চীনা ধনকুবের গুও ওয়েংগুই। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:১২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত।


আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।


স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।


আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।


এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।


আদালতে গুওর ‍বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’


গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।


বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।


এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।


উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।


প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।


সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।


আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।


সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।


আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।


এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।


প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।


সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।




পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। 


দলটি জানিয়েছে, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হলেও আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।


আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছিল তাদের প্রথম দাবি, যা সরকার মেনে নিয়েছে। তবে এখনো বাকি রয়েছে আরও দুই দাবি। একটি হলো আত্মহত্যা করা সব শিক্ষার্থীর পরিবারের জন্য ১ কোটি রুপি করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অন্যটি হলো আন্দোলনে অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।


দলটির বক্তব্য, এসব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন ও চাপ অব্যাহত থাকবে। সিজেপির দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তাদের আন্দোলনের মূল লক্ষ্য।


ধর্মেন্দ্র প্রধান

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:৪৭ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। আন্দোলনের মুখে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রীসভায় এটিই প্রথম কোনো পদত্যাগ। শনিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং কেন্দ্রের মধ্যে তৃতীয় দফা বৈঠকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, যন্তর মন্তরসহ দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, দেশবিরোধী শক্তিগুলো যাতে এর সুযোগ নিতে না পারে, দেশের ঐক্য যেন বজায় থাকে, ভারতের একটি ছাত্রের ভবিষ্যতও যেন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যেন পড়াশোনায় সময় দিয়ে ক্যারিয়ার গড়ায় মনোযোগ দিতে পারে এসব কথা মাথায় রেখে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি।


এর আগে কেন্দ্রের সঙ্গে টানা তৃতীয় দফা আলোচনার আগেই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সিজেপি বলেছিল, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো আলোচনা হবে না।


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৮ পিএম

চীন বা রাশিয়া যদি ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করে, তবে ওই দেশ দুটির জন্য ‘খুবই খারাপ’ পরিণতি অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে এ হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনও অস্ত্র সরবরাহ বা বিক্রি করবে না। এমনকি কোনও চীনা কোম্পানির মাধ্যমেও তা করা হবে না।


নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট শি বেইজিংয়ে আমাদের সাম্প্রতিক বৈঠকে আমাকে বলেছেন যে তিনি কোনো অবস্থাতেই ইরানকে অস্ত্র দেবেন বা বিক্রি করবেন না। এই বিবৃতির আওতায় চীনা কোম্পানিগুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আমাদের সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে আমি তার কথায় আস্থা রাখছি, তা ছাড়া আমিও তাকে অনেক বড় ধরনের সহযোগিতা করছি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ সত্ত্বেও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও একই ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন। 


মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষায়, ‘তিনি (পুতিন) বোঝেন যে আমি ইউক্রেনের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি না, বরং ন্যাটো দেশগুলোকে করি। তারা পুরো মূল্য পরিশোধ করে, আর সেই অস্ত্রগুলো কীভাবে বিতরণ করা হয় সে বিষয়ে আমার কোনও ধারণা নেই।


ট্রাম্প বলেন, অতএব, ইরান প্রসঙ্গে মানুষ প্রায়শই যে দুটি প্রধান দেশের কথা বলে, আমার মতে তারা এতে অংশ নিচ্ছে না। যদি তারা তা করত, তবে তা তাদের জন্য খুবই খারাপ হতো। নিঃসন্দেহে এটি তাদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যরাতে প্রকাশ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের মুখে প্রকাশিত ভিডিওর পর তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ বেড়েছে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি দেখা ভিডিওর নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে বলে দাবি করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য রিপাবলিক। 


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে নরেন্দ্র মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুসারীর সংখ্যা ১০ কোটি ২০ লাখ। বিশ্বের প্রথম রাজনৈতিক নেতা হিসেবে ১০ কোটির বেশি অনুসারী অর্জনের রেকর্ডও তার দখলে। 


