নেপালে বন্যায় মৃত্যু ৯০৩
নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে; এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ২৪৭ জন। নেপাল সরকারের সর্বশেষ তথ্যের বরাতে সোমবার এ খবর জানিয়েছে কাঠমান্ডু পোস্ট।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) সকাল ৯টায় প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলা থেকে এখন পর্যন্ত ৯০৩টি মরদেহ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।
চিতওয়ান জেলায় সবচেয়ে বেশি ২৭২ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এরপর পূর্ব নবলপুরে ২০৭টি এবং পশ্চিম নবলপুরে ১৫১টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়া নুয়াকোটে ৯৫, গোর্খায় ৬২, ধাদিংয়ে ৫৫, তানাহুনে ৩৭ এবং রাসুয়ায় ২৪টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
গত বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে হিমালয় অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটির ধস নদীতে পড়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। বন্যার পানি ও ধ্বংসাবশেষ দ্রুতগতিতে নদী উপত্যকা দিয়ে নেমে এসে বসতি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ভাসিয়ে নেয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পানির তীব্র স্রোতে মানুষ ভেসে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা থেকে কয়েকশ কিলোমিটার দূরেও মরদেহ পাওয়া যাচ্ছে।
নিখোঁজের সংখ্যাও বেড়েছে। নুওয়াকোটে ১ হাজার ৫৫৮ জন এবং রাসুয়ায় ৮৬৫ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ছাড়া একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৯৩৩ জন, ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিক এবং বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে থাকা ১২৭ জন নেপালি এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে ৮৩ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তাদের মধ্যে নেপালি সেনাবাহিনীর ৪৫, নেপাল পুলিশের ২৫ এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্য রয়েছেন।
সরকার জানিয়েছে, বন্যায় ২৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫৬ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছয়টি বিশেষায়িত সার্জারি চিকিৎসক দল কাজ করছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করতে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে ২০ হাজার ৮১৯ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৪৫১ জনকে উদ্ধার করেছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
তবে বন্যায় নিহতদের মরদেহ সংরক্ষণ ও পরিচয় শনাক্ত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে। বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে শনাক্ত না হওয়া মরদেহ রাখা হয়েছে।
নিখোঁজ ও শনাক্ত না হওয়া মরদেহের তথ্য নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজ এবং নেপাল পুলিশের দুর্যোগবিষয়ক পোর্টালে প্রকাশ করা হচ্ছে।
চার দশকেরও বেশি সময় আগে সাদ্দাম হোসেনের ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছিল ইরান। দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি চেয়েছিলেন, ইরাকের শাসক গোষ্ঠীর অবসান ঘটাতে। সাদ্দাম হোসেন তখন ওয়াশিংটনের ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছিলেন। ইরাকের ওই সংঘাত আধুনিক সময়ের ইরানের জন্য বেশ গুরুত্ব বহন করে। ওই সংঘাতে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তাদের মতাদর্শই এখন তেহরানের ক্ষমতার মসনদে আধিপত্য বিস্তারি অবস্থানে রয়েছে।
ইরাক সংঘাতের সময় ইরানের অবস্থান ছিল অনেকটা এ রকম- কে কত ক্ষমতাশীল তা এখানে বিষয় না, যে যত দীর্ঘ সময় টিকে থাকতে পারবে, সে বিজয়ী হবে। ওই যুদ্ধের পর অনেকটা সময় পার হয়ে গেছে।
গত ছয় মাস ধরে চলছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। তবে এখনও তেহরানের অবস্থান আগের মতোই আছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে সিএনএন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়টি নিয়ে ইরানের ভেতরে তৈরি হয়েছে বিভক্তি। এক পক্ষ চায় বর্তমান অবস্থান থেকে বিজয় ঘোষণা করে সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে ফেলতে। অন্য পক্ষ চায় বিষয়টিকে আরও টেনে নিয়ে যেতে। বিজয় ঘোষণা করে সব অবসানের পক্ষে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। অন্য পক্ষে রয়েছে কট্টরপন্থিরা। মধ্যপন্থিরা প্রকাশ্যেই সতর্ক করেছেন- সংঘাত নিরসনের সময় ফুরিয়ে আসছে।
চলতি মাসে পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘যুদ্ধ একটা সময়ে শেষ হতে হবে। এটি আজ শেষ হওয়াই ভালো, যখন আমরা দৃঢ়তা ও সম্মানের অবস্থানে রয়েছি এবং পুরো বিশ্ব আমাদের বিজয় স্বীকার করে নিচ্ছে।’
তবে কট্টরপন্থিদের বিশ্বাস, ওয়াশিংটন ইরানকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েই এসেছে। তারা আপসে রাজি নন। উল্টো নিজেদের কর্মকর্তাদের ‘পশ্চিমঘেঁষা’ বলে সমালোচনা করে জনমত নিজেদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা।
লন্ডনের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক চাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির পরিচালক সানাম ভাকিল এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অত্যন্ত অনির্ভরযোগ্য একটি সত্তা হিসেবে দেখে।’ তিনি আরও বলেন, ‘তাদের মনোভাব হলো, যুদ্ধে না হারার অর্থ তারা জিতেছে।’
কট্টরপন্থিরা পেজেশকিয়ানকে দুর্বল প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখে। তাদের মতে, আগের প্রেসিডেন্ট বিমান দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার কারণে দৈবক্রমে পেজেশকিয়ান ওই পদে আসীন হয়েছেন। গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে স্বাক্ষর হওয়া সমঝোতা স্মারক নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।
কট্টরপন্থিরা অভিযোগ তুলেছেন, কর্মকর্তারা ইচ্ছা করে অর্থনৈতিক সংকটকে ভুল পথে পরিচালিত করে জনসাধারণকে চুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করছেন। অনেকে আবার অভিযোগ তুলেছেন, সরকার জ্বালানি সংকট তৈরি করে সমঝোতাকে আবশ্যক করে তুলছে।
এদিকে ট্রাম্পও মধ্যপন্থিদের বেকায়দায় ফেলছেন বারবার। এই মুহূর্তে তিনি বলছেন, ইরানকে তিনি মহান করবেন। আবার পরক্ষণেই বলছেন, ইরানকে বোমা ফেলে ধ্বংস করে দেবেন। সব মিলিয়ে ইরানের ভেতরেই এক ধরনের অস্থিরতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন তিনি। অন্যদিকে, এসবের মধ্যে নীরব রয়েছেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিও। দেখে মনে হচ্ছে, অনির্ভরযোগ্য ট্রাম্পের ওপর ভিত্তি করে তিনি কোনো পক্ষই বেছে নিতে চাইছেন না।
তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মুসলিম বিশ্বকে, বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ‘আসল শত্রুর’ বিরুদ্ধে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মুসলিমদের মধ্যে বিভক্তি শত্রুদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এক লিখিত বার্তায় মোজতবা খামেনি এই মন্তব্য করেন। তাঁর বার্তাটি ইসলামিক ইউনিটি উইক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত হয়েছে। নিজ বার্তায় তিনি বলেন, যারাই মুসলিমদের মধ্যে ‘জেনে বা না জেনে’ বিভক্তি তৈরি করছে, তারাই ইসলামের শত্রুদের সহায়তা করছে। খামেনি প্রশ্ন রাখেন, ফিলিস্তিনিরা ‘এত অসহায়’ অবস্থায় থাকত কিনা, যদি মুসলিমদের মধ্যে ঐক্য থাকত।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আহত হওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকাশ্যে আসেননি মোজতবা খামেনি। তাঁর বাবা ও পরিবারের ওপর হওয়া ওই হামলা দিয়েই সূচনা হয় ইরান যুদ্ধের। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, গত শুক্রবার একই ধরনের বিবৃতি তিনি ইরানিদের উদ্দেশ করেও দিয়েছেন।
অচলাবস্থার মধ্যে ইরানে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাবেক সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জো কেন্ট। টাকার কার্লসনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন সংকট থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে, তখন বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটবে না ভাবলে বোকামি হবে। কেন্টের মতে, পুরো বিষয়টিই বাস্তবসম্মত।
এর আগে কেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের সাবেক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া স্পেশাল ফোর্সেস ও সিআইএতেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত এপ্রিলে ট্রাম্প ইরানে পারমাণবিক আঘাত হানার আভাস দিয়েছিলেন।
তিনি সেই সময় হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ওয়াশিংটনের দাবি না মানলে ইরানের ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে’। কেন্ট মনে করছেন, ওয়াশিংটন যদি আগের মতো এখনও ইরানে শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটাতে ও দেশটির নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চায়, তাহলে শুধু দুটি পথ খোলা রয়েছে ট্রাম্পের হাতে। এর প্রথমটি হলো, স্থল অভিযান, আর দ্বিতীয়টি পারমাণবিক হামলা।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
