• প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৪৭ পিএম

খাসকামরায় ডেকে নিয়ে নিজের গাড়িচালক মো. আলী হোসেন বাচ্চুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-বিচারক সোহেল রানার বিরুদ্ধে। 


আজ রোববার সকালে তাকে খাসকামরায় ডেকে নিয়ে চোখে ঘুষি ও কানের ওপর থাপ্পড় মারা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাচ্চু। 


তবে, অভিযোগটি সঠিক নয় উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিচারক তাকে শুধু ধমক দিয়ে রুম থেকে বের করে দিয়েছেন।


গাড়িচালক বাচ্চুর অভিযোগ, এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিচারকের পিয়ন ফোন করে তাকে খাসকামরায় ডেকে নেন। তিনি সঙ্গে গাড়ির লগ বই নিয়ে যান। সেখানে একটি জায়গায় সকাল সাতটা লেখা থাকার কারণ জানতে চান বিচারক। বাচ্চু বলেন, ‘স্যার, আপনি আটটার সময় গাড়িতে ওঠেন। সাতটার সময় যদি গাড়ি না পৌঁছায়, তাহলে গাড়ি ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার করব কীভাবে?’


বাচ্চু অভিযোগ করেন, এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে বিচারক তার চোখের ওপর ঘুষি মারেন এবং কানের ওপর থাপ্পড় দেন। পরে বিচারকের পিয়ন তার হাত ধরে টেনে সরিয়ে দেন। এরপর তাকে গালিগালাজও করা হয় বলে অভিযোগ করেন বাচ্চু। 


তিনি বলেন, বের করে দেওয়ার পর আমার চোখ দিয়ে পানি পড়ে চোখ ফুলে যায়। পরে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন এবং চোখে ব্যান্ডেজ করে দেন।


বাচ্চু বলেন, আমি এখানে এক বছর ১০ মাস চাকরি করি। তিনি আমাকে বাদ দিয়ে গানম্যান দিয়ে গাড়ি চালান। আমাকে মোটেও সহ্য করতে পারে না।


অন্যায় করে থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিয়ে কেন শারীরিকভাবে আঘাত করা হলো সেই প্রশ্ন রাখেন বাচ্চু। এ বিষয় এই প্রতিবেদক বিচারকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তবে অভিযোগটি সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা ইশতিয়াক হোসেন জনি।


তিনি বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাচ্চু বিচারকের গাড়ি পরিষ্কার করছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে তাকে খাসকামরায় ডেকে পাঠানো হয়। বাচ্চু গাড়ি পরিষ্কার করতে পারবেন না বলে জানালে বিচারক তাকে ধমক দিয়ে রুম বের করে দেন।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১০:৫৮ পিএম

ভারত থেকে নিয়মিত বিদ্যুৎ আমদানি করে বাংলাদেশ। আমদানি করা বিদ্যুতে নতুন চার্জ চেয়েছে দেশটি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ আমদানিতে ০.০০৫ ভারতীয় রুপি দাবি করেছে ভারত। এটি যুক্ত করা হলে বিদ্যুৎ আমদানির খরচ বাড়বে। 


তবে এ চার্জ নিয়ে চুক্তি করতে দেরি হলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ব্যাহত হতে পারে।


নতুন করে চুক্তি করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। গত ১৮ আগস্ট অর্থ বিভাগে একটি চিঠি দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এতে বলা হয়, ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চুক্তি করতে হবে। চুক্তি করতে দেরি হলে এনভিভিএনের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।


চিঠিতে বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (সিইআরসি) আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ–বাণিজ্যের জন্য প্রতি ইউনিটে প্রথমে ০.০১ ভারতীয় রুপি চার্জ নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। পরে পিডিবির আবেদনের পর তা আধা পয়সা কমিয়ে ০.০০৫ রুপি করা হয়।


বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের কোনো দাম নয়; এটি আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ-বাণিজ্যের গ্রিড অপারেশন ও আন্তর্দেশীয় বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। এতে খুব বেশি খরচ বাড়বে না। আর এনভিভিএনের সঙ্গে চুক্তি করার কারণে লেনদেন সহজ হয়ে যাবে। এরপর আর সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে আলাদা করে বিল শোধের বিষয় থাকবে না।


বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ-বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ নিষ্পত্তি সহজ করতে ভারতের সিইআরসি এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছে। ভারত থেকে নেপাল ও ভুটানে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেওয়া হচ্ছে।


