৭ নভেম্বর ছুটি ঘোষণা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ৭ নভেম্বর সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। একই সঙ্গে দিনটিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


গতকাল সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ২৩তম মন্ত্রিসভা বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়, প্রতি বছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’-এ সাধারণ ছুটি থাকবে। এদিনটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে।


অন্যদিকে, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার নির্বাহী আদেশে ২২ অক্টোবর ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দুর্গাপূজায় থাকছে টানা পাঁচদিনের বন্ধ। তবে, ২২ অক্টোবরের এই ছুটির পরিবর্তে দেশের সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ১৭ অক্টোবর খোলা থাকবে।


সরকারি ছুটির পূর্বনির্ধারিত তালিকায় ২০ ও ২১ অক্টোবর ছুটি ছিল। ২২ অক্টোবর অফিস খোলার কথা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে ওই দিনও ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পরের দুই দিন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর যথাক্রমে শুক্রবার ও শনিবার। ফলে ২০ অক্টোবর থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন ছুটি ভোগ করবেন সরকারি চাকরিজীবীরা।




কানাডার বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:০৪ পিএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ আরও বৃদ্ধির জন্য দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান।


রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি গণতন্ত্র চর্চায় কানাডার দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশেও এক্ষেত্রে কানাডার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র ও সংসদীয় রীতির অনুপস্থিতির কারণে বর্তমান সরকারকে বেগ পেতে হচ্ছে এবং সরকার গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে।


এ সময় কানাডার হাইকমিশনার জানান, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বার্ষিক চার বিলিয়ন কানাডীয় ডলার ছাড়িয়েছে এবং এক্ষেত্রে বাণিজ্য সম্প্রসারণের আরও সুযোগ রয়েছে।


এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, সার, আইটি, আউটসোর্সিংসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে অধিকতর সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।


এ সময় কানাডার হাইকমিশনার দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।


একইসাথে তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে কানাডা সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, কানাডা সরকার এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলারের সহযোগিতা প্রদান করেছে।


অব্যাহত সহযোগিতার জন্য রাষ্ট্রপতি কানাডা সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টিতে কানাডাকে কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান।


তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে, বিশেষ করে কারিগরি, প্রযুক্তি, নার্সিং ও চিকিৎসা খাতে কানাডার সহযোগিতা বৃদ্ধির অনুরোধ জানান।


রাষ্ট্রপতি বলেন, এক লাখেরও অধিক বাংলাদেশি কানাডার উন্নয়নে অবদান রাখছে।


সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কানাডার পক্ষে রাজনৈতিক কাউন্সেলর মার্কাস ডেভিস উপস্থিত ছিলেন।


দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০১ পিএম

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। 


গত সোমবার একদিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮১। আজ মঙ্গলবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। 


এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধী টিকা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। তবে এই মুহূর্তে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২৮ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৯৬ জন। আর জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯০ হাজার ৩৫৬ জন। 


স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ জনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার দুজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একজন, বরিশাল বিভাগের দুজন, খুলনা বিভাগের তিনজন, রাজশাহী বিভাগের একজন এবং ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন রয়েছেন।


নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে (ঢাকা সিটি করপোরেশনের বাইরে), ৪৮০ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩০২, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪২, বরিশাল বিভাগে ২০৩, রাজশাহী বিভাগে ১৯৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮৭, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬, রংপুর বিভাগে ৭৫ এবং সিলেট বিভাগে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৭ শতাংশ নারী।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে দীর্ঘমেয়াদে টিকা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তবে এখনই দেশে ডেঙ্গুর টিকা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি। রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অডিটরিয়ামে মঙ্গলবার ‘ডেঙ্গু সংকট মোকাবিলায় করণীয়’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এ সেমিনারের আয়োজন করে।


ডা. এম এ মুহিত বলেন, দীর্ঘমেয়াদে ডেঙ্গুর টিকা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বে বর্তমানে কয়েকটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। বাংলাদেশেও এ নিয়ে চিন্তাভাবনা ও আলোচনা চলছে। তবে টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও কাজ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। 


সম্প্রতি জাপান সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাপানেও একটি ক্যান্ডিডেট ডেঙ্গু ভ্যাকসিন রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্টদের আলোচনা চলছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দাবি, বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সব ধরনের ভ্যারিয়েন্টই দেখা যাচ্ছে। তিনি এটিকে ‘ইউনিক সায়েন্টিফিক ফাইন্ডিং’ হিসেবে উল্লেখ করেন।


ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ডা. এম এ মুহিত বলেন, মৃত্যুর হার ও আক্রান্তের সংখ্যা কমাতে হলে প্রথমেই প্রতিরোধের জন্য কাজ করতে হবে। শুধু সরকার বা কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পুরো দেশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়। এ জন্য জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। তিনি জানান, পাড়া-মহল্লা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো মশার লার্ভা ধ্বংস ও মশা নিধনে কাজ করছে।


এ বছর ডেঙ্গু মোকাবিলায় আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সংবাদ প্রকাশ হলে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হতো। এবার পরিস্থিতি তৈরির প্রায় তিন মাস আগে থেকেই পরিকল্পনা ও কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।


ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর উন্নত ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় একটি ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন প্রচার করা হচ্ছে। গত দুই মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২ হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হালনাগাদ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।


ডা. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে প্রতিরোধ, দ্রুত রোগ নির্ণয়, দ্রুত রেফারেল এবং হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে জনগণ ও পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে।


সেমিনারে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান তার উপস্থাপিত প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোগীর অতিরিক্ত চাপ, সীমিত জনবল ও হাসপাতাল সুবিধা, বিলম্বিত রোগ শনাক্তকরণ এবং গুরুতর রোগীর দ্রুত অবনতি।


তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে নিয়মিত ও ঘন ঘন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সময়মতো সিবিসি ও হেমাটোক্রিট পরীক্ষা এবং সতর্কতার সঙ্গে ফ্লুইড ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্লেটলেটের সংখ্যার ওপর গুরুত্ব না দিয়ে রোগীর সামগ্রিক ক্লিনিক্যাল অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও অতিরিক্ত ফ্লুইড দেওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।


ডেঙ্গু চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে ডেডিকেটেড ডেঙ্গু ওয়ার্ড, পর্যাপ্ত আইসিইউ ও এইচডিইউ, দক্ষ জনবল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি কার্যকর মশা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।


নিপসমের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসরিন সুলতানা তাঁর প্রবন্ধে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মশা নিধন যথেষ্ট নয়; এর জন্য সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ডেঙ্গুর সংক্রমণ মশা, ভাইরাস, মানুষের আচরণ, পরিবেশ, জলবায়ু ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, ফগিংয়ের মাধ্যমে সাময়িকভাবে প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করা যায় না। তাই পরিবেশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।


ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকেও মশার কামড় থেকে নিরাপদ রাখার পরামর্শ দেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তঃখাত সমন্বয়, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। 


অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা বলেন, প্রতি সপ্তাহে অন্তত পাঁচ মিনিট বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী আগাম সতর্কতা এবং টিকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ। ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতারা বক্তব্য দেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দ্বিপক্ষীয় সফরে ২৬ অক্টোবর টোকিও যাচ্ছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে অনুষ্ঠেয় এই সফরে তাঁর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করবেন তারেক রহমান। ঢাকা ও টোকিওর কূটনৈতিক সূত্রগুলো আজ মঙ্গলবার দুপুরে প্রথম আলোকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের বিষয়টি গত মাসেই চূড়ান্ত হয়। সফরটি চার দিনের হতে পারে।


এই সফর এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।


কূটনৈতিক সূত্র বলছে, টোকিও সফরের সময় জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসায়ীদের সম্মেলন আয়োজন ও জনশক্তি রপ্তানির অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রাধান্য পেতে পারে।



পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:১১ পিএম

‘নভেম্বরে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী’— ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এ তথ্যের সত্যতা রয়েছে কিনা প্রশ্নে জবাব না দিয়ে অট্টহাসি দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা নাকচ না করে তিনি বলছেন, সফরের দিনক্ষণ নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজে (সিজিএস) ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।


নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হতে পারে—ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে মন্তব্য করতে চাই না। বাংলাদেশের খবর জানতে হলে বাংলাদেশের কাছ থেকেই জানতে হবে।’


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘দুদেশের সচিব ও কর্মকর্তাদের পর্যায়ে সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা অব্যাহত রয়েছে। এসব আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে একটি ইতিবাচক ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।’


শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ কবে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর হলেই শীর্ষ পর্যায়ের সংলাপ হবে। তার আগে কর্মকর্তাদের পর্যায়ে আলোচনা করে একটি ‘কনক্লুসিভ এনভায়রনমেন্ট’ তৈরি করতে হবে। এক্ষেত্রে দুপক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে।


