ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি

  • প্রকাশ : সোমবার ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ এএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়ছে। যুদ্ধ ফের শুরু হলে তার জন্য তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’ বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ইরানের দেয়া সাত দিনের রোডম্যাপ যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাখ্যান করার পর এমন মন্তব্য করলেন তিনি।


ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ আবার শুরু হলে তার দেশ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা কমাতে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা দিয়েছিল তেহরান। তবে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।


এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আরও আলোচনা হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই’ যুদ্ধে জয়ী হবে।


হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানের একটি দাবিকে কেন্দ্র করেও। তেহরান দাবি করেছে, তারা প্রণালীতে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন পানির নিচের ড্রোন জব্দ করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।


অন্যদিকে, ইরানে হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির কাছে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিস্ফোরক-সংক্রান্ত অপরাধ ও ‘সন্ত্রাসবাদী’ কর্মকাণ্ডের সন্দেহে তাদের আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধ বন্ধে নতুন করে আলোচনা হওয়ার ইঙ্গিত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৫ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন (পানির নিচের ড্রোন) জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স।


আইআরজিসির দাবি, জব্দ করা আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি একটি উন্নত প্রযুক্তির স্বয়ংক্রিয় সাবমার্সিবল, যার নাম ‘রেমাস ৬০০’। বর্তমানে এটি আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হেফাজতে রয়েছে এবং এর ভেতরে থাকা তথ্য উদ্ধারের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।


ফার্স নিউজ এজেন্সি আইআরজিসির একটি বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে গোয়েন্দা তৎপরতা চালানোর সময় যুক্তরাষ্ট্রের ওই ড্রোনটি জব্দ করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সমন্বয়ে পরিচালিত একটি জটিল ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইআরজিসি নৌবাহিনীর সদস্যরা মার্কিন বাহিনীর উন্নতমানের ওই ড্রোন জব্দ করতে সক্ষম হন।


আইআরজিসি ড্রোনটিকে ‘মার্কিন সন্ত্রাসী বাহিনীর’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেছে।


কীভাবে ড্রোনটি জব্দ করা হলো?


ইরানের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোনটি গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছিল। আইআরজিসির নৌবাহিনী গোয়েন্দা তথ্য ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা ব্যবহার করে সেটির গতিবিধি শনাক্ত করে। এরপর একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয় বলে দাবি করেছে ইরান।


তবে ড্রোনটি ঠিক কোথায়, কখন এবং কীভাবে জব্দ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইআরজিসি বিস্তারিত কোনও তথ্য দেয়নি। একইভাবে ড্রোনটির সঙ্গে কোনও মার্কিন সামরিক সদস্য বা অন্য কোনও যান জড়িত ছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়।


‘রেমাস ৬০০’ কী?


ইরানের দাবি করা ড্রোনটি ‘রেমাস ৬০০’ নামে পরিচিত একটি স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন। এ ধরনের যান সাধারণত দীর্ঘ সময় পানির নিচে থেকে তথ্য সংগ্রহ, সমুদ্রতলের জরিপ, নজরদারি ও বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক গবেষণায় ব্যবহৃত হতে পারে।


এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন চালানোর জন্য সরাসরি কোনও মানবচালকের প্রয়োজন হয় না। নির্দিষ্ট রুট ও মিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী এগুলো পানির নিচে চলাচল করতে পারে এবং বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম।


ইরানের দাবি সত্য হলে, ড্রোনটি জব্দ করা তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে এর ভেতরে থাকা তথ্য, সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা এবং মিশনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে মার্কিন সামুদ্রিক নজরদারি কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করতে পারে ইরান।


হরমুজ প্রণালিতে বাড়ছে সামরিক উত্তেজনা


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বেড়েছে।


পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মধ্যে সংযোগকারী এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।


ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে নৌবাহিনী মোতায়েন রেখেছে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়টিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে তুলে ধরে আসছে।


এই পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয় আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের ইরানি দাবি দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক ও গোয়েন্দা উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


উল্লেখ্য, কয়েক দিন আগেও একটি মার্কিন আন্ডারওয়াটার ড্রোন জব্দের দাবি করে আইআরজিসি। পরে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে জানায়, সেটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নেই


ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি গণমাধ্যমে আইআরজিসির এই দাবি প্রকাশ করা হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ফলে ইরান যে ড্রোনটি জব্দ করেছে বলে দাবি করছে, সেটি সত্যিই মার্কিন সামরিক বাহিনীর ব্যবহৃত ‘রেমাস ৬০০’ কি না এবং সেটি কোনও গোয়েন্দা মিশনে নিয়োজিত ছিল কি না- তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


তবে ড্রোনটি বর্তমানে আইআরজিসির বিশেষজ্ঞদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। এর মাধ্যমে ড্রোনটির সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করার সুযোগও তেহরান পেতে পারে।


হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে এমন একটি ঘটনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সামুদ্রিক নজরদারি ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে। 


সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:২৬ পিএম

বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় কোনো রূপান্তর নয়, বরং ভাঙন চলছে বলে মনে করেন কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, বড় শক্তিগুলো অর্থনৈতিক সহযোগিতা থেকে সরে গিয়ে ক্রমেই অন্য রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।


নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শনিবার আনিতা আনন্দ জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক ব্যবস্থার গতিপথ বদলে গেছে। অর্থনৈতিক সংযুক্তি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের অন্যতম ভিত্তি হলো জাতিসংঘ সনদ। কিন্তু সেটিও এখন উপেক্ষিত।


এমন অবস্থায় কানাডার পরিকল্পনা তুলে ধরেন আনন্দ। তিনি বলেন, তাঁর দেশ আরও বেশি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ অর্জনের পথে এগোবে। একক অংশীদারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও নতুনদের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াবে।


অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কানাডা ছোট রাষ্ট্র, মধ্যম শক্তি ও বড় শক্তিগুলোর সঙ্গে নির্দিষ্ট বিষয়ভিত্তিক জোট গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার কাজও অব্যাহত রাখবে। 


আনন্দ বলেন, ‘কেউ কেউ সম্পর্কের মাঝে আরও উঁচু দেয়াল তুলতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা থেকে সরে যেতে চাইছে। আমরা মনে করি, দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বই সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার পথ।’


পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের বিষয়ে আনন্দ ইউক্রেন ও ন্যাটোর প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আর্কটিক অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও জানান। 


তিনি বলেন, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কানাডার উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে। দিল্লি ও বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা হবে।


কানাডা উপসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকায় নতুন সুযোগ খুঁজছে। আফ্রিকার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াচ্ছে। ইরানের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে আনন্দ বলেন, তেহরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।


ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উভয়পক্ষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আছে। আলোচনার মাধ্যমে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি অটোয়ার সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

জোড়া পান্ডা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

চীন দুটি জায়ান্ট পান্ডা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। আজ রোববার স্থানীয় সময় ভোরে চেংডু শুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভাড়ায় নেওয়া একটি উড়োজাহাজে পান্ডা দুটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়।


ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফরের পর দুই দেশের সম্পর্কের প্রতীকী নানা তৎপরতার মধ্যে পান্ডা দুটির যাত্রা শুরু হলো।


পান্ডা হস্তান্তরের বিষয়টি অবশ্য আগেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে সি চিন পিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের সময় গত বৃহস্পতিবার তাদের যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর ঘোষণা দেওয়া হয়। 


বিদেশি সম্পর্ক জোরদারে চীনের ‘পান্ডা কূটনীতি’ কর্মসূচির আওতায় ঋণ হিসেবে বিভিন্ন দেশে এই সাদা-কালো স্তন্যপায়ী প্রাণী পাঠানো হয়।


রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, পান্ডা দুটির নাম হলো পিং পিং ও ফু শুয়াং। গতকাল দিবাগত রাত তিনটার দিকে পান্ডা দুটিকে বহনকারী উড়োজাহাজ চেংডু শুয়াংলিউ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছেড়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার একটি চিড়িয়াখানায় আগামী ১০ বছর তারা থাকবে।


চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, ১৫ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রায় পান্ডা দুটির খাবারের জন্য ভাপে তৈরি ভুট্টার বান, বাঁশের কঞ্চি ও গাজর রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞ পরিচর্যাকারীরাও উড়োজাহাজে পান্ডা দুটির সঙ্গে আছেন।


ফেডএক্স পরিচালিত বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজটি আলাস্কার কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় উড়োজাহাজ চলাচল-সংক্রান্ত তথ্যের প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪-এ সবচেয়ে বেশি অনুসরণ করা উড়োজাহাজ ছিল। সে সময় উড়োজাহাজটি যাত্রাপথের প্রায় অর্ধেক অতিক্রম করেছে।


চেংডু রিসার্চ বেস অব জায়ান্ট পান্ডা ব্রিডিং বিদায়ের আগে পান্ডা দুটির জন্য একটি বিদায় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে।


এদিকে পান্ডা দুটির আগমন উপলক্ষে জু আটলান্টা তাদের জন্য নির্ধারিত স্থাপনা সংস্কার করেছে এবং প্রাণী পরিচর্যার জন্য একটি দল গঠন করেছে। আটলান্টায় স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাঁশের স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহও নিশ্চিত করেছে চিড়িয়াখানাটি। আটলান্টার জলবায়ু চীনের চেংডুর সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে।


১৯৯৯ সাল থেকে ২৫ বছর ধরে জু আটলান্টায় চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া পান্ডা ছিল। তবে ২০২৪ সালের পর সেখানে আর কোনো পান্ডা ছিল না।


পিং পিং ও ফু শুয়াং-দুটি পান্ডারই জন্ম ২০২০ সালে। পুরুষ পিং পিংয়ের বয়স এখন ছয় বছর। আর নারী ফু শুয়াং আগামী মাসে ছয় বছরে পা দেবে। বন্দী অবস্থায় পান্ডারা সাধারণত প্রায় ৩০ বছর বেঁচে থাকে।


কয়েক দশক ধরে চীনের কূটনৈতিক সদিচ্ছার ‘সফট পাওয়ার’ দূত হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পান্ডা পাঠানো হচ্ছে। ১৯৭২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের ঐতিহাসিক চীন সফরের পর ওয়াশিংটনকে এক জোড়া পান্ডা উপহার দিয়েছিল বেইজিং।


চলতি বছরের শুরুর দিকে জাপান থেকে চীনের দুটি পান্ডা ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তাইওয়ানে হামলা হলে টোকিও সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে-জাপানের প্রধানমন্ত্রী এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ শুরু হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই পান্ডা দুটি ফিরিয়ে নেয় বেইজিং।

সর্বশেষ সব খবর

পানিতে ডুবে গেছে ব্যাংকক

৫০ জেলা দুর্যোগকবলিত ঘোষণা


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪১ পিএম

টানা ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, যানজটে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটার পর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের ৫০টি জেলাকেই দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।


গতকাল শনিবার ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ত জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোমবার সব স্কুল বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মীদের বাড়িতে থাকার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে, যাতে জলাবদ্ধ সড়কে যান চলাচল কমানো যায়। দুর্যোগ ঘোষণা দেওয়ার ফলে ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (বিএমএ), অন্যান্য সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ও সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে পারবে।


শনিবারও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা ও যানজট অব্যাহত ছিল। পূর্ব ব্যাংককের এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে পাথুম থানি প্রদেশের রাংসিত পৌর এলাকাকেও জরুরি দুর্যোগকবলিত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।


আজ সকাল ৯টার কিছু পর ব্যাংককের বাসিন্দাদের কাছে সেল ব্রডকাস্টের মাধ্যমে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এতে জানানো হয়, শহরের খালগুলোর পানির স্তর ইতোমধ্যে সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।


থাইল্যান্ডের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিম্ন মধ্যাঞ্চলীয় সমভূমি, ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশজুড়ে অবস্থান করা একটি শক্তিশালী নিম্নচাপের কারণে আবহাওয়া অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে আন্দামান সাগর, দক্ষিণাঞ্চল ও থাইল্যান্ড উপসাগরের ওপর দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুও শক্তিশালী হচ্ছে। রোববার পর্যন্ত দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।


স্বাভাবিকের তুলনায় ২১৮ মিলিমিটার বেশি বৃষ্টি


ব্যাংককের বর্ষাকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সময় সেপ্টেম্বর। তবে এ বছর বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিএমএর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজধানীতে ৪৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত একই সময়ে গড় বৃষ্টিপাত ছিল ২৬৯ মিলিমিটার।


শহরের পানি নিষ্কাশন কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু থাকায় শনিবার দুপুরের দিকে পানির স্তর স্থিতিশীল হতে শুরু করে। এসব কেন্দ্র সম্মিলিতভাবে প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ২০০ ঘনমিটার পানি সরিয়ে নিচ্ছে।


বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আপডেটে গভর্নর চাদচার্ত বলেন, বৃষ্টি থেমে গেলে জলাবদ্ধতার পানি পুরোপুরি নিষ্কাশনে দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে না এবং আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।


তবে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কায় রাজধানীর কিছু বাসিন্দা প্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে শুরু করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাম ইনথ্রার একটি ম্যাক্রো স্টোরে ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। 


পার্কিং এলাকা পূর্ণ হয়ে গাড়ি সড়ক পর্যন্ত চলে আসে। ক্রেতাদের শপিং কার্টে ইনস্ট্যান্ট নুডলস, পানীয় জল ও টিনজাত মাছসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্য দেখা যায়।


চাও ফ্রায়া নদীতে বাড়ছে পানি


ব্যাংককের উজানে চিয়াং নাত প্রদেশের চাও ফ্রায়া বাঁধ থেকে পানির নিঃসরণ ধীরে ধীরে বাড়ানো হচ্ছে। রয়্যাল ইরিগেশন ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, প্রতি সেকেন্ডে ১ হাজার ৮৫০ ঘনমিটার থেকে পানির নিঃসরণ বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৫০ ঘনমিটার করা হয়েছে।


বাঁধের ভাটিতে চাও ফ্রায়া নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকার বাসিন্দাদের পাশাপাশি নই নদীর তীরের বাসিন্দাদেরও পানির স্তর ও সরকারি ঘোষণাগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।


এদিকে থাইল্যান্ডের আরও ২০টি প্রদেশে বিভিন্ন মাত্রায় বন্যার খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশগুলো হলো-নাখন রাতচাসিমা, চানথাবুরি, ফেচাবুন, চন বুরি, চাচোয়েংসাও, বুরি রাম, সুরিন, সিং বুরি, সামুত প্রাকান, নাখন সাওয়ান, ফিচিত, রায়ং, আং থং, চিয়াং নাত, উথাই থানি, প্রাচিন বুরি, আয়ুথায়া, সা কেও, ফিৎসানুলোক, সুপান বুরি এবং নাখন ফানম।

সর্বশেষ সব খবর

পাকিস্তানের সাবেক মার্কিন দূত হুসেইন হাক্কানি

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৯ পিএম

সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের দিক থেকে বিশ্বে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স-২০২৬ এ তথ্য প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে দেশটির সাবেক মার্কিন দূত হুসেইন হাক্কানি বলেছেন, উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি পাকিস্তানের অতীত নীতির ফল এখন দেশটিকেই ভোগ করতে হচ্ছে।


সূচকে পাকিস্তানের শীর্ষে থাকার একটি গ্রাফিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করে হাক্কানি লেখেন, ‘বাড়ির পেছনে সাপ পুষলে একদিন সেই সাপের ছোবল বাড়ির মানুষকেও খেতে হয়।’


তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান পাঁচ দশক আগে উগ্রপন্থি জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়া শুরু করেছিল। এখন সন্ত্রাসী হামলার শিকার দেশগুলোর তালিকায় পাকিস্তান শীর্ষে। 


এক বছরে ১,১৩৯ মৃত্যু


ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ১৩৯ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহত হন এবং ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। দেশটিতে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।


৮ দশমিক ৫৭৪ স্কোর নিয়ে পাকিস্তান সূচকে প্রথম হয়েছে। এর আগে দেশটি প্রতিটি সংস্করণেই সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত ১০টি দেশের মধ্যে ছিল। তবে ২০২৫ সালেই প্রথমবারের মতো পাকিস্তান তালিকার শীর্ষে উঠে আসে।


আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে টানা ষষ্ঠ বছরের মতো সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। তবে হামলার সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৯৮ থেকে কমে ২০২৫ সালে ১ হাজার ৪৫টিতে দাঁড়িয়েছে।


এ সময়ে জিম্মি করার ঘটনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে এমন ঘটনা ছিল ১০১টি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৫৫টিতে। 


