জাতীয় বেতন কমিশন
নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে সব গ্রেডে সমান হারে বেতন বাড়বে না। নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানো হতে পারে। গতকাল সোমবার জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিটি আগামী সপ্তাহে আরেকটি সভায় বসবে। এরপর সচিব কমিটির সুপারিশ পরের সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উঠবে। তবে মন্ত্রিসভা চাইলে সুপারিশে পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন করতে পারবে। অনুমোদন মিললে গেজেট জারির পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, আইন সচিব, প্রতিরক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এ কমিটির সদস্য।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোয় শুধু মূল বেতন নয়; বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও রয়েছে। কয়েকটি ভাতা একীভূত করার পাশাপাশি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কিছু সুবিধাও যুক্ত হতে পারে। চাকরিজীবীর অবসরকালীন সুবিধা ও পেনশন কাঠামো নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
কমিটির আরেক সদস্য বলেন, ভাতা সুবিধার বিষয়ে একাধিক এসআরও (বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ) জারি করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষিত হয়েছিল ২০১৫ সালে। এর পর থেকে প্রতিবছর তাদের মূল বেতনের নির্ধারিত ৫ শতাংশ হারে বাড়লেও নতুন করে আর পে স্কেলের ঘোষণা আসেনি। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ‘জাতীয় বেতন কমিশন, ২০২৫’ গঠন করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ওই কমিশন গত ২২ জানুয়ারি সরকারের কাছে যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল, সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এ ছাড়া বৈশাখী ভাতার হার বর্তমানের ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার সুপারিশ এবং যাতায়াত ভাতার ক্ষেত্রেও ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বড় ধরনের সংস্কারের কথা বলা হয়েছিল।
নিম্ন গ্রেডে বেশি সুবিধা
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো। সে কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য তুলনামূলক বেশি বেতন রাখার সুপারিশ আসতে পারে। অন্যদিকে, প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি থাকলেও তা কিছুটা সীমিত হতে পারে। অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বাড়তে পারে ৬০-৭০ শতাংশ, আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০-১০০ শতাংশ।
আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, দীর্ঘ সময় পর নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়ন হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তারা শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাতা, পেনশন এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধারও বাস্তবসম্মত সংস্কার প্রত্যাশা করছেন।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা বাবদ প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ যা এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। বাজেটের ‘জনপ্রশাসন-নিট’ খাতে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাখা হয়েছে মূলত সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং পেনশনভোগীর নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য।
সাবেক অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর যৌক্তিকতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাজারের অন্যদের পরিস্থিতি কী, সেটিও বিবেচনা করা জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত পে কমিশন একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে। কিন্তু সেই সময়ের অর্থনীতির সঙ্গে বর্তমান অর্থনীতিতে কী পরিবর্তন হয়েছে, সেটিও যাচাই করতে হবে। কারণ, বাজারে দাম বাড়লে সবার জন্যই বাড়বে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
পছন্দ-অপছন্দ ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্ব ও আনুগত্যের ভিত্তিতে সেনাসদস্যদের পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (২৬ জুলাই) সেনাবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’ (১ম পর্ব)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ নির্দেশনা দেন। এই পর্ষদের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদবিতে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্বাচনী পর্ষদের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শুরুতে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সশস্ত্র বাহিনীর সকল বীর সেনানীদের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তাদের এই মহান আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে।’ পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালে আহত ও শহীদ সেনা সদস্যদের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
কর্মকর্তাদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পর্ষদের সদস্যদের স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, পদোন্নতির ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কাজ না করে। তিনি কর্মকর্তাদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা, আনুগত্য ও নিযুক্তিগত উপযুক্ততাকে পদোন্নতির মূল মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।
দেশের নিরাপত্তা ও সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে যেভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর এই ত্যাগের জন্য তিনি সেনাপ্রধানসহ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী সেনাসদরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান সেনাবাহিনী প্রধান এবং চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস)। শত ব্যস্ততার মাঝেও উপস্থিত হয়ে পর্ষদের উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সেনাপ্রধান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সেনা কর্মকর্তাদের সাথে ফটোসেশনে অংশ নেন এবং সেনাবাহিনীর পরিদর্শক বইয়ে তাঁর মূল্যবান মন্তব্য লিপিবদ্ধ করেন।
