মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : রবিবার ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই আলোচনার জন্য আগামীকাল সোমবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা।


নিজের মালিকানাধীন সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই তথ্য জানান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কারা এই বৈঠকে অংশ নেবেন, তা স্পষ্ট করেননি তিনি। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। 


তবে নতুন করে এই বৈঠকের বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


একই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গতকাল হরমুজ প্রণালিতে গুলি চালিয়ে ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। ইরানের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মেনে না নিলে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে।


সূত্র: আল-জাজিরা।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে দুটি মসজিদে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলেছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতে নাবলুস ও তুলকারেম এলাকার দুটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।


নাবলুস শহরের দক্ষিণে কুসরা শহরের মেয়র আবদেল আজিম ওয়াদি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, শহরের দক্ষিণাংশে নির্মাণাধীন একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।


আবদেল আজিম ওয়াদি জানান, আগুনে মসজিদের প্রবেশপথ পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নির্মাণকাজও। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় ‘প্রতিশোধ’ শব্দসহ বিভিন্ন স্লোগান লিখে রেখে যায়।


ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, একটি মসজিদে আগুন লাগার খবর পেয়ে সেনারা কুসরার উপকণ্ঠে যান। তবে তাঁদের পৌঁছানোর আগেই সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে আগুন দেওয়ার আলামত এবং দেয়ালে লেখা পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।


তুলকারেমের কাছে কুর গ্রামে আরেকটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি দেয়ালে বর্ণবাদী স্লোগানও লিখে যায়।


গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের তেল গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। এরপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবলুস শহর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করে। সেনাবাহিনীর দাবি, এটি ‘সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান’-এর অংশ।


গতকাল নাবলুস শহরে জ্বালানিসংকট দেখা দেয়। পেট্রলপাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা যায় বলে জানিয়েছে এএফপির একজন সংবাদদাতা।


২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তখন থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা বা বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ৯৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সশস্ত্র যোদ্ধারাও রয়েছেন।


অন্যদিকে ইসরায়েলের সরকারি তথ্য বলছে, একই সময়ে ফিলিস্তিনিদের হামলা অথবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় অন্তত ৪৮ ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন।


পূর্ব জেরুজালেম বাদে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস। একই এলাকায় আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে বিবেচিত বসতিগুলোতে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসবাস করছে।

সর্বশেষ সব খবর

বিশ্বের বৃহত্তম প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর মিসরে

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:৪৭ পিএম

সামরিক শক্তির ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামরিক প্রশাসনিক কমপ্লেক্স ‘দ্য অক্টাগন’ উন্মোচন করেছে মিশর। দেশটির রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পূর্বে নবনির্মিত নিউ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপিটালে ২২ হাজার একর বিশাল এলাকাজুড়ে এই অত্যাধুনিক ও বিশালাকার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরটি নির্মাণ করা হয়েছে। 


গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে মিশরের রাষ্ট্রপতি আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ‘স্টেট স্ট্র্যাটেজিক কমান্ড হেডকোয়ার্টার্স’ বা অক্টাগন কমপ্লেক্সটির উদ্বোধন করেন। এলাকার দিক থেকে এই কমপ্লেক্সটির আয়তন প্রায় ৫ কোটি ৫ লাখ বর্গফুট, যা যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের মোট আয়তন ও মেঝের স্থানকে ছাড়িয়ে গেছে।


মিরীয় সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখা ও কমান্ডের প্রতীক হিসেবে আটটি আন্তঃসংযুক্ত অষ্টভুজাকার ভবনের সমন্বয়ে এই পুরো কমপ্লেক্সটি নকশা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভবনের চারপাশে অবস্থিত এই অষ্টভুজাকার ভবনগুলোতে মূল অপারেশনাল কমান্ড, লজিস্টিক সেন্টার এবং জাতীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো পরিচালনা করা হবে। এই বিশাল প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো মিশরের সমস্ত সামরিক বাহিনীকে একটি একক, সমন্বিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত কাঠামোর আওতায় নিয়ে আসা, যা আপদকালীন সময়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংকট মোকাবেলার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


পুরো প্রাঙ্গণটিকে ১৩টি বিশেষায়িত জোনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বহিরাগত হামলা কিংবা সংকটের সময় সামরিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এতে তৈরি করা হয়েছে বিস্তর ভূগর্ভস্থ বা আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার।


আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত যোগাযোগ নেটওয়ার্কে সুসজ্জিত এই অক্টাগন রিয়েল-টাইমে সামরিক বাহিনীর সব শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। কায়রো থেকে প্রধান সরকারি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নতুন প্রশাসনিক রাজধানীতে স্থানান্তরের যে মহাপরিকল্পনা মিশর হাতে নিয়েছে, এই প্রজেক্টটি তারই একটি অন্যতম কৌশলগত অংশ।

সর্বশেষ সব খবর

কাস্পিয়ান সাগর

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৩ পিএম

কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় বিস্ফোরণে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। 


এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে হামলার বিষয়ে ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।


ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, শনিবার সংঘটিত এ হামলাকে ইরান ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের নেতৃত্ব হামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্য, এটি ইরানের বিরুদ্ধে কিয়েভের ‘অযৌক্তিক ও বৈরী নীতির’ ধারাবাহিকতা। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ ঘটনার কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি হামলায় জড়িত ব্যক্তি ও তাদের সমর্থকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান। আরাগচির ভাষ্য, এ হামলা জাতিসংঘ সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন এবং এর ফলে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


ঘটনার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি-বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন আরাগচি। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার দপ্তর জানায়, কাস্পিয়ান সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে তেহরান।


অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, কাস্পিয়ান সাগরে দূরপাল্লার হামলায় ইউক্রেন ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য’ অর্জন করেছে। হামলায় একটি রুশ যুদ্ধজাহাজ এবং ইরান-সংশ্লিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত একটি জাহাজে আঘাত হানা হয়েছে। তবে ইরান যে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগ তুলেছে, সেটির নাম তিনি উল্লেখ করেননি।


জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেন, রাশিয়া উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনার স্যাটেলাইট চিত্র ইরানকে সরবরাহ করছে, যা হামলার পরিকল্পনা ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। তার দাবি, ১৯ ও ২০ জুলাই বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতের কয়েকটি বিমানঘাঁটির ওপর রাশিয়ার স্যাটেলাইট নজরদারি চালানো হয়েছে।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় ইরানের হামলার মুখে পড়া কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কুয়েতকে ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ারও প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন। এ লক্ষ্যে দেশগুলোতে বিশেষজ্ঞ পাঠানো হয়েছে বলে কিয়েভ জানিয়েছে।


২০২২ সালে ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করার পর থেকেই কিয়েভ ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ইরানি প্রযুক্তির এসব ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানি নকশার ৪৪ হাজারের বেশি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:০৫ পিএম

ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে হামলা চালানোর পর গত দুই দিন ধরে সব ধরনের হামলা বন্ধ রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার কাজে ব্যবহৃত ‘ইন্টারসেপ্টর ’ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।


রোববার (২৬ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।


প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শীর্ষ সামরিক উপদেষ্টাদের মধ্যে মিসাইল ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পরই সপ্তাহের শেষ দিকে নির্ধারিত বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসে ওয়াশিংটন।


এর আগে গত শুক্রবার(২৪ জুলাই) ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, ইরানের ওপর বিমান হামলা আরও জোরদার করা হবে। তবে শীর্ষ সামরিক পরামর্শকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর তিনি তার সেই অবস্থান পরিবর্তন করেন। 


সংবাদমাধ্যমটিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দুটি পৃথক সূত্র জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডেন কেইন ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালাতে পারে, তবে এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের সুরক্ষায় নিয়োজিত ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুত সংকটজনক হারে কমে যেতে পারে।


এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লাগাতার তীব্র হামলা চালিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে বাধ্য করা যাবে কি না, তা নিয়েও হোয়াইট হাউসের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। 


সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার ফলে ইরানিদের মধ্যে উল্টো জাতীয়তাবাদী ঐক্য জোরদার হয়েছে এবং তারা বিদেশি হুমকি মোকাবিলায় একাট্টা হয়েছেন।


উল্লেখ্য, এমন কৌশলগত সংশয়ের মাঝেই গত শুক্রবার ও শনিবার(২৫ জুলাই) রাতে ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো হামলা চালায়নি মার্কিন বাহিনী।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ এএম

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘গণতন্ত্রের জয়’ হিসেবে দেখছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। ৩৬ দিনের টানা আন্দোলনের ফলে বিজেপি সরকার তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে বিশ্বাস তাদের। শিক্ষার্থী ও যুবকদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ফলে আন্দোলন সফল হয়েছে বলে মনে করছে সিজেপি।


এই সফল আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সিজেপি নেতারা রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এ নিয়ে সব স্তরে কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। পূর্ণকালীন রাজনীতিতে যোগ দেবেন কি না, এমন প্রশ্নে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, “ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলবেন না।”


তবে সিজেপি এখনই পূর্ণকালীন রাজনীতিতে নামার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুব নেতৃত্বাধীন তৃণমূল আন্দোলনকে শক্তিশালী করাই তাদের অগ্রাধিকার।


রানকা এনডিটিভিকে বলেছেন, “আমার মনে একমাত্র যে বিষয়টি কাজ করছে তা হল, বাড়িতে ফেরা ও ঘুমানো, বিশ্রাম নেবো আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করবো। গত কয়েক মাস ধরে আমি বাড়ি থেকে দূরে আছি আর আমি সত্যিই আরাম করতে চাই। গত দুই মাসে যা যা ঘটেছে তা আমাদের সবাইকেই কাবু করে ফেলেছে বলে আমার ধারণা।


“এটা গর্বের মুহূর্ত। এটা সত্যি খুশি হওয়ার, স্বস্তি পাওয়ার মুহূর্ত। এরপর কী হয় দেখবো আমরা।”


তিনি রাজনৈতিক জীবনের কথা নাকচ করে দিচ্ছে কি না, সরাসরি এমন প্রশ্নে তিন বলেন, “আমি যা অনুভব করি ভারতে কখনোই কোনো কিছুকে না বলতে নেই।”


সৌরভ দাস জোর দিয়ে জানিয়েছেন, রাজনীতি তাদের দলের তাৎক্ষণিক উদ্দেশ্য নয়।


তিনি বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য খুব স্পষ্ট। এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে, কারণ ইতোমধ্যে (দেশে) ৭৫০ থেকে ৮০০ মতো রাজনৈতিক দল আছে। এগুলোর কোনোটিই তরুণদের ইচ্ছাকে পূর্ণতা দিতে সক্ষম না।


“আর আমরা এই আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই যেন ক্ষমতায় থাকা যেকোনো রাজনৈতিক দল বা নেতা তরুণদের জন্য কাজ করতে সমর্থ হয় আর তাদের দাবি পূরণ করে। এই মুহূর্তে এটাই আমাদের কর্মসূচী।”


ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, আন্দোলনের পথ থেকে এখনই সরছেন না তারা। লিখিতভাবে সরকার সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা না জানালে অবস্থান মঞ্চ ছাড়বেন না তার

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক ১৫ দিনের সংঘাতে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে থাকা ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি অত্যাধুনিক নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন ধ্বংসের দাবিও করেছে বাহিনীটি। শনিবার আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা ও মেহের নিউজ এজেন্সি।


আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ৮ থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত চলা ১৫ দিনের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তার দাবি, ওই সময়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হামলায় ১১টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়।


তিনি আরও দাবি করেন, ধ্বংস হওয়া ১৭টি ড্রোনের মধ্যে আটটি ছিল সংযোজনের অপেক্ষায় থাকা (আনপ্যাকড) ড্রোন।


আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, যা একটি হ্যাঙ্গারের ভেতরে ছিল, একটি পি-৮ সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ পরিবহন বিমান এবং আটটি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (ট্যাংকার) বিমান রয়েছে।


তবে আইআরজিসির এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলতি মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক আর কার্যকর নেই।


এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এর প্রভাব পড়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানে ৫৯ জন নিহত এবং ৫৯২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ ও তথ্যকেন্দ্রের প্রধান হোসেইন কারমানপুরের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে মেহের নিউজ এজেন্সি।


এর আগে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পূর্ববর্তী দফার মার্কিন হামলায় ইরানে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন বলে ইরানের দাবি। নিহতদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী ছিলেন। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।

 

সর্বশেষ সব খবর