলে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।


এ ছাড়া ওই মামলা নিয়ে মুসলিম ও শেলীনার মধ্যে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যায়। এসব বৈঠকে সাক্ষীদের উপস্থিতির বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন


তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা হাসপাতালের নথি, ‘লিটন’ নামের ব্যবহার, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং শেলীনার দায়ের করা পৃথক মামলার তথ্য—সব মিলিয়ে শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে।


তবে হাসপাতালের নথিতে কোনো নাম থাকা, কোনো ব্যক্তির সঙ্গে শিশুর ছবি থাকা কিংবা কোনো মামলায় কাউকে স্বামী হিসেবে দাবি করা—এসব তথ্যের কোনোটিই এককভাবে জৈবিক পিতৃত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। এ বিষয়ে বিরোধ থাকলে আদালতের এখতিয়ার ও প্রযোজ্য আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।


অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি বাদী


পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার বাদীকে অভিযোগের সমর্থনে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তদন্ত চলাকালে তিনি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।


তদন্তকারী কর্মকর্তা বাদীর মনোনীত দুই সাক্ষীসহ মোট ছয়জনের বক্তব্য গ্রহণ করেন। পাশাপাশি প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার।


সংগৃহীত সাক্ষ্য, নথিপত্র ও পারিপার্শ্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে তদন্তকারী কর্মকর্তা মতামত দেন, মামলার তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগে উল্লিখিত ধারাগুলোর অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।


চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের


পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে একদিকে কথিত জাল কাবিননামা তৈরি ও ব্যবহারের অভিযোগে তিন বিবাদীর বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, একই প্রতিবেদনে কাবিননামার সত্যতা যাচাই, মুসলিম ও শেলীনার পূর্বপরিচয়, কন্যাসন্তানের জন্ম, হাসপাতালের নথিপত্র, শিশুটিকে কোলে নিয়ে মুসলিমের ছবির বিবরণ এবং পরবর্তী সময়ে দায়ের করা মামলার তথ্য উঠে এসেছে।


এ পরিস্থিতিতে কাবিননামা নিয়ে বিরোধের প্রকৃত ঘটনা এবং শিশুটির পিতৃপরিচয়সংক্রান্ত প্রশ্নের আইনগত নিষ্পত্তি কীভাবে হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


সংশ্লিষ্ট নারীর দাবি, সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করার প্রত্যাশা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রামাণ্য নথি ও আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।


তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন আদালতের চূড়ান্ত রায় নয়। প্রতিবেদনে উল্লিখিত মতামত ও তথ্যের আইনগত মূল্যায়ন এবং মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষ সব খবর

নেপথ্যে বহিষ্কৃত এনসিপি নেতা গোলাম রব্বানী

বাঁধের ঢাল কাটা গর্তে বেড়েছে ঝুঁকি; দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৪ এএম

খুলনা কয়রায় কপোতাক্ষ নদের চর দখল করে বালু ব্যবসার চাতাল তৈরি করতে গিয়ে বাঁধের ঢাল কেটে গর্ত করার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে এক্সক্যাভেটর দিয়ে মাটি কাটার কারণে সদ্য নির্মিত বাঁধের ঢাল ধসে পড়েছে। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি ভরাট করার চেষ্টা করছেন।


সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার  মেঘারাইট গ্রামের পাশের রাতে কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাঁধের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।


বালু ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা জানান, সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য প্রায় ১০০ ফুট আয়তনের একটি গর্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে সেখানে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটির ক্ষতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বাঁধের ঢাল ধসে পড়ার পর স্থানীয় লোকজন মিলে স্বেচ্ছাশ্রমে গর্তটি মাটি দিয়ে ভরাট করেছেন। এ খবরে অভিযোগ ওঠা গোলাম রব্বানী লোকজন নিয়ে এসে স্থানীয়দের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন। খবরটি শুনে পাউবো'র কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।


চর দখলের অভিযোগের কথা  (মুঠোফোনে) বললে, তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন মো. গোলাম রব্বানী। পরে মূল ঘটনা অন্যদিকে প্রভাবিত করে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। 
এ ব্যাপারে পাউবোর সেকশন কর্মকর্তা (এসও) মো. সোলায়মান বলেন, খবর পেয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গিয়েছি। যারা সেখানে গর্ত করেছেন, তাঁদের ডেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

 
উল্লেখ্য, দলীয় (এনসিপি) ব্যানারে ইফতার মাহফিলের মতো পবিত্র কাজে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ায় গত (২৮ এপ্রিল ২০২৫) গোলাম রব্বানীকে এনসিপি থেকে বহিষ্কার করে দলটি। তবে বহিষ্কারের পরেও এনসিপির পরিচয়ে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত থাছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দ্রুত তার বিরুদ্ধে থাকা সকল অপকর্ম খতিয়ে দেখে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটা প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৮ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে একাধিকবার ধর্ষণ এবং ওষুধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। অপর অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। মামলার আসামীরা হলেন, মোক্তারপুর এলাকার কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ, মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল।


পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ গত প্রায় ৫ মাস আগে প্রতিবেশী কমল শেখের ছেলে মো. আহাদ নামের এক যুবক শিশুটিকে ফুসলিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে শিশুটির পরিবারের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে অন্য অভিযুক্ত স্থাণীয় মৃত ইসলামের ছেলে শামীম, মৃত আনছার আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম ও মৃত আনসুর আলীর ছেলে শফিকুল বিভিন্ন সময়ে তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানার পর প্রধান অভিযুক্ত আহাদ গর্ভপাত ঘটানোর উদ্দেশ্যে শিশুটিকে ওষুধ সেবন করান। 


গত ২১ অক্টোবর ভোরে শিশুটির গর্ভপাত ঘটে এবং সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার পর শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে।


কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় মামলা নম্বর ২২(১০)২৬ দায়ের করা হয়েছে। আসামী আহাদ, শামীম ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। অপর অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আসামীদের গাজীপুর আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০২ পিএম

চার মাস ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান পদে পূর্ণাঙ্গ নিয়োগ পেয়েছেন আহসান হাবিব। আজ সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়।


​প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির ১০ শতাংশ কোটায় বিসিএস ১৫ ব্যাচের আয়কর ক্যাডারের এই কর্মকর্তা আহসান হাবিবকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (আইআরডি) সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং একই সাথে তাঁকে প্রেষণে এনবিআরের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। 


প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, চেয়ারম্যান পদ থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে আহসান হাবিবকে তাঁর নিজ ক্যাডারে ফিরে যেতে হবে।


​উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন সরকার আহসান হাবিবকে আইআরডির ভারপ্রাপ্ত সচিব ও এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে। এর পূর্বে তিনি এনবিআরের সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছে। নিহত যুবকের নাম আক্তার হোসেন (৩০)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। হামলার অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।


গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার দুপরিরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার ভোর পাঁচটার দিকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আক্তার মারা যান। তিনি ওই গ্রামের কালা মিয়ার পুত্র।


স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রোববার রাতে আক্তার হোসেন ও তার ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন একটি পুকুরে সেচ দিয়ে মাছ ধরছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী আব্দুল হালিম তাদের মাছ ধরতে বাধা দেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।


পরে বাড়ি ফেরার পথে আব্দুল হালিমের ছেলেসহ ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আক্তার ও জাহাঙ্গীরের ওপর হামলা চালান। এতে তারা গুরুতর আহত হন। পরে আক্তারকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত জাহাঙ্গীরও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার অভিযোগে আটক ব্যক্তির নাম জুয়েল আহমদ (২৮)। তিনি একই গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উছমান গণি জানান, পুকুর থেকে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় ডিভোর্সের পরও সাবেক স্ত্রী দোলন আক্তারের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছেন মো. রনি। ঘরে ঢুকে হাত-পা বেঁধে খুর দিয়ে গলা ও হাতে কুপিয়ে তাকে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় নগদ ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্বামী রনি ও তার বন্ধু মো. রহমানের বিরুদ্ধে। 


গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে ভাগ্যকুল ইউনিয়নের জগন্নাথপট্টি এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভুক্তভোগী গৃহবধূকে উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী দোলন আক্তারের প্রথম স্বামী লুৎফর রহমান মারা যাওয়ার পর তিনি মো. রনি নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই রনির চলাফেরা সন্দেহজনক ছিল এবং সে প্রায়ই মাদক সেবন করে বিভিন্ন অজুহাতে দোলন আক্তারের কাছে টাকা দাবি করত। এই আচার-আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে দোলন আক্তার তাকে ডিভোর্স দেন। 


ভুক্তভোগী দোলন আক্তার কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য বাপের বাড়ি থেকে ৫ লাখ টাকা এনে ঘরে রেখেছিলেন তিনি। এই বিষয়টি জানতে পেরে সাবেক স্বামী মো. রনি ও তার বন্ধু মো. রহমান অতর্কিতভাবে তার ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে রনি তার হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং কাছে থাকা খুর দিয়ে হাতে ও গলায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় ঘরে থাকা ৫ লাখ টাকা ও ১ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় তারা। পরে তার আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন, তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী দোলন আক্তার বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনার ব্যাপারে  জানতে চাইলে শ্রীনগর থানা ওসি তদন্ত মিল্টন দত্ত জানান অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর