তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ এএম

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার ঠিক এক মাস পূর্ণ হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে এক ধরনের স্থবিরতা বা শীতলতা ছিল, তাতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে পরিবর্তনের ইঙ্গিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে যে সরকার ক্ষমতায় আসে, ভারতের চোখে সেটি ছিল একটি 'অনির্বাচিত' সরকার –দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা ছাড়া তাদের আর কোনো ম্যান্ডেট নেই, এমন দাবিও দিল্লির পক্ষ থেকে তখন একাধিকবার করা হয়েছে।


সেই যুক্তিতেই দিল্লি ঢাকার সঙ্গে ‘এনগেজমেন্ট’ কার্যত স্থগিত রেখেছিল। গুরুত্বপূর্ণ সব দ্বিপাক্ষিক আলোচনা থমকে গিয়েছিল, হাই-প্রোফাইল সফরগুলোও বন্ধ ছিল – এমন কী দুই দেশ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ আরোপের রাস্তাতেও হেঁটেছিল। সে সময় ভারতের ঘোষিত অবস্থান ছিল, আগে বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসুক – আর সেটা যে দলেরই সরকার হোক না কেন, তাদের সঙ্গে 'ডিল' করতে দিল্লির কোনো আপত্তি নেই। এখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে তা আন্তর্জাতিক স্তরেও রীতিমতো গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে – এবং সেই ভোটে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি গরিষ্ঠতা অর্জন করে এককভাবে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।


১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পরই প্রথম যে বিশ্বনেতারা ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান, তাদের মধ্যে ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, সে দিন বিকেলে তিনি টেলিফোনেও মি রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছরের একটা 'পজ' বা বিরতির অবসানে দিল্লি যে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক আবার সহজ করে তুলতে চাইছে, সেই ইঙ্গিত সে দিনই পাওয়া গিয়েছিল। এমন কী দল হিসেবে বিএনপি-র সঙ্গে ভারতের একদা অস্বস্তিকর সম্পর্কও আপাতদৃষ্টিতে তাতে বাধা হয়নি। কিন্তু বরফ গলার মধ্যে দিয়ে যে নতুন করে যে সম্পর্কের যাত্রা শুরু, তা কি সত্যিই শেষমেশ প্রত্যাশিত পথে এগোবে?


ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে দু'পক্ষেরই বিপুল পরিমাণে 'স্টেক' বা স্বার্থ আছে তাতে যেমন কোনো সন্দেহ নেই, তেমনি দুটো দেশের রাজনীতিতেই অন্য দেশের গভীর ছায়াপাতও একটি বাস্তবতা। মানে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন 'ইন্ডিয়া ফ্যাক্টরে'র গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি ভারতের রাজনীতিতে – বিশেষ করে পূর্ব সীমান্তের রাজ্যগুলিতে – বাংলাদেশও বরাবরই একটি আলোচিত ও প্রাসঙ্গিক ইস্যু। ফলে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাস্তবতা – না কি অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বাধ্যবাধকতা – কোন বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বেশি প্রভাব ফেলে সেটাও একটা দেখার বিষয় হবে অবধারিতভাবে। এই পটভূমিতে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে কোন পথে যেতে পারে, তা অবশ্যই কয়েকটি নির্দিষ্ট 'ইন্ডিকেটর' বা সূচক দিয়ে পরিমাপ করা যেতে পারে। পরবর্তী কয়েক মাসে এ রকমই পাঁচটি সূচক বা লক্ষণ কী কী হতে পারে, তা থাকছে এই প্রতিবেদনে।


ভিসা কার্যক্রম কি স্বাভাবিক হবে?


বাইরের যে দেশটি থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক ভারতে আসতেন, বিলেত-আমেরিকাকে ছাপিয়ে টানা বেশ কয়েক বছর ধরে সেই স্থানটি ছিল বাংলাদেশের দখলে। কোভিড মহামারির ঠিক আগের বছরেও চিকিৎসা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য বা কেনাকেটা-সহ নানা কারণে প্রায় বিশ লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের অগাস্টে ভারত বাংলাদেশে তাদের ভিসা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে সেই পরিসংখ্যান হু হু করে কমে আসে।


