মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে আমি অভিশংসিত হব: ট্রাম্প

দলের আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১২:২১ পিএম

আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে দল যদি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে বলে নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতাদের সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের এক সমাবেশে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুবই সামান্য । তাই ট্রাম্প আইনপ্রণেতাদের প্রতি এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

সমাবেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, 'আপনাদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জিততেই হবে। কারণ, আমরা যদি জিততে না পারি, তাহলে পরিস্থিতি খুব খারাপ হবে। ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) আমাকে অভিশংসিত করার কোনো না কোনো কারণ খুঁজে বের করবেই।' এরপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'আমি অভিশংসিত হব।' যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে 'রাষ্ট্রদ্রোহ, ঘুষ গ্রহণ কিংবা বড় ধরনের অপরাধ ও অসদাচরণ'-এর জন্য প্রেসিডেন্ট বা অন্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অভিশংসন করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রতিনিধি পরিষদকে। 

প্রতিনিধি পরিষদে কেউ অভিশংসিত হলে এরপর সিনেটে তার বিচার হয়। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোটে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করা যায়।আগামী নভেম্বরে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে এবং সিনেটের ৩৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা রাজ্যের জনসংখ্যার অনুপাতে নির্ধারিত নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে সিনেটররা নির্বাচিত হন গোটা রাজ্যজুড়ে হওয়া ভোটের মাধ্যমে। নির্বাচনে সুবিধা পেতে রিপাবলিকান-শাসিত রাজ্যগুলোতে কংগ্রেসনাল নির্বাচনী এলাকার সীমানা নতুন করে নির্ধারণের জন্য চাপ দিচ্ছেন ট্রাম্প। 

এই কৌশলটি রাজনীতিতে 'জেরিম্যান্ডারিং' নামে পরিচিত, যা নিজের দলের সুবিধামতো নির্বাচনী এলাকার সীমানা ঠিক করাকে বোঝায়। সমালোচকরা এই পদ্ধতিকে সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করে থাকেন। ইতোমধ্যে টেক্সাস, মিসৌরি ও নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের সুবিধা দিতে সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। এর জবাবে ডেমোক্র্যাটরাও বসে নেই। ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোটের মাধ্যমে গণরায়ের ভিত্তিতে তারাও নিজেদের সুবিধামতো জেরিম্যান্ডারিংয়ের অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে।

বিভিন্ন জনমত জরিপ বলছে, বর্তমানে ট্রাম্পে র গ্রহণযোগ্যতার হার ৪২ থেকে ৪৫ শতাংশের মধ্যে। এই জনপ্রিয়তা নিয়েই তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠে নামছেন। তবে নির্বাচনের আগে দেশের অর্থনীতিতে স্থবিরতার আভাস মিলছে। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানটিও দেশে খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি। এই অসন্তোষকে পুঁজি করে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত কিছুর পরও গত মঙ্গলবার ট্রাম্পকে বেশ আশাবাদী দেখা গেছে। তিনি বলেন, 'আমরা ইতিহাস গড়ব এবং এক মহাকাব্যিক জয় পেয়ে সব রেকর্ড ভেঙে দেব।'

তবে রিপাবলিকানদের প্রতি জনগণের সমর্থন আরও বেশি কেন নয়, তা নিয়ে নিজের বিস্ময় ও হতাশা গোপন করেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, 'জনগণের মনে কী চলছে, তা যদি কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন! আমাদের নীতিগুলো সঠিক, কিন্তু ডেমোক্র্যাটদের নীতিগুলো জঘন্য। তারপরও ওরা ঐক্যবদ্ধ, ওরা সহিংস এবং বিদ্বেষপরায়ণ।'

গত এক বছর ধরে কিছু ডেমোক্র্যাট নেতা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসদাচরণের অভিযোগ এনে তাকে অভিশংসনের দাবি জানিয়ে আসছেন। বিশেষ করে গত জুনে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়াই ইরানে সামরিক হামলার ঘটনাকে সামনে আনা হচ্ছে। তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যালঘু হওয়ায় কোনো প্রস্তাবই আলোর মুখ দেখেনি।

ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুইবার অভিশংসিত হয়েছিলেন। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তখন অভিযোগ ছিল, তিনি ইউক্রেনকে দেওয়া মার্কিন সহায়তা আটকে রেখে দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে চাপ দিয়েছিলেন। দ্বিতীয়বার ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় তাকে আবারও অভিশংসন করা হয়। ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে সমর্থকদের উসকে দেওয়া ও বিদ্রোহে প্ররোচনার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

তবে দুইবারই সিনেটে খালাস পান ট্রাম্প। ২০২১ সালে ক্ষমতা ছাড়ার পর ৫৭ জন সিনেটর তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেও দুই-তৃতীয়াংশ (৬৭ ভোট) সমর্থন না পাওয়ায় তিনি বেঁচে যান। ওই সময় দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা হারাতেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোনো প্রেসিডেন্টকে সিনেট ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়নি। ১৯৭৪ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির জেরে অভিশংসন ভোটের আগেই পদত্যাগ করেছিলেন রিচার্ড নিক্সন। এ ছাড়া ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের ইন্টার্নের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ায় বিল ক্লিনটন অভিশংসিত হলেও সিনেটে খালাস পেয়েছিলেন।





পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া