চিঠি দিবস

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

চিঠি দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ‘বই প্রবাহ’ মার্কেটিং বিভাগের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে ভিন্নধর্মী এক কর্মসূচি। ক্যাম্পাসের কাউকে চিঠি লিখে তা প্রাপকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিতে এ আয়োজন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ ভবনের নিচতলায় দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিঠি লেখার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে ব্যক্তিগত অনুভূতি, ভালোবাসা, শুভেচ্ছা ও নানা কথা প্রকাশের সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। চিঠিতে প্রেরক ও প্রাপকের নাম, ব্যাচ ও বিভাগ উল্লেখ করে তা নির্ধারিত স্থানে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।


আয়োজনের অংশ হিসেবে চিঠি লেখা ও প্রদর্শনের ব্যবস্থাও রাখা হয়। এতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উদ্দেশে চিঠি লেখার পাশাপাশি নিজেদের অনুভূতি ও ভাবনা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন অংশগ্রহণকারীরা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী আকাশ আহমেদ রুপম বলেন, “চিঠি লেখার মতো সুন্দর ও পুরোনো একটি মাধ্যমকে ক্যাম্পাসে এভাবে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি সত্যিই আনন্দের। ব্যস্ততার সময়ে হাতে লেখা চিঠির মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশের সুযোগটি আমাদের জন্য ভিন্নরকম অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে।”


এ বিষয়ে বই প্রবাহ এর সভাপতি  মুনায়েম শারিয়ার চৌধুরী বলেন, “আমরা মার্কেটিং বিভাগ থেকে ‘বই প্রবাহ’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করছি। এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে বই আদান-প্রদান করে থাকি এবং সাহিত্য চর্চা করি। সেই সংগঠন থেকেই মূলত আমার আজকের এই আয়োজন ‘চিঠি উৎসব’।”


চিঠি হারিয়ে যাওয়া এক ঐতিহ্যে পরিণত হচ্ছে দিন দিন। অথচ একসময় এই চিঠির মধ্য দিয়েই আমাদের মনের ভাব ও সাহিত্য ফুটে উঠতো। সেই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন। মার্কেটিং বিভাগের ‘বই প্রবাহ’ থেকে আমরা এটি আয়োজন করেছি।


তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি সবার কাছ থেকে। এই এআই (AI) এবং ডিজিটাল মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও আমার মনে হয়, হাতে লেখা চিঠি এবং খামে ভরে পাঠানো চিঠির কদর এখনো কোনো না কোনো জায়গায় রয়ে গেছে। আমরা মনে করি, এই অভ্যাসটি আমাদের ধরে রাখা উচিত। চিঠির মধ্যে আমরা নিজেদের খুঁজে পাই; একটি লিখিত চিঠির মাধ্যমে নিজের কিছু অংশ অন্য কারও কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। সেখানে আমাদের আঁকাবাঁকা হাতের লেখা এবং কাগজের ওপর হাতের স্পর্শ থাকে যা আসলে কোনো দিনও কোনো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দখল করতে পারবে না।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১৬ পিএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জিয়া পরিষদ।


সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) এক শুভেচ্ছা বার্তায় জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এ শুভেচ্ছা জানান।


শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। স্বাধীনচেতা পররাষ্ট্রনীতি, মহান আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস এবং ঐক্যবদ্ধ ও উন্নত জাতি গঠনের দর্শনের কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই দলটিকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তোলে। 


বার্তায় আরও বলা হয়, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপি সংকটের মুখে পড়ে। পরবর্তীতে দলের নেতৃবৃন্দের অনুরোধে বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয় আসে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও দলটি সরকার পরিচালনা করে।


পরবর্তীতে ওয়ান ইলেভেনের সময় নানা ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়ে হাসিনার ফ্যাসিজমের যাত্রা শুরু হয়। ক্ষমতা প্রাপ্তির পথ সুগম করতে নির্বাচনের আগেই শহিদ জিয়ার দুই সন্তানকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার ও নির্যাতন করে নির্বাসনে যেতে বাধ্য করা হয়। এদিকে গুম ও খুনের নির্মমতা উপেক্ষা করে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির অকুতোভয় নেতাকর্মীগণ জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে লাগাতার আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়েন। বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির লক্ষ লক্ষ নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা, জেল-জুলুম-হুলিয়া নির্বিচারে চলতে থাকে। শহিদ জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো বিনা চিকিৎসায় বিদেশে মৃত্যুবরণ করেন। বেগম জিয়াকে এক প্রহসনের বিচারে জেলে প্রেরণ করা হয়। তারপরও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখেন।


শুভেচ্ছা বার্তায় ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিএনপি, ছাত্রদল ও দলটির অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বিএনপির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


বার্তায় আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দল ও দেশের মানুষ শোকাহত হয়। তাঁর অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও সহযোগী দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করে বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়।


শুভেচ্ছা বার্তার শেষাংশে গণতন্ত্র, দেশপ্রেম, সংগ্রাম ও আধিপত্যবাদবিরোধী ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং দেশের জনগণকে জিয়া পরিষদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে ‘সংগ্রামী শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’ জানানো হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র হল নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলে ছাত্রদল নেত্রী আর্নিকা আরাফাতের উদ্যোগে প্রজনন স্বাস্থ্য ও জীবন দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হলের একটি কক্ষে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রিনভয়েস শাখা ও বহ্নিশিখার সমন্বয়ে এবং জকসু অপরাজিতার অগ্রযাত্রা হল সংসদের সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক ও ছাত্রদল নেত্রী আর্নিকা আরাফাতের উদ্যোগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মশালায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. ঈশিতা বিশ্বাস, মেডিসিন স্পেশালিস্ট, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও কনসালটেন্ট, আজগর আলী হাসপাতাল। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রজনন স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সুস্থ জীবনযাপনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আলোচনা করেন।


কর্মশালার অংশ হিসেবে ‘Yoga for Women’ সেশন পরিচালনা করেন যোগা স্পেশালিস্ট বৈশাখী মুখার্জী। সেশনে নারীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা ও অনুশীলন করানো হয়।


অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গ্রীনভয়েস কেন্দ্রীয় শাখার সদস্য ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির এবং ছাত্রদল হল কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফারজানা রিমি।


অনুষ্ঠানে আর্নিকা আরাফাত বলেন, “জকসু নির্বাচনে যারা আমাকে দায়িত্বশীল মনে করে ভোট দিয়েছেন, তাদের সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে এটি আমার দ্বিতীয় উদ্যোগ। সামনে শিক্ষার্থী কল্যাণমূলক আরও উদ্যোগ গ্রহণ করব। আমি সাংগঠনিক মানুষ। পরিবেশ ও সমাজকল্যাণমূলক কাজ শুধু দায়িত্বের জায়গা থেকে নয়, আবেগের জায়গা থেকেও করি।”


গ্রীনভয়েস কেন্দ্রীয় শাখার সদস্য ও বাপার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির বলেন, “নারী স্বাস্থ্যকে খরচ নয়, বরং বিনিয়োগ হিসেবে দেখে বহ্নিশিখা।” তিনি নারী স্বাস্থ্য ও সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে এ ধরনের উদ্যোগকে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন।




সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ পিএম

হাওরাঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন, গবেষণা ও নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন নিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) বাস্তবায়িত গবেষণা প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যালোচনা কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

‘ফাইনাল রিভিউ ওয়ার্কশপ অব সিটি ব্যাংক’স এগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেশন ইন দ্য অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল রিজিয়ন অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটির অর্থায়ন করেছে সিটি ব্যাংক। তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের আওতায় বাকৃবির গবেষকদের তত্ত্বাবধানে হাওরাঞ্চলের কৃষি নিয়ে মোট ২২টি উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। 

বাউরেসের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাপনী কর্মশালায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুস সালাম, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের (কেজিএফ) জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. মো. মনোয়ার করিম খান, সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাশরুর আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাউরেসের সাবেক সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাভিদুল হক ভূঁঞা। 

