জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আগামী ১৯ অক্টোবর (সোমবার) সারাদেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গতকাল মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খানের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের অষ্টমী পূজা উপলক্ষ্যে দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগামী ১৯ অক্টোবর সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাজুস। একই সঙ্গে এ বিষয়ে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।



সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরের শুক্র-শনি মিলিয়ে এই ছুটি হতে যাচ্ছে পাঁচ দিন। তবে ছুটির আগের শনিবার অর্থাৎ ১৭ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারভাইজরি ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিক্স ডিপার্টমেন্ট (এসডিএডি) থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।


সার্কুলারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০, ২১ ও ২২ অক্টোবর যথাক্রমে মঙ্গলবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে ১৭ অক্টোবর শনিবার ব্যাংকগুলো স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম পরিচালনা করবে।


এদিকে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার পোর্ট ও কাস্টমস এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও বুথগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু রাখতে হবে। এ নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর সরকারি ছুটির দিন এবং ২৩ ও ২৪ অক্টোবর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত কার্যক্রম সীমিত আকারে চলবে।


সার্কুলারে আরও বলা হয়, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।


বাংলাদেশ ব্যাংক জনস্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

এলপিজি সিলিন্ডার দুইদিন বিক্রি বন্ধ ঘোষণা

  • প্রকাশ : সোমবার ১২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৮ পিএম

এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে সারা দেশে দুই দিন সব গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সেলিম খান। 


আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।


সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সারা দেশে সব সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ থাকবে।


সভাপতি বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ও সাপ্লাই নিয়ে বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এসবের প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার সব দোকান বন্ধ থাকবে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ীদের যেসব দাবি দাওয়া আছে, সেগুলো মানা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।


সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাসিরুদ্দিন নাসিম অভিযোগ করেন, শুধু ৫টি কোম্পানির হাতে এলপি সিলিন্ডার গ্যাসের বিপণন জিম্মি। তাদের হাত ধরে স্বৈরাচারী কায়দায় এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির হচ্ছে বলে ক্ষোভ জানান তিনি।


প্রসঙ্গেত, সর্বশেষ গত ৪ অক্টোবর এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ১২ কেজি ছাড়াও সব ওজনের সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়। 


তবে সব সময়ের মতো সরকার নির্ধারিত এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। ২ হাজার থেকে ২২০০ কিংবা ২৪০০ টাকা দিলে মিলিয়ন পাওয়া যায় ১২ কেজির সিলিন্ডার।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের দরপতন ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। শুক্রবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৯০ দশমিক ৫৭ ডলারে পৌঁছেছে।


বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে এই দর রেকর্ড করা হয়। এর আগে বুধবার স্বর্ণের দাম দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে শুক্রবারের দরবৃদ্ধিতে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত স্বর্ণের ফিউচার দরও ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১৫ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে মূল্যবান ধাতুটির চাহিদা বাড়তে পারে। তেলের দাম কমাও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে।


তবে বিনিয়োগকারীরা এখনো মূল্যস্ফীতির স্থায়িত্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সুদের হার কমার সম্ভাবনা সোনার বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ স্বর্ণ কোনো সুদ দেয় না এবং সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে এর আকর্ষণ সুদের হারের পরিবর্তনের সঙ্গে ওঠানামা করে।


সব মিলিয়ে ডলারের দুর্বলতা ও তেলের দরপতন শুক্রবার স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরিতে সহায়তা করেছে। তবে মূল্যস্ফীতি ও ফেডের নীতিগত সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তা বাজারে প্রভাব বজায় রেখেছে।


সূত্র: রয়টার্স


সর্বশেষ সব খবর

সালমান এফ রহমান

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০০ পিএম

সালমান এফ রহমানকে পরিচালনা পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার পর শেয়ারবাজারে বেক্সিমকো লিমিটেড ও শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বেক্সিমকো গ্রুপের মালিকানাধীন কোম্পানি দুটির পর্ষদ পুনর্গঠন করে। এর পর গত দুই দিনে দুই কোম্পানির শেয়ারের দামই ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।


ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দাম ৮০ পয়সা বা ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আরও ২ টাকা বা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ বেড়েছে। এতে দুই দিনে বেক্সিমকোর প্রতিটি শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।


শাইনপুকুর সিরামিকসের শেয়ারের দামও একই সময়ে বেড়েছে। বুধবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৯০ পয়সা বা সাড়ে ৪ শতাংশ বাড়ে। আজ প্রথম দুই ঘণ্টায় দাম বেড়েছে ২ টাকা ১০ পয়সা বা ১০ শতাংশ। ফলে দুই দিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩ টাকা বা ১৫ শতাংশ বেড়েছে।


সালমান এফ রহমানকে পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার খবরে কোম্পানি দুটির শেয়ারে লেনদেনও বেড়েছে। আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এ সময় কোম্পানিটির প্রায় ২০ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। একই সময়ে লেনদেনের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে ছিল শাইনপুকুর সিরামিকস, যার প্রায় ৭ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।


বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানির পর্ষদ থেকে সালমান এফ রহমানের বাদ পড়ার খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছে। এর ফলে কোম্পানি দুটির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে।


এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকেও সালমান এফ রহমানকে বাদ দেওয়া হয়। ফলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বেক্সিমকো গ্রুপের তিন কোম্পানি থেকেই তিনি পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন।


২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বেক্সিমকো গ্রুপের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পর্ষদ থেকে বাদ পড়ার আগে গত বছরের জুলাইয়ে তাকে শেয়ারবাজারে ‘আজীবন অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছিল বিএসইসি।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেক্সিমকো যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় সালমান এফ রহমান গ্রুপের পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হন। তার কারণে কোম্পানির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে কারণেই তিনি এ সিদ্ধান্তে সম্মত হন বলে সূত্র জানিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রুপটির তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। তবে পুনর্গঠিত পর্ষদে সালমান এফ রহমানের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই রয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৫ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


মাল্টায় শুল্ক ১০৭ টাকা!

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

ডেঙ্গুর সময়ে রোগীর পথ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাল্টা আমদানিতে শুল্ক-করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানি পর্যায়ে যে মাল্টার প্রতি কেজির দাম প্রায় ৮৭ টাকা, সেই মাল্টার জন্যই শুল্ক-কর দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা। 


অথচ চলতি অর্থবছরের ট্যারিফ অনুযায়ী, টেসলা বা মার্সিডিজ বেঞ্জসহ অন্তত ১৪৬টি এইচএস কোডভুক্ত গাড়ি আমদানিতে শুল্ক-করের হার মাল্টার চেয়ে কম।


সম্প্রতি আমদানি কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারে মাল্টার দাম কেজিপ্রতি ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ার পর অবশ্য দাম কিছুটা কমে এখন কেজিপ্রতি প্রায় ৪০০ টাকা হয়েছে। তবে আমদানি পর্যায়ে পণ্যের দামের তুলনায় শুল্ক-কর বেশি হওয়ায় আবারও আলোচনায় এসেছে মাল্টার উচ্চ করভার।


বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বলেন, বিশ্বের কোথাও ফল আমদানিতে এত শুল্ক–কর নেই। তার ভাষ্য, বাংলাদেশে মাল্টাসহ তাজা ফলে শুল্ক–কর গাড়ির চেয়েও বেশি।


২০০৬–০৭ অর্থবছরে মাল্টা আমদানিতে মোট শুল্ক-করভার ছিল ৫৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। তখন প্রতি কেজি মাল্টায় শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ১২ টাকা। এরপর ধাপে ধাপে করভার বাড়তে থাকে। ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। তখন প্রতি কেজিতে শুল্ক-কর দিতে হতো প্রায় ৩৮ টাকা।


করভার আরও বাড়ে ২০২২ সালের মে মাসে। ডলার-সংকটের মধ্যে আমদানি নিরুৎসাহিত করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে। এতে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার বেড়ে প্রায় ১১৪ শতাংশে ওঠে।


এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে করভার আরও বাড়িয়ে ১৩৬ শতাংশ করা হয়। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামেন ফল আমদানিকারকেরা। পরে ২০২৫ সালের মার্চে বাড়তি শুল্ক-কর কিছুটা কমানো হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার নির্ধারণ করা হয় ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা এখনো বহাল রয়েছে।


একদিকে মাল্টাসহ তাজা ফলের ওপর শুল্ক-কর বাড়ানো হয়েছে, অন্যদিকে পরিবেশবান্ধব প্লাগ-ইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে শুল্ক–করের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে কোনো কোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির করভার মাল্টার প্রায় অর্ধেক।


বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইলন মাস্কের বৈদ্যুতিক গাড়ি টেসলা আমদানি হয়েছে সাতটি। বছরভেদে এসব গাড়িতে শুল্ক-কর দিতে হয়েছে ৮৯ থেকে ৯২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে ৫০ হাজার ডলার মূল্যের টেসলা আমদানি করলে সর্বোচ্চ শুল্ক-করভার হবে ৮০ শতাংশ। আর ২৫ হাজার ডলারের বিওয়াইডি বা একই শ্রেণির বৈদ্যুতিক গাড়িতে করভার ৬৪ শতাংশ।


মার্সিডিজ বেঞ্জের ক্ষেত্রেও চিত্র একই। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার কমলাপুর আইসিডি থেকে ২০২৬ সালে তৈরি তিনটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি খালাস করেছে র‌্যানকন মোটরস লিমিটেড। ১ হাজার ৯৯৯ সিসির প্লাগ–ইন হাইব্রিড প্রতিটি গাড়ির বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এসব গাড়ি আমদানিতে মোট শুল্ক-কর দিতে হয়েছে ৯৬ দশমিক ১০ শতাংশ হারে।


যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ২৩ গুণ বেশি


মাল্টা উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি নিজে মাল্টা উৎপাদন ও রপ্তানি করলেও বিদেশ থেকেও ফলটি আমদানি করে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি কেজি মাল্টার সাধারণ শুল্কহার ১ দশমিক ৯ সেন্ট। আবার ১৬টি দেশ ও অঞ্চল থেকে মাল্টা আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা রয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে শুল্কমুক্ত সুবিধার বাইরে যেসব দেশ থেকে মাল্টা আমদানি হয়েছে, সেসব চালানে গড় কার্যকর শুল্কহার ছিল ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ। সেই হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বাংলাদেশে মাল্টার মোট শুল্ক-করভার প্রায় ২৩ গুণ বেশি।


প্রতিবেশী ভারতেও মাল্টা আমদানিতে ৩০ শতাংশ মৌলিক শুল্ক রয়েছে। অন্যান্য করসহ দেশটিতে মোট করভার প্রায় ৩৩ শতাংশ।


বাড়তি করের চাপ ভোক্তার ওপর


চট্টগ্রাম ফল ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক ও আমদানিকারক জুনায়েদুল হক বলেন, আগে এক কনটেইনার মাল্টা আমদানিতে শুল্ক–কর দিতে হতো প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা। এখন দিতে হচ্ছে ২৮ থেকে ২৯ লাখ টাকা। তার ভাষ্য, ফলের ওপর এত বেশি শুল্ক-কর আরোপের ফলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ছে ভোক্তার ওপরও।

সর্বশেষ সব খবর

বিশ্বব্যাংক

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং কম রাজস্ব আহরণে ২০২৩ সাল থেকে প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে আছে। আজ প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’-এ বিশ্বব্যাংক এ কথা জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি গতি হারিয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে ব্যবসার খরচ। তবে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ উন্নত হওয়ায় বাহ্যিক খাত স্থিতিশীল ছিল। জ্বালানি সরবরাহ ধীরে ধীরে সহজ হলে এবং সংস্কার গতি পেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।


বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দারিদ্র্য ও বৈষম্য বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যে পড়েছে। কর্মসংস্থান থমকে গেছে, নারীরা চাকরি হারিয়েছেন। খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ হয়েছে। 


প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।


বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ এবং জ্বালানি খাতে দ্রুত ও সাহসী সংস্কার দরকার। দরিদ্রদের সুরক্ষা ও ভালো কর্মসংস্থানের জন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষিতে ভর্তুকি থাকলেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। প্রতিবেদনে ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে। একাধিক খাদ্য ভর্তুকি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কর্মসূচির উন্নত লক্ষ্যনির্ধারণ যুক্ত করলে আরও ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে তোলা সম্ভব।


একই দিন প্রকাশিত ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ, আর ২০২৭ সালে তা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে।


বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, এআই মূল্য শৃঙ্খলার সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষতা, অবকাঠামো ও সহায়ক পরিবেশে বিনিয়োগ করতে হবে।


এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে পারে, তবে এজন্য মৌলিক ঘাটতিগুলো দূর করতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর