৩৩ কেজি ওজনের মাছ দুটি
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির দুটি কোরাল মাছ। মোট ৩৩ কেজি ওজনের মাছ দুটি বিক্রি হয়েছে ৪৬ হাজার ২০০ টাকায়। ওই মাঝির বাড়ি উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে শুল্লকিয়া গ্রামে।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার চেয়ারম্যান ঘাট এলাকার সুমি ফিস এজেন্সি আড়তে মাছ দুটি নিলামে বিক্রি করা হয়। মাছ দুটি ধরেছেন উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের শুল্লকিয়া গ্রামের জেলে সমির মাঝি।
আড়তের মালিক নাজিম মোল্লা জানান, দুপুরের পর জেলেরা ট্রলারে করে মাছ দুটি চেয়ারম্যান ঘাটে নিয়ে আসেন। হাতিয়ার সূখচর ইউনিয়নের পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীতে কোরাল জাল ফেলে মাছ দুটি ধরা হয়।
তিনি আরও জানান, আড়তে আনার পর মাছ দুটি ডাকে তোলা হলে কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৪০০ টাকা দর ওঠে। পরে ওজন করে দেখা যায়, মাছ দুটির মোট ওজন ৩৩ কেজি। সে অনুযায়ী মাছ দুটির বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৪৬ হাজার ২০০ টাকা। পরে চেয়ারম্যান ঘাটের এক ব্যবসায়ী মাছ দুটি কিনে নেন।
বড় আকৃতির কোরাল মাছ দেখতে এ সময় আড়তে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকেই মাছের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে খেপুপাড়া নেছারুদ্দীন কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এসব চারা রোপন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক এবং সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আবু হাসনাত রিমন সিকদার, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সজল বিশ্বাস, সদস্য দোয়েল শিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বিশ্বাস রাশেদ মোশাররফ কল্লোল, উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সহ সভাপতি আবু বক্কর, যুব নেতা জহিরুল ইসলাম, মিজানুর রহমান বাবু, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মোঃ সোহেল সিকদার, সাবেক ছাত্র নেতা আরিফ ও রিয়াদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোঃ ওয়ালিউল্লাহ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আবদুল কাইউম ও মোঃ মাছুম বিল্লাহ রুমি, প্রভাষক মোঃ নজরুল ইসলাম ও সালমান, সহকারী শিক্ষক মোঃ আবদুল ওহাব ফরাজী, মোঃ শাহিন সিকদার ও মোঃ নূরে আলম মুরাদ, সহকারী মৌলভী মোঃ রিয়াজ রহমান, ইবঃ ক্বারী মোঃ ফোরকানুল ইসলাম এবং অফিস সহকারী মোঃ সাইদুর রহমান সিফাতসহ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক এবং সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আবু হাসনাত রিমন সিকদার বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছের চারা রোপন কর্মসূচী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপন করা হয়েছে।
কুয়াকাটায় ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লাঞ্ছিত ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে অসুস্থ ছয় বছরের ছেলেকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে যান কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের পশ্চিম খাজুরা গ্রামের মোর্শেদা বেগম। তখন তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি এবং টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন দেওয়া হবে না। এমনকি ‘ভিজিট না দিলে রোগ ভালো হবে না’ বলেও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তিনি।
মোর্শেদা বেগমের অভিযোগ, আর্থিক সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারেননি। শুক্রবার ধার-দেনা করে এক হাজার টাকা সংগ্রহ করে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ছেলেকে দেখাতে যান। পরে ওই ফার্মেসির সহযোগিতায় পরিচিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বিনামূল্যে কিছু পরীক্ষা করান। পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে সরকারি হাসপাতালে গেলে কর্তব্যরত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মো. রিয়াজ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন।
মোর্শেদা বলেন, আমাকে বলা হয়, তার পরামর্শ না নিয়ে কেন পরীক্ষা করিয়েছি। অন্য জায়গা থেকে রিপোর্ট নিয়ে কেন তার কাছে এসেছি, এ নিয়েও কথা শোনানো হয়। এরপর ৫০০ টাকা ভিজিট দাবি করা হয়। টাকা না দিলে প্রেসক্রিপশন করবেন না এবং রোগী ভালো হবে না বলেও জানানো হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ডাক্তারকে টাকা দিতে গেলেই সমস্যা হয়? ফাইজলামি করতে এখানে এসেছেন’এ ধরনের কথা বলে তাকে অপমান ও গালাগাল করা হয়েছে। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা দিনমজুর খালেক অভিযোগ করে বলেন, টাকা ছাড়া তিনি কিছুই বোঝেন না, দুর্ব্যবহার তার নিত্য দিনের সঙ্গী এছাড়াও নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে পরীক্ষা করানোর জন্য চাপ দিয়ে থাকেন তিনি।
কুয়াকাটার বাসিন্দা উখিন চান রাখাইন বলেন, আমার বোনের পা ভেঙে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি (রিয়াজ) বলেন কোনো সমস্যা হয়নি। পরে কোনোমতে পা আটকে দেন। পরবর্তীতে পায়ে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বরিশালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. রিয়াজ বলেন, আমি তার সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি। তিনি তার বাচ্চাকে নিয়ে আসার পর আমি তাকে চিকিৎসা দিয়ে দিয়েছি।
কুয়াকাটা ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কিশলয় সাহা বলেন, আমি ছুটিতে রয়েছি। বিষয়টি কর্তব্যরতদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. খালেদুর রহমান মিঞা।
তিনি বলেন, সরকারি উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের দায়িত্বে থাকাকালীন হাসপাতালে বসে কোনো ভিজিট নেওয়ার ক্ষমতা নেই। পাশাপাশি তারা সরকার নির্ধারিত অল্প কিছু ওষুধ দিতে পারেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ, গরিব ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে তথ্য যাচাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু’র উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নের বার্তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তথ্য যাচাই করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যাচাই-বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফিরোজ হোসেন, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমীন মাসুদ, ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবর রহমান মজু, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি শামিমা রশিদ, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তারু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব তোজাম্মেল হক বকুল, উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবুসহ আরও অনেকেই।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেবল আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ রক্ষা, অসহায় মানুষের সহায়তা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
গাজীপুরের টঙ্গী নতুন বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীমহল সহ এলাকাবাসী। এর প্রতিকার চেয়ে গতকাল রোববার বিকেলে টঙ্গী পূর্ব থানায় গণস্বাক্ষরের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিল করেছে অত্র এলাকার ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর নতুন বাজারের রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় জসিম শিকদারের দুই ছেলে রুবেল শিকদার (৩৫) ও সোহেল শিকদার (৪০) এর বিরুদ্ধে মাদক বিক্রি, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে অতিষ্ঠ স্থানীয় ব্যবসায়ীমহল সহ এলাকাবাসী। এদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বাধা ও প্রতিবাদ করলে ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর ওপর হামলা করার অভিযোগ উঠেছে সহোদর এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী সোহেল ও রুবেল সহ তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক বিক্রি, চুরি, ছিনতাই সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে, তাদের অপকর্মে বাঁধা দিলে অতর্কিত হামলা সহ দোকানীদের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়, এতে আতংকিত হয়ে অত্র স্থান থেকে অন্যস্থানে চলে যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা।
অপরদিকে সখিনা বেগম (৬০) নামে এক নারী স্থানীয় ওয়ার্ডের মামুন, শাহিন মিয়া, আজিজ মিয়া, রাসেল, হারুন, রেজওয়ান, পেটু ও সোহেলসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছে। তার দাবি, গত প্রায় ছয় মাস যাবৎ তার বাসার সামনে উল্লেখিত ব্যক্তিরা মাদক বিক্রি ও সেবন করে আসছে। এতে তাদের বাধা দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে রোববার সকালে তার বাসা ভাঙচুর করে। এ সময় তাকে মারধর করে তার গলায় থাকা নয় আনা ওজনের স্বর্ণের চেইনসহ গচ্ছিত নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।
কিন্তু তদন্তে আসা পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই অভিযোগের বিষয়ে অসংগতি মনে হচ্ছে। সম্প্রতি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন বাজার এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
