সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হুসাইন এবং সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৫:১৩ এএম

কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম এডুকেটরস নেটওয়ার্ক (CJEN) বাংলাদেশের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে স্থান পেয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দুই শিক্ষক। তারা হলেন সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হুসাইন এবং সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।


বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান।


দেশের শীর্ষস্থানীয় পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট CJEN–এর এই নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। যা এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত দুই বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালন করবে। যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার আধুনিকায়ন, ডিজিটাল রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্ব জোরদারে এই নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।


কমিটিতে দ্বিতীয়বারের মতো মনোনীত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে সহকারী অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হুসাইন বলেন, “আমি দ্বিতীয় বারের মতো এই কমিটিতে মনোনীত হয়েছি। নবগঠিত এই কার্যনির্বাহী কমিটির সকলকে অভিনন্দন জানাই। সকলের সহযোগিতা, গবেষণা এবং পেশাগত উন্নয়নের মাধ্যমেই এই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হবে। আমার বিশ্বাস, এই কমিটির সদস্যরা নেটওয়ার্কের মূল লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে, অ্যাকাডেমিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধিতে এবং মিডিয়া, যোগাযোগ ও ডিজিটাল রূপান্তরের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।”


এ বিষয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, “CJEN মূলত যোগাযোগ ও গণমাধ্যম বিষয়ক শিক্ষকদের একটি নেটওয়ার্ক। ডিডব্লিউ একাডেমির পৃষ্ঠপোষকতায় পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা, সাংবাদিকতা বিষয়ক সমসাময়িক জ্ঞান নিয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন কনফারেন্স আয়োজন করা এই নেটওয়ার্কের প্রধান কাজ। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এখানে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি আনন্দিত।”


উল্লেখ্য, (CJEN) বাংলাদেশ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করে আসছে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে নেটওয়ার্কিং জোরদার করার ক্ষেত্রেও সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।




  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

কৃষিতে অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার ব্যবহারের প্রবণতা কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় হ্রাস ও পরিবেশ সুরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একদল শিক্ষক ও তরুণ গবেষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের যৌথ উদ্যোগে তৈরি রিমোট সেন্সিংভিত্তিক নির্ভুল নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘N-FertiSmart’। 


গবেষকদের দাবি, প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা গেলে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব। 


গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে প্রযুক্তিটি উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। 


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ ‘N-FertiSmart: Remote Sensing Based Precision Nitrogen Management for Sustainable Agriculture in Bangladesh’ শীর্ষক প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পটিতে জবির উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ড. মো. আতাউল গনি ও ড. এ এম এম গোলাম আদম এবং সিএসই বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন কাজ করেছেন। তাঁদের সঙ্গে দুই বিভাগের তরুণ গবেষক বিপ্লব বিশ্বাস ও মো. নাজিম শরিফও যুক্ত রয়েছেন। 


গবেষকরা জানান, প্রচলিত ‘Fertilizer Recommendation Guide-2024’ (FRG-2024) অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৭৪ কেজি নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের সুপারিশ রয়েছে। তবে N-FertiSmart প্রযুক্তির মাধ্যমে সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার হিসাব করে গবেষণায় প্রতি হেক্টরে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৩৫ দশমিক ৭০ কেজিতে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা পাওয়া গেছে। এতে প্রচলিত সুপারিশের তুলনায় গড়ে প্রায় ২২ শতাংশ নাইট্রোজেন সার কম ব্যবহার করা সম্ভব বলে দাবি গবেষকদের। 


গবেষকদের ভাষ্য, অনেক কৃষক বেশি নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সার প্রয়োগ করলে ফলন বাড়বে এমন ধারণা থেকে সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়েও বেশি সার ব্যবহার করেন। কিন্তু ফসলের গাছ প্রয়োজনের অতিরিক্ত নাইট্রোজেন গ্রহণ করতে পারে না। ফলে অতিরিক্ত সার মাটিতে থেকে যায় কিংবা বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। 


গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, নাইট্রোজেন সারের প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ডিনাইট্রিফিকেশন প্রক্রিয়ায় হারিয়ে যেতে পারে। এতে একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ে, অন্যদিকে পানিদূষণ, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। 


গবেষকরা আরও জানান, বাংলাদেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ কৃষিজমি প্রতিবছর কোনো না কোনোভাবে প্লাবিত হয়। প্লাবনের ফলে মাটির উর্বরতা ও পুষ্টি উপাদানের অবস্থায় পরিবর্তন ঘটে। ফলে কয়েক বছর পরপর প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত সার প্রয়োগের সুপারিশ সব এলাকার পরিবর্তিত মাটির অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। 


এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই N-FertiSmart-এ স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার ও নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যাবে। ফলে জমির বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। 


গবেষকদের মতে, প্রচলিত সার সুপারিশ নির্দিষ্ট সময় পরপর হালনাগাদ করা হলেও স্যাটেলাইটভিত্তিক এই পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিবছর জমির অবস্থা ও সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার বিবেচনায় নিয়ে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষক অতিরিক্ত সার প্রয়োগ এড়াতে পারবেন। একই সঙ্গে সার ব্যবহারের দক্ষতা বাড়বে, কৃষকের খরচ কমবে এবং পরিবেশে নাইট্রোজেনের অপচয় ও দূষণও কমানো সম্ভব হবে। 


গবেষক দলের সদস্য ও জবির সিএসই বিভাগের মাস্টার অব সায়েন্সের শিক্ষার্থী বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে N-FertiSmart প্রকল্পটি নিয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী ও গর্বিত। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি, রিমোট সেন্সিং এবং ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তিকে একত্রিত করে বাস্তব কৃষি সমস্যার একটি কার্যকর সমাধান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। গবেষণার সবচেয়ে বড় আনন্দ হলো একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার সুযোগ পাওয়া।” 


তিনি বলেন, “এই প্রকল্প শুধু নাইট্রোজেন সার ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন নয়, বরং কৃষকের খরচ কমানো, সার ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষি গড়ে তোলার একটি সম্ভাবনাময় পদক্ষেপ।” 


গবেষক দলের অন্যতম সদস্য অধ্যাপক ড. এ এম এম গোলাম আদম বলেন, “বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। উদ্ভিদের ফলনের জন্য নাইট্রোজেন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। আমাদের দেশে স্থান, মাটির প্রকৃতি ও ফসলভেদে নাইট্রোজেনের সুপারিশকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা আছে। কিন্তু তা প্রতিবছর হালনাগাদ হয় না। আমাদের এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর সম্ভাব্য ডিনাইট্রিফিকেশন হার নির্ণয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেনের পরিমাণ নির্ধারণ করতে পারব।” 


তিনি বলেন, “এর ফলে কৃষকদের সারের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় লাঘব করে তাদের মুনাফা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। একইভাবে দেশে সারের ঘাটতি কমানো, পরিবেশদূষণ রোধ এবং জাতীয়ভাবে কৃষি খাতকে অনেকাংশে সমৃদ্ধ করা সম্ভব হবে।” 


নিজেদের উদ্ভাবন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে অধ্যাপক গোলাম আদম বলেন, “আমি সত্যিই অনেক ভালো অনুভব করব যদি আমরা আমাদের এই উদ্ভাবনকে প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি। আর এটি তখনই সম্ভব হবে, যখন আমরা সরকারি সহায়তার মাধ্যমে বড় পরিসরে আমাদের উদ্ভাবনকে বাস্তবে সকল কৃষকের জন্য উন্মুক্ত করতে পারব। কৃষকরা আমাদের সবার জন্য সারা বছর কাজ করেন, আহারের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের জন্য কিছু করতে পারা সত্যিই আমাদের জন্য একটি অনন্য অর্জন।” 


প্রকল্পটির কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রযুক্তিগত অংশের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “স্যাটেলাইটভিত্তিক তথ্য ও ডেটা বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে কৃষিজমির অবস্থাভেদে নাইট্রোজেনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করা সম্ভব। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।” 


এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা। 


এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে। এর ফলে একই পরিমাণ সার সব জমিতে প্রয়োগের পরিবর্তে জমির প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে একদিকে কৃষকের খরচ কমবে, অন্যদিকে অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে পরিবেশের ওপর যে চাপ তৈরি হয়, সেটিও কমানো সম্ভব হবে।” 


তিনি আরও বলেন, “আমরা এই গবেষণার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয় থেকেও অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। উদ্ভাবনটি বর্তমানে নভোথিয়েটারে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে উপস্থাপন করা হয়েছে।” 


গবেষক দলের অন্যতম প্রধান সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আতাউল গনি বলেন, “আমাদের এই উদ্ভাবনটি নিয়ে কাজ করার মূল অনুপ্রেরণা হলো বাংলাদেশের কৃষিতে নাইট্রোজেন সার ব্যবহারে দক্ষতা বাড়ানো এবং অপ্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন ক্ষয় কমানো। বিশেষ করে দেশের প্লাবন ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ কৃষিজমিতে মাটি ও পানির অবস্থা সময়ের সঙ্গে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ফলে একই জমিতে সবসময় একই মাত্রায় সার প্রয়োগ কার্যকর নাও হতে পারে।” 