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাউরেসের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান। তিনি বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষি, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য, পরিবেশ ও জীবিকার নানা সংকট মোকাবিলার উদ্দ্যেশে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। গবেষণায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি উৎপাদন, ফসল বহুমুখীকরণ, রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর বেস্টিত সাত জেলায় ২২ টি গবেষণা পরিচালিত হয়। সম্পূর্ণ প্রকল্পে চার কোটি টাকা অর্থায়ন করে সিটি ব্যাংক।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটির উদ্বোধনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। পুরো প্রকল্পে বাকৃবির ২২ জন প্রধান গবেষকসহ মোট ৮১ জন গবেষক, ৩৬ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও চারজন পিএইচডি ফেলো গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছাতে ২১টি কর্মশালা ও ১৩ টি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্পূর্ণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯০৪ জন কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। উপ প্রকল্পসমূহের গবেষণালব্ধ ফলাফলসমূহের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি ইমপ্যাক্ট জার্নালে ৪৩টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমে ১২৪টি স্বল্পমেয়াদি কর্মক্ষেত্র সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

প্রকল্পের সফলতা নিয়ে ড. হাম্মাদুর রহমান বলেন, সিটি ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) বিনিয়োগের মাধ্যমে কৃষি গবেষণায় অর্থায়নের মাধ্যমে শুরু হয়ে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও উদ্ভাবন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষকের সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত কৃষকের জীবনযাত্রার মান ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা উন্নত করেছে৷ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, শিল্প, শিক্ষা ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়, আন্তর্জাতিক জ্ঞান বিনিময়, কৃষককেন্দ্রিক উদ্ভাবন প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত, শক্তিশালী বাজার সংযোগ, কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন এবং ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডারের মাধ্যমে গবেষণার ফলাফল, তথ্য-উপাত্ত ও প্রশিক্ষণসামগ্রী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে। 

এসময় বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষির উন্নয়নে এত বড় অর্থায়ন করার জন্য সিটি ব্যাংককে ধন্যবাদ জনাই। আমি গবেষকদের অনুরোধ করবো এই ২২ গবেষণা থেকে জনসাধারণের জন্য সমস্যা ভিত্তিক সমাধানগুলো পত্রিকায় লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেন। আমি বিশ্বাস করি গবেষণা এত সহজ নয়। কিন্তু বাকৃবির গ্রাজুয়েটরা তাদের জ্ঞান, দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও কৃষির উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। খামারির কান্নাকে হাসিতে পরিণত করার জন্য সেইরকম মানসিকতা দিয়ে আমরা শিক্ষার্থীদের তৈরি করি।

দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রকল্পধীন ২২ টি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট গবেষকবৃন্দ। এরপর গবেষকদের স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪১ পিএম

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে কটূক্তির প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুবিন খান গৌরবের বিরুদ্ধে। তিনি কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।


বিক্ষোভ মিছিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন দাবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায়। তারা মিছিলে ‘শাতিম মুবিনের ছাত্রত্ব বাতিল করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে’, ‘নবী অবমাননার বিচার চাই, শাতিমের ফাঁসি চাই’ এবং ‘বিশ্বনবীর অপমানে যদি না কাঁদে তোমার মন, মুসলিম না মুনাফিক তুই নবীজির দুশমন’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহনকারী শিক্ষার্থী ‎নাহিদুল ইসলাম বলেন, মুবিন খান গৌরব একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে রাসুল (সাঃ) কে নিয়ে কটূক্তি করেছেন। পরবর্তীতে সে হল থেকে চলে গেছে। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি এবং ছাত্রত্ব বাতিলের দাবিতে আজ প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে এসেছিলাম। কিন্তু আজ আমরা স্যারকে পাইনি। আমরা আগামীকাল আবারও প্রক্টরিয়াল কার্যালয়ে আসব এবং আমাদের দাবি প্রশাসনের কাছে তুলে ধরব। 

আরেক শিক্ষার্থী ‎মো. মাহাদী বলেন, শিক্ষার্থী মুনিব খান গৌরব মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। এটি আমাদের প্রত্যেক মুসলমানের হৃদয়ে রক্তক্ষরণের কারণ হয়েছে। প্রতিবাদস্বরূপ আমরা বিক্ষোভ মিছিল ডেকেছি। তার বিরুদ্ধে হলের বিভিন্ন নিয়মকানুন ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে বলে আমরা শুনেছি। বর্তমানে তিনি পলাতক।

‎আন্দোলনকারীরা দাবি জানিয়ে বলেন, আমরা প্রক্টরিয়াল বডির কাছে তার ছাত্রত্ব বাতিলসহ যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। আমরা আইনের প্রতি আস্থাশীল। তাকে খুঁজে বের করে যথাযোগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে আশা করি। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।


এদিকে হল সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পরই হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট উক্ত শিক্ষার্থীকে হল ত্যাগের নির্দেশ প্রদান করেন। নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি হল ত্যাগ করেছেন বলেও জানা যায়।

সর্বশেষ সব খবর

লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৫৮ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০০টি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।


সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।


কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. এমদাদুল হক, লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ও নতুন উভয় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে মোট ২০০টি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সবুজ পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


আয়োজকরা জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের এ ধরনের পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনের কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক মো. দিদারুল ইসলাম বলেন, “‘ফলজ বৃক্ষ বিতরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আমরা দেশজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পরিচালনা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০টি ফলজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।”


কর্মসূচি শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাছাই করার জন্য লংকাবাংলা ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই। দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি বৃক্ষরোপণ’ উদ্যোগেরই একটি অংশ এটি। আশা করি, গাছগুলোর পরিচর্যায় শিক্ষার্থীরা যত্নশীল ভূমিকা রাখবে।”

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:০৫ পিএম

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অগ্রযাত্রায় ব্যর্থতা পেছনে ফেলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে টিম স্পিরিট নিয়ে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন। তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়কে সাফল্যের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।


সোমবার (৩১ আগস্ট) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে পরিসংখ্যান বিভাগের ২১তম ব্যাচের নবীনবরণ, ১৫তম ব্যাচের বিদায় এবং ‘মিডিয়ান ফেস্ট-৪’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ বছরের পথচলার অর্জন, প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির যথাযথ পরিসংখ্যান নিরূপণের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাপ্তি ও অধিকারগুলোর যে অংশ এখনো অর্জিত হয়নি, সেগুলোর সঠিক পরিসংখ্যানও শিক্ষার্থীদের বের করতে হবে।”


তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ব্যর্থতার পরিসংখ্যান ঝেড়ে ফেলে সাফল্যের জন্য টিম স্পিরিট নিয়ে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। তাহলেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে।”


উপাচার্য আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার পথে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না। শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা নিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে এগিয়ে নেওয়া হবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বর্তমান বিশ্বে পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্‌দীন বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষতার এ যুগে এআই, মেশিন লার্নিং ও ডেটা সায়েন্সসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কোটি কোটি তথ্য ও উৎস আমাদের সামনে রয়েছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে কোনটি যুগোপযোগী, কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য তা নির্ধারণে পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই। পরিসংখ্যানের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিপুল তথ্যভাণ্ডার থেকে প্রয়োজনীয় ও সঠিক উপাত্ত খুঁজে বের করে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব।”


নবীন শিক্ষার্থীদের চোখে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে হবে। কর্মজীবনে নিজেদের আরও বিকশিত করে তারা সমাজ ও দেশ প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখবেন। পাশাপাশি নিজেদের কর্মের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখবেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিসংখ্যান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ তারেক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দ আলম।


অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুজন শিক্ষার্থী তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আশরাফ-উল-আলম স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ সানোয়ার হোসেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ শেখ গিয়াস উদ্দিনসহ বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, নবীন ও বিদায়ী শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর