আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, মুছাব্বিরকে হত্যায় ‘প্রাইম শুটার’ জিনাত ও সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তরা মুছাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ (৫০) গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যার ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন। কারওয়ান বাজারের স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল তাদের এক সহযোগী। মোটরসাইকেলটি তার কাছে হস্তান্তর করে ওই দুজন গলির ভেতরের দিকে অন্ধকার স্থানে গিয়ে ওত পেতে থাকে। হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি ফার্মগেটের দিকে চলে যায়।
পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাদের দুজনকে গুলি করার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়। একজন ওই গলিতে এমনভাবে হাঁটাহাটি করছিল যে, প্রথমে তাকে সন্দেহই করা হয়নি। পরে আরেক স্থানের ফুটেজে দেখা যায়, জড়িত অপর তিনজনের সঙ্গে সে শলাপরামর্শ করছে। শনাক্ত হওয়া অপরজন গলির মুখে দাঁড়িয়েছিল।
মুছাব্বির হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও রাজনৈতিক সহকর্মীরা। এ সময় তারা বিচার চেয়ে নানারকম স্লোগান দেন। পরে তারা কারওয়ান বাজারে গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা জানান, সিসি ক্যামেরার নতুন কিছু ফুটেজ পাওয়া গেছে। তাতে হত্যায় সন্দেহভাজন চারজনের অনেকটা স্পষ্ট ছবি পাওয়া গেছে। এগুলোর মাধ্যমে তাদের সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনাক্ত সন্দেহভাজনদের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। নিশ্চিত হওয়া যায়নি হত্যার কারণ। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বসহ সম্ভাব্য সব বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত চলছে।
তদন্ত সূত্র জানায়, মুছাব্বিরকে গুলি করার আগে রাত ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে মোটরসাইকেল আরোহী শুটার ও তার সহযোগী স্টার হোটেলের পাশের গলিতে যায়। গুলি ছোড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের পালিয়ে যেতে দেখা যায়। এখন পর্যন্ত স্পটে থাকা চারজন শনাক্ত হলেও এ ঘটনার সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে।
গত বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। সেখানে অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, হত্যার হুমকিতে ছিলেন তাঁর স্বামী। বিভিন্ন সময় মুছাব্বির বলেছিলেন, তাঁর অনেক শত্রু হয়ে গেছে, যে কোনো সময় তাঁকে খুন করা হতে পারে। যদিও কারা সেই শত্রু, তা তিনি বলেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাতে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে। আজ রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে জগন্নাথ হলের সামনে দুটি এবং টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে এতে কেউ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসলাফিল রতন বলেন, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সহকারী প্রক্টররা গিয়েছেন। ঘটনাটি কারা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।
এ ঘটনায় কারও আহত হওয়ার তথ্য এখনও পায়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের দপ্তর। এসব হাতবোমা কারা ফাটিয়েছে কিংবা একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ আছে কি না সেটিও এখনও বলতে পারছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ।
প্রক্টর কার্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মী দলের প্রধান ইউসুফ হারুন বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, ককটেল ফাটার সময় কেউ এদিকে গাড়িতে করে যায়নি।
তিনি বলেন, ধারণা করছি- কেউ হয়ত জগন্নাথ হলের উপর থেকে মেরেছে। অন্যদিকে টিএএসির পাশে মেট্রোরেল সংলগ্ল রাস্তায় যে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা বাইকে করে কেউ মেরে দিয়ে চলে গেছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ
রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। অপরাধীরা যাতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় এসে অপরাধ সংঘটিত করতে না পারে, সেজন্য আগাম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সন্দেহভাজনদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। সোমবার সকালে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে আগস্ট ২০২৬ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, রাজধানীর প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্লক চেকসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তাদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও তাৎক্ষণিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এলাকাভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করে ডিউটি করতে হবে, যাতে কোনো এলাকায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা সৃষ্টি না হয় এবং দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি না থাকে।
আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের অতিথিদের তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, হোটেলগুলো থেকে অতিথিদের তথ্য সংগ্রহের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনের সময় যেন এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় আগস্ট মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা বিধানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে আরও ৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে বিভিন্ন জায়গা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রোববার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘গুলশানে মিছিলে অংশগ্রহণকারী ৪০ জনকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
