বিটিআরসি ভবন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাতিলের দাবিতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ভবনে ভাঙচুর চালিয়েছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। 


এ ঘটনায় ২৪ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।


ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানান, বিক্ষোভকারীরা হঠাৎ হামলা চালায়। ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।


তিনি বলেন, এরপর পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একইসঙ্গে বিটিআরসি ভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের আটকের চেষ্টা চলমান রয়েছে।


বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দেখা যায়, বিটিআরসি ভবনের করিডোরের গ্লাস ভাঙা। ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।



ঘটনার পর বিটিআরসি ভবনের সামনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।


জানা গেছে, পূর্বঘোষিত এনইআইআর বাস্তবায়ন হওয়ায় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা এই হামলা চালান। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে এই ভাঙচুর চালানো হয়। তবে এ হামলায় বিটিআরসির কারও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।



এর আগে, অবৈধ মোবাইলফোন বন্ধে পূর্বঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার এনইআইআর কার্যক্রম চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদে দুপুরের পর থেকে বিটিআরসি ভবনের সামনে অবস্থান নেয় বিক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা। এ সময় বিটিআরসি ভবনে ইটপাটকেল ছুড়ে ভাঙচুর করা হয়। বিকেল ৪টার দিকে এই ভাঙচুর শুরু হয়। বিটিআরসি ভবনের বাইরে দুই রাস্তার দিক থেকে ঢিল মেরে ভাঙচুর চালানো হয়।



হামলায় বিটিআরসির মসজিদের গ্লাস ভেঙে যায়। এ সময় সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নামাজ পড়ছিলেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কেউ আহত হয়েছেন বলে জানা যায়নি।


ব্যাপক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করার ফলে বিটিআরসি ভবনের করিডোর ও মূল ভবনের গ্লাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হঠাৎ এমন হামলায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বিটিআরসির কর্মকর্তারা। এছাড়া বিটিআরসি ভবনের পাশের গলিতে রাখা বিআরটিসির একটি বাসও ভাঙচুর করা হয়।


পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিটিআরসি ভবনে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।


মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবিক্রীত বা স্টকে থাকা মুঠোফোনের তথ্য জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৩ পিএম

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। 


নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।


নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।


তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।


ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।


সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।


নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।


নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।


এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।


পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গত মাসে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন মারা গেছে

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ পিএম

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে শহরটির বড় হাসপাতালগুলো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীর জন্য নিজস্ব আবাসন, নিরাপদ হোটেলের সঙ্গে চুক্তি এবং বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালু করা হচ্ছে।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে এমন হোটেলে যাতে রোগীরা ওঠেন, তা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করা হবে।


সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি অতিথিশালায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এর পরপরই কম খরচের অনিবন্ধিত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করে। এতে বলা হয়, ভারতে আসার আগেই বৈধ ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র থাকা নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করতে হবে।


তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এই পরামর্শ মেনে চলা কঠিন হতে পারে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য সড়কপথে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা ও এর আশপাশে কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। ফলে অনেক সময় তারা যথাযথ অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমন আবাসনেও উঠে পড়েন। 


অতিথিশালা ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করছে হাসপাতালগুলো


বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত হাসপাতালটির কাছেই বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে হাসপাতালটি।


বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাসপাতালের পাশেই নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেখানে পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’


উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশি রোগীর জন্য তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।


উডল্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী ও অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘নিরাপদ হোটেলে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তাদের সচেতন করতে চাই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে আসবেন– এমন রোগীদের আলিপুর এলাকার গেস্টহাউস ও হোটেলগুলোর একটি তালিকা পাঠাচ্ছি।’


এর আগে বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি দল পাঠানো রুবি জেনারেল হাসপাতাল এবার রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ ডেস্ক চালু করছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের প্রধান মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) সুভাষিস দত্ত বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি এবং হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছি। ভ্রমণের আগে রোগীরা যাতে কক্ষ বুক করতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা করছি।’


ফাইল ছবি

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ পিএম

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের উদ্যোগকে ‘একই বাহিনী নতুন মোড়কে’ ফিরিয়ে আনার ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, প্রস্তাবিত এসআরবি বিল, ২০২৬-এ ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা, পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার এবং দুর্বল জবাবদিহির সুযোগ থাকায় র‍্যাবের বিতর্কিত সংস্কৃতি নতুন বাহিনীতেও ফিরে আসতে পারে।


আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।


তিনি বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বহু প্রতীক্ষিত এবং এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিল টিআইবি। কিন্তু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয় না।


র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণের কথা উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে র‍্যাবের বদলে ‘এসআরবি’ নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী গড়ে উঠতে পারে।


টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রস্তাবিত বিলে এসআরবিকে গোয়েন্দা নজরদারি, অভিযান, তল্লাশি ও সাধারণ তদন্তের মতো বহুমুখী ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এর পাশাপাশি ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ এবং ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’-এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধ রাখা হয়েছে। এসব বিধান রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানেরও উদ্বেগজনক।


টিআইবির মতে, এসব বিধান নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


নতুন বাহিনীতে র‍্যাবের জনবল স্থানান্তরের প্রস্তাব নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের দাবি, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়া র‍্যাবের সদস্যদের ঢালাওভাবে এসআরবিতে স্থানান্তর করা হলে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।


এ কারণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে টিআইবি। জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুসরণ করে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন বা গুমের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত বা জড়িত সদস্যদের নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত না করার ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


প্রস্তাবিত এসআরবি বিলের ২২ ধারায় অভিযোগ নিষ্পত্তির যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বিল অনুযায়ী, বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। 


বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানোর ব্যবস্থা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করবে এবং তা নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে পারবে না। এর পরিবর্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করা জরুরি।


পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার বিধান রাখারও দাবি করেছে টিআইবি।


সংস্থাটি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ সদস্য যাচাই প্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।


ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তি শুধু একটি বাহিনীর নাম ও খোলস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। এর মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন, নাগরিকের অধিকার এবং কার্যকর জবাবদিহির ভিত্তিতে নতুন আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা করতে হবে।


তিনি বলেন, শুধু ‘কসমেটিক মেকওভার’-এর মাধ্যমে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।


উল্লেখ্য, ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে টিআইবি। সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা এবং বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

বোয়িংয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় নির্মাতা এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বাংলাদেশের ‘খুব গুরুত্ব সহকারে’ নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের দৃষ্টিতে, এয়ারবাসের একটি অবিশ্বাস্য প্রতিযোগিতামূলক অফার রয়েছে। এটিকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত। আমরা এয়ারবাস ও বিমানের মধ্যে খুব দ্রুত আলোচনা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছি।’ রোববার ইইউ রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এসে এয়ারবাস নিয়েও কথা বলেন তিনি।


মাইকেল মিলার বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির অনুরোধ করছি। আপনি যদি কোনো সরকারি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তা যেন বাণিজ্যিক যোগ্যতার ভিত্তিতে নেওয়া হয়। আমাদের কোম্পানিগুলো যেন যেকোনো দেশের কোম্পানির সঙ্গে তাদের সাধ্যমতো সর্বোত্তম প্রতিযোগিতা করতে পারে।’ নানা আলোচনার মধ্যে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ এপ্রিল মার্কিন কোম্পানি বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এসব উড়োজাহাজ কিনতে খরচ পড়বে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার বা ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (১ ডলারে ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা হিসাবে)। ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে এই এয়ারক্রাফটগুলো বিমানকে সরবরাহ করবে বোয়িং।


বাংলাদেশের কাছে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বেচার কথা সম্প্রতি এক এক্স পোস্টে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর। সেখানে তিনি এক নতুন চুক্তির কথা বলেন। গোর বলেন, চলতি সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আরেকটি অসাধারণ চুক্তি হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশের চেয়ে অনেক বেশি। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বোয়িং কিনতে রাজি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চিঠি দিয়ে ধন্যবাদও জানান।


ট্রাম্প বলেন, ‌‘বোয়িং আপনাকে হতাশ করবে না, আমিও বিষয়টি ভুলব না। এ বিষয়ে মনোযোগের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। খুব বেশি দিন নয়, অদূর ভবিষ্যতেই আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা করছি।’ একই দিনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কিনবে। আরও উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।


এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০টি এয়ারবাস কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিমানের ক্রয়াদেশ গেছে বোয়িংয়ের ব্যাগে। তবে ইউরোপীয়দের চাপে তাদের কোম্পানি এয়ারবাস থেকেও এখন উড়োজাহাজ কেনার আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।


রোববারের বৈঠকে বাংলাদেশ ও ইইউর বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক, অশুল্ক বাধা দূর এবং ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর জন্য ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকেও মাইকেল মিলার অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি বাংলাদেশে রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছিলেন।


