• প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৮ পিএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার দায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে নিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।


তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় তার দলের নেতাকর্মীরা হামলা ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন।


ইশরাক হোসেনের প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, ইশরাক ভাই নতুনভাবে রাজনীতিতে নেমেছেন। তার ভালো উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিস্তার বন্ধ করা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন, আরেকজনকে সেই পাপের ভোগান্তি পোহাতে হয়। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা।


হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। গত তিন-চার মাসে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, তাদের ক্ষোভ ও কষ্টের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, সবকিছু করার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের কেউ কষ্ট না পান বা আহত বোধ না করেন।


তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কথা বলার কারণে তাকে যেন শাহবাগী বা হিন্দুদের নতুন সংস্করণ বলে আখ্যা দেওয়া না হয়। ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসে তাদের উদ্বেগ ও অভিযোগ শোনারও আহ্বান জানান তিনি।



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম
  • আপডেট : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১২ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৬ পিএম

নরসিংদী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখা ছাত্রদলের তামজীদ হোসেনকে সভাপতি ও মোহাম্মদ সিয়ামকে সাধারণ সম্পাদক করে ৩২ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।


কমিটির অন্যান্যরা হলেন সিনিয়র সহ সভাপতি পারভেজ মাহমুদ। সহ-সভাপতি আহসান হাবিব শান্ত, আবদুল্লাহ আল মুঈদ,সাগর সাহা, তানজিল আহমেদ, মো: ইশতিয়াক হোসেন,  মো: কাজী রিফাত উদ্দীন, সমুদ্র খন্দকার। সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক তানভীর সরকার সিয়াম। যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার আজীম দীপ্ত, মোঃ উৎস খান, আমিনুল হক পিয়াস, মোঃ রায়হান, সানডু কুমার, মাইশা আক্তার, আবদুল্লা, মহিদুর রহমান মাহি, সহ - সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম। সাংগঠনিক সম্পাদক মমো সূত্র ধর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান ও আতিকুল রহমান। ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা সাজিয়া আক্তার প্রীতি সহ ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকা সাদিয়া আক্তার, প্রচার সম্পাদক রবিউল আলম রুবিন, সহ-প্রচার সম্পাদক ইয়াসিন, দপ্তর সম্পাদক তানভীর হাসান শান্ত, সহ-দপ্তর সম্পাদক আশফাক কবির টুটুল ও মোঃ মেহরাজ, ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইবাদুর রহমান মেরাজ সহ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম।

সর্বশেষ সব খবর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৩ পিএম

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশেষ কারণে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। তিনি দাবি করেন, তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত দল চায়নি; বরং দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে এ সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। পদত্যাগের পর মাদকের বিরুদ্ধে আরও আগ্রাসীভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।


তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানটা করতে গিয়েই আজকের এই পরিস্থিতি। যেখানে আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে হচ্ছে। দল চায়নি, দলের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সেটা আমি বক্তব্যে বলবো।’


মাদকের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ইশরাক আরও বলেন, ‘এখন তো আমি আরও অ্যাগ্রেসিভলি মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবো। যুদ্ধ করবো আমি।’


ইশরাকের বক্তব্যে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানকে কেন্দ্র করে তার পদত্যাগের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, এ সিদ্ধান্ত তার দলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে পদত্যাগের পেছনে বিশেষ কারণ কী এবং এ বিষয়ে দলের সঙ্গে তার কী ধরনের মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, তা তিনি পরবর্তী বক্তব্যে বিস্তারিত জানাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।


এদিকে ইশরাকের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।


ইশরাকের বক্তব্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেও মাদকের বিরুদ্ধে তার অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসছে না; বরং এ বিষয়ে আরও কঠোর ও আগ্রাসী ভূমিকা নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১২ এএম

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আজ সোমবার দুপুরে পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান ইশরাক হোসেন। 


পোস্টে ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হব, ইনশাআল্লাহ।’


তিনি আরও লিখেছেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’


ইশরাক হোসেন লিখেছেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’


ফেসবুকে প্রতিমন্ত্রী লিখেছেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!


গত শনিবার ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে গেণ্ডারিয়া এলাকায় ‘মাদকবিরোধী অভিযানে’ নামেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। ঘটনার ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং গতকাল দিনভর তা আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে ছিল। এ নিয়ে বিএনপিতে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং সরকারের জন্য বিষয়টি বিব্রতকর হয়ে দাঁড়ায়। এর আগে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে (স্বাস্থ্যকেন্দ্র) হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে গত ১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করেন বিএনপিদলীয় সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।


মন্ত্রিসভার সদস্যদের পদত্যাগসংক্রান্ত সংবিধানের ৫৮(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী যেকোনো সময় কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগের অনুরোধ করতে পারবেন এবং মন্ত্রী অনুরোধ রাখতে অসমর্থ হলে প্রধানমন্ত্রী তাকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারবেন।


প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানায়, গতকাল দুপুরে প্রতিমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার কর্মকাণ্ডে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে একটি খসড়া পদত্যাগপত্র সরবরাহ করা হয়।


গতকাল সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। তবে সূত্র জানায়, বৈঠক শেষে আবারও ইশরাক হোসেনকে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কী আলোচনা হয়, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর আগে এক অডিও বার্তায় বলেন, এ ধরনের সংবাদ কোনো উড়ো খবর হয়ে আসবে না। অবশ্যই আনুষ্ঠানিক প্রেস কনফারেন্স করে বলব এবং আপনারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন। 


একের পর এক বিতর্কে বিএনপিতে অস্বস্তি


বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রকাশ্যে অস্ত্র দেখানোর ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভারও। কারণ, সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে।


বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও মেয়র সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে দলীয় রাজনীতিতে আসা ইশরাক হোসেন নানা সময়ে বিতর্কের জন্ম দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিউইয়র্কে মারা যাওয়ার পর ইশরাক হোসেন তার বাবার নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-৬ ও রাজধানীর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরের বছর ৩৩ বছর বয়সে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী হওয়ার মাধ্যমে বিএনপির তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। ওই নির্বাচনে অবশ্য হেরে যান বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী ইশরাক হোসেন।


২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজধানীর রাজনীতিতে সামনের সারিতে ছিলেন। ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে নির্বাচিত মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি শপথ নিতে পারেননি। এ নিয়ে তৎকালীন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে বিরোধে জড়ান ইশরাক। ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত প্রধান ফটকে তালা দিয়ে নগর ভবন অবরোধ করে রাখেন ৪০ দিন। এতে নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনা ঘিরে আন্দোলনও করেন ইশরাক।


আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছি: ইশরাক


গতকাল দিনের বেলায় দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ ব্যক্তি হইচই করে তাদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসে। হামলার শঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।


বিবৃতিতে স্থানীয়ভাবে মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আগে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং জনবল সংকট দূর করার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক-সামাজিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলেও দাবি তার।


তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ইশরাক আগে পুলিশের সঙ্গে আলোচনার কথা বললেও গত শনিবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তিনি পুলিশকে আসতে বলেন।


ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা গত শনিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তারা পরে বিষয়টি জেনেছেন। ফলে সাধারণভাবে মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হলেও নির্দিষ্ট এ অভিযান বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে আগে থেকে সমন্বয় ছিল কি না–সেই প্রশ্ন রয়ে গেছে।


ইশরাকের ঘটনা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয়: জামায়াত


ইশরাক হোসেন মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। 


এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশে মাদকের বিস্তারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি ঘটেছে। এই স্বল্প সময়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে নানা কৃত্রিম তৎপরতা শুরু করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ইশরাক হোসেন গেণ্ডারিয়া এলাকায় পিস্তল উঁচিয়ে যে দৃশ্যের অবতারণা করেছেন, তা ত্রাসের রাজত্বের বহিঃপ্রকাশ।’

সর্বশেষ সব খবর

ইশরাক হোসেন।

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৯ পিএম

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


আজ রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।


শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে নামেন ইশরাক হোসেন। তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের হাতেও অস্ত্র ছিল। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরেও অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার এক দিনের মাথায় ইশরাককে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ফেসবুক পেজে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিওটি পোস্ট করা হয়েছিল। সেখানে পিস্তলের ছবি অস্পষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে ভিডিওর কিছু অংশে আগ্নেয়াস্ত্রের স্পষ্ট ছবি পাওয়া যায়।

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।


বিএনপি ও সরকারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, মাদকবিরোধী উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি না থাকলেও একজন প্রতিমন্ত্রীর নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামা গ্রহণযোগ্য নয়। মাদক দমনে প্রশাসনকে সক্রিয় করার পরিবর্তে তিনি কেন নিজেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন, সেই প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী যখন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিস্থিতি দেখতে আকস্মিক পরিদর্শন করছেন, তখন একজন প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারকে বিব্রত করেছে।


বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির একজন সদস্যও বলেন, ঘটনাটি শুধু ইশরাকের ব্যক্তিগত বিষয় হয়ে থাকেনি; প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদেরও বিব্রত করেছে। একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণের দায় মন্ত্রিসভাকেও নিতে হবে।


শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর ১৩টি স্থান আকস্মিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সেবার মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি। কোথাও পরিস্থিতির উন্নয়নে সময়ও বেঁধে দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই পরিদর্শনের দিনই বিকেলে ঘটে ইশরাকের অস্ত্রকাণ্ড। দল ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কেউ কেউ মনে করছেন, ইশরাকের কর্মকাণ্ডে প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই আড়ালে পড়ে যায়।


এমন পটভূমিতে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার ঘটনাকে সরকারের সদস্যদের আচরণ ও জবাবদিহির প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।



অস্ত্র হাতে কী করেছিলেন ইশরাক


শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। তাঁর নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’


এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা কয়েকজনকে ধরতে দৌড়ান। তাঁদের একজন এক তরুণকে লাথি দেন। কয়েকজনকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ স্যার।’ আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।