এর আগে গতকাল শনিবার মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিল ডিএমপি। তিনি বলেছিলেন, ‘এ ঘটনায় ১১৮ জনের নামে মামলা হয়েছে। এর মধ্যে অজ্ঞাত ৮০ থেকে ১০০ জন’ যারা সরাসরি ককটেল বিস্ফোরণসহ রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে জড়িত ছিল।’
এছাড়া মিছিলের সময় ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করার কথা জানিয়েছিল গুলশান থানা পুলিশ। অর্থাৎ এ নিয়ে মোট ৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
শুক্রবার দুপুরে গুলশান–১ এ আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি মিছিল বের হয়। মিছিল থেকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন মো. আরাফাত (২০) ও আ. রহিম (৪৯)।
পুলিশ জানায়, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান–১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা চালান। পুলিশ এগিয়ে গেলে তারা ককটেল ছুড়ে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনটির প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ সদস্য গুলশান এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। এ সময় নিকেতন এলাকায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের এক উপপরিদর্শক তাদের ছত্রভঙ্গ করতে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে পাঁচটি তাজা ককটেল ফেলে পালিয়ে যান।
ওসি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে তারা স্লোগান দেন মিছিলে। মিছিলটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে গুলশান এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকশ’ লোক একটি মিছিল বের করেছেন। সেখানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতাকর্মী মিছিল করার চেষ্টা করেছেন। এ সময় দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মিছিলে কয়েকশ মানুষ ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিচ্ছেন। মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ছে।
গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দাউদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ভোলা মসজিদের সামনে থেকে মিছিল বের করার চেষ্টা করা হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে মিছিলকারীরা দুটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে মিছিলকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়ে।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে।
শেখ ওয়াসিম রনি
পুরান ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর বন্ধুর অফিস থেকে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় এক ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩)। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান শুরুর পর শুক্রবার ভোরে লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
লালবাগ থানার ওসি জামিল হোসেন বলেন, আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ওয়াসিম রনি। তার কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন বন্ধু মাসুম। এই টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে বিরোধেই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
মাসুমের ভাষ্য, টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন রনি। ৮ সেপ্টেম্বর তিনি টাকা চাইতে মাসুমের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের ওই ভবনের নিচতলার অফিসে যান। সেখানে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তাকে জোরে ঘুষি মারেন মাসুম। এতে রনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তার হাত ও পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে অফিসের পেছনের দিকের একটি করিডোরে নিয়ে সেখানে লাশ বালুচাপা দিয়ে রাখেন মাসুম।
ওসি জানান, রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাসুৃমকে ঘিরে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা তিন লাখ টাকার চেক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন তিনি ওই অফিসে যাওয়ার পর থেকে তার ফোন বন্ধ পান স্বজনরা। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজেও সন্ধান মেলেনি। একপর্যায়ে তারা অভিযুক্ত মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। তবে মাসুমের স্ত্রী বলেন, রনি বাসায় এসেছিলেন, কথা বলে চলে গেছেন। কোনো উপায় না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় গিয়ে নিখোঁজের বিষয়ে অভিযোগ করেন।
মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, তিন লাখ টাকা নেওয়ার পর প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তা দেননি মাসুম। তাই টাকা ফেরত চান রনি।
অভিযুক্ত মাসুম চৌধুরীর স্বজনরা জানান, মাসুম ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসা করতেন। যে ভবন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় তার কারখানা ছিল। প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিম রনির কাছ থেকে মাসুম তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে তিন লাখ টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দুজনের বিরোধ দেখা দেয়।
মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে
রাজধানীর মহাখালীতে ব্রিটিশ টোব্যাকোর একটি পুরোনো ভবনে আগুন লেগেছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে সেখানে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে এবং এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
এর আগে এদিন সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে এপেক্স ভবনে আগুন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট।