জাতীয় স্মৃতিসৌধ।
মহান বিজয় দিবসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের ঢল। রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ।
মানিকগঞ্জ থেকে পরিবারের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে আসা কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, আমি মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তবে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে বইয়ে পড়েছি। আজ আমি পরিবারের সঙ্গে প্রথম জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালাম।
স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছি। সেই জাতির সূর্য সন্তানদের স্মরণ করছি জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসে। এই দিনটি আমাদের গৌরবের দিন। তাই দেশের জন্য আত্মদানকারী সেই সব বীরদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।
এর আগে, সকালে মহান বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মৃতির প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা।
রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা স্মৃতিসৌধ ত্যাগ করার পর সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রধান ফটক। এরপর থেকেই সর্বস্তরের জনতার ঢল নামে স্মৃতিসৌধে।
প্রতীকী ছবি
সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩২০ শিশু। বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৯৪৪ শিশুর। হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০০ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ৪৪ শিশু মারা গেছে। এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮১ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৩৯। এই সময়ে ১ হাজার ১৪১ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৭৯ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ১৯৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২০ হাজার ২৮২। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।
প্রতীকী ছবি
দেশের সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ৫৯৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৬৪-তে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে মৃত্যু হলো ৬৭ জনের। এটা চলতি বছর এক মাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর চেয়েও বেশি।
সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ১৩২ জন ভর্তি হয়েছেন। দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৮৩ জন। ঢাকার বাইরে বরিশালে ১৫৯, চট্টগ্রামে ১৬৫, খুলনায় ২৯০, ময়মনসিংহে ৮২, রাজশাহীতে ১৩৭, রংপুরে ৬৫ ও সিলেটে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন এক হাজার ৫৬৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন।
এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৬০টি নির্ধারিত শয্যার বিপরীতে সোমবার ভর্তি ছিলেন ১৮৭ জন। শয্যা না পেয়ে অনেকে মেঝে ও বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই চিত্র রাজধানীর আরও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে। এর মধ্যেই দেশে ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার রেকর্ড হয়েছে। দুদিন আগে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন। চলতি বছর এক দিনে এটাই সর্বোচ্চ হাসপাতালে ভর্তি।
অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদরা। মঙ্গলবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত শয্যাগুলোর পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দাতে রোগীদের চিকিৎসা চলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শয্যায় একাধিক রোগীকে রাখতে হচ্ছে। এতে রোগীদের পর্যবেক্ষণ, ওষুধ দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালটির উপপরিচালক ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত শয্যা, চিকিৎসক ও নার্স প্রয়োজন।
শয্যা না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন রোগী ও স্বজনরা। রাজধানীর মাতুয়াইলের বাসিন্দা নুরজাহান বেগমের ২০ বছর বয়সী নাতনি জাহিন এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ডেঙ্গুতে ভুগছেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেন স্বজনরা। তিন-চারটি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ঘুরে শয্যা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মুগদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় জাহিনকে। শয্যা না থাকায় মেঝেতেই চলছে তাঁর চিকিৎসা। নুরজাহান বলেন, অনেক হাসপাতালে ঘুরেছেন, কোথাও শয্যা পাননি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১ হাজার ৭৩৩ জনের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৯১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১, ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় ৩৮৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭০, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৩, খুলনা বিভাগে ৩০২, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫, রংপুর বিভাগে ৮৬ ও সিলেট বিভাগে সাতজন রয়েছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫৩ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১ হাজার ২৮২ জন। দেশে চলতি বছর ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ সংক্রমণ হয়েছিল গত আগস্ট মাসে। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬। আগস্টে মারা গেছেন ৪৩ জন। চলতি বছর ৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তির হার দ্রুত বাড়ছে। এতে সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক হাসপাতালে নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সমকালকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় শয্যা বা সুযোগ-সুবিধার সংকট হলে প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী পাঠিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। সক্ষমতা অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে শয্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। শুধু রাজধানীতে নয়; ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি এমন এলাকাগুলোতে উপজেলা পর্যায়েও চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমিয়ে স্থানীয় পর্যায়েই ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্য বিভাগের লক্ষ্য।
অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সেমিনারে তিনি বলেন, তাদের পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী অক্টোবর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিভিন্ন সময় পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এডিস মশা রাতেও কামড়ায়।
শীতে কিউলেক্স মশা বেশি দেখা গেলেও এডিস মশা তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। এ কারণে মানুষ এডিস মশাকে অবহেলা করে। তাই মশার আচরণ সম্পর্কে মানুষকে জানতে হবে। বাংলাদেশকে ‘মশার দেশ’ উল্লেখ করে অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, দেশের ঘাড়ে ডেঙ্গু চেপে বসেছে। দেশে ১২৬ প্রজাতির মশা আছে। এর মধ্যে সাত থেকে আট প্রজাতির মশার কলোনি রয়েছে।
একই অনুষ্ঠানে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই সহজ নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো রোগ। এ রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও বাস্তবে তা কঠিন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