তিনি বলেন, “N-FertiSmart-এর মাধ্যমে আমরা স্যাটেলাইট তথ্য ও ডিনাইট্রিফিকেশনভিত্তিক নাইট্রোজেন ক্ষয়ঝুঁকি বিশ্লেষণকে বিদ্যমান FRG-2024 সার সুপারিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষকের জন্য আরও স্থান ও সময়ভিত্তিক নাইট্রোজেন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চাই।” 


অধ্যাপক আতাউল গনি আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো সঠিক পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে নাইট্রোজেন সার প্রয়োগের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদনশীলতা বজায় রেখে সার অপচয়, অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং পরিবেশগত দূষণ কমানো।” 


নিজের অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন গবেষক হিসেবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হলো, গবেষণাগারে তৈরি একটি বৈজ্ঞানিক ধারণাকে বাস্তব কৃষি সমস্যার সমাধানে এবং ভবিষ্যতে কৃষকের ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে রূপ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমি আশা করি N-FertiSmart বাংলাদেশের টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি কার্যকর অবদান রাখতে পারবে।” 


এখন কবে নাগাদ প্রযুক্তিটির মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে কৃষিতে নাইট্রোজেন ব্যবহারের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সারের অপচয় রোধ এবং পরিবেশগত ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের এই নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো হবে সেদিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে কুবির উদ্ভাবনী প্রকল্প

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৯ পিএম

গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ অংশ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)। রাজধানীর নভোথিয়েটারে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে শিক্ষার্থীদের তৈরি তিনটি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। অনুষ্ঠানে সরকারের মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


মেলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে প্রদর্শিত তিনটি প্রকল্পই কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উদ্ভাবন। এর মধ্যে শাকিরুল ইসলামের তৈরি স্মার্ট হুইলচেয়ার মুখের অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সামনে, পেছনে, ডানে ও বামে চলতে সক্ষম। হাত-পা অচল হলেও মুখের নড়াচড়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর স্বনির্ভর চলাচল নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য।


রায়হান হোসেন রিফাতের উদ্ভাবিত ‘যুক্তি’ একটি বাংলাভিত্তিক প্রোগ্রামিং ভাষা, যা প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় প্রোগ্রামিং শেখার সুযোগ করে দেবে। অন্যদিকে, জাহিদুর রহমানের ‘আমার প্রশ্ন’ (Amar Prosno) একটি প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা, ওএমআর এবং ওএমআর প্রক্রিয়াকরণসহ ভর্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে সহায়তা করবে।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের সমন্বয় করছেন ফোকাল পয়েন্ট ড. মাহমুদুল হাছান এবং সহ-ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আইসিটি সেলের পরিচালক ড. মেহেদী হাসান।


অনুষ্ঠানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এম. শরীফুল করীম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি প্রদর্শিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬-এ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণের ফোকাল পয়েন্ট ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. মাহমুদুল হাছান বলেন, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টলে আমরা তিনটি প্রজেক্ট প্রদর্শন করছি। মেলায় আগত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের মাঝে আমাদের এই উদ্ভাবনগুলো বেশ আলোড়ন তুলেছে। তারা গবেষণাগুলোর কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।”


তিনি আরও বলেন, “একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প তৈরি করার সময় সেটি দেশের কোনো বাস্তব সমস্যার সমাধান করছে কি না, তা বিবেচনায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে এসব প্রকল্প শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগও সৃষ্টি করে।”


উল্লেখ্য, ‘ইনোভেট টু মার্কেট' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর নভোথিয়েটারে চলবে।



SelfGuard এর উদ্ভাবক ইফতেখার নাহিম

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২৯ পিএম

ডিজিটাল যুগে মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি হলো মনোযোগ। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনবরত নোটিফিকেশন, রিলস, শর্ট ভিডিও এবং অ্যালগরিদম-নির্ভর কনটেন্টের কারণে প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে সেই মনোযোগ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল আসক্তি দিন দিন বাড়ছে, যা তাদের পড়াশোনা, কর্মদক্ষতা এবং মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।



এই বাস্তবতা বিবেচনায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের  ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের আইসিটি বিভাগের  শিক্ষার্থী ইফতেখার নাহিম তৈরি করেছেন সেল্ফগার্ড নামের একটি ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যাপ। অ্যাপটির নির্মাতার দাবি, এটি শুধু একটি অ্যাপ-ব্লকার নয়; বরং ব্যবহারকারীদের সময় ব্যবস্থাপনা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং সুস্থ ডিজিটাল জীবনযাপন নিশ্চিত করার একটি কার্যকর উদ্যোগ।



