• প্রকাশ : বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ এএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর সংক্রান্ত গবেষণার ফলাফল নিয়ে এক গবেষণা ফলাফল শেয়ারিং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।


আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শ্রম কমিশনের সম্মানিত সদস্য ও বিলস-এর সম্মানিত সম্পাদক সাকিল আখতার চৌধুরী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বিলস-এর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নইমুল আহসান জুয়েল, বিলস-এর ভাইস চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম আমিন এবং পরিচালক কোহিনূর মাহমুদ।


গবেষণার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম। সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেন বিলস-এর রিসার্চ অফিসার রাবেয়া খানম। এছাড়া অনুষ্ঠানে গবেষক, শ্রম অধিকারকর্মী, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সভায় উপস্থাপিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প—বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও চাতাল খাতে বহুমাত্রিক সংকট সৃষ্টি করছে। পরিবেশগত ঝুঁকির পাশাপাশি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও জীবিকায় এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে।


মূল আলোচক হিসেবে বিলস-এর উপ-পরিচালক ও প্রধান গবেষক মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও চাতাল (চাল প্রক্রিয়াকরণ) শিল্প জাতীয় অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। জলবায়ু পরিবর্তন, শিল্পে অটোমেশন এবং সবুজ কারখানায় রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে এই খাতগুলোতে উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত পরিবর্তন ঘটছে।


তিনি বলেন, এই রূপান্তর প্রক্রিয়া শ্রমিক, মালিক, ট্রেড ইউনিয়ন ও সরকারি সংস্থার জন্য নতুন সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিরাপত্তা ও জীবনমানে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে।


এই বাস্তবতা বিবেচনায় বিলস এবং তারা ক্লাইমেট ফাউন্ডেশনের সহায়তায় “বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও চাতাল শিল্পে জলবায়ু পরিবর্তন এবং সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তরের বাস্তব অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রভাবসমূহ বিশ্লেষণ” শীর্ষক একটি গবেষণা পরিচালনা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।


গবেষণায় পোশাক ও চাতাল শিল্পে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের বর্তমান অবস্থা, প্রধান চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা এবং এর ফলে শ্রমিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় যে প্রভাব পড়ছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।


গবেষণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাভার ও গাজীপুর থেকে ২০০ জন পোশাক শ্রমিক এবং দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ থেকে ২০০ জন চাতাল শ্রমিকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ, কারখানা মালিক, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি ও এনজিও কর্মীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়েছে।


পরবর্তীতে গবেষণার খসড়া ফলাফল সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে শেয়ার করে তাঁদের মতামত ও সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়।


আলোচনা সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল পোশাক ও চাতাল শিল্পে অটোমেশন, সবুজ জ্বালানির ব্যবহার, সবুজ কারখানায় রূপান্তর এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে ট্রেড ইউনিয়ন ও সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা যেন সবুজ ও ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন, সে লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ ও কর্মকৌশলপত্র প্রণয়নে সহায়তা করা।


বক্তাদের অভিমত


আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল স্পষ্টভাবে দেখায় যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে শিল্পখাতের অভিযোজন কেবল প্রযুক্তিনির্ভর নয় এটি একটি সামাজিক ও মানবিক প্রক্রিয়াও।


তাঁরা বলেন, সবুজ শিল্পায়নের পথে অগ্রসর হতে হলে ন্যায্য রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এই রূপান্তর কখনোই টেকসই হবে না।


বক্তারা আরও বলেন, গবেষণা অনুযায়ী নারী শ্রমিকরা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি ভোগ করছেন। তাই নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে এই গবেষণার সুপারিশ বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


আলোচকরা বলেন, এই গবেষণা ফলাফল নীতিনির্ধারক, শিল্প মালিক এবং শ্রম সংগঠনগুলোর জন্য একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব, শ্রমিকবান্ধব ও টেকসই শিল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ২১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:২৬ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ পিএম

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুর ১টা ১৮ মিনিটের দিকে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণ বিমান এফ-৭ বিজিআই। যা ভবনের ভেতরে ঢুকে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় ২৮ জন শিক্ষার্থী, তিনজন শিক্ষিকা, তিনজন অভিভাবক এবং একজন পরিচালকসহ মারা যান ৩৫ জন। এছাড়া ১৭২ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন। 


বছর শেষ হলেও এখনো মুছে যায়নি সেই ভয়াবহ ও বিভীষিকাময় স্মৃতি। কালো এ দিনটির কথা ভুলতে পারেননি স্বজনহারা পরিবার, অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ দেশের জনগণ।


ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে সোমবার (২০ জুলাই) মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সহপাঠীদের ভালোবাসা ও আবেগে দিনটি পালন করেন মাইলস্টোন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।


মাইলস্টোন স্কুলের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের অধ্যক্ষ ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর বলেন, ‘দুর্ঘটনার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে নিহত ও আহতদের স্মরণে আমরা দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি পালন করছি। প্রথম দিনে স্কুলের ১৬টি শাখায় শিক্ষার্থীদের নিয়ে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আহত শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা করা হয়েছে।’


তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে মঙ্গলবার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাস ছাড়া মাইলস্টোনের অন্যান্য শাখায় সাধারণ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে থাকছে দুটি প্রধান আয়োজন।

























































সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:১৬ এএম

বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি, মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে রাজধানীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ সোমবার দুপুর ১২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সাংবাদিক মাহাবুব আলম বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য হুমকিস্বরূপ। তাই অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।


