ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘বি’ ইউনিটের (মানবিক) ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষা শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে ভিড় করছেন পরীক্ষার্থীরা। এতে কেন্দ্রের প্রবেশমুখে পরীক্ষার্থীদের প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে তল্লাশি করে পরীক্ষার্থীদের মেইন গেট দিয়ে প্রবেশ করানো হয়। যেকোনো বিলম্ব এড়াতে পরীক্ষা শুরুর এক থেকে দেড় ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রে প্রবেশ করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বি’ ইউনিটে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন ৯১৩৩ শিক্ষার্থী। কেন্দ্রে হিসেবে থাকছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইবনে সিনা ভবন, রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবন, অনুষদ ভবন, ব্যবসায় অনুষদ ভবন, মীর মশাররফ হোসেন একাডেমিক ভবন। পুরো পরীক্ষার বিষয়াদি মনিটরিং করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ।
ইবি কেন্দ্রে গুচ্ছ বি ইউনিটের সমন্বয়কারি ও আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিন বলেন, আমাদের প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষাটি সম্পন্ন হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ভর্তি পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, “আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে ম্যাজিস্ট্রেট এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে। মেডিকেল টিম সহ অন্যান্য সেবামূলক টিম সার্বক্ষণিক মনিটরিং করবেন। এবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থী বেশি থাকায় আগের চেয়ে বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছি । আশা করছি কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে।”
গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রের এ পরীক্ষা ঘিরে ক্যাম্পাসে বিরাজ করছে বাড়তি নিরাপত্তা ও সতর্কতা।
ছবি : সংগৃহীত
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ওইদিন সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করা হবে। সোমবার (২৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তবে ঘোষিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশ না হওয়ায় নানা রকম গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বেগ জানান পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। এরপর শিক্ষামন্ত্রী চলতি মাসের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা যায় কি না, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান।
সেসময় বোর্ডকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রস্তুত রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছিল ৩০ জুলাই ফল প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে। তা না হলে আগস্টে গণ-অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অনুষ্ঠান থাকায় ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় গত ২০ মে। নিয়মানুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা। সে হিসাবে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও এবার ফল প্রকাশ করতে পারেনি শিক্ষা বোর্ড।
গত ২১ এপ্রিল এ বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসিতে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, মাদরাসা বোর্ডে দাখিলে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার এসএসসিতে বহিষ্কার ছিল খুবই কম।
ছবিঃ সংগৃহিত
রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের মঞ্চে আসন ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
রবিবার (২৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উক্ত ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে ছাত্রনেতাদের বক্তব্য পর্বে কেবল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে শিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা স্লোগান দিতে দিতে অনুষ্ঠান বর্জন করেন। এ সময় তারা প্রশ্ন তোলেন, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নাকি কোনো নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিন, সংসদ সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সিন্ডিকেট সদস্য সানজিদা ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, “নবীনবরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর অনুষ্ঠান; এটি কোনো দলীয় কর্মসূচি নয়। অথচ জুলাইয়ের পূর্বের মতো আবারও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস গঠনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জুলাই আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও সংগঠনের শিক্ষার্থীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সেই অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। প্রশাসন যদি বৈষম্যমূলক অবস্থান গ্রহণ করে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সব ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীর জন্য সমান মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং বৈষম্যহীন ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার দাবি জানাই।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, “জুলাই এসেছিল বৈষম্য দূর করার জন্য। কিন্তু এখানে আমরা দেখছি প্রশাসন আবারও বৈষম্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। অতীতের মতো আজও একটি নির্দিষ্ট ছাত্রসংগঠনকেই বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বক্তব্যের সুযোগ না থাকলে কারওই থাকা উচিত নয়। আর যদি সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে তা সব সংগঠনের জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র একটি দলকে সুযোগ দেওয়া দৃশ্যত বৈষম্য। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই আমরা আজকের অনুষ্ঠান বর্জন করেছি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী বলেন, “সময় স্বল্পতার কারণে আমরা অন্যান্য ছাত্রসংগঠনকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিতে পারিনি। বিষয়টি তাদের আগের রাতেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এত বড় একটি আয়োজনে ছাত্রদের এ ধরনের আচরণ কাম্য ছিল না।”
ছবি : সংগৃহীত
বন্যা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষা আবার শুরু হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্য সব সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
বোর্ডের রুটিন অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টা থেকে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, জীববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে খাদ্য ও পুষ্টি প্রথম পত্র।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় ইসলামের ইতিহাস, পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং তাজভিদ দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি বিএমটিতে অনুষ্ঠিত হবে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট-১ বিষয়ের পরীক্ষা।
বন্যা–পরবর্তী পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগ বিবেচনায় গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন অবশিষ্ট সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। একই সিদ্ধান্তের আওতায় আলিম, এইচএসসি বিএমটি, এইচএসসি ভোকেশনাল এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্সের অবশিষ্ট পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।
পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন গত ২৩ জুলাই ঘোষণা দেন, ২৭ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষা পুনরায় শুরু হবে। তবে স্থগিতাদেশের আগে অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলো নতুন সময়সূচি প্রকাশ করে পরে নেওয়া হবে।
চলতি বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩। এর মধ্যে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষার্থী ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন, যারা ১১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সঙ্গে বিএনপির একটি অভ্যন্তরীণ সমঝোতা ছিল। সেই সমঝোতার অংশ হিসেবেই সরকার গঠনের পরও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাকে রাষ্ট্রপতির পদে বহাল রাখা হয় এবং বর্তমানে তাকে ‘সেফ এক্সিট’ দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কমান্ড রেসপনসিবিলিটির জায়গা থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। তার অভিযোগ, সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার পরিবর্তে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তুলে তিনি বলেন, লন্ডনে অবস্থানকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলেও তারা জেনেছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দায়িত্বে থাকাকালে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দায়মুক্তি ভোগ করেন। তবে পদত্যাগ বা দায়িত্ব ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের উদাহরণ টেনে বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সাংবিধানিক কোনো বাধা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আখতার হোসেন আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকায় এতদিন সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিষয়ে তদন্ত হয়নি। এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি শুধু রাজনৈতিকভাবেই বিতর্কিত নন, আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার দাবি, ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার ঘটনায় সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিদেশে সম্পদ গড়া এবং ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ‘বর্ষা বিপ্লবের স্মৃতিচারণ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তি।
সংগঠনটির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ইফতেহার উদ্দীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সরকারি চাকরিগুলোর নিয়োগ যেন দলীয়করণ থেকে মুক্ত থাকে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারীর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘রিমেম্বারিং জুলাই’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারীর নেতারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার এবং যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ড. মাহমুদা আলম মিতু এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান।
শাখা জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান বলেন, জুলাই আন্দোলন কারো একার ছিল না। ছাত্র, জনতা, কৃষক, শ্রমিক সবাই মিলে আন্দোলন করেছিল। তাই জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখতে সকল রাজনৈতিক দল মিলে ভূমিকা রাখতে হবে।”
জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান বলেন, “নতুন ছাত্র রাজনীতি তৈরির জন্যই আমরা জাতীয় ছাত্রশক্তি নিয়ে এগোচ্ছি। তবে পুরো রাজনৈতিক কালচারের অনেক কিছুই ছাত্রশক্তিতে রয়েছে। আমরা এক রাতে সেটা চেঞ্জ করতে পারছি না। তবে ধীরে ধীরে চেঞ্জ করছি।”
সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “আমাদের সমাজে এখনো ভয়ের রাজনীতি বিদ্যমান। আখতার, নাহিদসহ জুলাইয়ের পরিচিত মুখগুলোকে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকেরাও ইতিবাচকভাবে দেখেন। কিন্তু আমরা যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত, তাদের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কথা বললেই রাজনৈতিক ট্যাগ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আমরা এই ভয়ের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ে গুম, খুন এবং লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস ঘটনা আমরা সবাই দেখেছি। এসব ঘটনার পর রাজনীতি করার ইচ্ছা ছিল না। তবে নিজের ক্যারিয়ার ঠিক রেখেই রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছি। তাই আমি শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে ছাত্রীদের বলব—গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে শুধু চাকরির কথা নয়, চেয়ারম্যান, মেম্বার কিংবা এমপি হওয়ার লক্ষ্যও রাখুন। এখানে উপস্থিত অনেকেরই সেই যোগ্যতা রয়েছে।”
এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, “আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলাম, তখন দেশে ভয়ের রাজনীতি ও ফ্যাসিবাদী পরিবেশ ছিল। অন্যায়ের প্রতিবাদ করা ছিল জীবনের ঝুঁকি নেওয়ার শামিল। আমরা চাই, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আর কখনো হল দখল, নির্যাতন, বাক্স্বাধীনতা হরণ বা ভয়ের সংস্কৃতি ফিরে না আসুক।”
তিনি বলেন, “যে-ই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, কোনো ছাত্রসংগঠনই যেন ছাত্রলীগের মতো ক্যাম্পাস দখলের সংস্কৃতি তৈরি না করে। জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ সব ছাত্রসংগঠনকে এ বিষয়ে ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’-এর মধ্যে থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ক্যাম্পাসের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার জায়গা নয়; এখান থেকেই সম্প্রীতি, গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের দেশের অসংগতি, বৈষম্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করতে হবে।”
সাজিদ আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা।”
বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গবেষণা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে।”
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে নানা ধরনের কথা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, এসব থাকবেই, তবে পাওয়া সুযোগকে হেলায় হারানো যাবে না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। আজ রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের মাত্র পাঁচ মাসেই দেশে অনেক ধরনের কথা শুরু হয়ে গেছে। এসব থাকবেই। আমরা যেন সুযোগকে হেলায় না হারাই। যে সুযোগ পাওয়া গেছে, তা কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে একেবারে ধ্বংস করা হয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। এখন সেগুলোর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় চার কোটি শিক্ষিত যুবক রয়েছে। সে অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই। তবে পরিবর্তন আনার কাজ চলছে, এতে সময় লাগবে। এখন কর্মমুখী শিক্ষায় মনোযোগ দিতে হবে।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে গ্যাস নেই, তেল নেই। জ্বালানির এই সংকট এখন উন্নয়নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি অনেক বড় সমস্যা। এদিকে ইরানে যুদ্ধ চলছে। তাই বিকল্প জ্বালানি আবিষ্কার করতে হবে এবং গ্রিন এনার্জির দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, যে যেখানে আছেন, সবাই কাজ করে তারেক রহমানকে সহযোগিতা করতে হবে। দেশের পরিবর্তনে নিজেকে আগে পরিবর্তন করতে হবে।