ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ১:০১ পিএম

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের ব্যস্ত প্লাজাগুলো দৈনন্দিন জীবনের চেনা ছন্দেই চলছে। হাতে চকোলেট কিংবা বরফজমানো ফল বিক্রি করছেন ফেরিওয়ালারা।

দোকানিরা বিকেলের ভিড়ের মধ্যে তাক সাজাতে ব্যস্ত। তবুও এই চিরচেনা দৈনন্দিন জীবন-যাপনের মধ্যেও বিরাজ করছে নতুন এক উদ্বেগ, উত্তেজনার আবহ।

ভেনেজুয়েলা উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, আর দুই দেশের উত্তপ্ত বাকযুদ্ধ দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে। শঙ্কা, সংশয় আর আশার মিশ্রণে ভেনেজুয়েলাবাসী এখন বিভক্ত।

কেউ বিদেশি শক্তির আগমনকে সম্ভাব্য মুক্তি হিসেবে দেখছেন, কেউ দেখছেন সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের ওপর আঘাত হিসেবে। মাতৃভূমিকে রক্ষায় কেউ আবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

৫২ বছর বয়সী কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা বলেন, “মাতৃভূমি তো মাতৃভূমিই, আর আমাদের সেনাবাহিনী আমাদেরই বাহিনী।”

ওরোপেজা নিজেই ফল সংগ্রহ করে ফ্রোজেন স্ট্রবেরি ও ব্ল্যাকবেরি বিক্রি করেন। স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে তাকে সপ্তাহে তিনবার চিকিৎসা নিতে হয়। তবুও যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা করলে তিনি লড়াইয়ে যেতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

“ওদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ ময়দানে নামতে আমি প্রস্তুত। আগ্রাসনকারীদের মুখোমুখি হব ভেনেজুয়েলার সেনাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েই,” আল-জাজিরাকে বলেন ওরোপেজা।

ডাউনটাউন কারাকাসে বাসের অপেক্ষায় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা ৫২ বছর বয়সী এই কৃষক-ব্যবসায়ী বলেন, “যেভাবে পারি দেশের জন্য সাহায্য করব।”

‘ইতিবাচক পরিবর্তন’

সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবিয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় দুই ডজন হামলা চালিয়েছে, যাতে ৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ হামলায় চারজন নিহত হন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করেছে, লক্ষ্যবস্তু নৌকাগুলোতে মাদক বা চোরাচালানকারী ছিল। কিন্তু এই দাবির সপক্ষে তারা কোনও প্রমাণ তুলে ধরেনি। নৌযানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছিল এমন কোনও প্রমাণও ট্রাম্প প্রশাসন দেয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র নৌযানগুলোতে হামলা চালানোর কোনও আইনি যৌক্তিকতাও তুলে ধরেনি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, এইসব হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এর মধ্যেই ট্রাম্প আবার একথাও বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলভাগে মাদক চোরাচালানকারীদের ওপর হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে ভেনেজুয়েলার মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক অভিযান খুব শিগগিরই চলতে পারে এমন আভাসই মেলে।

ট্রাম্প সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার কাছে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশ্বে র সবচেয়ে বগ বিমানবাহী রণতরী ইউএএস গেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে। সঙ্গে মোতায়েন হয়ে হাজার হাজার সেনা এবং এফ-৩৫ জঙ্গিবিমানও।

কয়েক দশকের মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এমন শক্তি প্রদর্শন আর দেখা যায়নি। ভেনেজুয়েলাবাসীদের কেউ কেউ মনে করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপ দেশের জন্য ভাল।

এক ভেনেজুয়েলাবাসীর কথায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কারণে “ভেনেজুয়েলা মুক্ত হবে। আমাদের মুক্তির দিন আসবে।” মাদুরো এখনই অনেক চাপ অনুভব করছেন- এমনটিই মনে করেন বলে জানান তিনি।

তার কথায় মাদুরোর শাসন ঘিরে ভেনেজুয়েলাবাসীর মধ্যে ব্যাপক হতাশারই প্রতিফলন ঘটেছে। জানুয়ারিতে তৃতীয় মেয়াদে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতা নেওয়া মাদুরোর শাসনামলে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সংকটই কেবল আরও গভীর হয়েছে।

‘মাতৃভূমি মাতৃভূমিই’

ভেনেজুয়েলা এবং এর অভিজাতদের নিয়ে এমনকি ট্রাম্পের অভিপ্রায় নিয়ে কঠোর মনোভাব পোষণ করেন কৃষক ও ব্যবসায়ী ডেভিড ওরোপেজা।

তারপরও তিনি মনে করেন, দেশে যত সমস্যাই থাকুক, যুদ্ধ এর কোনও জবাব হতে পারে না। তার কথায়, “কেউ যুদ্ধ চায় না। সবাই শান্তি চায়।”