তারা জানায়, অত্র এলাকায় মাদক ব্যবসা সহ অপরাধমূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাদের প্রত্যাশা ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নতুন বাজার এলাকায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ব্যাপারে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ মাকছুদুল আলম বলেন, দুই পক্ষের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরের টঙ্গীর কুখ্যাত মাদকের হটস্পট হিসেবে পরিচিত হাজী মাজার বস্তিতে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় টঙ্গী বাজার কলকারখানা অধিদপ্তর সংলগ্ন এলাকায় রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে এ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদ কার্যক্রমে পে-লোডার ও এক্সকাভেটরসহ বিপুলসংখ্যক শ্রমিক অংশ নেন। অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকারের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এ সময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক ডিবি পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে রাজউক টিমকে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের অন্যতম বড় মাদক বিক্রির আস্তানা হিসেবে পরিচিত ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধারাবাহিকভাবে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেও এর মাদক কারবার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। অবশেষে জায়গাটি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) নিজস্ব মালিকানাধীন হওয়ায় উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে সব অবৈধ স্থাপনা ও মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন জানান, মাদকের অভিশাপ থেকে টঙ্গী এলাকা কে মুক্ত করতে এবং সরকারি জমি পুনরুদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। রাজউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুক্ত করা জমিতে পুনরায় যেন কোনো অবৈধ দখল বা মাদকের স্পট গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে কড়া নজরদারি বজায় রাখা হবে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উপপরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-৩) মো. লিটন সরকার বলেন, রাজউকের এই প্লটটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। আজ প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আমরা আমাদের জমি বুঝে নিয়েছি।
রুহিয়া রেলস্টেশন
১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ের শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী রুহিয়া রেলস্টেশনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিম জোনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। এখান থেকে রুহিয়া, আটোয়ারী ও বালিয়াডাঙ্গী এই তিন উপজেলার হাজারো মানুষ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করেন।
দিনাজপুর-পঞ্চগড় ডুয়েলগেজ রুটে চলাচলকারী একতা, দ্রুতযান, দোলনচাঁপা ও বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের স্টপেজ থাকায় প্রতিদিন প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী এই স্টেশনে ওঠানামা করেন। তবে স্টেশনে যাত্রী ছাউনি না থাকায় তীব্র রোদ ও বৃষ্টিতে ভিজে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যাত্রী ছাউনি এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পৃথক বিশ্রামাগার না থাকায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। প্ল্যাটফর্মের বসার আসনগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ভাঙা। ক্রসিংয়ের সময় অধিকাংশ ট্রেন ২ নম্বর লাইনে দাঁড়ালেও সেখানে প্ল্যাটফর্ম ও ওভারব্রিজ নেই। ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ যাত্রীরা ওঠানামায় মারাত্মক কষ্টে পড়েন।
ঢাকাগামী একতা ও দ্রুতযান এক্সপ্রেসে মাত্র ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় খুব কম। এসিসহ কমপক্ষে ২০০টি আসন বরাদ্দ এবং বিরতিহীন 'পঞ্চগড় এক্সপ্রেস'-এর স্টপেজের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা খায়রুল বাশার, আবুল হোসেন ও শফিকুল ইসলাম সহ আরো অনেকে।
রুহিয়া রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার (গ্রেড-৪) মো. নাজমুল হোসেন জানান, সেবা বাড়াতে দ্রুত যাত্রী ছাউনি ও প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারণ জরুরি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের (দিনাজপুর) বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. রাকিব হাসান জানান, রুহিয়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম এক্সটেনশন ও যাত্রী ছাউনি নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে।
কর্তৃপক্ষের এই আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত হলে রুহিয়া স্টেশনটি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক ও ভরসাস্থল হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা যাত্রীদের।