ছবি : সংগৃহীত
দেশের ছয় জেলায় দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের উপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
তাই এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ সময়ে আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘলা থাকতে পারে। কোথাও কোথাও বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
রুহুল কবির রিজভী
চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আগামী মাসে স্বাভাবিক হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বিএনপি সরকার দায়ী নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুই-একটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোমা পড়েছে। তারপরও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের ওপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে। এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে।
তিনি বলেন, তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য এখন অনলাইনে টাকার বিনিময়ে প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য, মোবাইলের অবস্থান, কল রেকর্ড, জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, কর শনাক্তকরণ নম্বর থেকে শুরু করে মোবাইল আর্থিক সেবার হিসাব—সবই পাওয়া যাচ্ছে নির্দিষ্ট দামে। কারও এনআইডি পেতে লাগছে মাত্র ১৭ মিনিট, মোবাইলের অবস্থান পেতে ১৬ মিনিট এবং তিন মাসের কল রেকর্ড পেতে কয়েক ঘণ্টা।
তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানী প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে এই চিত্র উঠে এসেছে। ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত একটি শব্দ ব্যবহার করে ফেসবুকে ৬৭৫টি পোস্ট খুঁজে পায় তারা। এর মধ্যে ৬০৫টি পোস্টে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন ছিল। এসব পোস্টের সূত্র ধরে ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া যায়, যেখানে বিভিন্ন তথ্যের নির্দিষ্ট মূল্যতালিকাও রয়েছে।
অনুসন্ধানে তিন বিক্রেতার কাছ থেকে টাকা দিয়ে এনআইডি, অবস্থান ও কল রেকর্ড কেনে ডিসমিসল্যাব। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বিক্রি করা তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি একজনের এনআইডিতে দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামও হালনাগাদ অবস্থায় পাওয়া গেছে।
১৭ মিনিটে এনআইডি, ১৬ মিনিটে অবস্থান
একজন ব্যক্তির সম্মতি নিয়ে তার মোবাইল নম্বর ও ৫০০ টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর মাত্র ১৭ মিনিটে এনআইডির কপি পায় ডিসমিসল্যাব। অন্য একটি পরীক্ষায় ১৫০ টাকা দিয়ে ভোটার নম্বর ও জন্মতারিখ দেওয়ার পর পাওয়া যায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’। আর একটি নম্বরের তিন মাসের কল রেকর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইল পাওয়া যায়। সর্বশেষ ২০টি নম্বর, কলের সময় ও কলের ধরন প্রকৃত কল তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে সবই মিলে যায়। আরেক বিক্রেতার ওয়েবসাইটে ১ হাজার ৫০০ টাকায় মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, সংশ্লিষ্ট টাওয়ার, ঠিকানা ও মানচিত্রের অবস্থান দেওয়ার কথা ছিল। টাকা দেওয়ার ১৬ মিনিটের মধ্যে সেই তথ্যও সরবরাহ করা হয়।
তালিকায় আরও যা যা রয়েছে
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া ওয়েবসাইটগুলোর মূল্যতালিকায় ৫০ থেকে ২০০ টাকায় এনআইডির ‘সার্ভার কপি’, ২৫০ টাকায় মোবাইল নম্বর থেকে এনআইডি, ৯০০ টাকায় তিন মাসের কল তালিকা, ১ হাজার ৮০০ টাকায় ছয় মাসের কল তালিকা এবং ১ হাজার ৫০০ টাকায় ‘লাইভ লোকেশন’ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৭ হাজার টাকায় নগদের হিসাব এবং ৭ হাজার ৫০০ টাকায় বিকাশ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার তালিকাও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্টের প্রথম পৃষ্ঠা, টিআইএন, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ, এসএমএসের তালিকা ও মোবাইল ফোনের পরিচিতি নম্বরের তথ্যও বিক্রির তালিকায় রয়েছে। এই বাজারের কার্যক্রমও বেশ সংগঠিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতা সংগ্রহ করা হয়। পরে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিক্রেতা ওয়েবসাইটে টাকা জমা দিয়ে তথ্যের অর্ডার করেন। বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়ের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও ফেসবুকে বেশি দামে তথ্য বিক্রি করা হয়।
এক মাসে ১১২ নম্বর, ৩৬ গ্রুপ