ঘটনাস্থলে প্রতিমন্ত্রীর নিজের নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলুর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। নিজের নিয়োগ দেওয়া দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করে দেওয়া হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। গুলি করার হুমকি দেওয়া ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে, একজন প্রতিমন্ত্রী এভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করে মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে পারেন কি না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান, নবায়ন ও ব্যবহার নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র বহন ও ব্যবহার করা গেলেও অন্যের মনে ভয় বা বিরক্তির সৃষ্টি হতে পারে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না।


ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। আজ রোববার ডিএমপির গণমাধ্যম কেন্দ্রে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


  ‘ষোলকলা পূর্ণ করা হবে’ হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের



আত্মরক্ষায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরার দাবি


অস্ত্রকাণ্ড নিয়ে সমালোচনার মধ্যে আজ রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বিবৃতি দেন ইশরাক হোসেন। এতে তিনি দাবি করেন, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিতে সেখানে গিয়েছিলেন। কর্মসূচিটি পুলিশ, স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছিল।


ইশরাকের ভাষ্য, ঢাকা-৬ আসনের গেন্ডারিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ পেয়ে তিনি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। জনবলসংকট দূর করা এবং মাদকের আস্তানার কাছে স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।


বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন, অভিযানের আগে তিনি জানতে পারেন, মাদক কারবারিরা ছাদ থেকে গুলি চালাতে পারে। একটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানার কাছে পৌঁছানোর পর ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় নিজের ও অন্যদের নিরাপত্তার জন্য তিনি এবং তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।


ইশরাক বলেন, তাঁর হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত। আত্মরক্ষার জন্যই সেটি প্রদর্শন করা হয়েছিল এবং এতে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।


বিবৃতিতে ইশরাক আরও দাবি করেন, অভিযানে চার-পাঁচটি অস্থায়ী মাদকের আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়েছে। সেখান থেকে মাদকদ্রব্য, অস্ত্র, নগদ অর্থ ও ছিনতাই করা মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। এসব তথ্য উপেক্ষা করে কয়েকটি গণমাধ্যম ঘটনার খণ্ডিত চিত্র তুলে ধরেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাদকবিরোধী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।


তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শনিবার ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। তাঁরা পরে বিষয়টি জানতে পারেন। ইশরাকও শনিবার সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ঘটনাস্থলে যাওয়ার ১০ মিনিট পর পুলিশকে আসতে বলেন তিনি।


এর আগে পদত্যাগ করেন মিষ্টি


ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার আগে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম আসায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদ ছাড়তে হয়েছিল।


গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের কয়েকজনের নাম সামনে আসে। ঘটনা নিয়ে সরকার ও দলের ভেতরে অস্বস্তি তৈরি হয়। মিষ্টির রাজনৈতিক দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। যদিও তিনি হামলা-ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন।


প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনার পর গত ১ অক্টোবর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। পরে তাঁর আসন শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।


মিষ্টির পদত্যাগের আড়াই সপ্তাহের মধ্যে এবার অস্ত্রকাণ্ডে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা ছাড়ার নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী। দুটি ঘটনাতেই দল ও সরকারকে বিব্রত করা কর্মকাণ্ডের পর পদত্যাগের নির্দেশ এল।

সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৫ পিএম

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেই বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।


রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে এবি পার্টি আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।


জামায়াত আমির বলেন, ‘দলটি রাতারাতি তাদের অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেই বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’


তিনি বলেন, সরকারি দলের ১৪৮ জন এমপিকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বঞ্চিত হচ্ছে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তার।


এসময়, ১১ দলীয় জোটের নেতারা বলেন, সংস্কারকে পাশ কাটিয়ে আধিপত্যবাদের সঙ্গে আপস করে দেশ পরিচালনা করছে বিএনপি।


জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে, রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলোচনা সভার আয়োজন এবি পার্টির, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ১১ দলের শীর্ষ নেতারা।


আলোচনায় অংশ নিয়ে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নামে ১৭টি ধারা লঙ্ঘন করেছে বিএনপি।’



অভিযোগ করেন, তারেক রহমানকে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দিয়েছেন সালাউদ্দিন আহমেদ।


এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ বলেন, ‘অযোগ্য লোকদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে বিএনপি।’


সরকারের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা না করতে আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।


সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ করেন, ৩১ দফার অঙ্গীকার থেকেই সরে গেছে বিএনপি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও জ্বালানি সংকট সমাধানেও সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে জাতিকে বিভক্ত না করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান নেতারা।

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ আয়োজন করে।


শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তার অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।


সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যও বরাদ্দ পাননি। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ও নতুন রাজনীতির সূচনা হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


শফিকুর রহমান বলেন, ‘শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধী দলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হয়ে কাজ করবেন ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো।’নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নানা লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে। চব্বিশের অভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা। তবে সরকারের পতন চাওয়ার চেয়ে তারা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।


তিনি বলেন, ‘আমরা এতদিন সরকারকে সহযোগিতা করবো বলেছিলাম। আজ থেকে ঘোষণা দিচ্ছি ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবো। এই সরকার আমাদের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার তাদের কোনো যোগ্যতা নেই।’

সর্বশেষ সব খবর