বাংলাদেশে গত দেড় বছরে ভারত শুধুমাত্র কিছু মেডিকেল বা ইমার্জেন্সি ভিসাই ইস্যু করেছে, আর সেই সঙ্গে কিছু সংখ্যক 'ডাবল এন্ট্রি' ভিসা – ইউরোপগামী ও ওয়ার্ক পারমিট-প্রত্যাশী বহু বাংলাদেশি নাগরিকের ভারতে এসে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে যেটির প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ভিসার সংখ্যাও আগের তুলনায় ছিল একেবারেই কম। তবে গত এক মাসে বাংলাদেশে নিযুক্ত একাধিক ভারতীয় কূটনীতিক প্রকাশ্যেই বলেছেন, ভারত এবারে ধীরে ধীরে ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার পথে এগোবে – এবং পর্যটন ভিসা দেওয়াও শুরু করবে। সত্যিই যদি সেটা আগামী কিছুদিনের ভেতরে হয়, তাহলে বোঝা যাবে ভারতের তরফ থেকেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সহজ করার একটা তাগিদ দেখা যাচ্ছে।


তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোথায়?


যখন কোনো দেশের নতুন সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান দায়িত্ব নেন, তখন তিনি তার প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে কোন দেশটিকে বেছে নেন, সেটা ওই সরকারের পররাষ্ট্রনীতি বা কূটনীতির অগ্রাধিকার নিয়ে অবশ্যই একটা জোরালো বার্তা দেয়। বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক বিদেশ সফরে কোথায় যান, সেটাও ঠিক এই কারণেই দেখার বিষয় হবে। তিনি যদি প্রথম সফরে দিল্লিতে আসেন, তাহলে বোঝাই যাবে বিএনপি-র রাজনীতির সঙ্গে যে ভারত-বিরোধিতার তকমাটা এর আগে জুড়ে ছিল সেটা থেকে তার সরকার বেরোনোর চেষ্টা করছে।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অবশ্য দিল্লি না এসে প্রথম সফরে সৌদি আরব, বেজিং, ওয়াশিংটন বা এমন কী কাঠমান্ডু, কলম্বো বা ইসলামাবাদেও যেতে পারেন – আর তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই সেই পদক্ষেপ নিয়ে অবশ্যই কাটাছেঁড়া হবে। আবার এমনও হতে পারে, তিনি নিজে প্রথমেই ভারত সফরে না গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানালেন। প্রথম সারির বিশ্বনেতাদের মধ্যে নরেন্দ্র মোদীই যদি ঢাকায় নতুন সরকারের প্রথম অতিথি হন, সেটাও কম তাৎপর্যপূর্ণ হবে না। বস্তুত ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর পরই নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ইতিমধ্যেই পারস্পরিক সফর নিয়ে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়েছে কি না আমাদের জানা নেই। তবে তারেক রহমান যদি সত্যিই ভারত সফরে আসেন, সেটা মে মাসে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের পর্ব মেটার আগে নয় – দিল্লিতে কূটনৈতিক সূত্রে আপাতত এমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।


বাংলাদেশ সফরে আসবে ভারতের ক্রিকেট দল?


গত বছরের (২০২৫) অগাস্টে তিনটি ওয়ান ডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক খেলতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার কথা ছিল – যে সফর শেষ মুহুর্তে বাতিল করা হয়। বিবিসিআই (ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড) তখন বিসিবি বা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে জানিয়েছিল, অনিবার্য কারণে এখন ভারতের পক্ষে বাংলাদেশে খেলতে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না – এই সফরটি বরং আগামী বছরে রিশিডিউল করা হোক।



বিসিসিআই যে নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ইশারাতেই সেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল – এ কথাও ছিল 'ওপেন সিক্রেট'। অর্থাৎ সফর পিছোনোর কারণ ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক। এখন দিনকয়েক পরেই ভারতে শুরু হচ্ছে আইপিএল টুর্নামেন্টের মরশুম, ফলে ভারতীয় দলের বাংলাদেশ সফরে যেতে হলে আগামী জুনের আগে তা সম্ভব নয়।কিন্তু চলতি বছরে সেই প্রস্তাবিত 'রিশিডিউলড' সফরটি আদৌ হবে কি না, এবং ভারতীয় বোর্ড বাংলাদেশকে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না – সেটা এখনো পুরোপিুরি নিশ্চিত নয়। এর মাঝে ঢাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে আরও অবনতি হয়েছে – ভারতীয় বোর্ড কলকাতা নাইট রাইডার্স স্কোয়াড থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলার পর বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতেই অস্বীকার করেছে, যার কারণে শেষ পর্যন্ত পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই তাদের বাইরে থাকতে হয়েছে।