আজ সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে দিনে মাত্র পাঁচটিতে নেমে এসেছে।
হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় জাহাজ কোম্পানিগুলো অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রণালিটি দিয়ে পার হওয়া জাহাজের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ হামলার শিকার হওয়া এড়াতে কিছু জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (এআইএস) বন্ধ করে রাখে।
পণ্য বাণিজ্য বিষয়ক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এ সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলো ছিল ছোট আকারের। এগুলোর মধ্যে দুটি ছিল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবহনকারী জাহাজ।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, এর একটি ইরানের দিকের পথ দিয়ে প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে, আর অন্যটি রাতের আঁধারে প্রণালি পার হয়ে ভারত অভিমুখে চলে গেছে।
এর আগে শুক্রবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মোট ১৪টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে একটি ছিল ২০ লাখ ব্যারেল কাতারি অপরিশোধিত তেলবোঝাই বিশাল আকারের ট্যাংকার, যেটি জাহাজটির অবস্থান শনাক্তকারী সংকেত যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই প্রণালি থেকে বেরিয়ে গেছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) গতকাল রোববার জানায়, গত শনিবার হরমুজ প্রণালির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি গত এক সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে ওই সংস্থার জানানো তৃতীয় হামলার ঘটনা।
গতকাল রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি ছিল ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রথম হামলা। হামলায় সেনা ও বেসামরিক লোকজন হতাহত হয়েছে জানিয়ে সেদিনই এর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
গতকাল রোববার দিবাগত রাতে জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইরান। জর্ডানের সামরিক বাহিনী আজ সোমবার জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ সোমবার ভোরে জর্ডানের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দিয়ে প্রতিহত করা হয়েছে।’
ভারতের মধ্যপ্রদেশের রেওয়া জেলার একটি সরকারি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর এক নারী ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর আগে ওই নারীর কান্না ও অসহায় অবস্থার একটি ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনযায়ী ২৫ বছর বয়সী ওই নারীর নাম কল্পনা মিশ্র। প্রথম সন্তান জন্ম দিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে তাকে রেওয়ার সঞ্জয় গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। এর কিছুক্ষণ পরই কল্পনা ও তার নবজাতক শিশুর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে ধারণ করা ভিডিওতে কল্পনাকে হাসপাতালের নারী ওয়ার্ডে কাঁদতে ও চিৎকার করতে দেখা যায়। তিনি স্বজনদের কাছে যেতে চাইছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কয়েকজন নার্স তাকে আটকে রাখার চেষ্টা করছিলেন।
ভিডিওতে কল্পনাকে বলতে শোনা যায়, ‘এভাবে চিকিৎসা চলতে থাকলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি বাঁচব না। দয়া করে আমাকে বাঁচান, আমার জীবন ঝুঁকিতে।’
পরিবারের অভিযোগ, কল্পনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসকরা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি। তার বাবা রামশরণ মিশ্রের দাবি, তিনি বারবার চিকিৎসকদের কাছে মেয়েকে দেখার ও তার অবস্থা পর্যবেক্ষণের অনুরোধ করেছিলেন; কিন্তু সেই অনুরোধ যথাযথভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কল্পনার আর জ্ঞান ফেরেনি। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়েও তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছেন কল্পনার বাবা। তিনি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
ঘটনার পর কল্পনার স্বজনরা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। তারা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। প্রায় চার ঘণ্টা হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছিল। পরে হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল ও হাসপাতাল সুপার রাহুল মিশ্র ঘটনাস্থলে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর মরদেহের ময়নাতদন্তে সম্মতি দেয় পরিবার।