বিপিজেএফ ঢাকা মহানগর শাখার প্রধান সমন্বয়ক মো. হাফিজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. রোমান আকন্দের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।


প্রধান বক্তা ছিলেন বিপিজেএফ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কাজী শরিফুল ইসলাম (শাকিল)। বিশেষ অতিথি ছিলেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) সভাপতি আহমেদ আবু জাফর, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাফিজ মাহবুব, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের কেন্দ্রীয় নেতা মাজহারুল হক, দৈনিক প্রতিদিন খবরের সম্পাদক সরকার জামাল।


এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মাহাবুব আলম বাবু দীর্ঘদিন ধরে পেশাদারিত্বের সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি শুধু একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয়, বরং স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।


মানববন্ধনে জানানো হয়, দৈনিক আজকের দুর্নীতি পত্রিকার মুন্সীগঞ্জ জেলা ব্যুরো প্রধান মাহাবুব আলম বাবু মামলার পর থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।


বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না হলে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম (বিপিজেএফ) পর্যায়ক্রমে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫১ এএম

রাজধানীর সদরঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ডুবেছে একটি ট্রলার। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা গেলেও দুই যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে।


আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সদরঘাটের শ্যামবাজার ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের পরিদর্শক মো. আনোয়ারুল ইসলাম।


আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বরিশাল থেকে আসা এমভি সুন্দরবন-১২ লঞ্চের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে ট্রলারে থাকা ১০ যাত্রীর মধ্যে ৮ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়। তবে দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।


ট্রলারটি যাত্রী নিয়ে কুমিল্লা জেলার কোনো স্থানে যাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।


আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। নিখোঁজ দুজনকে উদ্ধারে সদরঘাট নদী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট অভিযান চালাচ্ছে।


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০৬ পিএম

রাজধানীর উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ-এর সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু এবং সংবাদ দিগন্ত-এর সাংবাদিক সাকিবুল হাসান-এর মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে)।


শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে সংগঠনের সভাপতি ও দৈনিক হুংকার-এর নির্বাহী সম্পাদক এম. হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দিনকাল-এর শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি মো. আল-আমিন শাওন এক যৌথ শোকবার্তায় এ শোক প্রকাশ করেন।


শোকবার্তায় নেতৃদ্বয় বলেন, "সাংবাদিক রবিউল আলম রাজু ও সাকিবুল হাসানের অকাল মৃত্যু আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, সততা ও সাহসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁদের এই অকাল প্রয়াণে সাংবাদিক সমাজ হারাল দুই নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে। মহান আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই গভীর শোক সইবার শক্তি দান করুন।"


শোকবার্তায় আরও বলা হয়, সাংবাদিকতা পেশায় মরহুম দুই সাংবাদিকের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁদের মৃত্যু দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁদের আদর্শ, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্ব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সাংবাদিকদের অনুপ্রাণিত করবে।


জানা গেছে, বুধবার দিবাগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ দেখে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে উত্তরার জসিমউদ্দীন এলাকায় একটি বাসের ধাক্কায় তাঁরা গুরুতর আহত হন। পরে তাঁদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।


শরীয়তপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন (এসইউজে) মরহুম দুই সাংবাদিকের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। সংগঠনটি একই সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:১০ এএম

রাজধানীর পুরান ঢাকায় ভুক্তভুগীর বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছে একটি ভুক্তভোগী পরিবার। তাদের দাবি, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রকৃত দাবিদারদের বঞ্চিত করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে কেরানীগঞ্জের আফতাব উদ্দিনের মেয়ে আমিনা খাতুনসহ ওয়ারিশরা উপস্থিত ছিলেন।



এসময় অ্যাডভোকেট আব্দুল আওয়াল সুমন বলেন, অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির ক্ষতিপূরণের ২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত দাবিদারদের পরিবর্তে হারুন ও ইব্রাহিম নামের দুই ব্যক্তি ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে ক্ষতিপূরণের অর্থ গ্রহণ করেছেন।



সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা আরও জানান, এ ঘটনায় আদালতে রিট ও দেওয়ানি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তারা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।



পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও তারা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এ কারণেই বিষয়টি জনসম্মুখে তুলে ধরতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।


তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।।

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৩৭ এএম

‎তিন দফা দাবিতে রাজধানীর উত্তরা, সায়েন্সল্যাব, মিরপুর-১০ ও ইসিবি চত্বরে সড়ক অবরোধ করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। তবে সায়েন্সল্যাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে সচিবালয়ের দিকে লংমার্চ শুরু করেছেন। এই অবরোধের কারণে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।‎


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিনদফা দাবিতে গতকাল মঙ্গবার দিনভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার আবারও তারা উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, মিরপুর-১০ গোলচত্বর এবং ইসিবি চত্বরে সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে সায়েন্সল্যাব মোড়ে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন।


বেলা ৩টার দিকে সায়েন্সল্যাবে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে সচিবালয়ের দিকে লংমার্চ শুরু করেন। মিছিলের সামনে ও পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা সরে গেলে সায়েন্সল্যাব, মিরপুর রোড, এলিফ্যান্ট রোড ও শাহবাগমুখী সড়কে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।


এদিকে শিক্ষা ভবনের সামনে ব্যারিকেড দিয়েছে পুলিশ। সেখানে পুলিশের কয়েকশ সদস্য অবস্থান নিয়েছেন।

‎আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার সুযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে পদত্যাগ করতে হবে। আন্দোলনের সময় তারা এসব দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সর্বশেষ সব খবর