সেল্ফগার্ড-এর প্রতিষ্ঠাতা জানান, ব্যক্তিগতভাবে কাজ কিংবা কোডিংয়ের সময় বারবার ফোনের নোটিফিকেশন এসে মনোযোগ নষ্ট হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই অ্যাপটি তৈরির চিন্তা শুরু হয়। পরে তিনি উপলব্ধি করেন, এই সমস্যা কেবল তার একার নয়; বরং বর্তমান প্রজন্মের অসংখ্য মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা।



বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফোকাস ও স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণকারী অ্যাপ থাকলেও সেগুলোর অনেকগুলোতেই ব্যবহারকারীরা সহজে নিয়ম ভাঙতে পারেন। সেল্ফগার্ডের ক্ষেত্রে 'নো বাইপাস সিকিউরিটির' ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা কার্যকরভাবে বজায় রাখার চেষ্টা করে। নির্মাতার মতে, এটি ব্যবহারকারীদের আচরণগত ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়তা করবে।



অ্যাপটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর প্রাইভেসি ফার্স্ট নীতি। নির্মাতা জানান, বর্তমানে অনেক অ্যাপ বিভিন্ন ধরনের ব্যবহারকারী তথ্য সংগ্রহ করে ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করে। তবে সেল্ফগার্ড এর ক্ষেত্রে  ব্লক ফিল্টারিংসহ প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসেই সম্পন্ন হয়।



তার দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির অ্যাক্সেসিবিলিটি সার্ভিস থেকে প্রাপ্ত তথ্য শুধুমাত্র ডিভাইসের ভেতরে রিয়েল-টাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় এবং কোনো রিমোট সার্ভারে সংরক্ষণ বা প্রেরণ করা হয় না। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীর ব্লক রুলস, কী-ওয়ার্ড, ফোকাস সেশন, স্ট্রিক এবং অন্যান্য তথ্য এসকিউএল সিফার এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত রাখা হয়। এছাড়া অ্যাপটিতে কোনো থার্ড-পার্টি বিজ্ঞাপন বা ট্র্যাকিং অ্যানালিটিক্স সংযুক্ত করা হয়নি।



ইফতেখার নাহিম জানান, তিনি অ্যাপটির সাফল্য কেবল ডাউনলোড বা ইনস্টলের সংখ্যায় মূল্যায়ন করে না। বরং ব্যবহারকারীর স্ক্রিনটাইম কমানো, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করাকেই প্রকৃত সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



গুগল প্লে স্টোরেও অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। একাধিক রিভিউতে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, অ্যাপটি মনোযোগ ধরে রাখতে এবং অপ্রয়োজনীয় বিভ্রান্তি এড়াতে সাহায্য করছে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের ২০তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীও অ্যাপটিকে উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মের জন্য এটি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট থেকে দূরে থেকে মনোযোগ ধরে রাখতে বিশেষভাবে কার্যকর। এ ছাড়া আরেকজন ব্যবহারকারী জানান, ডিভাইসে অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট ব্লক করতেও অ্যাপটি কার্যকরভাবে কাজ করছে। অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিটি রিভিউয়ের জবাবে ব্যবহারকারীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং প্রতিক্রিয়াগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন। আগ্রহীরা চাইলে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন: https://play.google.com/store/apps/details?id=com.selfguardapp.android



ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে সেল্ফগার্ডের প্রতিষ্ঠাতা  ইফতেখার নাহিম বলেন, 'নিজের গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত রেখে অ্যালগরিদমের হাত থেকে নিজের সময় ও স্বপ্নের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার জন্যই সেল্ফগার্ড।'


 তিনি আরও জানান, আগামী পাঁচ বছরে সেল্ফগার্ড-কে একটি সাধারণ মোবাইল অ্যাপের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় পর্যায়ের 'ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং মুভমেন্ট' এ পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:২০ পিএম

ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল পরিষ্কার এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের ১ নং যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদারের নেতৃত্বে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্রদলের দুই শতাধিক নেতাকর্মী।


আজ রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাঁঠালতলা থেকে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে পারে এমন স্থানগুলো পরিষ্কার করেন নেতাকর্মীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন করা এবং ব্যক্তিগত ও সামষ্টিকভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ক্যাম্পাসের সব অংশীজনকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু রাখা গেলে মশার প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি ক্যাম্পাসের পরিবেশও স্বাস্থ্যকর রাখা সম্ভব হবে।


তারা আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়াও ছাত্রদলের এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 