সেই তিক্ত ঘটনাপ্রবাহের জেরে ভারতীয় দলের পরবর্তী বাংলাদেশ সফর নিয়েও একটা অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে ভারত যখন ২০২৬-এর জুন নাগাদ সফরটি 'রিশিডিউল' করার প্রস্তাব দিয়েছিল তখন তাদের ধারণা ছিল ওই সময়ের মধ্যে ঢাকায় একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় এসে যাবে এবং সফরের পরিবেশও অনেক অনুকূল থাকবে। সেই ধারণা ইতিমধ্যেই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে, এখন ভারত যদি তাদের কথা রাখে – তাতেও বোঝা যাবে দুই দেশের সম্পর্কের গ্রাফও ইতিবাচক দিকেই মোড় নিচ্ছে।


কী হবে কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর


গত দেড় বছরের ওপর ধরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ। কলকাতা-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস, কলকাতা ও খুলনার মধ্যেকার বন্ধন এক্সপ্রেস বা কমলাপুর-নিউ জলপাইগুড়ির মধ্যে চলাচলকারী মিতালি এক্সপ্রেসের চাকাই রেললাইনে গড়ায়নি সেই ২০২৪-র জুলাই থেকে। আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবাও তখন থেকেই বন্ধ – যদিও অতি সম্প্রতি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ঢাকা পর্যন্ত বাস চলাচল আবার খুব সীমিত আকারে শুরু হয়েছে। অথচ এই সংযোগগুলো দুই দেশের মানুষে মানুষে সম্পর্ক (পিপল টু পিপল কনট্যাক্ট) শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।


ভারত আর একটি যে কানেক্টিভিটি প্রকল্পের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে, সেটি হল আগরতলা ও আখাউড়ার মধ্যে রেল সংযোগ স্থাপন। এই রেললাইনটুকু তৈরি হয়ে গেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশের ভূখন্ড দিয়ে সরাসরি আগরতলায় ট্রেনে চেপে যাওয়া যাবে মাত্র কয়েক ঘন্টাতেই – প্রায় চল্লিশ ঘন্টার জার্নি এক ধাক্কায় কমে আসবে মাত্র আট-দশ ঘন্টায়। ভারত এই কারণেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগকে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জন্য একটি 'গেমচেঞ্জার' হিসেবে দেখে থাকে। কিন্তু দিল্লির জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটির কাজও থমকে আছে বহু মাস ধরে। অথচ সীমান্তে প্রকল্পের অতি সামান্য অংশের কাজই বাকি – বাকি কাজ ২০২৩/২০২৪ নাগাদই শেষ হয়ে গিয়েছিল। এখন তারেক রহমানের নতুন সরকারের আমলে এই 'সামান্য অসমাপ্ত' প্রকল্পটি শেষ হয় কি না, এবং হলে কত তাড়াতাড়ি হয় – সেটা অবশ্যই দেখার বিষয় হবে।


ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে 'কানেক্টিভিটি'-কে ভারত বরাবর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে এসেছে এবং এই খাতে বিপুল বিনিয়োগও করেছে, কারণ বিশেষ করে ভারতের জন্য এই সংযোগ নানা কারণে খুব প্রয়োজন। এখন সেই কানেক্টিভিটি প্রকল্পগুলোর কী গতি হয় এবং দুই দেশের মধ্যে ট্রেন-বাস চলাচল আবার কবে শুরু হয় – সেটাও দুই সরকারের মধ্যে সম্পর্কের রূপরেখা নিয়ে স্পষ্ট একটা বার্তা দেবে।


কবে হবে গঙ্গা পানি চুক্তির নবায়ন


ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে যে গঙ্গা জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তার তিরিশ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি বছরের (২০২৬) ডিসেম্বরেই। এখন এই অতি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি কোন শর্তে নবায়ন হবে – আগের আকারেই সেটি বহাল থাকবে না কি দুই দেশই চুক্তির শর্তে পরিবর্তন চাইবে–সেই আলোচনাও কিন্তু থমকে আছে বহুদিন ধরে। এখন যেটা চলছে তা হল নেহাত টেকনিক্যাল আলোচনা ও দু'দেশের মধ্যে নিয়মমাফিক তথ্যের আদানপ্রদান। কিন্তু চুক্তির নবায়ন করতে হলে যে রাজনৈতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ দরকার, সেটি এখনও হয়ে ওঠেনি। অথচ দুই দেশেরই জানা আছে, সময়মতো চুক্তিটির নবায়ন না হলে গঙ্গার জল ভাগাভাগি নিয়ে বিরাট জটিলতার সৃষ্টি হবে।