৭৪ শতাংশ হামলা বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায়


আইইপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতেই সন্ত্রাসী তৎপরতার বড় অংশ কেন্দ্রীভূত। বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে ২০২৫ সালের মোট সন্ত্রাসী হামলার ৭৪ শতাংশের বেশি এবং সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটেছে।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের টানাপোড়েন এবং তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সহিংসতা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।


সন্ত্রাসী মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্য টিটিপি দায়ী


আইইপির হিসাবে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে টিটিপি। টানা পঞ্চম বছরের মতো সংগঠনটি পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে উঠে এসেছে।


২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর ৫৬ শতাংশের জন্য টিটিপিকে দায়ী করা হয়েছে। সংগঠনটি ওই বছর ৫৯৫টি হামলা চালিয়েছে, যাতে ৬৩৭ জন নিহত হন। আগের বছরের তুলনায় এ ধরনের মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ১৩ শতাংশ।


প্রতিবেদনে টিটিপিকে ২০২৫ সালের বিশ্বের তৃতীয় প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী চারটি গোষ্ঠীর মধ্যে একমাত্র টিটিপির হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।


পাকিস্তানে ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার কথা উল্লেখ করেছে আইইপি।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোয়েটা রেলস্টেশনের কাছে রেললাইন বিস্ফোরণের পর বিএলএর সদস্যরা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৪৪২ জনকে জিম্মি করে। ওই ঘটনায় ২১ জন জিম্মি, চারজন সামরিক সদস্য এবং ৩৩ জন হামলাকারী নিহত হন।


বিএলএর হামলায় চীনা নাগরিক ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (সিপিইসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোও ক্রমবর্ধমানভাবে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিশ্বে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু কমেছে


পাকিস্তানের পরিস্থিতির বিপরীতে বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২৫ সালে ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যাও প্রায় ২২ শতাংশ কমে ২ হাজার ৯৪৪টিতে নেমেছে।


আইইপি জানিয়েছে, বিশ্বের ৮১টি দেশে সন্ত্রাসবাদের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, বিপরীতে অবনতি হয়েছে ১৯টি দেশে।


তবে বিশ্বে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই ঘটেছে মাত্র পাঁচটি দেশে- পাকিস্তান, বুরকিনা ফাসো, নাইজেরিয়া, নাইজার ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদে মোট মৃত্যুর প্রায় ২০ শতাংশই পাকিস্তানে ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:১০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী 'নরইস্টার' ঝড়ের তাণ্ডবে নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগের কারণে প্রবল বৃষ্টিপাত, ঝোড়ো হাওয়া এবং ভয়াবহ উপকূলীয় বন্যার সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে দুই রাজ্যের জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, শনিবার নিউইয়র্ক সিটি ও বোস্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপজ্জনক উপকূলীয় বন্যা, প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


ঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক লাখের বেশি পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পাওয়ারআউটেজ-এর তথ্য অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বাসিন্দা।


এদিকে ঝড়ের কারণে বিমান চলাচলেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২ হাজার ৪০০টির বেশি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৯৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


এনডব্লিউএস নিচু এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উপকূলের কাছাকাছি নিচু এলাকায় রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


এদিকে, ঝড়ের কারণে বেশ কয়েকটি বড় আয়োজনও বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। বোস্টনে ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী এড শিরানের বহুল প্রতীক্ষিত কনসার্ট নিরাপত্তার কারণে বাতিল করা হয়েছে।


এছাড়া নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভ্যাল’ও বাতিল হয়েছে। এতে লরিন হিল, ওয়াইক্লেফ জিন ও জন লেজেন্ডের মতো শিল্পীদের পারফর্ম করার কথা ছিল।


নিউইয়র্ক রেড বুল ও সেন্ট লুইস সিটি এসসির একটি পেশাদার ফুটবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে। অন্যদিকে বোস্টন রেড সক্স ও শিকাগো কাবসের ম্যাচটি রোববার ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।


অন্যদিকে নিউইয়র্কে সপ্তাহজুড়ে ঘণ্টায় ৫৫ মাইল বা প্রায় ৮৬ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো বাতাস বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে গাছ ও বিদ্যুতের লাইন উপড়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর