সংগৃহীত ছবি
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ জন ও নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ জনকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও স্থানীয় এলাকাবাসী। অন্যদিকে, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ।
কুড়িগ্রামে ৩০০ জনের পুশইন ব্যর্থ
কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ৩০০ ভারতীয় নাগরিককে গাড়িতে করে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। গত রোববার রাত ১২টার দিকে বকবান্ধা সীমান্ত দিয়ে তাদের পুশইনের চেষ্টা করা হয়। বিজিবি ও এলাকাবাসীর কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।
বিজিবি ৩৫ জামালপুর ব্যাটালিয়নের অধীন রৌমারীর বড়াইবাড়ী ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, রোববার রাত ১২টার দিকে বেশ কিছু ভারতীয় নাগরিককে বকবান্ধা সীমান্তে এনে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি ও এলাকাবাসী প্রতিহত করার জন্য অবস্থান নেয়।
নওগাঁয় ২০ জনের পুশইন ঠেকাল বিজিবি
এদিকে, নওগাঁর পোরশা সীমান্তে ২০ ব্যক্তিকে গত রোববার রাতে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে স্থানীয় অধিবাসীদের সহায়তায় বিজিবি পুশইনের অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিতপুর সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। টের পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে শক্ত অবস্থান নেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারাও লাঠিসোটা নিয়ে বিজিবির সঙ্গে যোগ দেন।
পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে ১০ জনকে সরাল বিএসএফ
পঞ্চগড় সীমান্তের শূন্যরেখায় থাকা নারী, শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জনকে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। গত রোববার রাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিজিবি। গতকাল সোমবার নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্ত দিয়ে ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবি পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। তখন থেকে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, তিন নারী ও দুটি শিশু ছিল।
ঠাকুরগাঁও থেকে ১১ জনকে সরাল বিএসএফ
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় দুদিন ধরে অবস্থান করা ১১ জনকে গতকাল ভোরে সরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। বিজিবি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে শনিবার ভোরে উপজেলার মশালগাঁও সীমান্ত দিয়ে ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে বিএসএফের সেই
চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এর পর থেকে তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় ছিল।
৪২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, অবৈধ অনুপ্রবেশ কিংবা পুশইনের যে কোনো প্রচেষ্টা প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্তবর্তী ১১ জেলায় আনসার সদস্য মোতায়েন
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি এখন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও সীমান্তবর্তী এলাকায় দায়িত্ব পালন করছেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, বর্তমানে সীমান্তবর্তী ১১টি জেলায় উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আনসার ও ভিডিপি/টিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো– চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ, সাতক্ষীরা, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, সিলেট, জামালপুর ও খাগড়াছড়ি।
রিয়াদ-দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইট স্থগিত
ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। আজ রোববার বিমানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে অব্যাহত হামলার মধ্যে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ঢাকা থেকে দাম্মাম ও রিয়াদগামী সব ফ্লাইট ৪ নভেম্বর পর্যন্ত স্থগিত থাকবে।
এর আগে ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দাম্মামগামী এবং ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছিল এই বিমান সংস্থা।
এদিকে যাত্রীদের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-জেদ্দা রুটে প্রতিদিন দুটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সংস্থাটি। ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা-মদিনা রুটে বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ দিয়ে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যাত্রীরা সৌদি আরবে যাওয়া কিংবা বাংলাদেশে ফেরার জন্য জেদ্দা বা মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারেন।
ফ্লাইট পরিচালনা ও সময়সূচি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য পরে জানানো হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যাত্রীদের বিমানের নিকটস্থ বিক্রয় কার্যালয়ে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
সোমবার ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘণীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে সোমবার ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। আজ রোববার আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে নাম হবে ‘অর্ণব’। তবে আরব সাগরে সক্রিয় আরেকটি লঘুচাপ আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে সেটির নাম হবে ‘অর্ণব’।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও শক্তিশালী হয়ে গভীর নিম্নচাপ এবং পরে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কা খুব কম; অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। যদিও বাংলাদেশের ওপর এর প্রভাব একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপটি আজ রোববার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি দক্ষিণপশ্চিম দিকে অগ্রসর ও আরও ঘণীভূত হয়ে আগামীকাল সোমবার পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে দিক পরিবর্তন করে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় আকারে বুধবার নাগাদ ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২৭ অক্টোবর থেকে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। ২৯ অক্টোবর থেকে খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এ অঞ্চলের ১৩টি দেশ। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার আঞ্চলিক প্যানেলের সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, কাতার, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। এসব দেশের প্রস্তাবিত নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ঘূর্ণিঝড়ের নাম নির্ধারণ করা হয়। তালিকা অনুযায়ী, পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘অর্ণব’। নামটি বাংলাদেশের প্রস্তাব করা, যার অর্থ সাগর। তবে বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সক্রিয় দুটি লঘুচাপের মধ্যে যেটি আগে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে, সেটিই এই নাম পাবে।
এর পরের নাম ‘মুরাসু’, যা প্রস্তাব করেছে ভারত। তামিল ভাষায় মুরাসু বলতে ঐতিহ্যবাহী ঢোল বা ডঙ্কাকে বোঝায়। ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের উদ্দেশ্য পূর্বাভাস, সতর্কবার্তা ও জনসাধারণের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ করা। একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় সক্রিয় থাকলে নামের মাধ্যমে সেগুলো আলাদা করে শনাক্ত করা যায়।
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
এদিকে রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ রোববার চট্টগ্রাম বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
আগামীকাল সোমবার চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু'এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
বুধবার রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রংপুর, রাজশাহী এবং খুলনা বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, সিলেট, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, অবশ্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে এর অধীনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এ ব্যাপারে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সংক্রান্ত যে রায় জাস্টিস খায়রুল হক দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত সেটা বাতিল করেছে। আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আইনসভার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবার প্রতিস্থাপন করতে হবে। এটা আমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটাই আমাদের আন্দোলন ছিল যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা। এটা হবে ইনশাল্লাহ। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এটা প্রতিস্থাপন করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরতে চান- সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রত্যাবর্তন চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সরকার ভারত সরকারকে কয়েক দফায় চিঠি পাঠিয়েছে। এটা আমরাও শুনছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ডিসেম্বরে আসতে চান। আমরা তাকে ফেরত পাওয়ার জন্য এক্সট্রাডিশন চুক্তি অনুসারে আমাদের নেইবারিং কান্ট্রিকে, পার্শ্ববর্তী দেশকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক দফা অনুরোধপত্র পাঠিয়েছি। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অতীতেও ফ্যাসিবাদী শক্তির এ রকম অপপ্রয়াস প্রথম থেকেই চালু ছিল। তবে, পলাতক শক্তির কোন অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না।
তারা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায় এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। সেটা তারা তাদের স্ট্রাটেজি অনুসারে করতেই পারে। তবে আমরা বাংলাদেশে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ দেব না। গণঅভ্যুত্থানের মুখে যারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে তারা বাংলাদেশে অপতৎপরতা চালাবে এটা হতে দেওয়া হবে।
প্রতীকী ছবি
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ২৪৯ জন। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৩৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৩৯ জন । এছাড়া সেপ্টেম্বরে সর্বচ্চ ১৪৮ জন, আগস্টে ৪৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ৮৯৮ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৮ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ২ হাজার ২৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ১৫৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১৭ জন, খুলনায় ২৯৭ জন, বরিশালে ২১১ জন, রাজশাহীতে ২২৪ জন, ময়মনসিংহে ১৫৫ জন এবং রংপুরে ৮২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
প্রতীকী ছবি
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১ হাজার ২২৭ জনে। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৩ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭৪ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ হাজার ৪০০ জন।
বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ জন মারা গেছেন। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৩৫৬ জন রোগী এসেছেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র সেন্টমার্টিন আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে চলছে নানা ধরনের প্রস্তুতি। রোববার (২৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরিবেশগতভাবে সংকটাপন্ন সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটক গমন ও যাতায়াতের বিষয়ে নতুন নির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
যাতায়াত ও অনুমতি: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতীত সেন্টমার্টিন দ্বীপে নৌযান চলাচলের অনুমতি প্রদান করতে পারবে না।
সফরের সময়সীমা: আগামী ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ হতে ১৫ মার্চ ২০২৭ তারিখ পর্যন্ত সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকরা যাতায়াত ও ভ্রমণ করতে পারবেন।
জাহাজ চলাচল: টেকনাফের পরিবর্তে শুধুমাত্র নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে অনুমোদিত পর্যটকবাহী জাহাজসমূহ চলাচল অব্যাহত থাকবে।
পর্যটক সংখ্যা সীমিতকরণ: সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৩,৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) জনের অধিক হবে না।
পরিবেশ সংরক্ষণ ফি: সেন্টমার্টিন দ্বীপে পরিবেশ সংরক্ষণ ফি বাবদ পর্যটক প্রতি ১০০ (একশত) টাকা করে দিতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর ইসিএ ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০১৬ এর বিধি-২৬ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পূর্বের নির্দেশনা বলবৎ: তাছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ২২ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের সকল নির্দেশনাও বলবৎ থাকবে।
উল্লেখ্য, উক্ত সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড, পুলিশ সুপার (কক্সবাজার) এবং ট্যুরিস্ট পুলিশকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।