বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল নিয়ে এক গবেষণা ফলাফল শেয়ারিং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রম কমিশনের সম্মানিত সদস্য ও বিলস-এর সম্মানিত সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বিলস-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, বিলস-এর ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আমিন এবং পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ।
গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম। সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বিলস-এর রিসার্চ অফিসার রাবেয়া খানম। এছাড়া অনুষ্ঠানে গবেষক, শ্রম অধিকারকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প—বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চাতাল খাতে বহুমাত্রিক সংকট সৃষ্টি করছে। পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।
মূল আলোচক হিসেবে বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও চাতাল (চাল প্রক্রিয়াকরণ) শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্পে অটোমেশন এবং সবুজ কারখানায় রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এই খাতগুলোতে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে।
তিনি বলেন, এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শ্রমিক, মালিক, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারি সংস্থার জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা ও জীবনমানে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিলস এবং তারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তরের বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবসমূহ বিশ্লেষণ” শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
গবেষণায় পোশাক ও চাতাল শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের বর্তমান অবস্থা, প্রধান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং এর ফলে শ্রমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় যে প্রভাব পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভার ও গাজীপুর থেকে ২০০ জন পোশাক শ্রমিক এবং দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ২০০ জন চাতাল শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, কারখানা মালিক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে গবেষণার খসড়া ফলাফল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে শেয়ার করে তাঁদের মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়।
আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পোশাক ও চাতাল শিল্পে অটোমেশন, সবুজ জ্বালানির ব্যবহার, সবুজ কারখানায় রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা যেন সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও কর্মকৌশলপত্র প্রণয়নে সহায়তা করা।
বক্তাদের অভিমত
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পখাতের অভিযোজন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নয় এটি একটি সামাজিক ও মানবিক প্রক্রিয়াও।
তাঁরা বলেন, সবুজ শিল্পায়নের পথে অগ্রসর হতে হলে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই রূপান্তর কখনোই টেকসই হবে না।
বক্তারা আরও বলেন, গবেষণা অনুযায়ী নারী শ্রমিকরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছেন। তাই নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এই গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচকরা বলেন, এই গবেষণা ফলাফল নীতিনির্ধারক, শিল্প মালিক এবং শ্রম সংগঠনগুলোর জন্য একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রতীকী ছবি
শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং এলাকায় গ্যাসের পাইপলাইন স্থানান্তর ও সংযোগের (টাই-ইন) কাজের কারণে রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
আজ বুধবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বাসাবো, খিলগাঁও, মাদারটেক, শাহজাহানপুর, সিপাহীবাগ, তিলপাপাড়া, মালিবাগ, শান্তিবাগ ও তালতলা মার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
তিতাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শাহজাহানপুর রেল ক্রসিং অংশে রেললাইনের দুই পাশে ভালভ স্থাপন এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিতরণ লাইন স্থানান্তরের কাজের টাই-ইনের জন্য এ সাময়িক সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে।
সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণসহ পাঁচ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আনুষ্ঠানিকভাবে পরে তাঁদের প্রার্থিতা ঘোষণা করবে দল।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
এনসিপির সূত্র আরও জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার কারণে ওই এলাকায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। দলীয় সমীক্ষাতেও এর প্রতিফলন পাওয়া গেছে। এসব বিবেচনায় তাঁকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আসিফ মাহমুদ বলেন, তাঁর ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা পরিবর্তন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির অংশ। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে দলের সর্বোচ্চ ফোরামে আলোচনা করে তাঁকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীনকে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচন করানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দল পরে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে।
এনসিপির দলীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ১১–দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচির প্রস্তুতি সভায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে না গিয়ে আলাদাভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শরিকেরা একমত হয়। এরপর এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশনের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
এনসিপির দলীয় সূত্র বলছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী বাছাইয়ের আগে দলটি কিছু সমীক্ষা চালায়। এতে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে দক্ষিণে প্রার্থী করা হলে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে তথ্য উঠে আসে। আসিফ মাহমুদও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি যাচাই করে ঢাকা উত্তরে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন।
ঢাকা সিটিসহ স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা ভোট করবে এনসিপি
এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকাসহ পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করেছিল এনসিপি। তখন ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এখন আদীবকে বাদ দিয়ে উত্তরে আসিফ মাহমুদকে এবং দক্ষিণে আসিফের পরিবর্তে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রার্থিতা সামনে রেখে প্রাথমিক প্রস্তুতিও শুরু করেছেন দুজন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন আফতাবনগর এলাকার ভোটার হয়েছেন। অন্যদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা উত্তর থেকে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে দক্ষিণের আওতাধীন ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় এলাকার ভোটার হওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। একইভাবে মনোনয়নপত্রের প্রস্তাবক ও সমর্থককেও ওই এলাকার ভোটার হতে হয়। এনসিপির নেতারা বলছেন, মেয়র পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আসিফ ও নাসীরুদ্দীন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন।
৩০ মার্চ ঢাকার দুই সিটি ছাড়াও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনে মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজালকে মেয়র পদে প্রার্থী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা উত্তরে আসিফ মাহমুদ মেয়র পদে নির্বাচন করবেন। দক্ষিণে তাঁর নির্বাচন করার কথা রয়েছে। তবে দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিষয়টি নিশ্চিত হবে।
গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচন করেন। অল্প ব্যবধানে তাঁকে হারিয়ে জয়ী হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ওই নির্বাচনে অংশ নেননি।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিটি করপোরেশনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি। সেই লক্ষ্যেই প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সূত্র বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের আগ্রহ কম। এনসিপিসহ অন্য শরিকেরাও মনে করে, স্থানীয় নির্বাচনে কার্যকরভাবে জোটগত নির্বাচন করা প্রায় অসম্ভব। অতীতেও স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়ার নজির নেই। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে ভোট করলেও রাজনৈতিকভাবে ১১–দলীয় ঐক্য অটুট থাকবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিদ্যুৎ, গ্যাস–সংকটসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করবে তারা। এর মধ্যে আরও তিনটি লংমার্চ এবং পরে ঢাকায় মহাসমাবেশ করার কর্মসূচি রয়েছে।
এনসিপি ও জামায়াতের সূত্রগুলো বলছে, স্থানীয় নির্বাচনে আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও শরিকদের প্রার্থীরা যাতে পরস্পরের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ান, সে বিষয়ে সমন্বয় থাকবে। নির্বাচন কমিশন বা সরকারের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা কিংবা ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হলে ১১–দলীয় ঐক্যের শরিকেরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করবে। কেন্দ্রীয়ভাবেও এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে একসঙ্গে অংশ নেবে তারা।
জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক হলো এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনৈতিকভাবে ১১ দল ঐক্যবদ্ধভাবে এগোবে। তবে স্থানীয় নির্বাচনে তাঁরা আলাদাভাবে ভোট করবেন। স্থানীয় নির্বাচনে তাদের প্রচারের লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি নয়; বরং বিদ্যমান ব্যবস্থা। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাঁরা সোচ্চার থাকবেন।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কদমতলী থানার শনির আখড়ায় দোকানে ঢুকে মো. আসলাম খান (৪০) নামে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করেছে দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। তাঁর কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৮টার দিকে শনির আখড়া রয়্যাল হাসপাতালের সামনে ‘লাকীজ কুকারিজ’ নামের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ আসলাম খানকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
আহত আসলামকে হাসপাতালে নিয়ে আসা তাঁর বন্ধু মনোয়ার হোসেন জানান, তাঁরা দোকানের ভেতরে বসে কথা বলছিলেন। এ সময় এক অজ্ঞাত যুবক দোকানে ঢুকে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আসলামকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করে। এতে আসলাম রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে যান। পরে তাঁকে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রাত ৯টার দিকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
মনোয়ার হোসেন আরও জানান, গুলিতে আসলামের বাম পায়ের হাঁটুর নিচে এবং কপালের ডান পাশে আঘাত লাগে। ঘটনার পর স্থানীয়রা ওই যুবককে ধাওয়া করে আটক করেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বা এর পেছনে পূর্বশত্রুতা ছিল কি না, তা তিনি জানেন না।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, গুলিবিদ্ধ আসলামের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি কদমতলী থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।
ওয়ারী বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, শনির আখড়ায় গুলির ঘটনায় দুটি বিদেশি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসাসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তির নাম মনজুরুল ইসলাম বলে জানা গেছে। তবে কী উদ্দেশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
নিহত পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেন
ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এক সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় তাঁর ছোট ছেলেকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। গতকাল শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. আলতাব হোসেন এসবির ঢাকার মালিবাগ কার্যালয়ে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁকে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আলতাব হোসেন সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আলতাবের পরিবারের সদস্যরা জানান, মদিনা সিটি এলাকায় আলতাবের দুই ছেলের একটি ছোট পোশাক কারখানা আছে। গতকাল শনিবার রাত আটটার দিকে তাঁদের কারখানাসংলগ্ন একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে মারধর করতে দেখেন আলতাব। একটি অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সাইড দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছিল বলে আলতাবের পরিবারের ভাষ্য।
আলতাব সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা লোকেরা ওই গ্যারেজ মালিককে মারধর করছেন। তিনি তাঁদের থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হলে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দেন। এরপরও তাঁকে একটি চড় মারা হলে কানে আঘাত পান। পরে তিনি দৌড়ে কারখানায় ফিরে যান।