ইইউয়ের পক্ষে তখন ৬১টি অশুল্ক বাধার কথা বলা হয়েছিল। সরকার ছয় মাসে এর মধ্যে ৪৮টি দূর করেছে বলে দাবি করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে শতভাগ বিদেশি মালিকানাধীন লজিস্টিক কোম্পানির লাইসেন্স নবায়ন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন; বাণিজ্যিক স্যাম্পল আমদানির বার্ষিক সীমা ১০ হাজার মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার মার্কিন ডলারে উন্নীত এবং রপ্তানি পণ্যের ‘ট্রেসিবিলিটি’ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত স্ক্যানিং স্মার্ট কার্ডের শুল্কায়ন জটিলতা দূরীকরণ এবং যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণের বিষয়গুলো বলেন মন্ত্রী।


তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রপ্তানি গন্তব্য। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে এ বছরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, এ নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন আমরা তিন বছর পেছানোর জন্য আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে জাতিসংঘের দুইটা—মানে এই প্রসেসের দুইটা প্রক্রিয়া আমরা শেষ করেছি, এই প্রক্রিয়ার দুইটা ধাপ আমরা অতিক্রম করেছি ইউএন সিডিপি আর ইকোসক।


মন্ত্রী বলেন, আর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এটা উত্থাপিত হলে আমরা আশা করছি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সম্মতি পাব। এটাই তাদের সমর্থন।


রাষ্ট্রদূত মিলার জানান, এ সপ্তাহের শেষ দিকে ইইউর সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব ও বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


হজের ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হবে: ধর্মমন্ত্রী

  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১০ পিএম

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেছেন, চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় পবিত্র হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে সৌদি পর্বে অব্যয়িত ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হবে। আজ রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।


ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ক্ষেত্রে হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের মধ্যে সৌদি আরবে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পর যে অর্থ অব্যয়িত রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট হাজিদের ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবেই এই অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।


তিনি বলেন, হজযাত্রীদের অর্থ আমানত হিসেবে বিবেচনা করে এর যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়েছে। নির্ধারিত ব্যয়ের পর কোনো অর্থ অব্যয়িত থাকলে তা সরকারের কোষাগারে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট হজযাত্রীদের ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে হজ ব্যবস্থাপনায় সরকারের স্বচ্ছতা আরও সুস্পষ্ট হবে।


চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করেছেন ৪ হাজার ৩৪১ জন। সৌদি আরবে হজযাত্রীদের আবাসন, পরিবহন ও খাবারসহ বিভিন্ন খাতে নির্ধারিত অর্থ ব্যয়ের পর মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা অব্যয়িত রয়েছে। এই অর্থ হজযাত্রীদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হবে।


ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত। হজযাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়েছে। হজ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।


তিনি বলেন, হজযাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের প্রতিটি খাতের ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। সৌদি পর্বে প্রকৃত ব্যয়ের সঙ্গে নির্ধারিত অর্থের পার্থক্য থেকে যে অর্থ অব্যয়িত হয়েছে, সেটিই হিসাব করে হাজিদের ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও হজ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বজায় রাখা হবে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ ধর্ম মন্ত্রণালয় ও হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারীদের সৌদি পর্বের অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ হজ ব্যবস্থাপনায় আর্থিক স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী

ইইউর সঙ্গে বাণিজ্যে ৪৮ অশুল্ক বাধা দূর


  • প্রকাশ : রবিবার ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে চিহ্নিত ৪৮টি অশুল্ক বাধা (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার) সমাধান করা হয়েছে। আরও ১৩টি বাধা সমাধানের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। 


আজ রোববার ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইইউর বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে অশুল্ক বাধা নিয়ে ইইউর পক্ষ থেকে আগে যেসব অভিযোগ করা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ৪৮টির সমাধান করা হয়েছে। আরও ১৩টি বিষয়ে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।


সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার আবেদনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ইইউর সমর্থন চাওয়া হয়েছে। তিনি আশা করেন, ইইউ বাংলাদেশের প্রস্তাব সমর্থন করবে। ভোটে বা ভোট ছাড়া যেভাবে হোক বাংলাদেশ মনে করেন এই প্রস্তাব অনুমোদন হবে।


তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে চলতি মাসে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে ইইউর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।


এদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সইয়ের লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর উদ্যোগও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইইউর সঙ্গে এফটিএ ( মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা শুরুর জন্য শিগগিরই আলোচনা শুরু হতে পারে।