প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আশাবাদী জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেছেন, তারিখ ও সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে তা নির্ধারিত হওয়ার পর ঢাকার পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।


ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততার সমাধান করতে চায়। ভারতের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা চালিয়ে গিয়ে দুই দেশই সন্তোষজনক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ যেমন সংযম দেখাচ্ছে, ভারত সরকারের কাছ থেকেও একই ধরনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা।

নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান হুমায়ুন কবির।


তথ্য অধিদপ্তরে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:০৩ পিএম

বাজার পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক মূল্যসহ সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য সমন্বয় করতে সরকার বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তথ্য উপদেষ্টা। 


ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এলপিজির মূল্য সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে সরকার। তবে নির্ধারিত দামেও এলপিজি না পেলে নজরদারি বাড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


তিনি জানান, বাজারে অনিয়ম ও অবৈধভাবে এলপিজি মজুতের বিরুদ্ধে জরিমানা জোরদার করা হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি, কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং অবৈধ মজুতের মতো অনিয়ম ঠেকাতে মাঠ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।


ভিজিএফে চাল দ্বিগুণ


তথ্য উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় খাদ্যসহায়তার পরিমাণও বাড়িয়েছে সরকার। এতদিন উপকারভোগীদের ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হলেও এখন থেকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভিজিএফ কার্যক্রমের আওতায় ১০ কেজি চালের জায়গায় এখন থেকে ২০ কেজি চাল দেওয়া হবে।’


সরকারের এ সিদ্ধান্তে নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্যসহায়তা বাড়বে বলে জানান তিনি। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সহায়তা দিতে ভিজিএফের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে।


ব্রিফিংয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতির বিষয়েও তথ্য দেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, গত ২ অক্টোবর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি এসে পৌঁছেছে।


তিনি বলেন, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলো কাজ করছে।


ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এবং তথ্য অধিদপ্তরের সিনিয়র উপপ্রধান তথ্য অফিসার মো. জাহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৫ পিএম

রাজধানীর পশ্চিম শেওড়াপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম তাঁর নাতনির জন্মনিবন্ধন করতে মিরপুর ১০ নম্বরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে বলা হয়, জন্মনিবন্ধন স্থায়ী ঠিকানায় করাতে হবে।


তাঁর নাতনির জন্ম ঢাকায় হলেও বেড়ে ওঠা বরিশালের বাকেরগঞ্জে। এ জন্য বাকেরগঞ্জ থেকে জন্মনিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়। জাহিদুলের মেয়ে সাবেকুন বেগমের এখন শেওড়াপাড়ায় বসবাসের কথা বললেও তারা রাজি হননি। পরে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েসের সঙ্গে সরাসরি দেখা করেন জাহিদুল। তাঁর সহযোগিতায় শেওড়াপাড়ার ঠিকানাতেই জন্মনিবন্ধন করাতে সমর্থ হন তিনি। 


জন্মনিবন্ধন নিয়ে একেক সময় একেক সিদ্ধান্তে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সন্তানের জন্মনিবন্ধন করাতে গিয়ে মা-বাবা জানতে পারছেন, স্থায়ী ঠিকানায় নিবন্ধন করাতে হবে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বর্তমান ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র করা গেলে জন্মনিবন্ধন করা যাবে না কেন?


শুধু স্কুলে ভর্তি নয়; চাকরিতে নিয়োগ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রসহ অন্তত দেড় ডজন কাজে জন্মসনদ প্রয়োজন। যে কারণে বছরজুড়ে সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মসনদ নিতে ভিড় লেগেই থাকে। আর এই সেবা নিতে গেলেই ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। আগে যেখানে দুদিনের মধ্যেই জন্মনিবন্ধন সনদ মিলত, কাউন্সিলর না থাকায় এখন লাগছে অন্তত এক সপ্তাহ। 


এ পরিস্থিতির মধ্যেই আজ পালিত হচ্ছে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। ২০২১ সাল থেকে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। দিনটি উপলক্ষে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।


আগে লাগবে মা-বাবার নিবন্ধন


রাজধানীর গোপীবাগের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় বালা তাঁর দুই সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে নগর ভবনে গেলে বলা হয়, আগে মা-বাবার জন্মনিবন্ধন করাতে হবে। তা না হলে সন্তানের জন্মনিবন্ধন হবে না। কিন্তু তাঁর দুই সন্তানের জরুরি পাসপোর্ট করানো দরকার ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা বলছে, আমি যেখানকার ভোটার, সেখানে গিয়ে জন্মনিবন্ধন করাতে হবে। আমি চাকরি করি। বাড়িতে গেলে এক-দুদিনে জন্মনিবন্ধন করা যায় না। এত ছুটি তো পাব না।’


