নিউইয়র্কে সিটি হলের সামনে অভিষেক অনুষ্ঠানে স্ত্রী রমা দুওয়াজির সঙ্গে জোহরান মামদানি। ছবি: এএফপি
ইসরাইলের পক্ষে জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করে নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন জোহরান মামদানি। নিজের অভিষেক অনুষ্ঠানে ইসরাইলে সমর্থনে আগের মেয়রের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন মামদানি।
এরমধ্যে আছে, মেয়র পদে নিযুক্ত ব্যক্তি এমন কোনো চুক্তি করতে পারবেন না, যা ইসরাইল রাষ্ট্র ও এর নাগরিক সঙ্গে বৈষম্যমূলক কোনো পদেক্ষেপ হিসেবে গণ্য হয়। মেয়রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো। যদিও মামদানির এমন আচরণে চটে গেছে ইসরাইল।
তাকে ইসলামপন্থী হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তারা। প্রো-ইসরাইল মিউনিসিপাল ডিক্রি ছাড়াও, ২০২৪ এর ২৬ সেপ্টেম্বরের পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা প্রত্যেকটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন মামদানি। গেল বছরের ঐ দিনে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হন অ্যাডামস।
‘প্রিয় নিউইয়র্কবাসী, আজ থেকে আমাদের জন্য শুরু হচ্ছে এক নতুন অধ্যায়।’ নিউইয়র্কের মেয়র হিসেবে শপথ নেওয়ার পর জোহরান মামদানির উদ্বোধনী ভাষণের শুরুটা ছিল এমন। নতুন অধ্যায়ের বিবরণও তিনি ভাষণে উল্লেখ করেছেন।
জোহরান মামদানির মতে, নতুন অধ্যায়ে মেয়রের কার্যালয় অর্থাৎ সিটি হল সাহসের সঙ্গে জনগণের জীবনমান উন্নত করতে কাজ করবে। তাঁর প্রশাসন হবে স্বচ্ছ, ধনী-দরিদ্রনির্বিশেষে সবার জন্য। নিউইয়র্কের ৮৫ লাখ মানুষ এক হয়ে নতুন রাজনীতির আখ্যান তৈরি করবে।
নিউইয়র্কের মেয়রের অভিষেক অনুষ্ঠান যখন চলছিল, তাপমাত্রা তখন হিমাঙ্কের নিচে। কনকনে শীতের মধ্যেও শহরের লোয়ার ম্যানহাটানের সিটি হলের সামনে নতুন মেয়রকে বরণ করে নিতে জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। এদিনই ইসরায়েলে সমর্থনে আগের মেয়রের জারি করা নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছেন মামদানি।
নতুন বছরের প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার নতুন মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেন মামদানি। সিটি হলের সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় অভিষেক অনুষ্ঠানের। সেখানে জনতার সামনে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন ৩৪ বছর বয়সী এই রাজনীতিক। তিনি এখন কাগজে–কলমে নিউইয়র্কে প্রথম মুসলিম মেয়র। পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়া প্রথম মেয়রও তিনি।
শপথ গ্রহণের পর উপস্থিত বিপুল মানুষের উদ্দেশে ভাষণ দেন মামদানি। পাশে থাকার জন্য নিউইয়র্কের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এমন মুহূর্ত খুব কমই আসে। পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের এমন সুযোগ আমাদের খুব কমই আসে। আর আরও বিরল হলো সেই সময়, যখন পরিবর্তনের চাবিগুলো নিজের হাতে ধরে রাখে জনগণই।’
গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছিলেন মামদানি। সেই পরিচয়েই গত নভেম্বরে জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি। অভিষেক ভাষণে মামদানি বলেন, ‘আমি একজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এই পরিচয়েই শাসন করতে চাই।’ উচ্চকণ্ঠে তাঁর এই বক্তব্যের সমর্থন জানান উপস্থিত মানুষ।
ভাষণটি লেখার সময় তাঁকে নাকি নিউইয়র্কবাসীর প্রত্যাশা কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—ভাষণে এমনটিই বলেন মামদানি। তিনি বলেন, ‘আমি তা করব না। আমি কেবল একটি বিষয় বদলাতে চাই, তা হলো ছোট প্রত্যাশা করা। আজ থেকে আমাদের প্রশাসন হবে সাহসী। আমরা সব সময় সফল না–ও হতে পারি, কিন্তু সাহসের অভাবের কথা যেন কেউ বলতে না পারে।’
অভিষেকে হাজার হাজার মানুষ
বিনা মূল্যে বাস সেবা, শিশু পরিচর্যা ও বাড়িভাড়া কমানোর মতো মামদানির নানা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মানুষের মন জয় করেছিল। তাঁর ওপর ভরসা করেছেন নিউইয়র্কের বাসিন্দারা। নতুন মেয়রের হাত ধরে যে তাঁরা নতুন নিউইয়র্কের আশা করছেন, তা বোঝা যায় মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল দেখলেও। বলা হচ্ছে, অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
প্রথম আলোর নিউইয়র্ক প্রতিনিধি সরেজমিনে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো ‘ব্লক পার্টির’ আয়োজন হয়। নিউইয়র্ক শহরের মারে স্ট্রিট থেকে লিবার্টি স্ট্রিট পর্যন্ত সাতটি ব্লকে একত্র হন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে চার হাজার নিবন্ধিত অতিথি ছিলেন সিটি হল এলাকার মধ্যে। অন্যরা আশপাশের সাতটি ব্লকজুড়ে অবস্থান নেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিউ বনিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাইনাস ১০ ডিগ্রি তাপমাত্রা উপেক্ষা করে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ঐতিহাসিক এই অভিষেক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে এসেছি। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশিদের জন্য তিনি আরও কল্যাণকর কিছু করবেন।’ একই সঙ্গে সংখ্যালঘুদের জন্যও নতুন মেয়র কাজ করবেন বলে আশাবাদী তিনি।
‘বিভাজনের এক সময়’