এখন তারেক রহমান ও নরেন্দ্র মোদী সরকারের মধ্যে পরবর্তী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি সেই আলোচনা শুরু হয় (কারণ হাতে সময় মাত্রই কয়েক মাস), তাহলে সেটা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটা গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। বোঝা যাবে যে, একটি জটিল সমস্যার নিষ্পত্তিতে দুই সরকারের দিক থেকেই তাগিদ আছে এবং তারা একে অন্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এনগেজমেন্টগুলো করতে প্রস্তুত।


এদিকে ভারতের পার্লামেন্টে তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি-রা সম্প্রতি গঙ্গা চুক্তি নিয়ে যে সব প্রস্তাব এনেছেন বা প্রশ্ন তুলেছেন, তা থেকে স্পষ্ট চুক্তি নবায়নের আলোচনায় তারাও অংশ হতে চায়।


পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনও একেবারে দোরগোড়ায়, রাজ্যের ক্ষমতায় যদি ভোটের পর তৃণমূল কংগ্রেসই থাকে তাহলে গঙ্গা চুক্তির আলোচনায় তাদের মতামত উপেক্ষা করা কেন্দ্রের পক্ষে কঠিন হবে। বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপি বা তৃণমূল কংগ্রেসের যে অবস্থান – পশ্চিমবঙ্গের ভোট মেটার আগে তাতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না বলেই ধরে নেওয়া যায়।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

রাজধানীর ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশন ভবনে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে দুজনের মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে ছিল প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের তথ্য ধামাচাপার চেষ্টা। এর মূল পরিকল্পনাকারী বিসিএস (প্রশাসন) কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম জাহিদুল ইসলাম। তিনি নিজের অপকর্ম আড়াল করতে হিসাব-সংক্রান্ত নথি পুড়িয়ে ফেলার জন্য পুরো ঘটনা সাজান। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে উঠে এসেছে এমন তথ্য।


পিবিআই বলছে, জাহিদুল চেয়েছিলেন, টাকা আত্মসাতের বিষয়টি যেন হিসাবরক্ষকের নজরে না আসে এবং উল্টো তাঁকেই ফাঁসানো যায়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য আশরাফুল ইসলাম, অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক ও গাড়িচালক ফারুক মীরকে এ কাজে ব্যবহার করেন। এ ঘটনায় সম্প্রতি জাহিদুল ও আশরাফুলের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পিবিআই।


বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় করা মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন এসআই খন্দকার সালেহ আবু নাঈম। পরে এটি পিবিআই ঢাকা মহানগরের বিশেষায়িত তদন্ত ও অভিযান (সংঘবদ্ধ অপরাধ-উত্তর) ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। 


সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর এসআই মোহাম্মদ গোলাম মওলা বলেন, বিয়ামের সমবায় সমিতির ৯টি ব্যাংক হিসাব রয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে সেখানে চাকরির সুবাদে জাহিদুল ইসলাম সব হিসাব নম্বরে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সমিতির কমিটি বছর বছর পরিবর্তন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আগের হিসাবের বিষয়ে তেমন খোঁজ রাখতেন না। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রায় ৯ কোটি টাকা সরিয়ে ফেলেন ওই কর্মকর্তা। তিনি ব্যাংক হিসাবের ‘সিগনেটরি অথরিটি’র স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে নেন। সেই টাকায় তিনি ঢাকায় পাঁচ কাঠার প্লট এবং অন্যত্র ২১ বিঘা জমি কেনেন। 


তিনি আরও বলেন, সমিতির হিসাবরক্ষক মমিনুর রহমান এর আগে চার লাখ টাকার গরমিল ধরে ফেলায় তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন জাহিদুল। তাই তিনি হিসাবের কারসাজির নথি পুড়িয়ে মমিনুরকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেন।


গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৩টা ২০ মিনিটের দিকে বিয়াম ফাউন্ডেশনের ৫০৪ নম্বর কক্ষে সমবায় সমিতির অফিসে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সমিতির দলিল, নামজারির কাগজ, জমি কেনার চুক্তিপত্র, ব্যাংক হিসাবের চেকবই, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাব এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র পুড়ে যায়। 