এরপর দায়িত্বে থাকা দুই নার্স সাধনা ভার্মা ও সীমা মুজালদেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। পুরো ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আরও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের ডিন সুনীল আগরওয়াল বলেন, মা ও শিশুর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। পরিবারের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হবে। অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর কেন কল্পনার জ্ঞান ফেরেনি, সেটিও তদন্তের অংশ।
তবে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসপাতালের সুপার রাহুল মিশ্র। তিনি বলেন, কল্পনাকে চিকিৎসার নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে কোনো অবহেলা হয়নি। তবে পরিবারের অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পেছনে মধ্যপ্রদেশের সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার জনবল সংকটের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ২০২৫-২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে অনুমোদিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রায় ৭২ শতাংশ পদই খালি।
রাজ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ৫ হাজার ৪৪৩টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১ হাজার ৪৯৫ জন। খালি রয়েছে ৩ হাজার ৯৪৮টি পদ। চিকিৎসক সংকট শুধু বিশেষজ্ঞ পর্যায়েই নয়। মেডিকেল অফিসারের ৬ হাজার ৫১৩টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ২ হাজার ৬৮৯টি পদও খালি।
শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্যে ‘নতুন বিতর্ক এড়াতে’ একটি সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ বন্ধ করে দিয়েছে দিল্লির পুলিশ, যেখানে আলোচক হিসেবে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। নয়া দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় (এফসিসি) শনিবার সন্ধ্যায় এই সেমিনার ও সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল।
এফসিসি সাউথ এশিয়া ও বেলজিয়ামভিত্তিক হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন যৌথভাবে 'ইউরোপ অ্যান্ড এশিয়া: ফ্রম ডায়লগ টু আ পার্টনারশিপ অ্যান্ড প্রসপারিটি' শীর্ষক এ আয়োজন করছিল। তবে 'কিছু বিতর্কের' কারণ দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ শেষ মুহূর্তে সেমিনারটি আয়োজনের অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়্যার ও দ্য প্রিন্ট।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজকদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, দিল্লি পুলিশের ‘হস্তক্ষেপের’ কারণে অনুষ্ঠানটি বাতিল করতে হয়েছে এবং এই আকস্মিক পরিস্থিতি আয়োজকদের ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’।
এফসিসির এক কর্মকর্তা দ্য প্রিন্টকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তিলক মার্গ থানায় গিয়ে তারা নিরাপত্তা চেয়ে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু থানার পক্ষ থেকে সিল ও স্বাক্ষরসহ চিঠিতে হাতে লিখে জানানো হয়, “প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী কিছু বিতর্ক থাকায় এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসিপি) শচীন শর্মা পুলিশি হস্তক্ষেপে অনুষ্ঠান বাতিলের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
তিনি দ্য প্রিন্ট-কে বলেছেন, এফসিসির কোনো প্যানেল আয়োজনে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং পুলিশ তাদের অনুষ্ঠানে কোনো হস্তক্ষেপ ‘করেনি’।
তবে নিরাপত্তা চেয়ে লেখা এফসিসির ওই চিঠির ছবি ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশের মন্তব্য ও অনুষ্ঠান করার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেই লেখা রয়েছে। তিলক মার্গ থানার সিল ছিল এবং থানার ওসির স্বাক্ষরও দেখা গেছে সেখানে।
আলোচকদের তালিকায় ছিলেন যারা
সেমিনার সামনে রেখে আয়োজকরা সেশাল মিডিয়ায় যে পোস্টার প্রকাশ করেছিলেন, সেখানে আলোচক হিসেবে দশজনের নাম ছিল। ওই তালিকায় ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এবং সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম মাহমুদ।
এছাড়া ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ও বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি নূরুন নবী, রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী রবি আলম এবং নেপালের শিশু অধিকারকর্মী সুন্দর ঘিমিরে।
বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাই কমিশনার বীণা সিক্রি, সাবেক জার্মান রাষ্ট্রদূত পিটার ফারেনহোল্টজ, চেক প্রজাতন্ত্রের রাজনীতিক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ওন্দ্রেজ দোস্তাল, ইউনাইটেড ডিপ্লোম্যাটিক কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আসিফ ইকবাল, এফসিসি-আইএপিসির চেয়ারম্যান ভেঙ্কট নারায়ণ এবং হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল এ এফ এম গোলাম জিলানী নামও আলোচকদের তালিকায় দেখা যায়।
তবে ভিসা না পাওয়ায় জিলানী ভারতে যেতে পারেননি। তিনি দ্য ওয়্যারকে বলেন, তার ভিসার প্রক্রিয়া চলছিল এবং কেন অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
পুলিশ অনুষ্ঠানের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে বাংলাদেশের কোনো বিষয় নেই দাবি করে জিলানী বলেন, “এটি বাংলাদেশ বা ভারতের বিষয় নয়। এটি ইউরোপ-এশিয়ার সম্পর্ক নিয়ে।”
হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি তা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন সংগঠনটি কোনো রাজনৈতিক দল বা দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়; মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা নিয়ে তারা কাজ করেন।
তবে দ্য ওয়্যার লিখেছে, সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরামের ২০১৯ সালের একটি প্রতিবেদন এবং ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, হ্যান্ড ইন হ্যান্ড ফাউন্ডেশন ইউরোপে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করে আসছে।
কেন বন্ধ হল অনুষ্ঠান?
এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। পুলিশের নথিতে শুধু ‘কিছু বিতর্কের কারণে’ অনুষ্ঠানটির অনুমতি না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এফসিসির প্রেসিডেন্ট ওয়ায়েল আওয়াদ দ্য প্রিন্টকে বলেন, অনুষ্ঠানটি ছিল অংশীদারত্ব ও উন্নয়ন নিয়ে একটি ‘বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনা’। কেন পুলিশ অনুমতি দেয়নি, তা তিনি জানেন না।
তবে এফসিসি-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, গত ৫ অগাস্ট এই ক্লাবেই ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। আর তারপর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল বাংলাদেশ।
ওই সূত্রের ভাষ্য, আওয়ামী লীগের একজন পরিচিত নেতাকে বক্তা হিসেবে রাখা এবং রোহিঙ্গা অধিকার কাজ করা আরেক বক্তার উপস্থিতির কারণে অনুষ্ঠানটি নিয়ে দিল্লির আপত্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
নতুন বিতর্ক এড়াল পুলিশ?
২৯ অগাস্টের এই ঘটনা ঘটেছে ৫ অগাস্ট দিল্লির এফসিসিতে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের ২৪ দিন পর। ২০২৪ সালের অগাস্টে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর সেটিই ছিল দিল্লিতে প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার বক্তৃতা দেওয়ার ঘটনা।
জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এফসিসি আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে অডিও কলে যুক্ত হয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন তিনি। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলও অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।
তার অনুপস্থিতিতেই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তার দল আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের ওপর জারি রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।
এফসিসির ওই অনুষ্ঠানের আগে ঢাকার পক্ষ থেকে দিল্লির সহযোগিতা চেয়ে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনা যেন ভারতের মাটি ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য বা এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করতে পারেন, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।
ভারত তখন বলেছিল, ওই অনুষ্ঠানের সঙ্গে তাদের সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং সেখানে যেসব বক্তব্য দেওয়া হতে পারে, তার সঙ্গে ভারত সরকার একমত নয়।
কিন্তু তারপরও ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বক্তৃতা দিলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় ঢাকা। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে এমন একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টার জন্য ক্ষতিকর।
একই সঙ্গে ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বাংলাদেশের অনুরোধের কোনো জবাব না পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