এক মাসের অনুসন্ধানেই অন্তত ১১২টি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য বিক্রির প্রচারণা পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বর ৭৫টি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে। ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গ্রুপে বারবার ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে একটি ওয়েবসাইটের মালিকের পরিচয়ও পাওয়া যায়। তিনি মুঠোফোন মেরামতের কাজ করেন। তার দাবি, তিনি অন্য একটি গোষ্ঠীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তবে সরকারি সার্ভারে ঢোকার পদ্ধতি বা এ দাবির কারিগরি সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো ব্যক্তির হালনাগাদ তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভেতরের কারও সম্পৃক্ততা অথবা তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তার কোনো দুর্বলতা কাজে লাগানোর আশঙ্কা থাকে।
তিন বছরেও বন্ধ হয়নি
ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির ঘটনা নতুন নয়। গত তিন-চার বছর ধরে ফেসবুক, টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিভিন্ন গ্রুপে এনআইডি ও ফোনের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৪ সালে সরকারি পর্যায়ের অনুসন্ধানেও নাগরিকের এনআইডি ও কল রেকর্ড ২১টি হোয়াটসঅ্যাপ, ৪৮টি টেলিগ্রাম এবং ৭২০টি ফেসবুক গ্রুপ ও পেজে বিক্রির তথ্য পাওয়া যায়। মোট ৭৮৯টি গ্রুপ ও পেজে এ ধরনের তথ্য কেনাবেচার সন্ধান মিলেছিল। কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যবহৃত লগইন তথ্যের অপব্যবহারের বিষয়ও সামনে আসে। এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং ২০২৬ সালে এসে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে শত শত বিজ্ঞাপন ও সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান মিলেছে।
বারবার ফাঁস হচ্ছে তথ্য
ব্যক্তিগত তথ্যের ঝুঁকি শুধু অনলাইনে তথ্য বিক্রির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গত কয়েক বছরে সরকারি ডেটাবেজ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সাইবার নিরাপত্তা নিয়েও একের পর এক ঘটনা সামনে এসেছে। ২০২৩ সালে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের একটি সরকারি ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা দুর্বলতার কারণে প্রায় ৫ কোটি নাগরিকের নাম, জন্মতারিখ, এনআইডি, ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য অনলাইনে উন্মুক্ত হয়ে যায়। ঘটনাটি সরাসরি হ্যাকিং নয়; কারিগরি দুর্বলতার সুযোগে তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়েছিল।
২০২৪ সালেও সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে একাধিক হামলা ও তথ্য নিরাপত্তার ঘটনা ঘটে। নভেম্বরে তিতাস গ্যাসের ফায়ারওয়ালের ‘রুট অ্যাকসেস’ ডার্ক ওয়েবে বিক্রির জন্য তোলার ঘটনা সামনে আসে। একই সময়ে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে র্যানসমওয়্যার হামলায় বিপুল পরিমাণ তথ্য চুরির দাবিও ওঠে। আর্থিক খাতও বাদ যায়নি। সিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের কিছু আর্থিক বিবরণী অননুমোদিতভাবে দেখা ও পরে তা বিক্রির চেষ্টার ঘটনা সামনে আসে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি সিস্টেম ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সীমিতসংখ্যক বিবরণীতে প্রবেশ করা হয়েছিল।
২০২৫ সালে ব্যাংকিং খাতসহ দেশের সাইবার অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার সতর্কতা জারি হয়। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারেও অনুপ্রবেশ ও তথ্য চুরির ঘটনা সামনে আসে। ২০২৬ সালেও সরকারি ও প্রতিরক্ষা খাত লক্ষ্য করে সাইবার হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যেই অনলাইনে ৬০ লাখ বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি, এসব সিভি একটি চাকরির ওয়েবসাইটের তথ্যভাণ্ডার থেকে নেওয়া। সিভিগুলোতে নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের তথ্য থাকার কথা বলা হয়েছে। বিজ্ঞাপনের সঙ্গে ১৪৮টি সিভির নমুনাও প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগ সিভি পুরোনো; অনেকগুলো ২০১১ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হালনাগাদ করা। নমুনায় থাকা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির ওয়েবসাইটে সিভি আপলোড করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
তথ্য আছে, জবাবদিহি কোথায়
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে পাওয়া চিত্র বলছে, ব্যক্তিগত তথ্যের কেনাবেচা এখন আর বিচ্ছিন্ন কয়েকজনের কাজ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ওয়েবসাইট, মধ্যস্বত্বভোগী, মোবাইল আর্থিক সেবা এবং তাৎক্ষণিক তথ্য সরবরাহের একটি কাঠামো। খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও নীতিমালায় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও বাস্তবে নাগরিকের তথ্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কার তথ্য কোথা থেকে বের হচ্ছে, কারা তা সংগ্রহ করছে, কারা বিক্রি করছে এবং তথ্যভাণ্ডারের নিরাপত্তা ভেঙে পড়লে দায় নিচ্ছে কে—এখন এসব প্রশ্নের জবাবদিহিই সবচেয়ে জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, ব্যক্তিগত তথ্য আলাদাভাবে ফাঁস হলেও একাধিক উৎসের তথ্য এক জায়গায় চলে এলে ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। নাম, এনআইডি, ফোন নম্বর, ঠিকানা, অবস্থান ও পেশাগত তথ্য মিলিয়ে একজন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় তৈরি করা সম্ভব। এসব তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা, পরিচয় জালিয়াতি ও লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংসহ নানা ধরনের অপরাধ করা সহজ হয়। এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা নতুন নয়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনায় অপরাধীদের বিচার হয়েছে—এমন নজির খুব কম। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে। দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই নাজুক। তাই তথ্য ফাঁসের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোন উৎস থেকে তথ্য বের হচ্ছে এবং কীভাবে তা বাইরে যাচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে পুরো ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দীনেশ ত্রিবেদী
‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক কেবল সরকারকেন্দ্রিক নয়, এটা দুই দেশের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক। এই সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’ এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে সেসব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু অতীতে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। কীভাবে আমরা দুই দেশে মুক্ত বাণিজ্য করতে পারি, এ নিয়েও কথা বলেছি।’
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যা হয়, সেটি নিয়ে কিছু বলতে চাই না। বলা উচিতও নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে নির্বাচিত সরকারই জনগণের জন্য কোনটি ভালো, তা ভালোভাবে বুঝবে।’
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমার জায়গায় যে থাকবে, সে একই জিনিস চাইবে। কারণ আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর।’
তিনি বলেন, আমরা সীমান্তের সঙ্গে স্বপ্নও শেয়ার করি। সেজন্য প্রতিবেশী হিসেবে দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সমান। কেউ বড় কিংবা ছোট নই।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়েছি। আজকের সাক্ষাতে মিলেমিশে কাজ করার বিষয়ে কথা হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবেই। আমাদের দেখতে হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ কী? বাংলাদেশেরও দেখতে হবে ভারতের কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জগুলো মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই ছিল: মীর শাহে আলম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য স্বাক্ষাত করতে এসেছেন। মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জানিয়েছি চলতি অর্থবছরে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার। বাকি সবটুকু আলোচনা সৌজন্যতার মধ্যেই ছিল।’
ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের (এনইসি) প্রথম সাধারণ সভা সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রকাশিত ২৯টি দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন। সভায় অন্তর্র্বতীকালীন সময়ের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
এছাড়া ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন। সভায় উপস্থিত সম্পাদকরা ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের উপস্থাপিত গঠনতন্ত্র কিছু সংশোধনীসহ অনুমোদন করেন।
শফিক রেহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় সম্পাদকরা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও পেশাগত মানোন্নয়নে তাদের পরামর্শ তুলে ধরেন। সভায় আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলকে আমরা আরো বিস্তৃত করতে চাই। সাংবাদিকদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানো উচিত। স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য সম্পাদকরা যাতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেন, সেজন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগঠনটি প্রথম সভাতেই গণতান্ত্রিকভাবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যাত্রা শুরু করেছে।’
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে শত শত শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরে এসেছে। এখন আমাদের আত্মসমালোচনার সময় এসেছে- কীভাবে সম্পাদকদের একটি অংশ চাটুকারিতার মাধ্যমে সরকারকে ফ্যাসিস্ট হতে সহায়তা করেছিল। যারা ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল, তাদের আবার সাংবাদিকতার বাতিঘর বানানো হয়েছিল। এখন আমাদের শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে হবে।’
যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘গত ১৭ বছরে সাংবাদিকতার নামে গণমাধ্যমে যা হয়েছে, তা ছিল ঘৃণার অযোগ্য। সংবাদমাধ্যম পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এখন সেখান থেকে আমাদের উত্তরণের চেষ্টা করতে হচ্ছে। ‘প্রশ্ন নয়, প্রশংসা’র বদলে সত্যিকার অর্থে আমাদের এখন প্রশ্ন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই উপমহাদেশে গণমুখী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ছিলেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ধূমকেতুর মাধ্যমে তিনি প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন একজন সফল সম্পাদক।’
তিনি এডিটরস কাউন্সিলকে সাংবাদিকতায় অবদানের জন্য কাজী নজরুল ইসলাম পদক প্রদানের আহ্বান জানান। পরে সভায় সে প্রস্তাব গৃহীত হয়। এডিটরস কাউন্সিল প্রতিবছর সাংবাদিকতায় নজরুল পদক প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
পিপলস ভিউ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর বলেন, ‘সাংবাদিকতার নামে গত ১৭ বছর যা হয়েছে, তা কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে আছে। সাংবাদিকতাকে দলবাজিতে পরিণত করা হয়েছিল। নানা ধরনের সুবিধা ও প্রলোভন দিয়ে কলুষিত করা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য এনইসিকে কাজ করতে হবে।’
ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সম্পাদকদের এমন একটি প্ল্যাটফর্ম জরুরি ছিল। এনইসি যাতে সারা বাংলাদেশের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারে, সেজন্য কাজ করে যেতে হবে। এর মধ্য দিয়ে সংবাদপত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা যাবে।’
সভাপতির বক্তব্যে শফিক রেহমান বলেন, ‘দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সাংবাদিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। গণতান্ত্রিকভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হলে সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থেকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ সারা দেশের সম্পাদকদের একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে আরো মতামত দেন নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহ উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক লোটন একরাম, দৈনিক নওরোজ সম্পাদক শামসুল হক দুররানী, মানবকণ্ঠ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, খবর সংযোগ সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের খবরের সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভোরের ডাক সম্পাদক কে এম বেলায়েত হোসেন, জনতা সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীন, দ্য বাংলাদেশ পোস্ট সম্পাদক সদরুল হাসান, বাণিজ্য প্রতিদিন সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন, খোলা কাগজ সম্পাদক মনির হোসেন, রূপালী বাংলাদেশের সায়েম ফারুকী, ভোরের বাংলা সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আরিফ, দি গ্লোবাল পোস্টের ড. মাহবুবুর রহমান, কর্ণফুলী সম্পাদক (চট্টগ্রাম) আফসার উদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক লোকসমাজ (যশোর) সম্পাদক শান্তুনু ইসলাম, নতুন প্রভাতের (রাজশাহী) সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক নিউটাইমসের সম্পাদক (ময়মনসিংহ) সাইফুল ইসলাম, দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক (সিলেট) মুকতাবিস উন নুর, যুগের চিন্তার (নারায়ণগঞ্জ) সম্পাদক মোরছালীন বাবলা, দৈনিক প্রবাহ (খুলনা) সম্পাদক মো. আশরাফ এবং বাংলাদেশ বাণীর (বরিশাল) সম্পাদক আযাদ আলাউদ্দীন।
রুনা খান
‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খান। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। রুনা খানের সঙ্গে এবার আরও দুজন এ পুরস্কার পেয়েছেন। তাঁরা হলেন সিঙ্গাপুরের টমি কোহ ও মিয়ানমারের বো চি। র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ভাষ্য- মানুষের সেবা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য সুযোগ তৈরি এবং মানুষকে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে নিতে সহায়তার মতো মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে এবারের বিজয়ীদের কাজে।
পুরস্কার পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান, গভীর আনন্দ ও বিনয়ের সঙ্গে তিনি এ সম্মাননা গ্রহণ করছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো নেতা একা পথ চলেন না।’
এ স্বীকৃতি তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডশিপের কর্মীদের উৎসর্গ করেন। গত ২৫ বছর ধরে যারা তাদের কাজে আস্থা রেখেছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তার ভাষায়, এই স্বীকৃতি একই সঙ্গে একটি বড় দায়িত্ব।
রুনা খান ২০০২ সালে ফ্রেন্ডশিপ প্রতিষ্ঠা করেন। একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে দেশের প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবিকা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে।
ফ্রেন্ডশিপ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার কাজের শুরু বাংলাদেশের দুর্গম নদীবেষ্টিত অঞ্চল থেকে। স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়নমূলক কাজের মডেল তৈরিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
রুনা খান বাংলাদেশ থেকে র্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে জাগো ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা করভি রাখসান্দ এ পুরস্কার পেয়েছিলেন। এর আগে ২০২১ সালে বিজ্ঞানী ফেরদৌসী কাদরী, ২০১২ সালে পরিবেশ আইনজীবী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ২০১০ সালে এ এইচ এম নোমান, ২০০৫ সালে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এবং ২০০৪ সালে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এ পুরস্কার পান।
বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ম্যাগসাইসাই বিজয়ীদের মধ্যে আরও রয়েছেন ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ, গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
র্যামন ম্যাগসাইসাই ছিলেন ফিলিপাইনের সপ্তম প্রেসিডেন্ট। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ এক বিমান দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। একই বছর তার নামে র্যামন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৫৮ সাল থেকে এ পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবছর ৩১ আগস্ট ম্যাগসাইসাইয়ের জন্মদিনে ম্যানিলা থেকে পুরস্কারজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। এবার তার ১১৯তম জন্মবার্ষিকী।
২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবছর ছয়টি শ্রেণিতে এই পুরস্কার দেওয়া হতো। এগুলো হলো সরকারি সেবা, জনসেবা, সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিকতা-সাহিত্য-সৃজনশীল যোগাযোগকলা, শান্তি ও আন্তর্জাতিক বোঝাপড়া এবং উদীয়মান নেতৃত্ব। ২০০৯ সাল থেকে ‘উদীয়মান নেতৃত্ব’ ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মধ্যে পুরস্কারটি সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি।
নবম পে স্কেল
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভা বৈঠকে পে স্কেলের প্রস্তাব উঠতে পারে। অনুমোদন মিললে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন পে স্কেল নিয়ে সরকারের ভেতরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতিও রয়েছে। সবকিছু চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা।
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে এই কমিটি নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে।
কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ও আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা রয়েছেন।
নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি চাকরিজীবীদের ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।
এতে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে সচিব কমিটি মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশের মধ্যে রাখার সুপারিশ করেছে বলে জানা গেছে।
কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামো দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন কাঠামোর সুবিধা কার্যকর করার ঘোষণা আগেই দেওয়া হলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।
নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, তাদের জন্য নতুন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। নিজেদের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে সরকার।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রশাসন-নিট খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৬ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে বরাদ্দ বেড়েছে ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের হিসাবে, এই বাড়তি অর্থের অন্তত ৪৪ হাজার কোটি টাকা সরকারি কর্মচারী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে।
বর্তমান অষ্টম জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এ সময়ে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতনকাঠামোর দাবি জোরালো হয়।
গত ১১ জুন বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রিসভা এ প্রস্তাবটি অনুমোদন করলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক পথ খুলবে। তবে চূড়ান্ত বেতনহার, ভাতা ও বাস্তবায়নের সময়সূচি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।