এ ঘটনায় সেখানেই পুড়ে মারা যান অফিস সহায়ক আব্দুল মালেক। দগ্ধ গাড়িচালক ফারুক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে এসি বিস্ফোরণ বলে ধারণা করেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। 


পিবিআইর তদন্ত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন একই পদে থাকায় সমিতির বিভিন্ন কার্যনির্বাহী কমিটির অভ্যন্তরীণ বিষয়, সদস্যদের আর্থিক লেনদেন এবং হিসাব-নিকাশ সম্পর্কে জাহিদুলের বিস্তারিত ধারণা ছিল। বিভিন্ন কাজে সমিতির সদস্য ও কর্মকর্তারা তাঁর কাছে টাকা দিতেন। 


এসব অর্থের একটি অংশ ব্যাংকে জমা না দিয়ে এবং কিছু ক্ষেত্রে স্বাক্ষর জাল করে টাকা তুলে তিনি আত্মসাৎ করেন। পিবিআই তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়। বর্তমানে জাহিদুল জামিনে এসে পলাতক এবং আশরাফুল জামিনে রয়েছেন।


আশরাফুলকে ১২ লাখ টাকার প্রস্তাব


তদন্তে বলা হয়েছে, জাহিদুল প্রথমে তাঁর পরিচিত আশরাফুল ইসলামকে পরিকল্পনার কথা জানান। এ কাজে সহযোগিতার বিনিময়ে তাঁকে ১২ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে আশরাফুল কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন এবং কয়েক মাস মগবাজারের একটি হোটেলে জাহিদুলের খরচে থাকেন। তিনি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আব্দুল মালেককে যুক্ত করেন। মালেককে পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে রাজি করানো হয়। 


সে সময় মালেক জানান, ফারুকের সহায়তা প্রয়োজন। পরে ফারুককে তিন লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করা হলে তিনিও রাজি হন। মালেক ও ফারুক দুজনেই রাতে অফিসে থাকতেন।


সিসিটিভি বন্ধের পরিকল্পনা


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ৫০৪ নম্বর কক্ষের সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা পুরো তলা পর্যবেক্ষণ করত। এ কারণে আগেই সিসিটিভি বন্ধ করার পরিকল্পনা করা হয়। মালেক সিসিটিভি কীভাবে বন্ধ করতে হয় তা আশরাফুলকে শেখান। আগুন দেওয়ার জন্য পেট্রোল ও লাইটার আগেই কিনে রাখা হয়। ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আশরাফুলকে কাপড়, টুপি, মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস কেনার জন্য জাহিদুল চার-পাঁচ হাজার টাকা দেন। রাত আড়াইটার দিকে ফারুক তাঁকে বিয়াম ভবনে নিয়ে যান।


সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার বরাত দিয়ে তদন্তে বলা হয়েছে, রাত ২টা ৩৪ মিনিটের দিকে লিফট বন্ধ থাকায় আশরাফুল সিঁড়ি দিয়ে চতুর্থ তলায় যান। ২টা ৩৬ মিনিটের দিকে তিনি সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করেন। 


এরপর মালেক ও ফারুকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। পরে তিনজন মিলে ৫০৪ নম্বর কক্ষে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে পেট্রোল ছিটিয়ে দেন। তখন আশরাফুলকে দরজার সামনে পাহারায় দাঁড়াতে বলা হয়। মালেক ও ফারুক লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।


আগুন, বিস্ফোরণ ও মৃত্যু


আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যে কক্ষের কাগজপত্র ও আসবাব আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কক্ষে থাকা এসিতে আগুন ধরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মালেক ও ফারুক দগ্ধ হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আশরাফুল সেখান থেকে পালিয়ে দোতলার একটি কক্ষে আশ্রয় নেন। পরে নিজের পরনের পোশাক, টুপি ও হ্যান্ডগ্লাভস সেখানে রেখে রাত ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ভবন থেকে বের হয়ে যান।


অন্যদিকে ফারুক অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় কক্ষ থেকে বের হয়ে ৫০৭ নম্বর কক্ষে যান। পরে ভবনের নিচে নেমে আসেন। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থলের উত্তর পাশের রান্নাঘরের কাছ থেকে মালেকের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। ফারুককে পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৫ মার্চ জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। 


যোগাযোগ ও টাকা লেনদেন


তদন্তে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে। 


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, জাহিদুল ঘটনার আগে মালেক ও ফারুকের নম্বরে একাধিক দফায় টাকা পাঠান। ঘটনার দিনও তাদের নম্বরে টাকা পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার পর আশরাফুলের সঙ্গে জাহিদুল নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। আশরাফুলের জবানবন্দি অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে জাহিদুল তাকে ছয়-আট লাখ টাকা দিয়েছেন। 