শেখ হাসিনার ওই অনুষ্ঠানের প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনাতেও পড়ে।
ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে তারেকের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে ৫ অগাস্টের অনুষ্ঠানের পর বাংলাদেশ স্পষ্ট করে যে, এই সফরের জন্য আগে একটি ‘অনুকূল পরিবেশ’ তৈরি হওয়া প্রয়োজন।
১৬ অগাস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ চায়, ওই পরিবেশ তৈরির জন্য ভারত শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক আসামিদের প্রত্যর্পণের অনুরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করুক। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী হত্যা মামলার আসামিদেরও ফেরত দেওয়ার দাবি জানায় ঢাকা।
এর আগে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ তারা ‘প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার আওতায়’ পর্যালোচনা করছে।
সম্প্রতি কয়েকটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের দাবি দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফলে ২৯ অগাস্ট দিল্লিতে এফসিসির অনুষ্ঠানটি সরাসরি বাংলাদেশকেন্দ্রিক না হলেও, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট বক্তাদের উপস্থিতি এবং শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনের পর দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপড়েনের কারণে ঘটনাটি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের উগ্র কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ আগস্ট) ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভাগবত সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেন হাজারো মানুষ।
মানবাধিকার, মুসলিম, শিখ, খ্রিষ্টান ও দলিত অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, আরএসএস দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও সহিংসতায় লিপ্ত রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড বলছে, আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবত শনিবার নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘ইউনিভার্সাল ওয়াননেস সেলিব্রেশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ (এএইচইডি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
উগ্র কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত আরএসএসকে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক ভিত্তি হিসেবে মনে করা হয়। সংগঠনটির প্রধান ভাগবতের এই বক্তব্য ছিল আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরএসএসের সফরের শেষ কর্মসূচি। ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এই সফরের বিভিন্ন পর্যায়েই তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম বলছে, আরএসএসের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে বিদেশে বসবাসরত হিন্দু সংগঠনগুলোর আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যে তিন দেশের সফরে বের হয়েছেন ভাগবত। গত মঙ্গলবার সফরের প্রথম ধাপে নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।
আরএসএসের সহযোগী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলকে সিআইএ ইতোমধ্যেই ‘উগ্রপন্থি ধর্মীয় সংগঠন’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরের আগেই বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম (ইউএসসিআইআরএফ) ওয়াশিংটনকে আরএসএসের সদস্যদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভাগবতের ভিসা বাতিলেরও আহ্বান জানানো হয়।
ইউএসসিআইআরএফ বলেছে, কয়েক দশক ধরে আরএসএস চরম অসহিষ্ণুতা দেখিয়ে আসছে এবং বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে টার্গেট করে নানা কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।
এদিকে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর-এনওয়াই) মতো আরও কয়েক ডজন অধিকার ও সামাজিক সংগঠনও ভাগবতের নিউইয়র্ক সফরের নিন্দা জানিয়েছে। নিউইয়র্ক সিটি কম্পট্রোলার পদে ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ব্র্যাড ল্যান্ডারও ভাগবতের সফরের সমালোচনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মুসলিম, শিখ, দলিত ও খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়েছে-এমন একটি সংগঠনের নেতার ‘ঘৃণা ছড়ানোর’ বিষয়টি শহর কর্তৃপক্ষ ‘সহ্য করবে না’। ভাগবতের বক্তব্যের কয়েক দিন আগে থেকেই অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে এবং নিউইয়র্ক সিটি হলের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যা ও ভূমিধসের পাঁচ মাস আগেই পূর্বাভাস মিলেছিল যে কী ঘটতে যাচ্ছে সামনে। পরিণতির বিষয়ে সতর্ক করে মার্চে প্রকাশ করা হয়েছিল দু’টি প্রতিবেদন। আঞ্চলিক একটি আন্তঃদেশীয় জ্ঞান ও গবেষণা কেন্দ্রের সেই প্রতিবেদনে হিন্দুকুশ হিমালয়ে দ্রুতগতিতে হিমবাহ গলে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা বলা হয়েছিল।
হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের মানুষের পক্ষে কাজ করা কাঠমাণ্ডু-ভিত্তিক ‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) প্রতিবেদন দু’টিতে বলা হয়, অঞ্চলটিতে হিমবাহ দ্রুত থেকে আরও দ্রুত গতিতে গলছে এবং সহস্রাব্দ শুরুর পর থেকে বরফ হারানোর হার দ্বিগুণ হয়েছে।
১৯৭৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত হিমবাহের বরফের পুরুত্ব ২৭ মিটার পর্যন্ত কমেছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে। নেপাল ছাড়াও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, ভুটান, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার আইসিআইএমওডি- এর সদস্যদেশ।
‘এশিয়ার ওয়াটার টাওয়ার’ নামে পরিচিত এই অঞ্চলের গলিত পানির ওপর নির্ভরশীল ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জন্য ভবিষ্যতে বিপজ্জনক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল প্রতিবেদন দু’টিতে।
ওই পূর্বাভাসের পাঁচ মাসের মাথায় দুই দিন আগেই নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬২৬ জনের। এই ভয়াবহ দুর্যোগের সঠিক কারণ এখনও খুঁজে দেখছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। তাদের অনেকেই মনে করছেন, একাধিক কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হল, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উচ্চতায় তুষারপাতের পরিবর্তে বৃষ্টিপাত হওয়া।
ভারতের দেহরাদুন ভিত্তিক ‘ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজি’-এর এক বিজ্ঞানী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ৪ হাজার মিটার বা তার চেয়ে বেশি উুঁচুতে যেখানে তুষারপাত হওয়ার কথা, সেখানে বৃষ্টি হওয়ার কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়াই হয়ত উঁচু পার্বত্য এলাকায় তুষারপাতের বদলে বৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ।
চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত আইসিআইএমওডি- এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহ মোট আয়তনের প্রায় ১২ শতাংশ এবং আনুমানিক জমে থাকা বরফের ৯ শতাংশ হারিয়েছে।
পর্যবেক্ষণাধীন ৩৮টি হিমবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে আইসিআইএমওডি’র তৈরি করা ‘এইচকেএইচ গ্লেসিয়ার আউটলুক ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এটি হিমালয়ের বরফাবৃত অংশ গলে এমন এক পর্যায়ে চলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যেখান থেকে তা আর আগের অবস্থায় ফিরবে না।
আইসিআইএমওডি-এর গবেষকরা বর্তমানে খতিয়ে দেখছেন যে, অতিরিক্ত উচ্চতা থেকে বরফ ও পাথরের ধস বন্যার সূত্রপাত করেছিল কি না। বিপুল বরফ ও পাথরের ধ্বংসস্তূপ লেহন্দে খোলা (ভোটে কোশি নদীর উপনদী) নদীতে পড়ে পানি, পলি ও বিশাল পাথরখণ্ড গড়িয়ে এনে নিম্নাঞ্চলে হড়পা বান সৃষ্টি করতে পারে।
আইসিআইএমওডি-এর জ্যেষ্ঠ ক্রায়োস্ফিয়ার বিশেষজ্ঞ ও ভারতের আইআইটি ইন্দোরের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ফারুক আজম সংবাদমাধ্যমকে জানান, তুষারাবৃত এলাকা কমে যাওয়া এবং হিমবাহ সংকুচিত হওয়ার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের যোগ রয়েছে। তুষারের আবরণ কমে নগ্ন হয়ে পড়া পাথুরে এলাকাগুলো বেশি তাপ শোষণ করায় পাহাড়ের ঢাল আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।
‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের’ (আইসিআইএমওডি) তথ্যানুযায়ী, মেরু অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বরফের ভাণ্ডার হল এই হিন্দুকুশ হিমালয়। সেখানে ৬৩ হাজার ৭০০টিরও বেশি হিমবাহ রয়েছে; যা ৫৫ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
হিমবাহগুলো এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎস; যা শত শত কোটি মানুষের খাবার, পানি, জ্বালানি ও জীবিকার জন্য সহায়ক।
মার্চের আইসিআইএমওডি প্রতিবেদন বলা হয়, ৪,৫০০ থেকে ৬,০০০ মিটার উঁচুতে থাকা হিমবাহের অন্তত ৭৮% অংশ উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়া অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে আছে।