তাদের মতে, ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করে পরিচালিত এমন কর্মসূচি জনসচেতনতা তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সুমন সরদার বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন করা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"


তিনি বলেন, "একদিনে পুরো ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব নয়। তাই ধাপে ধাপে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।" 


এ সময় ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু ক্যাম্পাস নয়, নিজ নিজ বাসাবাড়ির আশপাশও পরিষ্কার রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানোর পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে না থাকে এবং মশার বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


এছাড়াও রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার না চালিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।


কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জবি ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সাখাওয়াতুল ইসলাম খান পরাগ, আরিফুল ইসলাম আরিফ, ইয়াসির আরাফাত, মনির হোসেন, রায়হান হোসেন অপু, আল আমিন সোহেল, রবিন মিয়া শাওন, মেহেদী হাসান এবং আহ্বায়ক সদস্য নাইমুর রহমান দুর্জয়, রাহাত হাসান, মেহেদী হাসান ইমন, মেহেদী হাসান সাগর, মনির হোসেন শান্ত, লিমন, মাসফফিক, মনির, মিঠু, রেদোয়ান রুবায়েত, নাইমুর, নাইম, সাইফুল, কামরুল, ইভান, আশরাফুল, আবু হুয়াইয়া, আকরাম, সৌরভ, সাব্বির, মালেক, রায়হান, মামুন, মিথীল, সিয়ামসহ সংগঠনটির প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী।


এমসিজে নিউজের সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:১৪ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের নিজস্ব মিডিয়া প্লাটফর্ম এমসিজে নিউজ এর চিফ নিউজ এডিটর (সিএনই) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ মিয়া কাউছার।

‎রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 


এমসিজে নিউজ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক সাংবাদিকতা চর্চার একটি নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসভিত্তিক সংবাদ, ফিচার, প্রতিবেদন ও মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট তৈরি করে বাস্তব সংবাদমাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে।

নবনিযুক্ত সিএনই ফরহাদ মিয়া কাউছার বলেন, "আমরা সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে যা পড়ি তার বাস্তব প্রয়োগের জায়গা এমসিজে নিউজ। পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে আমরা সাংবাদিকতা চর্চা করি। এমসিজে নিউজ একটি জনপ্রিয় মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম। এটার চিফ নিউজ এডিটর অর্থাৎ সিএনই'র দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য সম্মানের এবং ভালো লাগার বিষয়। বিভাগের সিনিয়র-জুনিয়র সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমসিজে নিউজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।"


গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: বেলাল হুসাইন বলেন, "এমসিজে নিউজের কার্যক্রম গতিশীল করার জন্য নতুন সিএনই নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি দেশ বিদেশে বিভাগের ব্রান্ডিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশাকরি নতুন সিএনই ও তার টিম তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করবে এবং এমসিজে নিউজকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।"


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৪৬ পিএম

অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শাহ আজিজুর রহমান হল প্রভোস্ট বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে শাহ আজিজুর রহমান হল শাখা ছাত্রশিবির।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা দুইটার দিকে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের অনুপস্থিতিতে     স্মারকলিপি গ্রহণ করেন হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব শাহিন।


স্মারকলিপিতে শাহ আজিজুর রহমান হলে দীর্ঘদিন পর সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রদানের পরও কার্যক্রম বিলম্বিতের অভিযোগ উল্লেখ করে পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলে—অবৈধ শিক্ষার্থী অপসারণ ও মেধার ভিত্তিতে সিট নিশ্চিতকরণ, স্থায়ী সিট বন্টন নীতিমালা প্রণয়ন, প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত সিট বরাদ্দ, হলের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডাইনিংয়ের খাবারের মান নিশ্চিতকরণ।


হল শাখা শিবির সভাপতি শাহ মো. মারুফ হাসান বলেন, "২০২৪ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে হলে কোনো অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হয়নি; বর্তমানে চলমান অ্যালোটমেন্টের সময়সীমাও ২০ আগস্ট থেকে বাড়িয়ে ২০ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে—তাহলে সিট বণ্টনে এত দীর্ঘসূত্রতা কেন? অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত অপসারণ করে মেধার ভিত্তিতে সিট বণ্টন ও স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ন্যায্য আবাসন অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"


হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. এটিএম মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে  পাওয়া যায় নি।


হাউজ টিউটর সহযোগী অধ্যাপক মো. আনারুল ওহাব বলেন,"প্রভোস্ট ছুটিতে আছেন। আমি স্মারকলিপি রিসিভ করেছি। প্রভোস্ট আসলে আমরা বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।"