সর্বশেষ সব খবর

চীনা নৌবাহিনী জাহাজ

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৫৬ পিএম

পাঁচ দিনের শুভেচ্ছা সফরে চীনের নৌবাহিনী জাহাজ বাংলাদেশে আগমন করেছে।  ‘থাং শান’(TANG SHAN), ‘দা ছিং’ (DA QING), এবং ‘থাই হু’ (TAI HU) নামের জাহাজ বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। চীনা জাহাজের কর্মকর্তা ও নাবিকদের চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল-এর পক্ষ থেকে চিফ স্টাফ অফিসার স্বাগত জানান।


এ সময় নৌবাহিনীর সুসজ্জিত বাদকদল ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী ব্যান্ড পরিবেশন করে।


এছাড়াও জাহাজসমূহকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশস্থ চীন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ চীনের নাগরিক এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর স্থানীয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সফরকারী জাহাজসমূহ বাংলাদেশের জলসীমায় এসে পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বানৌজা ওমর ফারুক’ তাদের অভ্যর্থনা জানায়।




বাংলাদেশে অবস্থানকালে সফরকারী জাহাজসমূহের অধিনায়ক ও বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের মিলিটারি অ্যাটাশেসহ একটি প্রতিনিধি দল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল, কমান্ডার বিএন ফ্লিট এবং চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ-এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।


সফরকারী জাহাজসমূহের কর্মকর্তা ও নাবিকগণ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ, ঘাঁটি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থাপনাসমূহ পরিদর্শন করবে।


এছাড়াও, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যগণ চীনের নৌবাহিনী জাহাজ পরিদর্শন করবে। এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের নৌসদস্যগণ পারস্পরিক কার্যক্রম ও পেশাগত উৎকর্ষ প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ এবং মতবিনিময়ের সুযোগ লাভ করবে। 


শুভেচ্ছা সফরের মাধ্যমে দুই দেশের নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ও নাবিকদের পেশাগত বিষয়ে মতবিনিময়, ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা যায়। 


উল্লেখ্য, শুভেচ্ছা সফর শেষে জাহাজসমূহ আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখ বাংলাদেশের জলসীমা ত্যাগ করবে।

সর্বশেষ সব খবর

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ ঘুষ, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। 


তিনি বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্তের ভয় দেখিয়ে বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস মুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর হোটেল হলিডে ইনে স্ট্রেংথেনিং দ্য প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব প্রসিকিউশন এথিকস ফর দ্য অ্যাটর্নি জেনারেল’স অফিস অব বাংলাদেশ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব কথা বলেন তিনি।


জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয় এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ যৌথভাবে দুদিনের এ কর্মশালার আয়োজন করে। এই প্রথমবারের মতো অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত আইন কর্মকর্তাদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে ১৬০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অংশ নেন। প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ প্যানেলে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, থাইল্যান্ডের প্রসিকিউটর ওয়ারানথর্ন ওয়ানিচথাওয়ার্ন এবং মালদ্বীপের প্রসিকিউটর মারিয়াম সিমহা মুস্তফা রাশিদ।


প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আগে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। বিশেষ করে নোট বাণিজ্যের অভিযোগ থেকে অ্যাটর্নি অফিস এখন মুক্ত। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন আইন কর্মকর্তাদের আগমনের মাধ্যমে আমরা অনেকাংশে এসব অভিযোগ থেকে মুক্তি লাভ করেছি।


কর্মশালা সম্পর্কে তিনি বলেন, আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা উচিত। দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা, নথি গোপন কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে সর্বাবস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখার কথাও জানান তিনি।


অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা বিচারপ্রক্রিয়ায় অনৈতিক হস্তক্ষেপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কেউ অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি কয়েকজন আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের ভিত্তিতেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।


রুহুল কুদ্দুস কাজল আরও বলেন, আমি যতদিন আছি ততদিন কোনো অনৈতিক সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। আমাদের অঙ্গীকার-সততা, নিষ্ঠা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।