গত বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত ১১টা ৫২ মিনিটে নিজের হাতে ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মোদি। সেলফি ক্যামেরায় ধারণ করা মোদির প্রথম ভিডিওটি প্রকাশের পর তা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এটি লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না করতে দ্রুত পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।


মোদি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি নতুন আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করে খসড়া তৈরি করেছে। পরদিন মন্ত্রিসভায় তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে দ্রুত আইনটি পাসের চেষ্টা করা হবে।


রিপাবলিক-এর দাবি, মোদির এই ভিডিও প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৩০ কোটি ৩০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের শর্ট ভিডিও দেখার সংখ্যায় নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে এটি।


এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল জনপ্রিয় মার্কিন কনটেন্ট নির্মাতা ও অনলাইন স্ট্রিমার আইশোস্পিডের দখলে। যার প্রকৃত নাম ড্যারেন জেসন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যে স্পিড নামে অধিক পরিচিত। ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় সংগীতদল বিটিএসের সাত সদস্যের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ভিডিওটি ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কোটি বার দেখা হয়েছিল।


এদিকে মোদির ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেক ব্যবহারকারীর মতে, মধ্যরাতে নিজের হাতে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশ করে মোদি তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সহজভাবে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন।


অন্যদিকে ভারতীয় অনেক তরুণদের দাবি, মোদির এই ভিডিও বার্তা তাদের কাছে নিছক হাস্যরস ছাড়া আর কিছু না।  


সূত্র: দ্য রিপাবলিক



রাভনীত সিং বিট্টু

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:২৩ পিএম

ভারতের কেন্দ্রীয় রেল এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পাঞ্জাব প্রদেশের বিজেপি নেতা রাভনীত সিং বিট্টু। গত জুনেই তার রাজ্যসভার সংসদ সদস্য হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়েছিল। সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর পাঞ্জাবে অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে বিট্টুর। আম আদমি পার্টি (আপ) শাসিত এই সীমান্তবর্তী রাজ্যে বিজেপির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাজে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিট্টু বলেন, ‘ভারত সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেশকে সেবা করার সুযোগ দেয়ার জন্য আমি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের এবং বিশেষ করে আমার প্রিয় পাঞ্জাবের জনগণের সেবা করা এক বিরাট সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জনসেবা, জাতীয়তাবাদের আদর্শের প্রতি আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। নতুন উদ্যমে আমার জনসেবার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে।’


পাঞ্জাবের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিয়ন্ত সিংয়ের নাতি বিট্টু ২০২৪ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। এরপর কংগ্রেস নেতা কে সি ভেনুগোপালের ছেড়ে যাওয়া রাজ্যসভার আসনে তার অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য বিট্টুকে রাজস্থান থেকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:১১ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে প্রকাশিত তার ভিডিও দেখার জন্য এবং গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়ার জন্য দেশের তরুণদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  শুক্রবার (২৪ জুলাই) মধ্যরাতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি জানান, তার বক্তব্যে যেভাবে শিক্ষার্থী ও তরুণরা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, তাতে তিনি আনন্দিত।


ওই ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, ধন্যবাদ। গতরাতে আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। আপনারা আমার ভিডিওটি দেখে যেভাবে ইতিবাচক মতামত ও পরামর্শ দিয়েছেন, তার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন যেন এভাবেই থাকে, আর আমাদের এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সক্রিয় হয়ে উঠুক।’


ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ। ‘


কড়া আইন আনার ঘোষণা


এর একদিন আগে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকার আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সাম্প্রতিক নিট পরীক্ষায়


অনিয়মের অভিযোগ এবং দেশজুড়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তিনি এই উদ্যোগের কথা জানান।


বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহেই বিলটি সংসদে পাস করার চেষ্টা করা হবে।


প্রশ্নফাঁস নিয়ে যা বলেছিলেন মোদি


এর আগে বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, ‘বন্ধুরা, আমি জানি প্রশ্নপত্র ফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য এটি অত্যন্ত কষ্টের।’


তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে এবং ১৯ জুলাই তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।


এ ছাড়া, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিধান তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তাব মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে উত্থাপন করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।


তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া