মামদানির শপথ অনুষ্ঠান হয়েছে দুই ধাপে। প্রথম অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয় ৩১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে পরিত্যক্ত ওল্ড সিটি হল সাবওয়ে (পাতালরেল) স্টেশনে। সেখানে তাঁকে শপথ পাঠ করান নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস। এ সময় মামদানির বাবা অধ্যাপক মাহমুদ মামদানি, মা চলচ্চিত্রকার মীরা নায়ার ও স্ত্রী রমা দুওয়াজি উপস্থিত ছিলেন।
মামদানি দ্বিতীয় ধাপে শপথ গ্রহণ করেন বৃহস্পতিবার অভিষেক অনুষ্ঠানে। সেখানে তাঁকে পরিচয় করিয়ে দেন ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। তিনি বলেন, ‘এটি নিউইয়র্ক সিটির জন্য এক নতুন যুগের সূচনা। জোহরানের মাধ্যমে আমরা এমন এক মেয়র পেয়েছি, যিনি শ্রমজীবী মানুষের জীবন সমৃদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জোহরান সবার মেয়র হবেন।’
এরপর মামদানিকে শপথ পড়ান ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। তাঁকে নিজের একজন পথপ্রদর্শক মানেন মামদানি। স্যান্ডার্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন এক সময় আমরা মামদানিকে নির্বাচিত করেছি, যখন আমরা অত্যধিক ঘৃণা, বিভাজন ও অবিচার দেখছি। নিউইয়র্কবাসী, আপনারা এমন এক সরকার গড়ার আশা দেখিয়েছেন, যারা সবার জন্য কাজ করবে।’
প্রথম দিনেই বড় পদক্ষেপ
অভিষেকের কয়েক ঘণ্টা পর মেয়র হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন মামদানি। প্রথম দিনেই নেন বড় একটি পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের পর সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা সব নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন। ওই তারিখেই অ্যাডামসকে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। যদিও পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন সেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেয়।
বাতিল হওয়া নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গত মাসে অ্যাডামসের জারি করা একটি নির্দেশনা। ওই নির্দেশনায় মেয়র হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং মেয়রের কার্যালয়ের কর্মচারীদের ইসরায়েল বর্জন ও দেশটিতে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছিল।
এখনো মামদানির সামনে বড় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে তাঁকে নিউইয়র্কের ১০ লাখ বাসাবাড়িতে বিনা মূল্যের বিভিন্ন সেবা দিতে হবে। এ জন্য আনুমানিক এক হাজার কোটি ডলার জোগাড় করাটা বেশ কঠিন। যদিও অর্থ সংগ্রহের জন্য উচ্চবিত্তদের ওপর কর বাড়ানোর কথা বলেছেন মামদানি। তবে এ জন্য তাঁকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের সমর্থন পেতে হবে।
এ ছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও সামলাতে হবে মামদানিকে। এরই মধ্যে তিনি নতুন মেয়রকে ‘কমিউনিস্ট’ আখ্যা দিয়ে রেখেছেন। নিউইয়র্ক শহরের জন্য কেন্দ্রীয় তহবিলে কাটছাঁটের হুমকিও দিয়েছেন। তবে সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মামদানির সঙ্গে সাক্ষাতে ট্রাম্পের উচ্ছ্বসিত আচরণ অনেককে বেশ অবাক করেছিল। আগে মামদানির সমালোচনা করে আসা মার্কিন প্রেসিডেন্ট তখন বলেছিলেন, ‘আমি চাই তিনি ভালো কাজ করুন। আর ভালো কাজ করতে আমি সাহায্য করব।’
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশী। তিনি তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতির দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
পদত্যাগপত্রে তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে চার দশকের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। চলমান পরিস্থিতিকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’ যেন অপব্যবহার করতে না পারে, সে কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিন ধরে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি। তার পদত্যাগের পর আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) কেন্দ্র সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।
প্রহ্লাদ যোশী বর্তমানে কেন্দ্রীয় খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়কমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার আগের দিন তিনি বলেছিলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ‘অসামাজিক শক্তি’ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে। তবে আন্দোলন যাতে অন্য কোনো পক্ষের স্বার্থে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা উচিত।
পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।
দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।
ধর্মেন্দ্র প্রধান
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।
এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।
নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।
ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।
ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।
রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।
এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।
এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।
সূত্র: দ্য রিপাবলিক
রাভনীত সিং বিট্টু
ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’
পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।