অনুষ্ঠানে ফেনীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার উদাহরণ দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিচারিক আদালতে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড হলেও উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের দায়িত্ব শুধু সাজা নিশ্চিত করা ছিল না, নিরপরাধ নাগরিকদের সুরক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের মক্কেল। শুধু রাষ্ট্রের পক্ষে সাজা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব নয়, নিরপরাধ নাগরিকদেরও আমরা রক্ষা করছি। 


অনুষ্ঠানে ইউএনওডিসির দক্ষিণ এশিয়া আঞ্চলিক প্রতিনিধি ক্রিস্টিয়ান হোলজ ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় প্রসিকিউটরদের স্বতন্ত্র ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিচারককে নিরপেক্ষ থাকতে হয় এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীকে তার মক্কেলের পক্ষে অবস্থান নিতে হয়। অন্যদিকে, প্রসিকিউটরকে একই সঙ্গে শক্তিশালী ও সংযত হতে হয়।


উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক বলেন, এ কর্মশালার মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় নৈতিক মান বজায় রাখবে এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার একটি পথচলা শুরু হবে।


সর্বশেষ সব খবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৪ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়া দিল্লি সফরকে কেন্দ্র করে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং সাময়িক দূরত্ব ঘুচে নতুন করে যাত্রা (রিসেট) শুরু করতে আগামী নভেম্বরের সুবিধাজনক সময়ে এই শীর্ষ সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। খবর দ্য হিন্দু’র। 


ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে গত আগস্টে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। ঢাকার পক্ষ থেকে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তবে সেই ক্ষোভ কাটিয়ে এখন উভয় দেশের কর্মকর্তারাই ভবিষ্যৎমুখী ইতিবাচক এজেন্ডায় মনোযোগ দিচ্ছেন। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে এই উদ্যোগে।


সম্প্রতি ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সম্পর্কের এই ‘রিসেট’ নিয়ে সরকারের ইতিবাচক সদিচ্ছার কথা জানিয়ে বলেন, একটি উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হলেই শীর্ষ পর্যায়ের সফরটি অনুষ্ঠিত হবে। মূলত এই কৌশলগত কারণেই বিমসটেকের দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকে বাংলাদেশ।


কূটনৈতিক এই বরফ গলার পেছনে বিএনপি প্রধানের দীর্ঘদিনের কৌশলী ভূমিকা ছিল। সূত্রে জানা যায়, লন্ডনে থাকাকালেই তারেক রহমান নয়া দিল্লির সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ রক্ষা করে এসেছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পরপরই তিনি ভারতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন সে দেশের মনোভাব বুঝতে। প্রকৃতপক্ষে ২০১৮ সালে তারেক রহমানের নির্দেশেই ভারতবিরোধী চিরাচরিত অবস্থান থেকে সরে এসে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নীতি গ্রহণ করে বিএনপি।


অন্যদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। ইতিমধ্যে জুলাই-আগস্টের গণহত্যা ও দমনপীড়নের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) শেখ হাসিনাসহ তাঁর সরকারের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।


বিগত সরকারের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ট্রাইব্যুনালে চলমান থাকলেও, ঢাকার বর্তমান প্রশাসন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা অর্জন ও অর্থনীতি চাঙ্গা করতে ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী ও সুষম কূটনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪০ পিএম

সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছালো ৯৪৮ জনে। সেই সঙ্গে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০০ জনের। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টার মধ্যে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু না হলেও সন্দেহজনক হামে দুজন মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১০ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত হাম-সংক্রান্ত রোগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৮ জনে।


এছাড়া, নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৫২ জনের। একই সঙ্গে নতুন সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ২৪৫ জন।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১০ এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭২৫ জন। অন্যদিকে, একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০ হাজার ৩৯৫ জন।


বিভাগভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, নিশ্চিত হামে সবচেয়ে বেশি ৬৩ রোগী মারা গেছে ঢাকায়। এছাড়া বরিশালে ১৯, চট্টগ্রামে ১০, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মৃত্যুবরণ করেছে।


এছাড়া সন্দেহজনক হামেও সবচেয়ে বেশি ৪২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। সিলেটে ১৬৫, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৭৭, চট্টগ্রামে ৭৪, বরিশালে ৫৯, খুলনায় ৪০ ও রংপুরে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০৪ পিএম

জার্মানি যাওয়ার পথে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি নিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে তিনি শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান।


এ সময় বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।


বিমানবন্দরে স্বল্পসময়ের বিরতি শেষে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে জার্মানির পথে রওয়ানা দেবেন শেরিং তোবগে।

সর্বশেষ সব খবর