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে আপাতত এই লঘুচাপ নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা দেখছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আজ শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় লঘুচাপটি সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানা বলেন, বর্তমানে লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। এটি সর্বোচ্চ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে। তাই, এর বড় ধরনের কোনো প্রভাব বাংলাদেশে পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে তিনি বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত কিছুটা বাড়তে পারে। এছাড়া ২৮ জুলাইয়ের পর উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিয়মিত আবহাওয়া বুলেটিনে অধিদপ্তর জানায়, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য এলাকায় মৌসুমি বায়ু প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে এ ধরনের লঘুচাপ সৃষ্টি স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এর অবস্থান ও গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে বৃষ্টিপাত, দমকা হাওয়া এবং সমুদ্রের পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে। তাই, উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং সমুদ্রে থাকা জেলেদের সর্বশেষ আবহাওয়া বার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পে-স্কেল বাস্তবায়ন
পে স্কেল কার্যকরে এখন শুধু অপেক্ষা গেজেটের। তবে গেজেট যখনই হোক না কেন সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৯ম জাতীয় পে-স্কেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন হবে।
জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এর সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত কমিটি চলতি মাসের মধ্যেই তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিবে। এরপর প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সব ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আগামী আগস্টের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে নতুন বেতনকাঠামোর আর্থিক কার্যকারিতা গণনা করা হবে ১ জুলাই থেকে। অর্থাৎ গেজেট পরে প্রকাশ পেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনের সুবিধা পাবেন।
সূত্রের তথ্য বলছে, নতুন পে-স্কেল একবারে কার্যকর করা হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে-সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এবার শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা রয়েছে। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে সরকারের শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন যথা সময়েই হবে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে বিষয়টি ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। গেজেট জারিসহ অন্যান্য বিষয় কার্যকর হতে কিছুটা সময় লাগলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে।’
এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নতুন পে স্কেল দেওয়ার তো সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটা আমরা গ্রহণ করেছি এবং এটার বাস্তবায়ন করা হবে। দেশে বর্তমান আর্থিক প্রেক্ষাপটের কঠিন সময় আমরা অতিক্রম করছি। এটাকে মাথায় নিয়ে পে স্কেল ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে নবম পে কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রায় ছয় মাসের পর্যালোচনার পর প্রতিবেদন জমা দেয় ২১ সদস্যের কমিটি। যেখানে কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগস্টে গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পরিত্যক্ত হয়ে থাকা শেখ হাসিনার ধানমন্ডির বাসভবন সুধা সদন থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে ধানমন্ডির ৫ নম্বর রোডের ওই বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধারের তথ্য দিয়েছেন ধানমন্ডি থানার এসআই ওয়াদুজ্জামান।
মো. শাকিল নামে ২০ বছরের ওই যুবকের বাসা মোহাম্মদপুরে হলেও তিনি থাকতেন ধানমন্ডির জিগাতলার শিবপুর টালি অফিস এলাকায়।
এসআই ওয়াদুজ্জামান বলেন, “আমরা স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষে অজ্ঞাত এক যুবক গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে আছে৷ পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।”
আঙুলের ছাপ শনাক্তের মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার কথা বলছে পুলিশ।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বিকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রমনা বিভাগের উপ কমিশনার জাহিদুল ইসলাম বলেন, “রিকশাচালক এই যুবক মাদকাসক্ত ছিলেন। কিছুদিন আগে স্ত্রী চলে গেছে। বাবা-মায়ের সাথে দীর্ঘদিন সম্পর্ক নেই। এসব নানা কারণে তিনি হতাশায় ভুগছিলেন। এই হতাশা থেকেই সে গত রাতে বাসাটি ফাঁকা পেয়ে আত্মহত্যা করে বলে আমরা ধারণা করছি।”
শেখ হাসিনার স্বামী পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম সুধা মিয়া। সেই হিসেবে বাড়িটির নামকরণ করা হয়েছিল সুধা সদন। বাড়িটি একসময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত কার্যালয় হয়ে উঠেছিল। সেখানে নেতাকর্মীরা নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতন হলে শেখ হাসিনার ধানমন্ডির ওই বাড়িতে কয়েকদফা হামলা-ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িটি পরিত্যক্ত। সেখানে এখন ভবঘুরেদের যাতায়াত।
প্রতীকী ছবি
দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানি ৮১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও গত একদিনে নতুন করে আরও ৬৯১ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা গেছে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকা বিভাগেই ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৮১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে ৭২১ জন ও হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরও ৬১৩ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডিসবাহিত এই রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জনে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৪৩৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১২ হাজার ৬৪০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
এদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।