আলতাবের কাছে তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ঘটনার বিষয়ে জানতে পারেন। এ সময় তাঁর বড় ভাই শরিফুল ইসলাম কারখানায় ছিলেন না। এরপর আরিফুল ও তাঁর বাবা কারখানার বাইরে বের হন। ইতিমধ্যে ব্যক্তিগত গাড়িটি কারখানার সামনে আসে। পরিবারের ভাষ্য, গাড়িটিতে থাকা কয়েকজনসহ আরও ২০ থেকে ২৫ জন সেখানে জড়ো হন। পরিস্থিতি দেখে আলতাব ও আরিফুল কারখানার ভেতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হামলাকারীরা ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আলাউদ্দিন নামের একজন প্রথমে আরিফুলকে মেঝেতে ফেলে বুকে লাথি মারেন। পরে পেছন থেকে কেউ ভারী কিছু দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করলে তিনি অচেতন হয়ে যান। একই সময় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আলতাবকে মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। এরপর তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলতাবের বড় ছেলে শরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল শনিবার ছুটি থাকায় তাঁর বাবা বাড়িতে ছিলেন। সেখানে থেকে তিনি কারখানায় গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সাদা রঙের একটি প্রাইভেট কার আছে, যেটা তাঁদের কারখানার সামনে দিয়ে প্রতিনিয়ত ঘোরাফেরা করে। গাড়িতে চালকসহ চার থেকে পাঁচজন থাকেন। তাঁদের কারখানার বাম পাশে একটা জায়গায় বালু ফেলায় একটা মাঠের মতো হয়েছে। সেখানে তাঁরা নেশা করেন। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, আমিনবাজার বড়দেশি এলাকায় এক এসবি সদস্যকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে পাওয়া ৮০টি স্বর্ণের বার যার ওজন ৯ কেজি ৩৩১ গ্রাম
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৮০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস।
বুধবার রাতে উড়োজাহাজটির একটি সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। ঢাকা কাস্টমস হাউস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়, বুধবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। ওই ফ্লাইটে স্বর্ণ চোরাচালান হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে উড়োজাহাজটিতে বিশেষ তল্লাশি বা রামেজিংয়ের জন্য উপস্থিত হন। এ সময় উড়োজাহাজটি সম্পূর্ণ যাত্রীবিহীন অবস্থায় ছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে তল্লাশি চালিয়ে ১৯এ নম্বর সিটের নিচ থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কতিপয় বস্তু উদ্ধার করা হয়। পরে কাস্টমস হলে এনে সকলের উপস্থিতিতে ইনভেন্ট্রি করে ওই মোড়ক থেকে ৮০ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজার মূল্য ২০ কোটি টাকা।
উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বারগুলোর কোনো মালিক পাওয়া যায়নি। শুল্ক-করাদি ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে এগুলো দেশে আনা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। আটককৃত স্বর্ণের বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তা বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে। অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক পণ্যের নিষ্পত্তি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব স্বর্ণের বার বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, ঢাকা সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আগামীতেও এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে এখন দুজন অধ্যক্ষ। ২০ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইডেন মহিলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সুফিয়া আখতারকে কলেজটির অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করে। এর আগে কলেজের গভর্নিং বডি অধ্যক্ষ হিসেবে লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানকে নিয়োগ দেয়। সুফিয়া আখতার গত বৃহস্পতিবার কলেজে যোগদান করেছেন। কিন্তু শহিদুল হাসান তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি। ফলে অধ্যক্ষের কক্ষে দুজন নিয়মিত অফিস করছেন। শহিদুল হাসান অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালন করছেন। আর সুফিয়া আখতার সামনের সোফায় বসে থাকেন।
কলেজ-সংশ্লিষ্টরা বলেন, এটা দৃষ্টিকটু। কলেজে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫-এর ১১.১৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সরকার প্রয়োজন মনে করলে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে উপযুক্ত শিক্ষক/কর্মকর্তা/বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগ দিতে পারবে।
এই নীতিমালার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে রাজধানীর কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অধ্যক্ষ ও শাখাপ্রধান হিসেবে পদায়ন করেছে। মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার থেকে অধ্যক্ষ পদায়ন করা হয়েছে। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের পাঁচটি শাখায় শিক্ষা ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে শাখাপ্রধান হিসেবে প্রেষণে পদায়ন করা হয়েছে।
অধ্যাপক সুফিয়া আখতার বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ১৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা। মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে গত ২৭ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ওই দিন অপরাহ্নে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত করা হয়েছে বলে গণ্য করার কথা বলা হয়।
অধ্যাপক সুফিয়া আখতার গতকাল বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার কলেজে এসে যোগদানপত্র জমা দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ সেটি গ্রহণও করেছে। তবে এখনও দায়িত্ব বুঝে পাইনি।’
কলেজ কর্তৃপক্ষ লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছিল। নিয়োগে শর্ত ছিল, সরকার কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করলে কিংবা নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দিলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। সরকার নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ায় আগের অধ্যক্ষের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা।
অধ্যাপক সুফিয়া আখতার বলেন, ‘আদেশ পাওয়ার পর আমি প্রায় এক সপ্তাহ অপেক্ষা করেছি। তারপর মূল কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে কলেজে এসে যোগদানপত্র জমা দিয়েছি।’
কলেজটির গভর্নিং বডির সভাপতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সভাপতি আবদুস সালাম। অধ্যাপক সুফিয়া আখতার জানান, তিনি কলেজের সভাপতির সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাঁকে দায়িত্ব পালনের জন্য বলেছেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী, গভর্নিং বডিকে নতুন অধ্যক্ষের যোগদান অনুমোদন করে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে হয়। সুফিয়া আখতারের যোগদান গতকাল পর্যন্ত গভর্নিং বডি অনুমোদন করেনি।
গভর্নিং বডির সভাপতি আবদুস সালামের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীও ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লে. কর্নেল (অব.) শহিদুল হাসানের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।