পিডিবি সূত্র বলছে, আন্তসীমান্ত বিদ্যুৎ সরবরাহে কোন সময়ে কত বিদ্যুৎ যাবে, তার শিডিউল করা, মিটার থেকে ব্যবহারের তথ্য নেওয়া, সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মেলানো এবং গ্রিড পরিচালনার মতো কাজের খরচ মেটাতেই এই চার্জ নেওয়ার কথা বলেছে ভারত। বর্তমানে একাধিক চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোট দুই হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি করপোরেশন (ডিভিসি) থেকে ৩০০ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে বেসরকারি খাত থেকে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার একটি কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এনভিভিএন ও পিডিবির মধ্যে এসএনএ চুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


তবে এর বাইরে ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডায় নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি আছে। পিডিবির কর্মকর্তারা বলছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির মধ্যেই এ ধরনের চার্জের বিষয়টি রয়েছে। ফলে এ বিদ্যুতের জন্য আলাদা করে এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৯:২১ পিএম

ঢাকায় অবস্থিত চীন ও রাশিয়ার দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানোর ঘটনায় রাজধানীর কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বারিধারা ও গুলশানসহ পুরো কূটনৈতিক এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। খবর বিবিসি বাংলার। 


আজ রবিবার (২৩ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) আবু খায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।


তিনি বলেন, চীন ও রাশিয়ার দূতাবাসে হুমকি দিয়ে ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। তবে ই-মেইলগুলো ঠিক কোথা থেকে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে এগুলো ভুয়া বা স্ক্যাম ই-মেইল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আবু খায়ের বলেন, ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি দূতাবাসগুলো নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ সদর দপ্তর ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।


তিনি বলেন, 'দূতাবাসগুলোর পক্ষ থেকে পুলিশকে সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি জানার পর কূটনৈতিক এলাকার বিদ্যমান নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।'


ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় এখন পর্যন্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের (ডিওই) নির্দিষ্ট ক্লিয়ারেন্স বা পারমিটের জন্য এখন আর কোনো হার্ডকপি বা ম্যানুয়াল কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) ও অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ সংযোগের ফলে এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও কাগজবিহীন করা হয়েছে।


কম্পিউটারাইজড কাস্টমস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা (অ্যাসিকিউডা ওয়ার্ল্ড) এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) এর আন্তঃসংযোগের আওতায় সিএলপি কোড ৪১১৫ (বিএসটিআই) এবং ৪৬০৩, ৪৬০৪ (পরিবেশ অধিদপ্তর) এর পারমিটের বিপরীতে রাইট-অফ বা অবলোপন কার্যক্রম চালু হচ্ছে।


কী পরিবর্তন হচ্ছে?


আগে যেসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিএলপি’র বিপরীতে ম্যানুয়াল/হার্ডকপি অনুমতিপত্র দাখিলের প্রয়োজন হতে পারত, নতুন ব্যবস্থায় তা আর প্রয়োজন হবে না।


বিএসডব্লিউ থেকে ইস্যুকৃত সংশ্লিষ্ট সার্টিফিকেট/লাইসেন্স/পারমিট (সিএলপি) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রেরিত হবে এবং বিল অব এন্ট্রি/বিল অব এক্সপোর্ট-এর সঙ্গে সংযুক্তিসহ রাইট-অফ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আজ ২৩ আগস্ট থেকে এ কার্যক্রমটি কার্যকর হচ্ছে। 


বিএসটিআই ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল ডকুমেন্ট বা হার্ডকপি অনুমতিপত্র দাখিল করার নিয়ম বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে আবেদনকারী ও উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অনুমোদন গ্রহণ করতে পারবেন।


কী কী সুবিধা


  • সময় ও যাতায়াতের খরচ কমে যাবে।
  • আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।
  • যেকোনো সময় অনলাইনে কাগজের অবস্থা জানা যাবে।
  • দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকবে না।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

ঢাকায় অবস্থিত কয়েকটি বিদেশি দূতাবাসে ই-মেইল পাঠিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দূতাবাসগুলোর প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে।


সিটিটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার দূতাবাসের সঙ্গে কথা হয়েছে। ই-মেইলে যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।


সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক সমকালকে বলেন, ঘটনা জানার পর আমাদের অফিসার দূতাবাসগুলো পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত কার্যক্রম চলছে।