তার মতে, “মার্কিন রাজনীতি অস্ত্রের ওপরই অনেকটা চলে, আর সেটা ক্ষমতায় থাকা মানুষকে আরও ধনী করে। ভেনেজুয়েলার পক্ষেও সেনা মোতায়েনে স্থানীয় অভিজাতরাই হয়ত লাভবান হবে।” তিনি বলেন, “কারা ধনী হচ্ছে? তারা, আর আমরা যাদেরকে চিনি না তারা।”

ওরোপেজা নিজেকে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজের সমর্থক হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সমর্থক তিনি নন। তবু দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তার অবস্থান কঠোর। সরকারে অনাস্থা থাকলেও বিদেশি হামলাকে সমর্থন করেন না তিনি।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোও পাল্টা শক্তি প্রদর্শন করেছেন। সেনা ও মিলিশিয়াদের সমাবেশ ঘটেছে, ক্যারিবিয়ান উপকূল জুড়ে অ্যান্টি–এয়ার সিস্টেম পরীক্ষা করেছে সেনাবাহিনী।

নভেম্বর নাগাদ সরকার জানায়, সম্ভাব্য যে কোনও মার্কিন পদক্ষেপের মোকাবেলায় সেনা ও নাগরিকদের ব্যাপকমাত্রায় সমাবেশ করা হবে।

সন্দেহ ও সম্পদ:

তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের কারণ মূলত ভেনেজুয়েলার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ। “আমার মনে হয় আমরা বিপদে আছি,” বলেন ২৪ বছর বয়সী সুপারশপ কর্মী দিয়েগো মেহিয়া।

‘যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন’ এটা নিয়ে সন্দেহ আছে দিয়েগোর। তার কথায়, “যুক্তরাষ্ট্র চাইলে আগেই হামলা করতে পারত।” কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র কি চায় সে বিষয়ে তার ধারণা পরিষ্কার। তিনি বলেন,

“ভেনেজুয়েলা অনেক বেশি সম্পদশালী। ভেনেজুয়েলার তেল এবং ইউরেনিয়াম আছে উল্লেখ করে দিয়েগো বলেন, “তারা (যুক্তরাষ্ট্র) ভেনেজুয়েলা নিয়ে আগ্রহী। কারণ তাদের এই দেশটির সম্পদ প্রয়োজন।”

বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় পাঁচ গুণেরও বেশি। এছাড়া আছে বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত।

তেল–গ্যাস ছাড়াও দেশটিতে গ্যাস, স্বর্ণ, হীরা, বক্সাইট, লোহার আকরিক, এবং ইলেকট্রনিকস–অ্যারোস্পেস শিল্পের জন্য জরুরি কোলটানের মতো বিরল খনিজ আছে।

তবুও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার উদ্বেগ সামলাতে মেহিয়া ভরসা করেন বিশ্বাসে; তার কথায়, “ঈশ্বর এখানে কিছু হতে দেবেন না।”

ভেনেজুয়েলার রাস্তায় এখনও মানুষের স্বাভাবিক আনাগোনা দেখে এবং খাদ্য মজুতে ব্যস্ত হতে না দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আসন্ন নয়।

অজানার ভয়ে ভেনেজুয়েলা:

অন্যান্য ভেনেজুয়েলাবাসী আবার এতটা নিশ্চিত নন।

সন্তানকে নিয়ে পার্কে এসে ৩৪ বছর বয়সী গৃহিণী দালিবেথ ব্রেয়া বললেন, এই পরিস্থিতি তার মনে আশা ও শঙ্কা- দু’য়েরই উদ্রেক করে। এই উদ্বেগ, উত্তেজনা তার পারিপার্শ্বিক সামাজিক পরিমন্ডলেও বাস্তব।

তার এক বন্ধু সরকারি চাকরিতে আছেন। চাকরি বিরূপ প্রভাব পড়ার ভয়ে তিনি এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি।

ব্রেয়া মনে করেন, ভেনেজুয়েলা যে চাপের মুখে পড়েছে তা দেশের জন্য ভাল কিছুও বয়ে আনতে পারে। তার কথায়, “বাইরের দেশগুলোতে যে উন্নয়ন দেখি, সেটা এখানে হলে ভালো লাগবে।”

তবে সহিংসতার সম্ভাবনা ব্রেয়াকে আতঙ্কিতও করেছে। কৃষক ও ব্যবসায়ী ওরোপেজার মতো শত্রুবাহিনীকে রুখে দাঁড়ানোর মনোভাব তার নেই; বরং লুকিয়ে থাকারই প্রবণতা।

“ভয়ে আমি আশ্রয় নিতাম,” স্বীকার করেন তিনি। তার প্রস্তুতি খুব সাধারণ: “বাড়িতে খাবার জমা রাখা, আর সবাইকে এক জায়গায় রাখা।”

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে থাকা শহরটিতে সূর্য ডবিতে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেয়ার মুখে শোনা যায় অন্য লাখো মানুষের মতোই অনিশ্চয়তার সুর।

“আমি জানি না কিছু ঘটবে কি না,” বলেন তিনি। “কিছু কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে—আবার কিছু ক্ষেত্রে মনে হয় হবে না।”




পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া