ছবি : সংগৃহীত
উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ-উত্তর উড়িষ্যা উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।গতকাল শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, লঘুচাপটি আরও পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, লঘুচাপটি পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেলে স্থলভাগের ওপর উঠে যেতে পারে। এর পরও এটি ঘনীভূত হলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় এলাকায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর সর্বোচ্চ প্রভাব ভারতের ওপর পড়বে।
তিনি আরও বলেন, লঘুচাপ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এটি আরও শক্তিশালী হলে স্থলভাগে উঠে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সাগর এলাকায় এর প্রভাব খুব বেশি নাও থাকতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণও হতে পারে। এ সময়ে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ছে
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকলে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি হঠাৎ বেড়ে গেছে। হ্রদের পানির উচ্চতা গতকাল দুপুর ২টায় ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট এমএসএল ছাড়িয়ে যায়। তাই রাত ১০টা থেকে কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি গেট একসঙ্গে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ উঠিয়ে হ্রদ থেকে পানি নিষ্কাশন শুরু হয়েছে।
কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হ্রদের উজান ও ভাটি এলাকার পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত করা হবে। বর্তমানে হ্রদের উচ্চতা, পানির প্রবাহ (ইনফ্লো), বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত, পানির উচ্চতা এবং ইনফ্লোর তারতম্যের ওপর নির্ভর করে স্পিলওয়ে খোলার সময় এগিয়ে বা পিছিয়ে নেওয়া হতে পারে। ইনফ্লো বেশি হলে স্পিলওয়ে গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঁচটি ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে।
গতকাল বিকেলে পাউবোর রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণ সীমা ১০৯ ফুট এমএসএল। এর বেশি হয়ে দ্রুত পানি ছাড়তে হয় কর্ণফুলী নদীতে। রাতে ৬ ইঞ্চি করে পানি ছাড়া হবে। তাই রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও হাটহাজারী এলাকায় কর্ণফুলী নদীর পানির স্তর বেড়ে যাবে। আমরা সর্তক আছি।
চীনা নৌবাহিনী জাহাজ
পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চীনের নৌবাহিনী জাহাজ বাংলাদেশে আগমন করেছে। ‘থাং শান’(TANG SHAN), ‘দা ছিং’ (DA QING), এবং ‘থাই হু’ (TAI HU) নামের জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। চীনা জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল-এর পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার স্বাগত জানান। এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে।
এছাড়াও জাহাজসমূহকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশস্থ চীন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ চীনের নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সফরকারী জাহাজসমূহ বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।
বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজসমূহের অধিনায়ক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। সফরকারী জাহাজসমূহের কর্মকর্তা ও নাবিকগণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ, ঘাঁটি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করবে। এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ চীনের নৌবাহিনী জাহাজ পরিদর্শন করবে। এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের নৌসদস্যগণ পারস্পরিক কার্যক্রম ও পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করবে।
শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত বিষয়ে মতবিনিময়, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়।
উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজসমূহ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল
অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্তের ভয় দেখিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস মুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে স্ট্রেংথেনিং দ্য প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব প্রসিকিউশন এথিকস ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেল’স অফিস অব বাংলাদেশ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে দুদিনের এ কর্মশালার আয়োজন করে। এই প্রথমবারের মতো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নেন। প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, থাইল্যান্ডের প্রসিকিউটর ওয়ারানথর্ন ওয়ানিচথাওয়ার্ন এবং মালদ্বীপের প্রসিকিউটর মারিয়াম সিমহা মুস্তফা রাশিদ।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি অফিস এখন মুক্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন আইন কর্মকর্তাদের আগমনের মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছি।
কর্মশালা সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা উচিত। দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি কয়েকজন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, আমি যতদিন আছি ততদিন কোনো অনৈতিক সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। আমাদের অঙ্গীকার-সততা, নিষ্ঠা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।
অনুষ্ঠানে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার উদাহরণ দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারিক আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব শুধু সাজা নিশ্চিত করা ছিল না, নিরপরাধ নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের মক্কেল। শুধু রাষ্ট্রের পক্ষে সাজা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব নয়, নিরপরাধ নাগরিকদেরও আমরা রক্ষা করছি।
অনুষ্ঠানে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলজ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের স্বতন্ত্র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচারককে নিরপেক্ষ থাকতে হয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীকে তার মক্কেলের পক্ষে অবস্থান নিতে হয়। অন্যদিকে, প্রসিকিউটরকে একই সঙ্গে শক্তিশালী ও সংযত হতে হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় নৈতিক মান বজায় রাখবে এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার একটি পথচলা শুরু হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং সাময়িক দূরত্ব ঘুচে নতুন করে যাত্রা (রিসেট) শুরু করতে আগামী নভেম্বরের সুবিধাজনক সময়ে এই শীর্ষ সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। খবর দ্য হিন্দু’র।
ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত আগস্টে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। ঢাকার পক্ষ থেকে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তবে সেই ক্ষোভ কাটিয়ে এখন উভয় দেশের কর্মকর্তারাই ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক এজেন্ডায় মনোযোগ দিচ্ছেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে এই উদ্যোগে।
সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সম্পর্কের এই ‘রিসেট’ নিয়ে সরকারের ইতিবাচক সদিচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই শীর্ষ পর্যায়ের সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। মূলত এই কৌশলগত কারণেই বিমসটেকের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে বাংলাদেশ।
কূটনৈতিক এই বরফ গলার পেছনে বিএনপি প্রধানের দীর্ঘদিনের কৌশলী ভূমিকা ছিল। সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে থাকাকালেই তারেক রহমান নয়া দিল্লির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরপরই তিনি ভারতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন সে দেশের মনোভাব বুঝতে। প্রকৃতপক্ষে ২০১৮ সালে তারেক রহমানের নির্দেশেই ভারতবিরোধী চিরাচরিত অবস্থান থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতি গ্রহণ করে বিএনপি।
অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও দমনপীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাসহ তাঁর সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।
বিগত সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকলেও, ঢাকার বর্তমান প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন ও অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সুষম কূটনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছালো ৯৪৮ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।
এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।
এছাড়া সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি নিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান।
এ সময় বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।
বিমানবন্দরে স্বল্পসময়ের বিরতি শেষে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির পথে রওয়ানা দেবেন শেরিং তোবগে।
আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর মধ্যে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াও বয়ে যেতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন ঢাকা, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর ও খুলনা জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু তাপপ্রবাহ প্রশমিত হতে পারে।
শুক্রবার রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
শনিবার বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।
রোববার রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের কিছু এলাকায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
সোমবার রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
বর্ধিত পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।