সূত্র জানায়, গত সপ্তাহের শেষ দিকে একই ধরনের ই-মেইল পাঠিয়ে বাংলাদেশে অবস্থিত একাধিক দূতাবাসে হুমকি দেওয়া হয়। কোনো গোষ্ঠী আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এসব ই-মেইল পাঠিয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা লিখিত অভিযোগ করেনি।


গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেন বলেন, হুমকির বিষয়ে তার থানায় কোন দূতাবাস থেকে অভিযোগ করা হয়নি।


তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৩ পিএম

দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কর্মদিবসে সংবাদ মাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ নয় বরং সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘সরকারের সব কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে বিশ্বাসযোগ্যভাবে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের অনেক বড়। একই সঙ্গে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক ও জাতীয় ঐক্যের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘আমাদের কালচারাল ভ্যালুস, রিলিজিয়াস ভ্যালুস এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে শুরু করে আমাদের গর্বের জায়গাগুলো অক্ষুণ্ন রাখার দায়িত্বও আমাদের।’


সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময়কে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ১০০ শতাংশ চেষ্টা করছি। ভুলত্রুটি সবারই হতে পারে। তবে নৈতিকতার জায়গা থেকে আমরা খুবই শক্ত অবস্থানে আছি। প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আমাদের নির্দেশনা হলো, দেশকে সেবা করা এবং জনগণের স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়া।’


সংবাদ মাধ্যমকে গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত ১৭ বছর নানা নিয়ন্ত্রণ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সংবাদ মাধ্যম থেকে সরকারের ব্যর্থতা, অনিয়ম ও নির্যাতনের অনেক তথ্য মানুষ জানতে পেরেছে।


তিনি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। সব দিক থেকেই তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’


আন্দালিভ রহমান বলেন, ‘আমাদের মাথায় রাখতে হবে, আমরা অবশ্যই এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রেগুলেট করা, কিন্তু কোনোভাবেই যেন আমরা কন্ট্রোলে না যাই।’


গত ১৭ বছরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নৈতিক অবক্ষয় ও কাঠামোগত সমস্যা তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ, রাজনীতি, স্ট্যাচুটরি বডি, সংসদসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে সময় লাগবে। তবে কোন পথে যাওয়া যাবে না, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।


তিনি বলেন, ‘ড্যামেজগুলো রিপেয়ার করা এবং নিউ সিস্টেম ডেভেলপ করা, এই জিনিসগুলোতে আমাদের কনসেন্ট্রেট করতে হবে।’


সামাজিক মূল্যবোধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যাতে অন্যায় না হয়, সেদিকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।


আল্লাহর ওপর বিশ্বাসের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘যখনই আপনি ভালো কিছু করতে চাইবেন, আল্লাহর একটা রহমত আপনার ওপরে থাকবে। আপনার ইনটেনশন যদি ভালো হয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা একটা ডিভাইন ব্লেসিং দিয়ে দেন।’


কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি একটি টিমওয়ার্ক। রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজের বিষয়ে কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বেশি। সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই তাদের অন্যতম দায়িত্ব।


তিনি বলেন, ‘জনগণের জানার একটা রাইট আছে যে আমরা কী করছি। তারা আমাদের ভোট দিয়েছেন। আমরা কী করছি, সেটাই জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’


নৌ ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৩ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৪ পিএম

রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে পদোন্নতিতে মেধা, দক্ষতা ও সততাকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (২৩ আগস্ট) ঢাকা সেনানিবাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে ‘নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ- ২০২৬’- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এই পদোন্নতি পর্ষদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কমান্ডার ও লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এবং বিমান বাহিনীর গ্রুপ ক্যাপ্টেন, উইং কমান্ডার ও স্কোয়াড্রন লিডার পদবির যোগ্য কর্মকর্তারা পরবর্তী পদোন্নতির জন্য বিবেচিত হবেন।


বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধের সব শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদ ও ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে যারা দেশে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে হতাহত হয়েছেন- সবার অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।


এছাড়া তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সব শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদসহ সব বীর সেনানীদের কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।  


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদোন্নতির জন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে থেকে অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলী, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করতে নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা দেন।


তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর এই ত্যাগের জন্য নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে নৌ ও বিমান বাহিনীর সব সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান সরকারপ্রধান।


অনুষ্ঠানস্থলে সরকারপ্রধান পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।


পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনী প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


নৌবাহিনীকে আরও আধুনিক, সক্ষম ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে এগিয়ে নিতে তার মূল্যবান পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা কামনা করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনা ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।