পবিত্র নগরী মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার খবরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র মক্কা আল-মুকাররমা এবং সৌদি আরবের অন্যান্য পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদার প্রতি বাংলাদেশের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এসব পবিত্র স্থান সুরক্ষায় সৌদি আরবের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সব সময় পূর্ণাঙ্গভাবে সম্মান ও নিশ্চিত করতে হবে।
হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের’ অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে ফেইসবুকে ‘অবমাননাকর’ মন্তব্যের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে তলব করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে তাদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রসিকিউশনের এক আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বুধবার এ আদেশ দেয় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২।
যে দুই আইনজীবীকে তলব করা হয়েছে, তারা হলেন-হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।
আদেশের পর ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “গতকাল ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ওই দুজন আইনজীবী ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তারা ট্রাইব্যুনালকে অবমাননা করে বক্তব্য দিয়েছেন।”
মঙ্গলবার দুপুরে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর পরপরই হাসানুজ্জামান তুষার রায়ের সংবাদ প্রতিবেদন ফেইসবুকে শেয়ার করে লেখেন, “অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ, মিথ্যা-বানোয়াট, ভিত্তিহীন রায়ের তীব্র নিন্দা জানাই, প্রতিবাদ জানাই এবং ঘৃণ্যভাবে এই রায় প্রত্যাখান করি। রাজপথেই হবে সবকিছুর ফয়সালা। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
ওই পোস্টে সেদিন বিকালে আইনজীবী মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী মন্তব্য করেন, “ক্যাঙ্গারু কোর্টের অবৈধ রায়ের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ফরমায়েশি রায় প্রত্যাখান করছি। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।”
অন্যদের বাদ দিয়ে কেবল এ দুজনের বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করে কৌঁসুলি তামীম বলেন, “তারা আইনজীবী, তারা আইন জানেন। আদালতের বিরুদ্ধে কী বলা যায় বা যায় না তা উনারা জানেন।
“একজন আইনজীবী যখন আদালত সম্পর্কে এ ধরনের মন্তব্য করেন এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তখন সাধারণ মানুষের কাছে মনে হতে পারে যে এটি বৈধ। এই বিভ্রান্তি এড়াতেই আদালতের কাছে পিটিশনটি আনা হয়েছে।”
১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কাউকে হুমকি বা আদালত অবমাননাকর কোনো কাজ করলে এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
বিলুপ্ত র্যাবের এসআরবি নামে যাত্রা
নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই র্যাব বিলুপ্ত হয়ে বাহিনীটি ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে যাত্রা করল। আজ বুধবার থেকে নতুন নামে যাত্রা শুরু করার কথা জানিয়েছেন বাহিনী প্রধান আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, “এসআরবি নামে গেজেট হয়েছে। আমরা র্যাবের নাম পরিবর্তন করে এসআরবি নাম দিয়ে সকল কাজ আজ থেকে শুরু করেছি।”
এদিন ডাকা সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে বাহিনীটি যে লোগো ব্যবহার করেছে, তাতে র্যাব’র স্থলে ‘এসআরবি বাংলাদেশ’ লেখা রয়েছে। তবে লোগোর নকশা অপরিবর্তিত রয়েছে। বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন লোগো ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে গত ১০ সেপ্টেম্বর র্যাব বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ বা এসআরবি নামে পুলিশের অধীনে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়। মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির পর তা আইনে রূপ নেয়। এর পরদিনই নতুন নামে যাত্রা করল বাহিনীটি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ র্যাব গঠিত হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফলতার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে বাহিনীটিকে বিলুপ্তির দাবি ওঠে।
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাব ও বাহিনীর সাত কর্মকর্তার উপর যুক্তরাষ্ট্র ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপি গঠিত পুলিশ প্রশাসন সংস্কার বিষয়ক কমিটি র্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়। তবে ক্ষমতায় এসে বিএনপি এ বাহিনীকে বিলুপ্ত না করে কাঠামোগত ও কর্মপরিধি পুনর্বিন্যস্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন বা এসআরবি নামে মাঠে রাখল।
ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য জাল নথি তৈরির এক চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ২৭ বাংলাদেশিকে আটক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১০ বাংলাদেশি পুরুষ এবং এক নারীকে এই জালিয়াত চক্রের হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইলের বরাতে মালয় মেইল জানিয়েছে, সোমবার কুয়ালালামপুরের জালান চান সো লিন বাণিজ্যিক এলাকার ১১টি স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে আটক হওয়া ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জনের বিরুদ্ধে বিদেশি শ্রমিকদের জন্য নথি জাল করার কথিত চক্র পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। বাকি ১৬ বাংলাদেশিকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও তিন বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মিয়ানমারের এবং দুজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক।
‘অপস সেরকাপ’ নামে পরিচালিত এ অভিযানে ১৮টি ল্যাপটপ, ২১টি প্রিন্টার ও স্ক্যানার, তিনটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, অভিযানে জাল অস্থায়ী কর্মসংস্থান পাসের (ই-পিএলকেএস) কপি এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদনও পাওয়া গেছে।
সাইফুদ্দিন বলেন, প্রতিটি জাল কর্মসংস্থান পাস ১৫০ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং ভুয়া পুলিশ প্রতিবেদন ৭০ রিঙ্গিতে বিক্রি করা হত। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কারসাজি এবং নথি জাল করার সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করছে বলেও জানান তিনি।
এমন এক সময়ে এই অভিযান চালানো হচ্ছে, যখন বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় খোলার আলোচনা গতি পেয়েছে।
অনিয়ম ও শ্রম শোষণের অভিযোগের মধ্যে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল মালয়েশিয়া। এরপর দুই দেশ শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা শুরু করে। সম্প্রতি মালয়েশিয়া আরও ৩১২টি বাংলাদেশি এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটিং এজেন্সি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
এর আগে দেশটির বিদেশি কর্মী নিয়োগের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডকে (বোয়েসেল) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে গত জুলাইয়ে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করে বাংলাদেশ।
দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব এজেন্সি ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন কর্মীকে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিল। তারা কর্মীদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে অর্থ নিয়ে ৪ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ব্যয়ের পাঁচ গুণ অর্থ নেওয়ারও অভিযোগ পেয়েছে দুদক।