সনদ সংশোধনে আরেক ভোগান্তি


জন্মনিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তির কারণে অনেকেই দালালের কাছে যান। এক থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়ে তারা নিশ্চিত থাকেন, এবার সন্তানের জন্মসনদ পাবেন। তবে দেখা যায়, এসব জন্মসনদে থাকে অসংখ্য ভুল। সন্তানের নামের বানান ঠিক থাকলে ভুল থাকে মা বা বাবার নাম; কখনও কখনও জন্মতারিখও ভুল থাকে। অনলাইনে জন্মনিবন্ধন ফরম পূরণ করতে যারা দায়িত্ব পালন করেন, তাদের দক্ষতাও সন্তোষজনক থাকে না। এ জন্য ভুলে ভরা থাকে প্রায় প্রতিটি জন্মসনদ। এসব সংশোধন করাতে গিয়ে পড়তে হয় আরেক যন্ত্রণায়। 


না জানিয়ে কোটি মানুষের জন্মসনদ বাতিল


রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা ইশরাত পারভীন তাঁর সন্তান আতুলা আজমের জন্মনিবন্ধন সনদ নেন ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর। সেই সনদ দিয়ে পাসপোর্ট করান। তা দিয়ে কয়েকটি দেশও ঘুরেছে তাঁর মেয়ে। গত জানুয়ারিতে সন্তানের স্কুল থেকে বলা হয়, জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে আতুলার জন্মনিবন্ধনের কোনো তথ্য নেই। পরে ইশরাত নিজেও দেখতে পান, শুধু আতুলার নয়; পুরো পরিবারের কারোরই জন্মনিবন্ধনের কোনো তথ্য ওয়েবসাইটে নেই। ইশরাত খিলগাঁওয়ে সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক কার্যালয়ে ছুটে যান। সেখান থেকে তাঁকে নগর ভবনে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। নগর ভবনে গেলে তাঁকে বলা হয়, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে খোঁজ নিতে। সেখানে গেলে বলা হয়, যেখানে সনদ ইস্যু করেছিল, সেখানে যোগাযোগ করতে।


আতুলার বাবা শহিদুল আজমের এ অভিযোগ পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১২ সালের আগের জন্মনিবন্ধন সনদগুলো সরকারি সিদ্ধান্তে বাতিল করা হয়েছে। ২০১১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধনের নতুন ওয়েবসাইট ও সার্ভার চালু করা হয়। ২০১২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটা কাজ শুরু করে। পুরোনো নিবন্ধিতদের জন্মনিবন্ধন সনদ নতুন ওয়েবসাইটে যুক্ত করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অল্প কিছু জন্মসনদ যুক্ত করা হলেও পরে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকাতেই অন্তত ৩০ লাখ জন্মসনদ বাতিল হয়েছে। সারাদেশে এ সংখ্যা অন্তত সাত কোটি।


২০০৪ সালে জন্ম-মৃত্যুনিবন্ধন আইন করে সরকার। জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে দেখা যায়, বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি মানুষ জন্মনিবন্ধন করেছে। একেকজনের নামে কয়েকবার নিবন্ধন হয়েছে, তাই তা ১৮ কোটি ছাড়িয়ে গেছে।


তিন মাস বন্ধ ছিল ডিএসসিসির কার্যক্রম


জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম থেকে কোনো রাজস্ব না পাওয়ার অভিযোগে জুলাই থেকে এ কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এ নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ডিএসসিসির চলে রশি টানাটানি। তখনও বেশ ভোগান্তিতে পড়েছিলেন ডিএসসিসি এলাকার বাসিন্দারা। পরে ডিএসসিসিকে অনুদান দেওয়ার শর্তে তিন মাস পর আবার কার্যক্রম শুরু হয়।


এদিকে সার্ভার জটিলতার কারণে সেবাগ্রহীতাদের দালালের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া গতি থাকে না। যদিও এখন এই সমস্যা নেই বলে দাবি করেন ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে জন্মনিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে যে কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জন্মনিবন্ধন করাতে পারবেন। পাশাপাশি যে কেউ রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুকে ফরম পূরণের পর প্রিন্ট করে সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেলে দ্রুতই সনদ পেয়ে যাবেন।