ড. খলিলুর রহমান
জাতিসংঘ নিখুঁত নয়, তবে এটি অপরিহার্য এবং এর কোনো বিকল্প অকল্পনীয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্টে ড. খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ কোথায় পিছিয়ে পড়ছে তা চিহ্নিত করতে হবে। যেসব বিষয় আর কার্যকর নয়, সেগুলোতে সংস্কার আনতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পখাতের নেতা থেকে শুরু করে তরুণ পরিবর্তনকারীদের মতো আরও বেশি কণ্ঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আলোচনায় যুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আস্থা চাওয়া যায় না, এটি অর্জন করতে হয়।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আরও বলেন, এবারের অধিবেশন এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে, যা কঠিন বাস্তবতা মোকাবিলায় যথেষ্ট বাস্তববাদী, সংস্কারের জন্য যথেষ্ট সাহসী এবং প্রয়োজনীয় অংশীজনদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উন্মুক্ত।
এভাবেই জাতিসংঘকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে তোলা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেড় দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।
এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত’ হয়েছে-এমন দাবি করে তিনি জানান, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’-এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ভাষণে তিনি তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন এবং প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ভাষণের শেষদিকে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাইমা রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান।
খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে বিভিন্ন পদে রয়েছেন মোট ৪০ জন। তাদের মধ্যে জাইমা রহমানসহ ছয়জন বাংলাদেশি।
বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম এই অফিসের উপ-প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া উপদেষ্টা ও প্রশাসনিক সহকারী মোয়াজ্জেম হোসেন, তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলগত পূর্বাভাস বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাফিজুল ইসলাম, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা জাকির আহমেদ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলো বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মো. রফিকুল আলম মোল্লা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন ৮ সেপ্টেম্বর। তার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ভাষণ দেবেন তারেক রহমান।
জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে আইনি বিষয়গুলো দেখাশোনা করবেন।
জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের একমাত্র মেয়ে। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি।
জাইমা আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পরে যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল করেন। ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের পরীক্ষাতেও তিনি উত্তীর্ণ হন।
৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতির অফিসে ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আব্দুল আলিম দীর্ঘদিন ধরে কূটনৈতিক পেশায় আছেন। এর আগে তিনি বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের মিশনে কাজ করেছেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতি সরাসরি জাতিসংঘের কর্মী নন এবং তিনি এ সংস্থা থেকে সরাসরি কোনো নিয়মিত বেতন পান না। সাধারণ পরিষদের সভাপতির বেতন-ভাতা, আবাসন বা বাড়ি ভাড়াসহ বিভিন্ন খরচ সাধারণত তার নিজের দেশ বা নিজ সরকার বহন করে থাকে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ড থেকেও কিছু ব্যয় নির্বাহ করা হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া এই ভাষণে তিনি নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের উন্নয়ন রূপরেখা, বিশ্বশান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈষম্যহীন ব্যবহারের ওপর জোর দেন।
এ সময় দেশ পুনর্গঠনে সরকারের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী শাসন-শোষণে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামতের জন্য সরকার রিকভারি, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন (Recovery, Restoration and Reconstruction) অর্থাৎ থ্রি-আর (3-R) কৌশল অনুসরণ করছে।’
ভাষণের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতা পরবর্তী গণতান্ত্রিক সংগ্রামের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদের অবসানের পর গণতান্ত্রিক উত্তরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশে চলতি বছরের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনে জনগণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে।’
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মনে উদ্বেগ রয়েছে। আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের অধিকারসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ পুনরায় তার অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে।’
দীর্ঘ ৯ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার কারণে দেশের সম্পদ ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের কথা তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে; তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।’
দেশের কর্মক্ষম জনশক্তিকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর এবং বাংলাদেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা ভাষণে উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘এই কর্মযজ্ঞে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন সহযোগীদের পাশে পেতে চায়। দেশের তরুণ উদ্যোক্তা, গবেষক এবং উদ্ভাবকদের জন্য স্টার্ট আপ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি করে দিতে সরকার চলতি অর্থ বছরে ৫০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রেখেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে নারীরা সরকারের সব পরিকল্পনার অগ্রভাগে রয়েছেন। নারী শিক্ষা, নারীদের কর্মসংস্থান এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টিকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নারী উদ্যোক্তা তৈরির জন্য বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীদের জন্য সরকার নগদ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারিত করেছে। স্নাতক শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনাবেতনে শিক্ষার সুযোগ অবারিত করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয় সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও নিশ্চিত করতে চায় যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সমৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার এবং প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ই-হেলথ কার্ড এর মত বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে।’
প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে ইস্যু করা ‘ফ্যামিলি কার্ড’কে সরকার নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি সেক্টরে সহায়তার জন্য প্রবর্তন করা কার্ডগুলোকে সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করাও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের তেমন ভূমিকা না থাকলেও বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব বহন করতে হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ ঝুঁকি মোকাবিলা করে টিকে থাকার সক্ষমতা অর্জনের পথ বেছে নিয়েছে। সুতরাং, ক্লাইমেট জাস্টিস, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভিযোজন সহায়তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কপ-৩১ -এ আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপ আশা করে।’
বাংলাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সরকার কর্মসূচি জোরদার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘এরই অংশ হিসেবে সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি শুরু করেছে। ক্লিন এনার্জি এবং সোলার এনার্জি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশকে বন্যা-খরার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। বাংলাদেশে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৃহৎ জলাধারের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও দূষণ রোধে অভ্যন্তরীণ পদক্ষেপ জোরদার করার পাশাপাশি আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে সরকার ১৯৯২ সালের ‘ওয়াটার কনভেনশন’-এ স্বাক্ষর করেছে।’’
তারেক রহমান বলেন, ‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই গড়বে আগামী বিশ্বের ভবিষ্যৎ। আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বায়োটেকনোলজি এবং বিজ্ঞানের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছি। প্রযুক্তি খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তবে এর সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল সক্ষমতা আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই না, আজকের ডিজিটাল বিভাজন আগামী দিনের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিভাজনে পরিণত হোক। বাংলাদেশ উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্বকে সম্মান করে। একই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। বিজ্ঞানের এই অগ্রযাত্রায় কোনো দেশ যেন পিছিয়ে না থাকে। সবার জন্য ন্যায্য ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়তে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিকাশ এবং দ্রুত সম্প্রসারণের সুফল যাতে দেশে দেশে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো যায়, এ ব্যাপারে জাতিসংঘের একটি কার্যকর নীতিমালা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।’
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে, নির্বিঘ্নে তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ খুঁজে পাবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, প্রতিটি শিশু তাদের সকল সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ নিয়ে বেড়ে উঠবে, সর্বোপরি জনগণ পাবে নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ জীবনের নিশ্চয়তা। এজন্যই আমরা বলি ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।’’
বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের সকল নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি পুনরায় বাংলাদেশের অকুন্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বশান্তি, মানবতা, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পক্ষে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার এবং জাতিসংঘের মাধ্যমে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও জানান, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশি সদস্যদের অবদানের প্রশংসা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন, স্বাস্থ্য, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাবার ও মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের বাবা, মা ও ছেলে- তিন সদস্যের রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার বিরল ইতিহাস তৈরি হলো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিয়ে তার পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে এক বিরল ইতিহাস গড়েছেন। এ বিশ্ব সংস্থার সাধারণ বিতর্কের ৮১তম অধিবেশনে তিনি তার প্রথম ভাষণ দেন। সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া তার এই প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিগন্তের উন্মোচনের পাশাপাশি জাতিসংঘের ইতিহাসেও এক বিরল অধ্যায় রচনা করেছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ইতিহাসে এর আগে কখনো একই পরিবারের তিন সদস্য- বাবা, মা ও ছেলে- রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেননি।
পারিবারিক সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব দরবারে নিজের মাতৃভাষায় কোটি কোটি বাংলাদেশির আশা-আকাঙ্ক্ষা, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক চেতনার কথা তুলে ধরেছেন।
নিউইয়র্ক সময় বিকেলে সাধারণ পরিষদ হলে তিনি এ ভাষণ দেন।
‘এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে ভাষণে সম্বোধন করে বলেন, ‘জাতিসংঘের এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে এই মুহূর্তে আজ আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর। এই বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়েই আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়া দেশ এবং জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে আজ আমিও আমার দেশ এবং জনগণের স্বার্থের পক্ষে এবং একটি শান্তিময় বিশ্ব সমাজের প্রত্যাশায় এখানে দাঁড়িয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরেন। এতে জলবায়ু পরিবর্তন, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানবিক বিষয়াবলী এবং রোহিঙ্গা সংকটের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
চার দশকের বেশি সময়ের ধারাবাহিকতায় নতুন অধ্যায়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তারেক রহমানের এই ভাষণ তার পরিবারের সঙ্গে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পৃক্ততার একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করেছে।
তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন।
ওই ভাষণে জিয়াউর রহমান ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছিলেন।
এছাড়া তিনি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এর তেরো বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভাষণ দেন।
জাতিসংঘের নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে তিনি মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন।
এছাড়া খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ সভা, ২০০২ সালে শিশু বিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন এবং ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশন চলাকালীন দুটি পৃথক সভায় ভাষণ দিয়েছিলেন।
জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সংকটের একমাত্র সমাধান। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এর ফলে দেশের সম্পদ, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, জনবহুল বাংলাদেশ মনে করে, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস ও উৎপত্তি মিয়ানমারে। তাই এর সমাধানও সেখানেই নিহিত। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়াই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান।
সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এই সংকটের চূড়ান্ত সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় এবং কার্যকর সমর্থন প্রত্যাশা করে। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্যও আমি জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।
রোহিঙ্গাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর মানবিক সংকটের দিকে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভাষণে বৈশ্বিক অভিবাসন প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অভিবাসন প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার মতোই প্রাচীন। বিশ্বের অনেক দেশে অভিবাসীরা তাদের জন্মভূমি ও অভিবাসিত দেশ—উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার নিয়মিত, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অভিবাসীদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিতে বাংলাদেশ আরও জোরালো বৈশ্বিক সহযোগিতা প্রত্যাশা করে।
বিশ্বের চলমান যুদ্ধ ও সংঘাত নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বায়নের এই সময়ে পৃথিবীর এক প্রান্তের কোনো ঘটনা অন্য দেশগুলোকেও প্রভাবিত করছে। মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক সংকটের মুখে পড়ছেন।
তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে। জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কারণে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, যে কোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই হওয়া উচিত।